Academy

3.1 বংশগতি (Heredity) 🌱

3.1 বংশগতি (Heredity) 🌱 - WBBSE - Class 10 - বিজ্ঞান

0

জননের মাধ্যমে জনিত জীব থেকে যে অপত্য সৃষ্টি হয়, তার মধ্যে জনিত জীবের কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, কিছু রোগও বংশপরম্পরায় এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী কোনো প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। এই অধ্যায়ে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

3.1 বংশগতি (Heredity) 🌱

জননের দ্বারা জনিত জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হল বংশগতি। কীভাবে তা ঘটে থাকে? এই অংশে আমরা সে সম্বন্ধেই জানবো।

3.1.1 বংশগতি ও প্রকরণ (Heredity and variation) 🔄

একই পরিবারের সদস্যরা বয়সে পৃথক হলেও তাদের চেহারায়, অর্থাৎ উচ্চতা, দেহের গড়ন, চোখের মণির রং, চুলের প্রকৃতি ক্ষেত্রে বেশ মিল দেখা যায়। সন্তানের কিছু বৈশিষ্ট্য আবার বাবা-মার মতো হয় না। পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, যেমন- দাদু, দিদা, ঠাকুমা, কাকা, মামা, মাসি, পিসি এদের সাথেও কিন্তু কিছু বৈশিষ্ট্যের মিল পাওয়া যায়। অর্থাৎ, কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য এক বা একেব বেশি প্রজন্ম বাদ দিয়ে পরের প্রজন্মে প্রকাশ পায়।

বহু শতাব্দী আগে থেকেই এই বিষয়গুলি মানুষের মনকে আলোড়িত করেছে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ অবধি এইসব উত্তর ছিল অধরা। তারপর অস্ট্রিয়ার এক ধর্মযাজক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল পর পর বেশ কিছু সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে আবিষ্কার করেন এই পারিবারিক বৈশিষ্ট্যের ধারাবাহিক প্রকাশ বা বংশগতি কীভাবে কাজ করে।

📌 বংশগতি বা হেরিডিটি: জননের মাধ্যমে এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অনুক্রমিক সঞ্চারণকেই বংশগতি বা হেরিডিটি বলে।

বংশগতি সম্পর্কে জীববিজ্ঞানের যে শাখায় আলোচনা করা হয়, তাকে বলে বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (genetics)। মেন্ডেলকে বংশগতিবিদ্যার জনক বলা হয়।

Gregor Mendel - Father of Genetics

মেন্ডেল: বংশগতিবিদ্যার জনক

আধুনিক জেনেটিক্স আমাদের জানিয়েছে যে, ক্রোমোজোমের DNA-তে বিন্যস্ত জিন আমাদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। জিন একাকী স্বয়ম্ভূত নয়, অনেক ক্ষেত্রেই তারা সঙ্গে পরিবেশের আন্তঃক্রিয়ার ফলে জীবদেহে কোনো বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়। কখনো কখনো পরিবেশগত প্রভাবে বা অন্য কারণে ক্রোমোজোমের গঠন বা সংখ্যায় পরিবর্তন ঘটে। কখনও আবার DNA-এর গঠন বদলে যায়, ফলে জিনের গঠনও পরিবর্তিত হয়। ক্রোমোজোম বা জিনের সংখ্যা অথবা গঠনের এই পরিবর্তনগুলিই হল পারিবারিক বা মিউটেশন। এ ছাড়াও যৌন জননের সময় মিয়োসিসের ক্রসিং ওভার, ক্রোমোজোমের স্বাধীন বিন্যাস প্রভৃতি ঘটনার ফলে বাবা ও মায়ের জিনগত বৈশিষ্ট্য মিশ্রিত হয়ে নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত অপত্য তৈরি হয়। এইভাবে যৌন জনন ও পরিবৃষ্ট জীবের নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি ঘটায়, যাদের প্রকরণ বা ভ্যারিয়েশন বলে।


🧬 ছাত্র জীববিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি

বংশগতি: বংশগতিবিদ্যা সংক্রান্ত কিছু বিষয়

মানুষের ক্ষেত্রে প্রকারভেদ উদাহরণ: 🧑‍🤝‍🧑

মানুষের ক্ষেত্রে প্রকারভেদের কয়েকটি উদাহরণ হল—

💡 জিনোম (Genome): নির্দিষ্ট প্রজাতির জীবের দেহকোষে থাকা সকল জিনের সমষ্টিকে জিনোম বলে। মানুষের জিনোমে প্রায় 20,000-25,000 জিন রয়েছে।

[a] মুক্ত ও সংযুক্ত কানের লতি:

মানুষের কানের লতির নিম্নপ্রান্ত মুক্ত অথবা মুক্তদেহের সঙ্গে যুক্ত থাকে। দেখা গেছে যে, একজোড়া অটোসোমিয় প্রকট জিন মুক্ত কানের লতি সৃষ্টি করে। পক্ষান্তরে একজোড়া মিউটেসনযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিন সংযুক্ত কানের লতি সৃষ্টি করে। অর্থাৎ প্রকারভেদের ফলে মানুষের কানের লতিতে এই বাহ্যিক বৈচিত্র্য দেখা যায়।

  • মুক্ত কানের লতি: মুক্ত কানের লতি যাদের, তাদের কানের নিম্নপ্রান্ত মুখের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে না।
  • সংযুক্ত কানের লতি: সংযুক্ত কানের লতি যাদের, তাদের কানের নিম্নপ্রান্ত মুখের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।

(b) রোলিং ও স্বাভাবিক জিহ্বা: 👅

মানব পপুলেশনে প্রায় 65-81% ব্যক্তি জিভ পাকিয়ে রোল করতে পারে। বাকি ব্যক্তিরা জিভ প্যাঁচাতে অক্ষম। জিভ পোটেনস্লি হল একটি অটোসোমিয় প্রকট বৈশিষ্ট্য, যা দুটি প্রকট জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অন্যদিকে জিভ প্যাঁচাতে অক্ষম হওয়াটি প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য, যা নিয়ন্ত্রণ করে একজোড়া মিউটেসনযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে বৈচিত্র্যের কারণ হল প্রকরণ।

  • স্বাভাবিক জিহ্বা: যে জিহ্বা রোল করা যায় না।
  • রোলিং জিহ্বা: যে জিহ্বা পাকিয়ে রোল করা যায়।

3.1.2 🧬 বংশগতি সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের ব্যাখ্যা

(Explanation of some important terms related to heredity)

উপযুক্ত উদাহরণের সাহায্যে বংশগতি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলি নিচে ব্যাখ্যা করা হল।

  1. বৈশিষ্ট্য বা প্রলক্ষণ (Characteristics or trait): 📌 কোনো জীবের চরিত্রের (character) অন্তর্গত দুটি বিপরীত গুণকে বলে বৈশিষ্ট্য বা প্রলক্ষণ

    • উদাহরণ: মটর গাছের উচ্চতা চরিত্রটির অন্তর্গত দুটি বৈশিষ্ট্য বা প্রকরণ হল লম্বাবেঁটে। উচ্চতা চরিত্রটি একটি জিন নিয়ন্ত্রণ করে, ওই জিনের দুটি পৃথক অ্যালিল হল লম্বা হওয়ার জন্য T এবং বেঁটের জন্য t। অর্থাৎ প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে একটি করে অ্যালিল।
  2. অ্যালিল (Allele): 🧬 একই জিনের বিভিন্ন রূপগুলি হল অ্যালিল। বিজ্ঞানী বাটসন্ অ্যালিল নামকরণ করেন। একটি জিনের সব অ্যালিলগুলি ক্রোমোজোমের একটি নির্দিষ্ট স্থানে (লোকা সে) অবস্থান করে। জীবের সব অটোসোম বা দেহ-ক্রোমোজোমেরই সমসংস্থ বা হোমোলোপাস ক্রোমোজোম থাকে বলে প্রতিটি জিনের জন্য দুটি অ্যালিল থাকে।

    • উদাহরণ: মটর বীজের আকৃতি চরিত্রটি নিয়ন্ত্রণ করে দুটি বিপরীত অ্যালিল। এরা হল—RrR অ্যালিল গোলাকার বৈশিষ্ট্য ও r অ্যালিলটি কুঞ্চিত বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী।
  3. লোকাস (Locus): 📍 ক্রোমোজোমের যে নির্দিষ্ট স্থানে জিন বা তার অ্যালিলগুলি সমসংস্থ ক্রোমোজোমে R ও r অ্যালিলের অবস্থান করে, তাকে লোকাস বলে।

  4. বংশগতির একক (ফ্যাক্টর/জিন) (Unit of heredity (factor/gene)): মেন্ডেল-এর সময়ে জিন সম্বন্ধে কোনো


বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ

💡 বংশগতির একক বা উপাদানকে ফ্যাক্টর (Factor) বলা হত, যা বর্তমানে জিন (Gene) নামে পরিচিত। জিন ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট স্থান (লোকাস - Locus) এ অবস্থিত এবং একটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।

5. একসংকর জনন (Monohybrid cross) 🧬

'ক্রস' (Cross) শব্দটার অর্থ হল যৌন জনন (Sexual Reproduction), অর্থাৎ একটি পুরুষ জননকোষ ও স্ত্রী জননকোষের মিলন বা নিষেধকই হল ক্রস। কোনো প্রজাতির একটি চরিত্রের অন্তর্গত একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের বংশানুক্রমিক প্রকাশ দেখার জন্য ওই প্রজাতির পুরুষ ও স্ত্রী জীবের মধ্যে যৌন জনন ঘটানোকে একসংকর জনন বা মনোহাইব্রিড ক্রস (Monohybrid cross) বলে।

উদাহরণ: মটর গাছের ফুলের বর্ণ চরিত্রের অন্তর্গত দুটি বৈশিষ্ট্য হল বেগুনি বর্ণ এবং সাদা বর্ণ। বেগুনি বর্ণের ফুলবিশিষ্ট একটি মটর গাছ (VV) সঙ্গে সাদা বর্ণের ফুলবিশিষ্ট একটি মটর গাছের (vv) যৌন জনন ঘটানো হলে, তা হল একটি একসংকর জননের উদাহরণ। একে VV × vv দ্বারা প্রকাশ করা যায়।

6. দ্বিসংকর জনন (Dihybrid cross) 🧬

কোনো প্রজাতির দুটি চরিত্রের অন্তর্গত বিপরীত দুই জোড়া বৈশিষ্ট্যের বংশানুক্রমিক প্রকাশ দেখার জন্য ওই প্রজাতির পুরুষ ও স্ত্রী জীবের মধ্যে যে যৌন জনন ঘটানো হয়, তাকে দ্বিসংকর জনন বা ডাইহাইব্রিড ক্রস (Dihybrid cross) বলে।

উদাহরণ: মটর গাছের বীজের আকার ও বর্ণ চরিত্রের দুটি সাপেক্ষে বিশুদ্ধ হলদে-গোল বীজযুক্ত উদ্ভিদ (YYRR) ও বিশুদ্ধ সবুজ-কুঞ্চিত বীজযুক্ত উদ্ভিদের (yyrr) মধ্যে যৌন জনন ঘটানো হলে, তা হল দ্বিসংকর জননের উদাহরণ। একে YYRR × yyrr দ্বারা প্রকাশ করা যায়।

7. সমসংকর বা হোমোজাইগাস জীব (Homozygous organism) 🧐

একজোড়া সমসংস্থ ক্রোমোজোমে একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের অ্যালিল দুটি একইরকম হলে, ওই নির্দিষ্ট চরিত্রের সাপেক্ষে সেই জীবকে সমসংকর জীব বা হোমোজাইগাস জীব (Homozygous organism) বলে।

উদাহরণ: কোনো মটর গাছের উচ্চতা চরিত্রের দুটি অ্যালিলই যদি লম্বা বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী হয় (T, T) অথবা দুটি অ্যালিলই যদি বেঁটে বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী হয় (t, t), তবে সেই গাছকে ওই নির্দিষ্ট চরিত্রের সাপেক্ষে সমসংকর বা হোমোজাইগাস জীব (TT বা tt) বলা হয়।

8. বিষমসংকর বা হেটেরোজাইগাস জীব (Heterozygous organism) 🤯

একজোড়া সমসংস্থ ক্রোমোজোমে অবস্থিত একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের অ্যালিল দুটি ভিন্ন প্রকৃতির হলে, ওই নির্দিষ্ট চরিত্রের সাপেক্ষে সেই জীবকে বিষমসংকর জীব বা হেটেরোজাইগাস জীব (Heterozygous organism) বলে।

উদাহরণ: কোনো মটর গাছের উচ্চতা চরিত্রের দুটি অ্যালিল যদি যথাক্রমে লম্বা বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী (T) এবং বেঁটে বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী (t) হয়, তবে সেই গাছকে ওই চরিত্রের জন্য হেটেরোজাইগাস জীব (Tt) বলা হয়।

9. সংকরায়ণ (Hybridisation) 🧪

কোনো চরিত্রের সাপেক্ষে বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত দুটি জীবের যৌন জনন বা প্রজননকে সংকরায়ণ (Hybridisation) বলে। একটি চরিত্রের সাপেক্ষে জীবের সংকরায়ণকে বলে একসংকরায়ণ, পক্ষান্তরে দুটি চরিত্রের সাপেক্ষে জীবের সংকরায়ণকে বলে দ্বিসংকরায়ণ

উদাহরণ: একটি একসংকরায়ণের উদাহরণ হল, শর্করার বর্ণ চরিত্রের সাপেক্ষে সবুজ মটর গাছের মটর গাছ (GG) ও হলদে মটর গাছের মটর গাছ (gg)-এর প্রজনন (GG × gg)।

10. বিশুদ্ধ বা খাঁটি জীব (Pure organism) ✨

কোনো জীব যদি বংশানুক্রমে কোনো বৈশিষ্ট্য হুবহু একইরকম বজায় রাখে, তখন সেই বৈশিষ্ট্যের জন্য জীবটিকে বিশুদ্ধ বা খাঁটি জীব (Pure organism) বলা হয়।

উদাহরণ: মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষায় জনিতৃ লম্বা (TT) ও বেঁটে (tt) মটর গাছ বিশুদ্ধ উদ্ভিদ।

উল্লেখ্য: বিশুদ্ধতার প্রধান শর্ত হল সমসংস্থ ক্রোমোজোমে একটি চরিত্রের জন্য উপস্থিত দুটি অ্যালিলই একইরকম হতে হবে (একক্ষেত্রে, T এবং T অথবা t এবং t)।

💡 জ্ঞান-কোষ-বিকাশ (Knowledge Expansion)

  1. মেন্ডেল ও ফ্র্যাঙ্কলিন মানুষের মিলনের ফলে জ্যামিত সংকর সন্তানকে মিউলাটোন (Mulatto) বলে, যার অর্ধেকবর্ণ তার পিতা ও মাতার বর্ণের মাঝামাঝি উজ্জ্বলতার হয়।
  2. ঘোড়া ও গাধার মিলনে সৃষ্ট খচ্চর (Mule) হল একটি প্রকৃষ্ট প্রাণী।

ছাত্র জীবনবিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি 📚

72

11. সংকর জীব (Hybrid organism) 🧬

দুটি বিশুদ্ধ বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের যৌন জনন বা পরনিষেকের ফলে উৎপন্ন জীবটিকে সংকর জীব বলা হয়।

উদাহরণ: বিশুদ্ধ বেগুনি ফুলযুক্ত (VV) এবং বিশুদ্ধ সাদা ফুলযুক্ত (vv) মটর গাছের সংকরায়ণের ফলে সৃষ্ট বেগুনি ফুলযুক্ত মটরগাছ (Vv)।

উল্লেখ্য: সংকর জীবে সমসংস্থ ক্রোমোজোমে একটি চরিত্রের নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়ী দুটি অ্যালিল পৃথক প্রকৃতির হয় (এক্ষেত্রে, Vv)।

12. জনিত্র জনু (Parental generation) 👨‍👩‍👧‍👦

সংকরায়ন পরীক্ষায় শুরুতেই যে দুটি জীব নিয়ে প্রজনন করানো হয়, তাদের জনিত্র জনু বলে।

জনিত্র জনুকে P জনু (P = parental) বলে সূচিত করা হয়।

উদাহরণ: একটি একসংকর জনন পরীক্ষায় জনিত্র জনু হল বিশুদ্ধ বেগুনি ফুলবিশিষ্ট মটর গাছ (VV) এবং বিশুদ্ধ সাদা ফুলবিশিষ্ট মটর গাছ (vv)। (নমুনা ক্রসটি লক্ষণীয়)।

13. প্রথম অপত্য জনু (F1 জনু) [First filial generation (F1 generation)] 🌿

সংকরায়ন পরীক্ষায় জনিত্র জনু থেকে উৎপন্ন নতুন জীবগুলিকে প্রথম অপত্য জনু বা F1 জনু (F1 = first filial) বলে চিহ্নিত করা হয়।

উদাহরণ: বিশুদ্ধ বেগুনি ফুলবিশিষ্ট (VV) ও বিশুদ্ধ সাদা ফুলবিশিষ্ট (vv) জনিত্র জনু থেকে উৎপন্ন সংকর বেগুনি ফুলবিশিষ্ট (Vv) সমস্ত মটর গাছই হল প্রথম অপত্য জনু (নমুনা ক্রসটি লক্ষণীয়)।

14. দ্বিতীয় অপত্য জনু (F2 জনু) [Second filial generation (F2 generation)] 🌱

সংকরায়ন পরীক্ষায় প্রথম অপত্য জনুর প্রজনন (স্ব-পরাগায়ন বা ইতর পরাগায়ন বা নিষেক)-এর ফলে সৃষ্ট নতুন জীবগুলিকে দ্বিতীয় অপত্য জনু বা F2 জনু (F2 = second filial) বলে।

উদাহরণ: বিশুদ্ধ বেগুনি (VV) ফুলযুক্ত এবং বিশুদ্ধ সাদা (vv) ফুলযুক্ত জনিত্র জনুর সংকরায়ণের ফলে প্রাপ্ত F1 জনুর সংকর বেগুনি ফুলযুক্ত (Vv) মটর গাছগুলির স্ব-পরাগায়ন ঘটানো হয়। এর ফলে উৎপন্ন বেগুনি এবং সাদা ফুলযুক্তগুলিই হল F2 জনু (নমুনা ক্রসটি লক্ষণীয়)।

15. প্রকট বৈশিষ্ট্য (Dominant character) 👑

একই চরিত্রের দুটি বিশুদ্ধ বিপরীত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সংকরায়ন ঘটালে প্রথম অপত্য জনুতে যে বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ পায়, তাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে।

উদাহরণ: বিশুদ্ধ বেগুনি ও বিশুদ্ধ সাদা ফুলযুক্ত মটর গাছের ফুলের পরাগরেণু ঘটানো F1 জনুতে সৃষ্ট সকল গাছ বেগুনি ফুলবিশিষ্ট হয়, অর্থাৎ মটর গাছের ফুলের বেগুনি বর্ণ হল প্রকট বৈশিষ্ট্য।


⭐ রোমান সৌন্দর্যদেবী ভেনাস-এর আয়নার প্রতীক হল ♀ যা স্ত্রী-লিঙ্গের প্রতীকস্বরূপে ব্যবহৃত হয়। পক্ষান্তরে, রোমান যুদ্ধের দেবতা মার্স-এর ঢাল ও বল্লম প্রতীক ♂ পুং-লিঙ্গের প্রতীকস্বরূপে ব্যবহৃত হয়।


কিছু অপ্রকাশিত এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ

16. প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য (Recessive character)

📌 একই চরিত্রের দুটি বিপরীত বৈশিষ্ট্যের ক্রস F₁ জনুতে যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত না হয়ে সুপ্ত থাকে এবং পরে F₂ জনুতে পুনরায় তা প্রকাশিত হয়, তাকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলা হয়। উদাহরণ: বিশুদ্ধ বেগুনী ফুলযুক্ত মটর গাছ ও বিশুদ্ধ সাদা ফুলযুক্ত মটর গাছের ক্রস F₁ জনুতে সাদা ফুলযুক্ত উদ্ভিদ পাওয়া যায় না, F₂ জনুতে যদিও তা আবার প্রকাশিত হয়। এক্ষেত্রে মটর গাছের ফুলের সাদা বর্ণ হল প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য।

17. ফিনোটাইপ (Phenotype)

💡 কোনো জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বাহ্যিক প্রকাশকে বলে ফিনোটাইপ। উদাহরণ: একসংকর জনন পরীক্ষায় বিশুদ্ধ বেগুনী ফুলযুক্ত ও বিশুদ্ধ সাদা ফুলযুক্ত মটর গাছের ক্রস ফুলের রং দুটি হল দুই প্রকার ফিনোটাইপ।

18. জিনোটাইপ (Genotype)

🧬 কোনো জীবের একটি চরিত্রের জিনগত গঠনকে অ্যালেল সময় দ্বারা প্রকাশ করলে তাকে জিনোটাইপ বলে। উদাহরণ: একসংকর জনন পরীক্ষায় বিশুদ্ধ বেগুনী ফুলযুক্ত ও বিশুদ্ধ সাদা ফুলযুক্ত মটর গাছের ক্রসে রঙের সাপেক্ষে ফুলের গাছদুটির জিনোটাইপ হল যথাক্রমে VV এবং vv।

জিনোটাইপ এবং ফিনোটাইপের আন্তঃসম্পর্ক:

  1. একাধিক জিনোটাইপ অনেকসময় একটি ফিনোটাইপকেই সূচিত করে। যেমন—TT এবং Tt জিনোটাইপ দুটি লম্বা ফিনোটাইপকে বোঝায়।
  2. সাধারণত একটি জিনোটাইপ একটি নির্দিষ্ট ফিনোটাইপকেই সূচিত করে থাকে। যেমন—Tt জিনোটাইপ কেবলমাত্র মটর গাছের লম্বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।

3.13 🧪 মটর গাছের উপর মেন্ডেলের কাজ (Mendel's work on pea plant)

বংশগতি-সংক্রান্ত সংকরায়ণ পরীক্ষায় মেন্ডেল মটর গাছ (Pisum sativum) নিয়ে কাজ করেন। তিনি মটর গাছের সাত জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য বেছে নেন যেগুলি খালি চোখে স্পষ্টভাবে পার্থক্য করা যায়। সংকরায়ণের সময় তিনি যে সকল ধাপে ইতর পরাগযোগ ঘটান, সেগুলি হল—

💡 জানো কি? মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষার জন্য কেন মটর গাছ নির্বাচন করেন?

  1. মটর গাছে সহজে 20-30 জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য সুস্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায়।
  2. মটর গাছের জীবনচক্র সংক্ষিপ্ত (2-3 মাস) হওয়ায় কম সময়ে অনেক জনু চাষ করা সম্ভব হয়ে থাকে।
  3. মটর ফুল উভলিঙ্গ হওয়ায় স্বপরাগযোগ হয় ও সহজেই ইতর পরাগযোগ ঘটানো যায়।
  • (i) মেন্ডেল ইতর পরাগযোগের সময় বেগুনী ফুলযুক্ত একটি মটর গাছের সব বেগুনী ফুলের পুংকেশর (পরাগরেণু পরিণত হওয়ার আগেই) কাঁচি দিয়ে কেটে দেন। একে বলে ইমাসকুলেশন বা পুংবন্ধ্যাকরণ। ফলে সেই ফুলগুলিতে স্বপরাগযোগ সম্ভব হয় না। এরপর ফুলগুলিকে তিনি ব্যাগ দিয়ে মুড়ে দেন। একে বলে ব্যাগিং। এর ফলে অনভিপ্রেত ও অবাঞ্ছিত ইতর পরাগযোগ রোধ করা যায়।
  • (ii) এরপর বিপরীত বৈশিষ্টযুক্ত, অর্থাৎ সাদা ফুলযুক্ত একটি মটর গাছের ফুল থেকে পরাগরেণু তুলির সাহায্যে তুলে এনে বেগুনী ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থাপন করেন।
  • (iii) আবার, একইভাবে তিনি একটি মটর গাছের সব সাদা ফুলের পুংকেশর বাদ দেন ও বেগুনী ফুলের পরাগরেণু নিয়ে পুংকেশরহীন সাদা ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থাপন করেন।
  • (iv) এই রেসিপ্রোক্যাল ক্রসের ফলে উৎপন্ন মটরগাছি চারা করে তিনি F₁ জনুতে সব বেগুনী ফুলযুক্ত মটর গাছ পান।
  • (v) উৎপন্ন সমস্ত মটর গাছের বৈশিষ্ট্য তিনি লিপিবদ্ধ করেন ও সংখ্যাতত্ত্বের সম্ভাবনা সূত্র দ্বারা তার

📖 ছায়া জীববিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি (Page 74)

(This section appears to be a continuation of an observation and experimentation discussion.)

মেন্ডেলের ইতর পরাগযোগের পরীক্ষা 🧪

(Diagram showing Mendel's cross-pollination experiment)

  1. বেগুনি ফুল থেকে পুংকেশর অপসারণ
  2. সাদা ফুলের পুংকেশর থেকে বেগুনি ফুলের গর্ভপত্রে পরাগরেণু স্থানান্তরকরণ
  3. নিষিক্ত গর্ভপত্র থেকে উৎপন্ন শুঁটি
  4. শুঁটির বীজগুলি রোপণ

Labels: সাদা (White), পুংকেশর (Stamen), গর্ভপত্র (Pistil/Carpel), জণিত (P - Parent), বেগুনি (Purple), অপত্য (F₁ - Offspring)


💡 জেনে রাখো

  • (i) মেন্ডেল প্রায় 30,000 মটর গাছ নিয়ে পরীক্ষা করেন।
  • (ii) মেন্ডেল দীর্ঘ 8 বছর সময়কাল ধরে বিভিন্ন পরীক্ষাগুলি করেছিলেন। এরপর 1865 সালে তাঁর গবেষণা প্রকাশ করেন। প্রায় 30 বছর পর তাঁর প্রকাশিত বিশ্লেষণ সকলের সামনে আসে ও তা খ্যাতি লাভ করে।
  • (iii) বংশগতি সম্পর্কিত মৌলিক সূত্র প্রদান করেছিলেন বলে মেন্ডেলকে বংশগতিবিদ্যার জনক (Father of Genetics) বলা হয়।

3.1.4 🔬 মেন্ডেলের সাফল্যলাভের কারণসমূহ (Reasons behind Mendel's success)

সংকরায়ণ পরীক্ষায় মেন্ডেলের সাফল্যলাভের কারণগুলি হল—

  1. (i) খাঁটি মটর গাছ তৈরি: মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষায় নির্দিষ্ট চরিপের খাঁটি মটর গাছ তৈরিতে সক্ষম হন। তিনি দুই বছর অনবরত মটর গাছ চাষ ও নির্বাচন দ্বারা এই গাছগুলি তৈরি করেন।
  2. (ii) আলাদা ক্রোমোজোমে জিনের বিন্যাস: মেন্ডেল দ্বারা নির্বাচিত সাত জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের জিনগুলি আলাদা ক্রোমোজোমে বিন্যস্ত ছিল। সেকারণে তিনি স্বাধীন বিন্যাসের সঠিক অনুপাত পেতে সক্ষম হন।
  3. (iii) সরল গবেষণা পদ্ধতি: মেন্ডেল সাত জোড়া বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করলেও একসঙ্গে তিনি কেবল এক বা দুই জোড়া বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরীক্ষা করেন। ফলে তথ্যসংগ্রহ ও বিশ্লেষণ সরল হওয়ায় তাঁর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সুবিধা হয়।
  4. (iv) মটর গাছের সুবিধা: মটর গাছ সহজে চাষযোগ্য, দ্রুত প্রজননক্ষম, উভলিঙ্গ ফুলবিশিষ্ট, স্ব-পরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের ক্ষমতাসম্পন্ন এবং অনেকগুলি স্পষ্ট বিপরীত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যযুক্ত হওয়ায় মেন্ডেলের পরীক্ষায় সুবিধা হয়।
  5. (v) বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নিয়ন্ত্রণ: মেন্ডেল বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরীক্ষাগুলি করেন। যেমন—তিনি রেসিপ্রোকাল ক্রস দ্বারা প্রচুর অপত্য তৈরি করেন যা সঠিক অনুপাত নির্ণয়ে সাহায্য করে। তিনি সমস্ত পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ করেন ও তা সংখ্যাগত বিশ্লেষণের সাহায্যে বিশ্লেষণ করেন। তিনি পরীক্ষাক্ষেত্রে বহিরাগত অবাঞ্ছিত পরাগ দ্বারা নিষেক প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।

📚 ছায়া জীববিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি

(Page 74)

(...Observation and analysis. (vi) Similarly, he performed hybridization experiments on pea plants for other contrasting traits.)

🧑‍🔬 মেন্ডেলের ইতর পরাগযোগের পরীক্ষা

This diagram illustrates Mendel's cross-pollination experiment:

  • পুককেশর (Stamen)
  • পরাগরেণু (Pollen grain)
  • 1️⃣ সাদা ফুলের পুককেশর থেকে বেগুনি ফুলের গর্ভপত্রে পরাগরেণুর স্থানান্তরকরণ: Transfer of pollen grains from the stamen of a white flower to the pistil of a purple flower.
  • 2️⃣ বেগুনি ফুল থেকে পুককেশর অপসারণ: Removal of stamens from a purple flower.
  • গর্ভপত্র (Pistil)
  • জনিত (P) (Parental (P))
  • 3️⃣ নিষিক্ত গর্ভপত্র থেকে উৎপন্ন মটরশুঁটি: Pea pod developed from fertilized pistil.
  • 4️⃣ শুটির বীজগুলি রোপণ: Planting the seeds from the pod.
  • অপত্য (F₁) (Offspring (F₁))

📌 জেনে রাখো (Know This!)

Here are some interesting facts about Mendel's experiments:

  • (i) Mendel experimented with approximately 30,000 pea plants! 🧑‍🌾
  • (ii) He conducted various experiments for a long 8-year period. His research was published in 1865. About 30 years later, his published analysis gained widespread recognition and fame. 🌍
  • (iii) Because he formulated the fundamental principles related to heredity, Mendel is famously known as the Father of Genetics. 🧬
  • (iv) Pea plants offered several advantages for Mendel's experiments: they are easy to cultivate, reproduce quickly, have hermaphrodite flowers, are capable of both self-pollination and cross-pollination, and possess many clear contrasting traits. 🌱
  • (v) Mendel conducted experiments with a highly scientific approach. For instance:
    • He produced abundant offspring through reciprocal crosses, which helped in determining accurate ratios. 📊
    • He recorded all observations meticulously and analyzed them using statistics. 📝
    • He took necessary measures to prevent unwanted external pollen from fertilizing in the experimental field, ensuring the purity of his crosses. 🛡️

3.1.4 💡 মেন্ডেলের সাফল্যলাভের কারণসমূহ (Reasons behind Mendel's Success)

The key reasons for Mendel's remarkable success in his hybridization experiments were:

  1. Pure Line Development: Mendel successfully produced pure pea plants of specific traits in his experiments. He achieved this by continuously cultivating and selecting these plants for two years, ensuring genetic purity. 🌱
  2. Independent Assortment: The genes for the seven pairs of contrasting traits selected by Mendel were conveniently arranged on different chromosomes. This crucial fact allowed him to accurately observe and deduce the principles of independent assortment. 🧬
  3. Focused Analysis: Although Mendel researched seven pairs of traits, he strategically chose to experiment with only one or two pairs at a time. This simplification made data collection and analysis straightforward, significantly aiding him in reaching clear conclusions. 🧐
  4. Ideal Plant Choice: Pea plants (Pisum sativum) proved to be an excellent choice for his experiments due to several characteristics:
    • They are easy to cultivate. 🧑‍🌾
    • They reproduce quickly. ⏱️
    • They have hermaphrodite flowers. 🌸
    • They are capable of both self-pollination and cross-pollination. 🦋
    • They possess many clear, contrasting traits. ✅
  5. Rigorous Scientific Methodology: Mendel adopted a meticulous scientific approach throughout his experiments:
    • He performed reciprocal crosses to generate numerous offspring, which helped in determining precise ratios. 🔄
    • He meticulously recorded all observations and subjected them to thorough statistical analysis. 📈
    • He implemented essential safeguards to prevent unwanted external pollen from contaminating his experimental plants, thus maintaining the integrity of his results. 🚫

বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ

3.1.5 🧬 মেন্ডেল দ্বারা নির্বাচিত সাত জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য (Seven pairs of contrasting characters selected by Mendel)

মেন্ডেল কর্তৃক নির্বাচিত মটর গাছের সাত জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য সারসংক্ষেপ আকারে দেখানো হল। এইগুলি মটর গাছের সাত জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য বা প্রকরণ

চরিত্র (Character)প্রকট (Dominant)প্রচ্ছন্ন (Recessive)
1. গাছের দৈর্ঘ্য (Plant height) (ক্রোমোজোম 4)লম্বা ⬆️বেঁটে ⬇️
2. কাণ্ডে ফুল এবং ফলের অবস্থান (Flower and pod position on stem) (ক্রোমোজোম 4)কাক্ষিক 🌿শীর্ষস্থ 🌸
3. ফলের আকৃতি (Pod shape) (ক্রোমোজোম 4)স্ফীত 🟢খাজযুক্ত 🤏
4. ফলের রং (Pod color) (ক্রোমোজোম 5)সবুজ 💚হলুদ 💛
5. ফুলের রং (Flower color) (ক্রোমোজোম 1)বেগুনি 💜সাদা ⚪
6. বীজের আকৃতি (Seed shape) (ক্রোমোজোম 7)গোল 🌕কুঞ্চিত 🌑
7. বীজের রং (Seed color) (ক্রোমোজোম 1)হলুদ 🟡সবুজ 🟢

3.1.6 🧪 মেন্ডেলের পরীক্ষা এবং মেন্ডেলের সূত্র (Mendel's experiments and laws)

মটর গাছের ওপর মেন্ডেলের একসংকর ও দ্বিসংকর পরীক্ষা এবং সেগুলির ফলাফল থেকে পাওয়া সূত্রাবলি সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল। এ ছাড়া প্রাণীর ক্ষেত্রেও ওই পরীক্ষাগুলির ফলাফলও আলোচিত হল।

মেন্ডেলের মোনোহাইব্রিড ক্রস বা একসংকর জননের পরীক্ষা (Mendel's experiment of monohybrid cross):

মেন্ডেল মটর গাছের সাত জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের বংশানুক্রমিক প্রকাশ দেখার জন্য পৃথকভাবে এক একটি চরিত্র নিয়ে তার অন্তর্গত একজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের সাপেক্ষে একসংকর জননের পরীক্ষা করেন। উদাহরণ হিসেবে মটর গাছের দৈর্ঘ্য চরিত্রটির সাপেক্ষে লম্বা ও বেঁটে বৈশিষ্ট্য দুটি কী অনুপাতে পরপর অপত্য জনুগুলিতে তিনি পেয়েছিলেন তা আলোচনা করা হল। পরীক্ষার পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল এখানে ক্রস ও চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখানো হল।

[a] পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ:

মেন্ডেল বিশুদ্ধ লম্বা বৈশিষ্ট্যযুক্ত একটি লম্বা মটর গাছ (TT)-এর সঙ্গে বিশুদ্ধ বেঁটে বৈশিষ্ট্যযুক্ত একটি বেঁটে মটর গাছ (tt)-এর ইতর পরাগযোগ ঘটান। প্রথম অপত্য (F₁) জনুতে সকল মটর গাছ লম্বা (সংকর লম্বা—Tt) হয়। এরপর F₁ জনুতে উৎপন্ন মটর...

📌 **P জনু (P generation):** বিশুদ্ধ লম্বা (Pure Tall) (TT) ✖️ বিশুদ্ধ বেঁটে (Pure Dwarf) (tt)
   ➡️ **গ্যামেট (Gametes):** (T)  (t)
   ➡️ *ইতর পরাগযোগ (Cross-pollination)*

📌 **F₁ জনু (F₁ generation):** সংকর লম্বা (Heterozygous Tall) (Tt)
   ➡️ *স্বপরাগযোগ (Self-pollination)*
   ➡️ **গ্যামেট (Gametes):** (T) (t) ✖️ (T) (t)

76. ছায়া জীববিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি

পাশের স্বপরাগায়ন ঘটানো হলে দ্বিতীয় অপত্য (F2) জনুতে তিন ভাগ লম্বা এবং এক ভাগ বেঁটে (tt) মটর গাছ সৃষ্টি হয়। লম্বা গাছগুলির মধ্যে আবার একভাগ বিশুদ্ধ লম্বা (TT) ও দুই ভাগ সংকর লম্বা (Tt) প্রকৃতির ছিল। উদ্দেশ্য, এক্ষেত্রে লম্বা ও বেঁটে বৈশিষ্ট্যের অ্যালিল যথাক্রমে Tt দ্বারা প্রকাশ করা হয়। T অ্যালিল, t অ্যালিলের ওপর প্রকট।

📝 F2 জনুর চেকার বোর্ড

♀️/♂️Tt
TTT (লম্বা)Tt (লম্বা)
tTt (লম্বা)tt (বেঁটে)

📈 F2 জনুতে প্রাপ্ত মটর গাছের বৈশিষ্ট্য

ফিনোটাইপজিনোটাইপজিনোটাইপিক অনুপাতফিনোটাইপিক অনুপাত
লম্বাTT13
Tt2
বেঁটেtt11

🧑‍🔬 সক্রিয়মূলক কাজ

তোমার পরিচিত একটি উদ্ভিদ ও একটি প্রাণীকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করো। তারপর তাদের প্রত্যেককের ক্ষেত্রে পাঁচ জোড়া করে বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করে একটি তালিকা তৈরি করো।

💡 [b] সিদ্ধান্ত:

মটর গাছের একসংকর জনন পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে মেন্ডেল তাঁর প্রথম সূত্রটি প্রণয়ন করেন। নীচে এই সূত্রটি বিবৃত করা হল।

📌 মেন্ডেলের প্রথম সূত্র বা পৃথকীভবন সূত্র (Mendel's first law or law of segregation): কোনো জীবের একটি চরিত্রের অন্তর্গত এককজোড়া ভিন্ন বৈশিষ্ট্য তার পরবর্তী জনুতে গিয়ে গুণগতভাবে মিশ্রিত না হয়ে পৃথকভাবে অবস্থান করে এবং জননকোষ গঠনকালে তারা পুনরায় পরস্পরের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক হয়ে যায়।

🧪 প্রাণীর একসংকর জনন পরীক্ষা (Monohybrid cross in animal)

বিভিন্ন প্রাণীর ক্ষেত্রে একসংকর জনন ঘটলে মেন্ডেলের সূত্রের স্বপক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়। এখানে গিনিপিগের ওপর একসংকর জননের পরীক্ষাটি আলোচনা করা হল। এক্ষেত্রে বিবেচ্য চরিত্রটি হল গায়ের লোমের বর্ণ এবং সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্য দুটি হল কালো বর্ণসাদা বর্ণের লোম

(চিত্র: সাদা ও কালো লোমযুক্ত গিনিপিগ)

[a] পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ: একটি বিশুদ্ধ কালো লোমযুক্ত (BB) গিনিপিগের সঙ্গে একটি বিশুদ্ধ সাদা লোমযুক্ত (bb) গিনিপিগের সংকরায়ণ ঘটানো হলে F1 জনুতে সব গিনিপিগ কালো (সংকর কালো—Bb) লোমযুক্ত হয়। F1 জনুর যে কোনো দুটি পুরুষ ও স্ত্রী সংকর গিনিপিগের মধ্যে জনন ঘটানো হলে F2 জনুতে সৃষ্ট গিনিপিগের তিন ভাগ কালো ও এক ভাগ সাদা (bb) হয়। আবার কালো গিনিপিগগুলির মধ্যে এক ভাগ বিশুদ্ধ কালো (BB) ও দুই ভাগ সংকর কালো (Bb) হয়। উদ্দেশ্য, এক্ষেত্রে কালো ও সাদা বর্ণের জন্য দায়ী অ্যালিল দুটিকে যথাক্রমে Bb দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং B অ্যালিল, b অ্যালিলের ওপর প্রকট।


F2 জনুর চেকার বোর্ড 🧪

Q(B)(b)
BBB (কালো)Bb (কালো)
bBb (কালো)bb (সাদা)

F2 জনুতে প্রাপ্ত ফিনোটাইপের বৈশিষ্ট্য 📈

ফিনোটাইপজিনোটাইপজিনোটাইপিক অনুপাতফিনোটাইপিক অনুপাত
কালোBB13
কালোBb2
সাদাbb11

[b] সিদ্ধান্ত: পরীক্ষার পর্যবেক্ষণ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় যে, এই পরীক্ষার ফলাফল মেন্ডেলের একসংকর পরীক্ষার ফলাফলের অনুরূপ। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে মেন্ডেলের প্রথম সূত্রটি অনুসৃত হয়েছে।

মেন্ডেলের ডাইহাইব্রিড ক্রস বা দ্বি-সংকর জননের পরীক্ষা (Mendel's experiment of dihybrid cross) 🧬

💡 জেনে রাখো: মেসোসিয়ান চরিত্র বলতে একটি একক লোকাস নিয়ন্ত্রিত চরিত্রকে বোঝায়। মটর গাছ, গিনিপিগ ছাড়া মানুষেও মেসোসিয়ান চরিত্র দেখা যায়। যেমন—সিকল সেল অ্যানিমিয়া

মেন্ডেল মটর গাছের সাতটি উল্লিখিত চরিত্রের মধ্যে দুটি করে চরিত্রের অন্তর্গত দুটি জড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ পর্যবেক্ষণ করতে একসংকর সংকরায়ন পরীক্ষা করেন। এখানে উদাহরণ হিসেবে দুটি চরিত্র নেওয়া হল তার প্রথমটি বীজের বর্ণ, যা অপ্রকট বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য দুটি হল বীজের বর্ণ হলুদসবুজ রং। দ্বিতীয় চরিত্রটি হল বীজের আকৃতি, যা অপ্রকট বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য দুটি হল বীজের গোলাকারকুঞ্চিত আকৃতি।

  • (ক) হলদে-গোল মটর (Yellow-round pea)
  • (খ) সবুজ-কুঞ্চিত মটর (Green-wrinkled pea)

[a] পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ: 🔬

মেন্ডেল একটি বিশুদ্ধ হলদে-গোল বীজযুক্ত মটর গাছ (YYRR) ও একটি বিশুদ্ধ সবুজ-কুঞ্চিত বীজযুক্ত মটর গাছ (yyrr)-এর মধ্যে ইতর পরাগযোগ ঘটান। এর ফলে প্রথম অপত্য (F1) জনুতে সৃষ্ট সকল মটর গাছ হলদে-গোল বীজযুক্ত (সংকর—YyRr) হয়। F1 জনুতে সৃষ্ট গাছের অ্যালিল জোড়া (YyRr) পৃথক পৃথক সমসংস্থ ক্রোমোজোমে অবস্থান করায় প্রতিটি গাছ থেকে চার প্রকার গ্যামেট (YR, Yr, yRyr) সৃষ্টি হয়। এইরূপ একটি গাছের স্ব-পরাগযোগ ঘটানো হলে চার প্রকার পুংগ্যামেট এবং চার প্রকার স্ত্রীগ্যামেটের সম্ভাব্য সংযুক্তি 4 × 4 = 16 প্রকারের হয় এবং দ্বিতীয় অপত্য (F2) জনুতে হলদে-গোল, হলদে-কুঞ্চিত, সবুজ-গোলসবুজ-কুঞ্চিত বীজযুক্ত মটর গাছ যথাক্রমে 9 : 3 : 3 : 1 অনুপাতে জন্মায়। এক্ষেত্রে 9 প্রকারের জিনোটাইপ-যুক্ত অপত্য গাছ 1:2:2:4:1:2:1:2:1 অনুপাতে জন্মায় যা পরে সারনির আকারে দেখানো হল। উল্লেখ্য, গোল ও কুঞ্চিত বীজ হওয়ার অ্যালিল যথাক্রমে Rr দ্বারা এবং হলদে ও সবুজ বর্ণের বীজসমূহ হওয়ার অ্যালিল যথাক্রমে Yy দ্বারা প্রকাশিত হয়। R অ্যালিল, r অ্যালিলের ওপর এবং Y অ্যালিল, y অ্যালিলের ওপর প্রকট


🧬 ছাত্র জীব বিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি (Page 78)

F₂ জনুর চেকার বোর্ড

♀ \ ♂(YR)(Yr)(yR)(yr)
(YR)YYRR (হলুদ-গোল)YYRr (হলুদ-গোল)YyRR (হলুদ-গোল)YyRr (হলুদ-গোল)
(Yr)YYRr (হলুদ-গোল)YYrr (হলুদ-কুঞ্চিত)YyRr (হলুদ-গোল)Yyrr (হলুদ-কুঞ্চিত)
(yR)YyRR (হলুদ-গোল)YyRr (হলুদ-গোল)yyRR (সবুজ-গোল)yyRr (সবুজ-গোল)
(yr)YyRr (হলুদ-গোল)Yyrr (হলুদ-কুঞ্চিত)yyRr (সবুজ-গোল)yyrr (সবুজ-কুঞ্চিত)

💡 জেনে রাখো:

চেকার বোর্ড বা পানেট বর্গ: যে-কোনো রকম ক্রশ লিখে প্রকাশ করার সবচেয়ে প্রচলিত ও সুবিধাজনক পদ্ধতি হল চেকার বোর্ড (checker board) বা পানেট বর্গ (Punnett square) পদ্ধতি। ব্রিটিশ বংশগতিবিদ রেজিনাল্ড সি পানেট (Reginald C Punnett, 1927) সর্বপ্রথম এই পদ্ধতিটি প্রবর্তন করেন বলে তাঁর নাম অনুসারে পদ্ধতিটিকে পানেট বর্গ বলে। এই পদ্ধতিটি নিয়মতান্ত্রিক (methodical) এবং সমস্ত ধরনের গ্যামেটের সমন্বয় প্রকাশ করতে সক্ষম হয়।

F₂ জনুতে প্রাপ্ত মটর গাছের বৈশিষ্ট্য

ফিনোটাইপজিনোটাইপজিনোটাইপিক অনুপাতফিনোটাইপিক অনুপাত
হলুদ-গোলYYRR19
YYRr2
YyRR2
YyRr4
হলুদ-কুঞ্চিতYYrr13
Yyrr2
সবুজ-গোলyyRR13
yyRr2
সবুজ-কুঞ্চিতyyrr11

📌 [b] সিদ্ধান্ত:

মটর গাছের দ্বিসংকর জনন পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে মেন্ডেল তাঁর দ্বিতীয় সূত্রটি প্রণয়ন করেন। নীচে তা বিবৃত করা হল।

🧬 মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীন বিন্যাস সূত্র (Mendel's second law or law of independent assortment): কোনো জীবের গ্যামেট উৎপাদনের সময় একটি চরিত্রের অন্তর্গত একজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী অ্যালিলের বংশানুসরণ অপর কোনো চরিত্রের অন্তর্গত একজোড়া বিপরীতধর্মী অ্যালিলের বংশানুসরণর থেকে স্বাধীনভাবে ঘটে। অর্থাৎ, গ্যামেট গঠনকালে প্রতিযোগী অ্যালিল পরস্পরের থেকে পৃথক যে পৃথক হয় (প্রথম সূত্র থেকে জ্ঞাত) তাই নয়, প্রতিটি অ্যালিল অপর কোনো অ্যালিল জোড়ার যে-কোনোটির সঙ্গে স্বাধীনভাবে গ্যামেটে সঞ্চারিত হয়।

🧠 জান-বাষ-বিকাশ

  1. ব্যাক ক্রস: প্রথম অপত্য জনুর সংকর জীবের সঙ্গে যে-কোনো জনিতৃ জনুর জীবের যৌন জননকে ব্যাক ক্রস বলে। যেমন—মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংকর লম্বা গাছের সাথে বিশুদ্ধ লম্বা অথবা বিশুদ্ধ বেঁটে গাছের সংকরায়ন (TT × tt বা Tt × tt)।
  2. টেস্ট ক্রস: প্রথম অপত্য জনুর সংকর জীবের সঙ্গে জনিতৃ জনুর প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের যৌন জননকে টেস্ট ক্রস বলে। এটি P জনুর প্রকট বৈশিষ্ট্য-যুক্ত জীবটি বিশুদ্ধ না সংকর, তা বুঝতে সাহায্য করে। যেমন—একসংকর জনন পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংকর লম্বা গাছের সাথে বিশুদ্ধ বেঁটে গাছের সংকরায়ন (Tt × tt)।

বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ 🧬

প্রাণীর দ্বি-সংকর জনন পরীক্ষা (Dihybrid cross in animals) 🧪

একরকমের জনন পরীক্ষার মতো দ্বি-সংকর জনন পদ্ধতি প্রাণীতে করা হলো। মেন্ডেলের সূত্রগুলো প্রমাণ পাওয়া যায়। এখানে গিনিপিগের ওপর দ্বি-সংকর জনন পরীক্ষাকে আলোচনা করা হবে। এক্ষেত্রে, বিবেচিত চরিত্র দুটি হলো গায়ের লোমের বর্ণ ও লোমের প্রকৃতি। গায়ের লোমের বর্ণ চরিত্রটি অন্তর্গত ভিন্নধর্মী বৈশিষ্ট্য দুটি হলো কালোসাদা বর্ণ। অপরদিকে, লোমের প্রকৃতি চরিত্রটি অন্তর্গত ভিন্নধর্মী বৈশিষ্ট্য দুটি হলো কর্কশ লোম ও মসৃণ লোম।

[a] পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ: 🔬

একটি বিশুদ্ধ কালো ও কর্কশ লোমযুক্ত (BB RR) গিনিপিগের সঙ্গে একটি বিশুদ্ধ সাদা ও মসৃণ লোমযুক্ত (bb rr) গিনিপিগের প্রজনন ঘটালে প্রথম অপত্য (F₁) সৃষ্টি হয়।

P প্রজন্ম:

  • বিশুদ্ধ কালো-কর্কশ লোমযুক্ত ♂ (BB RR)
  • বিশুদ্ধ সাদা-মসৃণ লোমযুক্ত ♀ (bb rr)

গ্যামেট:

  • ♂ থেকে: BR
  • ♀ থেকে: br

F₁ প্রজন্ম:

  • Bb Rr (সংকর কালো-কর্কশ লোমযুক্ত)

💡 মেডেলের প্রকটতার সূত্র (Law of dominance): বৈশিষ্ট্যযুক্ত দুটি জীবের মধ্যে যখন জনন বা পরনিষেকের ঘটনা ঘটানো হয় তখন প্রথম অপত্য (F₁) জনুতে শুধুমাত্র প্রকট বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে, প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয় না। এটিই প্রকটতার সূত্র নামে পরিচিত। এটি আসলে কোনো সূত্র নয়, একটি উপপাদ্য মাত্র।


জনুতে জন্মানো সব গিনিপিগ কালো ও কর্কশ লোমযুক্ত (সংকর—BbRr) হয়। এই গিনিপিগগুলি চার প্রকার গ্যামেট (BR, Br, bR, br) সৃষ্টি করে। এইরূপ যে-কোনো একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী গিনিপিগের সংকরায়ন ঘটালে দ্বিতীয় অপত্য (F₂) জনুতে কোনো প্রকারের গিনিপিগ সৃষ্টি হবে। এক্ষেত্রে চার প্রকার ফিনোটাইপযুক্ত গিনিপিগ 9:3:3:1 অনুপাতে ও 9 প্রকার জিনোটাইপযুক্ত গিনিপিগ 1:2:2:4:1:2:1:2:1 অনুপাতে সৃষ্টি হয়, যা সারণি আকারে দেখানো হলো।

গিনিপিগের কালো ও সাদা লোম হওয়ার অ্যালিল দুটি যথাক্রমে Bb দ্বারা এবং কর্কশ ও মসৃণ লোম হওয়ার অ্যালিল দুটি যথাক্রমে Rr দ্বারা প্রকাশ করা হয়। B অ্যালিল, b অ্যালিলের ওপর এবং R অ্যালিল, r অ্যালিলের ওপর প্রকট।

F₂ জনুর চেকার বোর্ড 📋

♀ Gametes / ♂ GametesBRBrbRbr
BRBBRR
(কালো-কর্কশ লোম)
BBRr
(কালো-কর্কশ লোম)
BbRR
(কালো-কর্কশ লোম)
BbRr
(কালো-কর্কশ লোম)
BrBBRr
(কালো-কর্কশ লোম)
BBrr
(কালো-মসৃণ লোম)
BbRr
(কালো-কর্কশ লোম)
Bbrr
(কালো-মসৃণ লোম)
bRBbRR
(কালো-কর্কশ লোম)
BbRr
(কালো-কর্কশ লোম)
bbRR
(সাদা-কর্কশ লোম)
bbRr
(সাদা-কর্কশ লোম)
brBbRr
(কালো-কর্কশ লোম)
Bbrr
(কালো-মসৃণ লোম)
bbRr
(সাদা-কর্কশ লোম)
bbrr
(সাদা-মসৃণ লোম)

🌿 ছায়া জীববিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি

📝 F2 জনুতে প্রাপ্ত ফিনোটাইপিক বৈশিষ্ট্য

ফিনোটাইপজেনোটাইপজেনোটাইপিক অনুপাতফিনোটাইপিক অনুপাত
কালো-কর্কশ লোমBBRR1
BBRr2
BbRR2
BbRr49
কালো-মসৃণ লোমBBrr1
Bbrr23
সাদা-কর্কশ লোমbbRR1
bbRr23
সাদা-মসৃণ লোমbbrr11

💡 (b) সিদ্ধান্ত:

পরীক্ষার পর্যবেক্ষণ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় যে, এই পরীক্ষার ফলাফল মেন্ডেলের দ্বি-সংকর জনন-এর ফলাফলের অনুরূপ এবং এক্ষেত্রে মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রটি অনুসৃত হয়েছে।

🧪 একসংকর ও দ্বি-সংকর জননে মেন্ডেলের পরীক্ষাপদ্ধত

🧬 একসংকর জনন পরীক্ষা:

একটি চরিত্রের অন্তর্গত একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের মটর গাছের মধ্যে মেন্ডেল যে প্রজনন ও পরীক্ষা নিরীক্ষা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তাকে একসংকর জনন-এর পরীক্ষা বলে। এর থেকে তিনি পৃথকীভবনের সূত্র প্রবর্তন করেন। এই পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফিনোটাইপিক অনুপাত হল 3:1 এবং জেনোটাইপিক অনুপাত হল 1:2:1

🧬 দ্বি-সংকর জনন পরীক্ষা:

দুটি চরিত্রের অন্তর্গত দুইজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের মটর গাছের মধ্যে যে প্রজনন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তাকে দ্বি-সংকর জনন-এর পরীক্ষা বলে। এর থেকে তিনি স্বাধীন বিন্যাসের সূত্র প্রবর্তন করেন। এই পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফিনোটাইপিক অনুপাত হল 9:3:3:1 এবং জেনোটাইপিক অনুপাত হল 1:2:2:4:1:2:1:2:1

3.1.7 ⚠️ মেন্ডেলের বংশগতি সংক্রান্ত সূত্রের বিচ্যুতি (Deviations from Mendelism)

প্রাকৃতিক পরিবেশে মেন্ডেলের ধারণার বেশ কিছু বিচ্যুতি লক্ষ করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় কোনো একটি অ্যালিল প্রকটও নয় আবার প্রচ্ছন্নও নয় (অসম্পূর্ণ প্রকটতা), আবার কখনো কখনো দেখা যায় একটি জিনের দুইটির বেশি অ্যালিল (বহু অ্যালিল) রয়েছে। এইসব ব্যতিক্রমগুলি থেকে ধারণা করা যায় যে, মেন্ডেলের সূত্র বহুক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হলেও সমস্ত উদাহরণ এর দ্বারা ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এখানে অসম্পূর্ণ প্রকটতার ঘটনাটি উদাহরণ সহযোগে আলোচনা করা হল।

📌 অসম্পূর্ণ প্রকটতা (Incomplete dominance):

দুটি বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত বিশ্দ্ধ জীবের সংকরায়নে উৎপন্ন সংকর জীবে যদি প্রকট অ্যালিলটির ফিনোটাইপ সম্পূর্ণ প্রকাশিত না হয়ে তৃতীয় কোনো বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটে, তখন সেই ঘটনাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বা মিশ্র উত্তরাধিকার (blending inheritance) বলে।

উদাহরণ: সন্ধ্যামালতী (Mirabilis jalapa) উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী কোরেঞ্জ প্রথম অসম্পূর্ণ প্রকটতা লক্ষ করেন! এই উদ্ভিদের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যে, বিশ্দ্ধ লাল রঙের ফুলযুক্ত (RR) ও বিশ্দ্ধ সাদা রঙের ফুলযুক্ত (rr) গাছের মধ্যে ইতর পরাগযোগ ঘটালে F1 জনুতে উৎপন্ন সমস্ত গাছ গোলাপি রঙের ফুলযুক্ত (Rr) হয়। F1 জনুর গোলাপি ফুলবিশিষ্ট সন্ধ্যামালতী গাছগুলির স্বপরাগযোগ ঘটালে F2 জনুতে লাল, গোলাপি ও সাদা রঙের ফুলবিশিষ্ট গাছগুলি...


🧬 অসম্পূর্ণ প্রকটতা (Incomplete Dominance) 🌸\n\nআবিষ্কার হয় এবং তাদের ফিনোটাইপিক অনুপাত 1 : 2 : 1 হয়। অর্থাৎ, ফুলের চার চারিত্রিকতা সাপেক্ষে হেটেরোজাইগাস (Rr) সন্ধ্যা মালতী ফুলের রং লালও নয়, সাদাও নয়—গোলাপি। এক্ষেত্রে লাল রঙের জন্য দায়ী অ্যালিল (R) বা সাদা রঙের জন্য দায়ী অ্যালিল (r)—কোনোটিই একে অপরের সাপেক্ষে প্রকট অথবা প্রচ্ছন্ন নয়। এজন্য এই ঘটনাটিকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলা হয়। লক্ষণীয়, এক্ষেত্রে F₂ জনুর ফিনোটাইপিক ও জেনোটাইপিক অনুপাত উভয়ই 1 : 2 : 1 হয়।\n\n* লাল সন্ধ্যা মালতী (Red Four O'Clock Flower)\n* সাদা সন্ধ্যা মালতী (White Four O'Clock Flower)\n* গোলাপি সন্ধ্যা মালতী (Pink Four O'Clock Flower)\n\n## 🧪 বংশগতীয় পরীক্ষা: সন্ধ্যা মালতী ফুলের রঙ (Genetic Experiment: Four O'Clock Flower Color)\n\n### 🧬 P জনু (Parental Generation)\n\n* বিশুদ্ধ লাল ফুল (Pure Red Flower): RR\n* বিশুদ্ধ সাদা ফুল (Pure White Flower): rr\n* সংকরায়ন: ইতর পরাগযোগ (Cross-pollination) ↔️\n* গ্যামেট: R, r\n\n### 🌺 F₁ জনু (First Filial Generation)\n\n* ফলাফল: Rr (গোলাপি ফুল / Pink Flower)\n\n### 🌱 F₂ জনু (Second Filial Generation)\n\n* সংকরায়ন: F₁ জনুর স্বপরগযোগ (Self-pollination) Rr ⊗ Rr\n* গ্যামেট: R, r (উভয় Parent থেকে)\n\n---\n\n> 💡 জেনে রাখো (Know This)\n>\n> (i) সন্ধ্যা মালতী ছাড়াও স্ন্যাপড্রাগন (Antirrhinum majus) বা ডগ ফ্লাওয়ার নামক ফুলে অসম্পূর্ণ প্রকটতা (হেটেরোজাইগাস গোলাপি ফুল) দেখতে পাওয়া যায়। গোলাপি ফুলেরও এই ঘটনা ঘটে থাকে।\n> (ii) উদ্ভিদ ছাড়াও প্রাণীর ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ প্রকটতা লক্ষ্য করা যায়। আন্দালুসিয়ান মুরগির ক্ষেত্রে কালো (প্রকট) এবং সাদা (প্রচ্ছন্ন) পালকবিশিষ্ট মুরগির প্রজননে F₁ জনুতে উৎপন্ন সমস্ত পাখি নীল পালকবিশিষ্ট হয়।\n>\n> চিত্র: স্ন্যাপড্রাগন ফুল ও আন্দালুসিয়ান মুরগি\n\n---\n\n## 📊 F₂ জনুর ফলাফল বিশ্লেষণ (Analysis of F₂ Generation Results)\n\n### চেকার বোর্ড (Punnett Square)\n\n| ♀ / ♂ | R | r |\n| :---- | :--------- | :--------- |\n| R | RR | Rr |\n| | (লাল ফুল) | (গোলাপি ফুল) |\n| r | Rr | rr |\n| | (গোলাপি ফুল) | (সাদা ফুল) |\n\n### ফুলের বৈশিষ্ট্যের অনুপাত (Ratio of Flower Characteristics)\n\n| ফিনোটাইপ | জেনোটাইপ | জেনোটাইপিক অনুপাত | ফিনোটাইপিক অনুপাত |\n| :--------- | :------- | :--------------- | :--------------- |\n| লাল ফুল | RR | 1 | 1 |\n| গোলাপি ফুল | Rr | 2 | 2 |\n| সাদা ফুল | rr | 1 | 1 |


🧬 ছাত্র জীবনবিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি

3.1.8 মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ (Sex determination in human)

💡 লিঙ্গ নির্ধারণ: ক্রোমোজোমের প্রকৃতি ও সংখ্যার ওপর নির্ভর করে কোনো জীবের পুরুষ বা স্ত্রী-রূপে বিকশিত হওয়ার এই প্রক্রিয়াকে লিঙ্গ নির্ধারণ বলা হয়।

🔬 মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি (Process of sex determination in human)

মানুষসহ বহু স্তন্যপায়ীদের ক্ষেত্রে যৌন ক্রোমোজোম বা সেক্স ক্রোমোজোম লিঙ্গ নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। আমরা জানি যে, মানুষের দেহকোষে 23 জোড়া ক্রোমোজোমস বা 46টি ক্রোমোজোম নিউক্লিয়াসে বিন্যস্ত থাকে। এদের মধ্যে 2টি ক্রোমোজোম লিঙ্গ নির্ধারণ করে বলে তাদের সেক্স ক্রোমোজোম (sex chromosome) বা অ্যালোজোম (allosome) বলে। বাকি 22 জোড়া বা 44টি ক্রোমোজোম মূলত দেহের অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া ও বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে বলে তাদের অটোজোম (autosome) বলে।

সেক্স ক্রোমোজোম দুই প্রকার, যথা—

  • X ক্রোমোজোম
  • Y ক্রোমোজোম

মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে XX-XY পদ্ধতি অনুসৃত হয়। অর্থাৎ, শুক্রকোষে X ও Y ক্রোমোজোমের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ করে।

কোনো পুরুষ (44A + XY) দুই প্রকার গ্যামেট বা শুক্রাণু উৎপাদন করে, যথা—

  1. অ্যালোস্পার্ম (22A + Y)
  2. গাইনোস্পার্ম (22A + X)

এই দুই প্রকার শুক্রাণু সমান অনুপাতে উৎপন্ন হয় (পাশের ক্রসুটি লক্ষণীয়)।

পক্ষান্তরে কোনো মহিলা (44A + XX) কেবল একপ্রকারের ডিম্বাণু (22A + X) সৃষ্টি করে।

  • যদি ডিম্বাণু অ্যালোস্পার্ম দ্বারা নিষিক্ত হয়, তবে সেই ভ্রূণ পুরুষরূপে বিকাশ লাভ করে (44A + XY)।
  • আবার, একটি ডিম্বাণু যদি গাইনোস্পার্ম দ্বারা নিষিক্ত হয়, তবে সেই ভ্রূণটি মহিলারূপে বিকশিত হয় (44A + XX)।

📈 মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি - ডায়াগ্রাম ও চেকারবোর্ড বিশ্লেষণ

P জনু (Parental Generation):

  • পিতা (♂): 44 A + XY
  • মাতা (♀): 44 A + XX

গ্যামেট (Gametes):

  • পিতা (♂) থেকে শুক্রাণু:
    • (22 A + X) - 50%
    • (22 A + Y) - 50%
  • মাতা (♀) থেকে ডিম্বাণু:
    • (22 A + X) - 100%

নিষেক (Fertilization) ও জাইগোট (Zygote) গঠন:

  • (22 A + X) শুক্রাণু + (22 A + X) ডিম্বাণু → 44 A + XX (কন্যা ♀)
  • (22 A + Y) শুক্রাণু + (22 A + X) ডিম্বাণু → 44 A + XY (পুত্র ♂)

F₁ জনু (First Filial Generation) - পরিষ্ফুটন (Development):

  • কন্যা (♀): 44 A + XX (50% সম্ভাবনা)
  • পুত্র (♂): 44 A + XY (50% সম্ভাবনা)

📌 চেকার বোর্ড (Punnett Square):

♂ গ্যামেট22A + X22A + Y
♀ গ্যামেট
22A + X44A + XX (স্ত্রী)44A + XY (পুরুষ)

বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ 🧬

🧑‍🍼 সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভুমিকা (Role of father in determining the sex of offspring in human):

পিতার দেহকোষে দুই প্রকারের সেক্স ক্রোমোজোম (X এবং Y) থাকে। তাই শুক্রাণু দুই প্রকারের হয় – X বহনকারী গাইনোস্পার্ম এবং Y বহনকারী অ্যান্ড্রোস্পার্ম। ডিম্বাণু (X) কোন প্রকৃতির শুক্রাণুর দ্বারা নিষিক্ত হচ্ছে, সেটিই প্রকৃতপক্ষে সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করে দেয়। শুক্রাণুর প্রকৃতি অনুযায়ী এক্ষেত্রে যথাক্রমে পুত্র (XY) ও কন্যা (XX) সন্তান সৃষ্টি হয়। শুক্রাণুতে Y ক্রোমোজোম থাকলে সন্তান পুত্র হয়, এজন্য Y ক্রোমোজোমকে অ্যান্ড্রোসোম (androsome; গ্রিক শব্দ ander = পুরুষ ও soma = দেহ) বলা হয়। অন্যদিকে শুক্রাণুতে X ক্রোমোজোম থাকলে সন্তান কন্যাসন্তানরূপে বিকশিত হয়। অর্থাৎ মানুষের ক্ষেত্রে সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকা সক্রিয় এবং প্রধান হয়।

💡 মানুষের ক্ষেত্রে স্ত্রী-লিঙ্গ নির্ধারণে মায়ের ভূমিকা (Role of mother in determining female sex in humans): মায়ের জননকোষে XX ক্রোমোজোম ধারণ করে। ফলে মা সর্বদা একপ্রকারের X ক্রোমোজোম-বিশিষ্ট ডিম্বাণু তৈরি করে যা পুত্র বা কন্যা উভয়েই সঞ্চারিত হয়।

🚻 মানুষের ক্ষেত্রে হেটারোগ্যামেটিক ও হোমোগ্যামেটিক লিঙ্গ (Heterogametic and homogametic sex in human):

পুরুষের জিনোটাইপ XY হওয়ায় তাদের দুই প্রকার শুক্রাণু তৈরি হয়। যেমন — X ও Y ক্রোমোজোম বহনকারী শুক্রাণু। তাই পুরুষদের হেটারোগ্যামেটিক লিঙ্গ (হেটেরো = ভিন্ন প্রকার) বলে। কিন্তু মহিলাদের জিনোটাইপ XX বলে কেবলমাত্র একরকম ডিম্বাণু (X ক্রোমোজোম বহনকারী) তৈরি হয়। এজন্য মহিলাদের হোমোগ্যামেটিক লিঙ্গ (হোমো = একই প্রকার) বলে। একজন পুরুষ (জিনোটাইপ 44A + XY) এবং একজন মহিলা (জিনোটাইপ 44A + XX) প্রজননে পুত্র ও কন্যাসন্তান হওয়ার সম্ভাবনা 1:1 হয়।

উল্লেখযোগ্য যে, XY নির্ভর লিঙ্গ নির্ধারণের পর বিভিন্ন প্রকার পুরুষ ও স্ত্রী হরমোনের প্রভাবে মানবদেহে যথাক্রমে পুরুষ ও স্ত্রী গৌণ যৌন লক্ষণগুলি প্রকাশিত হয়।

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel