16. মেঘ-চোর | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
16. মেঘ-চোর | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় - WBBSE - Class 7 - বাংলা
মেঘ-চোর
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
পু রন্দর চৌধুরি চোখ থেকে কালো চশমাটা খুলে ফেলে বললেন, 'অসীমা, এবার আমি তোমাকে এমন একটা দৃশ্য দেখাব, যা তোমার আগে পৃথিবীতে কেউ কখনও দেখেনি। এরকম দৃশ্য কেউ কল্পনাও করেনি।'
ছোটো একটা রকেট আকাশের এক জায়গায় গোল হয়ে পাক খাচ্ছে। কম্পিউটারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কম্পিউটারই রকেটটাকে ঘোরাচ্ছে।
দুটিমাত্র আসন। পাশাপাশি বসে আছেন পুরন্দর ও অসীমা। পুরন্দরের মুখখানা ফরসা ও একেবারে গোল, প্রায় চাঁদের মতন, তাঁর চোখের মণি দুটো নীল। তাঁর বয়েস পঞ্চাশের কাছাকাছি। বৃষ্টিবিজ্ঞানী হিসেবে সারা পৃথিবীতে তাঁর নাম। সাহারা মরুভূমিতে এক মাসে একশো ইঞ্চি বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে তিনি সাঙ্ঘাতিক কাণ্ড
৫০
করেছেন। এ-জন্য তাঁর প্রশংসা যত হয়েছে, নিন্দেও হয়েছে প্রায় ততটাই।
মেঘ থেকে ইচ্ছেমতন বৃষ্টিপাত ঘটানো এখন আর নতুন কিছু ব্যাপার নয়। কিন্তু তিনি অন্য দেশ থেকে মেঘ তাড়িয়ে এনে সাহারায় বৃষ্টি ঝরিয়েছেন। সেই দেশে এবার বৃষ্টি কম হবে। একে মেঘ-চুরি বলা যায়। রাষ্ট্রসঙ্ঘের অনেকগুলি দেশ দাবি তুলেছে যে, মেঘ-চুরি আইন করে বদলানো দরকার।
অসীমার বয়েস সাতাশ। আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সে ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করে। পুরন্দর চৌধুরি বোস্টন শহরে আবহাওয়ার বিষয়ে একটি আলোচনায় যোগ দিতে এসেছিলেন। সেখানে অসীমার সঙ্গে তাঁর হঠাৎ আলাপ হয়। অসীমা নিজেই পুরন্দর চৌধুরির সঙ্গে আলাপ করতে এসেছিল।
সেই আলোচনা-সভায় কারপভ নামে একজন বিজ্ঞানী পুরন্দরকে মেঘ-চোর বলে গালাগাল দেওয়ায় তিনি এমন উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলেন যে, চিৎকার করে কিছু বলতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যান।
যখন তিনি চোখ মেললেন, তখন তিনি দেখলেন তাঁর মাথার কাছে বসে আছে এই সুন্দরী মেয়েটি। সে তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
এই দুনিয়ায় পুরন্দর চৌধুরির আত্মীয়-স্বজন কেউ নেই। তিনি বিয়েও করেননি। বিদেশে একটি অচেনা বাঙালি মেয়েকে তাঁর সেবা করতে দেখে তিনি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'তুমি কে?'
অসীমা বলেছিল, 'আপনি আমায় চিনতে পারবেন না, কিন্তু আমি আপনার ছোটো ভাইয়ের মেয়ে।'
পুরন্দর প্রথমে বিশ্বাস করেননি। তাঁর একটি ভাই ছিল ঠিকই, কিন্তু সে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে পঁচিশ বছর আগে। সেই ভাইয়ের নাম ছিল দিবিজয়।
অসীমা বলেছিল, 'আমার বাবা নিরুদ্দেশ হয়ে যাননি, তিনি দেশ ছেড়ে ঘুরতে-ঘুরতে শেষ পর্যন্ত আলাস্কায় এসে সেখানেই থেকে গিয়েছিলেন। বিয়ে করেছিলেন একটি এস্কিমো মেয়েকে। তিনিই আমার মা। আমার বাবা আপনাকে খুব ভালোবাসতেন, মৃত্যুর আগেও আপনার কথা বলেছিলেন।'
বিদেশে এসে এমনভাবে একজন রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়কে খুঁজে পেয়ে পুরন্দর চৌধুরি দারুণ খুশি হয়ে উঠেছিলেন। তারপর তিনি আর অসীমাকে ছাড়তে চাননি। তাঁর নিজস্ব রকেটে তিনি অসীমাকে নিয়ে বহু জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর আবহাওয়ার নানারকম রহস্য দেখাচ্ছেন।
ঘুরতে-ঘুরতে এখন ওঁরা এসেছেন আলাস্কার আকাশে। অসীমা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যেখানে থাকত, সে-জায়গাটাও দেখা হয়ে গেছে। সেখানে অবশ্য এস্কিমোদের ইগলুর বদলে এখন বড়ো-বড়ো এয়ারকন্ডিশানড্ বাড়ি উঠেছে। পুরন্দর চৌধুরি বললেন, 'নীচের দিকে তাকিয়ে দ্যাখো, ওটা কী দেখছ বলতে পারো?'
অসীমা বলল 'দেখতে পাচ্ছি একটা সোনালি রঙের পাহাড়। চূড়ার বরফের ওপর রোদ পড়েছে বলে সত্যিই সোনার মতন ঝকঝক করছে।'
'ওই পাহাড়টার নাম জানো?'
৫১
অসীমা ইতিহাসের ছাত্রী হলেও ভূগোলও বেশ ভালোই জানে। সে বলল, 'আমি আলাস্কার এত দূরে কখনও আসিনি বটে, তবে এই পাহাড়টার নাম মাউন্ট চেম্বারলিন। তার পাশেই যে কুয়াশায় ঢাকা হ্রদ, তার নাম লেক শ্রেভার।'
পুরন্দর খুশি হয়ে বললেন 'বাঃ! এবার তোমাকে আমি যা দেখাব, তা কিন্তু তুমি কাউকে বলতে পারবে না। সারা পৃথিবীতে দারুণ হইচই হবে এই নিয়ে, কিন্তু তুমি মুখ খুলতে পারবে না। ব্যাটা কারপভ, কীরকম জব্দ হয় এবার দেখো।'
অসীমা মৃদুভাবে বলল, 'বিজ্ঞানীদের উচিত নয় কিন্তু একজন আর-একজনকে জব্দ করা।'
'বোকাদের বুঝিয়ে দেওয়া দরকার, তাদের জ্ঞান কতটুকু! আমাকে মেঘ-চোর বলে, এত সাহস? আমি অন্যায়টা কী করেছি? সাইবেরিয়া থেকে মেঘ এনেছি সাহারায়। সাইবেরিয়ায় অত বরফ, সেখানে বৃষ্টি না হলে ক্ষতি কী আছে?'
অসীমা বলল, 'কিন্তু একবার এ রকম শুরু করলে, তারপর যদি যে-কোনো দেশ অন্য দেশের মেঘ চুরি করতে শুরু করে? তখন সে-দেশের মানুষের কী অবস্থা হবে?'
'আমি পৃথিবীর মানুষকে আর-একটা জিনিস শিখিয়ে দিয়ে যাব। যাতে ওরকম মেঘ চুরি হলেও কোনো ক্ষতি হবে না। যাকগে, সে-কথা পরে। তুমি তো ইতিহাসের ছাত্রী, পৃথিবীতে শেষ তুষার-যুগ কবে এসেছিল জানো?'
'এটা ঠিক ইতিহাসের বিষয় নয়, প্রাগৈতিহাসিক ব্যাপার। তবু আমি এটা জানি। শেষ হিমযুগ শেষ হয়েছিল তেরো হাজার বছর আগে।'
'ঠিক বলেছ। এই লেক শ্রেভার তৈরি হয়েছিল সেই সময়ে। মাউন্ট চেম্বারলিনের বরফগলা জল এই লেকে এসে জমে। আবার এই জল বাষ্প হয়ে উড়ে গিয়ে মাউন্ট চেম্বারলিনের চূড়ায় গিয়ে আবার বরফ হয়ে যায়। এই সাইক্ল চলছে'।
'যেমন সমুদ্রের জল মেঘ হয়ে উড়ে যায়। আবার মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়ে সমুদ্র ভরাট হয়।'
'ওটা তো ইস্কুলের ছেলেমেয়েদের মতন হলো। আসল বৃষ্টির হিসেবটা তোমাকে সংক্ষেপে বুঝিয়ে দিচ্ছি। সারা বছর পৃথিবী থেকে কত জল বাষ্প হয়ে মেঘে উড়ে যায় জানো? পঁচানব্বই হাজার কিউবিক মাইল। তার মধ্যে আশি হাজার কিউবিক মাইলই যায় সমুদ্র থেকে। আবার ঠিক আশি হাজার কিউবিক মাইল বৃষ্টি হয়ে সমুদ্রে ফিরে আসে। আর মাত্র পনেরো হাজার কিউবিক মাইল বৃষ্টি নিয়ে পৃথিবীর এত মানুষ, জীবজন্তু, গাছপালা সব বেঁচে আছে। প্রকৃতির হলো এটাই নিখুঁত হিসেব। কিন্তু এবার মানুষের সংখ্যা দিন-দিন বেড়ে যাচ্ছে। সুতরাং মানুষের জন্যে বেশি বৃষ্টি দরকার।'
'আপনি এখানে আমাকে কী দেখাবেন বলেছিলেন?'
৫২
'হ্যাঁ। এই যে নীচে দেখছ লেক শ্রেভার, এখানে একটা মজার ব্যাপার ঘটছে। এখানে যতখানি জল বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে, ঠিক ততখানি বৃষ্টি হয়ে ফিরে আসছে না। কিছুটা কম ফিরে আসছে। অর্থাৎ হ্রদটা একটু-একটু করে শুকোচ্ছে। আমি হিসেব করে দেখেছি, এই হ্রদটা পুরোপুরি শুকোতে আরও দশ হাজার বছর লাগবে।'
'আপনি কী করে জানলেন? ঠিক দশ হাজার বছর লাগবে?'
'অঙ্কের হিসেবে! তুমি পৃথিবীর যে-কোনো পাহাড়, নদী, পুকুর, খাল-বিলের কাছে আমায় নিয়ে যাও, আমি অঙ্ক কষে বলে দেবো, সেখান থেকে কত জল বাষ্প হচ্ছে আর কত জল বৃষ্টি হয়ে ফিরে আসছে। এই অঙ্ক আমার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না। কারপভও কিছুটা জানে, তবে আমার চেয়ে কম।'
'আমি তো ইতিহাস পড়ি, অঙ্ক আমার মাথায় ঢোকে না।'
'ইতিহাসেও তো অঙ্ক লাগে। অবশ্য সাধারণ যোগ-বিয়োগ। আচ্ছা ইতিহাসের ছাত্রী, তুমি আটলান্টিস নামে লুপ্ত সভ্যতার কথা জানো? সেটা কোথায় ছিল বলো তো?'
'এটাও কিন্তু ইতিহাসের বিষয় নয়। আটলান্টিসের ব্যাপারটা গ্রিক লেখকদের জল্পনা-কল্পনা। অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি হয়েছে, এখনও কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি ঠিকঠাক।'
'আমি যদি বলি এই লেক শ্রেভারের তলাতেই চাপা পড়ে আছে।'
'সেটা দশ হাজার বছর পরে জানা যাবে!'
পুরন্দর চৌধুরি হা-হা করে হেসে উঠলেন। ছোট্ট একটা মশলার কৌটো খুলে একটা লবঙ্গ খেয়ে বললেন, 'তুমি একটা নেবে নাকি?'
অসীমা একটা লবঙ্গ নিল।
পুরন্দর চৌধুরী বললেন 'তুমি আর আমি কেউই তো দশ হাজার বছর বাঁচব না! ততদিনে পৃথিবীতে মানুষই থাকবে কিনা সন্দেহ! দশ হাজার বছর তো দূরের কথা, আমি দশ বছরও অপেক্ষা করতে রাজি নই।'
অসীমা চোখ বড়ো-বড়ো করে বলল, 'তা হলে কি আপনি এই লেকটা খুঁজে দেখতে চান? এর তো প্রায় সবটাই বরফে ঢাকা!'
পুরন্দর মাথা নেড়ে বললেন, 'খোঁড়াখুঁড়ি তো তোমাদের কাজ। আমি জল নিয়ে কারবার করি। জল কি খুঁড়তে হয়? এই যে এতবড়ো একটা লেক পড়ে আছে এখানে, এটা অপ্রয়োজনীয়, তাই না? কোনো মানুষ এখানে আসে না। দশ হাজার বছর ধরে লেকটা নিজে-নিজে শুকোেতই—অতদিন অপেক্ষা না করে এখনই এটাকে শুকিয়ে ফেললে কেমন হয়?'
'এতবড়ো লেকটা শুকোবেন কী করে? সেই জল ফেলবেন কোথায়?'
'মেঘ করে ছড়িয়ে দেব। সেই মেঘ কারপভের দেশে পাঠিয়ে দেবো। ও খুব মেঘ-মেঘ বলে চ্যাঁচামেচি
৫৩
করছিল যে!'
'এই বিশাল হ্রদের জল যদি মেঘ হয়ে যায়, সেই মেঘ থেকে অন্য জায়গায় বৃষ্টি হবে। একসঙ্গে হঠাৎ বৃষ্টি বেড়ে গেলে পৃথিবীর দারুণ কোনো ক্ষতি হয়ে যাবে না!'
'কী আর হবে! সাইবেরিয়ায় বড়োজোর এক ইঞ্চি বেশি বরফ জমবে!'
অসীমা হেসে ফেলে বলল, 'আপনি আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছেন। এতবড়ো লেক কি শুকিয়ে ফেলা যায়?'
পুরন্দর বললেন, 'বড়ো-বড়ো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার যখন প্রথম হয়, তখন সবাই অবিশ্বাস করে। তোমাকে আর-একটি ছোট্ট ঘটনা বলি। ঘটনাটা ছোটো কিন্তু তার ফলটা হয়েছিল বিরাট। দশ লক্ষ বছরেরও কিছু বেশি আগে, এই পৃথিবীর উত্তাপ হঠাৎ একটু কমে গিয়েছিল। এ রকম হয়। পৃথিবীর উত্তাপ মাঝে-মাঝে কমে-বাড়ে। মাঝে-মাঝে—এই ধরো – দশ-পনেরো হাজার বছর পরে-পরে। আমি যেবারের কথা বলছি, সেবারে পৃথিবীর উত্তাপ কমেছিল মাত্র তিন থেকে চার ডিগ্রি ফারেনহাইট। সেলসিয়াসের হিসেবে খুব বেশি হলে দুই পয়েন্ট দুই। অতি সামান্য— তাতেই গোটা উত্তর আমেরিকাটা বরফে ঢেকে গিয়েছিল। কোথাও-কোথাও বরফ জমে গিয়েছিল এক হাজার ফিট উঁচু। তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না? এটা কিন্তু প্রমাণিত সত্য!'
অসীমা বলল, 'আপনার কথা অবিশ্বাস করব কেন? আমি ভাবছিলুম, আপনি আমাকে ছেলে-মানুষ ভেবে ঠাট্টা করছেন!'
'না, এসব ঠাট্টার ব্যাপার নয়। এবার বুঝলে তো, পৃথিবীর উত্তাপ একটুখানি কমে গেলেই কী কাণ্ড হয়? সেইরকম পৃথিবীর উত্তাপ যদি খানিকটা বাড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলেই সব বরফ গলতে শুরু করবে। আগে এই তাপ কমা-বাড়াটা সূর্যের ওপর নির্ভর করত। এখন মানুষই তা পারে। যেসব পাগলগুলো অ্যাটম বোমা, হাইড্রোজেন বোমা জমিয়ে রেখেছে, সেগুলো যদি একসঙ্গে ফাটাতে শুরু করে তা হলে পৃথিবীর সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যাবে!'
'সে-কথা জানি! এতবড়ো লেকটাকে বাষ্প করে দেওয়ার জন্য আপনিও একটা অ্যাটম বোমা ফাটাবেন নাকি?'
'আমি ওসব বোমা-টোমায় বিশ্বাস করি না! আমি পুরন্দর চৌধুরি, আমার আবিষ্কার সব সময় মৌলিক। আলাস্কার এই চেম্বারলিন পাহাড়ের কাছে জনমনুষ্য নেই। এখানেই হবে আমার আবিষ্কারের পরীক্ষা। শুধু তুমি থাকবে তার সাক্ষী। তুমি আমার ভাইয়ের মেয়ে তাই তোমাকে এই মহান দৃশ্য দেখার সুযোগ দিচ্ছি। দশ হাজার বছর পরে যে-হ্রদটা শুকিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেটাকে আমি নিশ্চিহ্ন করে দেবো পাঁচ মিনিটে।'
'সত্যিই কি তা সম্ভব!'
'এক্ষুণি দেখতে পাবে!'
'এতবড়ো লেকটার জল বাষ্প হয়ে গেলে যে বিরাট মেঘ হবে, তার ধাক্কায় আমাদের রকেট টিকতে পারবে?'
৫৪
'আমরা মেঘলোকের অনেক উঁচুতে উঠে যাব! মেঘ আর কতটা উঠতে পারে!'
'তারপর এতবড়ো মেঘকে আপনি সাইবেরিয়া পাঠাবেন?'
'সবটা নাও পাঠাতে পারি, কিছু-কিছু বিক্রিও করতে পারি। যেসব দেশে বৃষ্টি কম, তাদের কয়েক টুকরো দেওয়া যেতে পারে।'
'ততদিন আপনি এই মেঘ জমিয়ে রাখবেন কোথায়?'
'উড়িয়ে নিয়ে বেড়াব। এক দেশ থেকে আর-এক দেশে উড়ে যাবে। যে-কোনো দেশের ওপর দিয়েই মেঘ উড়ে যাওয়া তো বেআইনি নয়!'
'কিন্তু এই মেঘের সঙ্গে অন্য দেশের মেঘ উড়ে যেতে পারে না?'
'তা পারে অবশ্য! জানো অসীমা, এতবড়ো একটা জলভরা মেঘ যদি আমাদের অধিকারে থাকে, তাহলে সেই মেঘখানাকে উড়িয়ে-উড়িয়ে আমরা পৃথিবীর সব মেঘ একসঙ্গে জুড়ে নিতে পারি। তখন কোথায় কখন বৃষ্টি হবে, তা আমি ঠিক করছি। আমি হব আকাশের দেবতা ইন্দ্র। আমার নাম পুরন্দর, তার মানে জানো তো? যে-ক'জন বিজ্ঞানী আমার সঙ্গে শত্রুতা করেছে, আমার নামে নিন্দে রটিয়েছে, তাদের দেশে আমি ইচ্ছে করলে একফোঁটাও বৃষ্টি না দিতে পারি।
অসীমা হঠাৎ মুখ নিচু করে মুচকি-মুচকি হাসতে লাগল।
পুরন্দর একটু রেগে গিয়ে বললেন, 'এখনও বুঝি তোমার সন্দেহ হচ্ছে!'
অসীমা বলল, 'না, তা নয়। আপনি পঁচানব্বই হাজার কিউবিক মাইল আয়তনের এক বিশাল মেঘ নিয়ে আকাশে-আকাশে ফেরিওয়ালার মতন ঘুরছেন, আর সবক'টা দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করছেন, বৃষ্টি নেবে? বৃষ্টি নেবে? এটা ভাবতেই কীরকম মজা লাগছে।'
পুরন্দর বললেন, 'তুমি ঠিকই বলেছ। এটা মজারই ব্যাপার। আমি সত্যি-সত্যি অবশ্য সেরকম কিছু করব না। আমি তো মেঘের ব্যবসাদার নই। মানুষের ক্ষতি করতেও চাই না। শুধু ওই কারপভ আমাকে মেঘ-চোর বলেছে, ওর দেশে আমি এই প্রকাণ্ড মেঘটা পাঠিয়ে দিয়ে বলব, এই নাও ধার শোধ! সাইবেরিয়ায় কয়েক ইঞি বরফ বেড়ে যাবে।'
অসীমা বলল, 'কিন্তু সাইবেরিয়ায় যাওয়ার আগেই যদি এই মেঘ কোথাও ভেঙে পড়ে! কোনো দেশকে ভাসিয়ে দেয়?'
পুরন্দর বললেন, 'সে রকম একটু ঝুঁকি আছে ঠিকই। কৃত্রিমভাবে তৈরি এই মেঘের চরিত্র কী হবে তা বলা যায় না। তবে নতুন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার সময় এ রকম একটু ঝুঁকি নিতেই হয়। অবশ্য আমার যতদূর ধারণা, আমি মেঘটাকে ঠিক চালিয়ে নিয়ে যেতে পারব!'
৫৫
'মনে করুন, সাইবেরিয়ার দিকে না গিয়ে এই মেঘটা আপনার দেশ কলকাতার আকাশের ওপর ভেঙে পড়ল, তা হলে সেই শহরের অবস্থা কী হবে?'
‘এ রকম জলভরা টলটলে মেঘ হঠাৎ ভেঙে পড়লে কলকাতার অর্ধেক বাড়ি ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাবে। কিন্তু সে রকম অবস্থা আমি হতেই দেবো না। মেঘটা এদিক-ওদিক গেলেই আমি ফাটিয়ে দেবো কোনো নির্জন জায়গায়।'
এবারে তিনি নিচু হয়ে তাঁর বসবার জায়গার তলা থেকে একটি ফাইবার গ্লাসের বাক্স বার করলেন। সেই বাক্সের মধ্যে ফুটবলের সাইজের একটা ধাতুর বল।
সেই বলটা হাতে নিয়ে তিনি বললেন, 'এটা দেখছ, অসীমা। এটা আমার নিজের তৈরি। মার্কারির সঙ্গে আরও এগারোটি ধাতু মিশিয়ে তৈরি হয়েছে এই নতুন অ্যালয়। এর গুণ হচ্ছে জলের ছোঁয়া লাগলেই এটা গরম হতে শুরু করে। তারপর উত্তাপ এমন বাড়বে যে, তুমি কল্পনাও করতে পারবে না। দ্যাখো, বাতাসে যে জলকণা আছে, তাতেই এটা গরম হতে শুরু করেছে। সেইজন্যেই এটাকে এয়ারটাইট অবস্থায় রাখতে হয়।'
অসীমা হাত দিয়ে দেখল, সত্যিই বলটা বেশ গরম।
পুরন্দর বললেন, 'আমার হিসেব অনুযায়ী জলের মধ্যে মেশবার পর পাঁচ মিনিটেই এর উত্তাপ এত বাড়বে যে, গোটা লেকটারই বরফ গলে গিয়ে বাষ্প হয়ে যাবে। তারপর আমরা দেখব ওর তলায় আটলান্টিস আছে কি না। দু'রকম আবিষ্কারই হবে, কী বলো!'
অসীমা জিজ্ঞেস করল, 'আমরা মেঘলোকের ওপরে উঠে গেলে মেঘের তলায় কী আছে তা দেখব কী করে?'
'দেখতে পেলে তো হলো!'
'আপনার এই গোল ধাতুটা কি একবার গরম হয়েই নষ্ট হয়ে যাবে?'
'না, না, না এর ধ্বংস নেই। এটা যতবার ইচ্ছে ব্যবহার করা যাবে। সব জল শুকিয়ে গেলেই এটা আস্তে আস্তে আবার ঠান্ডা হতে শুরু করবে। এইবার তা হলে শুরু হোক।'
অসীমা তার কোটের পকেট থেকে একটা ছোট্ট রিভলভার বার করে বলল, 'পুরন্দর চৌধুরী, ওই বলটাকে আপনি এবার ওই এয়ার-টাইট বাক্সে ঢোকান। এবার আমাদের ফিরে যেতে হবে।'
দারুণ অবাক হয়ে চোখ কপালে তুলে পুরন্দর বললেন, 'এ কী অসীমা! তুমি ওটা তুলে আমাকে ভয় দেখাচ্ছ কেন?'
অসীমা বলল, 'আপনার দিকে অস্ত্র তুলতে হয়েছে বলে আমি দুঃখিত। কিন্তু না হলে আপনি আমার কথা শুনতেন না। প্রকৃতিকে ধ্বংস করা একটা অপরাধ। আলাস্কার একটি লেক শুকিয়ে সাইবেরিয়ায় এতবড়ো একটা মেঘ পাঠালে প্রকৃতিতে মহাবিপর্যয় শুরু হয়ে যাবে। ড. কারপভের ওপর রাগ করে আপনি পৃথিবীর ক্ষতি
৫৬
করতে চাইছেন!'
পুরন্দর চৌধুরি বললেন, ওটা সরিয়ে রাখো! পাঁচ মিনিটে এতবড়ো একটা মেঘ সৃষ্টি করার রেকর্ড করব আমি। তার সঙ্গে তোমার নামটাও থাকবে আমার ভাইঝি হিসেবে।'
'আমি আপনার ভাইঝি নই। আমি কারপভের মেয়ে।'
'অ্যাঁ!'
'হ্যাঁ, আমার মা বাঙালি মেয়ে।'
'তুমি আমাকে মিথ্যা কথা বলেছিলে? তুমি একটা স্পাই।'
'ঠিক মিথ্যা বলিনি। আমার বাবা আপনাকে বড়োভাইয়ের মতন শ্রদ্ধা করেন। কিন্তু তিনি বলেন, আপনি এক দেশের মেঘ অন্য দেশে নিয়ে গিয়ে পাগলামি করছেন। সমুদ্র থেকে খাল কেটে সাহারায় জল আনা হচ্ছে, অন্য দেশের মেঘ আনার দরকার নেই।'
'তুমি, তুমি আমার এমন একটা যুগান্তকারী আবিষ্কার নষ্ট করে দিতে চাও? তুমি আমার ওপর গুলি চালাও, আমাকে মেরে ফ্যালো, তবু এই গোলাটা আমি হ্রদে ফেলবই। আমি মরে গেলেও পৃথিবীর লোক জানবে যে পুরন্দর চৌধুরি কতবড়ো বিজ্ঞানী ছিল।'
অসীমা একবার বাইরের দিকটা দেখে নিয়ে পুরন্দরের দিকে স্থির ভাবে চেয়ে রইল।
পুরন্দর রকেটের একটা অংশ খুলতে যেতেই অসীমা বলল, 'ওটা খুলবেন না। তাহলে আমরা গুঁড়ো হয়ে যাব।'
'আমি এটা বাইরে ছুঁড়বই!'
'ছুড়ুন তাহলে। কিন্তু জানালা-টানালা খুলবেন না। এই সকেটের মধ্যে ফেলুন, নীচের পরপর কয়েকটা ভাল্ভ খুলে গিয়ে এটাকে বাইরে বার করে দেবে।'
'তার মানে! তুমি কী বলছ? জানালা খুলব না কেন?'
'ডক্টর পুরন্দর চৌধুরি, আপনি আবহাওয়া-বিজ্ঞানী। আমি কিন্তু শুধু ইতিহাসের ছাত্রী নই, কম্পিউটারেও আমার বিশেষ আগ্রহ। আগে থেকে প্রোগ্রাম করে রেখেছিলাম। কম্পিউটার এখন রকেটটাকে বায়ুমণ্ডল ছাড়িয়ে পৃথিবীর অনেক ওপরে নিয়ে এসেছে। লেকটাকে কি আর দেখতে পাচ্ছেন? এখান থেকে আপনার বলটা ছুঁড়লেও লেকে পড়বে না। বলটা আস্তে-আস্তে ঠান্ডা হয়ে আসছে না?'
পুরন্দরের মুখটা হাঁ হয়ে গেল। সেই সুন্দর চেহারার মেয়েটার মাথায় এতসব বুদ্ধি! বায়ুমণ্ডলের বাইরে তাঁর অ্যালয়টা অকেজো!
অসীমা বলটা পুরন্দরের হাত থেকে নিয়ে ফেলে দিল সকেটে। তারপর বলল, 'ওটা মহাশূন্যেই থাক। তাহলে কোনোদিন আর জলের ছোঁয়া পাবে না। পৃথিবীর জল যেমন আছে তেমনই থাকুক!'
৫৭
টীকা:
- সাহারা মরুভূমি: আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় গোটা উত্তরাংশ জোড়া বর্গ কি.মি. বিস্তৃত পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি। আলজিরিয়া, মিশর, লিবিয়া, মালি, সুদান, তিউনিশিয়া সহ মোট বারোটি দেশ জুড়ে এই মরুভূমি।
- রাষ্ট্রসঙ্ঘ: -এ প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক আইন, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক বিকাশ, মানবাধিকার ও বিশ্বশান্তির লক্ষে প্রতিষ্ঠিত। মূল কার্যালয় নিউইয়র্ক, আমেরিকা। সদস্য দেশ ।
- হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়: আমেরিকার ম্যাসাচুসেট্স এ অবস্থিত, সালে প্রতিষ্ঠিত পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়।
- বোস্টন: ম্যাসাচুসেটসের রাজধানী।
- আলাস্কা: আমেরিকার উত্তর পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম প্রদেশ। এর উত্তরে সুমেরু মহাসাগর, পূর্বে কানাডা এবং দক্ষিণ পশ্চিমদিক জুড়ে আছে প্রশান্ত মহাসাগর।
- এস্কিমো: পূর্ব সাইবেরিয়া, আলাস্কা, কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড জুড়ে বসবাসকারী জনজাতি। এদের প্রধান দুটি ভাগ হলো ইউপিক এবং ইনুইট।
- ইগলু: এস্কিমোদের তৈরি বরফের বাড়ি। বরফ বায়ু নিরোধক বলে ইগলুর ভেতরের উষ্ণতা বাইরের প্রকৃতির থেকে অনেক বেশি থাকে।
- মাউন্ট চেম্বারলিন: আলাস্কার ব্রুকস পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। উচ্চতা মিটার।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (-): জন্ম বাংলাদেশের ফরিদপুরে। 'কৃত্তিবাস' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক। 'আত্মপ্রকাশ' তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস, আর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'একা এবং কয়েকজন'। কবি হিসেবে তাঁর খ্যাতি অসামান্য। ছোটোদের মহলেও সমান জনপ্রিয় তিনি। প্রথম কিশোর-উপন্যাস 'ভয়ংকর সুন্দর'। 'নীললোহিত' ছদ্মনাম ছাড়াও 'সনাতন পাঠক' ও 'নীল উপাধ্যায়' নামে অনেক লেখা লিখেছেন। 'আনন্দ পুরস্কার', 'বঙ্কিম পুরস্কার', 'সাহিত্য আকাদেমি' ইত্যাদি নানা পুরস্কারে তিনি সম্মানিত। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'প্রথম আলো', 'সেই সময়', 'পূর্ব পশ্চিম', 'মনের মানুষ', 'অর্জুন', 'অরণ্যের দিনরাত্রি'। গ্রন্থ সংখ্যা দুশোর বেশি। তাঁর লেখাগুলি চলচ্চিত্রে, বেতারে ও টিভির পর্দায় রূপায়িত ও পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত।
৫৮
১. সন্ধি করো:
| বৃষ+তি | অপ+ইক্ষা |
|---|---|
| গো+এষণা | পরি+ঈক্ষা |
| আবিঃ+কার | কিম্+তু |
২. সন্ধি বিচ্ছেদ করো:
নিরুদ্দেশ, বিয়োগ, উত্তাপ, নির্জন, যুগান্ত।
📌 শব্দার্থ:
- রকেট—পৃথিবীর অভিকর্ষের টান ছাড়িয়ে মহাশূন্যে যাওয়ার দ্রুতগামী যান।
- কম্পিউটার—যন্ত্রগণক।
- পুরন্দর—ইন্দ্র।
- দিবিজয়—সর্বদিক বা নানাদেশ জয়।
- তুষারযুগ—হিমযুগ।
- যুগান্তকারি—নতুন যুগ শুরু করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- এয়ারকন্ডিশানড্—শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, বাতানুকূল।
- প্রাগৈতিহাসিক—যে যুগ থেকে ইতিহাস জানা গেছে তার পূববর্তী যুগের।
- নিশ্চিহ্ন—অদৃশ্য, উধাও।
- মার্কারি—পারদ।
- অ্যালয়—ধাতু সঙ্কর।
- এয়ারটাইট—বায়ুনিরোধক।
- স্পাই—চর, গোয়েন্দা।
- সকেট—কোটর।
- অকেজো—অকর্মণ্য, অব্যবহার্য।
৩. নীচের শব্দগুলিতে ব্যবহৃত নঞর্থক উপসর্গগুলি দিয়ে নতুন শব্দ তৈরি করো।
| উপসর্গ | যেমন | নতুন তৈরি শব্দ |
|---|---|---|
| অ | অচেনা | |
| নি | নিখুঁত | |
| বি | বিদেশ | |
| নিঃ | নিশ্চিহ্ন | |
| বে | বেবন্দোবস্ত |
৪. নঞর্থক উপসর্গ ছাড়া অন্যান্য উপসর্গের ব্যবহারে তৈরি শব্দও এই গল্পে কম নেই। এখানে সেই ধরনের একটি করে শব্দ দিয়ে দেওয়া হলো, প্রতিটি উপসর্গ দিয়ে তৈরি আরো পাঁচটি করে শব্দ লিখতে হবে তোমাকে।
| উপসর্গ | যেমন | নতুন তৈরি শব্দ |
|---|---|---|
| প্র | প্রশংসা | |
| আ | আলাপ | |
| বি | বিজ্ঞানী | |
| প্রাক্ | প্রাগৈতিহাসিক | |
| সম্ | সংক্ষেপ | |
| অধি | অধিকার |
৫৯
৫. “অসীমা বলল, না তা নয়,... এক বিশাল মেঘ নিয়ে আকাশে-আকাশে ফেরিওয়ালার মতন ঘুরছেন” আর... "আমি তো মেঘের ব্যবসাদার নই..." উদ্ধৃতাংশটিতে 'ফেরিওয়ালা' আর 'ব্যবসাদার' শব্দ দুটি পাচ্ছি। এই 'ওয়ালা' এবং 'দার' অনুসর্গ দুটি ব্যবহার করে অন্তত পাঁচটি করে নতুন শব্দ বানাও।
ওয়ালা- দার-
৬. এই গল্পটিতে অজস্র শব্দ দ্বৈত ব্যবহৃত হয়েছে। কোনটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে বুঝে নিয়ে অথবা গঠনগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নীচের খোপগুলিতে শব্দবাক্স থেকে শব্দ নিয়ে সঠিকস্থানে বসাও। একটি করে উদাহরণ দিয়ে দেওয়া হলো :
| দ্বিরুক্তি-অর্থে | উড়িয়ে উড়িয়ে |
|---|---|
| ঈষদর্থে/ সাদৃশ্য-অর্থে | মেঘ-মেঘ |
| প্রকৃত শব্দ+বিকৃত শব্দে | হইহই |
| সমার্থক যুগ্ম | আত্মীয় স্বজন |
| বিপরীতার্থক শব্দযুগ্ম | যোগ-বিয়োগ |
| ধ্বন্যাত্মক/অনুকারাত্মক | হা-হা |
শব্দবাক্স: খালবিল, গাছ পালা, হইচই, ঠিকঠাক, আত্মীয়স্বজন, জল্পনা-কল্পনা, খোঁড়াখুঁড়ি, ঝকঝক, জীবজন্তু, একটু একটু, হা-হা, যোগ বিয়োগ, খোঁজাখুঁজি, নিজে নিজে, মেঘ-মেঘ, চ্যাঁচামেচি, মাঝে মাঝে, কমে বাড়ে, পরে পরে, কোথাও কোথাও, বোমা-টোমা, কিছু কিছু, উড়িয়ে উড়িয়ে, মুচকি মুচকি, সত্যি সত্যি, টলটলে, এদিক ওদিক, জানলাটানলা।
৭. সমার্থক শব্দ লেখো:
জব্দ, নিরুদ্দেশ, কারবার, লুপ্ত, নিখুঁত, কৃত্রিম, ধ্বংস, শ্রদ্ধা, অনুগ্রহ, স্থির।
৮. নীচের শব্দগুলির দুটি করে পৃথক অর্থ জানিয়ে প্রত্যেকটির জন্য আলাদা আলাদা বাক্য লেখো:
কাণ্ড, বল, যোগ, আলাপ, ব্যাপার, অঙ্ক, পর, ধার, চেয়ে, জন
৯. সমোচ্চারিত/প্রায়-সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দগুলির অর্থ লিখে আলাদা আলাদা বাক্যরচনা করো:
| চাপা | যোগ | লক্ষ | দেশ | চুরি | কাটা |
|---|---|---|---|---|---|
| চাঁপা | যুগ | লক্ষ্য | দ্বেষ | চুড়ি | কাঁটা |
১০. স্থূলাক্ষর পদগুলির কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো:
১০.১ আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সে ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করে। ১০.২ অসীমা ইতিহাসের ছাত্রী হলেও ভূগোলও বেশ ভালই জানে। ১০.৩ তার মধ্যে আশি হাজার কিউবিক মাইলই যায় সমুদ্র থেকে। ১০.৪ সাইবেরিয়ায় বড়জোর এক ইঞ্চি বেশি বরফ জমে।
৬০
১০.৫ তাঁর নিজস্ব রকেটে তিনি অসীমাকে নিয়ে বহু জায়গায় বেড়াচ্ছেন।
১১. একটি দুটি বাক্যে উত্তর দাও:
১১.১ 'মেঘ-চোর'-এর মতো তোমার পড়া দু-একটি কল্পবিজ্ঞানের গল্পের নাম বলো। ১১.২ এই গল্পে কজন চরিত্র? তাদের নাম কী? ১১.৩ 'মেঘ-চোর' কাকে বলা হয়েছে? ১১.৪ পুরন্দরের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। ১১.৫ অসীমা সম্বন্ধে দু-একটি বাক্য লেখো। ১১.৬ পুরন্দর কী সাঙ্ঘাতিক কাণ্ড করেছেন? ১১.৭ রাষ্ট্রসঙ্ঘে বিভিন্ন দেশ কী দাবি তুলেছে? ১১.৮ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কোথায়? ১১.৯ পুরন্দরের মুখটা হাঁ হয়ে গেল কেন? ১১.১০ জ্ঞান ফিরে পুরন্দর অবাক হয়েছিলেন কেন? ১১.১১ দিবিজয় কে ছিলেন? ১১.১২ গল্পের ঘটনা যখন ঘটেছে তখন চরিত্রগুলি কোথায় ছিল? ১১.১৩ ইগলু-র পরিবর্তে সেখানে তখন কী দেখা যাচ্ছিল? ১১.১৪ কেন বলা হয়েছে অসীমা 'ভূগোলও বেশ ভালো জানে'? ১১.১৫ কে কোথা থেকে কোথায় মেঘ এনেছিল? ১১.১৬ তুষার যুগ কাকে বলে? ১১.১৭ পৃথিবী থেকে কত জল সারাবছর বাষ্প হয়ে মেঘে উড়ে যায়? ১১.১৮ মানুষের জন্য বেশি বৃষ্টি দরকার কেন? ১১.১৯ আটলান্টিস কী? ১১.২০ পুরন্দরের মতে আটলান্টিসের অবস্থান কোথায়? ১১.২১ সাইবেরিয়া কোথায়? ১১.২২ অসীমা কেন পুরন্দরকে ফেরিওয়ালা বলে ব্যঙ্গ করেছে? ১১.২৩ অ্যালয় কী? ১১.২৪ পুরন্দরের তৈরি গোলকটিতে আছে এমন কোন ধাতুর নাম গল্পে পেলে?
৬১
১১.২৫ পুরন্দরের তৈরি গোলকটি এয়ারটাইট রাখতে হয় কেন? ১১.২৬ “প্রকৃতিকে ধ্বংস করা একটা অপরাধ”— কে, কাকে, কখন বলেছে? ১১.২৭ অসীমার প্রকৃত পরিচয় কী? ১১.২৮ “তাহলে আমরা গুঁড়ো হয়ে যাব”— কে, কাকে, কেন বলেছে? ১১.২৯ অসীমার বিশেষ আগ্রহ কোন বিষয়ে? ১১.৩০ 'পৃথিবীর জল যেমন আছে তেমনই থাকুক'—কে কখন এই কথা বলেছে?
১২. আট দশটি বাক্যে উত্তর দাও:
১২.১ এই গল্পে কাকে কেন 'মেঘ-চোর' বলা হয়েছে? তার মেঘ চুরির কৌশলটি সংক্ষেপে লেখো। ১২.২ “বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে অমিত বল, কিন্তু অযোগ্য মানুষের হাতে সেই ক্ষমতা হয়ে উঠতে পারে বিপজ্জনক এবং প্রাণঘাতী”— পঠিত গল্পটি অবলম্বনে উপরের উদ্ধৃতিটি বিশ্লেষণ করো। ১২.৩ পুরন্দর চৌধুরির চরিত্রটি তোমার কেমন বলে মনে হয়েছে— বিশ্লেষণ করো। ১২.৪ গল্পটি অবলম্বনে অসীমা চরিত্রটি সম্বন্ধে তোমার মতামত জানাও। ১২.৫ এই গল্পে পুরন্দর এবং অসীমা আসলে দুটি পৃথক এবং পরস্পরবিরোধী বিজ্ঞান চেতনার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কে, কোন ধারণার প্রতিনিধিত্ব করেছেন জানিয়ে তুমি এঁদের মধ্যে কাকে কেন সমর্থন করো বিশদে জানাও। ১২.৬ গল্পটিতে যতগুলি স্থাননাম আছে তার একটি তালিকা বানিয়ে প্রত্যেকটি স্থান সম্বন্ধে সংক্ষেপে লেখো।
৬২
CONTENT MANAGER