Academy

28. গাধার কান | শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

28. গাধার কান | শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় - WBBSE - Class 7 - বাংলা

0

গাধার কান

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

টাউন স্কুলের সঙ্গে মিশন স্কুলের ফুটবল ম্যাচ—কাপ ফাইনাল। শহরের মধ্যে বেশ একটু সাড়া পড়ে গেছে—এই দুই স্কুলের ছেলেদের মধ্যে চিরকালের রেষারেষি ; তাই আজকের খেলাটা যে খুব জমবে তাতে সন্দেহ নেই। পাঁচটা থেকে খেলা আরম্ভ হবে, কিন্তু চারটে বাজতে-না-বাজতেই মাঠে লোক জমতে আরম্ভ করেছে। দুই স্কুলের ছেলেরা মাঠের দু-ধারে কাতার দিয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু দুপক্ষের খেলোয়াড়েরা এখনো

Man pointing, holding another boy

১০৯

মাঠে দেখা দেয়নি, তারা রণসজ্জায় সজ্জিত হচ্ছে। খেলার মাঠ থেকে কিছু দূরে একটা বটগাছের তলায় টাউন স্কুলের ছেলেরা তৈরি হচ্ছিল। গিরীন তাদের ক্যাপটেন ; সে হাফ্-প্যান্টে কোমরবন্ধ বাঁধতে-বাঁধতে বললে, 'আরো পনেরো মিনিট বাকি, এখনও সমরেশ ফিরল না। আজ সর্বনাশ হলো দেখছি!' টুনু টাউন স্কুলের একজন খেলোয়াড়; দেখতে অতি ক্ষীণ। সে জার্সির মধ্যে মাথা ঢোকাতে-ঢোকাতে জিজ্ঞেস করলে, 'সমরেশদা কোথায় গেছে?' প্রণব সাজসজ্জা শেষ করে ঘাসের উপর পা ছড়িয়ে বসেছিল। তার কপালে দুশ্চিন্তার ভ্রুকুটি; সে বললে, 'সমরেশ তুক্ করতে গেছে।' টুনু একে ছেলেমানুষ, তায় সবে এ-বছর থেকে স্কুল-টিমে স্থান পেয়েছে, সে ভেতরকার সব কথা জানত না। অবাক হয়ে বললে, 'তুক্ কীসের পানুদা?' প্রণব বিরক্ত হয়ে বললে, 'জানিস না, খেলার আগে গাধার কান না মললে আমরা হেরে যাই।' টুনু কিছুক্ষণ হাঁ করে চেয়ে থেকে বললে, 'যাঃ, তুমি ঠাট্টা করছ!' 'ঠাট্টা?' প্রণব চোখ পাকিয়ে বললে, 'তোর সঙ্গে আমি ঠাট্টা করব?' বলে টুনুর কানের দিকে হাত বাড়ালে। টুনু তাড়াতাড়ি কান সরিয়ে নিয়ে বললে, 'তবে কি সত্যি সমরেশদা গাধার কান মলতে গেছে?' 'সত্যি না তো কি মিথ্যে বলছি?' 'হিঃ-হিঃ-হিঃ, গাধার কান-!' টুনু হঠাৎ হেসে উঠল। গিরীন ভুরু কুঁচকে বললে, 'হাসছিস যে! গাধার কান মলা হাসির কথা নাকি? গেল বছর গাধার কান মলে আমরা কাপ জিতেছি; তার আগের বছর গাধা পাওয়া গেল না—' এই সময় হন্তদন্তভাবে সমরেশ এসে উপস্থিত হলো। তাকে দেখে সকলে একসঙ্গে বলে উঠল, 'কী হলো, কী হলো?' সমরেশের চুল উস্কোখুস্কো, মুখ শুকনো; সে বিমর্ষভাবে বললে, পেলুম না। শহরে কোথাও একটি গাধা নেই। সেই বেলা একটা থেকে খুঁজে বেড়াচ্ছি—' 'ঘাটে খুঁজেছিলি?' 'ঘাটে, মাঠে, ধোবার বাড়িতে—কোথাও খুঁজতে বাকি রাখিনি। নো গাধা। আশ্চর্য, আজকের দিনেই গাধাগুলো লোপাট হয়ে গেল।' সকলের মুখেই বিপদের ছায়া পড়ল। গিরীন বললে, 'আর কী হবে। নে সমরেশ শীদ্গির তৈরি হয়ে নে—আর সময় নেই।' সমরেশ বিষণ্ণমুখে জার্সি পরতে লাগল; কারণ গাধা পাওয়া যাক আর না যাক, খেলতে তো হবেই! সমরেশ বেচারা সারা দুপুর গাধার সন্ধানে ঘুরে বেড়িয়েছে, অথচ গাধা খুঁজে পায়নি; তাই দুঃখটা তার সবচেয়ে বেশি হয়েছিল। বিশেষত আজ মিশন স্কুলের খেলা; মিশন স্কুলকে হারাবে বলে তারা প্রাণপণ

১১০

প্রতিজ্ঞা করেছে, কিন্তু গাধার কান মলা হলো না! তার মানে—মিশন স্কুলকে তারা হারাতে পারবে না। আহা! একটা গাধার বাচ্চাও যদি পাওয়া যেত! সমরেশ পায়ে অ্যাঙ্কলেট আঁটতে-আঁটতে এই কথা ভাবছিল এমন সময় তার কানে 'খিক্-খিক্' শব্দ এল। সে মুখ তুলে দেখলে, টুনু দুই হাঁটুর মাঝে মাথা গুঁজে হাসি চাপবার চেষ্টা করছে। সমরেশ কড়া সুরে বললে, 'হাসছিস কেন রে টুনু? টুনুর সবকথাতেই হাসি—শুনলে এত রাগ হয়!' হাসি চাপবার চেষ্টায় টুনুর চোখে জল এসে পড়েছিল, সে মুখ তুলে বললে, 'না সমরেশদা,'-বলেই জোরে হেসে ফেললে,- 'হিঃ-হিঃ, সমরেশদা, তুমি সারা দুপুর গাধার কান মলবার জন্য ঘুরে বেড়ালে, আর একটাও গাধা পেলে না! হিঃ-হিঃ-তুক্ করা হলো না!'

Man pointing, holding another boy looking sad সমরেশ লাফিয়ে গিয়ে টুনুর কান ধরে আচ্ছা করে মলে দিয়ে বললে, 'হাসি! তুক্ করার নামে হাসি! ছুঁচো কোথাকার! আজ আমরা হেরে যাব, আর হাসি হচ্ছে?' কাঁদো-কাঁদো হয়ে টুনু বললে, 'কে বললে হেরে যাব?' 'বলবে আবার কে? আমরা সবাই জানি, যখন গাধা পাওয়া যায়নি—' 'কখনো না—দেখে নিয়ো! কান ছেড়ে দাও, লাগছে!' গিরীন বললে, 'ছেড়ে দে সমর, খেলার আগে আর কিছু বলিসনি। কিন্তু যদি হেরে যাই—' এই সময় মাঠে রেফারির বাঁশি বেজে উঠল।

দুই পক্ষের খেলোয়াড়রা মাঠে গিয়ে দাঁড়ালো। রেফারি দিব্যেন্দুবাবুকে দেখে টুনু গিরীনের কানে-কানে ফিস্-ফিস্ করে বললে, 'ও গিরীনদা, রেফারি যে দিব্যেন্দুবাবু!' দিব্যেন্দুবাবুকে বাঁশি হাতে দেখে গিরীনও দমে গিয়েছিল, তবু সে বললে, 'তাতে কী হয়েছে?' 'দিব্যেন্দুবাবু যে জিলিপি খায়!' 'চুপ্!' স্কুলের ছেলেরা সবাই জানত যে, দিব্যেন্দুবাবু জিলিপি খেতে বড়ো ভালোবাসেন; আর ম্যাচের আগে যে-পক্ষ তাঁকে জিলিপি খাওয়ায়, তিনি সেই পক্ষকে জিতিয়ে দেবার চেষ্টা করেন। যাহোক, এখন তো আর উপায় নেই, মিশন স্কুলের ছেলেরা নিশ্চয় তাঁকে পেট ভরে জিলিপি খাইয়েছে। টাউন স্কুলের খেলোয়াড়গণ আরও মুষড়ে গেল। দিব্যেন্দুবাবু টস্ করলেন। গিরীন ব্যাকে খেলে, সমরেশ খেলে হাফ-ব্যাক থেকে ; আর টুনু রাইট-ইন। তাদের দলের বাকি ছেলেরাও বেশ ভালো খেলে, কিন্তু এই তিনজনের উপরেই ভরসা। টুনু ছেলেটি রোগা-পটকা, কিন্তু বল তার পায়ে পড়লে তাকে আটকানো শক্ত। দৌড়াতে পারে সে ঠিক হরিণের মতো!

১১১

আবার খেলা আরম্ভ হলো। একটা গোল দিয়ে মিশন স্কুলের উৎসাহ দশগুণ বেড়ে গিয়েছিল, তারা দুর্দান্তভাবে খেলতে লাগল। আবার গোল হয়-হয়। কিন্তু আর গোল হবার আগেই হাফ-টাইমের বাঁশি বাজল। হাফ-টাইম হলে গিরীন এসে বললে, 'টুনু, তোর পায়ে কী হয়েছে দেখি?' খেলোয়াড়রা মাঠের মঝেখানেই গোল হয়ে বসেছিল। কেউ বরফ খাচ্ছিল, কেউ লেবু চুষছিল; টুনু আঙুলে বরফ চেপে বসেছিল, আস্তে-আস্তে পা বার করে দিলে। 'কই, কী হয়েছে?' বলে গিরীন আঙুল ধরে টান দিলে। 'উঃ-উঃ-ছেড়ে দাও গিরীনদা, বড্ড লাগছে—আঙুলের মাথাটা একেবারে মটকে গেছে!' 'ও কিছু নয়—এই দ্যাখ্ আমার কী হয়েছে।' টুনু দেখলে, গিরীনের হাঁটুর নীচে ঠিক কবেলের মতো ফুলে উঠেছে। সে বললে, 'উঃ, খুব ব্যথা করছে!' 'দূর! খেলার সময় কি আর ওসব মনে থাকে!' তারপর টুনুর পাশে বসে তার গলা জড়িয়ে ধরে গিরীন বললে, 'টুনু, আজ তুই-ই ভরসা। একটা গোলে হেরে আছি, সে কিছুই নয়; তুই যদি চেষ্টা করিস তাহলে তিনটে গোল দিতে পারিস।' টুনুর বুক ফুলে উঠল, সে বলল, 'পারব! কিন্তু পায়ের ব্যথায় যে দৌড়াতে পারছি না—' 'পায়ের ব্যথা ভুলে যা—শুধু মনে রাখ, আজ আমাদের জিততেই হবে।' উৎসাহে ও উত্তেজনায় টুনুর গলা কেঁপে গেল, সে শুধু বললে, 'আচ্ছা—'


হাফ-টাইমের পর আবার খেলা আরম্ভ হলো। এবার খেলা শুরু হতে-না-হতেই টুনুর কাছে বল গেল। পায়ের ব্যথা ভুলে টুনু বল নিয়ে দৌড়োল। এবার তার প্রতিজ্ঞা সে গোল দেবেই। দু'জন হাফ-ব্যাক টুনুকে আক্রমণ করলে; তাদের পাশ কাটিয়ে বল নিয়ে আবার দৌড়োল। সামনে দু'জন হুম্ন্দা ব্যাক। টুনু কী করে, ব্যাক দুজনের মাথার উপর দিয়ে বল তুলে দিয়ে আবার ছুটল। বলটা পড়েছিল ঠিক গোল-কিপার আর টুনুর মাঝামাঝি; দু'জনেই বল ধরবার জন্যে ছুটে গেল। দু'জনের মধ্যে লাগল ভীষণ ঠোকাঠুকি। টুনু বেচারি উল্টে পড়ে গেল। বলটা কিন্তু গড়াতে-গড়াতে গিয়ে গোলে ঢুকল। 'গোল! গোল!' দর্শকের এক অংশ বিরাট চিৎকার করে উঠল; অন্য অংশ চুপ করে রইল। কিন্তু এবার আর অফসাইড বলবার জো নেই, টুনু একলা গোল দিয়েছে। দিব্যেন্দুবাবু গোল দিলেন। টুনু এই ফাঁকে গিরীনকে বলে এল, 'গিরীনদা, আঙুল ঠিক হয়ে গেছে!' গিরীন তাকে জড়িয়ে ধরে বললে, 'সে কী রে, কী করে ঠিক হলো?' 'ঐ যে গোল-কিপারের সঙ্গে ধাক্কা লাগল; ব্যস, ঠিক হয়ে গেছে।'

১১৩

এবার ঝড়ের মতো খেলা আরম্ভ হলো। মিশন স্কুলের ছেলেরাও ভালো খেলোয়াড়, তারা প্রাণপণে খেলতে লাগল। তাদের একটা দোষ, হারবার উপক্রম হলেই তারা মারামারি করে খেলতে আরম্ভ করে। কিন্তু মারামারি করে তারা বিশেষ সুবিধা করতে পারল না; কারণ টাউন স্কুলের ছেলেরা এমনভাবে খেলে যে, গায়ে গা ঠেকে না—তাদের মারতে গেলে তারা পিছলে বেরিয়ে যায়। ফলে যারা মারতে যায় তাদেরই অসুবিধা হয় বেশি; -মারতেও পারে না, অথচ খেলা খারাপ হয়ে যায়। টুনু এবার অদ্ভুত খেলা খেলতে আরম্ভ করলে। তাকে পাঁচজন লোক ঘিরে থাকে, তবু আটকাতে পারে না। একে তার ছোট্ট শরীর, তার উপর তিরের মতো ছুটতে পারে। তাই তাকে আটকাতে গেলেই সে পাঁকাল মাছের মত পিছলে বেরিয়ে যায়। তার খেলা দেখে মিশন স্কুলের ছেলেরা কেমন যেন ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেল! এইটুকু ছেলে—তার এ কী আশ্চর্য খেলা! দেখতে-দেখতে টুনু আর একবার বল নিয়ে দৌড়াল। এবার ব্যাক দু'জন এমনভাবে তার সামনে দাঁড়ালো যে, একজনকে কাটিয়ে বেরুতে গেলেই আরেক একজনের সামনে পড়তে হয়। টুনু বলটি চট করে রণজিৎকে পাস করে দিলে। রণজিতের দিকে কারও নজর ছিল না, সবাই টুনুকে নিয়ে ব্যস্ত। রণজিৎ কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে গোলের কোণ ঘেঁষে বল মারলে। গোল-কিপার শুয়ে পড়ে বল ধরবার চেষ্টা করলে, কিন্তু ধরতে পারলে না। শব্দ উঠল—'গোল! গোল!' দ্বিতীয় গোলের পর মিশন স্কুল একেবারে দমে গেল। গোল খেয়ে যারা দমে যায় তারা আর জিততে পারে না। তাদেরও তাই হলো। টুনু তখন আরও দুটো গোল ঠুকে দিলে। খেলা যখন শেষ হলো তখন টাউন স্কুল দিয়েছে চার গোল, আর মিশন স্কুল মোটে এক গোল।


খেলার পর ছেলেরা এক জায়গায় জটলা করছিল। হঠাৎ শানু বলে উঠল, 'আচ্ছা, আজ আমরা জিতলুম কী করে? গাধার কান মলা তো হয়নি!' সকলে এ-ওর মুখের দিকে তাকাতে লাগল, কথাটা এতক্ষণ মনেই ছিল না। সত্যিই তো! এ-রকম অসম্ভব ব্যাপার ঘটল কী করে? সমরেশ হঠাৎ জোরে হেসে উঠল, 'বুঝেছি!' সকলে বলে উঠল, 'কী! কী!' সমরেশ বললে, 'মনে নেই! খেলার আগে টুনুর কান মলে দিয়েছিলুম! তাতেই গাধার কান মলার ফল হয়েছে।' সবাই হেসে উঠল। শানু বললে, 'বেশ হয়েছে। এবার থেকে টুনুর কান মলে খেলতে নামলেই চলবে। আর গাধা খুঁজে বেড়াতে হবে না।' গিরীন হাসতে হাসতে দাঁড়িয়ে উঠে বললে, 'সে আসছে বছর দেখা যাবে। আজ টুনুই আমাদের হিরো!' এই বলে টুনুকে দু'হাতে ধরে কাঁধে তুলে নিয়ে বললে, 'বল থ্রি চিয়ার্স ফর টুনু! হিপ্ হিপ্ হিপ্ হুরে!'

১১৪

হ ল

১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো: ১.১ 'শহরের মধ্যে বেশ একটু সাড়া পড়ে গেছে'- এই 'সাড়া পড়ার' কারণ কী? ১.২ 'এই দুই স্কুলের ছেলেদের মধ্যে চিরকালের রেষারেষি'- কোন দুই স্কুলের কথা বলা হয়েছে? ১.৩ 'হিঃ হিঃ- তুক্ করা হলো না'- বক্তা কে? কাকে সে একথা বলেছে? কখন বলেছে? ১.৪ গল্পে ফুটবল খেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু শব্দ রয়েছে, যেমন- হাফ-ব্যাক, রাইট-ইন, গোলকিপার, সেন্টার ফরোয়ার্ড, ব্যাক-এরিয়া ইত্যাদি। আরো কিছু শব্দ তুমি গল্প থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো। এছাড়াও নিজস্ব কিছু সংযোজনও করতে পারো।

২. নীচের শব্দগুলি কোন মূল শব্দ থেকে এসেছে : ভুরু, গাধা, দুপুর, চোখ, বাঁশি, পাঁচ।

৩. পদ-পরিবর্তন করো : সন্দেহ, সজ্জিত, সর্বনাশ, উপস্থিত, মজবুত, শব্দ।

শব্দার্থ : রেষারেষি – বিদ্বেষপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কাতার–শ্রেণি, পঙ্ক্তি। রণসজ্জা–যুদ্ধের বেশ/সাজ। কোমর বন্ধ–কোমরে বাঁধার পটি, বেল্ট। তুক–জাদুমন্ত্র, বশীকরণের প্রকরণ। হন্তদন্ত–ব্যস্তসমস্ত, অতি ব্যস্ত ও উৎকণ্ঠিত। উস্কোখুস্কো–রুক্ষ ও অবিন্যস্ত। বিমর্ষ–দুঃখিত, বিষণ্ণ। লোপাট–নিশ্চিহ্ন, লুপ্ত। বিষণ্ণ–দুঃখিত, ম্লান। বিদ্যুৎবেগে–অতি দ্রুত বেগে। ভ্যাবাচাকা–হতবুদ্ধি বা বিহ্বল অবস্থা। জটলা–বহুলোকের একত্র সমাবেশ। উপক্রম–সূত্রপাত, আরম্ভ। উত্তেজনা–উদ্দীপনা, তীব্র প্রবল মানসিক আবেগ। উৎসাহ–আগ্রহ, উদ্যম, অধ্যবসায়। আক্রমণ–অন্যের প্রতি বলপ্রয়োগ, অধিকার বা জয় করবার জন্য হানা। প্রতিজ্ঞা–সংকল্প, দৃঢ় পণ/অঙ্গীকার, শপথ।

৪. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো: রেষারেষি, ক্ষীণ, বিষণ্ণ, বিষম, উৎসাহ।

৫. সন্ধি বিচ্ছেদ করো : আশ্চর্য, দুশ্চিন্তা, উপস্থিত।

৬. 'ফিস ফিস করে বললে' অর্থ অত্যন্ত আস্তে/নিচু গলায় বলা বোঝায়। 'কথা বলা'র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে, এমন কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ লেখো।

৭. 'খেলোয়াড়গণ'- 'খেলোয়াড়' শব্দের সঙ্গে 'গণ' জুড়ে তাকে বহুবচনের রূপ দেওয়া হয়েছে। একবচন থেকে বহুবচনের রূপ পাওয়ার পাঁচটি কৌশল নতুন শব্দ গঠন করে দেখাও।

১১৫

৮. গল্প অনুসরণে নিজের ভাষায় উত্তর দাও : ৮.১ 'আজকের খেলাটা যে খুব জমবে তাতে সন্দেহ নেই।'- কোন বিশেষ দিনের কথা এখানে বলা হয়েছে? সেদিনের সেই 'খেলা'র মাঠের দৃশ্যটি নিজের ভাষায় বর্ণনা করো। ৮.২ 'সমরেশদা কোথায় গেছে?' – এই সমরেশদার পরিচয় দাও। সে কোথায়, কোন উদ্দেশ্যে গিয়েছিল? তার উদ্দেশ্য সফল হয়েছিল কি? ৮.৩ 'এই সময় মাঠে রেফারির বাঁশি বেজে উঠল'- 'রেফারি' টি কে? তাঁর সম্পর্কে ছেলেদের ধারণা কীরূপ ছিল? খেলার মাঠে তিনি কেমন ভূমিকা পালন করলেন? ৮.৪ খেলায় যে ফলাফল হলো, তাতে তুমি কি খুশি হলে? তোমার উত্তরের সমর্থনে যুক্তি দাও। ৮.৫ গল্পে যে ফলাফলের কথা বলা হয়েছে, তার বিপরীতটি যদি ঘটত, তা হলে গল্পের উপসংহারটি কেমন হতো তা নিজের ভাষায় লেখো। ৮.৬ গল্পে বলা হয়েছে- 'আজ টুনুই আমাদের হিরো।'- তোমার টুনু চরিত্রটিকে কেমন লাগল? সত্যিই কি নায়কের সম্মান তার প্রাপ্য? ৮.৭ গিরীন কীভাবে খেলার মাঠে টুনুকে ক্রমাগত উৎসাহ আর সাহস জুগিয়েছিল তা আলোচনা করো। ৮.৮ 'অন্ধসংস্কারের প্রতি আনুগত্যের জোরে নয়, প্রবল প্রচেষ্টা আর মানসিক জোরেই জীবনে সাফল্য আসে'- 'গাধার কান' গল্পটি অনুসরণে উদ্ধৃতিটির যথার্থতা প্রতিপন্ন করো।

৯. তোমার দেখা/খেলা কোনো ফুটবল ম্যাচের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বন্ধুকে চিঠি লেখো।

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৯ - ১৯৭০) : বিহারের পূর্ণিয়ায় জন্ম। 'গৌড় মল্লার', 'তুঙ্গভদ্রার তীরে' 'তুমি সন্ধ্যার মেঘ' প্রভৃতি ঐতিহাসিক উপন্যাস এবং সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সীর ডিটেকটিভ কাহিনি গুলি শরদিন্দু-র স্মরণীয় সৃষ্টি। বড়োদের গল্প উপন্যাস রচনার পাশাপাশি শিশু কিশোরদের জন্য তাঁর লেখালেখির পরিমাণও কম নয়। শিশু সাহিত্যে তাঁর একটি স্মরণীয় নায়ক চরিত্র 'সদাশিব'। পরিণত বয়সে অনেকটা সময় মুম্বাই ও পুণেতে কাটানোয় শিবাজি-র প্রথম জীবনের নানা ধরনের বিচিত্র রসের কাহিনি ধরা দিয়েছে তাঁর ছোটোগল্পে।

১১৬

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel