Academy

18.কনক-আসন ত্যজি

18.কনক-আসন ত্যজি - WBBSE - Class 10 - বাংলা

0

অভিষেক 👑\n## মাইকেল মধুসূদন দত্ত\n### পঞ্চম পাঠ\n\nকনক-আসন ত্যজি, বীরেন্দ্রকেশরী\nইন্দ্রজিৎ, প্রণমিয়া, ধাত্রীর চরণে,\nকহিলা, – 💬 “কি হেতু, মাতঃ, গতি তব আজি\nএ ভবনে? কহ দাসে লঙ্কার কুশল।”\n\nশিরঃ চুম্বি, ছদ্মবেশী অম্বুরাশি-সুতা\nউত্তরিলা; – 💬 "হায়! পুত্র, কি আর কহিব\nকনক-লঙ্কার দশা! ঘোরতর রণে,\nহত প্রিয় ভাই তব বীরবাহু বলী!\nতার শোকে মহাশোকী রাক্ষসাধিপতি,\nসসৈন্যে সাজেন আজি যুঝিতে আপনি।”\n\nজিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া; –\n💬 "কি কহিলা, ভগবতি? কে বধিল কবে\nপ্রিয়ানুজে? নিশা-রণে সংহারিনু আমি\nরঘুবরে; খণ্ড খণ্ড করিয়া কাটিনু\nবরষি প্রচণ্ড শর বৈরিদলে; তবে\nএ বারতা, এ অদ্ভুত বারতা, জননি\nকোথায় পাইলে তুমি, শীঘ্র কহ দাসে।”\n\nরত্নাকর রত্নোত্তমা ইন্দিরা সুন্দরী\nউত্তরিলা; – 💬 "হায়! পুত্র, মায়াবী মানব\nসীতাপতি; তব শরে মরিয়া বাঁচিল।\nযাও তুমি ত্বরা করি; রক্ষ রক্ষঃকুল-\nমান, এ কালসমরে, রক্ষঃ- চূড়ামণি!\n\nছিঁড়িলা কুসুমদাম রোষে মহাবলী\nমেঘনাদ; ফেলাইলা কনক-বলয়\nদূরে; পদতলে পড়ি শোভিল কুণ্ডল,\nযথা অশোকের ফুল অশোকের তলে\nআভাময়! 💬 "ধিক্ মোরে” কহিলা গম্ভীরে\nকুমার, “হা ধিক্ মোরে! বৈরিদল বেড়ে\nস্বর্ণলঙ্কা, হেথা আমি বামাদল মাঝে?\nএই কি সাজে আমারে, দশাননাত্মজ\nআমি ইন্দ্রজিৎ? আন রথ ত্বরা করি;\nঘুচাব এ অপবাদ, বধি রিপুকুলে।”\n\nসাজিলা রথীন্দ্রর্ষভ বীর-আভরণে,\nহৈমবতীসুত যথা নাশিতে তারকে\nমহাসুর; কিম্বা যথা বৃহন্নলারূপী\nকিরীটী, বিরাটপুত্র সহ, উদ্ধারিতে\nগোধন, সাজিলা শূর শমীবৃক্ষমূলে।\nমেঘবর্ণ রথ; চক্র বিজলীর ছটা;\nধ্বজ ইন্দ্রচাপরূপী; তুরঙ্গম বেগে\nআশুগতি। রথে চড়ে বীর-চূড়ামণি\nবীরদর্পে, হেন কালে প্রমীলা সুন্দরী,\nধরি পতি-কর-যুগ (হায় রে যেমতি\nহেমলতা আলিঙ্গয়ে তরু-কুলেশ্বরে)\nকহিলা কাঁদিয়া ধনি; 💬 “কোথা প্রাণসখে,\nরাখি এ দাসীরে, কহ, চলিলা আপনি?\nকেমনে ধরিবে প্রাণ তোমার বিরহে\nএ অভাগী? হায়, নাথ, গহন কাননে,\nব্রততী বাঁধিলে সাধে করি-পদ, যদি\nতার রঙ্গরসে মনঃ না দিয়া, মাতঙ্গ\nযায় চলি, তবু তারে রাখে পদাশ্রয়ে\nযূথনাথ। তবে কেন তুমি, গুণনিধি,\nত্যজ কিঙ্করীরে আজি?” হাসি উত্তরিলা\nমেঘনাদ, 💬 “ইন্দ্রজিতে জিতি তুমি, সতি,\nবেঁধেছ যে দৃঢ় বাঁধে, কে পারে খুলিতে\nসে বাঁধে? ত্বরায় আমি আসিব ফিরিয়া\nকল্যাণি, সমরে নাশি, তোমার কল্যাণে\nরাঘবে। বিদায় এবে দেহ, বিধুমুখি।”\n\nউঠিল পবন-পথে ঘোরতর রবে,\nরথবর, হৈমপাখা বিস্তারিয়া যেন\nউড়িলা মৈনাক-শৈল অম্বর উজলি!\nশিঞ্জিনী আকর্ষি রোষে, টঙ্কারিলা ধনুঃ\nবীরেন্দ্র, পক্ষীন্দ্র যথা নাদে মেঘ মাঝে\nভৈরবে। কাঁপিল লঙ্কা, কাঁপিল জলধি!\nসাজিছে রাবণ রাজা, বীরমদে মাতি; –\n\nবাজিছে রণ-বাজনা; গরজিছে গজ;\nহেষে অশ্ব; হুঙ্কারিছে পদাতিক, রথী;\nউড়িছে কৌশিক-ধ্বজ; উঠিছে আকাশে\nকাঞ্চন-কঞ্জুক-বিভা। হেন কালে তথা,\nদ্রুতগতি উত্তরিলা মেঘনাদ রথী।\n\nনাদিলা কর্তৃরদল হেরি বীরবরে\nমহাগর্বে। নমি পুত্র পিতার চরণে,\nকরযোড়ে কহিলা;-💬“হে রক্ষঃ-কুল-পতি,\nশুনেছি, মরিয়া না কি বাঁচিয়াছে পুনঃ\nরাঘব ? এ মায়া, পিতঃ, বুঝিতে না পারি!\nকিন্তু অনুমতি দেহ; সমূলে নির্মূল\nকরিব পামরে আজি! ঘোর শরানলে\nকরি ভস্ম, বায়ু-অস্ত্রে উড়াইব তারে;\nনতুবা বাঁধিয়া আনি দিব রাজপদে।”\n\n💬 কে কবে শুনেছে, লোক মরি পুনঃ বাঁচে?”\nউত্তরিলা বীরদর্পে অসুরারি-রিপু; –\n💬 “কি ছার সে নর, তারে ডরাও আপনি,\nরাজেন্দ্র? থাকিতে দাস, যদি যাও রণে\nতুমি, এ কলঙ্ক, পিতঃ, ঘুষিবে জগতে।\nহাসিবে মেঘবাহন; রুষিবেন দেব\nঅগ্নি। দুই বার আমি হারানু রাঘবে;\nআর একবার পিতঃ, দেহ আজ্ঞা মোরে;\nদেখিব এবার বীর বাঁচে কি ঔষধে!”\n\nআলিঙ্গি কুমারে, চুম্বি শিরঃ, মৃদুস্বরে\nউত্তর করিলা তবে স্বর্ণ-লঙ্কাপতি;\n💬 “রাক্ষস-কুল-শেখর তুমি, বৎস; তুমি\nরাক্ষস-কুল- ভরসা। এ কাল সমরে,\nনাহি চাহে প্রাণ মম পাঠাইতে তোমা\nবারম্বার। হায়, বিধি বাম মম প্রতি।\nকে কবে শুনেছে, পুত্র, ভাসে শিলা জলে,\n\n💬 কহিলা রাক্ষসপতি; – “কুম্ভকর্ণ, বলী\nভাই মম, – তায় আমি জাগানু অকালে\nভয়ে; হায়, দেহ তার, দেখ, সিন্ধু-তীরে\nভূপতিত, গিরিশৃঙ্গ কিম্বা তরু যথা\nবজ্রাঘাতে! তবে যদি একান্ত সমরে\nইচ্ছা তব, বৎস, আগে পূজ ইষ্টদেবে, –\nনিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ কর, বীরমণি!\nসেনাপতি পদে আমি বরিণু তোমারে।\nদেখ, অস্তাচলগামী দিননাথ এবে;\nপ্রভাতে যুঝিও, বৎস, রাঘবের সাথে।”\n\nএতেক কহিয়া রাজা, যথাবিধি লয়ে\nগঙ্গোদক, অভিষেক করিলা কুমারে।\n\n### 💡 মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩)\nজন্ম অধুনা বাংলাদেশের যশোহর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে। বাল্যবয়সেই কলকাতায় এসে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর সহপাঠী ছিলেন ভূদেব মুখোপাধ্যায়, রাজনারায়ণ বসু, গৌরদাস বসাক প্রমুখ। গ্রিক, ল্যাটিন, সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষায় পান্ডিত্য অর্জন করেন। প্রথম জীবনে ইংরেজি ভাষায় দুটি গ্রন্থ রচনা করলেও পরবর্তী পর্যায়ে কবি মধুসূদন 'মেঘনাদবধ কাব্য', 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য', 'বীরাঙ্গনা কাব্য', 'ব্রজাঙ্গনা কাব্য', 'চতুর্দশপদী কবিতা' রচনার মধ্যে দিয়ে বাংলা কাব্য-কবিতার ইতিহাসে প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছেন। 'রত্নাবলী', 'শর্মিষ্ঠা', 'পদ্মাবতী', 'কৃষ্ণকুমারী' প্রভৃতি নাটক এবং 'একেই কি বলে সভ্যতা' ও 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' নামক দুটি প্রহসন তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি। 'পদ্মাবতী' নাটকে তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন। ‘অভিষেক' শীর্ষক কাব্যংশটি কবির 'মেঘনাদবধ কাব্য'-এর প্রথম সর্গ থেকে নেওয়া।

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel