29. ভাটিয়ালি গান | জসীমউদ্দীন
29. ভাটিয়ালি গান | জসীমউদ্দীন - WBBSE - Class 7 - বাংলা
গান
ভাটিয়ালি গান
জসীমউদ্দীন
ও আমার দরদী আগে জানলে আগে জানলে তোর ভাঙ্গা নৌকায় চড়তাম না। ভাঙ্গা নৌকায় চড়তাম না আর দূরের পাড়ি ধরতাম না।
আমি নবলাখ বাণিজ্যের বেসাত এই নায় বোঝাই করতাম না। ছিলো সোনার দাড় পবনের বৈঠা ময়ূরপংখী নাও খানা চন্দ্র সুরজ গলুই ভরি ফুল ছড়াতে জোছনা।
শওঁ শওঁ শওঁ শওঁ দরিয়াতে উঠে ঢেউ এই তুফানেতে কেউ গাঙ পাড়ি দিও না ওরে বিষম দইরার পানি দেইখ্যা ভয়েতে প্রাণ বাঁচে না।
১১৭
লবঙ্গ লতিকার দেশে যাবার ছিলো বাসনা ওরে মাঝ দরিয়ায় নাও ডুবিলো উপায় কী তার বলো না।
কলকল ছলছল আগে চল আগে চল নাই বল তবু বল ওরে মাঝি তুই কেন হলি আজ বিমনা ও তোর সামনে নাচে বিল্লি লয়ে কন্যা সোনার বরণা।
ভাটিয়ালি পূর্ববঙ্গের পল্লীগীতির প্রকার বিশেষ। ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা ও শ্রীহট্ট জেলায় বিশেষভাবে প্রচলিত। বিশুদ্ধ ভাটিয়ালিতে তাল থাকে না। এ গান ছন্দ প্রধানও নয়। সাধারণত খোলা মাঠে রাখালের মুখে বা নদীর বুকে মাঝি-মাল্লাদের কণ্ঠে এই গান শোনা যায়। বিষয় এবং অবস্থাভেদে ভাটিয়ালিতে অনেক শ্রেণি আছে। একদিক দিয়ে ভাটিয়ালিকে পূর্ববঙ্গের বহুবিধ লোকগীতির ভিত্তিস্বরূপ মনে করা যেতে পারে। রূপকথার গানে ও কিছু মেয়েলি গানের গীতিরীতিতে ভাটিয়ালির আভাস আছে। এই গান দুই-বাংলারই নিজস্ব সম্পদ। এইসব গানে বাংলার নদীমাতৃক প্রকৃতির সঙ্গে দেহতত্ত্ব, গুরুসাধনার কথাও মিশে আছে। মুখে মুখে এই গানগুলি প্রচলিত হলেও, কয়েকজনের নাম পাওয়া যায় যাঁরা ভাটিয়ালি গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন। যেমন সিরাজ আলি, রশিদউদ্দিন, জালাল খান, জং বাহাদুর, শাহ আবদুল করিম, উমিদ আলি প্রমুখ। গায়ক আব্বাসউদ্দিন এই ধারার গানের বিখ্যাত নাম।
জসীমউদ্দীন (১৯০৪-১৯৭৬) : বিখ্যাত কবি, গীতিকার, লোকসংস্কৃতি গবেষক। তিনি বাঙালি পাঠকের কাছে 'পল্লীকবি' হিসেবেই অধিক পরিচিত। আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে বিখ্যাত এই ভাটিয়ালি গানটি জসীমউদ্দীনের 'রঙ্গিলা নায়ের মাঝি' গ্রন্থ থেকে গৃহীত।
১১৮
CONTENT MANAGER