Academy

1.5 প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি ধরন হিসেবে গমন (Locomotion as a type of response in animals

1.5 প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি ধরন হিসেবে গমন (Locomotion as a type of response in animals - WBBSE - Class 10 - বিজ্ঞান

0

1.51.5 প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি ধরন হিসেবে গমন (Locomotion as a type of response in animals\text{Locomotion as a type of response in animals})

এর আগে উদ্ভিদের সাড়াপ্রদানের পদ্ধতিরূপে চলনের কথা আমরা জেনেছি। প্রাণীর ক্ষেত্রে সাড়াপ্রদানের অনেক সহজ ঘটনা আমাদের চোখে পড়ে, কারণ প্রাণীরা চলাফেরা বা গমন করতে পারে (ব্যতিক্রম-স্পঞ্জ, প্রবাল, সাগরকুসুম)।

1.5.11.5.1 গমন (Locomotion\text{Locomotion})

প্রাণীর গমনের অসংখ্য উদাহরণ আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে। চিতার খাদ্যের জন্য হরিণের পিছনে দৌড়, আবার নদী পার হতে গিয়ে জেব্রার ওপর কুমিরের আক্রমণ, আক্রান্ত জেব্রা দলের ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাওয়া, গমনের এরকম হাজারো ঘটনা রয়েছে। আবার, ফসল পাকলে ইঁদুরের আনাগোনা বাড়ে। খাবারের এই প্রাচুর্যের কারণে তাদের সংখ্যাও বেড়ে যায়।

প্রাণীর ক্ষেত্রে সাড়াপ্রদান বলতে সাধারণত দেহাংশ, পেশি, অস্থি ও অস্থিসন্ধি ব্যবহার করে চলাচল করার ক্ষমতাকে বোঝায়। মনে রাখা দরকার যে, অস্থি ও পেশি-সমৃদ্ধ বিভিন্ন দেহাংশের সঞ্চালন একত্রিত হয়েই স্থান পরিবর্তন বা গমনের ঘটনা ঘটে।

গমন: যে পদ্ধতিতে সাধারণত প্রাণীরা উদ্দীপকের প্রভাবে অঙ্গ বা দেহাংশের সঞ্চালন দ্বারা সামগ্রিকভাবে স্থান পরিবর্তন করে, তাকে গমন বলে।

চিতার হরিণ শিকার
(চিত্রের জন্য স্থান)

1.521.52 গমনের চালিকাশক্তি (Forces of locomotion\text{Forces of locomotion})

গমনের প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হল :

  1. খাদ্য খোঁজা বা খাদ্যান্বেষণ: প্রাণীরা পরভোজী হওয়ায়, খাদ্যের খোঁজে মাংসাশী ও শাকাশী উভয় প্রাণীকেই স্থানান্তরে গমন করতে হয়। যেমন-চিতা, কুমির, সিংহ খাদ্যের খোঁজে গমন করে। খাদ্যের খোঁজে হাতি বা চিতাবাঘ লোকালয়ে চলে আসে।
  2. আত্মরক্ষা: শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য, প্রাণীরা গমন করে। যেমন- খরগোশ, হরিণ, জেব্রা, ব্যাং শিকারি প্রাণীর হাত থেকে বাঁচতে দ্রুত গমন করে।

--- PAGE 6 ---

3232ছায়া জীবনবিজ্ঞান ও পরিবেশ দশম শ্রেণি
  1. পরিযান: বিভিন্ন কারণে প্রাণীরা একস্থান থেকে অন্যস্থানে ছড়িয়ে পড়ে। একে পরিযান (migration\text{migration}) বলে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ (বন্যা, খরা), সংক্রামক রোগ বা মহামারি, দুর্ভিক্ষ, বিষাক্ত পদার্থ থেকে রক্ষা পেতে মানুষ ও কুকুর, বিড়াল প্রভৃতি প্রাণী পরিযান করে।
  2. বাসস্থান বা আশ্রয় সন্ধান: অনুকূল পরিবেশ ও নিরাপদ বাসস্থানের খোঁজে প্রাণীদের স্থানান্তরের ঘটনা ঘটে। যেমন, বর্ষাকালে পিঁপড়েরা মাটি থেকে ঘরবাড়িতে উঠে আসে।
  3. প্রজনন: বংশবিস্তারের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত সঙ্গী। এই অনুসন্ধান ও সঙ্গী নির্বাচনের জন্য অনেক সময়ে প্রাণীদের স্থানান্তরে গমন করতে হয়। যেমন-ইলিশ ও স্যামন মাছ, পরিযায়ী পাখিরা প্রজননের জন্য পরিযান করে।

1.5.31.5.3 বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর গমন (Locomotion in different animals\text{Locomotion in different animals})

জীবপ্রকৃতিরঅঙ্গপদ্ধতি
এককোশী অ্যামিবা (Amoeba sp.\text{Amoeba sp.})নিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম সহ বর্ধিত কোশপর্দা।ক্ষণপদ (pseudopodia\text{pseudopodia})অ্যামিবয়েড গমন। সল-জেল মতবাদ অনুযায়ী, অ্যামিবার কোশদেহে সাইটোপ্লাজমের ঘনত্ব পরিবর্তন দ্বারা ক্ষণপদ সৃষ্টি হয়। গমনের অভিমুখে ক্ষণপদ অগ্রসর হয় এবং তার আঠালো অগ্রভাগের সাহায্যে নিকটবর্তী তলের সঙ্গে সংলগ্ন হয়। এরপর দেহের বাকি প্রোটোপ্লাজম ক্রমশ ক্ষণপদে প্রবাহিত হয় ও জীবটি এগিয়ে যায়।
এককোশী প্যারামেসিয়াম (Paramoecium sp.\text{Paramoecium sp.})সিলিয়াগুলি দেহের পরিধি বরাবর বিন্যস্ত থাকে।সিলিয়াসিলিয়া সঞ্চালনে গমন। সিলিয়াগুলির একটি নির্দিষ্ট অভিমুখে নিয়মবদ্ধ চলন ঘটলে প্যারামেসিয়াম সিলিয়া সঞ্চালনের বিপরীত দিকে গমন করে।
এককোশী ইউগ্নিনা (Euglena sp.\text{Euglena sp.})এদের দেহের আলোকসংবেদী চক্ষুবিন্দু (eyespot\text{eyespot}) সূর্যালোক অনুভব করে ফ্ল্যাজেলার সঞ্চালনে সাহায্য করে।ফ্ল্যাজেলাফ্ল্যাজেলার চলনে গমন। এইসময় জীবটি ফ্ল্যাজেলার সঞ্চালন অভিমুখের বিপরীতে গমন করে।
মাছঅস্টিক্সিস শ্রেণির হাড়যুক্ত মাছের ক্ষেত্রে সাতটি রশ্মিযুক্ত পাখনা (হাঙর-জাতীয় মাছের ক্ষেত্রে 55টি পাখনা)। এ ছাড়া মাছের গমনে মায়োটম পেশি সাহায্য করে।পাখনা ও মায়োটম পেশিসন্তরণ।
মাছের গমনে পাখনার ভূমিকা: মোছের সাতটি পাখনার গমনে ভূমিকা হল- (i) মাছের দেহের উভয় পাশে বক্ষদেশে অবস্থিত দুটি বক্ষপাখনা, মাছের জলের গভীরে যাওয়া, ভেসে ওঠা ও ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে। (ii) মাছের দেহের পৃষ্ঠদেশে একটি পৃষ্ঠপাখনা থাকে, যা দেহের স্থিতাবস্থা রক্ষা করে।

--- PAGE 7 ---

08.02.2508.02.25জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়
3333(চিত্রের জন্য স্থান)

(iii) মাছের দেহের উভয় পাশে শ্রোণিদেশে অবস্থিত দুটি শ্রোণিপাখনা, মাছের জলের গভীরে যাওয়া বা ভেসে ওঠায় সাহায্য করে। (iv) মাছের পায়ুদেশে উপস্থিত একটি পায়ুপাখনা স্থিতাবস্থা বজায় রাখে। (v) মাছের ল্যাজের শেষপ্রান্তে অবস্থিত পুচ্ছপাখনা হালের মতো কাজ করে, মাছের দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে।

b. মাছের গমনে মায়োটম পেশির ভূমিকা: মাছের মেরুদণ্ডের দুই পাশে 'V\text{V}' আকৃতির যে পেশি কানকো থেকে পুচ্ছপাখনার গোড়া অবধি সজ্জিত থাকে, তাদের মায়োটম পেশি বলে। এই পেশির সংকোচন ও প্রসারণে মাছের দেহে তরঙ্গের মতো আন্দোলন সৃষ্টি হয়। এর দ্বারা সৃষ্ট বলের অনুভূমিক উপাংশ মাছকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

মায়োটম পেশিগমনের অভিমুখ
মাছের গমনপৃষ্ঠপাখনা পুচ্ছপাখনা
বক্ষপাখনা শ্রোণিপাখনা পায়ুপাখনামাছে মায়োটম পেশি ও বিভিন্ন পাখনা

পাখির উড্ডয়ন: পাখির একজোড়া ডানা পাখিকে উড়তে সাহায্য করে। পাখির ডানা হল অগ্রপদের রূপান্তর। পাখির ডানায় ও ল্যাজে বিন্যস্ত বেশ কিছু পালক উড্ডয়নে সাহায্য করে। এদের উড্ডয়ন পালক বলে। এ ছাড়া কিছু উড্ডয়ন পেশিও উড়তে সাহায্য করে। এদের ভূমিকা এখানে আলোচনা করা হল।

[a] পাখির উড্ডয়নে উড্ডয়ন পালকের ভূমিকা: মুখ্যত, দু-প্রকার পালক উড্ডয়নে মুখ্য ভূমিকা নেয়-

(i) রেমিজেস: পাখির ডানায় বিন্যস্ত বড়ো পালকগুলিকে রেমিজেস বলে। এগুলি লিগামেন্ট দ্বারা ডানার অস্থিতে সংলগ্ন থাকে। ডানা ঝাপটে উড্ডয়ন বল তৈরি করে।

(ii) রেক্ট্রিসেস: পাখির ল্যাজে বিন্যস্ত সাধারণত 66 জোড়া বড়ো পালকগুলিকে বলে রেক্ট্রিসেস। উড়বার সময় দিক পরিবর্তনে, গতি কমাতে বা থামতে এরা সাহায্য করে।

[b] পাখির উড্ডয়নে উড্ডয়ন পেশির ভূমিকা: প্রধান উড্ডয়ন পেশিগুলি হল-পেকটোরালিস মেজর, পেকটোরালিস মাইনর, কোরাকোব্রাকিয়ালিস প্রভৃতি।

  • পেকটোরালিস মেজর ও কোরাকোব্রাকিয়ালিস পেশির সংকোচনে প্রবল নিম্নঘাত বল তৈরি হয়, ফলে পাখি সামনের দিকে অগ্রসর হয়।
  • এরপর পেকটোরালিস মাইনর পেশির সংকোচনে ডানা ওপরের দিকে ওঠে ও উর্ধ্বঘাত বল তৈরি করে।
  • এভাবে পাখির ডানা পর্যায়ক্রমে ওঠানামা করে ও পাখিকে সামনের দিকে এগিয়ে দেয়। ডানা ঝাপটে পাখির গমনকে ফ্ল্যাপিং বলে। অপরদিকে ডানা প্রসারিত করে ভেসে বেড়ানোকে বলে গ্লাইডিং

মানুষের গমন পদ্ধতি: দুই পায়ের ওপর ভর দিয়ে গমন করার পদ্ধতিকে দ্বিপদ গমন বলে। মানুষের প্রধান গমন পদ্ধতি হল হাঁটা। এ ছাড়াও দৌড়োনো, সাঁতার ইত্যাদি মানুষের অন্যান্য গমন পদ্ধতি। একজোড়া পা ও হাত হল মানুষের গমন অঙ্গ। গমনে দেহের বিভিন্ন পেশি ও অস্থিসন্ধি মুখ্য ভূমিকা নেয়।

গমনের শুরুতে (i) দেহের ওপরের অংশ সামনের দিকে ঝুঁকে যায়। কিন্তু পা দুটি ভূমি-সংলগ্ন থাকায় দেহ পতনের সম্মুখীন হয়। (ii) এই সময়ে যে-কোনো একটি পা, ধরা যাক বাঁ পা সামনের দিকে এগিয়ে যায় ও মাটি স্পর্শ করে, তখন ডান পা দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।

--- PAGE 8 ---

3434ছায়া জীবনবিজ্ঞান ও পরিবেশ দশম শ্রেণি
(চিত্রের জন্য স্থান)

(iii) বাঁ পা মাটি স্পর্শ করলে ডান পায়ের গোড়ালি ওঠে, হাঁটু ভাঁজ হয় ও দেহ সামনের দিকে এগিয়ে যায়, তখন বাঁ পা দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। পা ভূমি থেকে উঠলে পেশি প্রসারিত হয় ও মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে পা আবার মাটি স্পর্শ করে।

মানুষের গমন পদ্ধতি

গমনে দেহের ভারসাম্য রক্ষাকারী অঙ্গ:

(i) হাত: হাঁটা বা দৌড়োনোর সময়ে হাত দুটি সামনে পিছনে আন্দোলনের মাধ্যমে দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।

(ii) লঘুমস্তিষ্ক: লঘুমস্তিষ্ক নানা গ্রাহক দ্বারা আগত উদ্দীপনা বিশ্লেষণ করে ও গমনের সঙ্গে সঙ্গে দেহভঙ্গির পরিবর্তনে সমন্বয় সাধন করে। ফলে দেহের ভারসাম্য বজায় থাকে। গমনের সময় ভারসাম্য রক্ষার জন্য এটি ঐচ্ছিক পেশির চলনও নিয়ন্ত্রণ করে।

(iii) অর্ধবৃত্তাকার নালী: অন্তঃকর্ণের অর্ধবৃত্তাকার নালী এন্ডোলিম্ফ নামক তরল পূর্ণ থাকে। মস্তিষ্কের চলনে তা নালীর রোমকোশে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে যা দেহের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে।

1.5.41.5.4 মানুষের গমনে সচল সন্ধি ও কঙ্কাল পেশির ভূমিকা (Role of synovial joints and skeletal muscle in human locomotion\text{Role of synovial joints and skeletal muscle in human locomotion})

মানুষ ও অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদের অন্তঃকঙ্কালতন্ত্রের দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বলে। দেহের বিভিন্ন অস্থিসন্ধিগুলি কঙ্কালতন্ত্রকে স্থিতিস্থাপকতা দেয় ও গমনে সহায়তা করে। অস্থিসন্ধি নানাপ্রকারের হয়। যেমন-সচল সন্ধি, অচল সন্ধি ও ঈষৎ সচল সন্ধি।

সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি
সাইনোভিয়াল পর্দাআর্টিকিউলার তরুণাস্থি
সাইনোভিয়াল প্রকোষ্ঠআলনা

সাইনোভিয়াল সন্ধি: যে অস্থিসন্ধিতে সমন্বিত অস্থিগুলির সহজ বিচলন ঘটে মানুষের গমনে সাহায্য করে, তাকে সচল অস্থিসন্ধি বা সাইনোভিয়াল সন্ধি বলে। এই সন্ধিতে আর্টিকুলার হায়ালিন তরুণাস্থি দিয়ে সংলগ্ন হাড়গুলির প্রান্ত ঢাকা থাকে। ফলে তাদের ঘর্ষণ বাধা কমে যায়। এ ছাড়া ক্যাপসুলার লিগামেন্ট সন্ধির হাড়গুলিকে ধরে রাখে। সন্ধিতে সাইনোভিয়াল পর্দা দিয়ে একটি প্রকোষ্ঠ তৈরি হয়, যাতে সাইনোভিয়াল তরল নামক তৈলাক্ত পদার্থ থাকে। এটি ঘর্ষণজনিত ক্ষয় রোধ করে ও তরুণাস্থিতে পুষ্টির জোগান দেয়।

সাইনোভিয়াল সন্ধি, তাদের উদাহরণ ও ভূমিকা

প্রকারব্যাখ্যা, উদাহরণ ও ভূমিকা
কবজা বা কপাট অস্থিসন্ধি (Hinge joint\text{Hinge joint})কবজা সন্ধিতে অস্থি দুটির প্রান্ত দরজার কবজার মতো সংলগ্ন থাকে। এক্ষেত্রে একটি অস্থির গোল প্রান্ত অপর অস্থির অবতল অংশে যুক্ত থাকে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অস্থি দুটির একটি তলে 180180^\circ-তে বিচলন ঘটে। উদাহরণ: হাঁটুর অস্থিসন্ধি: ফিমার, টিবিয়া ও প্যাটেলার হাড় সম্মিলিত অস্থিসন্ধি। কনুই-এর অস্থিসন্ধি: হিউমেরাস, আলনা ও রেডিয়াস হাড় মিলে তৈরি হয় এই অস্থিসন্ধি। ভূমিকা: এইপ্রকার অস্থিসন্ধিগুলি একটি নির্দিষ্ট দিকে সঞ্চালিত হয়। ফলে গমনের সময় কনুই অঞ্চলে হাত ভাঁজ করা ও হাঁটু অঞ্চলে পা ভাঁজ করা সম্ভব হয়।

--- PAGE 9 ---

3535জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়
(চিত্রের জন্য স্থান)(চিত্রের জন্য স্থান)
প্রকারব্যাখ্যা, উদাহরণ ও ভূমিকা
বল ও সকেট অস্থিসন্ধি (Ball and socket joint\text{Ball and socket joint})এই অস্থিসন্ধিতে একটি অস্থির গোলাকার মস্তক অপর অস্থির কাপের মতো সকেট বা কোটরে প্রবিষ্ট থেকে পরস্পর সংলগ্ন হয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দিকে অস্থিসন্ধির সঞ্চালন ঘটে। উদাহরণ:কোমরের অস্থিসন্ধি: ফিমারের মস্তক (বল) শ্রোণিচক্রের কাপের মতো অ্যাসিটাবুলাম কোটরে (সকেট) প্রবেশ করে এই অস্থিসন্ধির সৃষ্টি হয়। ② কাঁধের অস্থিসন্ধি: হিউমেরাস অস্থির গোলাকার মস্তক (বল) স্ক্যাপুলা অস্থির গ্লিনয়েড গহ্বরে (সকেট) প্রবেশ করে এই অস্থিসন্ধির সৃষ্টি হয়। ভূমিকা: এটি সকল দিকেই সঞ্চালিত হওয়ায় হাত ও পা দুটিকে নানা দিকে ঘোরানো যায়।
ফিমারের মস্তকঅ্যাসিটাবুলাম
বল ও সকেট অস্থিসন্ধি

কঙ্কাল পেশি ও তার মাধ্যমে ঘটা বিভিন্ন প্রকারের সঞ্চালন

কঙ্কাল পেশি: অস্থিসংলগ্ন স্বেচ্ছায় সংকোচনশীল যেসব পেশি অস্থি সঞ্চালন দ্বারা গমনে প্রধান ভূমিকা নেয়, তাদের কঙ্কাল পেশি বা অস্থিপেশি বলে।

প্রকারব্যাখ্যা ও উদাহরণ
ফ্লেক্সনফ্লেক্সর পেশির সংকোচনের ফলে অস্থিসন্ধিতে ভাঁজ সৃষ্টি হয়ে সংলগ্ন অস্থি দুটির কৌণিক দূরত্ব হ্রাস পায়। উদাহরণ: কনুইয়ে হাত ভাঁজ করায় বাইসেপ্স সংকুচিত হয়।
এক্সটেনশনএক্সটেনসর পেশির সংকোচনের ফলে অস্থিসন্ধির ভাঁজ অবস্থা খুলে সন্ধির অস্থি দুটি পরস্পরের থেকে দূরে সরে যায়। উদাহরণ: ট্রাইসেপ্স পেশির সংকোচনে ভাঁজ করা হাত সোজা হয়।
অ্যাবডাকশনদেহ মধ্যরেখা থেকে কোনো দেহাংশ দূরে সরে যাওয়াকে বলে অ্যাবডাকশন। উদাহরণ: হাতের অ্যাবডাকশন বিচলন ডেলটয়েড পেশি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
অ্যাডাকশনদেহের কোনো অংশ দেহের মধ্যরেখার দিকে সঞ্চালিত হওয়াকে অ্যাডাকশন বলে। উদাহরণ: মানুষের হাতের অ্যাডাকশন বিচলন ল্যাটিসিমাস ডরসি এবং পেকটোরালিস মেজর পেশি দুটির সংকোচন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
রোটেশন বা ঘূর্ণনযখন একটি অস্থি একটি অনুদৈর্ঘ্য অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরতে পারে তখন সেই বিচলনকে রোটেশন বা ঘূর্ণন বলে। উদাহরণ: ঘাড়ে মাথার ঘূর্ণনে স্টারনোক্লিডোম্যাসটয়েড এবং স্পেনিয়াস ক্যাপিটিস নামক পেশিদ্বয় সাহায্য করে। পাইরিফরমিস পেশি ফিমারের আবর্তনে সাহায্য করে।
ফ্লেক্সনএক্সটেনশন
ফ্লেক্সন ও এক্সটেনশনদেহ মধ্যরেখা
অ্যাবডাকশনঅ্যাডাকশন
অ্যাবডাকশন ও অ্যাডাকশন

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel