৪.২ বেঁচে থাকার কৌশল— অভিযোজন
৪.২ বেঁচে থাকার কৌশল— অভিযোজন - WBBSE - Class 10 - বিজ্ঞান
4.2 বেঁচে থাকার কৌশল—অভিযোজন (Strategy to thrive—Adaptation) 🌿
এই অর্থে আমরা বিভিন্ন ধরনের অভিযোজন সম্বন্ধে জানব। প্রাকৃতিক পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য জীবের গঠন, কাজ ও আচরণের পরিবর্তনকে অভিযোজন বলে। কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে অভিযোজন হল জীবের আকার, আয়তন, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও আচরণের পরিবর্তনকে অভিযোজন।
4.2.1 🧠 আচরণ এবং অভিযোজন (Behaviour and Adaptation)
পরিবেশের কোনো ইঙ্গিত বা উদ্দীপকের প্রভাবে বা অন্য জীবের কাজের প্রতিক্রিয়ায় কোনো একটি জীব স্বায়ত্বতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণাধীনে যে ক্রিয়া করে সেটাই হল আচরণ। পরিবেশের এই ইঙ্গিত হতে পারে গন্ধ, শব্দ বা দৈনন্দিন কোনো সংকেত। আচরণ জীবের অস্তিত্ব রক্ষা ও জনন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। আচরণের ফল সুদূরপ্রসারী। জীবের অভিব্যক্তি ঘটতেও আচরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
📌 অভিযোজন ও অভিব্যক্তির সম্পর্ক: অভিযোজন হল অভিব্যক্তির অনেকগুলি কারণের মধ্যে অন্যতম। তবে সব অভিযোজনই প্রজাতির সৃষ্টি করে না। সাধারণত সুবিধাজনক অভিযোজনগুলি অভিব্যক্তির ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পারিপার্শ্বিক পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে ও অস্তিত্ব রক্ষা করতে জীবের আকার, আয়তন, গঠন, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও আচরণের পরিবর্তন ঘটাতে হয়। একে অভিযোজন বলে। অভিযোজন প্রতিদিনের ঘটনা নয়। বহু বছর ধরে জীবদেহে সংঘটিত পরিবর্তনগুলি প্রাকৃতিক উপায়ে নির্বাচিত হলে ক্রমশ তা ওই প্রজাতির সমস্ত জীবের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে জীবটিতে অভিযোজিত বৈশিষ্ট্যটি দেখা দেয়। অভিযোজন অভিব্যক্তি ঘটতে সাহায্য করে।
Image: ক্যাকটাস (Cactus)
অভিযোজনের কয়েকটি উদাহরণ 🌵
অভিযোজন মূলত তিন প্রকারের হয়, যথা—অঙ্গসংস্থানগত অভিযোজন, শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন এবং আচরণগত অভিযোজন। নিচে এদের সম্পর্কে আলোচনা করা হল।
[a] অঙ্গসংস্থানগত অভিযোজন (Morphological Adaptation) 🔬
পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য জীবের বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ গঠনের সুবিধাজনক, উন্নত ও স্থায়ী পরিবর্তনকে বলে অঙ্গসংস্থানগত অভিযোজন।
-
(i) ক্যাকটাসের অভিযোজন: মরু বা শুষ্ক অঞ্চলে অভিযোজিত উদ্ভিদের বলে জাঙ্গল উদ্ভিদ বা জেরোফাইট। এই অঞ্চলে কম জল পাওয়া যায়।
ক্যাকটাসের পাতায় বিভিন্ন অভিযোজন দেখা যায়। যেমন—
- অধিকাংশ ক্যাকটাসে পাতার সংখ্যা কম হয় এবং তা আকারে ছোটো হয়।
- বহু ক্যাকটাসে পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়। এর ফলে বাষ্পমোচনের মাধ্যমে জল নির্গমন রোধে ক্যাকটাস অভিযোজন দেখা যায়।
💡 সক্রিয়তা মূলক কাজ (Activity)
যদি একটি ক্যাকটাসকে সমতলভূমিতে রোপণ করা হয় তাহলে তার মধ্যে কী অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্যটি দেখতে পাবে?
💡 ছাত্র জীবনবিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি
(ii) 🐟 রুই মাছের পটকার অভিযোজন (Labeo rohita)
রুই মাছ একপ্রকার মিঠা জলের প্রাণী। জলে বসবাসের জন্য রুই মাছের দেহে একটি বিশেষ জলজ অভিযোজন দেখা যায়। এর অন্যতম হলো পটকা।
📌 পটকা (Swim Bladder): এটি রুই মাছের দেহের ভেতরের দিকের একটি শূন্যস্থান হিসেবে কাজ করে। এটি মাছের উদরগহ্বরের পৃষ্ঠদেশীয় মেরুদণ্ডের নিচে অবস্থিত।
পটকার বায়ু বা গ্যাসীয় উপাদান পরিবর্তন করে মাছের দেহের আপেক্ষিক গুরুত্ব পরিবর্তন করা যায়।
- উপরে ভাসার জন্য: পটকাটির অগ্রপ্রকোষ্ঠে অবস্থিত রেড গ্রন্থি নামক রক্তজালিকাময় পেশি গ্যাস উৎপাদন করে। গ্যাস উৎপাদিত হলে দেহের আপেক্ষিক গুরুত্ব কমে, ফলে মাছ জলের উপরিভাগে ভাসতে পারে।
- গভীরে ডুব দেওয়ার জন্য: জলের গভীরে ডুব দেওয়ার সময় পটকার পশ্চাৎপ্রকোষ্ঠে অবস্থিত মিরাবিলি নামক রক্তজালিকাপুঞ্জ গ্যাস শোষণ করে। গ্যাস শোষিত হলে দেহের আপেক্ষিক গুরুত্ব বাড়ে ও মাছটি জলের গভীরে যেতে পারে।
(iii) 🕊️ পায়রার বায়ুথলির অভিযোজন (Columba livia)
পায়রা একটি মুখ্য খেচর প্রাণী (এরিয়াল প্রাণী)। বায়ুতে ওড়ার জন্য পায়রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংস্থানিক অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য হলো বায়ুথলি।
- গঠন: এগুলি ব্রঙ্কাস বা শ্বাসনালী থেকে উৎপন্ন পাতলা পর্দাযুক্ত, পেশি ও রক্তজালিকাহীন শুষ্ক বায়ুপূর্ণ থলি।
- কার্যকারিতা:
- আকাশে ওড়ার জন্য প্রচুর শক্তি উৎপাদন এবং অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহের প্রয়োজন হয়। বায়ুথলি এই অতিরিক্ত শক্তি ও শ্বাসপ্রশ্বাস কার্যকে সহজ ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে।
- ফুসফুসের কার্যকরী ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- উড়ন্ত মুহূর্তে পায়রার দেহেশ্বরের আকার বৃদ্ধি পায়। এই বায়ুথলিগুলি বায়ুপূর্ণ হয়ে পায়রার দেহের আপেক্ষিক গুরুত্ব হ্রাস করে। এর ফলে পায়রা সহজে আকাশে ভেসে থাকতে সক্ষম হয়।
[b] 🌿 শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন (Physiological Adaptation)
📌 সংজ্ঞা: পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য জীবের শারীরবৃত্তীয় পদ্ধতির সুবিধাজনক, উন্নত ও স্থায়ী পরিবর্তনকে শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন বলে।
(i) 🌳 সুন্দরী গাছের লবণ সহনের অভিযোজন (Heritiera fomes)
- পরিবেশ: সমুদ্রের উপকূলবর্তী লবণাক্ত এবং কাদাময় জলাঞ্চলে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড (MgCl₂), ম্যাগনেসিয়াম সালফেট (MgSO₄) প্রভৃতি লবণ বেশি থাকে।
- চ্যালেঞ্জ: এই অঞ্চলের উদ্ভিদগুলি (হ্যালোফাইট উদ্ভিদ নামে পরিচিত) সহজে জল শোষণ করতে পারে না। এই মাটিতে জল শোষণ কম হয় বলে একে শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা বলে।
- অভিযোজন: এই মাটিতে জল শোষণ সুবিধাজনক না হওয়ায় সুন্দরী (Heritiera fomes) গাছে জল নির্গমনের জন্য নিম্নলিখিত শারীরবৃত্তীয় পদ্ধতিগুলির অভিযোজন দেখা যায়:
- মূলের অভিযোজন: এই অঞ্চলের মাটি লবণাক্ত হওয়ায় সুন্দরীর মূল মাটির রস...
🧬 অভিযুক্তি ও অভিযোজন 🌿
পৃষ্ঠা: 107
🌳 ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের অভিযোজন
ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদরা কর্দমাক্ত ও লবণাক্ত মাটিতে অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে বিশেষ অভিযোজন দেখায়।
- শ্বাসমূল (Pneumatophore) 🌱: ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের মাটিতে অক্সিজেন সরবরাহ কম থাকায়, এদের মূলের ডগা খাড়া উপরের দিকে উঠে আসে, যাকে শ্বাসমূল বলে। শ্বাসমূলের গায়ে শ্বাসছিদ্র বা নিউম্যাটোড থাকে, যা O₂ গ্রহণে সহায়তা করে।
- মূলের এপিডার্মিস: এদের মূলের ত্বক (এপিডার্মিস) পুরু হওয়ায় অভিস্রবণের মাধ্যমে অতিরিক্ত লবণ শোষিত হওয়া থেকে রক্ষা পায়।
- লবণ সঞ্চয় ও রেচন 🧂:
- গাছের শাখা-প্রশাখায় বিভিন্ন প্রকার কোষে অবস্থিত ভ্যাকুওলের মধ্যে অতিরিক্ত লবণ সঞ্চিত করে রাখে। সেই লবণ সহজে পাতা ঝরে পড়া ও কান্ডের মাধ্যমে মাটিতে নির্গত হয়ে যায়।
- পাতার অভিযোজন: জলাশয় থেকে গৃহীত অতিরিক্ত লবণ পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে অথবা প্রস্বেদনের সাহায্যে রেচিত হয়।
🐪 উটের অভিযোজন: মরুর জাহাজ
উট (Camelus dromedarius) মরু অভিযোজনের একটি আদর্শ উদাহরণ। জলক্ষয় সহনের জন্য উটের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্যগুলি হলো—
- তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ 🌡️: উটের দেহের তাপমাত্রা বাহ্যিক তাপমাত্রার সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং ঘাম ক্ষরণ রোধ করে। এমনকি 49 °C তাপমাত্রাতেও এদের দেহে প্রায় ঘাম উৎপন্ন হয় না।
- জলীয় বাষ্প পুনঃশোষণ 🌬️: নিঃশ্বাস ত্যাগের সময় যে জলীয় বাষ্প পরিত্যক্ত হয়, তা নাসাপথে বিন্যস্ত মিউকাস স্তর দ্বারা শোষিত হয়ে পুনরায় দেহে ফিরে আসে।
- চর্বি থেকে জল উৎপাদন 💧: উটের কুঁজে সঞ্চিত ফ্যাটের জারণ দ্বারা শক্তি ও জল উৎপন্ন হয়, যা এরা ব্যবহার করে।
- জল সঞ্চয় 🚰: উট প্রায় 36 লিটার জল পান করতে পারে এবং এই জল এরা পাকস্থলীতে সঞ্চিত করতে সক্ষম হয়।
- গাঢ় মূত্র ত্যাগ 🚽: উট গাঢ় মূত্র ত্যাগ করে, ফলে এদের দেহ থেকে জলের নির্গমন কম হয়।
📸 উটের কুঁজ: উটের কুঁজ হলো ফ্যাট সঞ্চয়ের প্রধান স্থান, যা উটকে শক্তি ও জল সরবরাহ করে মরুভূমিতে টিকে থাকতে সাহায্য করে।
🩸 উটের RBC-এর অভিযোজনগত পরিবর্তন
উট তার RBC (লোহিত রক্তকণিকা)-এর বিশেষ অভিযোজনগত পরিবর্তনের কারণে জলশূন্যতা ও জলস্ফীতি উভয় অবস্থাতেই টিকে থাকতে পারে। বহু প্রাণীর গোলাকার লোহিত রক্তকণিকা ফাটলমুক্তভাবে পরিবর্তিত হয়।
- জলস্ফীতি সহনশীলতা: দীর্ঘদিন জলপান না করার পর অধিক জলপানে RBC-র গল্ফীতিয়তা ফলে ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু উটের ক্ষেত্রে RBC আকারে প্রায় 240% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে সক্ষম (সাধারণ স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে যা মাত্র 150%)।
- ডিম্বাকার RBC 🥚: উটের RBC ডিম্বাকার হওয়ায় জলহীন অবস্থাতেও সহজে জলকণা দিয়ে সংবাহিত হতে সক্ষম।
💡 জেনে রাখো: উটের RBC-র প্লাজমা পর্দায় অভীধত (integral) প্রোটিনের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় পর্দাটি দৃঢ় হয়, ফলে অতিরিক্ত জল শোষণ করলেও তা ফেটে যায় না। এছাড়া, উটের RBC-তে হিমোগ্লোবিন ঘনত্বও অনেক বেশি থাকে, যা জলাভাব ও জলস্ফীতি উভয় ক্ষেত্রেই RBC-কে রক্ষা করে।
🐒 আচরণগত অভিযোজন
যখন কোনো প্রাণী তার পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়, তখন তাকে আচরণগত অভিযোজন বলে।
🧠 সমস্যা সমাধান: শিম্পাঞ্জি
শিম্পাঞ্জি (Pan troglodytes) অত্যন্ত উন্নত ও বুদ্ধিমান প্রাণী। তারা বিভিন্নভাবে তাদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধান করে থাকে।
- উইপোকা শিকার 🐜:
- শিম্পাঞ্জিরা সোজা এবং সরু গাছের ডাল ভেঙে নিয়ে সেই ডালের পাতাগুলি ছিঁড়ে ফেলে।
- সেই ডালটি উইয়ের টিপিতে ঢুকিয়ে গর্ত করে।
- এই ডালটিকে 'ফিশিং টুল' বলা হয়।
- এই সরু ডালটির মাধ্যমে উইপোকাগুলি সরিয়ে বাইরে বের করে আনে এবং খাদ্য হিসাবে ভক্ষণ করে।
- বাদামের খোলা ভাঙা 🌰: (বিস্তারিত তথ্য ছবিতে অনুপস্থিত)
🔬 জীবনবিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি (Class 10 Life Science & Environment)
🐵 শিম্পাঞ্জিদের আচরণ (Chimpanzee Behavior)
শিম্পাঞ্জিরা 🛠️ প্রাকৃতিক হাতুড়ি ও নেহাই ব্যবহার করে বাদামের খোলা ভাঙে। 📌 নেহাই হলো একটি শক্ত পাথরের পৃষ্ঠ, যেখানে তারা বাদাম রেখে গাছের ডাল বা পাথরকে হাতুড়ির মতো ব্যবহার করে আঘাত করে।
🖼️ শিম্পাঞ্জিদের বিভিন্ন কার্যকলাপ:
- শিম্পাঞ্জির 🐞 উপপোকা শিকার
- শিম্পাঞ্জির 🌰 বাদামের খোলা ভাঙা
- শিম্পাঞ্জির 🌿 ভেষজ পাতা খাওয়া
💊 ভেষজ ঔষধ ব্যবহার (Use of Medicinal Herbs):
শিম্পাঞ্জিরা যখন কোনো পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখন তারা ঔষধি গুণসম্পন্ন বিভিন্ন গাছের পাতা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। দেখা গেছে, তারা Aspilia rudis এবং আরও 19টি ভেষজ গাছের পাতা (যা খাদ্যযোগ্য) ব্যবহার করে।
🐝 মৌমাছিদের বার্তা আদানপ্রদান (Bee Communication)
মৌমাছি (Apis mellifera) হলো একটি সামাজিক পতঙ্গ। মৌমাছিদের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদানের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত উন্নত মানের। মূলত, 🕵️ স্কাউট নামক কর্মী মৌমাছিরা খাদ্যের সন্ধান পেলে মৌচাকে ফিরে আসে এবং একটি বিশেষ নৃত্য প্রদর্শন করে, যাকে মৌনৃত্য (Waggle Dance) বলে। এই নৃত্যের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে, ফোরেজার নামক কর্মী মৌমাছিগুলি খাদ্য সংগ্রহে বের হয়।
💡 স্কাউট মৌমাছিদের মৌনৃত্য থেকে ফোরেজাররা যে তথ্য জানতে পারে:
- 🍯 মৌচাক থেকে খাদ্যের উৎসের অভিমুখ।
- 📏 খাদ্যের উৎসের দূরত্ব।
- ✨ খাদ্যের গুণ।
খাদ্যের উৎসের দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে স্কাউট মৌমাছিদের দুটি প্রধান প্রকারের মৌনৃত্য দেখা যায়:
1. 🕺 ওয়্যাগল ডান্স (Waggle Dance)
- যদি খাদ্যের উৎস দূরে থাকে, তবে স্কাউট মৌমাছি মৌচাকে ফিরে এসে একটি বিশেষ নৃত্য পরিবেশন করে।
- এই নৃত্যের মহড়া ইংরেজি '8' (আট) সংখ্যার মতো দেখায়। একই সাথে তাদের উদরও আন্দোলিত হয়।
- এই নৃত্যকে ওয়্যাগল ডান্স (ওয়্যাগল অর্থাৎ আন্দোলন) বলা হয়। মৌমাছিটি কীভাবে এবং কতক্ষণ ধরে নাচছে তার ওপর ভিত্তি করে, অন্যান্য মৌমাছিরা মৌচাক ছেড়ে বেরিয়ে যায় এবং খাদ্যের উৎসের দিকে ধাবিত হয়।
খাদ্যের অবস্থান সূর্যের ডানদিকে 30° কোণেখাদ্যের অবস্থান সূর্যের বিপরীত দিকে
2. 🔄 রাউন্ড ডান্স (Round Dance)
- যদি খাদ্যের উৎস কাছে থাকে, তবে মৌমাছিরা ক্ষুদ্র বৃত্তাকারে নৃত্য শুরু করে এবং সরাসরি খাদ্য উৎসের দিকে ধাবিত হয়।
- একে রাউন্ড ডান্স বলে।
অভিযুক্তি ও অভিযোজন 🌿
CONTENT MANAGER