20. প্রলয়োল্লাস 🌪️কাজী নজরুল ইসলাম
20. প্রলয়োল্লাস 🌪️কাজী নজরুল ইসলাম - WBBSE - Class 10 - বাংলা
প্রলয়োল্লাস 🌪️
কাজী নজরুল ইসলাম
তোরা সব জয়ধ্বনি কর! তোরা সব জয়ধ্বনি কর! ওই নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখির ঝড়। তোরা সব জয়ধ্বনি কর! তোরা সব জয়ধ্বনি কর!
আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল, সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল! মৃত্যু-গহন অন্ধকূপে মহাকালের চণ্ড-রূপে ধূম্র-ধূপে বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর!
ওরে ওই হাসছে ভয়ংকর! 😱 তোরা সব জয়ধ্বনি কর! তোরা সব জয়ধ্বনি কর!
ঝামর তাহার কেশের দোলায় ঝাপটা মেরে গগন দুলায়, সর্বনাশী জ্বালামুখী ধূমকেতু তার চামর চুলায়! বিশ্বপাতার বক্ষ-কোলে রক্ত তাহার কৃপাণ ঝোলে দোদুল দোলে! অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ চরাচর ওরে ওই স্তব্ধ চরাচর! তোরা সব জয়ধ্বনি কর! তোরা সব জয়ধ্বনি কর!!
দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা ভয়াল তাহার নয়নকটায়, দিগন্তরের কাঁদন লুটায় পিঙ্গল তার ত্রস্ত জটায়! বিন্দু তাহার নয়নজলে সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে কপোলতলে! বিশ্বমায়ের আসন তারই বিপুল বাহুর পর হাঁকে ওই 'জয় প্রলয়ঙ্কর!' ⚡ তোরা সব জয়ধ্বনি কর ! তোরা সব জয়ধ্বনি কর !!
📌 মাভৈঃ মাভৈঃ! জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে জরায়-মরা মুমূর্ষুদের প্রাণ-লুকানো ওই বিনাশে! এবার মহানিশার শেষে আসবে ঊষা অরুণ হেসে করুণ বেশে! 🌅 দিগম্বর জটায় হাসে শিশু-চাঁদের কর আলো তার ভরবে এবার ঘর! তোরা সব জয়ধ্বনি কর ! তোরা সব জয়ধ্বনি কর !!
ওই সে মহাকাল-সারথি রক্ত-তড়িৎ চাবুক হানে, রণিয়ে ওঠে হ্রেষার কাঁদন বজ্রগানে ঝড়-তুফানে! ক্ষুরের দাপট তারায় লেগে উল্কা ছুটায় নীল খিলানে! গগনতলের নীল খিলানে! অন্ধ কারার বন্ধ কূপে দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যুপে পাষাণ-স্তূপে!
এই তো রে তার আসার সময় ওই রথঘর্ঘর ওই রথঘর্ঘর ! শোনা যায় জয়ধ্বনি কর ! তোরা সব জয়ধ্বনি কর!!
💡 ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? - প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন! আসছে নবীন – জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন! তাই সে এমন কেশে বেশে প্রলয় বয়েও আসছে হেসে - মধুর হেসে। ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর ! তোরা সব জয়ধ্বনি কর ! তোরা সব জয়ধ্বনি কর !!
ওই ভাঙা-গড়া খেলা যে তার কিসের তবে ডর? 🤔 তোরা সব জয়ধ্বনি কর ! বধূরা প্রদীপ তুলে ধর। কাল-ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে সুন্দর ! তোরা সব জয়ধ্বনি কর ! তোরা সব জয়ধ্বনি কর !!
📝 কাজী নজরুল ইসলাম: একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) : বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম। ১৩২৬ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম কবিতা 'মুক্তি' প্রকাশিত হয়। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে 'বিজলী' পত্রিকায় 'বিদ্রোহী' কবিতা প্রকাশিত হলে সমগ্র বাংলায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। 'বিদ্রোহী' কবি নজরুলের প্রতিবাদের হাতিয়ার ছিল তাঁর গান ও কবিতা। কবি তাঁর লেখায় কেবল ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়, সমস্ত অন্যায় অবিচার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। নজরুলের কবিতা ও গান চিরকাল বাঙালিকে উদ্দীপিত করে। তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে– 'অগ্নিবীণা', 'বিষের বাঁশি', 'সাম্যবাদী', 'সর্বহারা', 'ফণীমনসা', 'প্রলয়শিখা', 'ছায়ানট', 'চক্রবাক' প্রভৃতি।
CONTENT MANAGER