Academy

৭. অধ্যায় | পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ | পৃষ্ঠা ২২৭-২৫৫

৭. অধ্যায় | পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ | পৃষ্ঠা ২২৭-২৫৫ - WBBSE - Class 7 - Default Subject

0

7 পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ

জলবায়ুর পরিবর্তন

Cyclone Flood aftermath

Glacier melting

Flood scene

Landslide after rain

ওপরের ছবিগুলোতে কী ঘটেছে বলো? এর কারণ কী হতে পারে তা লেখার চেষ্টা করো।


এসো জানার চেষ্টা করা যাক আবহাওয়া আর জলবায়ু শব্দ দুটোর অর্থ ঠিক কী? 💡

আবহাওয়া হচ্ছে এমন একটা বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা যেখানে রোদ, ঝড়, বৃষ্টি, জল দিনে দিনে, ঘন্টায় ঘন্টায় এমনকী মুহূর্তে মুহূর্তেও বদলায়। কাছাকাছি থাকা দুটি স্থানের মধ্যেও আবহাওয়া বদলাতে দেখা যায়।

জলবায়ু হচ্ছে আবহাওয়ার দীর্ঘ সময়ের (বছর) গড় অবস্থা। বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জলবায়ু দেখা যায়।

তাহলে এবারে বলো তো আবহাওয়া আর জলবায়ু-র মধ্যে পার্থক্য কী?

আবহাওয়াজলবায়ু

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

আবহাওয়া আর জলবায়ু কী কী বিষয়ের ওপর নির্ভর করে? লেখার চেষ্টা করো।

নীচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করো।

Mango blossoms Migratory birds Flame of the forest

  1. আম গাছে কখন মুকুল আসে?
  2. বাইরের দেশ থেকে পরিযায়ী পাখিরা কখন এদেশে আসে?
  3. ইলিশ মাছ কখন ডিম পাড়ে?
  4. পলাশ ফুল কখন ফোটে?
  5. এইরকম আরও কিছু প্রাকৃতিক ঘটনার কথা লেখো যেগুলো বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে হয়। a) b) c) d)
  6. আমাদের দেশে বছরের কোন সময়ে বেশি গরম পড়ে?
  7. গরম, বর্ষা, শরৎ আর শীত ছাড়া আর অন্য কোনো ঋতুর কথা কি তোমরা জানো?
  8. বর্ষা কি বছরের নির্দিষ্ট সময়েই আসে?
  9. তোমার অঞ্চলে শীত ঋতুর স্থায়িত্ব কত দিনের?

প্রতিটি ঋতুর স্থায়িত্ব স্বাভাবিক সময়ের থেকে বেশি বা কম হলে কি কোনো সমস্যা দেখা দিতে পারে? নীচের সারণিতে লেখো।

| ঋতুর নাম | |---|---| | স্থায়িত্ব স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি বা কম হলে কী সমস্যা হতে পারে | | 1. গ্রীষ্ম | | 1. | | 2. | | 2. | | 3. | | 3. | | 4. | | 4. |

প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনা – একে এককথায় আমরা জলবায়ুর পরিবর্তনের ফল বলে ধরে নিতে পারি।


পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ

এসো এবারে তোমাদের এলাকায় এই পরিবর্তন কেমন তা খোঁজার চেষ্টা করি।

বাবা-মা বা এলাকার বয়স্কদের সঙ্গে আলোচনা করে নীচের কর্মপত্রটা ভর্তি করার চেষ্টা করো।

কর্মপত্র

তারিখ : .............................

  1. আপনার নাম কী? ...................................
  2. আপনার বয়স কত? ...................................
  3. আপনি যে অঞ্চলে থাকেন সে অঞ্চলের নাম ও আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য কী? ...................................
  4. আপনার অঞ্চলে ছোটোবেলার জলবায়ুর সঙ্গে এখনকার জলবায়ুর (উতা, বৃষ্টিপাত ইত্যাদি) কী কী পরিবর্তন লক্ষ করেছেন? i) ..................................................... iii) ..................................................... ii) ..................................................... iv) .....................................................
  5. এখনকার জলবায়ুর সঙ্গে 20 বছর আগেকার জলবায়ুর কী কী পরিবর্তন লক্ষ করেছেন? i) ..................................................... iii) ..................................................... ii) ..................................................... iv) .....................................................
  6. জলবায়ুর এই পরিবর্তনের পিছনে কী কী কারণ থাকতে পারে বলে আপনার মনে হয়? i) ..................................................... iii) ..................................................... ii) ..................................................... iv) .....................................................
  7. জলবায়ুর এই পরিবর্তনের ফলে কোনো শারীরিক সমস্যার কথা কী আপনার জানা আছে? i) ..................................................... iii) ..................................................... ii) ..................................................... iv) .....................................................
  8. জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শারীরিক সমস্যা ছাড়াও আর কী কী সমস্যা আপনার এলাকায় হচ্ছে বলে আপনার মনে হয়? i) ..................................................... iii) ..................................................... ii) ..................................................... iv) .....................................................
  9. জলবায়ুর পরিবর্তন যাতে ভয়াবহ আকার ধারণ না করে, সেই বিষয়ে করণীয় কী বলে আপনার মনে হয়? i) ..................................................... iii) ..................................................... ii) ..................................................... iv) .....................................................

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

পৃথিবীর ঘোমটা

Industrial Pollution Burning waste Cooking with wood

Bus pollution Motorcycle exhaust

i) ওপরের ছবিগুলো থেকে কী দেখতে পাচ্ছ? ii) বিভিন্ন উৎস থেকে বেরোনো ধোঁয়া কোথায় যায়?

বিভিন্ন উৎস থেকে বেরোনো এই ধোঁয়ার মধ্যে থাকে নানাধরনের গ্যাসীয় পদার্থ এবং বিভিন্ন ভাসমান কণা (Suspended particulate matter)। যেমন - কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2CO_2), মিথেন (CH4CH_4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2ON_2O), ক্লোরোফ্লুওরোকার্বন, সালফার ডাইঅক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস এবং ধুলো, কার্বন ইত্যাদির কণা। এই পদার্থগুলো বায়ুমন্ডলে গিয়ে জমা হয় আর পৃথিবীকে একটা চাদরের মতো মুড়ে রাখে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এই সমস্ত গ্যাসীয় পদার্থ ছাড়াও থাকে ওজোন আর জলীয় বাষ্প।

পৃথিবীর ছেড়ে দেওয়া তাপশক্তির একটা অংশকে বায়ুমণ্ডলে ধরে রাখতে সাহায্য করে বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থের এই চাদর। পৃথিবীতে প্রাণের স্পন্দন জাগিয়ে রাখার পেছনে এই গ্যাসীয় পদার্থগুলোর (CO2CO_2, CH4CH_4, জলীয় বাষ্প) ভূমিকা অনেকখানি। বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাইঅক্সাইড না থাকলে পৃথিবী পৃষ্ঠের গড় উদ্বুতা 18ext°C-18^ ext{°C}-এ নেমে যেত। তাহলে পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ ঘটত না। কিন্তু উলটোদিকে আবার আমাদের নানারকম কাজকর্মের ফলে পরিবেশে এইসব গ্যাসীয় পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যায়। তখন এইসব গ্যাসীয় পদার্থগুলোই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তাপকে পৃথিবীতে আটকে রাখে। ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এটাই বিশ্ব উন্নায়ন (Global Warming)। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে বিশ্ব উষ্ণায়নের এক গভীর সম্পর্ক আছে।

জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব

নীচে দেওয়া জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনাগুলো ভালো করে পড়ো।

পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি 🌡️

  • কিছু গ্যাস পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে স্বাভাবিকভাবে থাকে। বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে জেনেছেন যে গত কয়েক যুগ ধরে এই গ্যাসগুলো মাত্রায় অনেকটা বেড়ে গেছে।

পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ

  • মানুষের বিভিন্ন কাজের ফলে সৃষ্টি হওয়া গ্যাসগুলোর মধ্যে কার্বন ডাইঅক্সাইড অন্যতম। 1970 থেকে 2004 সালের মধ্যে পরিবেশে এই গ্যাস মেশার বার্ষিক হার প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে

  • বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা 2006 সাল থেকে এত মাত্রায় বেড়েছে যা গত কয়েক লক্ষ বছরে আর কখনোই এতটা বাড়েনি।

Polar bear on ice Melting glacier

  • 2001 সালের গোড়ায় জানা যায়, গত 100 বছরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়েছে 1ext°C1^ ext{°C}

  • মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (NASA) জানিয়েছে, 2005 সাল ছিল গত এক শতাব্দীর মধ্যে উষ্ণতম বছর।

  • 1980-88 সালের মধ্যে ভারতে 18 টি তাপপ্রবাহের (Heat wave) ঘটনার কথা জানা গেছে। এরফলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

Cracked earth drought

  • 2005 সালে রাজস্থানে বন্যা আর উত্তর-পূর্ব ভারতে খরা হয়। এমনিতে রাজস্থান খুব শুকনো। কম বৃষ্টিপাতের অঞ্চল। আর উত্তর-পূর্ব ভারত বেশি বৃষ্টিপাত অঞ্চল।

Flooded village

  • 2007 সালে 4 বার মরশুমি নিম্নচাপ হয়, যা স্বাভাবিকের থেকে দ্বিগুণ। এর ফলে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে ভয়ংকর বন্যা হয়। প্রচুর মানুষের জীবন আর জীবিকা নষ্ট হয়। একইসঙ্গে প্রায় এক লক্ষেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারায়।

Village in flood

গত 5 হাজার বছর ধরে মে মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত কাশ্মীরের অমরনাথের গুহায় জমা বরফের উচ্চতা থাকত প্রায় 12 ফুট। অথচ 2007-এ জুন মাসের শেষেই অমরনাথের ওই জমা বরফ গলে 4-5 ফুট উচ্চতার হয়েছিল।

  • উত্তরাখণ্ডে 2013 সালের মেঘভাঙা বৃষ্টি থেকে বিধ্বংসী বন্যায় কয়েক হাজার মানুষ মারা গেছেন। বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। বাড়িঘর আর অন্যান্য সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

হিমবাহের বরফের গলন ও নদীর জলস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি 🌊

হিমবাহকে বরফের জমাটবাঁধা নদী বললে বোধহয় খুব একটা ভুল বলা হবে না। কারণ পৃথিবীর মিষ্টিজলের বৃহত্তম ভাণ্ডার হলো এই হিমবাহগুলো। এই হিমবাহগুলোর বরফগলা জলে পুষ্ট হয় বিভিন্ন নদনদী। পৃথিবীর প্রায় 99% হিমবাহের অবস্থান উত্তর আর দক্ষিণমেরুতে। হিমালয় পর্বতমালাতেও আছে অনেকগুলো হিমবাহ।


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

এদের মধ্যে অন্যতম হলো গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, জেমু। গঙ্গা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি নদীর উৎস হলো হিমালয়ের বিভিন্ন হিমবাহ। হিমবাহের বরফগলা জলেই এরা পুষ্ট হয়। হিমালয় এশিয়ার নয়টি বড়ো বড়ো নদীকে পুষ্ট করে। এর ফলে প্রায় 120 কোটি লোকের জলের বন্দোবস্ত হয়।

Gangotri Glacier Yamunotri Glacier Jemu Glacier

বৃষ্টিপাত, বায়ুর উষ্ণতা প্রভৃতি আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের পরিবর্তন পৃথিবীর হিমবাহগুলোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বেড়ে গেলে হিমবাহগুলোর বরফ বেশি মাত্রায় গলতে আরম্ভ করবে।

  • গঙ্গা নদীর উৎস গঙ্গোত্রী হিমবাহ প্রতি বছর একটু একটু করে ছোটো হয়ে আসছে।
  • উত্তরমেরু সংলগ্ন আলাস্কা উপকূলে যে বরফের স্তর রয়েছে, তা গত 30 বছরে 40% কমে গিয়ে পাতলা হয়ে গেছে।

হিমবাহগুলো গলে যাওয়ার ফলে সমুদ্রের জলতল বেড়ে যেতে পারে।

  • 1993 থেকে 2005 সালের মধ্যে সমুদ্রের জলতল প্রতি বছরে গড়ে বেড়েছে 3 মিমি (0.1 ইঞ্চি)।
  • পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের হিমবাহগুলো গলে যাওয়ার প্রভাব পড়বে সমুদ্রের জলতলের ওপর। এই বিষয়ে একটি গবেষণা বলছে যে 2100 সালের মধ্যে সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা প্রায় 70 সেমি বেড়ে যেতে পারে।

সমুদ্রের জলতল বেড়ে গেলে উপকূল অঞ্চলে বন্যার সম্ভাবনা দেখা দেবে। উপকূল অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়বে। প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতিরও সম্ভাবনা দেখা দেবে। সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সারা পৃথিবীতে সমুদ্রের উপকূলে বাস করা অসংখ্য মানুষ।

  • ভারত ও বাংলাদেশের অন্তর্গত সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলও আজ এই বিপদের সম্মুখীন। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বাঘের আবাস এই সুন্দরবন। আর এই অঞ্চলে বাস করে প্রায় চল্লিশ লক্ষ মানুষ। এদের সকলেরই অস্তিত্ব আজ সংকটের মুখে।

উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ পুরো গলে গেলে ভবিষ্যতে ওই হিমবাহের জলে পুষ্ট নদ-নদীর জল প্রথমে বেড়ে যাওয়ার ও পরে কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। প্রথমে বন্যা আর পরে দেখা দিতে পারে তীব্র জলসংকট।

হিমবাহ প্রায় ৪০ শতাংশ সূর্য রশ্মি প্রতিফলিত করে আর প্রায় 20 শতাংশ শোষণ করে। হিমবাহ সম্পূর্ণ গলে গেলে ওই ৪০ শতাংশ সূর্যরশ্মি ভূভাগ দ্বারা শোষিত হয়ে পৃথিবীর উষ্ণতাকে আরও বাড়িয়ে দেবে।


পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ

প্রবাল দ্বীপ - প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস 🐠

প্রবাল বা কোরাল হলো একধরনের সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী। এরা নিডারিয়া পর্বভুক্ত। এরা একসঙ্গে দল বেঁধে কলোনি তৈরি করে বাস করে। প্রবালরা নিজেদের দেহের বাইরে ক্যালশিয়াম কার্বনেট-এর একটা বহিঃকঙ্কাল তৈরি করে। এই বহিঃকঙ্কাল এদের দেহকে রক্ষা করে। মৃত প্রবালের সাদা বা রঙিন কঙ্কালের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে হয়। শৌখিন দ্রব্য ও গয়না হিসেবে এদের কদর পৃথিবীব্যাপী।

Coral reef

একসঙ্গে বাস করা অনেক প্রবালের দেহের বাইরে থাকা ক্যালশিয়াম কার্বনেটের বহিঃকঙ্কাল একটা শক্ত প্রাচীরের মতো গঠন তৈরি করে। এটাই প্রবাল প্রাচীর

পৃথিবীর সমুদ্রতলের মাত্র 0.1% দখল করে থাকা প্রবাল প্রাচীর প্রায় 25% সামুদ্রিক প্রজাতির আশ্রয়স্থল। মাছ, মোলাস্কা, ইকাইনোডারমাটা, স্পঞ্জ, ক্রাস্টেশিয়া, ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের প্রাণী প্রবাল প্রাচীরে বাস করে। জীববৈচিত্র্যের নিরিখে প্রবাল প্রাচীরের গুরুত্ব অপরিসীম।

সমুদ্রের জলের উষ্ণতার সামান্যতম তারতম্য প্রবাল প্রাচীরের স্থায়িত্বের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে।

Fish in coral reef

আর প্রবাল দ্বীপ কি জানো? মৃত প্রবাল আর অন্যান্য জৈব বস্তুর সাহায্যে সাধারণত প্রবাল প্রাচীরের অংশ হিসাবে প্রবাল দ্বীপ তৈরি হয়। ক্রান্তীয় আর উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে সাধারণত প্রবাল দ্বীপ দেখা যায়। প্রবাল দ্বীপগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক মিটার উঁচু হয়ে জেগে থাকে। উপকূলীয় নারকেল গাছের সারি আর সাদা প্রবালের বালি দিয়ে ঘেরা থাকে অগভীর সমুদ্রের প্রবাল দ্বীপ।

  • বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর প্রবাল দ্বীপ ও প্রবাল প্রাচীরগুলো বিপন্ন হয়ে পড়েছে। 1988 সালে পৃথিবীর প্রায় 16% প্রবাল সম্পদ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
  • বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে ভারত মহাসাগরে জলের উয়তা বেড়ে গেছে। এই অঞ্চলের প্রবাল প্রাচীরগুলোতে বাস করে অনেক ধরনের মাছ। জলের উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে এই প্রবাল প্রাচীরগুলো আর ওইসব মাছেদের আদর্শ বাসস্থান থাকছে না। লোভী মানুষও প্রবাল চুরির নেশায় এদের ধ্বংসে মেতেছে।

তোমরা তো খবরের কাগজ বা ম্যাগাজিন পড়ো। দেখো বিশ্ব উষ্ণায়ন আর জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত কী কী খবর পাও। এই বিষয়ে তোমরা যা যা পড়লে নীচের সারণিতে ছোটো করে লেখো।

বিষয়খবর
(i) হিমবাহের গলন
(ii) সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি
(iii) জীববৈচিত্র্য ধ্বংস

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

জীববৈচিত্র্যের সংখ্যা হ্রাস 📉

Polar Bear মেরু ভালুক

Asian Elephant এশিয়ার হাতি

Dhole বুনো কুকুর (ঢোল)

Lion-Tailed Macaque লায়ন-টেলড ম্যাকাক

Leatherback Turtle লেদারব্যাক টার্টল

Mountain Gorilla মাউন্টেন গরিলা

American Condor আমেরিকান কনডর

Giant Panda জায়েন্ট পান্ডা

Amur Leopard আমুর লেপার্ড

Great Indian Bustard গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড

Attenborough's Pitcher Plant অ্যাটেনবোরোস পিচার প্ল্যান্ট

Pygmy Hog পিগমি হগ

Suicide Palm সুইসাইড পাম

White-Bellied Heron হোয়াইট-বেলিড হেরন

Bactrian Camel ব্যাক্ট্রিয়ান উট


পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ

জীববৈচিত্র্য কী? 🌿

রেহানা সেদিন স্কুলে এসে বলল – জানিস কালকে না আমাদের বাড়ির পাশের বকুল গাছে একটা বেনে-বউ এসে বসেছিল। শ্যামল বলল – বেনে-বউ! সে গাছে উঠল কী করে?

রেহানা হোহো করে হেসে বলে উঠল – দূর বোকা! বেনে-বউ তো একটা পাখি, হলুদ রঙের, মাথাটা কালো। শুভজিৎ বলল – ওহ! ওই পাখিটাকে তো হলুদ পাখিও বলে।

পরশু দিন রাতে অপূর্বদের বাড়ির ছাদে একটা ভাম এসেছিল। তার লাফালাফিতে ধুপধাপ আওয়াজ হচ্ছিল। আওয়াজের চোটে ওদের ঘুম ভেঙে গেল।

স্কুলের কাছে বড়ো পুকুরটার ধারে ইমতিয়াজ একটা জলের সাপ দেখছিল। সেকথা ইমতিয়াজ তার বন্ধুদের বলল। সাপটার গায়ে হলুদ রঙের উপর চৌকো চৌকো কালো ছোপ। রমেশ কাকু মাছ ধরছিল, বললেন-ঢোঁড়া সাপ, ওটার কিন্তু বিষ নেই। রেহানাদের স্কুলের কাছেই আম, জাম আর অন্য অনেক গাছের একটা ছোটোখাটো বাগান প্রায় জঙ্গলের চেহারা নিয়েছে। বন্ধুরা ঠিক করল যে এরপর থেকে তারা ওই বাগানের গাছগুলোর প্রত্যেকের নাম জানার চেষ্টা করবে। আর অন্যান্য পশুপাখিদেরও চেনার চেষ্টা করবে।

Yellow bird

তোমার বাড়ি বা স্কুলের আশেপাশে যেসব জীবেরা থাকে তাদের একটা তালিকা তৈরি করো। এর বাইরেও কোনো জায়গায় কোনো জীবকে দেখলে তাদেরও এই তালিকায় যুক্ত করো।

বাসস্থানের প্রকৃতিকী কী উদ্ভিদ দেখেছ (বীরুৎ/গুল্ম/বৃক্ষ)কী কী প্রাণী দেখেছ (মেরুদন্ডী/অমেরুদন্ডী)
1. জলা
2. ভিজে আল
3. পুকুরের পাড়ের ঘন ঝোপ
4. ইঁদুরের গর্ত
5. পুরোনো মোটা গাছের গুঁড়ির কোটর
6. উই ঢিপি
7. পুরোনো বাড়ির ইটের ফাটল
8.
9.

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

বাগান, পুকুর বা গ্রামের ঝোপজঙ্গলে রেহানারা কেউ দেখেছে কেউটে সাপ, কেউ বা দাঁড়াশ সাপ। অপূর্ব একদিন দেখল বেজির পরিবার। আর জলার ধারে শ্যামল দেখেছিল মেছো বেড়াল। ইমতিয়াজ ওর দাদুর কাছে থেকে বাড়ির পাশে ঘৃতকুমারী আর কুলেখাড়া গাছ চিনে জানতে পারল এরা একধরনের ওষধি । স্যার ওদের বললেন – এরকম অসংখ্য নাম না জানা উদ্ভিদ ও প্রাণী ছড়িয়ে আছে পৃথিবীর আনাচেকানাচে। আর আছে খালি চোখে দেখা যায় না যে জীবদের – সেই জীবাণুর জগৎ।

কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সব ধরনের উদ্ভিদ, প্রাণী আর জীবাণুর বৈচিত্র্য নিয়েই জীবনের বৈচিত্র্য, যাকে এককথায় বলা হয় জীববৈচিত্র্য

সমস্ত সৌরজগতে পৃথিবীতেই একমাত্র জীবন ও জীববৈচিত্র্য আছে। অন্য কোনো গ্রহে এখনও প্রাণের সন্ধান মেলেনি।

কোনো একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে থাকা বিভিন্ন জীব প্রজাতি ও একেকটি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য একেক রকম। যেমন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হিমালয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য থেকে একদম আলাদা। আবার, আমাদের ভারতবর্ষের জীববৈচিত্র্য, ইংল্যান্ডের বা ব্রাজিলের জীববৈচিত্র্য থেকে অনেক আলাদা।

জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল (Biodiversity Hot spot) 📌

পৃথিবীতে এরকম বহু অঞ্চল আছে যেখানে খুব বেশি সংখ্যক প্রজাতির জীব পাওয়া যায়। আবার সেইসব অঞ্চলে এমন সব প্রজাতির জীবও পাওয়া যায়, যা অন্য আর কোথাও পাওয়া যায় না। সেরকম অঞ্চলকে বলা হয় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। ইংরাজিতে একে বলে বায়োডাইভারসিটি হটস্পট (Biodiversity Hot spot)। পৃথিবীতে এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকটা বায়োডাইভারসিটি হটস্পট খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর বায়োডাইভারসিটি হটস্পটগুলো ওপরের মানচিত্রে লাল রঙে দেখানো হলো। তার মধ্যে চারটি বায়োডাইভারসিটি হটস্পট হলো :

World map biodiversity hotspots

  1. পূর্ব হিমালয় (Eastern Himalayas): সিকিম, দার্জিলিং, ডুয়ার্স, তরাই অঞ্চল।
  2. পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এবং শ্রীলঙ্কা (Western Ghat and Srilanka): ভারতবর্ষের পশ্চিম উপকূল বরাবর ঘন অরণ্যে ঢাকা পাহাড়ি অঞ্চল।
  3. ইন্দো-বার্মা (Indo Burma) : উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যসমূহ (যেমন-মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ)।
  4. সুন্দাল্যান্ড (Sundaland): ভারতের আন্দামান-নিকোবর অঞ্চল।

পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ

আমাদের ভারতবর্ষের জীববৈচিত্র্যও এত বেশি যে ভারতবর্ষকে একটি অতি বৈচিত্র্যের দেশ বা মেগাডাইভারসিটি নেশন (Megadiversity Nation) বলা হয়। পৃথিবীতে এরকম আরও কয়েকটি দেশ আছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, মাদাগাস্কার, ইকুয়েডর ইত্যাদি।

জীববৈচিত্র্য ও ভারত 🇮🇳

  • আমাদের দেশের জীববৈচিত্র্যের সম্ভার বিপুল। পৃথিবীর সতেরোটি অতি জীববৈচিত্র্য-সম্পন্ন (Mega Biodiversity) দেশের মধ্যে ভারত অন্যতম। এ পর্যন্ত আমাদের দেশে প্রায় 91,212 প্রজাতির বন্য প্রাণী ও পোকামাকড়, শামুক, কেঁচো ইত্যাদির খোঁজ পাওয়া গেছে।

  • ভারতীয় ভূখণ্ডের আয়তন 33 লক্ষ বর্গ কিলোমিটার, যার মধ্যে প্রায় 19.7% বা প্রায় 15\frac{1}{5} অংশ এলাকা অরণ্যে ঢাকা।

  • সারা বিশ্বের উদ্ভিদজগতের সাত শতাংশ (7%) আর প্রাণীজগতের সাড়ে ছয় শতাংশের (6.5%) বাসভূমি এই ভারতবর্ষ। এছাড়াও আছে কয়েক হাজার জাতের দেশি ধান ও অন্যান্য ফসল, কয়েকশো জাতের দেশি গবাদিপশু। এরা সবাই আমাদের দেশের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জীববৈচিত্র্য থেকে আমরা কী পাই? 💡

এই যে এতসব উদ্ভিদ আর প্রাণী – এদের কাছ থেকে কি আমরা কোনো উপকার পাই? এসো তো লিখে ফেলার চেষ্টা করি। এই তালিকায় তোমরা আরও অন্যান্য উদ্ভিদ আর প্রাণীদের নাম যোগ করতে পারো।

উদ্ভিদের নামউপকারপ্রাণীর নামউপকার
1. ধান1. তেচোখা মাছ
2. বট2. সাপ
3. নিম3. বাদুড়
4.4.

Paddy field ধান

Banyan tree বট

Neem tree নিম

জীববৈচিত্র্য অর্থাৎ বিচিত্ররকম জীবের এই সম্ভার আমাদের সবসময় নানাভাবে সাহায্য করছে। এসো এবারে দেখে নেওয়া যাক, জীববৈচিত্র্য কীভাবে আমাদের নানা কাজে লাগে। জীববৈচিত্র্যের বিভিন্ন গুরুত্বের কথা পরের দুটো পাতায় দেখানো হয়েছে। জীববৈচিত্র্যের আরও কিছু গুরুত্ব তোমরাও যোগ করতে পারো ।


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব ✅

graph LR
A[জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব] --> B(খাদ্যের উৎস)
A --> C(পরিবেশের দূষণ রোধ)
A --> D(জলবায়ুর স্থিতাবস্থা)
A --> E(পরিবেশের বিভিন্ন মৌলের ভারসাম্য রক্ষা)
A --> F(মৃত্তিকা সংরক্ষণ)

খাদ্যের উৎস 🍎

  1. খাদ্যশস্যের বিচিত্র সম্ভার কৃষিজ উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।

পরিবেশের দূষণ রোধ 🗑️

  1. অণুজীবরা বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থকে ভেঙে ফেলে ওইসব পদার্থের ক্ষতিকর প্রভাব দূর করতে সাহায্য করে।

জলবায়ুর স্থিতাবস্থা 🌍

  1. পরিবেশে CO2CO_2 পরিমাণ বাড়লে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। একমাত্র উদ্ভিদ আর কিছু অণুজীবরাই CO2CO_2 শোষণ করে পরিবেশে O2CO2O_2-CO_2 ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।
  2. উদ্ভিদেরা মূল দিয়ে যে জল শোষণ করে, তার অতিরিক্ত অংশ বাষ্পাকারে পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়। বৃষ্টিপাত বজায় রাখতে বনভূমি তথা উদ্ভিদেরা এইভাবে সাহায্য করে।

পরিবেশের বিভিন্ন মৌলের ভারসাম্য রক্ষা ♻️

  1. মাটিতে উপস্থিত বিভিন্ন অণুজীব অন্যান্য মৃত জীবের দেহ বা বর্জ্য পদার্থগুলোকে মাটিতে মিশিয়ে দেয়। ফলে মাটি তার হারানো মৌলগুলোকে আবার ফিরে পায়।

মৃত্তিকা সংরক্ষণ 🌱

  1. ঘাসজাতীয় উদ্ভিদরা মাটির গঠন রক্ষা করতে সাহায্য করে।
  2. মূলযুক্ত উদ্ভিদ মাটির জলধারণ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  3. ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া মাটিতে উপস্থিত উদ্ভিদের বৃদ্ধি-সহায়ক বিভিন্ন উপাদানের পরিমাণ বজায় রাখতে সহায়তা করে।

Paddy

Waste dump

Soil texture


পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ

জীববৈচিত্র্যের অন্যান্য গুরুত্ব ✨

ওষুধের উৎস 💊

  1. সিঙ্কোনা- কুইনাইন
  2. সর্পগন্ধা- রেসারপিন
  3. পেনিসিলিয়াম- পেনিসিলিন

কাঠ 🌳

  1. জ্বালানি রূপে
  2. কাগজ তৈরিতে

অন্যান্য শিল্প 🧵

  1. রেশম শিল্প - রেশম কীট তুঁত গাছে বাসা বাঁধে
  2. লাক্ষা-শিল্প - ....................

বিনোদন এবং ভ্রমণ 🏞️

  1. পশুপাখিদের তাদের স্বাভাবিক বাসস্থানে দেখার আনন্দ।
  2. প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনুভব করার জন্য জঙ্গলে ভ্রমণ।

বিভিন্ন জীবদের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা 🔗

  1. খাদ্য-খাদক সম্পর্ক

শিল্প ও সাহিত্যে প্রভাব 🖼️

  1. কোনো কোনো গাছ ও পশু পাখি অরণ্যে বসবাসকারী আদিবাসীদের উপাস্য।
  2. সাহিত্য রচনার উপাদান।

Cinchona plant Penicillium mold

Wood logs

Silkworms on leaves

Elephant herd

Lion with prey


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

নীচের কর্মপত্রটা তোমার পরিবারের বা পাড়ার কোনো বয়স্ক ব্যক্তির সাহায্যে ভরতি করো।

কর্মপত্র

তোমার নাম: স্থান: তারিখ:

  1. তোমার এলাকায় আগে দেখা যেত, অথচ এখন আর দেখা যায় না, এইরকম কয়েকটা উদ্ভিদের নাম লেখো

  2. তোমার এলাকায় আগে দেখা যেত, অথচ এখন আর দেখা যায় না, এইরকম কয়েকটা প্রাণীর নাম লেখো

  3. এইসব উদ্ভিদ বা প্রাণীর হারিয়ে যাওয়ার পিছনে কী কী কারণ আছে বলে মনে হয়?

হারিয়ে যাওয়া উদ্ভিদ বা প্রাণীর নামহারিয়ে যাওয়ার কারণ
(i) বট(i) কেটে ফেলা হচ্ছে
(ii)(ii)
(iii)(iii)
  1. এইসব প্রাণী বা উদ্ভিদেরা হারিয়ে যাওয়ায় তোমাদের কি কোনো ক্ষতি হয়েছে? ক্ষতি হয়ে থাকলে সেগুলো কী কী?

  2. তোমার এলাকায় আগে দেখা যেত না, অথচ এখন দেখা যাচ্ছে এমন নতুন ধরনের কোনো উদ্ভিদ ও প্রাণী কি এসেছে? যদি এসে থাকে, তদের নাম লেখো।

  3. এই নতুন ধরনের উদ্ভিদ বা প্রাণী তোমার এলাকায় আসার ফলাফল কী হতে পারে বলে মনে হয়?

কোন প্রাণী বা উদ্ভিদ এসেছেকী ক্ষতি বা লাভ হয়েছে
  1. তোমার এলাকায় কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদের সংখ্যা কী আস্তে আস্তে কমছে? তাদের নাম লেখো।
উদ্ভিদপ্রাণী
  1. এইসব উদ্ভিদ বা প্রাণীর সংখ্যা কমার পিছনে কী কারণ থাকতে পারে বলে তোমার মনে হয়?

  2. তোমার এলাকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কী কী করা যেতে পারে নীচে লেখো। i) ii) iii) iv)


পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ

পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য হ্রাসের কারণ 📉

এবার এসো আমরা জানার চেষ্টা করি আমাদের পৃথিবী গ্রহে জীববৈচিত্র্যের সংখ্যা হ্রাসের পিছনে কী কী কারণ আছে।

1. হারিয়ে যাচ্ছে বাসস্থান 🏠

প্রকৃতি থেকে জীবদের হারিয়ে যাওয়ার পেছনে একটা বড়ো কারণ হলো তাদের বাসস্থান ধ্বংস হয়ে যাওয়া। আমাদের ভোগবিলাসের সামগ্রী তৈরির প্রয়োজনে (যেমন কাঠের শৌখিন আসবাবপত্র), কখনও বা চাষের জমি বাড়ানোর জন্য, আবার কখনও বা থাকার জায়গা বাড়ানোর জন্য জঙ্গলের গাছ কেটে ফেলা হয়। এমনকি পুরো জঙ্গলও সাফ করে ফেলা হয়।

Siberian Tiger

সাইবেরিয়ার বাঘের (Siberian Tiger) অস্তিত্ব সংকটের অন্যতম কারণ হলো তাদের বাসস্থান ধ্বংস হয়ে যাওয়া।

জীবের থাকার জায়গা নানা কারণে ধ্বংস হতে পারে। চট করে কয়েকটা কারণ লেখার চেষ্টা করো।

| জীবের থাকার জায়গা ধ্বংস হওয়ার কারণ | |---|---| | 1. কাঠের জন্য জঙ্গলের গাছ কেটে ফেলা। | | 2. | | 3. | | 4. |

এমন যদি হয় কী হবে ভেবে দেখো তো 🤔

কাঠের জোগানের জন্য সুন্দরবনের পুরো জঙ্গল একদিন উধাও হয়ে গেল : ...................................

2. অবৈধ শিকার/ চোরাশিকার 🔫

চোরাশিকারিদের লোভ অনেক প্রাণীর অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলেছে। পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে কিছু কিছু বন্য জন্তুর হাড়, চামড়া ইত্যাদি ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও দাঁত, চামড়া বা শিং - এসবের লোভেও বিভিন্ন প্রাণী চোরাশিকারিদের হাতে প্রাণ হারায়।

এসো তো খুঁজে দেখার চেষ্টা করি কোন কোন প্রাণী এইসব জিনিসের জন্য চোরাশিকারিদের লোভের বলি হয়।

প্রাণীদের হত্যা করে পাওয়া জিনিসের নামকোন কোন প্রাণী হত্যা করে পাওয়া যায়কী কাজে ব্যবহার করা হয়প্রাণী হত্যা না করেও কীভাবে ওই জিনিস পাওয়া সম্ভব
1. দাঁত
2. চামড়া
3. শিং
4. লোম বা ফার
5. মৃগনাভি

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

এইভাবে চোরা শিকারের কবলে পড়ে গন্ডার, বাঘ, হাতি এরকম অনেক বন্য প্রাণীর সংখ্যা খুব কমে যাচ্ছে।

Tiger Leopard Skin Fur Texture Tooth

এমন যদি হয় কী হবে ভেবে দেখো তো

চোরাশিকারের ফলে একটা বনে বাঘ বা অন্য বড়ো মাংসাশী প্রাণীর সংখ্যা খুব কমে গেল : ____________________________________________

3. পরিবেশে নতুন জীবের আগমন

বাইরে থেকে আসা নতুন প্রাণী অনেক সময় স্থানীয় প্রাণীদের সংখ্যা হ্রাসের কারণ হয়। যেমন বিংশ শতাব্দীতে গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে বাইরে থেকে কুকুর, শুয়োর আর ছাগল নিয়ে আসা হয়েছিল। এই ছাগলরা কচ্ছপের খাবার যেমন ঘাস, পাতা খেয়ে নিত। আবার কুকুর, শুয়োরেরা খেত কচ্ছপের ডিম। ফলে একসময় দেখা গেল কচ্ছপের সংখ্যা কমে গেল। গ্রাম বাংলার জলাভূমিতে আফ্রিকা থেকে তেলাপিয়া আর বিশাল মাগুর জাতের মাছ এনে ছেড়ে দেওয়ার ফলে অস্তিত্ব বিপন্ন হয়েছে মৌরলা, পুঁটি, খলসের মতো স্থানীয় মাছেদের।

Tortoise

এমন যদি হয় কী হবে ভেবে দেখো তো

একটা জলাশয়ে এমন কিছু মাছ এনে ছেড়ে দেওয়া হলো যারা অন্য ছোটো মাছদের খেয়ে নেয় : ____________________________________________

4. জলবায়ুর পরিবর্তন :

জলবায়ুর পরিবর্তন পালটে দিতে পারে জীবের চেনা পরিবেশ। আর কোনো জীব নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে না পারলে সেই জীবের অস্তিত্ব সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। আর তার ফলে মেরু ভালুকের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন। বরফ গলে যাওয়ার ফলে বিপন্ন হয়ে পড়েছে এম্পারার পেঙ্গুইন, মেরু শিয়ালের মতো প্রাণীরা।

Penguin with Chick

মহাসাগরের জলের অম্লত্ব ও তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে সমস্যায় পড়েছে বিভিন্ন কোরাল বা প্রবালরা।

পরিবেশে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে অস্ট্রেলিয়ায় ইউক্যালিপটাস গাছের পাতার খাদ্যগুণ যাচ্ছে কমে। এর ফলে সমস্যায় পড়ছে অস্ট্রেলিয়ার কোয়ালা (Koala) ভালুক – যাদের খাবার এই ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা।

Koala

242


পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ

এমন যদি হয় কী হবে ভেবে দেখো তো

কোনো অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ কমে গেল: ____________________________________________

5. পরিবেশ দূষণ

বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অনেক সময় ডেকে আনতে পারে জীবের বিনাশ। চাষের জমিতে যথেচ্ছ কীটনাশক ব্যবহারের ফলে হারিয়ে গেছে বেশ কিছু শস্যভুক পাখি। এছাড়াও বিভিন্ন শিল্পের বর্জ্য পদার্থ খাল, বিল, নদীর জলে এসে মিশছে। এর ফলে বহু মাছ ও জলজ প্রাণীর মৃত্যু হয়। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদীতে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ এসে পড়ায় প্রচুর মাছের মৃত্যুর খবর হয়তো তোমরা অনেকে পড়েছ।

Bird on branch

শিল্প আর কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহার হওয়া বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ গঙ্গায় এসে মেশে। ফলে গঙ্গায় মাছের সংখ্যা খুব কমে গেছে। সেই সঙ্গে বিপন্ন হচ্ছে গঙ্গার শুশুক (Gangetic Dolphin)

এমন যদি হয় কী হবে ভেবে দেখো তো

নদীর জলে কলকারখানার দূষিত পদার্থ ফেলা হলো : ____________________________________________

6. অতিরিক্ত অর্থনৈতিক ব্যবহার

কোনো বিশেষ উদ্ভিদ বা প্রাণীর অর্থকরী গুরুত্ব যদি খুব বেশি হয়, তবে অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ওইসব জীবের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে।

হিমালয়ের কস্তুরী মৃগ (Musk Deer) হলো এরকমই এক প্রাণী। এদের থেকে পাওয়া যায় মৃগনাভি। আর এই মৃগনাভি থেকে তৈরি হয় নানা সুগন্ধি দ্রব্য। মানুষের সুগন্ধি দ্রব্যের প্রতি আকাঙ্খা মেটাতে গিয়ে এই প্রাণীর অস্তিত্ব আজ সংকটের মুখে।

Musk Deer

এসো এবারে লিখে ফেলি অর্থনৈতিক গুরুত্ব আছে এমন কোন কোন জীবকে আমরা খুব বেশি মাত্রায় আমাদের কাজে লাগাচ্ছি।

জীবের নাম কীকী কী প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়

243


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

এমন যদি হয় কী হবে ভেবে দেখো তো :

গাছের কোনো অংশ থেকে ওষুধ তৈরি হয়, এমন গাছকে বেশি মাত্রায় কাজে লাগানো : ____________________________________________

পৃথিবীতে জীববৈচিত্র্য হ্রাস

গত 500 বছরে 784 টি প্রজাতি পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। যাদের মধ্যে আছে 338 টি মেরুদণ্ডী প্রজাতি, 359 টি অমেরুদণ্ডী প্রজাতি ও 87 টি উদ্ভিদ প্রজাতি। গত 20 বছরেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে প্রায় 27 টি প্রজাতি।

বর্তমানে সারা পৃথিবীতে প্রায় 15,500 টি প্রজাতি ধ্বংসের মুখে।

যে জীবগুলি পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে তাদের কয়েকটি হলো :

Bengal Tiger বাংলার বাঘ

Bengal Vulture বাংলার শকুন

One-horned Rhino একশৃঙ্গ গন্ডার

Ganges Dolphin গঙ্গার শুশুক

Cheetah চিতা

Chimpanzee শিম্পাঞ্জি

Orangutan ওরাং ওটাং

Ginkgo Tree গিংকো

Gorilla গরিলা

244


পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ

বর্জ্য ও মানব স্বাস্থ্যের ঝুঁকি

Waste Pipe


Smoke Stack 2. ____________________________

Organic Waste 3. ____________________________

Plastic Waste 4. ____________________________

Roadside Waste 5. ____________________________

Landfill 6. ____________________________

ওপরের ছবিগুলিতে কোন কোন উৎস থেকে বর্জ্য বেরোচ্ছে তা ছবির নীচে উল্লেখ করো। ওপরের ছবিগুলিতে থাকা বিভিন্ন বর্জ্যের উৎস প্রকৃতি ও উপাদান উল্লেখ করো।

ক্রমিক নংবর্জ্যের উৎসবর্জ্যের প্রকৃতি (কঠিন/তরল/গ্যাসীয়)বর্জ্যের উপাদান
1.
2.
3.
4.
5.
6.

ওপরের ছবিগুলো থেকে তোমরা নিশ্চয়ই বিভিন্ন বর্জ্যের সঙ্গে পরিচিত হয়েছ। এবার তোমার এলাকার বর্জ্য মানচিত্র তৈরি করো।

245


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

House Illustration ঘরবাড়ি

  • বিদ্যালয়
  • চালকল
  • পুকুর
  • চাষের ক্ষেত
  • হাসপাতাল
  • বাজার
  • খেলার মাঠ
  • বাসস্ট্যান্ড
  • ঘরবাড়ি

ওপরের বিভিন্ন উৎস থেকে কী কী বর্জ্য দ্রব্য উৎপন্ন হয় তার তালিকা ও প্রকৃতি নির্ণয় করো।

উৎসবর্জ্যের নামবর্জ্যের প্রকৃতি
1. বিদ্যালয়
2. চালকল
3. পুকুর
4. চাষের ক্ষেত
5. হাসপাতাল
6. বাজার
7. খেলার মাঠ
8. বাসস্ট্যান্ড
9. ঘরবাড়ি

ওপরের বিভিন্ন উৎস থেকে যে সব বর্জ্য নির্গত হয় তার মধ্যে কতকগুলো মানব শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। মলমূত্রের মাধ্যমে জীবাণুরা পানীয়জল বা খাদ্যের উৎসে মিশলে এবং পরবর্তী সময়ে সুস্থ মানবশরীরে প্রবেশ করলে নানারকমের রোগের প্রকাশ ঘটে।

246


পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ

রোগগুলো হলো :

  1. বাহক (মশা, মাছি, ইঁদুর,............... দ্বারা সংক্রামিত রোগ – ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, ডেঙ্গু, ডায়ারিয়া, প্লেগ,...............।
  2. হাসপাতালে ব্যবহৃত বিভিন্ন পরিত্যক্ত বা রোগীর ব্যবহৃত উপাদান দ্বারা সংক্রামিত রোগ – হেপাটাইটিস,...............।
  3. কলকারখানা থেকে নির্গত বিভিন্ন অপরিশোধিত যৌগ বা ধাতু থেকে সংক্রামিত রোগ – ক্যানসার, স্নায়ুরোগ, হাড়ের যন্ত্রণা, চর্মরোগ, ................।

এবার তোমার চেনা পরিচিত অথবা কোনো প্রতিবেশীর দেহে এমন কী কোনো সমস্যা রয়েছে? খুঁজে দেখে নীচে লেখো :

তিনি কোথায় কাজ করেনকী কারণে হয়ে থাকতে পারেসমস্যাটি কীকী করণীয়
1. অ্যাসবেস্টসের কারখানায়অ্যাসবেস্টসফুসফুসের সমস্যাডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন
2.
3.
4.

তাহলে এই সকল রোগ আর ঝুঁকির জন্য আমাদের কী কী অসাবধানতা আর অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস দায়ী তা চিহ্নিত করো।

রোগ/ ঝুঁকিকারণকোন অসাবধানতা/ অস্বাস্থ্যকর আচরণ দায়ীকী করা দরকার
হেপাটাইটিসপানীয় জলে ভাইরাসের সংক্রমণদূষিত জল পান করাজল ফুটিয়ে খাওয়া,

247


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

পরিবেশ রক্ষায় গাছের ভূমিকা

পরিবেশ দিবস পালন উপলক্ষ্যে পীযূষদের স্কুলে এবার আলোচনার বিষয়-পরিবেশ রক্ষায় গাছের ভূমিকা। সে উপলক্ষ্যে ছেলেমেয়েরা নানা ছবি এঁকে এনেছে।

  1. Strong Wind and Trees

  2. Trees in Rain

  3. Deforestation Damage

  4. Dense Forest

  5. Tree Planting Village

  6. Wildlife in Trees

248


পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ

ওপরের ছবিগুলো দেখিয়ে স্যার বললেন- তোমার জীবনে গাছের ভূমিকা কী কী হতে পারে তা নীচে লেখো।

গাছ না থাকলে কী হয়গাছ থাকলে কী হয়
1.
2.
3.
4.
5.
6.

সিধু একটা বইতে সে দিন পড়ল আমাজন নদীর দু-পাড়ের মাইলের পর মাইল ঘন জঙ্গল নাকি রাবার চাষের জন্য কাটা পড়ছে। বিজ্ঞানীরা এজন্য খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। একথা বলায় স্যার বললেন, গাছ ছাড়া আমরা বাঁচার কথা ভাবতেও পারি না। এসো এবার আমরা আলোচনা শুরু করি গাছ পরিবেশ রক্ষায় কী কী ভূমিকা পালন করে।

বায়ুমণ্ডল ও গাছ

সূর্যের আলো পেলে গাছের সবুজ পাতার পত্ররন্ধ্র খুলে যায়। আর তা দিয়ে প্রবেশ করে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস। সূর্যের আলো, জল আর কার্বন ডাইঅক্সাইড কাজে লাগিয়ে গাছ খাদ্য তৈরি করে নিজে পুষ্ট হয়। আজ থেকে প্রায় 350 কোটি বছর আগে, পৃথিবীতে প্রাণ সৃষ্টির প্রথম দিকে, বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ ছিল খুব কম। আনুমানিক 250 কোটি বছর আগে প্রথমে কিছু অণুজীব সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করতে শুরু করে। আরো অনেক পরে গাছ সালোকসংশ্লেষের ফলে প্রচুর O2O_2 গ্যাস ছাড়তে শুরু করলো। সালোকসংশ্লেষের সময় অণুজীব ও গাছেরা শোষণ করতে শুরু করল CO2CO_2। এতে বাতাসের উপাদানের পরিমাণ ধীরে ধীরে বদলে গেল। তবে সবধরনের উদ্ভিদের CO2CO_2 শোষণ ক্ষমতা সমান নয়।

টুকরো কথা কানাডার সরলবর্গীয় প্রাচীন বনভূমিতে খুব কম পরিমাণে CO2CO_2 শোষিত হয়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে একই ঘটনা ঘটে। কিন্তু ইউরোপ, চিন বা সাইবেরিয়ার নতুন তৈরি বনভূমিতে ঠিক তার বিপরীত ঘটনা ঘটে। বায়ুতে CO2CO_2-এর ঘনত্ব যত বাড়ছে এসব অরণ্যের গাছরাও অতিরিক্ত CO2CO_2 শোষণের জন্য নিজেদের বদলে নিচ্ছে। বিদেশে ওক, বার্চ কিংবা মেপল গাছে শীতের শেষে নতুন পাতা গজানোর সময় প্রায় 20-25 দিন এগিয়ে এসেছে। আর শেষপাতা ঝরে পড়ার সময়ও প্রায় 10-12 দিন পিছিয়ে গেছে। ফলে এরা আরও বেশিদিন ধরে CO2CO_2 শোষণ করতে পারছে।

যে পাতার ক্ষেত্রফল যত বেশি তার CO2CO_2 গ্যাস শোষণের হার তত বেশি। নীচের গাছগুলোর মধ্যে কোন কোন গাছের পাতা একটা নির্দিষ্ট সময়ে বেশি CO2CO_2 গ্যাস বাতাস থেকে নিতে পারে বলে তুমি মনে করো? (তেঁতুল, শাল, কাঁঠাল, ধান, আখ, আলু, বট, কদম, ছাতিম, পাইন, গরান, ঘাস)

249


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

গাছ ও প্রাণীর নির্ভরশীলতা

পৃথিবীতে মোট জীবের প্রায় 99% হলো উদ্ভিদ। আর মাত্র 1% হলো প্রাণী। সবুজ গাছপালা খাদ্যে যে পরিমাণ শক্তি জমিয়ে রাখে, তার 10-20% শক্তি প্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখতে ব্যয় হয়। অরণ্য যদি কমতে থাকে তাহলে এসব প্রাণীর বেঁচে থাকার শক্তিতেই টান পড়বে। আজকের পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ জাতের উদ্ভিদবৈচিত্র্য দেখা যায়। আর প্রাণীবৈচিত্র্য হলো প্রায় দশ লাখের মতো। এর মধ্যে প্রায় সাত লাখ প্রাণীর খাদ্য হলো গাছপালার নানা অংশ বা সম্পূর্ণ গাছ।

তোমার জানা নীচের প্রাণীগুলো কীভাবে অরণ্যের উদ্ভিদের ওপর খাদ্যের বিষয়ে নির্ভরশীল তা নীচের তালিকাতে উল্লেখ করো :

প্রাণীর নামকী খায়, আর তা কোথা থেকে পায়সারাবছর একই পরিমাণ খাদ্য পায় কি?উৎসগুলো নষ্ট হলে ভবিষ্যতে প্রাণীগুলো কী হতে পারে?
হরিণ
হাতি
একশৃঙ্গ গন্ডার
বাদুড়
কাঠবিড়ালি
ধনেশ পাখি
লালপান্ডা

গাছ ও খাদ্য-খাদক সম্পর্ক

অরণ্যে সূর্যের আলো ব্যবহার করে উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে। আর নানা অঙ্গে তারা খাদ্য সঞ্চয় করে। এই সঞ্চিত খাদ্য নানা প্রাণী ব্যবহার করে। তাই অরণ্যে উদ্ভিদরা হলো উৎপাদক আর প্রাণীরা হলো খাদক। খাদ্য-খাদকের এই সম্পর্কটাই হলো খাদ্যশৃঙ্খল। অরণ্য যতো বড়ো হয়, অরণ্যে গাছপালার যত বৈচিত্র্য বাড়ে তত নতুন নতুন খাদ্যশৃঙ্খল তৈরি হয়। আর একটা খাদ্যশৃঙ্খল অন্যান্য খাদ্যশৃঙ্খলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়ে তৈরি করে খাদ্যজাল।

250


পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ

ওপরের ছবিতে যে বিভিন্ন খাদ্যশৃঙ্খলের কথা বলা হয়েছে সেগুলি নীচে লিখে সম্পূর্ণ করো:

  1. ফুলের মধু → ⬜ → ⬜
  2. গাছের পাতা → ⬜ → ⬜
  3. মশার লার্ভা → মাছ → ⬜
  4. গাছের ডাল → ⬜ → ⬜
  5. শস্যের দানা → ⬜ → ⬜
  6. মাছ → ⬜ → ⬜

খাদ্যজাল

graph LR
A[হরিণ] --> B[বাঘ]
C[ছাগল] --> B
D[প্রজাপতি] --> E[টিকটিকি]
F[ছোটো পাখি] --> G[ময়ূর]
H[ঘাস/সবুজ উদ্ভিদ] --> I[ঘাস ফড়িং]
I --> J[ব্যাং]
J --> K[সাপ]
K --> L[বাজ / ঈগল]
H --> M[ইঁদুর]
M --> L
H --> N[খরগোশ]

এবার নীচের উদ্ভিদ ও প্রাণীগুলির সাপেক্ষে বিভিন্ন খাদ্যশৃঙ্খল তৈরি করো।

ঘাস, ছাগল, পুঁটি মাছ, বোয়াল মাছ, মাছরাঙা, বক, চিল, ইঁদুর, বাজপাখি, ধানগাছ, মাজরা পোকা, মুরগি, চিতাবাঘ, জেব্রা, সিংহ, গন্ডার, বাঘ।

খাদ্যশৃঙ্খলের ক্রমিক সংখ্যাখাদ্যশৃঙ্খলের অন্তর্ভুক্ত জীবখাদ্যশৃঙ্খলের চেহারা
1.
2.
3.
4.
5.

251


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

গাছ ও জলচক্র

সিধু বইতে আমাজন, মালয়েশিয়া, কেরলের সাইলেন্ট ভ্যালি আর আফ্রিকার বর্ষা অরণ্যের কথা পড়ছিল। গাছ থেকে এত জল বাষ্পীভূত হয় যে এসব অরণ্যে সারা বছরই নাকি বৃষ্টি হয়। অরণ্যের গাছপালার ঘন আবরণ জলীয় বাষ্পকে উবে যেতে দেয় না। সেই বাষ্প ঘন হয়ে জমে ফোঁটা ফোঁটা জল হয়ে মাটিতে পড়ে। তারপর চুঁইয়ে চুঁইয়ে মিশে জলের সোঁতা তৈরি করে। সোঁতাগুলো মিলতে মিলতে একসময় নদীর জন্ম হয়।

বর্ষার জলও নানা ঢাল বেয়ে নেমে একসঙ্গে মিলে নদীর জন্ম দেয়। হিমালয়ের বরফগলা জলে জন্ম নেওয়া নদীরা বাদে ভারতবর্ষের আর সব নদীর-ই জন্ম কিন্তু এভাবে। পর্বতের ঢাল যদি অরণ্যের ছায়ায় ঢাকা না থাকে তাহলে সেই জলও তাড়াতাড়ি উবে যায় বাষ্প হয়ে। জলকে বাষ্প হতে না দিয়ে মাটির ছিদ্র দিয়ে চুঁইয়ে চুঁইয়ে মাটির তলায় ওই জলকে জমতে সাহায্য করে অরণ্য। কুয়ো খুঁড়ে বা টিউবওয়েল বসিয়ে আমরা সেই জল পাই। জঙ্গলে যদি লম্বা আর বড়ো পাতাযুক্ত গাছ বেশি থাকে, তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে, জল বিশুদ্ধ থাকে এবং জলের প্রবাহও নিয়ন্ত্রিত হয়।

গাছ ও পরিবেশের তাপমাত্রা

স্কুলে যাওয়ার পথে মৌমিতারা গরমের দিনে কিছুক্ষণ বট গাছটার নীচে দাঁড়ায়। ডালপালা ও পাতার ছাউনি দিয়ে ছাতার মতো কাজ করে ওই গাছটা। গাছের নীচে মাটিতে পা রাখলে ওরা বুঝতে পারে মাটি কত ঠান্ডা। আমবাগানের আম পাহারা দিতে দিতে রহিমদের মাঝে মাঝে আরামে ঘুম চলে আসে। একটা বড়ো আমগাছ জল বাষ্প করে বাতাসে ছেড়ে দেয়। জল বাষ্প করতে উদ্ভিদদেহ থেকে তাপ শোষিত হয়। এরফলে আশেপাশের পরিবেশও ঠান্ডা হয়ে যায়।

তোমার বাড়ির আশেপাশের আর এরকম কোন কোন গাছ পরিবেশের তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে?





গাছ ও ঝড়ের গতিবেগ

কয়েকবছর আগে 'আয়লা' নামক এক সামুদ্রিক ঝড় ধেয়ে এসেছিল পশ্চিমবঙ্গের দিকে। এরকম ঝড়ের মধ্যেই রফিক, নিরঞ্জনদের বাবা-কাকারা মাঝেমধ্যেই যায় সুন্দরবনে মাছ ধরতে। ওর মুখে একথা শুনে স্যার হেসে বললেন- এত প্রবল ঝড়েও দ্বীপগুলোর তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয় না। বাদাবনের গরান, হেঁতালের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে বাতাসের বেগ কমে যায়। এভাবেই তো শত শত বছর ধরে বাদাবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য ঝড়ের বেগ ষাট থেকে আশি শতাংশ কমিয়ে দেয়। যেসব দেশে সমুদ্রের উপকূলবর্তী অঞ্চলের বন এত গভীর বা ঘন হয় না, সেখানে নাকি প্রায়ই এরকম ঝড়-ঝঞ্ঝা হয়। প্রচুর লোক মারা যায়। বাড়িঘরের ক্ষয়-ক্ষতি হয়।

Mangrove Forest against storm

এবার বলো তো-

  1. বাতাসের গতি কমাতে গেলে গাছের সারি কেমনভাবে লাগানো উচিত? (বাতাসের গতির সাপেক্ষে সমান্তরাল / আড়াআড়ি ভাবে)।
  2. তুমি এরকম বাতাসভাঙা আর কোন কোন গাছের কথা জানো? বট, ঝাউ, _____________________________________________

252


পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ

গাছ ও পরিবেশ দূষণ

গরমকালে আমগাছগুলোকে দেখলে ইতুর মায়া হয়। কেমন ধুলোয় ভরা। স্যার ইতুর কথা শুনে বললেন - এত রাসায়নিক পদার্থ, আর গ্যাস বাতাসকে ক্রমাগত দূষিত করছে। আর এই দূষণ থেকেই তো মানুষের এত রোগ। ইতু শুনে বলল – তাহলে আমাদের সামনে খুব বিপদ।

স্যার শুনে বললেন- কদম, বেল, শিরীষের মতো গাছের পাতা এইসব কণাকে ছাঁকনির মতো আটকে রাখে। ইতুর এবার জানার ইচ্ছে হলো – কোন ধরনের গাছরা ধূলিকণা আটকাতে পারে?

Leafy branch

যেসব গাছের পাতা চওড়া ও লম্বাটে ধরনের তারা বেশি দূষক পদার্থ ধারণ করতে পারে। এরকম তিনটি গাছ হলো- 1. বট 2. আম 3. অশ্বত্থ।

এছাড়াও রাস্তার ধারে চলার সময়ে তুমি লক্ষ করবে কোন কোন গাছের পাতা ওই ধরনের। আবার যে সব গাছে যৌগিক পাতা দেখা যায় তারাও ধোঁয়ার বিভিন্ন গ্যাস শুষে নেয়, ধুলোগুলো পাতার ওপর জমতে থাকে । এরকম গাছগুলি হলো- 1. কৃষ্ণচুড়া 2. গুলমোহর 3. ____________________________ 4. ____________________________ 5. ____________________________

গাছ ও মাটির ক্ষয়

কিছুদিন ধরেই অম্লান লক্ষ করছে নদীর জল ক্রমশ বাড়ছে। ও জানে এই অল্প বৃষ্টিতেই যদি জল এমন বাড়ে তবে সামনে ভরাবৃষ্টির মরশুমে আবার বন্যা হবে। দুর্গতির সীমা থাকবে না। কেন এমন হয়?

মাটির ওপর যদি ঘাসের মোটা চাদর না থাকে।

স্যারের উত্তর শুনে অম্লান কিছুক্ষণ ভাবল। গোরুগুলো যখন ওরকম ঘাসশূন্য মাটিতে চরে, তখন ওদের খুরের ঘষায় মাটির চাঙড় উঠে যায়।

Grassless soil, cow grazing

এর ফলে দুটো ক্ষতি হয় :

(i) জলেভেজা মাটির স্তর ওপরে উঠে আসে। এই জল সূর্যের আলোর প্রভাবে বাষ্প হয়ে গেলে মাটির কণা আরও আলগা হয়ে যায়। (ii) বৃষ্টির জল মাটিতে পড়লেই আলগা মাটি ধুয়ে নদীতে চলে যায়।

নদীর গর্ভে যদি এভাবে ক্রমশ পলি জমতে থাকে তবে নদীর জলধারণ ক্ষমতা কমতে থাকে। সামান্য বৃষ্টিতেই দু-কূল উপচে জল চলে আসে বসতি এলাকায়। এজন্য আগে যেসব অঞ্চলে বন্যা হতো না, আজকাল সেখানেও বন্যা হচ্ছে। আর ওপরের মাটির সঙ্গে পুষ্টিও ধুয়ে চলে যাওয়ায় মাটিও উর্বরতা হারাচ্ছে। কোন ধরনের গাছ মাটিতে পুঁতলে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যেতে পারে বলে তোমাদের মনে হয়?...................................................................................................................

গাছ ও জীবের আশ্রয়স্থল

তোমার বাড়ির পাশে যদি কোনো আম/বট/অশ্বত্থখ/শিমুল/তেঁতুল বা অন্য কোনো বড়ো গাছ থাকে তবে ভালোভাবে লক্ষ করে দেখো তো গাছে কোন কোন প্রাণী বাস করে।

  1. পোকামাকড় – ____________________________
  2. পাখি - ____________________________
  3. স্তন্যপায়ী – ____________________________
  4. সরীসৃপ – ____________________________

253


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

একটা গাছ যদি এত প্রাণীকে আশ্রয় দেয়, তবে বুঝতেই পারছ একটা বনে কত রকমের প্রাণী থাকতে পারে। এবার বলো তো নীচের অরণ্যগুলিতে কোন কোন প্রাণী থাকে বা থাকতে পারে।

  1. সরলবর্গীয় বৃক্ষের অরণ্যে (সূঁচের মতো পাতাযুক্ত গাছের বন) - তুষারচিতা, লালপান্ডা, _____________________________________________
  2. পর্ণমোচী বৃক্ষের অরণ্যে - বাঘ, হাতি,_____________________________________________
  3. ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদের অরণ্যে – বাঘ, খাঁড়ির কুমির, _____________________________________________
  4. ঘাস জাতীয় উদ্ভিদের অরণ্যে – একশৃঙ্গ গন্ডার, হরিণ, _____________________________________________
  5. জলাভূমি সংলগ্ন অরণ্যে – বেজি, ভোঁদড়, _____________________________________________
  6. বাড়ির আশেপাশের ঝোপঝাড়ে - গোসাপ, শেয়াল, _____________________________________________

গাছ ধ্বংস হওয়ার জন্যই আজ পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে কত প্রাণী। এরকম কয়েকটি বিপন্ন প্রাণীর নাম করো যারা বেঁচে থাকে গাছের ওপর নির্ভরশীল হয়ে।

প্রাণীর নামখাদ্য/আশ্রয়দাতা গাছের নাম
1. হাড়গিলে
2. প্যাঁচা
3. ভাম
4. হনুমান

গাছ ও শব্দদূষণ

আজ কদিন ধরে যাত্রার প্রচার উপলক্ষ্যে মাইকটা দিনরাত বেজে চলেছে। কবীরের কান ঝালাপালা। বুকটাও কেমন ধড়ফড় করছে। ও বুঝতে পারছে না রাতে শোয়ার অনেকক্ষণ পরেও ঘুমটা কেন আসছে না। শব্দ এভাবেই নাকি আমাদের জীবনকে বিপর্যস্ত করছে। গাছ শব্দের এই তীব্রতাকে কোনোভাবে কমাতে পারে কী?

শব্দকে জব্দ করতে পারে বেল, ছাতিম ও জারুলের মতো গাছ। বনের গভীরতা যত বাড়ে শব্দের প্রাবল্য তত কমে। শব্দের প্রাবল্য কমানোর জন্য তুমি 'অরণ্য সপ্তাহে' কোথায় কোথায় গাছ পুঁতবে -

  1. যানবাহন চলাচলের পথের দু-পাশে




পরিবেশ দিবস পালন উপলক্ষ্যে পীযূষরা গাছের এত উপকারের কথা জানতে পেরে অবাক হয়ে গেল। পরিবেশবিদ প্রধান অতিথি বললেন – সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য পরিবেশের সবরকম জৈব ও অজৈব উপাদানের ভাণ্ডার। উপকূলবর্তী অঞ্চলকে বছরের পর বছর ধরে উর্বর রেখেছে। একটা পরিণত ম্যানগ্রোভ

254


পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ

গাছ বছরে প্রতি এক হেক্টর জমিতে 47 কেজি নাইট্রোজেন, 26 কেজি পটাশিয়াম, 99 কেজি ক্যালশিয়াম, 34 কেজি ম্যাগনেশিয়াম আর 32 কেজি সোডিয়াম সরবরাহ করে। এজন্য এদের বাঁচিয়ে রাখা খুব জরুরি। গাছ তথা অরণ্য ধ্বংস করলে মানুষ শুধু কাঠ পায়। কিন্তু তার ফলে পরিবেশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়।

Mangrove forest view 1

এবার তাহলে পরিবেশ দিবস উপলক্ষে তোমরা পরিবেশকে বাঁচায় এমন কোন কোন গাছ পুঁতলে তা লিখে ফেলো:

(i) বিদ্যালয়ে ____________________________ (ii) রাস্তার দু-ধারে ____________________________ (iii) চাষের জমির আশেপাশে ____________________________ (iv) পুকুর পাড়ে ____________________________

Mangrove forest view 2

Banyan Tree Forest Landscape Bel Fruit Tree

Flower Bush Bamboo Pine Tree Palm Tree

255

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel