Academy

14. কার দৌড় কদ্দূর | শিবতোষ মুখোপাধ্যায়

14. কার দৌড় কদ্দূর | শিবতোষ মুখোপাধ্যায় - WBBSE - Class 7 - বাংলা

0

চতুর্থ পাঠ

কার দৌড় কদ্দূর

শিবতোষ মুখোপাধ্যায়

Mahatma Gandhi and followers on the Dandi March

দুরের দৌড় তার গর্তের পানে। নদীর দৌড় সাগরে। খবরের দৌড় কানের দিকে। আঘ্রাণের দৌড় নাকের দিকে। সুন্দরের দৌড় স্বভাবত বিদ্যার দিকে। খদ্দেরের দৌড় দোকানের দিকে। রোগীর দৌড় ডাক্তারের কাছে। সুখের দৌড় দুঃখের দিকে। দুঃখের দৌড় সুখের দিকে। জন্মের দৌড় মৃত্যুর দিকে আর মৃত্যুর দৌড় জন্মের দিকে। প্রত্যাশীর দৌড় মরীচিকার পিছু-পিছুতে। আপেল দৌড়ায় মাটির দিকে। গাছ মাত্রেই দৌড়াতে নারাজ। আর প্রায় সমস্ত প্রাণীই চলতে সক্ষম। গাছরা দৌড়ায় না। তার বোধহয় সবচেয়ে বড়ো কারণ যে তারা এক জায়গায় ঠায় বসে বসেই খাবার তৈরি করতে পারে। কিন্তু প্রাণীদের এক জায়গায় বসে খাবার তৈরি করবার মতো নিজেদের কোনো ভিয়েন নেই। প্রাণী মাত্রকেই খাবার সংগ্রহ করতে হয়। এই কারণেই প্রাণীরা এক জায়গায় স্থাণু না হয়ে দিকে দিকে পরিভ্রমণ করে। রসনা রটনা করে এদিকে কিংবা ওদিকে। তা বলে দুনিয়ার সব প্রাণীই কুইক মার্চ করে খেতে দৌড়য় না। কেউ কেউ দৌড়য় আস্তে কিংবা জোরে – আপনার কৃতিত্বে কেউ বা গা দিয়ে কেউ বা পা দিয়ে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় চলে যায়।

অণুবীক্ষণের তলাকার অদ্ভুত বিস্ময়ের জীব অ্যামিবা, যার দেহ বলতে একখানি সেল ছাড়া কিছু নেই, তার চলবার ভঙ্গিটি বড়ো মজার। নিজের দেহ থেকে অর্থাৎ সেল থেকে খানিক অংশ ক্ষণিকের পা হিসাবে আগিয়ে দেয়, সেইদিকে তারপর সেলের মধ্যে প্রোটোপ্লাজমের বাকি অংশকে গড়িয়ে দেয়, এমনি করে মুহুর্মুহু ক্ষণিক-পা বার হয় আর প্রোটোপ্লাজম সেদিকে বয়ে যায়। কত মন্দগতিতে অ্যামিবা যে চলে তা একরকম অনুমানই করা যায় না। যখন আকাশে একটি জেট প্লেন ঘণ্টায় কয়েক শো মাইল বেগে চলছে তখন অ্যামিবা কয়েক মিনিটে কয়েক মিলিমিটার অতিক্রম করতে পারছে। রক্ষে এই যে সৃষ্টির আদিকাল থেকে অ্যামিবা এমন করেই চলেছে—একেবারে কখনও থেমে যায়নি। আমাদের নিজেদের শরীরের মধ্যে একরকম ভবঘুরে সেল আছে যারা অ্যামিবার মতো এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় যেতে পারে। এরা শরীরের সৈন্য সামন্ত। বহিঃশত্রুকে নাশ করতে ছুটে যায়। এ ছাড়া আর একরকমের এককোষী জীব প্যারামোসিয়াম— তার সেলের চারদিকে ছোটো ছোটো চুলের মতো বহিরাংশ আছে। তাদের সিলিয়া বলা হয়। এই সব সিলিয়ার যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে প্যারামোসিয়াম জলের মধ্যে হাজার দাঁড়ে নৌকা চালানোর মতো আগাতে বা পিছুতে পারে।

গমনাগমনের প্রকৃত মাধুর্যটা আমাদের চোখে পড়ে সাধারণত উচ্চতর প্রাণীর মধ্যে। সমুদ্র স্রোতের সঙ্গে কত সামুদ্রিক জীব গা ভাসিয়ে মাইলের পর মাইল পাড়ি দেয় তার হিসাব আমরা রাখি না। চিংড়িরা দাঁড়া নাড়া দিয়ে চলে। কোনো কোনো পতঙ্গ উড়বার সময় তাদের ডানা প্রচণ্ড জোরে নাড়ে। এফিড উড়বার সময় প্রতি সেকেন্ডে চারশোবার ডানা নাড়ায়, আর এক নাগাড়ে আট মাইল পথ উড়ে যেতে পারে। বাগানের শামুকরা চলে তাদের একখানি মাংস-পুরু পা দিয়ে, চলে যাবার সময় রেখে যায় জলীয় চিহ্ন— তা দেখলে বলতে ইচ্ছে করে ‘এ পথে আমি যে গেছি।' উচ্চতর জীবদের মধ্যে গমন শক্তির অনেক কলা কুশলতা। কিন্তু গমন শক্তিকে বিচার করতে হয় সব সময় দৈহিক ওজনের পরিমাণ হিসাব করে। কত ভারী জন্তু কত ওজন নিয়ে কত সময় কত দূর গেছে তাই বিবেচ্য। হাল্কা কোনো পাখির হাওয়ায় তিরের মতো ছুটে চলে যাওয়া আর বেজায় ওজন নিয়ে একখানি হিপোর কাদা ভেঙে থপ থপ করে যাওয়া একরকম মনে করলে ভুল হবে।

এই ধরুন, চিতা বাঘের দেহের ওজন একশো তিরিশ পাউন্ডের মতো। সে ঘণ্টায় ৭০ মাইল পর্যন্ত দৌড়াতে পারে। নেকড়ে প্রায় একই ওজনের হলেও তার গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ৩৬ মাইল মাত্র। সেই তুলনায় হিপোর শরীরের ওজন আঠাশশো পাউন্ড এবং সে প্রতি ঘণ্টায় ২০/৩০ মাইল চলতে পারে।

গোবি মরুভূমিতে গ্যাজেলি নামক এক হরিণ আছে তার গতিশক্তি অত্যধিক। দেহের ওজন আশি পাউন্ড কিন্তু সে ঘণ্টায় ৬০ মাইল বেগে চলতে পারে। এন্টিলোপ হরিণ ঘণ্টায় ৪৫ মাইল বেগে দৌড়ায় ১১০ পাউন্ড ওজন নিয়ে। সেই গল্পে আছে কচ্ছপের কাছে খরগোশ দৌড়ের বাজিতে হার মেনেছিল। নানা জাতের খরগোশের

মধ্যে গতির তারতম্য দেখা যায়। সাধারণত খরগোশ মাত্রই তীব্র গতিসম্পন্ন। দেহের ওজন যখন ৫ পাউন্ড, গতিবেগ তখন ৪৫ মাইল ঘণ্টায়, মোটরের দৌড়ের কাছাকাছি। রেস হর্সের দেহের ওজন ১০০০ পাউণ্ড, প্রতি ঘণ্টায় তার ছুট ৪০/৪২ মাইল। অনেক বুনো গাধার দৌড়ের বহর ঘোড়ার সমান কিন্তু তাদের দেহের ওজন ঘোড়ার চেয়ে কম— মাত্র ৩০০ পাউন্ডের মতো। গ্রে হাউন্ডের দেহের ওজন মাত্র ২২ পাউন্ড, সেই অনুপাতে তার চলৎশক্তির বেগ ঘণ্টায় ৩৬ মাইল।

পাখিরা বহুদূরত্ব পার হতে পারে। মেরুপ্রদেশের টারনস প্রতি বছর এগারো হাজার মাইল একবার উড়ে আসে আবার পরে ফিরে যায়। কোনো কোনো হজ্জাতীয় পাখি ঘণ্টায় একশো পঞ্চাশ মাইল বেগে উড়তে পারে। এমন পাখি আছে যার গতিবেগ আরও বেশি— ঘণ্টায় দুশো মাইল। আফ্রিকার ইন্ জাতীয় পাখি ওড়া ছেড়ে হাঁটায় পারদর্শী হয়ে উঠেছে। দেহের ওজন ১১০ পাউন্ড হলে কী হয়, তারা ঘণ্টায় ৩১ মাইল বেগে চলতে পারে। কাঙারুর চলন প্রায় ইমুর চলনের কাছাকাছি—ঘণ্টায় ৩০ মাইল আর দেহের ওজন ১৩০ পাউন্ড। মোষের দেহের বহর যত, তাতে ওজন দাঁড়ায় ১৮০০ পাউন্ড, সেই তুলনায় গতিবেগ নেহাৎ কম নয়—ঘণ্টায় ৩০ মাইল। হাতির বপু বিরাট, ওজন ৭০০০ পাউন্ড। সেই নিয়ে গদাই লস্কর চালে সে ঘণ্টায় ২৫ মাইল বেগে ছোটে। শেয়াল তার ১২ পাউন্ড ওজন নিয়ে ২০ মাইল বেগে মাত্র যেতে পারে। বরাহের দেহের ওজন অনেক বেশি, ৯০ পাউন্ড। চলৎশক্তি দেখা গেছে ঘণ্টায় ১১ মাইল মাত্র। সজারুর দেহের ওজন যেমন মাত্র ৩ পাউন্ড, তার চলার শক্তিও সীমিত— ঘণ্টায় মাত্র ২ মাইল। উচ্চতর জীবরা পেশির সঞ্চালনের সাহায্যে পা নাড়াতে পারে। যখন কোনো পেশি কাজ করে তখন এডিনোসসিন ট্রাইফসফেট (ইংরাজিতে ATP বলা হয়) নামক রাসায়নিক পদার্থের ক্রিয়ার ফলে শক্তি উৎপন্ন হয়।

বাইরের চলাটা আসল নয়। এ পৃথিবীতে সব চলার মাঝে যা সত্যকারের চলা তা হল মানুষের নিজের চলা তার মন-ভূমির মধ্যে। মানুষের মনের গতিবেগ আলোর গতিসম্পন্ন—ঘণ্টায় ১৮৬০০০ মাইল। তার কোথাও যেতে নেই মানা। ক্রমবিকাশের দুস্তর পথ পেরিয়ে মানুষ এমন মন পেয়েছে। মনকে চালাবার ক্ষমতাও। মন তার রথ। মন রথ অবাধ। ক্রমবিকাশের ইতিহাসে জানা যায় ঘোড়ার পূর্ব পুরুষদের এখনকার ঘোড়ার মতো খুর ছিল না। হাতে-পায়ে পাঁচ আঙুল বিশিষ্ট জীব ছিল তারা। কিন্তু ক্রমবিকাশের পথ পরিক্রমায় আস্তে আস্তে অন্য আঙুলগুলি অদৃশ্য হলে রইল শুধু মাঝের আঙুলটি, যাকে আমরা খুর বলে জানি। ঘোড়দৌড়ের মাঠে ঘোড়া ধুলো উড়িয়ে চমক লাগিয়ে ছুটে চলে যায়। কিন্তু মনের দৌড়ে ঘোড়া ততকিছু নয়। মনের দৌড়ে মানুষ চ্যাম্পিয়ন। এই মনকে সঙ্গে নিয়ে মানুষ যুগে যুগে কালে কালে পদচালনা করেছে দিকে দিকে। হুয়েনসাঙ এসেছেন সুদূর চিন থেকে তাঁর মনকে সঙ্গে নিয়ে। ভারতের শ্রীজ্ঞান দীপঙ্কর গেছেন তিব্বতে, ভাসকো-ডা-গামা এসেছেন তুমুল সমুদ্র পেরিয়ে ভারতবর্ষে। আর কলম্বাস তাঁর দুর্জয় মনকে সঙ্গে নিয়ে নতুন পৃথিবী আবিষ্কার করেছেন। শঙ্করাচার্য পদব্রজে সারা ভারতবর্ষের দিকে দিকে গেছেন ভারতবর্ষকে আবিষ্কার করবেন বলে।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার এই যে মানুষ এখন শুধু নিজে চলেই ক্ষান্ত নয়। সে অন্য সবকিছুকেও চালাতে সমান উৎসুক। জাহাজ, রেল, প্লেন, জেট। এখন মানুষ আকাশটাকে নতুন করে ঘৌড়দৌড়ের মাঠ করে তুলেছে। সেখানে নতুন বাজি ধরেছে যে সে ত্রিভুবনেশ্বর হবে, স্বর্গমর্ত তোলপাড় করবে। তাই জীবনের ৪৪০তে মানুষ বিশ্বকীর্তি স্থাপন করেছে।

কিন্তু 'ক্ষণিকের-পা' দিয়ে, কেউ সিলিয়া দিয়ে, কেউ দাঁড়া দিয়ে - নানা রকমের পা দিয়ে সবই চলেছে। চারিদিকে সবাই ছোটাছুটি করছে, কীসের এ জয়যাত্রা, এত ত্বরা? পৃথিবীটাও পাগলের মতো হন হন করে ছুটে চলেছে। পৃথিবীটাকে আমি একবার শুধিয়েছিলাম— তোমার কেন চলবার জন্য এত দায়। এ যাত্রা তোমার থামাও। সূয্যি তো কারুর পিছু পিছু ধাওয়া করছে না? তুমি কেন এত তাড়াতাড়ি করছো? তার উত্তরে পৃথিবী কী জানিয়েছিল জানেন? তার দখিনা হাওয়ার ভিতর দিয়ে সে আমার কানে কানে বলেছিল— থামা মানে জীবনের শেষ। যতদিন আছো ততদিন চলো, দাঁড়িও না। শাশ্বত সত্যের দিকে যাওয়ার গতি বন্ধ করো না। চরৈবেতি...

১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো:

১.১ উপনিষদে উক্ত 'চরৈবেতি' শব্দের অর্থ (যাত্রা থামাও/এগিয়ে যাও/দাঁড়িও না)।
১.২ পৃথিবী যে নিজের কক্ষপথে সূর্যের চারিদিকে ঘোরে তা প্রথম বলেন (গ্যালিলিও/ কোপারনিকাস/ সক্রেটিস)।
১.৩ ভাস্কো-ডা-গামা ছিলেন (মার্কিন/পর্তুগিজ/গ্রিক)।
১.৪ যে বৈজ্ঞানিক কারণে 'আপেল দৌড়ায় মাটির দিকে', সেটি হলো (মাধ্যাকর্ষণ/ প্লবতা/ সন্তরণ-নিয়ম)।
১.৫ আইনস্টাইন ছিলেন (সপ্তদশ/অষ্টাদশ/উনবিংশ) শতাব্দীর মানুষ। প্রাণী মাত্রকেই খাবার সংগ্রহ করতে হয় – গাছ কীভাবে না দৌড়ে তার খাবার সংগ্রহ করতে পারে?

২. শূন্যস্থান পূরণ করো:

২.১ এফিড উড়বার সময় প্রতি সেকেন্ডে _______ বার ডানা নাড়ায়।
২.২ গমন শক্তিকে বিচার করতে হয় সবসময়ে _______ হিসাব করে।
২.৩ গোবি মরুভূমিতে _______ নামক এক হরিণ আছে।
২.৪ _______ টারনস প্রতি বছরে এগারো হাজার মাইল একবার উড়ে আসে আবার পরে ফিরে যায়।
২.৫ ATP র পুরো কথাটি হলো _______।

৩. অতি-সংক্ষিপ্ত আকারে নীচের প্রশ্নগুলির যথাযথ উত্তর দাও:

৩.১ অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায় এমন দুটি প্রাণীর নাম লেখো।
৩.২ 'শামুক চলে যাবার সময় রেখে যায় জলীয় চিহ্ন'- সেটি আসলে কী?
৩.৩ 'আমাদের নিজেদের শরীরের মধ্যে একরকম ভবঘুরে সেল আছে।'-সেলটিকে 'ভবঘুরে' বলা হয়েছে কেন?
৩.৪ 'নানা জাতের খরগোশের মধ্যে গতির তারতম্য দেখা যায়' - কয়েকটি খরগোশের জাতির নাম লেখো।
৩.৫ 'কোনো কোনো পতঙ্গ উড়বার সময় তাদের ডানা প্রচণ্ড জোরে নাড়ে'--- তোমার চেনা কয়েকটি পতঙ্গের নাম লেখো। তাদের ছবি সংগ্রহ করে খাতায় লাগাও।
৩.৬ 'কত সামুদ্রিক জীব গা ভাসিয়ে মাইলের পর মাইল পাড়ি দেয় তার হিসাব আমরা রাখি না'- কয়েকটি সামুদ্রিক জীবের নাম লেখো।
৩.৭ 'রক্ষে এই যে......' লেখক কোন বিষয়টিকে সৌভাগ্য বলে মনে করেছেন এবং কেন?
৩.৮ প্যারামোসিয়াম কীভাবে চলাফেরা করে?
৩.৯ প্যারামোসিয়াম ছাড়া দুটি এককোষী জীবের নাম লেখো।

৩.১০ 'তার চলাফেরার ভঙ্গিটি ভারি মজার'—কার চলার ভঙ্গির কথা বলা হয়েছে? তা 'মজার' কীভাবে?
৩.১১ গমনে সক্ষম গাছ ও গমনে অক্ষম প্রাণীর নাম লেখো।
৩.১২ কয়েকটি 'হক্' জাতীয় পাখির নাম লেখো।
৩.১৩ আফ্রিকার কী জাতীয় পাখি ওড়া ছেড়ে হাঁটায় পারদর্শী হয়ে উঠেছে?
৩.১৪ ক্রমবিকাশের পথ পরিক্রমায় ঘোড়ার আঙুলের কোন পরিবর্তন ঘটেছে?
৩.১৫ পাঠ্যাংশে রয়েছে এমন একটি নিশাচর প্রাণীর নাম লেখো।

৪. টীকা লেখো:

  • হুয়েন সাঙ
  • শ্রীজ্ঞান দীপঙ্কর
  • ভাস্কো-ডা-গামা
  • শঙ্করাচার্য

৫. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:

৫.১ প্রাণী মাত্রকেই খাবার সংগ্রহ করতে হয়—গাছ কীভাবে না দৌড়ে তার খাবার সংগ্রহ করতে পারে?
৫.২ প্রবন্ধে লেখক জানিয়েছেন যে খাবার সংগ্রহের কারণেই 'প্রাণীরা এক জায়গায় স্থাণু না হয়ে দিকে দিকে পরিভ্রমণ করে'। - তুমি কি এই মতটিকে সমর্থন করো? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
৫.৩ 'গমনাগমনের প্রকৃত মাধুর্যটা আমাদের চোখে পড়ে সাধারণত উচ্চতর প্রাণীর মধ্যে'।— পাঠ্যাংশে উচ্চতর প্রাণীদের গমনাগমনের মাধুর্য কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে আলোচনা করো।
৫.৪ 'এ পথে আমি যে গেছি'— রবীন্দ্রসংগীতের অনুষঙ্গটি পাঠ্যাংশে কোন প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে?
৫.৫ 'এরকম মনে করলে ভুল হবে।'— কোন দুটি বিষয়ের ভুল সাপেক্ষে এমন মন্তব্য করা হয়েছে?
৫.৬ উচ্চতর জীবদের পেশি কাজ করার ক্ষেত্রে কীভাবে শক্তি উৎপাদিত হয়?
৫.৭ 'ক্রমবিকাশের ইতিহাসে জানা যায়' — এ প্রসঙ্গে লেখক কোন তথ্যের অবতারণা করেছেন?
৫.৮ 'মনের দৌড়ে মানুষ চ্যাম্পিয়ন' — এমন কয়েকজন মানুষের কথা লেখো যাদের শারীরিক অসুবিধা থাকলেও মনের দৌড়ে সত্যিই তাঁরা প্রকৃত চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠেছেন।
৫.৯ 'মানুষ এখন শুধু নিজে চলেই ক্ষান্ত নয়।' –নিজের চলা ছাড়া বর্তমানে মানুষ কী কী জিনিস চালাতে সক্ষম?
৫.১০ 'এখন মানুষ আকাশটাকে নতুন করে ঘোড়াদৌড়ের মাঠ করে তুলেছে।' ---মানুষের মহাকাশ-অভিযানের সাম্প্রতিকতম সাফল্য নিয়ে প্রিয় বন্ধুকে একটা চিঠি লেখো।
৫.১১'এ যাত্রা তোমার থামাও' - লেখক কাকে একথা বলেছেন? এর কোন উত্তর তিনি কীভাবে পেয়েছেন?

শিবতোষ মুখোপাধ্যায় (১৯২৬ - ১৯৯৩) : বিশিষ্ট অধ্যাপক এবং প্রাণিবিজ্ঞানী। কলকাতার প্রেসিডেন্সি ও দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়-সহ আমেরিকার রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। জীববিদ্যার উন্নয়নমূলক গবেষণার জন্য জুলজিকাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া, এশিয়াটিক সোসাইটি-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে পেয়েছেন অসংখ্য স্বীকৃতি ও সম্মান। স্যার দোরাবজি টাটা স্বর্ণপদক, জয়গোবিন্দ স্বর্ণপদক প্রভৃতি এর মধ্যে অন্যতম। বিজ্ঞানভিত্তিক জনপ্রিয় লেখালেখিতেও তাঁর কৃতিত্ব অবিস্মরণীয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য 'অণুর উত্তরায়ণ', 'লাবণ্যের অ্যানাটমি', 'দিক্বিদিক', 'মানহাটান ও মার্টিনি', 'আসা যাওয়ার পথের ধারে' প্রভৃতি।

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel