সিন্ধুতীরে | সৈয়দ আলাওল
সিন্ধুতীরে | সৈয়দ আলাওল - WBBSE - Class 10 - বাংলা
সিন্ধুতীরে
সৈয়দ আলাওল
কন্যারে ফেলিল যথা জলের মাঝারে তথা দিব্য পুরী সমুদ্র মাঝার। অতি মনোহর দেশ নাহি তথা দুঃখ ক্লেশ সত্য ধর্ম সদা সদাচার। সমুদ্রনৃপতি সুতা পদ্মা নামে গুণযুতা সিন্ধুতীরে দেখি দিব্যস্থান। উপরে পর্বত এক ফল ফুলে অতিরেক তার পাশে রচিল উদ্যান।। নানা পুষ্প মনোহর সুগন্ধি সৌরভতর নানা ফল বৃক্ষ সুলক্ষণ। তাহাতে বিচিত্র টঙ্গি হেমরত্বে নানা রঙ্গি তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ।।
পিতৃপুরে ছিল নিশি নানাসুখে খেলি হাসি যদি হৈল সময় প্রত্যুষ। সখীগণ করি সঙ্গে আসিতে উদ্যানে রঙ্গে সিন্ধুতীরে রহিছে মাঞ্জস ।। মনেতে কৌতুক বাসি তুরিত গমনে আসি দেখে চারি সখী চারিভিত। মধ্যেতে যে কন্যাখানি রূপে অতি রম্ভা জিনি নিপতিতা চেতন রহিত। দেখিয়া রূপের কলা বিস্মিত হইল বালা অনুমান করে নিজ চিতে। ইন্দ্রশাপে বিদ্যাধরি কিবা স্বর্গভ্রষ্ট করি অচৈতন্য পড়িছে ভূমিতে।। বেকত দেখিয়ে আঁখি তেন স-বসন সাক্ষী বেথানিত হৈছে কেশ বেশ। বুঝি সমুদ্রের নাও ভাঙ্গিল প্রবল বাও মোহিত পাইয়া সিন্ধু-ক্লেশ।। চিত্রের পোতলি সমা নিপতিত মনোরমা কিঞ্চিৎ আছয় মাত্র শ্বাস। অতি স্নেহ ভাবি মনে বলে পদ্মা ততক্ষণে বিধি মোরে না কর নৈরাশ। পিতার পুণ্যের ফলে মোহর ভাগ্যের বলে বাহুরক কন্যার জীবন। চিকিৎসিমু প্রাণপণ কৃপা কর নিরঞ্জন দুখিনীরে করিয়া স্মরণ। সখী সবে আজ্ঞা দিল উদ্যানের মাঝে নিল পঞ্চজনে বসনে ঢাকিয়া। অগ্নি জ্বালি ছেকে গাও কেহ শিরে কেহ পাও তন্ত্রে মন্ত্রে মহৌষধি দিয়া।। দণ্ড চারি এই মতে বহু যত্নে চিকিৎসিতে পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন। শ্রীযুত মাগন গুণী মোহন্ত আরতি শুনি হীন আলাওল সুরচন।।
📝 সৈয়দ আলাওল: সপ্তদশ শতাব্দীতে বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার জালালপুরে জন্মগ্রহণ করেন। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে অন্যতম প্রধান কবি সৈয়দ আলাওল ঘটনাচক্রে আরাকানরাজের অশ্বারোহী সৈন্যদলে নিযুক্ত হন। তাঁর প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ রচনা 'পদ্মাবতী'। 'সয়ফুলমুলুক বাদিওজ্জমাল' প্রধানমন্ত্রী-মাগন ঠাকুরের অনুরোধে তিনি রচনা করেন। এছাড়াও তিনি 'সপ্তপয়কর', 'তোহফা', 'দারাসেকেন্দরনামা', 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী' প্রভৃতি গ্রন্থ অনুবাদ ও রচনা করেন। পাঠ্যাংশটি তাঁর 'পদ্মাবতী' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
CONTENT MANAGER