7. একুশের তাৎপর্য | আবুল ফজল
7. একুশের তাৎপর্য | আবুল ফজল - WBBSE - Class 7 - বাংলা
একুশের তাৎপর্য
আবুল ফজল
ভাষা কী ও কেন, ভাষা দিয়ে কী হয় ব্যক্তি আর জাতির? ভাষা না হলে আর না থাকলে কী চলে না? এসব প্রশ্নের উত্তরেই নিহিত রয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি তথা ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য। ভাষাই মানুষকে মানুষ করে তোলে—ভাষা ছাড়া মানুষ ভাবতে পারে না, কল্পনা করতে পারে না, পারে না চিন্তা করতে পর্যন্ত। মানুষ একই সঙ্গে প্রকাশ আর বিকাশধর্মী জীব। ভাষা ছাড়া মানুষ নিজেকে প্রকাশ করতে অক্ষম, মানুষের সর্বাঙ্গীণ বিকাশও ভাষাকে অবলম্বন করেই ঘটে। তাই ব্যক্তির ব্যক্তি হয়ে উঠতেই চাই ভাষা। ব্যক্তিত্ব ও ব্যক্তিজীবনের বিকাশও ঘটে ভাষার সাহায্যেই।
ভাষা ছাড়া জাতিও জাতি হয়ে উঠতে পারে না —বিশেষ একটা ভাষাকে কেন্দ্র করেই জাতীয় সত্তা রূপ পায় ও গড়ে ওঠে। এ বিশেষ ভাষা যে মাতৃভাষা তাতে সন্দেহ নেই। কাজেই ব্যক্তি-জীবন ও জাতীয় জীবন উভয় ক্ষেত্রেই মাতৃভাষা ও মাতৃভাষার সাহিত্য অপরিহার্য। জাতির সাহিত্য, শিল্প, সভ্যতা, সংস্কৃতি সব কিছুরই প্রাণ হচ্ছে তার মাতৃভাষা ও মাতৃভাষার সাহিত্য। তাই মাতৃভাষার ইজ্জত আর অস্তিত্ব নিয়ে কোনো আপস চলে না। প্রাণ আর রক্তের বিনিময়ে হলেও মাতৃভাষার দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হয়। মাতৃভাষার দাবি স্বভাবের দাবি, মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার দাবি। এ দাবি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেই একুশে ফেব্রুয়ারির শহিদেরা প্রাণ দিয়েছিলেন—প্রাণ দিয়ে তাঁরা শুধু আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকেই বাঁচাননি, আমাদেরও বাঁচার পথ করে দিয়েছেন। তাই তাঁরা ও তাঁদের স্মৃতি চিরস্মরণীয়। ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়ার এমন অনন্য দৃষ্টান্ত পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। একুশে ফেব্রুয়ারির শহিদেরা আমাদের অনন্য গৌরব ও আমাদের গর্ব।
একুশে ফেব্রুয়ারির অশ্রুসিক্ত ইতিহাস প্রতি বছর ফিরে এসে আমাদের সে কথা স্মরণ করিয়ে দেয় আর স্মরণ করিয়ে দেয় মাতৃভাষার প্রতি আমাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব। একুশে ফেব্রুয়ারিকে সার্থক করতে হলে একুশে ফেব্রুয়ারির এ তাৎপর্য বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে বছরের শুধু এক দিন নয়; সারা বছর ধরেই।
আবুল ফজল (১৯০৩-১৯৮৩) : জন্ম চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ। সমাজ ও সমকাল সচেতন প্রাবন্ধিক ও কথাশিল্পী। উপন্যাস, ছোটোগল্প, নাটক লিখেছেন অনেকগুলি। 'রেখাচিত্র' গ্রন্থের জন্য 'আদমজি পুরস্কার' লাভ করেন। সম্পাদনা করেছেন 'শিখা' পত্রিকা। রচনাংশটি তাঁর 'একুশ মানে মাথা নত না করা' গ্রন্থ থেকে গৃহীত।
২১
CONTENT MANAGER