Academy

২.৩ সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন: পৃষ্ঠা ৫৯ - ৬৩

২.৩ সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন: পৃষ্ঠা ৫৯ - ৬৩ - WBBSE - Class 10 - বিজ্ঞান

0

2.3 সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন (Sexual reproduction in flowering plants) 🌸

সাধারণত উন্নত উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ফুলের দ্বারা যৌন জনন ঘটে, তাই ফুলকে উদ্ভিদের জননাঙ্গ বলে।

  • গুরুত্বপূর্ণ শব্দ: উদ্ভিদের সীমিত বৃদ্ধিপত্র, পরিবর্তিত বিটপ বা যৌন জননের দ্বারা বংশবিস্তারে সাহায্য করে, তাকে ফুল বলে

2.3.1 🌻 ফুলের গঠনগত অংশসমূহ (Different parts of a flower)

একটি আদর্শ ফুলে চারটি স্তবক থাকে। যথা—বৃত্তি, দলমণ্ডল, পুংকেশর এবং স্ত্রীস্তবক। এদের মধ্যে বৃত্তি ও দলমণ্ডল জননে অংশ নেয় না বলে এদের সহায়কী স্তবক এবং পুংকেশর ও স্ত্রীস্তবক জননে অংশ নেয় বলে এদের বলে অত্যাবশ্যকীয় স্তবক। ফুলের এই চারটি স্তবক পুষ্পবৃন্ত বা থ্যালামাস নামক সংকীর্ণ ও স্ফীত অংশের ওপর সজ্জিত থাকে।


📖 ছায়া জীবনবিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি

💡 আদর্শ ফুলের বিভিন্ন অংশ

  1. 🌿 বুতি (Calyx): এটি ফুলের বাইরে, পুষ্পাক্ষের সর্বনিম্ন স্থানে যুক্ত সবুজ বর্ণের স্তবক। বুতির প্রতিটি ছোটো পাতার মতো অংশকে বৃতাংশ বলে। অনেকক্ষেত্রে বুতির নিচে উপবুতি থাকে (যেমন, জবা ফুল)। বুতি সালোকসংশ্লেষে সক্ষম, ভিতরের স্তবকগুলিকে রক্ষা করে এবং পতঙ্গকে আকৃষ্ট করে পরাগযোগে সাহায্য করে।

  2. 🌸 দলমণ্ডল (Corolla): এটি ফুলের ভিতরের অংশে অবস্থিত ফুলের বর্ণময় দ্বিতীয় স্তবক। দলমণ্ডলের পৃথক অংশগুলি হল দলাংশ বা পাপড়ি। এগুলি সুগন্ধযুক্ত ও বর্ণময় হওয়ায় পতঙ্গকে আকৃষ্ট করে পরাগযোগে সাহায্য করে এবং পুং ও স্ত্রী স্তবককে সুরক্ষা প্রদান করে।

  3. 🌼 পুংস্তবক (Androecium): দলমণ্ডলের ভিতরের অংশে পরাগরেণু সৃষ্টিকারী ফুলের তৃতীয় স্তবকটি হল পুংস্তবক বা পুংকেশর চক্র। পুংস্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলে। প্রতিটি পুংকেশরের দুটি অংশ বর্তমান: নীচের দিকে দন্ডের মতো অংশকে পুংদন্ড এবং পুংদন্ডের মাথায় অবস্থিত থলির মতো অংশকে পরাগধানী বলে। প্রতিটি পরাগধানীর মধ্যে ক্ষুদ্র গুঁড়োর মতো, হলুদভ বর্ণের অসংখ্য পরিপক্ক পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। এই পরাগরেণু বিভাজিত হয়ে পুংগ্যামেট উৎপন্ন করে, যা ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে।

  4. 🌷 স্ত্রীস্তবক (Gynoecium): ফুলের পুংস্তবকের ভিতরের দিকে অবস্থিত, ডিম্বাণু উৎপাদনকারী ফুলের চতুর্থ স্তবক হল স্ত্রীস্তবক বা গর্ভকেশর চক্র। স্ত্রীস্তবকের প্রতিটি একক অংশকে গর্ভপত্র বা গর্ভকেশর বলে। প্রতিটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ থাকে:

    • স্ত্রীস্তবকে নীচের দিকে যে স্ফীত অংশ থাকে, তাকে ডিম্বাশয় বা গর্ভাশয় বলে। এর ভিতরে এক বা একাধিক ডিম্বক থাকে ও প্রত্যেক ডিম্বকের মধ্যে ডিম্বাণু থাকে।
    • ডিম্বাশয়ের ওপরে সরু দন্ডাকার অংশকে গর্ভদন্ড বলে।
    • গর্ভদন্ডের মাথায় সামান্য স্ফীত অংশটিকে গর্ভমুন্ড বলে। গর্ভমুন্ডের মাথাটি রোমশ বা আঠালো হয়, যাতে পরাগরেণু সহজে আটকে যেতে পারে।

📌 কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা

  • সম্পূর্ণ ফুল: যে ফুলের চারটি স্তবকই (বুতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক, স্ত্রীস্তবক) থাকে, তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন— জবা, ধুতুরা
  • একলিঙ্গ ফুল: একটি জনন স্তবকযুক্ত ফুলকে একলিঙ্গ ফুল বলে। যেমন— কুমড়ো
  • উভলিঙ্গ ফুল: দুটি জনন স্তবকযুক্ত ফুলকে উভলিঙ্গ ফুল বলে। যেমন— জবা

2.3.2 🌼 পরাগযোগ (Pollination)

সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননে নিষেককের সময় ফুলের পরাগধানী থেকে শুক্রাণুবাহী পরাগরেণুর স্ত্রীস্তবকের গর্ভমুন্ডে স্থানান্তরিত হওয়া প্রয়োজন। এই কাজটি পরাগযোগ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়।

📖 পরাগযোগ (Pollination)

যে পদ্ধতিতে ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু সেই ফুল বা অন্য ফুলের অথবা সমপ্রজাতির অন্য কোনো উদ্ভিদের ফুলের গর্ভমুন্ডে স্থানান্তরিত হয়, তাকে পরাগযোগ বা পলিনেশন বলে।

🌱 পরাগযোগের প্রকারভেদ:

ফুলের পরাগযোগ প্রধানত দুই প্রকার—স্বপরাগযোগ এবং ইতর পরাগযোগ

[a] স্বপরাগযোগ (Self pollination):

কোনো ফুলের পরাগরেণু সেই একই ফুলের অথবা সেই একই উদ্ভিদের অন্য ফুলের গর্ভমুন্ডে স্থানান্তরিত হলে, তাকে স্বপরাগযোগ বলে। যেমন— সন্ধ্যা মালতী, শিম, টম্যাটো ইত্যাদি।


পরাগায়ন (Pollination) 🌸

  • বৈশিষ্ট্য (Characteristics):
    • (i) বেশিরভাগ উভলিঙ্গ ফুলে পরাগায়ন ঘটে। 💡
    • (ii) একই বা নিকটবর্তী ফুলের মধ্যে পরাগায়নকে স্ব-পরাগায়ন বা অটোগ্যামি (autogamy) বলে।
    • (iii) একই গাছের দুটি ভিন্ন ফুলের মধ্যে পরাগায়নকে গেইটোনোগ্যামি (geitonogamy) বলে।
    • (iv) স্বপরাগায়নে সাধারণত কোনো বাহকের প্রয়োজন হয় না।
    • (v) একই গাছের ফুলের মধ্যে ঘটে বলে অপত্য উদ্ভিদের প্রকারের সৃষ্টি হয় না।

ইতর পরাগায়ন (Cross-Pollination) 🦋

  • কোনো ফুলের পরাগরেণু একই প্রজাতির অন্য কোনো উদ্ভিদের ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হলে, তাকে ইতর পরাগায়ন বলে।
  • এর অপর নাম জেনোগ্যামি (xenogamy) বা অ্যালোগ্যামি (allogamy)।
  • যেমন: আকন্দ, শিমুল, কুমড়ো, ট্যাপা, তাল, পেঁপে ইত্যাদি।
  • বৈশিষ্ট্য (Characteristics):
    • (i) ইতর পরাগায়ন কেবলমাত্র একলিঙ্গ ফুলেই ঘটে।
    • (ii) ফুলগুলিতে বিষম পরিণতি দেখা যায়। অর্থাৎ, কোনো ক্ষেত্রে পুরুষ ফুল আগে পরিণত হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে স্ত্রী ফুল আগে পরিণত হয়।
    • (iii) এক ফুল থেকে অন্য ফুলে পরাগরেণু স্থানান্তরণের জন্য বিভিন্ন প্রকার বাহকের (বায়ু, জল, পতঙ্গ বা প্রাণী) প্রয়োজন হয়। 🌬️💧🐝
    • (iv) ফুলগুলি উজ্জ্বল বর্ণের, মিষ্ট গন্ধযুক্ত হয়।
    • (v) একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন বৈশিষ্টযুক্ত উদ্ভিদের দুটি ভিন্ন ফুলের মধ্যে পরাগায়ন সম্পন্ন হয় বলে অপত্য উদ্ভিদে প্রকারের সৃষ্টি হয়। সৃষ্ট প্রকরণ উদ্ভিদ প্রজাতির অভিব্যক্তিতে সাহায্য করে। 🧬

🖼️ চিত্র: পরাগায়নের প্রকারভেদ (Types of Pollination)

পরাগায়ন ও ইতর পরাগায়নের সুবিধা ও অসুবিধা (Advantages and Disadvantages of Self-Pollination and Cross-Pollination) ✅❌

বৈশিষ্ট্য (Feature)স্বপরাগায়ন (Self-Pollination)ইতর পরাগায়ন (Cross-Pollination)
1. বাহকের প্রয়োজনীয়তা (Need for Carrier)সুবিধা: 🎯
(i) এক্ষেত্রে কোনো বাহকের প্রয়োজন হয় না বলে পরাগায়নের নিশ্চয়তা বেশি হয়।
(ii) স্বপরাগায়নে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়।
অসুবিধা: 🚫
স্বপরাগায়নে বাহক লাগে না বলে অন্য উদ্ভিদের সঙ্গে প্রজনন সম্ভব হয় না।
সুবিধা: 🎯
ইতর পরাগায়নে বায়ু, জল, প্রাণী প্রভৃতি বাহকের প্রয়োজন হয়। বাহকের উপস্থিতিতে পরাগায়ন অনেকক্ষেত্রে নিশ্চিত হয়।
অসুবিধা: 🚫
(i) বাহক উপস্থিত না থাকলে পরাগায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
(ii) অধিক সংখ্যায় পরাগরেণুর অপচয় হয়।
2. অপত্য জীবে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব (Emergence of New Traits in Offspring)সুবিধা: 🎯
স্বপরাগায়নে অপত্যে নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয় না বলে উদ্ভিদের চরিত্রের বিশুদ্ধতা বজায় থাকে।
অসুবিধা: 🚫
(i) প্রকরণ সৃষ্টির সম্ভাবনা হ্রাস পায় বলে অপত্যের অভিযোজন ক্ষমতা কমে যায়। ফলে দুর্বল অপত্য তৈরি হয় যা প্রতিকূল পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারে না।
(ii) অপত্যের অনাক্রম্যতা, অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা হ্রাস পায়।
(iii) নতুন প্রজাতির সৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়।
সুবিধা: 🎯
(i) এক্ষেত্রে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদের মধ্যে জনন ঘটে বলে অপত্যে প্রকরণ সৃষ্টি হয়। ফলে সবল অপত্য তৈরি হয় যা প্রতিকূল পরিবেশে সহজেই মানিয়ে নেয়।
(ii) অপত্যের অনাক্রম্যতা, অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা বেশি হয়।
(iii) অপত্যের মধ্যে নতুন প্রজাতির সৃষ্টিতে সাহায্য করে। 🧬
অসুবিধা: 🚫
এইপ্রকার পরাগায়নে প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হয়। ফলে একই গুণযুক্ত চারা সৃষ্টি কঠিন হয়ে পড়ে।

🧬 ছায়া জীববিজ্ঞান ও পরিবেশ • দশম শ্রেণি

🌿 পরাগযোগের বাহক: ইতর পরাগযোগে পরাগরেণু স্থানান্তরের জন্য বিভিন্ন প্রকার বাহকের প্রয়োজন হয়।

ইতর পরাগযোগের বিভিন্ন বাহক এবং উদাহরণ 💡

বাহকব্যাখ্যাউদাহরণ
1. বায়ু 💨যেসব ফুলের পরাগযোগ বায়ুর মাধ্যমে ঘটে, তাদের বায়ু পরাগী (অ্যানিমিফিলাস) ফুল বলে। এই ফুলগুলি বর্ণহীন, গন্ধহীন, অনুজ্জ্বল ও ক্ষুদ্র হয়। ফুলে মকরন্দ থাকে না।ধান, ভুট্টা।
2. জল 💧যেসব ফুলের পরাগযোগ জলের মাধ্যমে ঘটে, তাদের জলপরাগী (হাইড্রোফিলাস) ফুল বলে। এই ফুলগুলি বর্ণহীন, গন্ধহীন, অনুজ্জ্বল ও ক্ষুদ্র হয়। পরাগযোগ জলের উপরে ঘটলে (যেমন—পাতাঝাঁঝি) পরাগরেণু হালকা হয়, নতুবা তা ভারী হয়।পাতাঝাঁঝি, পাতাশ্যাওলা।
3. পতঙ্গ 🐝যেসব ফুলের পরাগযোগ পতঙ্গের মাধ্যমে ঘটে, তাদের পতঙ্গপরাগী (এন্টোমোফিলাস) ফুল বলে। এই ফুলগুলি উজ্জ্বল বর্ণের, মকরন্দযুক্ত ও সুমিষ্ট বাগানবিলাস। গন্ধযুক্ত হয়।আম, বাগানবিলাস।
4. পাখি 🐦যেসব ফুলের পরাগযোগ পাখির মাধ্যমে ঘটে, তাদের পক্ষীপরাগী (অরনিথোফিলাস) ফুল বলে। এই ফুলগুলি আকারে বড়ো, উজ্জ্বল এবং মকরন্দযুক্ত হয়। অনেকক্ষেত্রে পরাগরেণুগুলি পাখির খাদ্য হিসেবে গৃহীত হয়। তার ফলে পরাগযোগ ঘটে থাকে।শিমুল, পলাশ।

2.3.3 🌾 নিষেক এবং নতুন উদ্ভিদ গঠন (Fertilization & development of new plants)

সম্পুষ্পক গুপ্তবীজী উদ্ভিদের ক্ষেত্রে নিষেক একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক প্রক্রিয়া উন্নতমানের হয়।

📌 নিষেক: পুংজননকোষ বা পুংগ্যামেট ও স্ত্রী জননকোষ বা স্ত্রীগ্যামেটের মিলনকে নিষেক বলে।

সপুষ্পক গুপ্তবীজী উদ্ভিদের ক্ষেত্রে নিষেক এবং নতুন অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি নিম্নলিখিত কয়েকটি ধাপে ঘটে থাকে—

  1. পরাগরেণু সৃষ্টি: ফুলের পুংকেশরে অবস্থিত পরাগধানীর পরাগরেণু মাতৃকোশগুলি ডিপ্লয়েড (2n) প্রকৃতির হয়। এগুলি মায়োসিস বিভাজনে অসংখ্য হ্যাপ্লয়েড (n) প্রকৃতির পরাগরেণু উৎপাদন করে।

  2. ডিম্বাণু বা স্ত্রীগ্যামেট সৃষ্টি: ফুলের ডিম্বাশয়ের মধ্যে এক বা একাধিক ডিম্বক থাকে। এই ডিম্বকের ভ্রূণস্থলীর মধ্যে স্ত্রীগ্যামেট উৎপন্ন হয়। প্রাথমিক অবস্থায় ভ্রূণস্থলীর মধ্যে একটি হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াস থাকে। এই নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস কোষ বিভাজনের দ্বারা বারবার বিভাজিত হয় এবং ৪টি হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াস গঠন করে। এদের মধ্যে ডিম্বকমূলের দিকে তিনটি প্রতিপাদ কোশ থাকে। ভ্রূণস্থলীর ওপরের দিকে থাকে একটি ডিম্বাণু (n) বা স্ত্রীগ্যামেট ও দুটি সহকারী কোশ, এদের একত্রে বলে গর্ভযন্ত্র। এ ছাড়া মাঝখানের দুটি নিউক্লিয়াস মিলিত হয়ে একটি নির্ণীত নিউক্লিয়াস (2n) গঠন করে।


জীবনের প্রবহমানতা 🧬

3. পরাগযোগ 🌺

এই পর্যায়ে পরাগরেণু বা ইতর পরাগযোগের (বাহক দ্বারা) মাধ্যমে পরাগনালী থেকে পরাগরেণু গর্ভকেশরের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়। পরাগরেণু ফুলের আঠালো গর্ভমুণ্ডে আবদ্ধ হওয়ার পর তা থেকে একটি পরাগনালী সৃষ্টি হয় যা ডিম্বাশয়ে প্রবেশ করে।

4. নিষেক ও জাইগোট গঠন 🔬

পরাগনালী সৃষ্টি হলে পরাগরেণুর নিউক্লিয়াসটির বিভাজন ঘটে এবং 2টি পুংগ্যামেট (n) (পুংরেণু বা প্ৰজনন নিউক্লিয়াস) উৎপন্ন হয়। এই পুংগ্যামেট দুটি পরাগনালীর অগ্রভাগে অবস্থান করে। পরাগনালী ক্রমশ দীর্ঘ হয় এবং তার অগ্রভাগ ডিম্বকে প্রবেশ করে। এরপর পরাগনালীর অগ্রপ্রান্ত বিদীর্ণ হয়। 2টি পুংগ্যামেট বা শুক্রাণু ডিম্বকের ভিতরে ভ্রূণস্থলীতে মুক্ত হয়। অবশেষে একটি পুংগ্যামেট ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে নিষেক ঘটায়, যার ফলস্বরূপ ডিপ্লয়েড (2n) ভ্রূণ বা জাইগোট গঠিত হয়।

5. ভ্রূণ গঠন 🌱

নিষিক্ত এককোশী পুংগ্যামেট বা জাইগোটটি বার বার বিভাজিত হয়ে বহুকোশী ভ্রূণ গঠন করে।

6. ফল ও বীজ গঠন 🍎🌰

নিষেকের পর সম্পূর্ণ ডিম্বক বীজেবীজসহ সম্পূর্ণ ডিম্বাশয় বৃদ্ধিপ্রাপ্তপরিণত হয়ে ফলে পূর্ণাঙ্গ ফল তৈরি হয়। পরিণত বীজসহ পরিপক্ক ফল অথবা পূর্ণাঙ্গ বীজ বিভিন্ন বাহকের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে।

7. বীজের অঙ্কুরোদগম এবং নতুন উদ্ভিদ গঠন 🌱💧☀️

বীজের মধ্যে ভবিষ্যতের গাছ বা ভ্রূণ অবস্থান করে। অনুকূল পরিবেশ, অর্থাৎ যথাযথ আলো, উষ্ণতা, আর্দ্রতা, অক্সিজেন ও আভ্যন্তরীণ শর্তের উপস্থিতিতে বীজের অঙ্কুরোদগম ঘটে। এর ফলে বীজ থেকে নতুন অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। ভ্রূণমূল নামক অংশ থেকে অপত্য উদ্ভিদের বিটপ এবং ভ্রূণমূল থেকে মূলতন্ত্র গঠিত হয়।

সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক প্রক্রিয়া 🌸 (Fertilization Process in Flowering Plants)

  • পরাগরেণু (Pollen grain)
  • গর্ভমুণ্ড (Stigma)
  • পরাগনালী (Pollen tube)
  • গর্ভাশয় (Ovary)
  • ডিম্বক (Ovule)
  • প্রতিপাদ কোষসমষ্টি (Antipodal cells)
  • নির্ণীত নিউক্লিয়াস (Definitive nucleus)
  • ডিম্বাণু (Egg cell)
  • সহকারী কোষ (Synergid)
  • পুংগ্যামেট (Male gamete)
  • ভ্রূণস্থলী (Embryo sac)

সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক প্রক্রিয়ার প্রবাহচিত্র 🔄

পরাগরেণু ➡️ পরাগরেণুর গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তর বা পরাগযোগ পরাগনালী উৎপাদন ও ভ্রূণস্থলী পঠন ➡️ নিষেক ➡️ জাইগোট উৎপাদন ➡️ ভ্রূণ উৎপাদন অপরিণত উদ্ভিদ বা পরাগাণু সৃষ্টি ⬅️ বীজের অঙ্কুরোদগম ⬅️ বীজ গঠন ⬅️ ফল গঠন

ডিম্বাশয়ের বিভিন্ন অংশের পরিবর্তন 📊 (Changes in Various Parts of the Ovary)

নিষেকের আগে (Before Fertilization)নিষেকের পরে (After Fertilization)
ডিম্বাণু (Egg cell)ভ্রূণ (Embryo)
ডিম্বক (Ovule)বীজ (Seed)
ডিম্বাশয় (Ovary)ফল (Fruit)
ডিম্বাশয় প্রাচীর (Ovary wall)ফলত্বক (Pericarp)

💡 জেনে রাখো: যৌন জননের গুরুত্ব 🧬

  1. সুবিধা—
    • (I) গ্যামেট সৃষ্টির সময় মিয়োসিস ক্রসিং ওভার ঘটে বলে জীবের প্রকারণ বা ভেদ তৈরি হয়।
    • (II) প্রকারণ সৃষ্টি হয় বলে জীব পরিবেশে ভালোভাবে অভিযোজিত হতে পারে।
    • (III) জীবের বিবর্তনে সাহায্য করে।
  2. অসুবিধা—
    • (I) যৌন জনন পদ্ধতিটি সময়সাপেক্ষ ও জটিল
    • (II) এতে বেশি শক্তির ব্যয় হয়।

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel