1.4 প্রাণীদেহে সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয় - স্নায়ুতন্ত্র
1.4 প্রাণীদেহে সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয় - স্নায়ুতন্ত্র - WBBSE - Class 10 - বিজ্ঞান
🧠 1.4 প্রাণীদেহে সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয় - স্নায়ুতন্ত্র (Response and Physical Co-ordination in Animal Body - Nervous System)
উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়া প্রাণীদের একটি সহজাত ক্ষমতা। অন্তঃক্ষরা তন্ত্রের সমন্বয়মূলক কাজ সম্বন্ধে আমরা জেনেছি। এখানে পরিবেশে মানিয়ে নিয়ে সাড়া প্রদানে স্নায়ুকলা কীভাবে সাহায্য করে, সে সম্পর্কে জানবো।
📌 স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System): স্নায়ুকোশ নিয়ে গঠিত যে তন্ত্র প্রাণীদেহে উদ্দীপনা গ্রহণ ও সাড়া প্রদানের দ্বারা পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের মধ্যে সমন্বয়সাধন করে, তাকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।
1.4.1 স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (Nervous Control and Co-ordination)
বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ কোনো উদ্দীপনা (যেমন-আলো, শব্দ, চাপ, তাপ, ব্যথা, রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি) স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে গৃহীত হলে তার বিশ্লেষণ ঘটে ও দেহে তার প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের এই কাজটি মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড ও স্নায়ু নামক এই প্রধান তিনটি অংশের মাধ্যমে সংঘটিত করে।
স্নায়বিক সমন্বয়ের উদাহরণ: দৌড়োনোর সময়ে স্নায়ুতন্ত্রের দ্বারা বিভিন্ন উদ্দীপনা ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সমন্বয়সাধন ঘটে। যথা-
(i) দৌড়োনোর মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই আমাদের স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়ে হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ প্রাথমিকভাবে বাড়িয়ে দেয়, ফলে পায়ের পেশিতে প্রাথমিকভাবে O₂ ও গ্লুকোজ সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। (ii) দৌড়ের সময় মস্তিষ্ক নির্দিষ্ট ছন্দে দেহপেশির চলন ও দেহ ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। (iii) এই সময় মস্তিষ্ক, রক্তের O₂ মাত্রা হ্রাস ও CO₂ মাত্রা বৃদ্ধি শনাক্ত করে এবং মস্তিষ্ক ফুসফুস, পঞ্জরাস্থি পেশি ও মধ্যচ্ছদাতে স্নায়ুস্পন্দন পৌঁছে দেয়। ফলে পঞ্জরাস্থির পেশি ও মধ্যচ্ছদা দ্রুত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে গভীরভাবে শ্বাসগ্রহণে সাহায্য করে। (iv) স্নায়ুতন্ত্র হৃৎপিন্ডেরও স্পন্দন বৃদ্ধি করে, ফলে দ্রুত পেশিতে O₂ ও গ্লুকোজ পৌঁছোয়।
1.4.2 স্নায়বিক পথ (Neural Pathway)
উত্তেজিতা বা উত্তেজনায় সাড়া দেওয়া জীবের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। এর অপর নাম সংবেদনশীলতা। উদ্দীপনা গ্রহণ ও তাতে সাড়াদানের পদ্ধতিটি একটি নির্দিষ্ট পথে ঘটে, একে বলে ⚡ স্নায়বিক পথ (Neural Pathway)।
স্নায়বিক পথের ব্যাখ্যা (Explanation of Neural Pathway):
- বাইরের বা দেহের অভ্যন্তরে সৃষ্ট উদ্দীপনা গ্রাহক বা রিসেপটর গ্রহণ করে।
- গৃহীত উদ্দীপনা, স্নায়ু দ্বারা স্নায়ুকেন্দ্রে পৌঁছোয়।
- স্নায়ুকেন্দ্র মস্তিষ্ক বা সুষুম্নাকাণ্ডে থাকে।
- স্নায়ুকেন্দ্র থেকে সৃষ্ট সাড়া বা রেসপন্স পুনরায় স্নায়ু দ্বারা কারক বা এফেক্টর অঙ্গে পৌঁছোয়, ফলে প্রাণী সাড়া দেয়।
💡 গ্রাহক ও কারক অঙ্গের মধ্যে স্নায়ুতন্ত্রের যে পরিবাহক কোশগুলি থাকে তাদের 🧠 নিউরোন (Neuron) বা স্নায়ুকোশ (Nerve cell) বলে।
বহু নিউরোন কোশের মূলত লম্বা প্রবর্ধকগুলি মিলে স্নায়ু তৈরি করে, যা প্রকৃতপক্ষে উদ্দীপনা পরিবহণ করে। নিউরোন হল স্নায়ুতন্ত্রের মূল গঠনগত ও কার্যগত একক। সমগ্র জীবদেহ জুড়ে তারা বিস্তৃত থাকে ও একটি জটিল আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
উদাহরণ: বাড়িতে দরজায় কেউ বেল বাজালে তা কান দিয়ে অনুভব করি ও তারপর দরজা খুলে দিই। এক্ষেত্রে কানে উপস্থিত গ্রাহক শব্দের উদ্দীপনা গ্রহণ করে স্নায়ুর দ্বারা মস্তিষ্কে পাঠায়। মস্তিষ্ক তা বিশ্লেষণ করে দেহে (হাত, পা-এর পেশি) তার প্রতিক্রিয়া পাঠায় ও আমরা দরজা খুলি।
📊 হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যগত পার্থক্য
| বিষয় | হরমোন | স্নায়ুতন্ত্র |
|---|---|---|
| 1. কাজের গতি | হরমোনের ক্রিয়া মন্থর। | স্নায়ুর ক্রিয়া দ্রুত। |
| 2. কাজের প্রকৃতি ও স্থায়িত্ব | ধীরগতিতে কাজ করে কিন্তু ফল দীর্ঘস্থায়ী। | দ্রুত কাজ করে কিন্তু ফল ক্ষণস্থায়ী। |
| 3. পরিণতি | হরমোন কাজ শেষে বিনষ্ট হয়। | কাজ শেষে স্নায়বিক পথ বিনষ্ট হয় না। |
সাদৃশ্য: হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্র উভয়ই উদ্দীপনার ওপর নির্ভর করে প্রাণীদেহকে পরিবেশে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।
🧬 1.4.3 স্নায়ুকোশ, নিউরোগ্লিয়া এবং স্নায়ু (Nerve Cell, Neuroglia and Nerve)
স্নায়ুতন্ত্রের মূল উপাদান মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড ও স্নায়ু তৈরি হয় নিউরোন বা স্নায়ুকোশ দ্বারা। নিউরোনের মধ্যে দিয়ে যে তড়িৎ রাসায়নিক প্রবাহ ঘটে তার মাধ্যমেই দেহে নানা কাজের সমন্বয়সাধন ঘটে। এজন্য নিউরোনকে স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক বলা হয়।
📌 নিউরোন (Neuron): স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত এবং কার্যগত এককরূপে স্নায়ু উদ্দীপনা বহনকারী কোশকে নিউরোন বা স্নায়ুকোশ বলে।
অধিকাংশ নিউরোনের গঠনে তিনটি অংশ দেখা যায়- 🔍 কোশদেহ (Cell body), ডেনড্রন (Dendron) এবং অ্যাক্সন (Axon)।
নিউরোনের বিভিন্ন অংশের গঠন ও কাজ
[a] কোশদেহ (Cell body): নিউক্লিয়াসযুক্ত স্নায়ুকোশে সবচেয়ে স্থূল অংশটি হল কোশদেহ।
| গঠন (Structure) | কাজ (Function) |
|---|---|
| 1. নিউরোন কোশদেহের বাইরে কোশপর্দা থাকে, ভিতরে থাকে সাইটোপ্লাজম। স্নায়ুকোশের সাইটোপ্লাজমকে নিউরোপ্লাজম বলে। | |
| নিউরোনের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। | |
| 2. কোশের কেন্দ্রে একটি বড়ো আদর্শ নিউক্লিয়াস থাকে। | |
| 3. সাইটোপ্লাজমে কতকগুলি রাইবোপ্রোটিন নির্মিত দানা থাকে যেগুলি ক্ষারীয় রঞ্জকে রঞ্জিত করলে গাঢ় রং ধারণ করে। এদের 💡 নিম্ন দানা (Nissl granule) বলে। | |
| 4. মাইক্রোফিলামেন্ট এবং কোশদেহে মাইক্রোটিউবিউল নিয়ে গঠিত কতকগুলি প্রোটিন-জাতীয় তত্ত্বময় জালক কোশের সাইটোপ্লাজমে ছড়িয়ে থাকে। এদের নিউরোফাইব্রিল (Neurofibril) বলে। | |
| 5. কোশে নিউক্লিয়াসের কাছে গলগি বডি ও সাইটোপ্লাজমে অসংখ্য মাইটোকনড্রিয়া, লাইসোজোম ও রাইবোজোম ছড়িয়ে থাকে। | |
| 6. স্নায়ুকোশে একটি নিষ্ক্রিয় সেন্ট্রোজোম থাকে। এটি নিষ্ক্রিয় হওয়ায় স্নায়ুকোশ বিভাজিত হয় না। | |
[b] ডেনড্রন (Dendron): গ্রিক শব্দ ডেনড্রন-এর অর্থ হল বৃক্ষ। কোশদেহ থেকে অসংখ্য শাখাপ্রশাখা হিসেবে নির্গত হয় বলে এদের এরূপ নাম হয়েছে। এটি স্নায়ুকোশের উদ্দীপনা গ্রহণে সাহায্য করে বলে একে সংজ্ঞাবহ বা অন্তর্বাহী প্রবর্ধক বলে। ডেনড্রন হল ডেনড্রাইটের একবচন।
| গঠন (Structure) | কাজ (Function) |
|---|---|
| 1. একটি ডেনড্রন আকারে সাধারণত ছোটো ও বহু শাখাপ্রশাখায় বিভক্ত হয়। | পূর্ববর্তী নিউরোন থেকে উদ্দীপনা কোশদেহে প্রেরণ করা। |
| 2. একটি নিউরোনে সাধারণত 5-7 টি ডেনড্রন দেখা যায়। | |
| 3. ডেনড্রনের বাইরে কোশপর্দায় মায়েলিন আবরণী ও সোয়ান কোশ থাকে না। | |
| 4. এর সাইটোপ্লাজমে নিউরোফাইব্রিল ও নিম্ন দানা থাকে। |
[c] অ্যাক্সন (Axon): অ্যাক্সন হল কোশদেহ থেকে নির্গত লম্বা একক কোশীয় প্রবর্ধক, যা কোশদেহ থেকে স্নায়ুস্পন্দন বহন করে পরবর্তী নিউরোনে নিয়ে যায়। এটি নিউরোনের চেষ্টীয় প্রবর্ধক বা বহির্বাহী শাখা।
| গঠন (Structure) | কাজ (Function) |
|---|---|
| 1. অ্যাক্সনের প্রান্ত সাধারণত শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয় এবং প্রান্ডবুরুশ (এন্ড ব্রাশ) বা টেলোডেনড্রিয়া (Telodendria) তৈরি করে। এর শেষপ্রান্তে প্রান্তীয় নব থাকে। | |
| এরা ডেনড্রন ও কোশদেহ থেকে আগত নির্দেশকে বহন করে পরবর্তী নিউরোন অথবা কারক অঙ্গে পৌঁছে দেয়। | |
| 2. অ্যাক্সনের অ্যাক্সোলেমা নামক আবরণের ভিতরে অ্যাক্সোপ্লাজম (অ্যাক্সনের সাইটোপ্লাজম) উপস্থিত ও তাতে নিউরোফাইব্রিল এবং মাইটোকনড্রিয়া থাকে, কিন্তু কোনো নিম্ন দানা থাকে না। | |
| 3. অ্যাক্সনের বাইরে সাধারণত তিনটি আবরণী থাকে-(a) অ্যাক্সোলেমা, (b) মায়েলিন বা মেডুলারি আবরণী এবং (c) নিউরিলেমা বা সোয়ান কোশপর্দা। উল্লেখ্য, মায়েলিন আবরণী অন্তরক পর্দারূপে কাজ করে ও অ্যাক্সনে দ্রুত উদ্দীপনা পরিবহণে সাহায্য করে। এটি প্রতিরক্ষাও দিয়ে থাকে। | |
| 4. কিছু নিউরোনের অ্যাক্সনে মায়েলিন আবরণী থাকে না। এদের নন্-মেডুলেটেড নিউরোন (Non-myelinated neuron) বলে। মেডুলারি আবরণ ও নিউরিলেমার মাঝে সোয়ান কোশ থাকে বা মায়েলিন আবরণ তৈরি করে। | |
| 5. মেডুলারি আবরণের স্থানে স্থানে বিচ্ছিন্ন থাকে, অ্যাক্সনের এই খাঁজ অংশকে ⚡ র্যানভিয়ারের পর্ব (Nodes of Ranvier) বলে। এক পর্ব থেকে অপর পর্বে উদ্দীপনা লাফিয়ে প্রবাহিত (saltatory conduction) হয় বলে, এইরকম পরিবহণ খুব দ্রুত গতিতে ঘটে। | |
| 6. অ্যাক্সন এবং কোশদেহের সংযোগস্থলকে অ্যাক্সন হিলক (Axon hillock) বলা হয়। | |
(Diagram of a Neuron showing: Cell body, Dendron, Nucleus, Neurofibril, Axon, Axolemma, Nodes of Ranvier, Myelin Sheath, Schwann Cell Membrane, End Brush, Synaptic Knob, Nissl Granule, Mitochondria, Axon Hillock)
📊 অ্যাক্সন ও ডেনড্রনের পার্থক্য
| বিষয় | অ্যাক্সন | ডেনড্রন |
|---|---|---|
| 1. গঠন | শাখাবিহীন, দীর্ঘ প্রবর্ধক। | শাখাপ্রশাখাযুক্ত, ছোটো প্রবর্ধক। |
| 2. কাজ | কোশদেহ থেকে উদ্দীপনা নিয়ে যায়। | কোশদেহে উদ্দীপনা নিয়ে আসে। |
| 3. সংখ্যা | সাধারণত একটি। | সাধারণত 5-7 টি। |
| 4. উৎপত্তি | অ্যাক্সন হিলক থেকে। | কোশ দেহ বা সোমা থেকে। |
💡 নিউরোনের কাজ (Functions of Neurons)
নিউরোন হল স্নায়ুস্পন্দন বহন করা। গ্রাহক থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে কারক অঙ্গে নিউরোন স্নায়ু উদ্দীপনা বহন করে।
🧪 নিউরোগ্লিয়া (Neuroglia)
📌 নিউরোগ্লিয়া (Neuroglia): উদ্দীপনা প্রেরণে অক্ষম, স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্গত যে কোশ স্নায়ুকোশগুলিকে ধারণ করে, তাদের নিউরোগ্লিয়া বা গ্লিয়াল কোশ বা গ্লিওসাইট বলে। এরা হল বিশেষ যোজক কলা।
গ্লিয়াল কোশ নানাপ্রকারের হয়, যথা- (i) অলিগোডেনড্রোগ্লিয়া (Oligodendroglia) (ii) মাইক্রোগ্লিয়া (Microglia) (iii) এপেনডাইমাল কোশ (Ependymal cells) (iv) অ্যাস্ট্রোসাইট (Astrocytes) (v) সোয়ান কোশ (Schwann cells)
নিউরোগ্লিয়া কোশগুলি নিউরোনকে ধারণ করা ছাড়াও, পুষ্টি প্রদান (এপেনডাইমাল কোশ), মায়েলিন আবরণী তৈরি (সোয়ান কোশ ও অলিগোডেনড্রোগ্লিয়া), ফ্যাগোসাইটোসিস (মাইক্রোগ্লিয়া) ইত্যাদি কাজ করে থাকে।
🧠 1.4.4 স্নায়ুর প্রকারভেদ (Types of Nerves)
প্রাণীদেহে শারীরবৃত্তীয় সমন্বয়সাধন বিভিন্ন প্রকার স্নায়ুর দ্বারা হয়। কাজ অনুযায়ী স্নায়ু তিন প্রকার। যথা-
-
সংজ্ঞাবহ বা সংবেদী নিউরোন (Sensory Neuron): যে নিউরোন গ্রাহক (ত্বক, চোখ ও জিহ্বা ইত্যাদিতে বিন্যস্ত) থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে উদ্দীপনা বহন করে নিয়ে যায়, তাকে সংজ্ঞাবহ বা সংবেদী বা অন্তর্বাহী নিউরোন বলে।
-
আজ্ঞাবহ বা চেষ্টীয় নিউরোন (Motor Neuron): যে নিউরোন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে সাড়া বা প্রতিক্রিয়ারূপী স্নায়ুস্পন্দন কারক বা ইফেকটরে পাঠায়, তাকে আজ্ঞাবহ বা চেষ্টীয় বা বহির্বাহী নিউরোন বলে।
-
সহযোগী বা আন্তর-সংযোগী নিউরোন (Adjuster or Interconnecting Neuron): যে নিউরোন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ নিউরোনের মধ্যে সংযোগসাধন করে, তাকে সহযোগী বা আন্তুর-সংযোগী নিউরোন বলে।
(Diagram showing: Sensory/Afferent Neuron, Adjuster/Interconnecting Neuron, Motor/Efferent Neuron)
স্নায়ুকোশ, স্নায়ু ও স্নায়ুতন্ত্রের আন্তঃসম্পর্ক (Interrelationship of Neuron, Nerve and Nervous System)
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন বেশ জটিল। অসংখ্য নিউরোন মিলে স্নায়ু গঠিত হয়।
- প্রকৃতপক্ষে স্নায়ু বা নার্ভগুলি নিউরোনের কেবলমাত্র অ্যাক্সন দ্বারা গঠিত।
- নিউরোনগুলির কোশদেহ নিয়ে স্নায়ুগ্রন্থিগুলি গঠিত হয়।
- উল্লেখ্য, স্নায়ুর গঠনে ভিতর থেকে বাইরে যথাক্রমে এন্ডোনিউরিয়াম (Endoneurium), পেরিনিউরিয়াম (Perineurium) ও এপিনিউরিয়াম (Epineurium) নামক যোগকলা আবরণী থাকে।
- আবার অসংখ্য নিউরোন, স্নায়ু মিলিত হয়ে মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড তৈরি করে।
- স্নায়ু, মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড ও স্নায়ুগ্রন্থির সমন্বয়ে স্নায়ুতন্ত্র গঠিত হয়।
🚦 স্নায়ুর প্রকারভেদ (Types of Nerves)
প্রাণীদেহে শারীরবৃত্তীয় সমন্বয়সাধন বিভিন্ন প্রকার স্নায়ুর দ্বারা হয়। কাজ অনুযায়ী স্নায়ু তিন প্রকার। যথা-
-
✅ অন্তর্বাহী স্নায়ু (Afferent Nerve): সংজ্ঞাবহ নিউরোন দ্বারা গঠিত যেসব স্নায়ু, গ্রাহক থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা বহন করে মস্তিষ্কে অথবা সুষুম্নাকান্ডে পাঠায়, তাদের অন্তর্বাহী স্নায়ু বলে। যেমন- অলফ্যাকটরি নার্ভ, অপটিক নার্ভ।
-
➡️ বহির্বাহী স্নায়ু (Efferent Nerve): আজ্ঞাবহ নিউরোন নির্মিত যেসব স্নায়ু মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড ও স্নায়ুগ্রন্থি থেকে কারক অঙ্গে স্নায়ুস্পন্দন বহন করে তাদের বহির্বাহী স্নায়ু বলে। যেমন- অকুলোমোটর নার্ভ, ফেসিয়াল নার্ভ।
(Diagram: Sensory/Afferent Nerve (from receptor like eye to CNS) and Motor/Efferent Nerve (from CNS to effector like muscle))
সংবেদী ও চেষ্টীয় স্নায়ুর কার্যগত অবস্থান
📝 স্নায়ুতন্ত্রের প্রকারভেদ ও ক্রিয়া
প্রতিক্রিয়ারূপী স্নায়বিক উদ্দীপনা পেশি, গ্রন্থি প্রভৃতি কারক অঙ্গে বহন করে, তাদের বহির্বাহী স্নায়ু বলে (যেমন- ট্রকলিয়ার নার্ভ ও অকিউলোমোটর নার্ভ)।
3. মিশ্র স্নায়ু (Mixed nerve)
অন্তর্বাহী ও বহির্বাহী উভয় প্রকার স্নায়ুকোশ দ্বারা গঠিত যে সকল স্নায়ু সংজ্ঞাবহ এবং চেষ্টীয় উভয় প্রকার কাজ করে থাকে, তাদের মিশ্র স্নায়ু বলে। যেমন- ফেসিয়াল নার্ভ, ভেগাস নার্ভ।
🧠 1.4.5 নার্ভ গ্যাংলিয়ন বা স্নায়ুগ্রন্থি (Ganglion)
মূলত প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্গত স্নায়ু সংলগ্ন নিউরোনের কোশদেহগুলি যোগকলা দ্বারা আবৃত হয়ে যে স্ফীত গ্রন্থি তৈরি করে, তাকে স্নায়ুগ্রন্থি বা নার্ভ গ্যাংলিয়ন বলে। স্নায়ুগ্রন্থিগুলি সাধারণত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বাইরে অবস্থান করে।
- কাজ: গ্যাংলিয়নগুলি গ্রাসনালী, পাচকগ্রন্থি, অশ্রুগ্রন্থি ইত্যাদির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- অমেরুদন্ডী প্রাণীদের ক্ষেত্রে গ্যাংলিয়ন থেকে নিউরোহরমোন ক্ষরিত হয়।
⚡ 1.4.6 স্নায়ুসন্নিধি বা সাইন্যাপ্স (Synapse)
স্নায়ুতন্ত্রে নিউরোনগুলি পরপর সংলগ্ন হয়ে সজ্জিত থাকে। কিন্তু এদের মধ্যে কোনো প্রোটোপ্লাজমিক যোগাযোগ থাকে না। দুটি নিউরোনের মাঝের সংযোগকারী এই স্থানটি স্নায়ুসন্নিধি বা প্রান্তসন্নিকর্ষ বা সাইন্যাপ্স।
স্নায়ুসন্নিধি: দুটি স্নায়ুকোশের মধ্যবর্তী ফাঁকবিশিষ্ট যে সংযোগস্থলে একটি নিউরোন থেকে রাসায়নিক বা বৈদ্যুতিক তথ্য পরবর্তী নিউরোনে প্রবাহিত হয়, তাকে স্নায়ুসন্নিধি বা সাইন্যাপ্স বলে।
💡 জেনে রাখো
- নিউরোট্রান্সমিটার: যেসব রাসায়নিক নিউরোন প্রান্তে ক্ষরিত হয়ে পরবর্তী নিউরোন বা পেশিতে উদ্দীপনা সঞ্চারিত করে, তাদের নিউরোট্রান্সমিটার বলে। যেমন- অ্যাসিটাইল কোলিন।
- নিউরোহরমোন: স্নায়ুকোশ থেকে ক্ষরিত হরমোনকে নিউরোহরমোন বলে। যেমন- ভেসোপ্রেসিন।
অবস্থান
একটি নিউরোনের অ্যাক্সনের প্রান্তীয় নব এবং অপর নিউরোনের ডেনড্রন বা কোশদেহ বা অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী স্থানে সাইন্যাপ্স অবস্থিত।
📌 কাজ
একটি নিউরোনের অ্যাক্সন প্রান্তের প্রিসাইন্যাপটিক নবে স্নায়ু উদ্দীপনা পৌঁছোলে সাইন্যাপটিক থলি থেকে অ্যাসিটাইল কোলিন ক্ষরিত হয়। ওই নিউরোট্রান্সমিটার সাইন্যাপটিক ক্লেফ্ট পার হয়ে পরবর্তী নিউরোনের পোস্ট সাইন্যাপটিক পর্দায় আবদ্ধ হয় এবং উদ্দীপনা সঞ্চারিত করে।
📊 1.4.7 স্নায়ুতন্ত্রের প্রকারভেদ (Classification of nervous system)
মানুষসহ সকল স্তন্যপায়ী প্রাণীর স্নায়ুতন্ত্রকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র: (মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড নিয়ে গঠিত এবং কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর অবস্থিত স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী অংশকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বলে) সুষুম্নাকাণ্ডটি মেরুদণ্ডের ভিতর অবস্থিত। এই অংশটি সামগ্রিকভাবে দৈহিক ক্রিয়াকলাপের সমন্বয়সাধন করে।
- প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র: (কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে সারাদেহে বিন্যস্ত যে সমস্ত স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনা প্রেরণ করে ও সেখান থেকে আজ্ঞাবহ উদ্দীপনা বহন করে দেহের বিভিন্ন অংশে নিয়ে আসে, তাদের একত্রে প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র বলে)। এটি মস্তিষ্কে যুক্ত 12 জোড়া করোটি স্নায়ু এবং সুষুম্নাকাণ্ডে যুক্ত 31 জোড়া সুষুম্নাস্নায়ু নিয়ে গঠিত।
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র: (স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্গত যে সমস্ত স্নায়ু দেহের আন্তরযন্ত্র, গ্রন্থি, অনৈচ্ছিক পেশির কার্যশীলতা নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের একত্রে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র বলে)। এর কাজ হল দেহের বিভিন্ন যন্ত্র, গ্রন্থি, পেশি প্রভৃতির কার্যকারিতা বজায় রাখা ও পরিবেশ অনুযায়ী তাদের কাজের সুসমন্বয় ঘটানো।
🧠💡 জেনে রাখো
স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দুইপ্রকার। এর অন্তর্গত সমবেদী স্নায়ুতন্ত্রকে 'Fight or flight' তন্ত্র বলে। কারণ কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলায় এটি সাহায্য করে (তারার প্রসারণ, হৃদ্স্পন্দন ও ফুসফুসে বায়ুর চলাচল বৃদ্ধি)। পক্ষান্তরে পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্রকে 'Rest and digest' তন্ত্র বলে, কারণ এরা শরীরকে বিশ্রাম দশায় ফিরিয়ে আনে (সমবেদীর বিপরীত কাজ, যেমন-রক্তচাপ হ্রাস, তারারন্ধ্রের সংকোচন)।
🌲 মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের শ্রেণীবিভাগ
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র
- মস্তিষ্ক
- সুষুম্নাকাণ্ড
- প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র
- করোটি স্নায়ু (12 জোড়া)
- সুষুম্না স্নায়ু (31 জোড়া)
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র
- সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র
- পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্র
🧠 1.4.8 মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ড (Brain and spinal cord)
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা- মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড। এদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।
মস্তিষ্ক (Brain)
সুষুম্নাকাণ্ডের ওপরে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীতকায় অংশটি করোটির মধ্যে সুরক্ষিত থাকে, তাকে মস্তিষ্ক বলে।
এর প্রধান অংশগুলি হল-
- সেরিব্রাল কর্টেক্স: সেরিব্রাম বা গুরুমস্তিষ্কের অন্তর্গত দুটি সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার (মস্তিষ্কের দুটি পার্শ্ব)-এ মেনিনজেস পর্দা আবরণীর নীচে সেরিব্রাল কর্টেক্স অবস্থিত।
- কাজ:
- এর কার্যকরী অঞ্চলগুলি দর্শন, স্বাদ, ঘ্রাণ, গরম, ঠান্ডা, স্পর্শ, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্ররূপে কাজ করে।
- এ ছাড়া মানুষের বুদ্ধি, স্মৃতি, বিচার, পরিকল্পনা, চেতনা ইত্যাদি উচ্চমানসিক বৈশিষ্ট্যগুলি সেরিব্রাল কর্টেক্স নিয়ন্ত্রণ করে।
- কাজ:
- থ্যালামাস: মানবমস্তিষ্কে তৃতীয় মস্তিষ্ক নিলয়ের (গহ্বর) উভয় পাশে থ্যালামাস দুটি ডিম্বাকার অংশরূপে বিন্যস্ত থাকে।
- কাজ:
- চাপ, তাপ, দর্শন, বেদনা প্রভৃতি সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনাকে বিশ্লেষিত করে সেরিব্রাল কর্টেক্সে পাঠায়।
- থ্যালামাস নিদ্রা-জাগরণ, সতর্কভাব প্রভৃতি চেতনার বিভিন্ন স্তরগুলি নিয়ন্ত্রণ করে।
- কাজ:
- হাইপোথ্যালামাস: মানবমস্তিষ্কে থ্যালামাসের নীচের দিকে তৃতীয় মস্তিষ্ক নিলয়ের নীচে হাইপোথ্যালামাস অবস্থিত।
- কাজ:
- তাপমাত্রা, খিদে, তৃয়া, তৃপ্তি, যৌন আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে হাইপোথ্যালামাস।
- পিটুইটারি গ্রন্থির হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে হাইপোথ্যালামাস নির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করে।
- কাজ:
- [d] মধ্যমস্তিষ্ক: অগ্র ও পশ্চাদদ্মস্তিষ্কের মাঝে তাদের সংযোগকারী অংশরূপে মধ্যমস্তিষ্ক বিন্যস্ত থাকে।
- কাজ:
- অগ্র ও পশ্চাদদ্মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের কাজের সমন্বয় ঘটায় মধ্যমস্তিষ্ক।
- মধ্যমস্তিষ্কে টেকটাম নামক অংশ দর্শন ও শ্রবণ প্রতিবর্তের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্ররূপে কাজ করে।
- কাজ:
- [e] পনস্: মধ্যমস্তিষ্কের নীচে চতুর্থ মস্তিষ্ক নিলয়ের অঙ্কদেশে, সুষুম্নাশীর্ষকের ঠিক ওপরে পনস্ অবস্থিত।
- কাজ:
- মূত্র নির্গমন, হৃৎপিণ্ডের সংকোচন-প্রসারণ নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা আছে।
- সেরিব্রাম ও সেরিবেলাম-এর মধ্যে সেতুর মতো সংযোগস্থাপন করে।
- কাজ:
- [f] লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলাম: চতুর্থ মস্তিষ্ক নিলয়ের পৃষ্ঠদেশে, গুরুমস্তিষ্কের তলদেশে, সুষুম্নাশীর্ষকের পিছনে লঘুমস্তিষ্ক অবস্থিত।
- কাজ: দেহের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেহের ঐচ্ছিক চলন নিয়ন্ত্রণ করে।
- [g] সুষুম্নাশীর্ষক বা মেডালা অবলংগাটা: এটি পনস্ ও সুষুম্নাকাণ্ডের মাঝে অবস্থিত পশ্চাদ্মস্তিষ্কের অংশ।
- কাজ:
- সুষুম্নাশীর্ষক বিভিন্ন আন্তরযন্ত্রীয় প্রতিবর্ত ক্রিয়া (হঠাৎ কোনো উদ্দীপনার সাপেক্ষে প্রতিক্রিয়া) নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন-হাঁচি, কাশি, বমি, লালাক্ষরণ প্রভৃতি।
- প্রশ্বাস ও নিশ্বাসের মাত্রা ও গভীরতা পরিবর্তন করে।
- কাজ:
🦴 সুষুম্নাকাণ্ড বা স্পাইনাল কর্ড (Spinal cord)
এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের দ্বিতীয় অংশ। এর ভিতরের দিকে ধূসর বস্তু ও বাইরে শ্বেতবস্তু অবস্থিত। মানব মস্তিষ্কে সুষুম্নাশীর্ষকের নীচে এটি উৎপন্ন হয়ে মেরুদণ্ডে প্রবেশ করে। মেরুদণ্ডের কশেরুকার ভিতর বিন্যস্ত নিউরাল ক্যানেল বা গহ্বর দিয়ে এটি মেরুদণ্ডের প্রান্ত অবধি বিস্তৃত থাকে।
- কাজ:
- বাহ্যিক অনুভূতিকে প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে স্নায়ু দ্বারা মস্তিষ্কে পৌঁছায়। মস্তিষ্কের কার্যকরী নির্দেশ স্নায়ু দ্বারা কারক অঙ্গে পৌঁছে দেয়।
- সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর বস্তু প্রতিবর্ত ক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্ররূপে কাজ করে।
🛡️ মেনিনজেস ও সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (Meninges and cerebrospinal fluid)
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের এই দুটি সাহায্যকারী অংশ সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল।
[a] মেনিনজেস
সমগ্র মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের বাইরে পর্দারূপে এর অবস্থান। ভিতর থেকে বাইরের দিকে এর তিনটি স্তর- পায়াম্যাটার, অ্যারাকনয়েড ম্যাটার ও ডুরাম্যাটার।
- কাজ:
- মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডকে যান্ত্রিক আঘাত ও সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
- করোটি ও সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ারে রক্ত সরবরাহে সাহায্য করে।
[b] সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড
চারটি মস্তিষ্ক নিলয়, সুষুম্নাকাণ্ডের কেন্দ্রীয় নালী এবং সাব-অ্যারাকনয়েড স্থানে CSF বিন্যস্ত থাকে। সাব-অ্যারাকনয়েড স্থান হল মেনিনজেসের দুটি স্তর-অ্যারাকনয়েড স্তর ও পিয়াম্যাটার স্তরের মধ্যবর্তী স্থান।
- কাজ:
- সমগ্র মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকান্ডকে বাহ্যিক আঘাত থেকে কুশনের মতো রক্ষা করে।
- মস্তিষ্কে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে ও তার উৎপন্ন বিপাকজাত দূষিত পদার্থগুলি দূর করে।
↩️ 1.4.9 প্রতিবর্ত ক্রিয়া ও প্রতিবর্ত পথ (Reflex action arc)
চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কোনো কাজের জন্য আমাদের রয়েছে মস্তিষ্ক। কিন্তু হঠাৎ করে অন্ধকারের মধ্যে চোখে উজ্জ্বল আলো এসে পড়লে আমরা দ্রুত চোখ বুজে ফেলি। চিন্তার অবকাশ পাইনা। এটাই হল প্রতিবর্ত ক্রিয়া।
প্রতিবর্ত ক্রিয়া: নির্দিষ্ট কোনো বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনার প্রভাবে প্রাণীদেহের তাৎক্ষণিক, স্বতঃস্ফূর্ত ও অনৈচ্ছিক স্নায়বিক প্রতিক্রিয়াকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
প্রতিবর্ত পথ: যে নির্দিষ্ট স্নায়ুপথে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার স্নায়ুস্পন্দন আবর্তিত হয়, তাকে প্রতিবর্ত পথ বা রিফ্লেক্স আর্ক বলে।
🔄 প্রতিবর্ত ক্রিয়ার প্রকারভেদ
রুশ বিজ্ঞানী ইভান প্যাট্রোভিচ প্যাভলভ প্রতিবর্ত ক্রিয়াকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন। যথা-
-
জন্মগত প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Inborn reflex action):
যেসব প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্মের পর থেকেই বিদ্যমান এবং যেগুলি পূর্ব অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল নয়, তাদের জন্মগত বা শর্তবিহীন বা সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। যেমন- জন্মের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর স্তনপানের ইচ্ছা, হাঁটুতে আঘাত করতে পা সোজা হয়ে যাওয়া, হাঁচি, বিষম খেয়ে কাশি, বমি প্রভৃতি।
-
অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Acquired reflex action):
যেসব প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্মের পরে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জিত হয়, তাদের অর্জিত বা শর্তাধীন প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। যেমন- মানুষের হাঁটা, কথা বলা, সাইকেল চালানো, টাইপ করা, ক্ষিপ্রতার সঙ্গে বল ধরা প্রভৃতি।
🐶 প্যাভলভের পরীক্ষা
রাশিয়ান শারীরবিদ ইভান প্যাভলভ কুকুরের শর্তাধীন প্রতিবর্ত ক্রিয়া আবিষ্কার করেন। তিনি পরীক্ষাধীন কুকুরটিকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে মেট্রোনোম নামক ঘণ্টা বাজিয়ে (উদ্দীপনা) বেশ কিছুদিন খাবার দেন, ফলস্বরূপ খাবার দেখে কুকুরটির লালা নিঃসরণ হয় (সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া)। কিছুদিন এইভাবে অনুশীলনের পর একদিন ওই নির্দিষ্ট সময়ে কুকুরটিকে খাবার না দিয়ে তিনি শুধু মেট্রোনোম বাজান, এবং লক্ষ করেন খাবার না দেখেই কুকুরটির মুখ থেকে লালা নিঃসৃত হয়। এইভাবে অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া আবিষ্কৃত হয় যা প্রকৃতপক্ষে অভ্যাসের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।
🔑 প্রতিবর্ত ক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য
দ্রুত কার্যকরী হওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিবর্ত পথে মস্তিষ্কের ভূমিকা সাধারণত থাকে না, মূলত সুষুম্নাকাণ্ড দিয়েই প্রতিক্রিয়া ঘটে থাকে।
🗺️ প্রতিবর্ত পথের অংশ
একটি প্রতিবর্ত পথের প্রধান অংশ হল পাঁচটি। যথা-
- গ্রাহক: পরিবেশ থেকে আগত উদ্দীপনা গ্রহণ করে গ্রাহক।
- সংজ্ঞাবহ বা অন্তর্বাহী স্নায়ুকোশ: সংজ্ঞাবহ স্নায়ুকোশ বা নিউরোনগুলি গ্রাহক থেকে স্নায়ুস্পন্দন বা সংজ্ঞা বয়ে স্নায়ুকেন্দ্রে নিয়ে যায়।
- স্নায়ুকেন্দ্র: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্গত সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর পদার্থে স্নায়ুকেন্দ্র থাকে। এখানে সংজ্ঞাবহ স্নায়ুস্পন্দন চেষ্টীয় স্নায়ুস্পন্দনে পরিণত হয়।
- আজ্ঞাবহ বা বহির্বাহী স্নায়ুকোশ: বহির্বাহী নিউরোন দ্বারা চেষ্টীয় উদ্দীপনা কারক অঙ্গে পৌঁছোয়।
- কারক অঙ্গ: পেশি ও গ্রন্থি হল কারক বা ইফেকটর অঙ্গ। চেষ্টীয় নিউরোন-বাহিত স্নায়ু উদ্দীপনার প্রভাবে এরা সাড়া দেয়।
🦶 উদাহরণ: পায়ের নীচে কাঁটা বিধলে আমরা তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে পা সরিয়ে দিই। এই প্রতিবর্তের স্নায়ু পথ হল-
- পায়ের নীচে অসংখ্য গ্রাহক থাকে, যারা কাঁটা ফোটার অনুভূতি গ্রহণ করে।
- এই অনুভূতি অন্তর্বাহী স্নায়ুকোশ হয়ে স্নায়ুকেন্দ্রে পৌঁছোয় এবং বহির্বাহী স্নায়ুকোশ দ্বারা পায়ের পেশি (কারক)-তে ফিরে আসে।
- এই স্নায়ুস্পন্দনের প্রভাবে পেশি সংকুচিত হয় ও পা সেই কাঁটাবেধা স্থান থেকে সরে যায়।
🌟 প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার গুরুত্ব
প্রতিবর্ত ক্রিয়া জীবকে বিভিন্ন প্রাত্যহিক সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। যেমন-
- [a] দ্রুত চোখের পলক পড়া: চোখে উজ্জ্বল আলো বা ধুলোবালি পড়লে আমরা দ্রুত চোখ বুজে ফেলি। চোখকে প্রতিরক্ষা দিতেই এই প্রতিবর্তটি ঘটে থাকে।
- [b] কাশি: শ্বাসনালীতে কোনো বস্তু হঠাৎ প্রবেশ করলে তৎক্ষণাৎ কাশি হয়। দ্রুত কাশির ফলে বলপূর্বক ফুসফুসীয় বায়ু ও ওই বস্তুর নির্গমন ঘটে।
- [c] হাঁচি: বাহ্যিক অনভিপ্রেত বস্তুকণা (ফুলের রেণু, ধোঁয়া, ধুলো প্রভৃতি) নাকে প্রবেশ করলে হাঁচি হয়। হাঁচির সময় বাতাসের সঙ্গে বহিরাগত বস্তু নাক দিয়ে বেরিয়ে যায়।
💡 জেনে রাখো
প্রাত্যহিক জীবনে সুষুম্নাকাণ্ড নিয়ন্ত্রিত সরল প্রতিবর্ত ক্রিয়া (চোখে আলো পড়লে বুজে যাওয়া) এবং মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড নিয়ন্ত্রিত জটিল প্রতিবর্ত ক্রিয়া (সাইকেল চালানো, হাঁটাচলা) উভয়ই দেখা যায়।
👀 1.4.10 চোখ-মানুষের জ্ঞানেন্দ্রিয় (Eye-human sense organ)
গ্রাহক ও স্নায়ুসমন্বিত যে বিশেষ অঙ্গ পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং তা অনুভবে সাহায্য করে, তাকে জ্ঞানেন্দ্রিয় বলে।
চোখ: যে জ্ঞানেন্দ্রিয় আলোক উদ্দীপনা গ্রহণ ও দর্শনে সাহায্য করে, তাকে চোখ বলে।
মানব চোখের বিভিন্ন অংশ ও তাদের কাজ
মানব চোখের গঠনকারী প্রধান অংশগুলি হল- অক্ষিগোলক, চোখের রক্ষণমূলক অংশ এবং অক্ষিপেশি।
[a] অক্ষিগোলক
করোটির দুটি অক্ষিকোটরে অক্ষিগোলক দুটি অবস্থান করে। অক্ষিগোলক 3টি আবরক কলাস্তর দ্বারা বাইরে থেকে ভিতরের দিকে আবৃত থাকে। যথা-
- তন্তুময় বহিস্তর
- রক্তজালকসমৃদ্ধ মধ্যস্তর
- স্নায়বিক অন্তঃস্তর
অক্ষিগোলকের বিভিন্ন অংশের গঠন ও কাজ
🎯 তন্তুময় বহিস্তর (Fibrous Outer Layer)
- গঠন:
- শ্বেতমণ্ডল বা স্ক্লেরা: তন্তুময় সংযোজক কলা দ্বারা অক্ষিগোলকের বাইরের স্তরটি গঠিত। এই কলাস্তরকে দু-ভাগে ভাগ করা যায়। বহিস্তরের ৫/৬ অংশ নিয়ে স্ক্লেরা গঠিত। এই অংশটি সাদা বর্ণের কোলাজেন তন্তু দ্বারা গঠিত।
- অচ্ছোদপটল বা কর্নিয়া: অক্ষিগোলকের সামনের দিকে বিন্যস্ত বহিস্তরের বাকি ১/৬ অংশ কর্নিয়া দ্বারা গঠিত। শ্বেতমণ্ডলের সঙ্গে একই কলাস্তরে এটি বিন্যস্ত থাকে।
- কাজ:
- স্ক্লেরা: অক্ষিগোলকের আকৃতি বজায় রাখে ও অক্ষিগোলকের ভিতরের অংশকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
- কর্নিয়া: স্বচ্ছ হওয়ায় এটি আলোকরশ্মিকে প্রতিসৃত করে লেন্সে কেন্দ্রীভূত করে।
🩸 রক্তজালকসমৃদ্ধ মধ্যস্তর (Vascular Middle Layer)
- গঠন:
- এটি অক্ষিগোলকের মধ্যস্তর যা রক্তবাহক সমৃদ্ধ। মেলানিন রঙ্গক থাকে বলে এই স্তরটি গাঢ় বাদামি বর্ণের হয়। মধ্যস্তরটি 3টি অংশ দিয়ে গঠিত-
- কৃষ্ণমণ্ডল বা কোরয়েড: কোরয়েড স্তরটি স্ক্লেরা স্তরের ভিতরের দিকে বিন্যস্ত থাকে।
- সিলিয়ারি বডি ও সাসপেনসরি লিগামেন্ট: সিলিয়ারি বডি একটি পেশিময় অংশ, যাতে তন্তুময় সাসপেনসরি লিগামেন্ট যুক্ত থাকে।
- আইরিস বা কণীনিকা: লেন্সের সামনে আইরিস (বাদামি, নীল, সবুজ প্রভৃতি বর্ণের) উপস্থিত। এর কেন্দ্রে একটি ছিদ্র থাকে। একে পিউপিল বা তারারন্ধ্র বলে।
- কাজ:
- এই স্তরটি অক্ষিগোলকে প্রবিষ্ট কিছু আলোর শোষণ করে ও তার প্রতিফলন রোধ করে।
- কোরয়েড: অক্ষিগোলকের কলাস্তরে পুষ্টি উপাদান ও অক্সিজেন সরবরাহ করে। এ ছাড়াও এটি কালো রঞ্জকযুক্ত হওয়ায় চোখের ভিতর আলোর অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন প্রতিরোধ করে।
- সিলিয়ারি বডি: লেন্সের পুরুত্ব ও বক্রতা পরিবর্তন করে। ফলে তার প্রতিসরাঙ্ক পরিবর্তিত করে কাছের ও দূরের জিনিস দেখতে সাহায্য করে।
- সাসপেনসরি লিগামেন্ট: লেন্সকে ধরে রাখতে ও এর বক্রতা পরিবর্তনে সাহায্য করে।
- আইরিস: তারারন্ধ্রকে যথাক্রমে ছোটো ও বড়ো করে চোখে প্রবিষ্ট আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
👁️ স্নায়বিক অন্তঃস্তর (Nervous Inner Layer)
- গঠন:
- অক্ষিগোলকে লেন্সের পিছনে কোরয়েডের ভিতরের দিকে এই স্তরটি অবস্থিত। একে রেটিনা বলে। রেটিনা স্তরটিতে কোশগুলি দশটি কলাস্তরে বিন্যস্ত থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বাইরের স্তরটি হল আবরণী স্তর, যা কোরয়েড সংলগ্ন থাকে। রেটিনার পিছনে অপটিক স্নায়ু উৎপন্ন হয়। রেটিনার স্তরের সব থেকে ভিতরে গুরুত্বপূর্ণ আলোক গ্রাহক স্তরটি বিন্যস্ত। এই স্তরে দু-প্রকার আলোক সংবেদী গ্রাহক কোশ দেখা যায়। যথা- দণ্ডাকৃতি রড কোশ (rod cell) ও পিরামিডাকৃতি কোন কোশ (cone cell)। রড কোশে আলোক সংবেদী রোডপসিন নামক প্রোটিন রঙ্গক থাকে।
- কাজ:
- বিভিন্ন বস্তু থেকে আগত আলোকরশ্মির দ্বারা রেটিনাতে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
- এখানে গঠিত প্রতিবিম্বকে স্নায়ু উদ্দীপনায় পরিবর্তিত করে অপটিক স্নায়ুতে পৌঁছে দেওয়া হল।
নিচের ডকুমেন্টটি আপনার দেওয়া ছবিগুলির পাঠ্যবস্তু (Bengali text) এবং বিন্যাস (layout) অনুসরণ করে টাইপ করে তৈরি করা হলো:
--- PAGE 1 ---
| ছায়া জীবনবিজ্ঞান ও পরিবেশ দশম শ্রেণি |
| কোন কোশে | আলোকসংবেদী প্রোটিন রঙ্গক থাকে |
|---|---|
| আয়োডপসিন বা স্কোটপসিন নামক । | ② রড কোশ কম আলোতে দেখতে ও সাদা- কালো অনুভূতি সৃষ্টিতে সাহায্য করে, পক্ষান্তরে কোন কোশ বেশি আলোতে দেখতে ও বস্তুর বর্ণ বুঝতে সাহায্য করে। |
আলোক রশ্মিকে প্রতিসৃত করে রেটিনাতে ফোকাস করে ও উপযোজন দ্বারা স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি করে।
অন্ধবিন্দু: রেটিনার যে অংশ থেকে অপটিক স্নায়ু নির্গত হয়, সেখানে কোনো আলোক গ্রাহক (রড ও কোন) কোশ থাকে না। তাই এই অংশে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয় না। এই অংশটিকে অন্ধবিন্দু () বা স্কোটোমা বলে।
পীতবিন্দু: রেটিনার কেন্দ্রে ডিম্বাকার হলুদ বর্ণের অংশে কোন কোশের সংখ্যা বেশি থাকায় সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। একে পীতবিন্দু বা ম্যাকুলা লুটিয়া বলে।
| অন্তঃস্তর | দ্বি-উত্তল ও অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক একটি গঠন। এতে ক্রিস্টালিন নামক প্রোটিন থাকে। |
| প্রকোষ্ঠ | অক্ষিগোলকে তিনটি প্রকোষ্ঠ উপস্থিত। যথা- ① অগ্র প্রকোষ্ঠ: কর্নিয়া ও আইরিসের মধ্যবর্তী প্রকোষ্ঠ। ② পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠ: আইরিস ও লেন্সের মধ্যবর্তী প্রকোষ্ঠ। ③ ভিট্রিয়াস প্রকোষ্ঠ: লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী প্রকোষ্ঠ। |
| স্নায়বিক | ① অগ্র প্রকোষ্ঠে ও পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে অ্যাকুয়াস হিউমর নামক স্বচ্ছ তরল উপস্থিত, যা আলোকরশ্মিকে প্রতিসৃত করে প্রতিবিম্ব গঠনে সাহায্য করে। অ্যাকুয়াস হিউমর লেন্স, কর্নিয়া ও আইরিসের পরিপোষকরূপে কাজ করে। ② ভিট্রিয়াস প্রকোষ্ঠে ভিট্রিয়াস হিউমর নামক স্বচ্ছ তরল থাকে, যা আলোকরশ্মি প্রতিসৃত করে প্রতিবিম্ব গঠন করে। ③ অ্যাকুয়াস হিউমর ও ভিট্রিয়াস হিউমর অক্ষিগোলকের অভ্যন্তরীণ চাপ ও আকার বজায় রাখতে সাহায্য করে। |
[b] চোখের রক্ষণমূলক অংশ: এই অংশগুলি চোখকে প্রতিরক্ষা প্রদান করে। নীচে এদের গঠন ও কাজ আলোচিত হল।
চোখের রক্ষণমূলক অংশগুলির গঠন ও কাজ
| অংশ | গঠন | কাজ |
|---|---|---|
| কনজাংটিভা | ঊধ্ব অক্ষিপল্লবের ভিতরের তল থেকে শুরু করে নিম্ন অক্ষিপল্লবের ভিতরের তল পর্যন্ত কর্নিয়ার ওপরে উপস্থিত এই পর্দা পাতলা ও অর্ধস্বচ্ছ প্রকৃতির হয়। | কর্নিয়া স্তরকে ধুলোবালি থেকে রক্ষা করে। |
| অক্ষিপল্লব | প্রতিটি চোখের ওপরে ও নীচে পাতলা নরম ত্বক দিয়ে তৈরি গঠন। | ① চোখকে ধুলোবালি থেকে রক্ষা করে। ② তীব্র আলোতে চোখকে রক্ষা করে। |
| অশ্রুগ্রন্থি | ওপরের অক্ষিপল্লবের ভিতরের দিকে অশ্রুগ্রন্থি অবস্থিত। এই গ্রন্থি কতকগুলি নালিকার সমন্বয়। | ① লাইসোজাইম উৎসেচক ও , ইত্যাদি লবণ-মিশ্রিত অশ্রু ক্ষরণ করে, এর ফলে চোখ জীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। ② চোখে ধুলোবালি পড়লে তা ধুয়ে বের করে দেয়। |
--- PAGE 2 ---
| ছায়া জীবনবিজ্ঞান ও পরিবেশ দশম শ্রেণি |
| কোন কোশে আয়োডপসিন বা স্কোটপসিন নামক আলোকসংবেদী প্রোটিন রঙ্গক থাকে | ② রড কোশ কম আলোতে দেখতে ও সাদা-কালো অনুভূতি সৃষ্টিতে সাহায্য করে, পক্ষান্তরে কোন কোশ বেশি আলোতে দেখতে ও বস্তুর বর্ণ বুঝতে সাহায্য করে। |
|---|---|
| অন্ধবিন্দু: রেটিনার যে অংশ থেকে অপটিক স্নায়ু নির্গত হয়, সেখানে কোনো আলোক গ্রাহক (রড ও কোন) কোশ থাকে না। তাই এই অংশে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয় না। এই অংশটিকে অন্ধবিন্দু () বা স্কোটোমা বলে। | আলোক রশ্মিকে প্রতিসৃত করে রেটিনাতে ফোকাস করে ও উপযোজন দ্বারা স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি করে। |
| পীতবিন্দু: রেটিনার কেন্দ্রে ডিম্বাকার হলুদ বর্ণের অংশে কোন কোশের সংখ্যা বেশি থাকায় সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। একে পীতবিন্দু বা ম্যাকুলা লুটিয়া বলে। | দ্বি-উত্তল ও অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক একটি গঠন। এতে ক্রিস্টালিন নামক প্রোটিন থাকে। |
| প্রকোষ্ঠ | স্নায়বিক |
|---|---|
| অক্ষিগোলকে তিনটি প্রকোষ্ঠ উপস্থিত। যথা-① অগ্র প্রকোষ্ঠ: কর্নিয়া ও আইরিসের মধ্যবর্তী প্রকোষ্ঠ। ② পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠ: আইরিস ও লেন্সের মধ্যবর্তী প্রকোষ্ঠ। ③ ভিট্রিয়াস প্রকোষ্ঠ: লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী প্রকোষ্ঠ। | ① অগ্র প্রকোষ্ঠে ও পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে অ্যাকুয়াস হিউমর নামক স্বচ্ছ তরল উপস্থিত, যা আলোকরশ্মিকে প্রতিসৃত করে প্রতিবিম্ব গঠনে সাহায্য করে। অ্যাকুয়াস হিউমর লেন্স, কর্নিয়া ও আইরিসের পরিপোষকরূপে কাজ করে। ② ভিট্রিয়াস প্রকোষ্ঠে ভিট্রিয়াস হিউমর নামক স্বচ্ছ তরল থাকে, যা আলোকরশ্মি প্রতিসৃত করে প্রতিবিম্ব গঠন করে। ③ অ্যাকুয়াস হিউমর ও ভিট্রিয়াস হিউমর অক্ষিগোলকের অভ্যন্তরীণ চাপ ও আকার বজায় রাখতে সাহায্য করে। |
[b] চোখের রক্ষণমূলক অংশ: এই অংশগুলি চোখকে প্রতিরক্ষা প্রদান করে। নীচে এদের গঠন ও কাজ আলোচিত হল।
চোখের রক্ষণমূলক অংশগুলির গঠন ও কাজ
| অংশ | গঠন | কাজ |
|---|---|---|
| কনজাংটিভা | ঊধ্ব অক্ষিপল্লবের ভিতরের তল থেকে শুরু করে নিম্ন অক্ষিপল্লবের ভিতরের তল পর্যন্ত কর্নিয়ার ওপরে উপস্থিত এই পর্দা পাতলা ও অর্ধস্বচ্ছ প্রকৃতির হয়। | কর্নিয়া স্তরকে ধুলোবালি থেকে রক্ষা করে। |
| অক্ষিপল্লব | প্রতিটি চোখের ওপরে ও নীচে পাতলা নরম ত্বক দিয়ে তৈরি গঠন। | ① চোখকে ধুলোবালি থেকে রক্ষা করে। ② তীব্র আলোতে চোখকে রক্ষা করে। |
| অশ্রুগ্রন্থি | ওপরের অক্ষিপল্লবের ভিতরের দিকে অশ্রুগ্রন্থি অবস্থিত। এই গ্রন্থি কতকগুলি নালিকার সমন্বয়। | ① লাইসোজাইম উৎসেচক ও , ইত্যাদি লবণ-মিশ্রিত অশ্রু ক্ষরণ করে, এর ফলে চোখ জীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। ② চোখে ধুলোবালি পড়লে তা ধুয়ে বের করে দেয়। |
--- PAGE 3 ---
জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়
| (চিত্রের জন্য স্থান) |
[c] অক্ষিপেশি: অক্ষিকোটরের ভিতরে অক্ষিগোলক ৬টি পেশি দ্বারা যুক্ত থাকে।
যেমন- টি রেকটাস পেশি চোখকে ওপর-নীচে ও পাশাপাশি দেখার জন্য অক্ষিগোলক ঘোরাতে সাহায্য করে। চোখের ঘূর্ণনে টি অবলিক পেশি সাহায্য করে।
দ্বিনেত্র দৃষ্টি (): এইপ্রকার দৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রাণীর দুটি চোখের মাধ্যমে দৃষ্ট বস্তু মস্তিষ্কে একটিই প্রতিবিম্ব গঠন করে। এইপ্রকার দৃষ্টি দ্বিনেত্র বা স্টিরিওস্কোপিক দৃষ্টি নামে পরিচিত। এক্ষেত্রে বস্তুর প্রতিবিম্ব ত্রিমাত্রিক হয়। সাধারণত মানুষ এবং শিকারি প্রাণী, যেমন-বাঘ, বেড়াল ইত্যাদি প্রাণীর এই প্রকার দৃষ্টি দেখা যায়। এদের চোখ দুটি মুখের সামনের দিকে অবস্থিত।
দ্বিনেত্র দৃষ্টি: যে দর্শন পদ্ধতিতে দুটি পৃথক চোখ দ্বারা সৃষ্ট দুটি প্রতিবিম্ব সমাপতিত হয়ে ত্রিমাত্রিক, সুস্পষ্ট একক প্রতিবিম্ব গঠিত হয়, তাকে দ্বিনেত্র দৃষ্টি বলে।
একনেত্র দৃষ্টি (): একনেত্র দৃষ্টির ক্ষেত্রে জীবের দুটি চোখ পৃথকভাবে দুটি প্রতিবিম্ব দেখতে পায়। এক্ষেত্রে চোখদুটি মাথার দুই পাশে থাকে (যেমন-গিরগিটি, মাছ, পতঙ্গ, ঘোড়া, গোরু, অধিকাংশ পাখি) বলে পৃথক প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। অনেকসময় মানুষের একটি চোখ বিনষ্ট হলে একনেত্র দৃষ্টি অবস্থার সৃষ্টি হয়।
একনেত্র দৃষ্টি: যে দর্শন পদ্ধতিতে মস্তিষ্কের দুই পার্শ্বে বিন্যস্ত দুটি চোখ দ্বারা সৃষ্ট দুটি প্রতিবিম্ব পৃথকভাবে অনুভূত হয় ও প্রতিবিম্ব অনুন্নত প্রকৃতির হয়, তাকে একনেত্র দৃষ্টি বলে।
একনেত্র ও দ্বিনেত্র দৃষ্টির পার্থক্য
| বিষয় | একনেত্র দৃষ্টি | দ্বিনেত্র দৃষ্টি |
|---|---|---|
| 1. দৃষ্টির বৈশিষ্ট্য | চোখদুটি মুখের দুই পাশে থাকে (দৃষ্টিক্ষেত্র পৃথক হয়) বলে দুটি পৃথক দৃশ্য তৈরি করে। | চোখদুটি মুখের সামনে থাকে বলে দুটি চোখের প্রতিবিম্ব সমাপতিত হয়ে একটি দৃশ্য তৈরি করে। |
| 2. প্রতিবিম্বের প্রকৃতি | বস্তুর ত্রিমাত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলনামূলক কম অনুভূত হয়। | বস্তুর গভীরতা, উচ্চতা, দূরত্ব প্রভৃতি ত্রিমাত্রিক বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। |
উপযোজন (): দূরের বা কাছের কোনো বস্তুকে দেখার জন্য চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব পরিবর্তিত হতে পারে। চোখের এই মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকে উপযোজন বা অ্যাকোমোডেশন বলে।
উপযোজন: যে স্বতঃস্ফূর্ত ও দ্রুত পদ্ধতিতে বস্তুর দূরত্ব অনুযায়ী সিলিয়ারি পেশি চোখের লেন্সের বক্রতার পরিবর্তন করে বস্তুর সঠিক দর্শনে সাহায্য করে, তাকে উপযোজন বলে।
গুরুত্ব: পারিপার্শ্বিক পরিবেশ অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে মানিয়ে নিয়ে প্রাণীকে আত্মরক্ষা ও সফলভাবে বেঁচে থাকায় উপযোজন সাহায্য করে। রাস্তাঘাটে কাছের ও দূরের বস্তুকে দ্রুত দেখে সেইমতো ব্যবস্থা গ্রহণে সাহায্য করে। রাস্তার নানা বাধা, ট্রাফিক সিগন্যাল, পথনির্দেশ নজর করবার সময়, টেনিস, ক্রিকেট প্রভৃতি খেলাধুলোর সময় উপযোজন আমাদের সাহায্য করে থাকে।
পদ্ধতি: দৃশ্যমান বস্তুকে ফোকাসে রাখার জন্য লেন্সের আকার নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে পরিবর্তিত হয়।
[a] দূরের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে (): মিটারের বেশি দূরে অবস্থিত বস্তুর ক্ষেত্রে চোখের উপযোজন পদ্ধতিটি হল- সিলিয়ারি পেশির শিথিলীকরণ লেন্সের বক্রতা হ্রাস লেন্সের পুরুত্ব হ্রাস (চ্যাপটা হয়) লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি রেটিনায় বস্তুর সঠিক প্রতিবিম্ব গঠন।
--- PAGE 4 ---
| (চিত্রের জন্য স্থান) | |
| ছায়া জীবনবিজ্ঞান ও পরিবেশ দশম শ্রেণি |
[b] কাছের বস্তুর ক্ষেত্রে (): কোনো বস্তু মিটারের মধ্যে অবস্থিত হলে লেন্সের উপযোজন পদ্ধতিটি হল- সিলিয়ারি পেশির সংকোচন লেন্সের বক্রতা বৃদ্ধি লেন্সের পুরুত্ব বৃদ্ধি লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য হ্রাস রেটিনায় বস্তুর সঠিক প্রতিবিম্ব গঠন।
| সরু লেন্স | পুরু লেন্স |
| সমান্তরাল রশ্মি | অপসৃত রশ্মি |
| দূরের জিনিস দেখার ক্ষেত্রে | কাছের জিনিস দেখার ক্ষেত্রে |
| লেন্সের উপযোজন |
মানব দৃষ্টির ত্রুটি ও সংশোধন পদ্ধতি ()
উপযোজনগত ত্রুটি: বিভিন্ন কারণে মানুষের চোখের উপযোজন ক্ষমতা হ্রাস পায়। মানব দৃষ্টির কয়েকটি সাধারণ সমস্যা হল-
[a] মায়োপিয়া বা নিকটবদ্ধ দৃষ্টি: অক্ষিগোলকের আকার স্বাভাবিকের থেকে বড়ো হয়ে গেলে বস্তুর প্রতিবিম্ব চোখের রেটিনাতে গঠিত না হয়ে তার আগেই গঠিত হয়, ফলে রেটিনাতে বস্তুর অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। একে মায়োপিয়া () বলে।
- সংশোধন: মায়োপিয়ার ত্রুটি দূর করার জন্য সঠিক বিবর্ধন ক্ষমতাযুক্ত অবতল লেন্স চশমায় ব্যবহার করতে হয়। ওই লেন্স আলোক রশ্মিকে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ফোকাস বিন্দুতে আপতিত করে চোখের রেটিনাতে স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠনে সাহায্য করে।
[b] হাইপারোপিয়া বা দূরবদ্ধ দৃষ্টি: অক্ষিগোলকের আকার স্বাভাবিকের তুলনায় ছোটো হলে প্রতিবিম্ব রেটিনা ছাড়িয়ে পশ্চাতে গঠিত হয়। ফলে বস্তুর প্রতিবিম্ব অস্পষ্ট হয়। একে হাইপারোপিয়া বা হাইপারমেট্রোপিয়া () বলে।
- সংশোধন: সঠিক বিবর্ধন ক্ষমতাযুক্ত উত্তল লেন্স চশমায় ব্যবহার করলে এই সমস্যা দূর হয়। এক্ষেত্রে ওই লেন্স আলোকরশ্মিকে অভিসৃত করে হ্রাসপ্রাপ্ত ফোকাস বিন্দুতে আপতিত করার মাধ্যমে রেটিনায় প্রতিবিম্ব গঠন করে।
[c] প্রেসবায়োপিয়া: চল্লিশ বছরের কাছাকাছি বয়সে চোখের লেন্সের সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে ব্যক্তির কাছের বস্তুকে দেখতে, বিশেষত পড়তে অসুবিধা হয়। এই অবস্থাকে প্রেসবায়োপিয়া বলে। এক্ষেত্রে সমস্যাটি হাইপারোপিয়ার মতোই হয়।
- সংশোধন: চশমায় উত্তল লেন্স ব্যবহারে () এই সমস্যা দূর হয়। তবে এরই সঙ্গে মায়োপিয়া থাকলে বাইফোকাল লেন্স ব্যবহৃত হয়।
--- PAGE 5 ---
জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়
| (চিত্রের জন্য স্থান) |
বাইফোকাল লেন্সের দুটি অংশ থাকে। এর ওপরের অংশ মায়োপিয়া বা দূরদৃষ্টি সংশোধনে ব্যবহৃত হয় ও লেন্সের নীচের অংশে প্রকৃতপক্ষে প্রেসবায়োপিয়া সংশোধিত হয়।
ক্যাটারাক্ট বা চোখের ছানি: আঘাত, রোগ সংক্রমণ বা বয়সজনিত কারণে চোখের লেন্সের প্রোটিন বিনষ্ট হলে বা তাতে রঙ্গক জমা হলে রেটিনাতে অস্বচ্ছ প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। একে ক্যাটারাক্ট বা ছানি বলে। চোখের ছানি একটি বা দুটি চোখেই হতে পারে।
[a] রোগলক্ষণ: (i) দৃষ্টি অস্পষ্ট বা আবছা হয়ে যায়। (ii) রাতে দেখতে অসুবিধা হয়। (iii) আলোক উৎসকে অধিক উদ্ভাসিত দেখায়।
[b] রোগের কারণ: (i) বয়সজনিত জরা, (ii) অতিবেগুনি রশ্মি, -রশ্মি, ডায়াবেটিস মেলিটাস, ধূমপান এর অন্যতম কারণ।
[c] চোখের ছানি সমস্যার সংশোধন: (i) শল্যচিকিৎসায় ক্ষতিগ্রস্ত লেন্সটির পরিবর্তে কৃত্রিম প্লাস্টিক লেন্স স্থাপন করা যায়। (ii) ফ্যাকোইমালসিফিকেশন দ্বারা বর্তমানে ছানি অপারেশন করা হয়। এক্ষেত্রে কর্নিয়া কেটে আলট্রসাউন্ড যন্ত্র প্রবেশ করিয়ে ছানিসহ লেন্সকে টুকরো করা হয়। এরপর যন্ত্র দ্বারা তা চোষক পদ্ধতিতে বের করে আনা হয়। শেষে প্রকৃত লেন্সের স্থানে কৃত্রিম লেন্স বসানো হয়।
| ক্যাটারাক্ট লেন্স | বিচ্ছুরিত আলো |
|---|---|
| (চিত্রের জন্য স্থান) | ক্যাটারাক্ট |
CONTENT MANAGER