25. স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী | কমলা দাশগুপ্ত
25. স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী | কমলা দাশগুপ্ত - WBBSE - Class 7 - বাংলা
স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী
কমলা দাশগুপ্ত
ননীবালা দেবী
ননীবালা দেবী জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৮৮ সালে হাওড়া জেলার বালিতে। দেশও সেখানেই। পিতার নাম সূর্যকান্ত ব্যানার্জী, মা গিরিবালা দেবী। এগারো বছর বয়সে বিবাহের পর ষোলো বছর বয়সে তিনি বিধবা হন এবং বাবার কাছেই ফিরে আসেন। বিপ্লবী অমরেন্দ্র চ্যাটার্জীর কাছে বিপ্লবের দীক্ষা পেলেন ননীবালা দেবী। সম্পর্কে তিনি ননীবালা দেবীর ভ্রাতুষ্পুত্র। পলাতক অমর চ্যাটার্জী এবং তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে প্রায় দুই মাস আশ্রয় দিয়ে রাখলেন তিনি রিষড়াতে। পুলিশের দৃষ্টি পড়ল এখানেও। তল্লাশির সময় অমর চ্যাটার্জী পলাতক হন এবং রামচন্দ্র মজুমদার গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের সময় রামবাবু একটা 'মসার' (Mauser) পিস্তল কোথায় রেখে গেছেন সে-কথা জানিয়ে যেতে পারেননি। তখন বিধবা ননীবালা দেবী রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী সেজে, রামবাবুর সঙ্গে প্রেসিডেন্সি জেলে ইনটারভিউ নিয়ে জেনে এলেন পিস্তলের গুপ্ত খবর। ১৯১৫ সালে যে-যুগ ছিল তখন বাঙালি বিধবাদের পক্ষে এরকম পরের স্ত্রী সেজে, জেলে গিয়ে পুলিশের শ্যেনদৃষ্টিকে ফাঁকি দিয়ে কাজ হাসিল করার কথা কেউ কল্পনাও করতে পারত না—পুলিশ তো নয়ই, কোনো সাধারণ মেয়েও নয়। আজকের সমাজ ও সেদিনকার সমাজ, আজকের মেয়ে ও সেদিনকার মেয়ের মধ্যে আছে বিরাট সাগরের ব্যবধান। সেদিনকার নারী তৈরি করে দিয়ে গেছেন পরবর্তী যুগের বিপ্লবী নারীকে—তিনি পথ দেখিয়েছেন, ভিত্তি গেঁথে গেছেন তাঁদের জন্য। পুলিশ ক্রমে জানতে পারল যে, ননীবালা দেবী রামবাবুর স্ত্রী নন। কিন্তু জানল না যে, ইনিই রিষড়াতে ছিলেন আশ্রয়দাত্রী।
৮৯
১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চন্দননগরে আবার বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। রিষড়ার মতো এখানেও মেয়েরা না থাকলে, বাড়ি ভাড়া পাওয়া যেত না। আবার ননীবালা দেবী এলেন গৃহকর্ত্রীর বেশে। পলাতক হয়ে আছেন এখানে বিপ্লবী নেতা যাদুগোপাল মুখার্জী, অমর চ্যাটার্জী, অতুল ঘোষ, ভোলানাথ চ্যাটার্জী, নলিনীকান্ত কর, বিনয়ভূষণ দত্ত ও বিজয় চক্রবর্তী। এঁদের সকলেরই মাথায় অনেক হাজার টাকার হুলিয়া ছিল। এই নিশাচরেরা সারাদিন দরজা বন্ধ করে ঘরে কাটিয়ে দিতেন। শুধু রাতে সুবিধামতো বেরিয়ে পড়তেন। নিষ্ঠুর শিকারির মতো পুলিশ এসে পড়লেই এই পলাতকেরা নিমিষে অদৃশ্য হয়ে যেতেন, পুলিশ হয়রান হয়ে ফিরত। এইভাবে চন্দননগরের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি ও বিপ্লবীদের নিমিষে পলায়নের পর ননীবালা দেবীকে আর চন্দননগরে রাখা নিরাপদ হলো না। পুলিশ তৎপর হয়ে উঠল তাঁকে গ্রেপ্তার করতে। ননীবালা পলাতক হলেন। তাঁর এক বাল্যবন্ধুর দাদা প্রবোধ মিত্র কর্মোপলক্ষে যাচ্ছিলেন পেশোয়ার। বাল্যবন্ধু তাঁর দাদাকে অনেক অনুনয় করে রাজি করালেন ননীবালাকে সঙ্গে নিয়ে যেত। ননীবালা দেবী পলাতক অবস্থায় তাঁর সঙ্গে পেশোয়ার গেলেন। প্রায় ষোলো-সতেরো দিন পরে পুলিশ সন্ধান পেয়ে যখন ননীবালা দেবীকে গ্রেপ্তার করতে পেশোয়ার গেছে—তখন ননীবালা দেবীর কলেরা চলছে তিনদিন যাবৎ। প্রথমদিন বাড়ি ঘিরে রেখে তার পরদিনই নিয়ে গেল তাঁকে পুলিশ-হাজতে স্ট্রেচারে করে। কয়েকদিন সেখানে রেখে চালান করে দিল কাশীর জেলে। তখন তিনি প্রায় সেরে উঠেছেন। কাশীতে আসার কয়েকদিন পরে, প্রতিদিন তাঁকে জেল-গেটের অফিসে এনে কাশীর ডেপুটি পুলিশ-সুপারিনটেন্ডেন্ট জিতেন ব্যানার্জী জেরা করত। ননীবালা দেবী সবই অস্বীকার করতেন; বলতেন কাউকেই চেনেন না, কিছুই জানেন না। কাশীর জেল পুরনো, সেকেলে। সেখানে প্রাচীরের বাইরে মাটির নীচে একটা 'পানিশমেন্ট সেল' অর্থাৎ শাস্তি-কুঠুরি ছিল। তাতে দরজা ছিল একটাই, কিন্তু আলো বাতাস প্রবেশ করবার জন্য কোনো জানালা দরজা ছিল না। ব্যর্থকাম জিতেন ব্যানার্জী তিন দিন প্রায় আধঘণ্টা সময় ধরে ননীবালা দেবীকে ঐ আলোবাতাসহীন অন্ধকার সেলে তালাবন্ধ করে আটকে রাখত। কবরের মতো সেলে আধঘণ্টা পরে দেখা যেত ননীবালা দেবীর অর্ধমৃত অবস্থা, তবু মুখ দিয়ে স্বীকারোক্তি বের করতে পারল না। তৃতীয় দিনে বন্ধ রাখল তাঁকে আধঘণ্টারও বেশি, প্রায় ৪৫ মিনিট। স্নায়ুর শক্তিকে চূর্ণ করে দেবার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা। সেদিন তালা খুলে দেখা গেল ননীবালা দেবী পড়ে আছেন মাটিতে, জ্ঞানশূন্য। হাল ছেড়ে দিয়ে পুলিশ ননীবালা দেবীকে কাশী থেকে নিয়ে এল কলকাতা প্রেসিডেন্সি জেলে। সেখানে গিয়ে তিনি খাওয়া বন্ধ করে দিলেন। সেখানে আই.বি. পুলিশের স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেন্ট গোল্ডি (Goldie) তাঁকে জেরা করত। —আপনাকে এখানেই থাকতে হবে। কী করলে খাবেন? —যা চাইব তাই করবেন? —করব। —আমাকে বাগবাজারে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্ত্রীর কাছে রেখে দিন, তাহলে খাব। —আপনি দরখাস্ত লিখে দিন। ননীবালা তখুনি দরখাস্ত লিখে দিলেন। গোল্ডি সেটা নিয়ে ছিঁড়ে দলা পাকিয়ে ছেঁড়া কাগজের টুকরিতে ফেলে দিল। অমনি যেন বারুদে আগুন পড়ল। আহত ক্ষিপ্ত বাঘের মতো লাফিয়ে উঠে ননীবালা এক চড় বসিয়ে দিলেন গোল্ডির মুখে। দ্বিতীয় চড় মারবার আগেই অন্য সি.আই.ডি. কর্মচারীরা তাঁর উদ্যত হাতকে চেপে ধরে রাখল, পিসিমা, করেন কী? অসীম শক্তি ফেটে বেরিয়ে আসছে তখন ননীবালা দেবীর ভিতর থেকে।
৯০
—ছিঁড়ে ফেলবে তো, আমায় দরখাস্ত লিখতে বলেছিল কেন? আমাদের দেশের মানুষের কোনো মানসম্মান থাকতে নেই? দুই বছর এইভাবে বন্দিজীবন কাটিয়ে দিলেন তিনি। ১৯১৯ সালের এক প্রাতে এল ননীবালা দেবীর মুক্তির আদেশ। বাইরে এসে তাঁর মাথা গুঁজবারও স্থান মিলল না। সকলেই পুলিশকে ভয় পায়। বহুদিন ধরে চলেছিল অনেক ওলটপালট ও ভাঙাগড়া। তারপর একটা আধঘুপচি ঘর ভাড়া করে নিজের জীবনের শূন্য সম্বল নিয়ে, আত্মীয়স্বজনের অনাদর ও লাঞ্ছনা এবং দারিদ্র্যের মধ্যেও পরিপূর্ণ গৌরবে স্থির হয়ে কাটিয়ে চলেছিলেন তিনি বছরের পর বছর। যে-মেঘের আত্মদানে পরবর্তীকালে শ্রাবণবর্ষণের মতো ঝরে পড়েছিল কত অসংখ্য কর্মী ও কর্মপ্রেরণা, এই মহীয়সী ছিলেন সেই পরিণতিসম্ভবা মেঘ।
দুকড়িবালা দেবী
১৮৮৭ সালে (বাংলা ১২৯৪, ৬ শ্রাবণ) দুকড়িবালা দেবী জন্মগ্রহণ করেন বীরভূম জেলায় নলহাটি থানার ঝাউপাড়া গ্রামে। পিতা নীলমণি চট্টোপাধ্যায় এবং মা কমলকামিনী দেবী। স্বামী ছিলেন ঝাউপাড়া গ্রামেরই ফণীভূষণ চক্রবর্তী। তাঁর বোনপোর নাম নিবারণ ঘটক। তিনি ছিলেন মাইনিং ক্লাসের ছাত্র। মাসিমা দুকড়িবালা নিবারণ ঘটককে খুব স্নেহ করতেন। বোনপো প্রায়ই তাঁর বাড়িতে বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসতেন। স্বদেশি বই, বেআইনি বই লুকিয়ে পড়বার আড্ডা ছিল মাসিমার বাড়ি। বললেন, 'এবার আমায় দলে নিয়ে নাও।' বোনপো নিবারণ বলেন, 'তুমি কি এপথে আসতে পারবে মাসিমা? এমন বিপদের মুখে পা বাড়াতে নাই-বা এলে?' সিংহী গর্জে উঠে বললেন, 'তুমি যদি দেশের জন্য প্রাণ দিতে পার, তোমার মাও পারে।' 🦁 একদিন বোনপো নিবারণ সাতটা মসার (Mauser) পিস্তল এনে লুকিয়ে রাখতে দিলেন মাসিমা দুকড়িবালা দেবীকে। এগুলি ছিল রডা কোম্পানি থেকে চুরি করে আনা জিনিস। এই চুরির কাহিনি অভিনব। ১৯১৪ সালের ২৬ আগস্ট রডা কোম্পানির জেটি-সরকার শ্রীশ মিত্র বড়োসাহেবের হুকুম মতো মালপত্র খালাস করতে জাহাজঘাটে যান। তিনি ২০২টি অস্ত্রপূর্ণ বাকসো খালাস করে সাতটি গোরুর গাড়ি বোঝাই করে নিয়ে আসতে থাকেন। ছখানা গাড়ি তিনি রডা কোম্পানির গুদামে পৌঁছে দেন। একটি গাড়ির গাড়োয়ান ছদ্মবেশী বিপ্লবী হরিদাস দত্ত গাড়িটিকে নিয়ে উধাও হন। সেই গাড়িতে ৯টি বাক্সে ছিল কার্তুজ এবং একটিতে ৫০টি মসার পিস্তল। মালগুলি পরে বিপ্লবীদের বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রেরিত হয়। ১৯১৭ সালের জানুয়ারি মাসে একদিন পুলিশ দুকড়িবালা দেবীর বাড়ি ঘিরে ফেলে। তল্লাশিতে পাওয়া যায় সাতটা মসার পিস্তল। শত জেরাতেও মাসিমার মুখ থেকে বের করতে পারল না যে, কে দিয়েছে তাঁকে পিস্তলগুলি। গ্রামের মেয়ে গ্রামের বৌ দুকড়িবালা দেবী কোলের শিশু বাড়িতে রেখে চলে গেলেন পুলিশের সঙ্গে। স্পেশাল ট্রাইবুনালের বিচারের রায়ে দুকড়িবালা দেবীর সাজা হয় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। বন্দীজীবনের অসহ্য পরিবেশের মধ্যে থেকেও, প্রতিদিন আধমণ ডাল ভাঙতে থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর বাবাকে চিঠি লিখলেন, তিনি ভালোই আছেন, তাঁর জন্য যেন তাঁরা চিন্তা না করেন, শুধু বাচ্চাদের যেন তাঁরা দেখেন, শিশুরা যেন না কাঁদে। এমনই ছিলেন তখনকার দিনের অগ্রগামী নারী-সৈনিকেরা। মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি ১৯১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে। সম্ভবত ১৯৭০ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। (ঈষৎ পরিবর্তিত ও নির্বাচিত অংশ বিশেষ)
৯১
ল
১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো:
১.১ ননীবালা দেবী বিপ্লবের দীক্ষা পেয়েছিলেন (অমরেন্দ্র চ্যাটার্জী/যাদুগোপাল মুখার্জী/ভোলানাথ চ্যাটার্জী)- এর কাছে। ১.২ ননীবালা দেবী (রিষড়াতে/চুঁচুড়াতে/চন্দননগরে) অমর চ্যাটার্জী ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে আশ্রয় দেন। ১.৩ চন্দননগর থেকে পালিয়ে ননীবালা দেবী যান (পেশোয়ারে/ কাশীতে/রিষড়াতে)। ১.৪ কাশীর ডেপুটি পুলিস সুপার (জিতেন ব্যানার্জী/হিতেন ব্যানার্জী/যতীন ব্যানার্জী) ননীবালা দেবীকে জেরা করতেন। ১.৫ পুলিশ সুপার গোল্ডির কাছে ননীবালা দেবী (সারদামনি দেবী/ভগিনী নিবেদিতা/দুকড়িবালা দেবী)-র কাছে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। ১.৬ দুকড়িবালা দেবী বিপ্লবের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন (বোনপো/ভাইপো/ ভাই) নিবারণ ঘটকের কাছে। ১.৭ বিপ্লবী হরিদাস দত্ত (গাড়োয়ান/পুলিস/খালাসি)-র ছদ্মবেশে পিস্তল চুরি করেন।
২. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:
২.১ বিপ্লবী রামচন্দ্র মজুমদারের 'মসার' (পিস্তল)-এর খোঁজ নেওয়ার জন্য ননীবালা দেবী কী কৌশল অবলম্বন করেছিলেন? ২.২ “এঁদের সকলেরই মাথায় অনেক হাজার টাকার হুলিয়া ছিল”—'হুলিয়া' শব্দটির অর্থ কী? এঁরা কারা? এঁদের আশ্রয়দাত্রী কে ছিলেন? হুলিয়া থাকার জন্য এঁরা কীভাবে চলাফেরা করতেন? ২.৩ “ননীবালা দেবী পলাতক হলেন”—ননীবালা দেবী পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন কেন? তিনি পালিয়ে কোথায় গিয়েছিলেন? সেখানে তিনি কোন অসুখে আক্রান্ত হন? ২.৪ “ননীবালা দেবী সবই অস্বীকার করতেন”—ননীবালা দেবী কোন কথা অস্বীকার করতেন? তার ফলশ্রুতিই বা কী হতো? ২.৫ কাশীর জেলের 'পানিশমেন্ট সেল'-টির অবস্থা কেমন ছিল? সেখানে ননীবালা দেবীর ওপর কী ধরনের অত্যাচার করা হত? ২.৬ “ননীবালা দেবী তখুনি দরখাস্ত লিখে দিলেন”—ননীবালা দেবী কাকে দরখাস্ত লিখে দিয়েছিলেন? দরখাস্তের বিষয়বস্তু কী ছিল? শেষপর্যন্ত সেই দরখাস্তের কী পরিণতি হয়েছিল? ২.৭ “এবার আমায় দলে নিয়ে নাও”—কে, কাকে এই অনুরোধ জানিয়েছিলেন? তিনি কেন, কোন দলে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক ছিলেন? ২.৮ পুলিশ কোন অভিযোগে দুকড়িবালা দেবীকে গ্রেপ্তার করেন? বিচারে তাঁর কী শাস্তি হয়।
৯২
৩. আট-দশটি বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
৩.১ স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী স্বনামধন্য খ্যাতনামা বিপ্লবীদের তুলনায় ননীবালা দেবী ও দুকড়িবালা দেবীর অবদান সামান্য নয়—এ বিষয়ে তোমার মতামত জানাও। ৩.২ ননীবালা দেবী ও দুকড়িবালা দেবীর অনমনীয় বৈপ্লবিক মনোভাব কীভাবে পরবর্তী কালের বিপ্লবী নারীকে পথ দেখিয়েছে? – পাঠ্য গদ্যাংশ অবলম্বনে তোমার মতামত জানাও।
৪. ননীবালা দেবী এবং দুকড়িবালা দেবী ছাড়া তুমি আর কোন কোন মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামীর কথা জানো? তাঁদের অবদানের কথা শিক্ষক-শিক্ষিকার কাছ থেকে জেনে নাও এবং খাতায় লেখো।
৫. ঘটনার ক্রমানুসারে সাজিয়ে লেখো:
৫.১ চন্দননগরে যাদুগোপাল মুখার্জী, অমর চ্যাটার্জী, অতুল ঘোষ প্রমুখ বিপ্লবীকে আশ্রয়দান ও সেখান থেকে পলায়ন করলেন ননীবালা দেবী। ৫.২ পেশোয়ার থেকে গ্রেপ্তার করে কাশীতে পাঠানো হল ননীবালা দেবীকে এবং আলোবাতাসহীন বদ্ধ ঘরে তালাবন্ধ করে শাস্তি দেওয়া হত। ৫.৩ বাগবাজারে মা সারদার কাছে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করে দরখাস্ত লিখলেন ননীবালা দেবী। ৫.৪ আই.বি. পুলিশের স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেন্ট গোল্ডি ননীবালা দেবীকে জেরা করতেন। ৫.৫ অমর চ্যাটার্জী ও তাঁর সহকর্মীকে রিষড়াতে দুইমাস আশ্রয় দিলেন ননীবালা দেবী। ৫.৬ পুলিশ সুপার গোল্ডি দরখাস্ত ছিঁড়ে ফেলায় ক্ষিপ্ত ননীবালা দেবী এক চড় বসিয়ে দিলেন গোল্ডির মুখে। ৫.৭ ভাইপো অমরেন্দ্র চ্যাটার্জীর কাছে বিপ্লবের দীক্ষা পেলেন ননীবালা দেবী। ৫.৮ রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী সেজে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে ননীবালা দেবী সংগ্রহ করলেন পিস্তলের গুপ্ত খবর।
৬. কে, কোন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মিলিয়ে লেখো:
| প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার | ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ |
| মাতঙ্গিনী হাজরা | লবণ সত্যাগ্রহ |
| সরোজিনী নাইডু | আইন অমান্য আন্দোলন |
| ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাই | সিপাহী বিদ্রোহ |
৭. পাঠ্য গদ্যাংশটি পড়ে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে দু-চার কথা লেখো :
অমরেন্দ্র চ্যাটার্জী, প্রবোধ মিত্র, জিতেন ব্যানার্জী, গোল্ডি, নিবারণ ঘটক, হরিদাস দত্ত।
৮. অর্থ লেখো ও বাক্য রচনা করো :
হুলিয়া, মসার, দরখাস্ত, কারাদণ্ড, নিশাচর
শব্দার্থ 📌: গ্রেপ্তার—আটক। তল্লাশি—খোঁজ। স্বীকারোক্তি—জবানবন্দি। ট্রাইবুনাল—বিচারসভা। জেরা—জবাবদিহি। জেটি সরকার—বন্দরে বা ঘাটে মালপত্র ওঠানামার হিসেব রাখেন যিনি।
৯৩
৯. নীচের স্থূলাক্ষর অংশগুলির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করো :
৯.১ বিপ্লবী অমরেন্দ্র চ্যাটার্জীর কাছে বিপ্লবের দীক্ষা পেলেন ননীবালা দেবী। ৯.২ ১৯১৫ সালে চন্দননগরে আবার বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ৯.৩ স্নায়ুর শক্তিকে চূর্ণ করে দেবার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা। ৯.৪ এগুলি ছিল রডা কোম্পানি থেকে চুরি করে আনা মাল। ৯.৫ ছখানা গাড়ি তিনি রডা কোম্পানির গুদামে পৌঁছে দেন। ৯.৬ তল্লাশিতে পাওয়া যায় সাতটা মসার পিস্তল। ৯.৭ শতজেরাতে ও মাসিমার মুখ থেকে বের করতে পারল না।
১০. এককথায় লেখো:
পলায়ন করেছেন যিনি, একসঙ্গে কাজ করেন যিনি, বাজ পাখির মতো তীক্ষ্ম দৃষ্টি, বাল্যকালের বন্ধু, আবেদন জানিয়ে লিখিত পত্র, মহানকর্মে ব্রতী নারী, এগিয়ে থাকেন যিনি/অগ্রে গমন করেন যিনি।
৯৪
রাস্তায় ক্রিকেট খেলা
মাইকেল অ্যানটনি
৯৫
বর্ষাকালে রাস্তায় ক্রিকেট খেলার সুযোগ মিলত অল্পই। যখনই খেলতে যেতাম, বৃষ্টি এসে আমাদের তাড়া করে ফের উঠোনে ঢুকিয়ে দিত। বর্ষাকালে এই রকমই ছিল মেয়ারো। সেখানকার আকাশ সর্বদাই মেঘে ঢাকা থাকত, সমুদ্রের ওপর জলভরা কালো মেঘ মুখ গোমড়া করে নিচু হয়ে ঝুলত, আর বাতাস ছুটে এসে বদমেজাজ ঝাপট মারত নারকেলবনে। আর বাতাসের তেজ আর গর্জন যখন চরমে উঠত, তখন ঝুলে-পড়া মেঘগুলো ঘনকালো হয়ে উঠত, সমুদ্র হুংকার দিত, আর বৃষ্টির ফলাগুলো হট্টরোলে ভেঙে পড়ত আমাদের ওপর। সবে দৌড়ে ফিরেছি বৃষ্টি থেকে। পাশের বাড়ির অ্যামি আর ভার্ন-এর খুব ফুর্তি। ওরা হাসছে। আশ্চর্য, রাস্তায় ক্রিকেট খেলতে ওদের যত আনন্দ, ঝমঝম বৃষ্টিতেও যেন ততই। অ্যামি আমাদের উঠোনে, হি হি করে হাসছে আর বৃষ্টির জল খাবার ভান করছে। ওর মুখ একেবারে ভেজা, জামাকাপড় জুবজুবে। ভার্ন আলশের তলায় আশ্রয় নিয়েছিল, সে-ও হুজুগে মেতে লাফ মেরে ওর সঙ্গে জুটল। ওরা চ্যাঁচাতে লাগল :
'নেবুর পাতায় করমচা, হে বৃষ্টি, স্পেনে যা!' 🇪🇸
একটু পরেই পাশের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন তাদের মা; তিনি নিশ্চয়ই শব্দ শুনে বুঝেছিলেন। ভার্ন আর অ্যামি ঝোপের মধ্যে অদৃশ্য হলো। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টির জন্য মনটা খারাপ। তারপর ভার্ন-এর ব্যাট আর বল বাড়ির তলায় ঢুকিয়ে রেখে ভেতরে গেলাম। 'নিকুচি!' মনে-মনে বললাম। যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমি ব্যাট করছিলাম। যখনই আমি ব্যাট করি, তখনই কেবল বৃষ্টি পড়ে! পাছে চাদর ময়লা হয়, তাই পা মুছে বিছানায় উঠে পড়লাম। বিষণ্ণ হয়ে বসেছিলাম, মনে হচ্ছিল সত্যিই বৃষ্টিটা চলে যাক (স্পেনে যাক, ভার্ন যা বলেছিল), এমন সময় কলজেটা যেন লাফ দিয়ে আমার গলায় উঠে এল। আকাশ চিরে কান-ফাটানো শব্দে বাজ পড়ল। ⚡ তাড়াতাড়ি জানলা বন্ধ করে দিলাম। ছাতের ওপর বৃষ্টির ভয়ানক হাতুড়ি পড়তে লাগল। বাজের ভয়ে সিঁটিয়ে রইলাম, জানি আবারও পড়বে, আর বিদ্যুতের অপার্থিব চমকের ভয়েও। ভেতরে-ভেতরে হিংস্র আবহাওয়াকে আমি ভয় পেতাম। বৃষ্টির ভয়, তার সঙ্গী বাজ-বিদ্যুতের ভয়, উপকূলে আছড়ানো সমুদ্রের ভয়, ঝোড়ো হাওয়ার ভয়, বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর সবকিছু মরার মতো হয়ে থাকার ভয়। আর-একবার বিদ্যুৎ-ঝলকে চমকে উঠলাম। চমক ভাঙবার আগেই আবার এক-ভয়ংকর বজ্রপাতের শব্দে আকাশ কেঁপে উঠল। আমি চিৎকার করে উঠলাম। শুনতে পেলাম, মা ছুটে ঘরে ঢুকছে। আবার বাজ পড়ল আর আমি ছিটকে চলে গেলাম খাটের তলায়। 'সেলো! সেলো! প্রথমে তোর ব্যাট!' ভার্ন রাস্তা থেকে চেঁচিয়ে ডাকে। বৃষ্টি থেমে গিয়ে রোদ উঠেছে, কিন্তু আমি এখনও ঠিক সামলে উঠিনি। অনিচ্ছাসত্ত্বেও বাইরের দরজা দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম, ভার্ন দাঁড়িয়ে দাঁত বার করে হাসছে আর অধৈর্যভরে হাত নেড়ে আমাকে ডাকছে।
৯৬
'তোর ব্যাট প্রথমে,' সে বলে। যেন আমাকে নির্বিকার দেখেই সদ্য-বেরোনো অ্যামির দিকে সে তাকায়। 'দু-নম্বর ব্যাট কে?' 'আমি!' আমি বলি। 'আমি!' প্রায় একই সঙ্গে অ্যামি চ্যাঁচায়। 'আমি দুনম্বর ব্যাট', ভার্ন বলে। অ্যামি প্রতিবাদ করে, 'না, আমি আগে “আমি” বলেছি।' 😠 ভার্ন অধীর হয়ে পড়ে, এদিকে অ্যামি আর আমি তর্ক করি। তারপর যেন তার মাথায় একটা মতলব আসে। পকেট থেকে একটা পেনি বার করে বলে, 'টস কর। কী চাস?' 🪙 আমি বলি, 'হেড।' অ্যামি ডাকে, টেল। 'টেল পড়বেই?' চাকতিটা ওপরে ওঠে, পড়ে উলটে যায়, টেল দেখা যায়। ব্যথা পেয়ে চেঁচিয়ে উঠি, 'আমি খেলবই না!' তাতেও মনে হলো যথেষ্ট উৎপাত করা যায়নি, তাই দৌড়ে যাই যেখানে ভার্ন-এর ব্যাট আর বল রেখেছিলাম, সেগুলো নিয়ে আমাদের বাড়ির পেছনে অদৃশ্য। তারপর গায়ে যত জোর আছে তাই দিয়ে ওগুলোকে ঝোপের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলি। 😡 যখন বাড়ির সামনে ফিরে আসি তখন ভার্ন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে বলে, 'সেলো, ব্যাট আর বল কোথায়?' আমি রাগে ফুঁসতে থাকি। 'কীসের ব্যাট-বল, জানি না, যাও!' 'ওর বাড়িতে বলে দে,' অ্যামি চেঁচায়, 'ফেলে দিয়েছে?' ভার্ন জোর করে মুখ বেঁকিয়ে হাসির ভঙ্গি করে, বলে, 'ভারি তো একটা পুরোনো ব্যাট আর বল।' 😒 কিন্তু উঠোন থেকে বেরিয়ে যাবার সময় ওর চোখের কোণে জল চিকচিক করে, দেখতে পাই। 😢 বাকি বর্ষাকাল আর রাস্তায় ক্রিকেট খেলিনি আমরা। কখনো-কখনো বৃষ্টি থামত, চড়া রোদ উঠত, বেড়ার ওদিকে অ্যামি আর ভার্ন-এর গলা শুনতে পেতাম। এইসব সময়ে আমি রাস্তায় বেরিয়ে নিজের মনে শিস দিতাম, মনে-মনে ইচ্ছে হতো ওরা শুনতে পেয়ে বেরিয়ে আসতেও পারে। কিন্তু ওরা কখনও আসত না। আমি বুঝতাম ওরা তখনও খুব রেগে আছে, আর-কখনও আমাকে ক্ষমা করবে না। এইভাবে চলল বর্ষাকাল। বজ্রে-বিদ্যুতে, উপসাগরের ঢেউয়ে আর মাতাল বাতাসে সেইরকমই ভয়-ধরানো ভাব। কিন্তু যে-সব লোকে এই কথা বলত, তারা বলত মেয়ারো তো এইরকমই, আর এই নিয়ে হাসাহাসি
৯৭
চলত। আর কখনো-কখনো বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে, এমনকী বাজের আওয়াজের মধ্যে দিয়েও বেড়ার ওপাশ থেকে ভেসে আসত ভার্ন-এর গলা, 'হে বৃষ্টি, স্পেনে যা,' আর আমি অনেকবার ঠিক করেছি সাহসী হবো কিন্তু যখনই বাজ পড়ত অমনি ছিটকে ঢুকতাম খাটের তলায়। ভার্ন আর অ্যামির সঙ্গে আবার দেখা হলো নতুন বছরের গোড়ার দিকে। আনন্দের কথা, বর্ষা অনেকদিন কেটে গেছে; দিনটা গরম, ঝকঝকে। বাড়ির দিকে পা চালাতে গিয়ে দেখি পা চালাচ্ছি ভার্ন আর অ্যামির দিকে, তারা সবে রাস্তায় ক্রিকেট খেলা শুরু করবে। কলজেটা দপদপায়। ওদের অবাস্তব আর অভিনব লাগে, যেন দূরে কোথাও চলে গিয়েছিল, আর ফিরতে চাচ্ছিল না। আমি খুব কাছে না-এসে পড়া পর্যন্ত ওরা খেয়াল করেনি। তারপর দেখি অ্যামি চমকে উঠেছে, তার মুখ উদ্ভাসিত। 'ভার্ন,' সে চেঁচিয়ে ডাকে, 'এই ভার্ন, দ্যাখ, সেলো!' লজ্জিত হয়ে মাটির দিকে তাকাই, গাছ দেখি, কমলা রঙের আকাশ দেখি, এত খুশি লাগে যে কী বলব ভেবে পাই না। ভার্ন ড্যাবড্যাব করে চায়, তার মুখে দাঁত বের করা অদ্ভুত হাসি। চকচকে নতুন ব্যাটটার ওপর থেকে সে সেলোফেন কাগজ ছিঁড়ছে। খোশমেজাজে বলে, 'নে সেলো, তুইই আগে ব্যাট কর।' 🏏 আমি কেঁদে ফেলি। যেন বৃষ্টি পড়ছে আর আমি ভয় পেয়েছি। 😭
তরজমা: তীর্থঙ্কর চট্টোপাধ্যায়
৯৮
ট
১. বন্ধনীতে দেওয়া একাধিক উত্তরের মধ্যে ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে নীচের বাক্যগুলি আবার লেখো:
১.১ বর্ষাকালে এমনই ছিল (মেয়ারো/ব্রাজিল/ত্রিনিদাদ)। ১.২ নেবুর পাতায় করমচা/হে বৃষ্টি (ইতালিতে/লন্ডনে/স্পেনে) যা। ১.৩ (ধুত্তোর/নিকুচি/ভাল্লাগেনা) মনে মনে বললাম। ১.৪ ভেতরে-ভেতরে (গুমোট/দুর্যোগপূর্ণ/হিংস্র) আবহাওয়াকে আমি ভয় পেতাম। ১.৫ অ্যামি ডাকে (হেড/টেল)।
২. কার্য-কারণ সম্পর্ক অনুযায়ী পাশাপাশি বাক্য লেখো:
২.১ বর্ষাকালে রাস্তায় ক্রিকেট খেলার সুযোগ মিলত অল্পই। ২.২ ওরা চেঁচাতে লাগল, 'নেবুর পাতায় করমচা/হে বৃষ্টি, স্পেনে যা'। ২.৩ ভেতরে ভেতরে হিংস্র আবহাওয়াকে আমি ভয় পেতাম। ২.৪ লজ্জিত হয়ে মাটির দিকে তাকাই। ২.৫ খোলা মেজাজে বলে 'নে সেলো, তুইই আগে ব্যাট কর'। ২.৬ ওর চোখের কোণে জল চিকচিক করে দেখতে পাই।
শব্দার্থ 📌: হুংকার – জোরে চিৎকার করা, গর্জন। আলশে— কার্নিস। বিষন্ন— দুঃখিত, মনখারাপ। অপার্থিব---অলৌকিক, অবাস্তব। নির্বিকার---উদাসীন, ভাবলেশহীন। অধীর--- অস্থির, চঞ্চল। কিংকর্তব্যবিমূঢ়— কী করা উচিত ঠিক করতে না পারার অবস্থা। স্পেন— ইউরোপ মহাদেশের অন্তর্গত একটি দেশ। উদ্ভাসিত— উজ্জ্বল আভাযুক্ত। কলজে—'কলিজা' শব্দ থেকে এসেছে, হৃৎপিন্ড।
৩. নীচের বাক্যংশগুলি কোন বিশেষ অর্থ প্রকাশ করেছে লেখো:
৩.১ বাতাস ছুটে এসে বদ মেজাজ ঝাপট মারত। ৩.২ জামাকাপড় জুবজুবে। ৩.৩. বৃষ্টির ভয়ানক হাতুড়ি পড়তে লাগল। ৩.৪. তার মুখ উদ্ভাসিত। ৩.৫ ভার্ন ড্যাবড্যাব করে চায়।
৯৯
৪. নীচের বিশেষ্যগুলি বিশেষণে আর বিশেষণগুলি বিশেষ্যে বদলে বাক্য রচনা করো :
গোমরা, হুজুগে, চিৎকার, সাহসী, অভিনব।
৫. নীচের বাক্যগুলিতে কোন কোন শব্দে বচন কীভাবে নির্দেশিত হয়েছে তা লেখো :
৫.১ ওরা হাসছে। ৫.২ ঝুলে-পড়া মেঘগুলো ঘন কালো হয়ে উঠত। ৫.৩ অ্যামি আমাদের উঠোনে। ৫.৪ এমন সময় কলজেটা যেন লাফ দিয়ে উঠল। ৫.৫ পকেট থেকে একটা পেনি বার করে বলে 'টস কর'।
৬. নিম্নরেখ অংশের কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করো :
৬.১ সবে দৌড়ে ফিরেছি বৃষ্টি থেকে । ৬.২ আর মুখ একেবারে ভেজা। ৬.৩ আমি দাঁড়িয়ে রইলাম। ৬.৪ আমি ছিটকে চলে গেলাম খাটের তলায়। ৬.৫ ভার্ন রাস্তা থেকে চেঁচিয়ে ডাকে।
৭. নীচের বাক্যগুলি থেকে উপযুক্ত প্রশ্ন তৈরি করো :
৭.১ রাস্তায় ক্রিকেট খেলতে ওদের যত আনন্দ, ঝমঝম বৃষ্টিতেও যেন তত। ৭.২ ভার্ন আলশের তলায় আশ্রয় নিয়েছিল। ৭.৩ আবার কী ভয়ংকর বজ্রপাতের শব্দে আকাশ কেঁপে উঠল। ৭.৪ দৌড়ে যাই যেখানে ভার্নের ব্যাট আর বল রেখেছিলাম। ৭.৫ আমি অনেকবার ঠিক করেছি সাহসী হব, কিন্তু যখনই বাজ পড়ত অমনি ছিটকে ঢুকতাম খাটের তলায়।
৮. উদ্ধৃতি চিহ্ন পরিহার করে বাক্যগুলি নিজের ভাষায় লেখো:
৮.১ 'আমি দু-নম্বর ব্যাট', ভার্ন বলে। ৮.২ সে বলে সেলো, ব্যাট আর বল কোথায়? ৮.৩ 'ভার্ন', সে চেঁচিয়ে ডাকে,' এই ভার্ন, দ্যাখ, সেলো!'
৯. কোনটি কোন দেশের মুদ্রা উল্লেখ করো :
পেনি, ডলার, পেসো, রুবল, টাকা।
১০০
১০. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও :
১০.১ তোমার রাজ্যের কোন দিকে সমুদ্র রয়েছে? ১০.২ খেলাধূলা নিয়ে লেখা তোমার পড়া বা শোনা একটি গল্পের নাম লেখো। ১০.৩ ঘরের ভিতরের ও বাইরের দুটি খেলার নাম লেখো। ১০.৪ তোমার রাজ্যের একজন বিখ্যাত ক্রিকেট খেলোয়াড়ের নাম লেখো। ১০.৫ তোমার জানা ঋতু বিষয়ক যে কোনো একটি ছড়ার প্রথম পংক্তি লেখো।
১১. নীচের প্রশ্নগুলির দু/একটি বাক্যে উত্তর দাও :
১১.১ মাঠের খেলাধূলার সঙ্গে রাস্তার খেলাধূলার ফারাকগুলি লেখো। ১১.২ সমুদ্রের ধারে ঝড় কীভাবে ভয়ংকর হয়ে ওঠে? ১১.৩ গল্পে মোট কটি কিশোর চরিত্রের সন্ধান পেলে? গল্পের একমাত্র বয়স্ক চরিত্রটি কে? ১১.৪ সেলো ভার্নের ব্যাট বল কেন ও কোথায় ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল? ১১.৫ তাদের বিবাদ কীভাবে মিটে গেল?
১২. রাস্তায় ক্রিকেট খেলা গল্পটি পড়ে কোন কোন অনুষঙ্গে মনে হলো যে গল্পটি বিদেশি গল্প?
১৩. তোমার নিজের চেনা পরিবেশ ও চরিত্রের সঙ্গে গল্পের মিলগুলো সূত্রাকারে লেখো। শিক্ষকের সাহায্য নিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে দেশটির অবস্থান দেখে নাও।
'নেবুর পাতায় করমচা / হে বৃষ্টি ধরে যা' প্রচলিত ছড়ার এই অংশটুকুর উল্লেখ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদে রয়েছে। যা উপন্যাসের 'আম আঁটির ভেঁপু' অংশের অন্তর্গত। 'সিগনেট' প্রকাশিত 'আম আঁটি ভেঁপু' বইটির পঞ্চম পরিচ্ছেদে এই ছড়ার অংশটুকু রয়েছে।
১০১
CONTENT MANAGER