Academy

34. বই পড়ার কায়দা কানুন

34. বই পড়ার কায়দা কানুন - WBBSE - Class 7 - বাংলা

0

বই পড়ার কায়দা কানুন

তাড়াতাড়ি স্কুল ছুটি হয়ে যেতে পাপাই এসেছিল লাইব্রেরিতে আগের দিনের আদ্ধেক পড়া বইটা পড়বে বলে। রোজই লাইব্রেরিতে এসে নানারকম বই পড়তে তার খুব ভালো লাগে। কিন্তু পাপাই আজ খুব মুস্কিলে পড়েছে। কেননা আগের দিনের আদ্ধেক পড়া বইটা কিছুতেই সে খুঁজে পাচ্ছেনা।

লাইব্রেরিয়ান কাকু পাপাইকে বইটার নাম, বইটা কার লেখা অর্থাৎ বইটার লেখক কে জানতে চাইলে পাপাই তা বলতে পারেনি। কিন্তু বইটাতে যে চাকা, আগুন ইত্যাদি আবিষ্কারের গল্প ছিল অর্থাৎ বইটা কী নিয়ে লেখা তা মোটামুটি বলতে পেরেছিল। এইটুকু জেনেই লাইব্রেরিয়ান কাকু পাপাইকে বইটা খুঁজে দিলেন। লাইব্রেরিতে এত বইএর মাঝেও ঠিক বইটা খুঁজে পাওয়ার রহস্যটা যে বইটার নাম, লেখকের নাম অথবা বিষয়টা জানা আর কার পরে কোন বিষয় রাখা হয় আর কেনই বা রাখা হয় তার গল্পটা পাপাইকে শুনিয়ে দিলেন। তারপর থেকে পাপাই আর লাইব্রেরিতে গিয়ে বই খুঁজে পেতে কখনো মুশকিলে পড়েনি। তোমারও শুনে নাও গল্পটা, তাহলে লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পেতে অসুবিধা হবে না।

অনেকদিন আগে যখন মানুষ একা একাই গুহায় বাস করত, বনে বনে ফলমূল খেয়ে থাকতো তখন থেকেই তাঁর মনের মধ্যে অনেক প্রশ্ন আসতো। যেমন ধরো রোজ সকালে আকাশে সূর্যকে দেখে সে ভাবতো এটা কী, কোথা থেকে আসে, কোথায় যায়? এই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টায় যে বিষয় তৈরি হলো তার নাম দর্শন, বিদ্যুৎ চমকানো, বাজ পড়া, প্রবল বৃষ্টি, প্রকৃতির এইসব ঘটনায় মানুষের মনে ভয় থেকে জন্ম নিল অলৌকিক শক্তি সম্পর্কে ধারণা। এই ধারণা থেকে যে বোধ সৃষ্টি হলো তা মানুষকে সুন্দর জীবন আচরণ করতেও শেখাল, আমাদের ধারণ করল। তাই এই নিয়ে গড়ে ওঠা বিষয়ের নাম ধর্ম

অনেক পরে একলা মানুষ গুহা ছেড়ে একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে সহযোগিতা করে বাঁচার জন্য সমাজ তৈরি করল। সমাজের নানা দিক নিয়ে যে জ্ঞান তার নাম হলো সমাজবিদ্যা। সমাজ পরিচালনার নীতি নিয়ম, টাকা-পয়সা, ব্যবসা-বাণিজ্য, আইন-কানুন এই সবের চর্চা থেকে এল রাজনীতি, অর্থনীতি ও আইন ইত্যাদি বিষয়। সমাজ তৈরির পর সমাজে থাকতে গেলে প্রথমেই দরকার হলো আমার মনের ভাব অন্যকে বোঝানো এবং অন্যেরা কী বলতে চায় তা বোঝা অর্থাৎ ভাষার। তাই পরের বিষয় ভাষা

প্রতিদিনের জীবনে তখন মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে হতো। মানুষ তাঁর বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে একটু একটু করে জেনে ফেলল তার চারপাশের ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার পেছনে আসল কারণগুলো কী কী, অর্থাৎ শিখল বিজ্ঞান নামের বিষয়টি। বিজ্ঞানের মধ্যে আবার অনেকগুলো ভাগ আছে যেমন অঙ্ক বা গণিত, মহাকাশবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ভূবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ইত্যাদি।

বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মানুষ শিখে ফেলল চাষবাস, আবিষ্কার করল নানারকম যন্ত্রপাতি। জীবন অনেক সহজ হয়ে উঠল। জ্ঞানের এই দিকের নাম দেওয়া হলো প্রযুক্তি

মানুষের মাথার মধ্যে তিনটে ঘর আছে। একটা ঘরে বাস করে যুক্তি আর বুদ্ধি, দ্বিতীয় ঘরে বাস করে কল্পনা আর তৃতীয় ঘরে বাস করে স্মৃতি। মানুষের যাবতীয় কাজ পেছন থেকে নিয়ন্ত্রণ করে এই যুক্তি, কল্পনা আর স্মৃতি। দর্শন থেকে প্রযুক্তি পর্যন্ত যে যে বিষয়গুলো আমরা পেলাম তার পেছনে আছে যুক্তি ও বুদ্ধির প্রয়োগ। এই বিষয়গুলো জানার ফলে মানুষ বাঁচার জন্য যা লাগে যেমন খাদ্য, পোশাক আর বাড়িঘরের ব্যবস্থা করতে পারল।


১৪৭


এর পরেও তারা থেমে থাকল না। কল্পনাশক্তি দিয়ে ছবি আঁকল, মূর্তি তৈরি করল, গান গাইল, নাটক করল, খেলাধূলা নিয়ে মেতে উঠল। সৃষ্টি হল বিষয় শিল্প। আর যখন সে লিখতে শিখল, সৃষ্টি হলো কবিতা, নাটক, গল্প-উপন্যাস, প্রবন্ধের। সব মিলিয়ে বলা হলো সাহিত্য

এই সব সৃষ্টিকে ধরে রাখল স্মৃতি। স্মৃতিঘরের নিয়ন্ত্রণে তিনটি বিষয় পাওয়া গেল – ইতিহাস, ভূগোল আর জীবনী

১৮৭৬ সালে মেলভিল ডিউই নামের আমেরিকার একজন গণিতজ্ঞ ও গ্রন্থাগারবিজ্ঞানী ০ থেকে ৯ দশমিক চিহ্ন ব্যবহারের মাধ্যমে একএকটা বিষয় চিহ্নিত করে সব বিষয়ের বইকে লাইব্রেরিতে সাজানোর জন্য একটা উপায় আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁর তৈরি তালিকাটি একবার মনে রেখে গল্পের সঙ্গে আর ছবির সঙ্গে মিলিয়ে নাও।

  • ১০০- দর্শন
  • ২০০- ধর্ম
  • ৩০০- সমাজ
  • ৪০০- ভাষা
  • ৫০০- বিজ্ঞান
  • ৬০০- প্রযুক্তি
  • ৭০০- শিল্প
  • ৮০০- সাহিত্য
  • ৯০০- ইতিহাস, ভূগোল আর জীবনী
  • ০০০- সাধারণ বিষয় যেমন অভিধান বিশ্বকোষ, খবরের কাগজ ইত্যাদি।

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel