Academy

11. লোকমাতা রানি রাসমণি 👑 | সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

11. লোকমাতা রানি রাসমণি 👑 | সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় - WBBSE - Class 10 - বাংলা

0

লোকমাতা রানি রাসমণি 👑

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়


📝 রাসমনির জন্ম ও বাল্যকাল

🗓️ ১২০০ বঙ্গাব্দ, ১১ই আশ্বিন, বুধবার সকালে, হালিশহরে মাহিষ্যবংশে জন্ম হয় রানি রাসমণি'র। তিনি ছিলেন এক দরিদ্রের কন্যা। তাঁর পিতা হারু ঘরামি নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মায়ের নাম ছিল রামপ্রিয়া। মা এই ফুটফুটে মেয়েটির নাম রেখেছিলেন রানি, যা পরে রাসমণি হয়। গ্রামবাসীরা এই দুটি নাম মিলিয়ে ডাকতে শুরু করে, 'রানি রাসমণি'। 👑

💡 এটা ছিল এক অদ্ভুত সমাপতন, কারণ একদিন তিনি সত্যিই রানি হয়ে উঠবেন। ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই এবং বাংলার রানি রাসমণি – দু'জনেই ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন।

👨‍👩‍👧 পারিবারিক জীবন ও বৈষ্ণব সংস্কৃতি

পিতা হরেকৃষ্ণ (লোকমুখে হারু) সামান্য লেখাপড়া জানতেন, কিন্তু মেয়েকেও শিখিয়েছিলেন। তাঁরা যে পল্লিতে বাস করতেন, সেখানে একমাত্র তাঁদের বাড়িতে রাতে রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণাদি পাঠ করা হতো। গ্রামবাসীরা লণ্ঠন হাতে করে দূর-দূরান্ত থেকে শুনতে আসতেন। বালিকা রাসমণি অবাক হয়ে দেখতেন এই অপূর্ব দৃশ্য। 🌙

তাঁর মনে এক ভীষণ ভালো লাগা তৈরি হতো, কারণ তিনি অনুভব করতেন যে মানুষের ভেতরে দুটো সত্তা থাকে – এক, মামলা-মোকদ্দমা, অভাব-অসুখের জগৎ; আর অন্যটি, অতীতের পথ চিনে নেওয়ার আগ্রহ। মহাভারতের-ভাগবতের শ্রীকৃষ্ণ, রামায়ণের রাম, লক্ষ্মণ, সীতা – এঁরা চিরকাল থাকবেন, এই ভাবনা রাসমণির বালিকা হৃদয়ে এক আনন্দ এনে দিত।

তাঁরা ছিলেন বৈষ্ণব পরিবার। গলায় তুলসীর মালা, নাকে তিলক ধারণ করতেন। রাসমণিও অতি নিষ্ঠার সাথে নাকে, কপালে, বাহুতে তিলক আঁকতেন। সুন্দরী রাসমণিকে এতে আরও সুন্দর দেখাতো।

💔 মায়ের অকাল প্রয়াণ

দুর্ভাগ্যবশত, রাসমণির মা রামপ্রিয়া বেশিদিন বাঁচেননি। রাসমণি সাত বছর বয়সে পা দিয়ে দেখেন মা নেই। মাত্র আট দিনের জ্বরে রামপ্রিয়া পরলোকে চলে যান। ছোট্ট রাসমণি তখন মা-হারা

🌇 উনিশ শতকের কলকাতা ও বাঙালি জাগরণ

এগারো বছর বয়সে রাসমণি অত্যন্ত রূপবতী হয়ে ওঠেন। সেই সময় কলকাতা ছিল অনেক বিত্তশালীদের শহর, যেখানে বড়ো বড়ো লোক বাস করতেন।

  • জোড়াসাঁকো: প্রিন্স দ্বারকানাথ (ঠাকুরবাড়ি)।
  • জানবাজার: রাজা রামমোহন
  • মানিকতলা: (জমজমাট এলাকা)।
  • সিমুলিয়া: দত্তবংশ (স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান)।

বিদেশিরাও ডেভিড হেয়ারের মতো ব্যবসায়ীরা ঘড়ির ব্যবসা ছেড়ে শিক্ষার প্রসারে আত্মনিয়োগ করছিলেন। আলেকজান্ডার ডাফ সাহেব খ্রিস্টধর্ম প্রচারে উদ্যোগী ছিলেন। দেবেন্দ্রনাথ বড়ো হচ্ছেন, ব্রাহ্মসমাজের দরজা খুলছে। এটি ছিল বাঙালির জাগরণের কাল – ধর্ম, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে লক্ষ্মীলাভের সুযোগ এসেছে। 🌊

💰 প্রীতিরাম দাসের উত্থান

কলকাতার জানবাজার এলাকাটির নাম হয়েছিল জন সাহেবের বাজারের নামে। এখন এটি ফিস্কুল স্ট্রিটনিউ মার্কেটের পাশে অবস্থিত। এই জানবাজারের এক ধনী বাঙালির নাম ছিল প্রীতিরাম দাস। তিনি এককালে গরিব ছিলেন, কিন্তু নিজ প্রচেষ্টায় ধনকুবের হয়েছিলেন।

📌

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel