২.৪ বৃদ্ধি ও বিকাশ: পৃষ্ঠা ৬৪ - ৬৬
২.৪ বৃদ্ধি ও বিকাশ: পৃষ্ঠা ৬৪ - ৬৬ - WBBSE - Class 10 - বিজ্ঞান
🔬 2.4 বৃদ্ধি ও বিকাশ (Growth and development)
প্রত্যেক জীবের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল বৃদ্ধি। বৃদ্ধির সময় জীবের আকার ও আয়তন অপরিবর্তনীয় ও স্থায়ীভাবে বাড়ে। ফলে দেহের শুষ্ক ভর তথা শুষ্ক ওজনও বেড়ে যায়। 📈 বিকাশের মাধ্যমে জীবদেহের গঠনগত জটিলতা বৃদ্ধি পায়।
💡 বৃদ্ধি: যে উপচিতি প্রক্রিয়ায় নতুন উপাদান সংশ্লেষের ফলে জীবের আকার, আয়তন ও শুষ্ক ওজন সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয়ভাবে বেড়ে যায়, তাকে বৃদ্ধি বলে।
🌿 বিকাশ: জাইগোট বা ভ্রূণাণু থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত প্রতিটি জীবের জীবনচক্রে বৃদ্ধি ও তৎ-পরবর্তী বিভিন্ন পরিবর্তনের মাধ্যমে সংঘটিত যাবতীয় ঘটনাকে একত্রে বিকাশ বলে।
বৃদ্ধি ও বিকাশের সম্পর্ক ও পার্থক্য 🔄
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখযোগ্য, যে বিকাশ একটি বৃহত্তর জীবন বৈশিষ্ট্য, বৃদ্ধি ছাড়া বিকাশ সম্ভব নয়। বৃদ্ধি উদ্ভিদের জীবনচক্রে অনির্দিষ্টকাল ধরে ঘটলেও প্রাণীর জীবনচক্রের নির্দিষ্ট সময়কাল অবধি ঘটে থাকে মাত্র। কিন্তু বিকাশ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বস্তুত, বৃদ্ধি ও তৎ-পরবর্তী বিভিন্ন পরিবর্তনের মাধ্যমেই বিকাশ সংঘটিত হয়। বৃদ্ধি দ্বারা কোনো জীবের কেবলমাত্র পরিমাণগত অর্থাৎ দেহের শুষ্ক ওজনের পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু বিকাশ কোনো জীবের গুণগত ও পরিমাণগত পরিবর্তন সাধন করে। বিকাশের মাধ্যমেই বহুকোষী জীবের গঠনগত জটিলতা বৃদ্ধি পায়। 🌱 উদ্ভিদদেহে সরল ও জটিল কলা এবং প্রাণীদের স্নায়ুকোশ, রক্তকণিকা, অস্থিকোশ ইত্যাদি উৎপত্তি ঘটে, আবার জীবের বয়ঃবৃদ্ধি, বার্ধক্য ও জরা অবস্থার সৃষ্টি হয়।
🧬 2.4.1 বৃদ্ধির ধারণা (Concept of growth)
বৃদ্ধি হল জীবের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। জীবন শুরু হয় নিষেককের পর সৃষ্ট এককোষী জাইগোট বা ভ্রূণাণু থেকে। জাইগোটের কোশ বিভাজনের দ্বারাই শুরু হয় বৃদ্ধি, যার মাধ্যমে জাইগোট ভ্রূণে পরিণত হয় এবং ভ্রূণ থেকে জীবের সৃষ্টি হয়। এই সময়ে কোশের সংখ্যা, আকার, আয়তন বেড়ে গিয়ে সামগ্রিক দেহের বৃদ্ধি ঘটে। এই বৃদ্ধি বিভিন্ন বাহ্যিক শর্ত (যেমন—সূর্যালোক) ও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ শর্ত (যেমন—জিন, হরমোন) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
বৃদ্ধির দশা (Phases of growth): 📈
বৃদ্ধিকে তিনটি সুস্পষ্ট দশায় বিভক্ত করা যায়, যথা— কোষ বিভাজন দশা, কোষীয় আকার বৃদ্ধিকরণ দশা এবং কোষ বিভেদন দশা।
-
[a] কোষ বিভাজন দশা (Phase of cell division): 🔬 কোষ বিভাজন দশায়, মাইটোসিস কোষ বিভাজন দ্বারা কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ফলে জীবদেহের আকার ও আয়তন বৃদ্ধি পায়। মানুষের ভ্রূণের বৃদ্ধি, উদ্ভিদের মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগের ভাজক কলার বৃদ্ধি হল এর উদাহরণ।
-
[b] কোষীয় আকার বৃদ্ধিকরণ দশা (Phase of cell enlargement): enlarges এই দশায় বিভাজিত কোশগুলি জল গ্রহণ করে ও অন্যান্য উপাদান সংগ্রহ করে। ফলে কোশের প্রোটোপ্লাজমের আকার স্থায়ীভাবে বৃদ্ধি পায়। একে অন্তঃকোষীয় বৃদ্ধি বলে। যেমন—নিউরোেন বা মায়োকোশ সৃষ্টির পর একবারও বিভাজিত হয় না, শুধুমাত্র অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইটের বৃদ্ধি ঘটে থাকে। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ভাজক কলার ঠিক নীচের কোশস্তরে বৃদ্ধিকরণ দশা দেখা যায়।
-
[c] কোষীয় বিভেদন দশা (Phase of cell differentiation): 💡 এই দশায় পূর্ণ আয়তনের কোশগুলি...
🧬 জীবনের প্রবাহমানতা (Continuity of Life) 📌
পরিবর্তিত ও রূপান্তরিত হয়ে বিশেষ বৈশিষ্ট্যযুক্ত কলা এবং কলাতন্ত্র তৈরি করে। যেমন—মানবদেহে বিভেদন দ্বারা স্নায়ুকোষ ও পেশীকোষের সৃষ্টি, উদ্ভিদে জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলা সৃষ্টি প্রভৃতি।
চিত্র: জীবের বৃদ্ধির বিভিন্ন দশা
| কোষ বিভাজন দশা | অন্তঃকোষীয় বৃদ্ধি | বহিঃকোষীয় বৃদ্ধি | কোষীয় বিভেদন দশা |
|---|---|---|---|
2.4.2 🚶♀️ মানব বিকাশের বিভিন্ন দশা (Phases of human development)
সময়ের সঙ্গে মানুষের জৈবিক, মানসিক ও আবেগ-সংক্রান্ত পরিবর্তনকে মানব বিকাশ বলা হয়। মানব বিকাশে প্রধানত পাঁচটি দশা দেখা যায়, যথা—সদ্যোজাত, শৈশব, বয়ঃসন্ধি, পরিণত দশা এবং অন্তিম বার্ধক্য।
1. সদ্যোজাত (Newborn) 👶
জন্মের প্রথম মাস পর্যন্ত সময়কালকে সদ্যোজাত দশা বলে। এই দশায় সদ্যোজাতদের বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন—
- (i) এই সময়ে মায়ের মুখ, প্রাথমিক বর্ণ, শব্দ, আলো প্রভৃতি চিনতে পারে।
- (ii) কান্না হল এদের একমাত্র মনের ভাবপ্রকাশের উপায়।
- (iii) জন্মের ঠিক পর দেহের ওজন সামান্য হ্রাস পেলেও তারপরে বৃদ্ধি দ্রুতগতিতে ঘটে।
2. শৈশব (Childhood) 🧒
জীবনের দ্বিতীয় মাস থেকে 10 বছর বয়স অবধি সময়কালকে বলে শৈশব। শৈশবককালে—
- (i) সদ্যোজাতর তুলনায় মাথার আকার দেহের সাপেক্ষে ছোটো হয়।
- (ii) শিশুর বুদ্ধি মাঝারি মাত্রায় ঘটে।
- (iii) ধীরে ধীরে চেষ্টায় ক্রিয়াকলাদি (যেমন—লেখা, দৌড়ানো) বিকশিত হয়।
- (iv) শিশুদের বৃদ্ধি, স্মৃতি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ক্রমশ বাড়তে থাকে।
- (v) ভয়, আনন্দ প্রভৃতি আবেগের বহিঃপ্রকাশ শুরু হয়। পক্ষান্তরে, অন্যের জন্য চিন্তা করার মতো সূক্ষ্ম অনুভূতির বিকাশ ধীরে ধীরে হয়।
3. বয়ঃসন্ধি (Adolescence) 🧑🎤
শৈশব ও পরিণত দশার অন্তর্বর্তী পর্যায় থেকেই হল বয়ঃসন্ধি। এর সময়কাল 10-19 বছর (WHO অনুযায়ী)। ব্যক্তি, লিঙ্গ, পরিবেশ ও অঞ্চলভেদে বয়ঃসন্ধির আগমনের সময় ভিন্ন হয়। যৌন হরমোনের প্রভাবে সাধারণত 10-12 বছর বয়স থেকেই কিছু শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের বহিঃপ্রকাশ শুরু হয়। যেমন—
- (i) দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে।
- (ii) যৌন চেতনার উন্মেষ ঘটে।
- (iii) বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়।
- (iv) মনযোগ, চিন্তাশক্তি, স্মৃতি, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও বুদ্ধির দ্রুত বিকাশ ঘটে।
- (v) এই বয়সে ঝুঁকিতে নেওয়ার প্রবণতা যথেষ্ট বৃদ্ধি পায়।
💡 জেনে রাখো! Indian Council of Medical Research (ICMR) অনুযায়ী বয়ঃসন্ধির সময়কাল হল 10-16 বছর।
4. পরিণত দশা (Mature) 🧑🦳
19 বছর থেকে 60 বছর বয়স পর্যন্ত সময়কালকে সামগ্রিকভাবে পরিণত দশা বলে গণ্য করা হয়। এই সময়ে—
- (i) দৈহিক বৃদ্ধি বয়ঃসন্ধির তুলনায় হ্রাস পায়।
ছায়া জীববিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি
66
(ii) মানুষের নিজের ও তার পরিবার সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা ও দায়িত্ব বৃদ্ধি পায়।
(iii) জীবনে সবচেয়ে অভিজ্ঞতা ক্রমশ কার্যক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। সাধারণত 60 বছরের ঊর্ধ্বে এই দশা অন্তর্ভুক্ত হয়। এই দশায় — (I) অস্থি ও অস্থিসন্ধি ক্ষয় পেয়ে যথাক্রমে অস্টিওপোরোসিস ও অস্টিওআর্থারাইটিস রোগ দেখা দেয়। (II) দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, শ্রবণশক্তি হ্রাস, হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা হ্রাস, রক্তচাপ বৃদ্ধি, কানে কম শোনা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়। (III) বৃদ্ধ ব্যক্তিরা স্মৃতি হ্রাস, অবসাদ, হীনমন্যতা প্রভৃতি মানসিক সমস্যার শিকার হয়।
মানব বিকাশের বিভিন্ন দশা
CONTENT MANAGER