Academy

৩. বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ

৩. বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ - WBBSE - Class 10 - বিজ্ঞান

0

3 বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ 🧬

Heredity and Some Common Genetic Diseases

3.2 🩺 সাধারণ জিনগত রোগ (Some common genetic diseases)

মানুষের ক্ষেত্রে কতকগুলি অটোজোমাল ও সেক্স ক্রোমোজোমাল জিনগত রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। নীচে তাদের সম্বন্ধে আলোচনা করা হল।

3.2.1 🧬 পপুলেশনে সাধারণ জিনগত রোগ (Some common genetic diseases in population)

মানব পপুলেশনে দেখা যায় এমন কয়েকটি জিনগত রোগ, যেমন—থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়াবর্ণান্ধতা নিয়ে এখানে আলোচনা করা হল।

  1. থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia): থ্যালাসেমিয়া মানুষের একটি বংশগত রোগ যাতে রক্তের অক্সিজেন বহনকারী হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে ত্রুটি অথবা ঘাটতি দেখা যায়। এর ফলে রোগীর দেহে তীব্র বা মৃদু রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয় ও অক্সিজেন পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। থ্যালাসেমিয়া প্রধানত দুই প্রকার হয়। যেমন—আলফা থ্যালাসেমিয়া এবং বিটা থ্যালাসেমিয়া

    📜 ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: আমেরিকান চিকিৎসক থমাস বেন্টন কুলি (Thomas Benton Cooley) সর্বপ্রথম 1925 খ্রিস্টাব্দে শিশুদের β থ্যালাসেমিয়া মেজর রোগটিকে বর্ণনা করেন 'এরিথ্রোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া' রোগরূপে। এই কারণে তাঁর নামানুসারে β থ্যালাসেমিয়া মেজর নামক রোগটি কুলি'র অ্যানিমিয়া (Cooley's anaemia) নামে বর্তমানে পরিচিত।


ছাত্র জীবনবিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি

🧬 থ্যালাসেমিয়া

রোগের তীব্রতা অনুযায়ী থ্যালাসেমিয়াকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। α (আলফা) এবং β (বিটা) থ্যালাসেমিয়া উভয়েই এই দুই প্রকার থ্যালাসেমিয়া দেখা যায়। এদের মধ্যে প্রধান দুটি হলো:

  • থ্যালাসেমিয়া মেজর: 🩸 এই রোগটি তীব্র প্রকৃতির। এর লক্ষণ সাধারণত ছয় মাস থেকে দুবছরের মধ্যে প্রকাশ পায়।
  • থ্যালাসেমিয়া মাইনর: 🩹 এক্ষেত্রে রোগলক্ষণ তুলনামূলক কম তীব্র

💡 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: মানুষের রক্তের হিমোগ্লোবিন অণুটির 'হিম' নামক লৌহঘটিত রঞ্জক এবং 'গ্লোবিন প্রোটিন' নামক পলিপেপটাইড শৃঙ্খল নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে দুটি α (আলফা) গ্লবিন এবং দুটি β (বিটা) গ্লবিন প্রোটিন (α2β2) থাকে।

[a] লক্ষণ: থ্যালাসেমিয়ার প্রধান লক্ষণগুলি হলো:

  1. অ্যানিমিয়া: হিমোগ্লোবিন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তীব্র অ্যানিমিয়া সৃষ্টি হয়।
  2. লৌহ সঞ্চয়: অ্যানিমিয়ার কারণে এই রোগে ঘন ঘন রক্ত সঞ্চারণ করতে হয়, ফলে রক্তে লোহা জমে যায় (যাকে আয়রন ওভারলোড বলে)। ফলে তা প্লীহা, যকৃত ও অস্থিমজ্জাতেও অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়।
  3. হাড়ের গঠন বিকৃতি: অতিরিক্ত অস্থিমজ্জা বৃদ্ধির কারণে হাড়ের গঠন অস্বাভাবিক হয়।
  4. প্লীহার বৃদ্ধি (প্লীহামেগালি): প্লীহার অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটে।

[b] কারণ: 🧬 থ্যালাসেমিয়া একটি অটোসোমাল জিনগত বংশগত রোগ। এই রোগে মানুষের রক্তে উপস্থিত হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিউলার বা গ্লোবিন প্রোটিন উৎপাদন ব্যাহত হয়।

  • মানুষের 16 নং ক্রোমোজোমে HBA1 এবং HBA2 জিনের মিউটেশনের ফলে হিমোগ্লোবিনের α (আলফা) গ্লোবিন পলিপেপটাইড তৈরি ব্যাহত হয়। চারটি অ্যালিলের মধ্যে দুটি অ্যালিলের মিউটেশন ঘটলে α থ্যালাসেমিয়া মাইনর (মৃদু মাত্রার) এবং চারটি অ্যালিলেরই মিউটেশন ঘটলে α থ্যালাসেমিয়া মেজর (তীব্র মাত্রার) দেখা দেয়।
  • অপরদিকে, মানুষের 11 নং ক্রোমোজোমে HBB জিনের মিউটেশনের ফলে হিমোগ্লোবিনের β (বিটা) গ্লোবিন পলিপেপটাইড তৈরি ব্যাহত হয়। দুটি অ্যালিলের মধ্যে একটিতে মিউটেশন ঘটলে β থ্যালাসেমিয়া মাইনর (মৃদু মাত্রার) এবং দুটিতেই মিউটেশন ঘটলে β থ্যালাসেমিয়া মেজর (তীব্র মাত্রার) দেখা দেয়।

[c] রোগের বংশগতি: 👪 থ্যালাসেমিয়া মাইনর আক্রান্ত পুরুষ ও স্ত্রীর বিবাহের ক্ষেত্রে সন্তানদের মধ্যে রোগের বহিঃপ্রকাশ নিচে দেখানো হলো। এখানে থ্যালাসেমিয়ার স্বাভাবিক অ্যালিলকে α-thal⁺ এবং রোগসৃষ্টিকারী অ্যালিলকে α-thal দ্বারা প্রকাশ করা হলো।

(উপরে দেওয়া চিত্রটিতে থ্যালাসেমিয়া মাইনর আক্রান্ত পুরুষ (α-thal⁺/α-thal) এবং থ্যালাসেমিয়া মাইনর আক্রান্ত স্ত্রীর (α-thal⁺/α-thal) মধ্যে সংকরায়ণ দেখানো হয়েছে। তাদের জননকোষগুলি (গ্যামেট) হলো α-thal⁺ এবং α-thal।)

অপত্য জনুর চেকার বোর্ড (Punnett Square):

♀ / ♂α-thal⁺α-thal
α-thal⁺α-thal⁺α-thal⁺ (স্বাভাবিক)α-thal⁺α-thal (থ্যালাসেমিয়া মাইনর)
α-thalα-thal⁺α-thal (থ্যালাসেমিয়া মাইনর)α-thalα-thal (থ্যালাসেমিয়া মেজর)

বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ

2. হিমোফিলিয়া (Haemophilia) 🩸

হিমোফিলিয়া হল মানুষের X ক্রোমোজোম বাহিত একটি অটোজোম জিনগত রোগ। এই রোগে রক্ততঞ্চনকারী উপাদানের অভাবে রোগীর দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে সেই রক্তসস্থান থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকে, রক্ততঞ্চন হয় না। এজন্য একে ব্লিডার্স ডিজিজ (Bleeder's Disease)-ও বলে। জন ওটো প্রথম (1803) রোগটি শনাক্ত করেন।

💡 জ্ঞান-বৃদ্ধি

ইংল্যান্ডের রাজপরিবারে হিমোফিলিয়া B রোগটি বংশগতভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। সম্ভবত মহারাণী প্রথম ভিক্টোরিয়া এই রোগটির সর্বপ্রথম বাহক ছিলেন। এজন্য হিমোফিলিয়া রোগটিকে রয়্যাল ডিজিজ (Royal Disease)-ও বলা হয়।

[a] লক্ষণ: (Symptoms) 🩺

হিমোফিলিয়া রোগটি মৃদু বা তীব্র প্রকৃতির হতে পারে। এর প্রধান লক্ষণগুলি হল—

  1. সামান্য কেটে বা ছুড়ে গেলে দীর্ঘ সময় ধরে অনেক পরিমাণে রক্তক্ষরণ হওয়া।
  2. কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হওয়া।
  3. অস্থিসন্ধিতে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটা এবং অস্থিসন্ধি ফুলে যন্ত্রণা হওয়া।
  4. তীব্র হিমোফিলিয়ার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে প্যারালিসিস এবং জীবনহানির আশঙ্কা দেখা দেয়।

(চিত্র: নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ - Bleeding from the nose)

[b] কারণ: (Causes) 🧬

মানুষের X ক্রোমোজোমে অবস্থিত একটি প্রচ্ছন্ন জিনের মিউটেশনের কারণে রক্ততঞ্চনে সাহায্যকারী ফ্যাক্টর VIII বা অ্যান্টিহিমোফিলিক ফ্যাক্টর বা AHF কম তৈরি বা একদমই তৈরি না হওয়ায় হিমোফিলিয়া A বা ক্লাসিক হিমোফিলিয়া রোগটি দেখা দেয়। 80% হিমোফিলিয়াই এই প্রকৃতির।

X ক্রোমোজোমে অবস্থিত অপর একটি প্রচ্ছন্ন জিনের মিউটেশনের কারণে রক্ততঞ্চনে সাহায্যকারী ফ্যাক্টর IX বা ক্রিসমাস ফ্যাক্টর (Christmas Factor) কম তৈরি বা একদমই তৈরি না হওয়ায় হিমোফিলিয়া B বা ক্রিসমাস রোগ সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও হিমোফিলিয়া C নামক অপর একপ্রকার হিমোফিলিয়া দেখা যায়, যা অটোজোমাল জিনগত ও সম্পূর্ণ প্রচ্ছন্ন নয়। এটি রক্ততঞ্চনকারী ফ্যাক্টর XI বা প্লাজমা থ্রম্বোপ্লাস্টিন অ্যান্টিসিডেন্ট বা PTA-এর অভাব বা অনুপস্থিতিতে সৃষ্টি হয়।

🧠 জ্ঞান-বোধ-বিকাশ

হিমোফিলিয়া ও বর্ণান্ধতা রোগদুটি X ক্রোমোজোম সংযোজিত বলে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের এই রোগ দুটি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

[c] হিমোফিলিয়া রোগের বংশগতি: (Heredity of Hemophilia) 🧑‍🔬

(i) হিমোফিলিয়ার স্বাভাবিক ও প্রকট অ্যালিলটি 'H' এবং রোগসৃষ্টিকারী প্রচ্ছন্ন অ্যালিলটি 'h' হলে, বিশুদ্ধ স্বাভাবিক মহিলা ও হিমোফিলিয়া আক্রান্ত পুরুষের বিবাহের ফলে উদ্ভূত অপত্যদের মধ্যে হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হল:

  • বংশগতির সারণি (Genetic Cross Table):
    • জনিত্র জন (Parental Generation):
      • বিশুদ্ধ স্বাভাবিক মহিলা (Pure Normal Female): XᴴXᴴ
      • হিমোফিলিয়া আক্রান্ত পুরুষ (Hemophiliac Affected Male): XʰY
    • গ্যামেট (Gametes):
      • মহিলা (Female): Xᴴ
      • পুরুষ (Male): Xʰ, Y
    • অপত্য জনু (Offspring Generation):
      • XᴴXʰ (বাহক কন্যা - Carrier Daughter)
      • XᴴY (স্বাভাবিক পুত্র - Normal Son)

(ii) কোনো জনুর বাহক কন্যার যদি স্বাভাবিক পুরুষের সঙ্গে বিবাহ হয়, সেক্ষেত্রে হিমোফিলিয়া...


ত্রুটিপূর্ণ জীবনবিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি

জিনটির বংশানুসরণ

জিনটির বংশানুসরণ চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখানো হল।

♀️ \ ♂️XᴴY
Xᴴস্বাভাবিক কন্যা (XᴴXᴴ)স্বাভাবিক পুত্র (XᴴY)
বাহক কন্যা (XᴴXʰ)আক্রান্ত পুত্র (XʰY)

📌 25% অপত্য বা 50% পুত্র হিমোফিলিক

3. বর্ণান্ধতা (Colour blindness) 👁️‍🗨️

বর্ণান্ধতা মানুষের X ক্রোমোজোম সংযোজিত একটি প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত বংশগত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত লাল ও সবুজ বর্ণ শনাক্ত করতে পারেন না। একে বর্ণান্ধতা বলে। সম্পূর্ণ বর্ণান্ধতা বা মনোক্রোম্যাসি (monochromacy), অর্থাৎ সাদা-কালো দৃশ্যমানতা প্রায় দেখাই যায় না। প্রকৃতপক্ষে বর্ণান্ধতা বলতে লাল বর্ণান্ধতা বা প্রোটোনোপিয়া এবং সবুজ বর্ণান্ধতা বা ডিউটেরোনোপিয়া-কে বোঝায়।

💡 পৃথিবীর সামগ্রিক পপুলেশনের পুরুষদের 5-8% এবং মহিলাদের 0.5% হল বর্ণান্ধ। অর্থাৎ হিমোফিলিয়ার মতো বর্ণান্ধতাও X ক্রোমোজোম সংযোজিত বলে পুরুষদের মধ্যে রোগের সম্ভাবনা বেশি। ইশিহারা চার্টের সাহায্যে বর্ণান্ধতা নির্ণয় করা হয়।

চিত্র: ইশিহারা চার্ট

[a] লক্ষণ (Symptoms) 📝

বর্ণান্ধতার প্রকারভেদ অনুযায়ী তার লক্ষণ পৃথক হয়। নীচে বিভিন্ন প্রকার বর্ণান্ধতা ও তার লক্ষণ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হল—

  1. প্রোটোনোপিয়া বা লাল বর্ণান্ধতা (Protanopia) 🔴 লাল বর্ণান্ধতার ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি লাল বর্ণ চিনতে পারেন না। লাল বর্ণান্ধ বা প্রোটোনোপ ব্যক্তিরা লাল, কমলা ও হলদে বর্ণের উজ্জ্বলতা স্বাভাবিক ব্যক্তির তুলনায় কম দেখেন। এর ফলে তাঁরা লাল বর্ণকে কালো বা গাঢ় বাদামি দেখেন (লাল ট্রাফিক লাইট থাকলে তা তার কাছে অদৃশ্য থাকে), কমলা-হলদে-সবুজ বর্ণকে বিভিন্ন গাঢ়ত্বের হলদে দেখেন এবং বেগুনি বর্ণকে নীল দেখেন (বেগুনি লাল রশ্মি অদৃশ্য থাকে)।

  2. ডিউটেরোনোপিয়া বা সবুজ বর্ণান্ধতা (Deuteranopia) 🟢 সবুজ বর্ণান্ধতার ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি (ডিউটেরোনোপ) সবুজ বর্ণ চিনতে পারেন না। তাঁরা লাল, কমলা, হলদে ও সবুজ বর্ণ...

চিত্র: বিভিন্ন প্রকার বর্ণান্ধতা


বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ 📚 (পৃষ্ঠা 87)

💡 কিছু লোক রঙ সঠিকভাবে চিনতে পারে না, যেমন প্রোটানোপিয়ার মতো অস্পষ্ট বা আবছা দেখতে পায়।

📌 ট্রাইটেনোপিয়া (Tritanopia): নীল বর্ণ সঠিকভাবে চিনতে না পারাকে ট্রাইটেনোপিয়া বলে।

(b) কারণ: 🧬

মানুষের চোখে রঙ চিনবার জন্য দায়ী কোষ হল কোন (cone) কোষ। কোন কোষ তিন প্রকারের হয়, যথা— লাল সংবেদী কোন কোষ, সবুজ সংবেদী কোন কোষ ও নীল সংবেদী কোন কোষ। এই তিন প্রকার কোন কোষে যথাক্রমে লাল, সবুজ ও নীল বর্ণ সংবেদী ফোটোপসিন রঞ্জক থাকে। এর মধ্যে লাল ও সবুজ রঞ্জকগুলি সংক্রামক জিন মানুষের X ক্রোমোজোমে অবস্থিত। লাল সংবেদী রঞ্জক সংক্রামকারী জিনটিতে মিউটেশন ঘটলে লাল বর্ণান্ধতা এবং সবুজ সংবেদী রঞ্জক সংক্রামকারী জিনটিতে মিউটেশন ঘটলে সবুজ বর্ণান্ধতা দেখা দেয়। অপরদিকে নীল বর্ণান্ধতার জন্য দায়ী জিনটি অটোজোমাল ও এটি 7 নং ক্রোমোজোমে অবস্থিত।

(c) বর্ণান্ধতা রোগের বংশগতি: 👨‍👩‍👧‍👦

(i) একজন বর্ণান্ধতার বাহক মহিলা ও বর্ণান্ধ পুরুষের এবং (ii) একজন বর্ণান্ধ মহিলা ও স্বাভাবিক পুরুষের বিবাহ হলে তাদের অপত্যের মধ্যে বর্ণান্ধতা প্রকাশ কীরূপ হবে তা নিচে দেখানো হল। এখানে বর্ণান্ধতার জন্য দায়ী অ্যালিলটি c এবং স্বাভাবিক অ্যালিলটি c+ দ্বারা বোঝানো হল।

📊 বর্ণান্ধতার বংশগতি উদাহরণ 1: বাহক মহিলা ও স্বাভাবিক পুরুষের মধ্যে ক্রস

  • পিতা-মাতা: বাহক মহিলা (XᶜXᶜ) ✖️ স্বাভাবিক পুরুষ (XᶜY)
  • গ্যামেট: মহিলা: Xᶜ, Xᶜ; পুরুষ: Xᶜ, Y
  • অপত্য প্রজন্ম (F1):
    • XᶜXᶜ: স্বাভাবিক কন্যা
    • XᶜXᶜ: বাহক কন্যা
    • XᶜY: স্বাভাবিক পুত্র
    • XᶜY: বর্ণান্ধ পুত্র
  • 💡 পর্যবেক্ষণ: এই ক্রসে 50% পুত্র বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা।

📊 বর্ণান্ধতার বংশগতি উদাহরণ 2: বর্ণান্ধ মহিলা ও স্বাভাবিক পুরুষের মধ্যে ক্রস

  • পিতা-মাতা: বর্ণান্ধ মহিলা (XᶜXᶜ) ✖️ স্বাভাবিক পুরুষ (XᶜY)
  • গ্যামেট: মহিলা: Xᶜ, Xᶜ; পুরুষ: Xᶜ, Y
  • অপত্য প্রজন্ম (F1):
    • XᶜXᶜ: বাহক কন্যা
    • XᶜY: বর্ণান্ধ পুত্র
  • 💡 পর্যবেক্ষণ: এই ক্রসে 100% পুত্র বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা।

3.2.2 🩸 অটোসোমাল ক্রোমোজোমঘটিত রোগ থ্যালাসেমিয়া ও জেনেটিক কাউন্সেলিং

(Autosomal disease thalassemia and genetic counselling)

থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) 🧪

থ্যালাসেমিয়া একটি জিনগত মারন রোগ। ভারতীয় উপমহাদেশে β থ্যালাসেমিয়া মেজর রোগীর সংখ্যা পৃথিবীর সমস্ত আক্রান্ত ব্যক্তির প্রায় 10%। এই রোগটিতে প্রতি মাসে রক্ত সঞ্চারণলোহা প্রশমন অত্যন্ত আবশ্যক ব্যাপার। তাই থ্যালাসেমিয়া বা অন্য জিনগত সমস্যাগুলি সামাজিক স্তরে মোকাবিলা করার জন্য জিনগত পরামর্শ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

জেনেটিক কাউন্সেলিং (Genetic Counselling) 👩‍⚕️

জিনগত পরামর্শ বা জেনেটিক কাউন্সেলিং: কোনো ব্যক্তির পরিবারে জিনগত রোগের ইতিহাস বিশ্লেষণ ও জেনেটিক পরীক্ষানিরীক্ষার দ্বারা ভবিষ্যত্-সন্তানের জিনগত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা নির্ণয় করা অথবা জিনগত রোগবিহীন সুস্থ সন্তানলাভের উপায় করার প্রক্রিয়াকে জিনগত পরামর্শ বা জেনেটিক কাউন্সেলিং বলে। জেনেটিক কাউন্সেলার বা জিনগত পরামর্শদাতা এই পরামর্শ দেন। তাঁকে এই সংক্রান্ত বিশেষ শিক্ষা লাভ করতে হয়। অনেকক্ষেত্রে চিকিত্সকেরাও কাজটি করে থাকেন।


ছাএ জীববিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি

📌 জেনেটিক কাউন্সিলার-এর কাজ; থ্যালাসেমিয়া তথা অন্যান্য জিনগত রোগ

88

থ্যালাসেমিয়া বা অন্যান্য জিনগত রোগ রোধে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে জিনগত পরামর্শদাতার কাছে কাউন্সেলিং প্রয়োজন। যথা—

  1. (i) বিবাহের পূর্বে উভয় পার্টনার থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা তিনি তা নির্ণয় করেন। উভয় পার্টনার থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে বিবাহ না করা, অথবা বিবাহ করলেও সন্তান থ্যালাসেমিক কিনা তা নির্ণয় করার পরামর্শ দেন।
  2. (ii) থ্যালাসেমিক হলে আইন মাফিক ভ্রূণ বিনষ্ট করা ও দ্বিতীয় সুস্থ সন্তানের চেষ্টা করার পরামর্শ তিনি দিয়ে থাকেন।
  3. (iii) পরিবারে থ্যালাসেমিয়া বা অন্য জিনগত রোগের ইতিহাস থাকলে রোগী ও সুস্থ ব্যক্তি উভয়ের বয়সের তারতম্য (পিতা > 40 বছর, মাতা > 35 বছর) নিয়ে আলোচনা করেন।
  4. (iv) ভ্রূণ অবস্থায় বা জন্মের পর কোনো অনিশ্চিত কারণে শিশুর মৃত্যু হলে অথবা রোগগ্রস্ত শিশু জন্মালে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার বৈজ্ঞানিক কারণ নির্ধারণ করেন।
  5. (v) রোগগ্রস্ত শিশুর জন্মরোধে তিনি প্রয়োজনীয় উপায় অবলম্বন ও দত্তক গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

💡 জেনেটিক কাউন্সিলার-এর সুবিধা:

জেনোটিক কাউন্সিলার-এর দ্বারা ভবিষ্যৎ সন্তান যাতে জিনগত রোগবিহীন হয়, তা সুনিশ্চিত করা যায়। তাই বলা হয়—বিয়ের আগে কুষ্টি নয়, জুটি (জিনগত ম্যাচিং) মেলানো বেশি জরুরি।


অনুশীলনী

বিভাগ ক: বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন

💡 মান 1 সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যাসহ বাক্যটি সম্পূর্ণ করে লেখো।

  1. দুটি সংকর লম্বা (Tt) মটর গাছের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে F1 জনুতে ফলস্বরূপ জেনোটাইপিক যুগ্ম পাওয়া যাবে?

    • A) একপ্রকার
    • B) দুইপ্রকার
    • C) তিনপ্রকার
    • D) চারপ্রকার
  2. একজন পুরুষ ও মহিলার বিবাহে পুত্রসন্তান ও কন্যাসন্তান হওয়ার সম্ভাবনা হল—

    • A) 2:1
    • B) 1:2
    • C) 1:1
    • D) 3:1
  3. মানুষের জননকোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা হল—

    • A) 23টি
    • B) 45টি
    • C) 46টি
    • D) 2n
  4. কোনটি মেন্ডেল কর্তৃক নির্বাচিত চরিত্র নয়?

    • A) বীজের আকৃতি
    • B) ফুলের রং
    • C) কাণ্ডের রং
    • D) আকর্ষের সংখ্যা
  5. মানুষের ডিম্বাণুতে সেক্স ক্রোমোজোমের সংখ্যা—

    • A) 1টি
    • B) 2টি
    • C) 23টি
    • D) 23জোড়া
  6. মটর গাছের প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য হল—

    • A) কুঞ্চিত বীজ
    • B) হলদে রঙের বীজপত্র
    • C) বেগুনি রঙের ফুল
    • D) কাক্ষিক পুষ্প
  7. YyRr জিনোটাইপযুক্ত মটরগাছ থেকে কত ধরনের গ্যামেট উৎপন্ন হয়?

    • A) 1
    • B) 4
    • C) 2
    • D) 3
  8. দেহে লোহা জমে হৃৎপিণ্ড ও যকৃতের ক্ষতি হয় যে বংশগত রোগে, তা হল—

    • A) হিমোফিলিয়া
    • B) অ্যানিমিয়া
    • C) ব্লাড ক্যান্সার
    • D) থ্যালাসেমিয়া
  9. মানুষের শুক্রাণুতে অটোসোমের সংখ্যা—

    • A) শূন্য
    • B) 22টি
    • C) 23টি
    • D) 1টি
  10. মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষায় F2 জনুতে প্রাপ্ত জেনোটাইপিক অনুপাত হল—

    • A) 1:1
    • B) 1:2:1
    • C) 1:2:3
    • D) 2:1:2
  11. মেন্ডেলের দ্বি-সংকর জনন পরীক্ষায় F2 জনুতে প্রাপ্ত ফিনোটাইপিক অনুপাত হল—

    • A) 1:3:1
    • B) 3:1
    • C) 9:3:3:1
    • D) 2:1
  12. স্ন্যাপড্রাগনের লাল ও সাদা ফুলযুক্ত গাছের একসংকর জনন পরীক্ষায় F2 জনুতে প্রাপ্ত ফিনোটাইপিক অনুপাত—

    • A) 3:1
    • B) 1:2:1
    • C) 9:3:3:1
    • D) 1:3
  13. Bb জিনোটাইপযুক্ত গিনিপিগ থেকে কত ধরনের গ্যামেট উৎপন্ন হয়?

    • A) 2
    • B) 3
    • C) 1
    • D) 4

🧬 বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ

❓ বহু নির্বাচনী প্রশ্ন

  1. পিতা ও মাতা উভয়ই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে ওই দম্পতির যে সন্তান জন্মগ্রহণ করবে তার ক্ষেত্রে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কত? Ⓐ 100% Ⓑ 25% Ⓒ 75% Ⓓ 50%
  2. হিমোফিলিয়ার বাহক মাতা ও স্বাভাবিক পিতার কন্যা সন্তানদের হিমোফিলিয়ার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা হবে— Ⓐ 75% Ⓑ 50% Ⓒ 100% Ⓓ 0%
  3. কোন্ রোগটি পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়? Ⓐ ক্যানসার Ⓑ লাল-সবুজ বর্ণান্ধতা Ⓒ থ্যালাসেমিয়া Ⓓ যক্ষ্মা
  4. নীচের কোন্টি ইতরপরাগযোগের বৈশিষ্ট্য তা নির্বাচন করো। Ⓐ একই গাছের একটি ফুলের মধ্যে ঘটে Ⓑ বাহকের প্রয়োজন হয় না Ⓒ নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে Ⓓ পরাগরেণু অপচয় হয়
  5. ক্রসিংওভার হওয়ার জন্য নীচের কোন্ গ্যামেটটি দরকার? Ⓐ 22A+Y Ⓑ 22A+XY Ⓒ 22A+X Ⓓ A ও C উভয়ই
  6. নীচের কোন্ দুটি জিনোটাইপ মটর গাছের হলুদ-কুঞ্চিত ফিনোটাইপের জন্য দায়ী বা বাছাই করো। Ⓐ RRYy ও rryy Ⓑ RRYy ও RRyy Ⓒ RRYy ও Rryy Ⓓ rrYY ও rrYy
  7. বিয়ের আগে জিনগত পরামর্শ নিয়ে যে রোগটি প্রতিরোধ করা যায়— Ⓐ গন্ডার Ⓑ ম্যালেরিয়া Ⓒ থ্যালাসেমিয়া Ⓓ যক্ষ্মা
  8. নীচের কোন্টি প্রকট গুণ তা শনাক্ত করো। Ⓐ কাণ্ডের দৈর্ঘ্য— বেঁটে Ⓑ বীজের আকার— কুঞ্চিত Ⓒ বীজের বর্ণ— হলুদ Ⓓ ফুলের বর্ণ— সাদা
  9. সংকর গোল বীজযুক্ত মটর গাছ থেকে প্রাপ্ত গ্যামেটের সংখ্যা হবে— Ⓐ একপ্রকার Ⓑ দু-প্রকার Ⓒ তিনপ্রকার Ⓓ চারপ্রকার
  10. TtRr x TtRr ক্রসিংয়ে কতপ্রকারের জিনোটাইপ উৎপন্ন হবে? Ⓐ ৪ প্রকার Ⓑ ৯ প্রকার Ⓒ ৬ প্রকার Ⓓ ২ প্রকার

📋 বিভাগ ✉️ অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন

  • 📌 মান 1
  • একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাও।
  1. গিনিপিগের ক্ষেত্রে BbRr ও bbRr জিনোটাইপ দুটির ফিনোটাইপ কি একই?
  2. মেণ্ডেল বর্ণিত বংশগতির ফাস্ট ল' প্রকৃতপক্ষে কী?
  3. একটি পুত্রাণু 22A + Y হলে তার দ্বারা ডিম্বাণু নিষেকের পর পুত্রের লিঙ্গ কী হবে?
  4. মানুষের মধ্যে বংশানুক্রমে সঞ্চারিত একটি প্রকারের উদাহরণ দাও।
  5. একজন বর্ণান্ধ মহিলা ও স্বাভাবিক পুরুষের বিবাহে তাদের পুত্রসন্তানের ফিনোটাইপ কী হবে?
  6. মানুষের শুক্রাণুতে কটি অটোজোম থাকে?
  7. লাল ও সাদা ফুলের ক্রসে গোলাপি ফুলের অপত্য কখন তৈরি হয়?
  8. একটি ‘BB’ জিনোটাইপবিশিষ্ট বিশুদ্ধ কালো গিনিপিগ এবং ‘Bb’ জিনোটাইপবিশিষ্ট সংকর কালো গিনিপিগের প্রজননে F1 জনুতে কালো ও সাদা গিনিপিগের ফিনোটাইপিক অনুপাত কী হবে?
  9. ক্যানভাসন সৃষ্টির জন্য পিতার শুক্রাণুতে কোন্ প্রকৃতির সেক্স ক্রোমোজোম থাকা জরুরি?
  10. কোন্ একসংকর জনন পরীক্ষায় ফিনোটাইপিক অনুপাত 3 : 1-এর স্থানে 1:2:1 পাওয়া গেলে তা কোন্ ঘটনাকে নির্দেশ করে?

✍️ নীচের বাক্যগুলির শূন্যস্থানগুলিতে উপযুক্ত শব্দ বসাও।

  1. মেণ্ডেলের একটি দ্বিসংকর হল ______।
  2. একটি অটোজোমাল জিনঘটিত রোগ হল ______।
  3. মানুষের ডিম্বাণুতে সেক্স ক্রোমোজোমের সংখ্যা ______।
  4. মটরের হলদে বীজপত্র হল একটি ______ বৈশিষ্ট্য।
  5. একই জিনের বিভিন্নরূপকে ______ বলে।
  6. Y ক্রোমোজোমের অপর নাম হল ______।
  7. মেণ্ডেলের দ্বিসংকর জনন পরীক্ষায় F2 জনুতে ______ প্রকার জিনোটাইপ সৃষ্টি হয়।
  8. ______ হল একটি লিঙ্গ সংযোজিত জিন দ্বারা সৃষ্ট রোগ।
  9. মটর গাছের ডিম ____ একই ফিনোটাইপ দেখতে পারে।
  10. প্রাণীর ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ প্রকটতার একটি উদাহরণ হল ______।

✅ নীচের বাক্যগুলি সত্য অথবা মিথ্যা নিরূপণ করো।

  1. অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে জিনোটাইপিক ও ফিনোটাইপিক অনুপাত আলাদা হয়।
  2. পুরুষরা হেমিজাইগাস হওয়ায় X ক্রোমোজোম সংযোজিত রোগগুলি মূলত তাদেরই দেখা যায়।
  3. জিনগত পরামর্শের মূল উদ্দেশ্য হল সুস্থ শিশুর জন্মগ্রহন নিশ্চিত করা।
  4. অসম্পূর্ণ প্রকটতা মেণ্ডেলের প্রথম সূত্রকে ব্যাখ্যা করে।
  5. T ও t গ্যামেটদ্বয়ের মিলনের ফলে হোমোজাইগোট উৎপন্ন হবে।
  6. মটরগাছের ফুলে প্রয়োজন অনুসারে স্বপরাগযোগ বা ইতর পরাগযোগ ঘটানো যায়।

🧬 ছাত্র জীববিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি

পৃষ্ঠা 90

📌 A-তত্ত্ব প্রয়োগ: মটর গাছের বিভিন্ন প্রকার ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ এবং তাদের ক্রস থেকে উৎপন্ন সংকর উদ্ভিদের ফিনোটাইপ অনুপাত নির্ণয় করো।

🔄 প্রশ্ন 27: স্তম্ভ মেলাও (Match the Columns)

A-স্তম্ভB-স্তম্ভ
① থ্যালাসেমিয়াⒶ 44A + XX
② হিমোফিলিয়াⒷ জিনোটাইপ ও ফিনোটাইপ অনুপাত সমান
③ পুরুষের জিনোটাইপⒸ অটোজোমবাহিত রোগ
④ মহিলার জিনোটাইপⒹ 3:1
⑤ অসম্পূর্ণ প্রকটতাⒺ 44A + XY
⑥ একসংকর অনুপাতⒻ 9:3:3:1
Ⓖ সেক্স-লিঙ্কড রোগ

✍️ বিভাগ খ: সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন

মান 2

  1. মেণ্ডেলের অসম্পূর্ণ প্রকটতা সংক্রান্ত প্রথম সূত্রটি লেখো।
  2. মেণ্ডেল রচিত দ্বি-সংকর বিন্যাস সূত্রটি লেখো।
  3. থ্যালাসেমিয়ার কারণ কী? 4. জিনোটাইপ বলতে কী বোঝো বা উদাহরণসহ লেখো।
  4. সমসংকর ও বিষমসংকর জীবের উদাহরণসহ সংজ্ঞা লেখো।
  5. জিন ও অ্যালিলের প্রভেদ কোথায়?
  6. সহপ্রকটতার পরীক্ষায় কীভাবে প্রকট গুণ প্রকাশিত হয় তা উদাহারণের সাহায্যে লেখো।
  7. বংশগতি কী?
  8. প্রকরণ বলতে কী বোঝো?
  9. অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলতে কী বোঝো?
  10. হিমোফিলিয়া কেন হয়?
  11. বর্ণান্ধতার কারণ লেখো।
  12. পিতা ও মাতা উভয়েরই হিমোফিলিয়া থাকলে একজন জেনেটিক কাউন্সিলার হিসেবে তুমি তাদের কী পরামর্শ দেবে?
  13. YYRr জিনোটাইপযুক্ত উদ্ভিদের জননকোষগুলি কী কী হবে?
  14. বর্ণান্ধতা পুরুষের মধ্যে প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি কেন তা ব্যাখ্যা করো।
  15. এক রেখাচিত্রের মাধ্যমে দুটি সন্তান, উভয়ই কন্যা, জন্মের দ্বারা এটি দেখাও।
  16. কন্যা ও পুত্রসন্তান ক্রোমোজোমগতভাবে ভিন্ন--ব্যাখ্যা করো।
  17. বাবা ও মা উভয়ের বর্ণান্ধ হলে সন্তানসন্ততির ক্ষেত্রে সম্ভাবনা কত তা চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখাও।
  18. F₁ অপত্য মটর গাছের স্বপরাগযোগ 1420টি বীজ মটর গাছ পাওয়া গেল। F₂-তে কতগুলি সংকর মটর গাছ এবং কতগুলি সাধারণ মটর গাছ থাকবে?
  19. মেণ্ডেল অধিকাংশ মটর ফুল বেগুনি বর্ণের পেয়েছিলেন কেন?
  20. মানুষের ক্ষেত্রে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর ক্রোমোজোমগত পার্থক্য লেখো।
  21. বর্ণ লোম (প্রকট, SS)

🧠 বিভাগ গ: দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন

মান 5

  1. মেণ্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষটি চেকার বোর্ডের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।
  2. সেক্স-লিঙ্কড ধারণার সঙ্গে তুলনা করে মেণ্ডেলের মটর গাছে সংকরীকরণ পরীক্ষাগুলি গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষাগুলিতে মেণ্ডেলের সাফল্যের তিনটি কারণ লেখো। মটর গাছের দুই জোড়া বিপরীত চারিত্রিক গুণ। [3+2]
  3. মটর গাছের বীজত্বকের বর্ণ ও বীজের আকার—এই বৈশিষ্ট্য দুটি নিয়ে মেণ্ডেল দ্বি-সংকর জনন পরীক্ষা করেছিলেন। এই পরীক্ষায় F₁ জনুতে যে কতগুলি হলুদ ও গোলাকার বীজযুক্ত মটর গাছ উৎপন্ন হয় তাদের ফিনোটাইপ লেখো। সুস্থ মানুষের মধ্যে দেখা যায় এমন দুটি বংশানুক্রমিকভাবে সঞ্চারিত প্রকারের উদাহরণ দাও। [3+2]
  4. থ্যালাসেমিয়া রোগের উপসর্গগুলি উল্লেখ করো। অনেক পরিবারে কন্যা সন্তান জন্মের জন্য মাতাকে দায়ী করা হয়। এই ধারণাটি যে যথার্থ নয় তা একটি চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখাও। [2+3]
  5. মেণ্ডেল কীভাবে মটর গাছে ইতর পরাগযোগ ঘটিয়েছিলেন? মেণ্ডেলবাদ সার্বজনীন কি না ব্যাখ্যা করো। [3+2]
  6. অনেক সময় দেখা যায় যে, বাবা ও মা উভয়ই স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের এক ছেলে বর্ণান্ধ হয়েছে। এটি কীভাবে সম্ভব হয় তা একটি চেকার বোর্ডের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করো।
  7. প্রকরণর কারণ লেখো ও উদাহরণ দাও। প্রকরণের বংশগত সঞ্চারণের গুরুত্ব কী? [3+2]
  8. একটি সংকর কালো গিনিপিগের সাথে একটি বিশুদ্ধ সাদা গিনিপিগের মিলন ঘটালে যে যে ধরনের অপত্য গিনিপিগ উৎপন্ন হতে পারে তা একটি চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখাও। মেণ্ডেলের পৃথকীভবনের সূত্রটি বিবৃত করো। [3+2]
  9. ফিনোটাইপ উদাহরণের সাহায্যে মেণ্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রটি বুঝিয়ে দাও।
  10. একজন পুরুষ ও মহিলার বিবাহে পুত্র ও কন্যা সন্তানদের লিঙ্গ কীভাবে নির্ধারিত হয় তা রেখাচিত্র দ্বারা বিবৃত করো।
  11. থ্যালাসেমিয়া রোগে মানবদেহে কোন তিনটি অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়? বংশগত রোগ প্রতিরোধে জেনেটিক কাউন্সেলিং-এর ভূমিকা কী? [2+3]

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel