Academy

৪. অধ্যায় | পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা | পৃষ্ঠা ১০১-১৪৪

৪. অধ্যায় | পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা | পৃষ্ঠা ১০১-১৪৪ - WBBSE - Class 7 - Default Subject

0

4 পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

জীবদেহ গঠনে অজৈব ও জৈব পদার্থের ভূমিকা

ওপরের ফাঁকা জায়গায় তোমার জানা ছটি মৌলের নাম লেখো যাদের চারটি হলো অধাতু ও দুটি হলো ধাতু। প্রায় 92টি মৌল দিয়েই পৃথিবীর বেশিরভাগ জিনিস তৈরি হয়েছে। জীবদেহে কিন্তু 92টি মৌলের প্রত্যেকটি পাওয়া যায় না। মাত্র 16টি মৌল নানান যৌগের আকারে জীবদেহে থাকে। পৃথিবীপৃষ্ঠ আর মানবদেহের মধ্যে উপাদানে কী তফাত তা বুঝতে নীচের তালিকাটি দেখো। এখানে প্রতি 100 গ্রাম ওজনে কোন কোন প্রধান মৌল কত গ্রাম করে আছে তা দেখানো হয়েছে।

মানুষের দেহে মৌলের ওজনানুপাতিক শতাংশপৃথিবীর পৃষ্ঠে মৌলদের ওজনানুপাতিক শতাংশ
অক্সিজেন 61.42অক্সিজেন 46.6
কার্বন 22.85কার্বন <1
নাইট্রোজেন 2.57অ্যালুমিনিয়াম 8.1
হাইড্রোজেন 9.99আয়রন 5
ক্যালশিয়াম 1.43ক্যালশিয়াম 3.6
ফসফরাস 1.11সিলিকন 27.7
সোডিয়াম 0.14সোডিয়াম 2.8
পটাশিয়াম 0.14পটাশিয়াম 2.6

তালিকা থেকে তুমি এমন তিনটি অধাতব মৌলের নাম লেখো যাদের পরিমাণ পৃথিবীপৃষ্ঠের চেয়ে মানবদেহে বেশি।

(1) .................., (2) .................., (3) ....................

আরো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে মানবদেহের ওজনের প্রায় 97 শতাংশ হলো চারটি মৌলের মিলিত ভর। এরা কী কী বলতে পারো? (1) ............... (2) ............... (3) ............... (4) ..............

শুধু মানবদেহ নয়; ব্যাকটিরিয়া, ছত্রাক, সপুষ্পক উদ্ভিদ ও বিভিন্ন প্রাণীদের দেহের উপাদান নিয়ে পরীক্ষা করলে সেখানেও এই চারটি মৌলের (C, H, O এবং N) প্রাধান্য দেখা যায়। এই চারটি মৌল দিয়ে নানা ধরনের জৈব যৌগ তৈরি হয় যা পৃথিবীপৃষ্ঠে পাওয়া যায় না। সেখানে আবার নানা অজৈব যৌগ (ধাতুর খনিজ পদার্থ) পাওয়া যায়।

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

একটা সবুজ পাতাওয়ালা গাছের কথাই ধরো – সে বাতাস থেকে নেয় কার্বন ডাইঅক্সাইড, মাটি থেকে নেয় জল আর কিছু খনিজ লবণ। এসবই অজৈব যৌগ। এসব যৌগ আর সূর্যের আলোর শক্তি কাজে লাগিয়ে গাছ তৈরি করে গ্লুকোজ। এটা একধরনের জৈব যৌগ যা পৃথিবীপৃষ্ঠে যৌগদের মধ্যে পাওয়া যায় না। এই যে নতুন যৌগ তৈরি করার ক্ষমতা – এ হলো জীবের ধর্ম। শুধু গ্লুকোজ নয়, নানাভাবে গাছ আরো অনেক জৈব যৌগ তৈরি করতে পারে। তার অনেকগুলোই আমাদের ওষুধ। কোনোটা সুগন্ধি, কোনোটা পোকা তাড়ায়। আবার কোনোটা বা রং। এই নানারকমের জৈব যৌগ তৈরির ক্ষমতাই জীব আর জড়জগতের তফাত করে দিয়েছে

জীবদেহের নানা যৌগ

জীবদেহ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌগ হলো জল। মানুষের দেহে এই জলের পরিমাণ প্রায় 70 শতাংশ। এই জলের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ কোশের মধ্যে থাকে। বাকি জল কোশের বাইরে আর রক্তে থাকে।

স্ত্রীলোকদের তুলনায় পুরুষদের দেহে প্রায় 10 শতাংশ জল বেশি থাকে।

ওজনের শতাংশের বিচারে বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের দেহে জলের পরিমাণ বেশি থাকে।

ওজনের শতাংশের বিচারে রোগা লোকদের দেহে মোটা লোকদের তুলনায় জল বেশি থাকে।

জীবদেহে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকলে জলের শতাংশ পরিমাণ কমে যায়

প্রাণরক্ষা করার জন্য অক্সিজেনের পরই গুরুত্বপূর্ণ হলো জল। কয়েকদিন জলপান না করলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কার্বোহাইড্রেট, লিপিড ও প্রোটিন হজম হওয়ার পর তাদের সারাংশ জলের মাধ্যমেই সারাদেহে ছড়িয়ে পড়ে। আবার দেহে উৎপন্ন দূষিত পদার্থ জলের মাধ্যমেই দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। এক্ষেত্রে জল দ্রাবকের ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও জল দেহের নানা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় (খাদ্যসংশ্লেষ, পরিপাক, শক্তি উৎপাদন ইত্যাদি) অংশগ্রহণ করে।

Shells

শামুক, ঝিনুকদের দেহের বাইরে শক্ত খোলস থাকে। এটি ক্যালশিয়াম কার্বনেট দিয়ে তৈরি। জলে দ্রবীভূত ক্যালশিয়াম আয়ন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড কাজে লাগিয়ে শামুক, ঝিনুকরা এই যৌগটি তৈরি করে। আবার জলের মধ্যে গুলে যাওয়া অক্সিজেন ব্যবহার করে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীরা বেঁচে থাকে। জলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো চলাচল করতে পারে বলে জলজ উদ্ভিদরা খাদ্য তৈরি করতে পারে। এরকম তিনটি উদ্ভিদের নাম লেখো।

(1) ...................., (2) ...................., (3) ....................

জীবদেহ গঠনে অপর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো নানা ধাতব আয়ন।

টুকরো কথা

এই কথাগুলোর মানে কী? কথাগুলো কী সত্যি?

  • “ছোটো মাছ খাওয়া ভালো, ওতে ক্যালশিয়াম আছে”।
  • “ডাক্তারবাবু মা-কে ক্যালশিয়াম ট্যাবলেট খেতে দিয়েছেন।”
  • "মেটে খেলে শরীর আয়রন পায়।”

পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

আমাদের দেহের কাজে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, আয়রন, কপার, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেশিয়াম, আর, কোবাল্ট খুব প্রয়োজনীয় ধাতু। এদের কোনোটা ছাড়াই আমাদের চলবে না। এখানে আমরা মানবদেহের অতি প্রয়োজনীয় চারটে ধাতুর কথা জানব। এই ধাতুগুলো হলো সোডিয়াম, পটাশিয়াম ক্যালশিয়াম আর আয়রন।

প্রথমেই যে কথাটা আমাদের বুঝতে হবে তাহল শরীরে আসলে এইসব ধাতুদের নানান যৌগ থাকে। শরীর সরাসরি ধাতুগুলোকে কাজে লাগাতে পারে না। তুমি যখন ছোটো মাছ ভেজে খাচ্ছ তখন কিন্তু শরীরে ধাতব ক্যালশিয়াম ঢুকছে না, ঢুকছে মাছের হাড়ের গুঁড়ো। হাড়ের গুঁড়োয় আছে ক্যালশিয়ামের ফসফেট যৌগ। একে শরীর কাজে লাগাতে পারবে। আবার ক্যালশিয়াম ট্যাবলেটে থাকে ক্যালশিয়াম কার্বনেট (CaCO3CaCO_3) আর কিছু জৈব যৌগ। মেটে বা লিভারে আছে আয়রনের যৌগ। গর্ভবতী মহিলাকে যে আয়রন ট্যাবলেট খেতে দেওয়া হয়েছে তাতে কিন্তু লোহার গুঁড়ো নেই; আছে লোহার বিশেষ কিছু যৌগ যা শরীর কাজে লাগাতে পারবে।

আমাদের প্রয়োজনীয় ধাতব আয়নগুলো যৌগরূপে খাদ্য ও লবণের সঙ্গে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। কখনও শরীরে এদের ঘাটতি দেখা দিলে বিশেষ বিশেষ ওষুধের মাধ্যমেও এদের খেতে হয়।

বিভিন্ন ধাতুর আয়ন কী কাজে লাগে :

  • আয়রন (লোহা): মানুষ সহ বিভিন্ন প্রাণীর রক্ত তৈরি করতে আয়রন খুব প্রয়োজন। রক্তের লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিন ফেরাস আয়ন (Fe2+Fe^{2+}) ছাড়া কাজই করতে পারে না।
  • ক্যালশিয়াম: আমাদের দেহে হাড়ের কঙ্কাল আছে বলেই আমরা হাঁটা-চলা, দৌড়োনো, ঝুঁকে-পড়া এসব করতে পারি। হাড়ের প্রধান উপাদান হলো ক্যালশিয়ামের ফসফেট যৌগ। এছাড়াও, কোশের অনেক কাজ ক্যালশিয়াম আয়ন (Ca2+Ca^{2+}) ছাড়া চলবে না।
  • সোডিয়াম আর পটাশিয়াম: তোমায় পিঁপড়ে কামড়ালে বা সুড়সুড়ি দিলে সেই অনুভূতি তৎক্ষণাৎ সরু সুতোর মতো স্নায়ুর মধ্যে দিয়ে সুষুম্না কাণ্ডে পৌঁছে যায়। এই যে স্নায়ুর মধ্যে দিয়ে সংকেত যাওয়া-আসা এসব ঠিকঠাকভাবে হতে হবে। শরীরে ঠিক ঠিক মাত্রায় সোডিয়াম আয়ন (Na+Na^+) আর পটাশিয়াম আয়ন (K+K^+) না থাকলে সে কাজ হবে না। তখন মানুষ হাঁটতে গিয়ে পড়ে যেতে পারে, অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে।
  • জৈব যৌগ: প্রাণ সৃষ্টির সময় শুধু যে জল বা বিভিন্ন ধাতব আয়ন লেগেছিল তা নয়। নানাধরনের জৈব যৌগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এরকম চার ধরনের গুরুত্বপূর্ণ জৈব যৌগ হলো – কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, লিপিড ও নিউক্লিক অ্যাসিড

তোমরা শুনেছ যে আমাদের দেহগঠন ও দেহরক্ষায় কার্বোহাইড্রেট, লিপিড, নিউক্লিক অ্যাসিড, নানা ধরনের প্রোটিন, ভিটামিন ইত্যাদির খুব গুরুত্ব আছে। স্বাভাবিকভাবেই এসব যৌগ গঠনে যেসব মৌলের প্রয়োজন তারাও অপরিহার্য। এসব মৌলরা হলো- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন আর নাইট্রোজেন। আবার প্রোটিন অণু, নিউক্লিক অ্যাসিড ও অন্যান্য ছোটো ছোটো জৈব অণু তৈরিতে কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ছাড়াও সালফার ও ফসফরাস অংশগ্রহণ করে। জীবদেহে এসব মৌল দিয়ে তৈরি যৌগের প্রাচুর্যের জন্যই জীবদেহ আর ভূত্বকের গঠনে মৌলের পরিমাণের এতটা পার্থক্য দেখা যায়।

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

তুমি যদি একটা ধানের বীজ পুঁতে দাও, কয়েকদিন পরে কী দেখতে পাবে?................ ।

ধানের বীজ থেকে চারা বেরোনোর জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি আসে শর্করা থেকে। এজন্য একে জ্বালানি খাদ্য বলা হয়। লিপিডরা জলে গোলে না। কোশে লিপিড ভেঙে তাপশক্তি উৎপন্ন হয়। আর চামড়ার নীচে এরকম লিপিডের মোটা স্তর থাকলে শীতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এরকম দুটো প্রাণীর নাম করো যাদের চামড়ার নীচে পুরু লিপিডের স্তর দেখা যায় ..........................।

প্রোটিন হলো এমন একটি যৌগ যা ছাড়া প্রাণীদেহ গঠন ও তার বিভিন্ন কাজের কথা ভাবাই যায় না। ইতিমধ্যেই তোমরা মানুষের দেহের কোথায় কোথায় প্রোটিন আছে তার কথা জেনেছ (চুল, নখ, চামড়া, পেশি, রক্ত)। বিশেষ বিশেষ প্রোটিনই আমাদের রোগ জীবাণুর হাত থেকে বাঁচায়। আবার রক্তের লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিন প্রোটিন দেহের সব জায়গায় অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। বিভিন্ন উৎসেচক (এনজাইম) আমাদের দেহের নানান বিক্রিয়া (খাদ্যসংশ্লেষ, খাদ্যের পাচন, জীবাণু মেরে ফেলা, শক্তি উৎপাদন) তাড়াতাড়ি ঘটতে সাহায্য করে।

কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর বংশধররা কেমন দেখতে হয় তা ঠিক করে নিউক্লিক অ্যাসিড। আবার কোন জীবের কেমন আচরণ হবে তাও ঠিক করে দেয় এই নিউক্লিক অ্যাসিড। এরকম তোমার জানা কয়েকটি বিশেষ প্রাণী বা উদ্ভিদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো যা অন্য উদ্ভিদ বা প্রাণীতে দেখা যায় না।

(1) ম্যানগ্রোভ অরণ্যে জন্মানো উদ্ভিদ : ........................................................

(2) রাতের বেলায় শিকার করতে বেরোনো প্রাণী : ....................................................

(3) শুকনো আর গরম অঞ্চলে বেড়ে ওঠা উদ্ভিদ : ........................................................

পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

সাধারণ অভিজ্ঞতা থেকে আম্লিক ও ক্ষারীয় দ্রব্য শনাক্তকরণ

জীবনধারণের জন্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর খাদ্যের প্রয়োজন, এটা আমরা জানি। আমরা এটাও জানি যে সবুজ উদ্ভিদ তার নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে। আর বিভিন্ন রূপে সেই খাদ্য চক্রাকারে তৃণভোজী থেকে মাংসাশী প্রাণীতে ছড়িয়ে পড়ে। তোমরা ভেবে বলো তো উদ্ভিদের কোন কোন অংশ সাধারণত আমরা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করি?

উদ্ভিদ দেহের অংশকোন গাছের অংশ
মাটির তলার মূলবিট, গাজর, মুলো
মাটির তলার বা উপরের কান্ড
ফল

তোমরা যেসব ফল খেয়েছ বা সবজি হিসাবে যে সমস্ত গাছের ফল আমরা খাই তাদের স্বাদ কি একরকম? নিজেদের আগের অভিজ্ঞতা থেকে বলাবলি করে লেখো

পরিচিত ফলের নামতাদের স্বাদ
পাতিলেবু
পাকা আম
আনারস

অম্লের ধারণা

তাহলে দেখা গেল যে, সব ফলের স্বাদ একরকম নয় – কোনো ফল মিষ্টি, কোনোটা টক মেশানো মিষ্টি স্বাদের, আবার কোনোটা শুধুই টক। তোমরাই তাহলে ভাবো, মিষ্টি ফলের থেকে অন্য ফলগুলোয় স্বাদে আলাদা হলো কেন? অন্য ফলগুলোয় নিশ্চয়ই এমন কিছু আছে যার জন্য তাদের স্বাদ টক।

শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্যে তিনটে ছোটো কাচের গ্লাসে কিছুটা করে চিনির দ্রবণ, নুনের দ্রবণ ও ভিনিগার দ্রবণ তৈরি করো। দ্রবণ তিনটের স্বাদ নিয়ে তাদের চেনার চেষ্টা করো।

নমুনা দ্রবণটির স্বাদনমুনাটি কী বলে মনে হয়

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

দেখা যাচ্ছে যে ফল ছাড়াও এমন অনেক জিনিস আছে যাদের স্বাদ টক। যেমন – টকে যাওয়া দুধ, ভিনিগার, দই।

আমরা এর থেকে কি বুঝতে পারছি যে ওপরের জানা টক স্বাদের জিনিসগুলোর মধ্যে এমন একটা সাধারণ (Common) জিনিস মিশে আছে যেটা ওদের টক স্বাদের জন্য দায়ী? সেই জিনিসটাকেই আমরা অ্যাসিড (Acid) বলি।

অ্যাসিড কথাটা কোথা থেকে এসেছে জানো? ল্যাটিন শব্দ অ্যাসিডাস থেকে, যার অর্থ টক বা অম্ল।

দলগত কাজ - চলো আমরা স্কুলের চারপাশে বা বাড়ির চারপাশে কী কী টক স্বাদের ফলের গাছ দেখা যায়, তার একটা তালিকা বানাই :

গাছ................ গাছ,..............গাছ।

আমরা জেনে নিই পরিচিত কিছু জিনিসের মধ্যে কী কী অ্যাসিড আছে (প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও) :

Fruits and Vinegar

আপেলম্যালিক অ্যাসিড
পাতিলেবুসাইট্রিক অ্যাসিড ও অ্যাসকরবিক অ্যাসিড
কমলালেবুসাইট্রিক অ্যাসিড ও অ্যাসকরবিক আসিড
তেঁতুলটারটারিক অ্যাসিড
টম্যাটোঅক্সালিক অ্যাসিড
চা............................
দই............................
ভিনিগার............................
সোডাওয়াটার............................
মিউরিয়েটিক অ্যাসিড............................

উদ্ভিদ দেহেই যে শুধু অ্যাসিড আছে তা নয়। এমন অনেক অ্যাসিড আছে যা বিভিন্ন প্রাণী বা মানুষের দেহেও পাওয়া যায়। একটা ছোটো লাল পিঁপড়ে কামড়ালে দেখা যায় সেই জায়গাটায় জ্বালা করে। তোমরা লক্ষ করে থাকবে লেবুর রস যেমন সিমেন্টের মেঝেতে দাগ সৃষ্টি করে, তেমনি একটা বড়ো পিঁপড়ে মরে গেলেও তার দেহ থেকে বেরোনো রসও লাল সিমেন্টের মেঝেতে প্রায় একইরকম দাগ সৃষ্টি করে।

— এরকম ঘটনা ঘটে তাদের মধ্যে থাকা অ্যাসিডের জন্য। আগেই আমরা জেনেছি যে জামাকাপড়ের কোনো কোনো দাগ তোলার জন্যও লেবুর রস (যার মধ্যে অ্যাসিড আছে) ব্যবহার করা যায়। দৈনন্দিন জীবনে অ্যাসিড ব্যবহারের আরও অনেক উদাহরণ পাওয়া যাবে।

পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

আমাদের নানা কাজে অ্যাসিড লাগে। এরকম কোনো ক্ষেত্রে অ্যাসিডের ব্যবহার তোমাদের জানা আছে কি? আলোচনা করে লেখো।

কী জিনিসকোন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত

একটা ছোটো কাচের গ্লাসে এক চামচ ভিনিগার নিয়ে আধ গ্লাস জলে মেশাও অথবা পাতিলেবুর রস নাও। তার মধ্যে এক চিমটে খাবার সোডা মেশাও। প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও।

-এবার লক্ষ করো কিছু ঘটছে কিনা?

Experiment with liquids

কী করা হলোকী দেখা গেল

এটা কেন হলো বলো তো? এর কারণ হলো লেবুর রসে বা ভিনিগারে যে অ্যাসিড আছে, সেটা খাবার সোডার সঙ্গে বিক্রিয়া করেছে।

ক্ষারকের ধারণা

অন্য একটা ছোটো কাচের গ্লাসে পানীয় জলের মধ্যে শিক্ষক/শিক্ষিকার সহায়তায় ছাত্রছাত্রীরা খাবার সোডার দ্রবণ তৈরি করো। এবার তোমরা আগের নেওয়া ভিনিগার দ্রবণ (বা লেবুর ছেঁকে নেওয়া রস), কিছুটা চুনজল ও এখন তৈরি হওয়া দ্রবণটার স্বাদ নাও। তোমাদের অনুভূতির কথা লেখো।

কীসের দ্রবণতার স্বাদ
ভিনিগার দ্রবণ
খাবার সোডার দ্রবণ
চুনের জল

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

তোমরা নিজেরাই বুঝতে পারছ যে এই তিনটে দ্রবণ স্বাদে ভিন্ন। তাহলে বোঝা গেল যে দ্রবণ দুটো একইরকম নয়। এদের মধ্যে ভিনিগার যে অ্যাসিড সেটা আমরা আগেই জেনেছি। তাহলে অন্য জিনিসগুলো কী?

তোমার বাড়ির কাছে পানের দোকানে গিয়ে জানার ও দেখার চেষ্টা করো দোকানের কাকু কীভাবে চুন জল তৈরি করেন। লক্ষ করলে দেখতে পাবে বেশ খানিকটা জলের মধ্যে পাথুরে চুন দিলেই কেমনভাবে জলটা টগবগ করে ফুটতে থাকে। একই সঙ্গে কেমন শোঁ-শোঁ করে আওয়াজ হয়। এই চুন জল কিন্তু দোকানের কাকু সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহার করেন না। বেশ কয়েকদিন রাখার পর তবে তিনি তা ব্যবহার করতে পারেন।

খেয়াল রাখো - তুমিও যখন চুনের জল ব্যবহার করবে তখন অনেক আগে থেকেই জলে চুন মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে তার ওপর থেকে সাবধানে কিছুটা জল ঢেলে নিতে হবে। চুন জল যেন কোনোভাবেই চোখে বা মুখে না পড়ে।

তোমরা লক্ষ করে থাকবে যে আমড়া বা তেঁতুল গাছের তলায় বীজ থেকে অন্য গাছের চারা জন্মাতে চায় না। তার কারণ কী বলো তো?

— এই গাছগুলোর পাতায় অ্যাসিড থাকে। পাতা চিবোলেও টক স্বাদ পাওয়া যায়। ফলে মাটিতে পড়া পাতা থেকে গাছের নীচের মাটির অম্লত্ব বেড়ে যায়। তখন মাটির অম্লত্ব কমানোর জন্য মাটিতে চুন মেশানো হয়। তোমরা এও জানো যে পুকুরে মাছ চাষ করার সময় জলের অম্লত্ব কমানোর জন্য জলের মধ্যে চুন মেশানো হয়।

এই ধরনের পদার্থ যারা অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তাদের আমরা বলি ক্ষারক (Base)। যেসমস্ত ক্ষারক জলে দ্রবীভূত হয় তাদের বলা হয় ক্ষার (Alkali)। লঘু ক্ষারীয় দ্রবণের স্বাদ কষা ধরনের ও তাদের গাঢ় দ্রবণ স্পর্শ করে দু-আঙুলে ঘষলে পিচ্ছিল মতো অনুভূতি হয়। সব ক্ষারই ক্ষারক কিন্তু সব ক্ষারক ক্ষার নয়। মনে রেখো গাঢ় ক্ষারীয় দ্রবণ চামড়া ও চোখের পক্ষে খুব ক্ষতিকারক।

চুনের অথবা অন্য কোনো ক্ষারকের ব্যবহার জানা থাকলে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে লেখো:

জিনিসের নামতার ব্যবহার

আমাদের শরীরেও অনেকরকম অ্যাসিড আছে তা কি তোমরা জানো?

আমাদের শরীরের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় বা গঠনমূলক কাজে নানাধরনের অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন- বাজারে যে মিউরিয়েটিক অ্যাসিড পাওয়া যায়, সেটার প্রধান উপাদান আমাদের পাকস্থলীতেও খাবার হজম করার সাহায্যের জন্য তৈরি হয়। তার নাম কী বলো তো? – হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড

তাহলে আমাদের শরীরের পাকস্থলীতেও অ্যাসিড আছে, আবার সেটা কমানোর জন্য যে অম্লনাশক বা অ্যান্টাসিড জাতীয় জিনিসটা খাওয়া হলো, সেটা হলো ক্ষারক।

সব জিনিসের তো স্বাদ গ্রহণ করা যায় না, সেটা শারীরবিজ্ঞানসম্মতও নয়। তাহলে কীভাবে আমরা অ্যাসিড চিনতে ও বুঝতে পারব? চলো দেখা যাক।

পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

নির্দেশকের ধারণা

তোমাদের বাড়ির বা স্কুলের আশপাশ থেকে কয়েকটা লাল জবা ফুল আনো। তারপর জবাফুলের পাপড়িগুলো ছিঁড়ে ও থেঁতো করে একটা ছোটো কাচের গ্লাসে রেখে তার মধ্যে সামান্য ঈষদউয়ু জল ঢালো। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে যে দ্রবণ উৎপন্ন হবে সেটা কীভাবে আমাদের অ্যাসিড- ক্ষার চিনতে সাহায্য করতে পারে তা দেখা যাক।

Hibiscus flowers and indicator liquid

তোমরা দুটো আলাদা কাচের গ্লাসে জবাফুলের পাপড়ির রস নিয়ে, একটার মধ্যে কিছুটা ভিনিগার আর অন্যটায় কিছুটা চুনজল যোগ করে তোমাদের পর্যবেক্ষণ লেখো। (অন্য কিছুও নেওয়া যেতে পারে।)

কী মেশানো হলোজবা পাপড়ির রসের রং
আগে কী ছিল

ভিনিগার হলো অ্যাসিড, সেটা জবাফুলের পাপড়ির রসের রং............ থেকে ............ করল। আবার চুনজল হলো ক্ষারক, সেটা আবার জবাফুলের পাপড়ির রসকে ............ রং থেকে ............ করল। এখানে জবাফুলের পাপড়ির রসের কাজটা কী হলো? সেটা অ্যাসিড ও ক্ষারক চিনতে সাহায্য করল। তাই এটি নির্দেশক। জবা পাপড়ির রস এখানে নির্দেশক হিসাবে কাজ করে।

চলো একটা নতুন কৌশলে ছবি আঁকার চেষ্টা করি। তোমরা কিছুটা হলুদগুঁড়ো সামান্য জলে মিশিয়ে একটুকরো ফিলটার কাগজে মিশ্রণের প্রলেপ দাও। কাগজটা রোদে শুকিয়ে নাও। একটা কাঠির মাথায় তুলো পাকিয়ে একটা তুলি তৈরি করে খাবার সোডার বা চুনের জলে বা সাবান জলে ডুবিয়ে ওই কাগজটার ওপর একটা মনের মতো ছবি আঁকো তো !

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

Turmeric powder, water, soap water

তোমাদের জানা-চেনা এমন কোনো জিনিস আছে কি, যাদের রং অ্যাসিড বা ক্ষারকে পালটে যায়; এরকম কোনো বিষয় জানা থাকলে বলাবলি করে লেখো।

কী জিনিসতার নিজের রংঅ্যাসিডে কী রংক্ষারকে কী রং
হলুদের জল
বিটের রস
কালোজামের রস

তোমার প্রিয় বন্ধুকে একটা গোপন নির্দেশ পাঠাবে? একটু সাহায্য করি! খাবার সোডা কিছুটা জলের মধ্যে মেশাও। আগের মতো একটা তুলি তৈরি করে একটা সাদা কাগজে লিখে ফেলো মনের কথাটা। রোদে শুকিয়ে নিলে কি হবে বলত? — সাদা কাগজ সাদাই থাকবে। যে পড়বে তাকে অবশ্য একটা কথা আগে থেকেই শিখিয়ে রাখো যে একটা বিটের টুকরো কেটে কাগজের লেখার ওপর ঘষে নিয়ে তবে পড়তে হবে!

এছাড়াও অনেক জৈব পদার্থ নির্দেশক হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

অ্যাসিড-ক্ষার বিক্রিয়া

করে দেখো : আমরা আগেই দেখেছি যে জবাফুলের পাপড়ির দ্রবণে অ্যাসিড বা ক্ষারক মেশালে তার রং-এর পরিবর্তন হয়। নির্দেশকের এই ধর্মটা কাজে লাগিয়ে নীচের পরীক্ষাটি করে দেখো।

একটা কাচের ছোটো গ্লাসে (বা কাচনলে) আগের পাতার জবা পাপড়ির পরীক্ষার মতো ভিনিগার দ্রবণ নাও। আর তার মধ্যে আগের তৈরি জবা পাপড়ির কিছুটা দ্রবণ ঢালো। প্রথমে রংটা কেমন হলো? ....................................।

এরপর এই মিশ্রণে ধীরে ধীরে ফোঁটা ফোঁটা করে খাবার সোডার দ্রবণ (বা চুন জল) যোগ করতে থাকো। কাচদণ্ড দিয়ে দ্রবণকে ধীরে ধীরে নাড়ো। দ্রবণের মধ্যে যেখানে ফোঁটাটা পড়ছে, সেই জায়গাটা ভালো করে লক্ষ করতে থাকো। ধীরে ধীরে দ্রবণের রং-এর কী পরিবর্তন ঘটছে তা লেখো : ..............................।

এরকমভাবে খাবার সোডার দ্রবণ (বা চুন জল) যোগ করার ফলে একসময় দ্রবণের গোলাপি রং যে মুহূর্তে সবেমাত্র সবুজ হলো, তখন কী হলো বলে মনে হয়?

— ঠিক তখনই গ্লাসের ভিনিগার দ্রবণের সঙ্গে খাবার সোডার দ্রবণের বিক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে, দ্রবণে ক্ষারক ধর্ম প্রকাশ পেতে শুরু করল।

পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

হলো? ............................।

এরপর ওই সবুজ দ্রবণে আরও কয়েক ফোঁটা খাবার সোডার দ্রবণ মেশাও দ্রবণের রং-এর কী পরিবর্তন ।

এবার কিছুটা ভিনিগার দ্রবণ তার মধ্যে মেশাও। একেবারে প্রথম অবস্থার জবা পাপড়ির দ্রবণ মেশানো দ্রবণের সঙ্গে কোনো মিল পেলে কি? .......................................।

ওপরের জবা পাপড়ির রং পালটে যাওয়া থেকে কী বোঝা গেল?

ঠিক যে সময় জবাফুলের পাপড়ির দ্রবণ মেশানো ভিনিগার দ্রবণে অন্তত এক ফোঁটা খাবার সোডার দ্রবণ (বা চুন জল) বেশি মেশানো হলো তখনই দ্রবণের রং গোলাপি থেকে সবুজ হলো। তাহলে খাবার সোডার দ্রবণ মেশানোর ফলে ভিনিগার দ্রবণের ধর্ম কি একই থাকল? ...............................।

ভিনিগার দ্রবণে যত বেশি খাবার সোডা দ্রবণ মিশতে থাকে, ভিনিগারের সঙ্গে খাবার সোডা বিক্রিয়া করে ভিনিগার দ্রবণের অ্যাসিড ধর্ম তত কমে যায়। যে বিক্রিয়ার ফলে এক্ষেত্রে ভিনিগারের অ্যাসিড ধর্ম আর থাকল না তাকেই আমরা সাধারণভাবে প্রশমন বিক্রিয়া বলি।

  • উপরের প্রশমন বিক্রিয়াটি বিটের রস বা কালোজামের রসের সাহায্যে নিজেরা করে দেখো।

করে দেখো : কতকগুলো নির্দেশক (যেমন- লিটমাস, ফেনলথ্যালিন বা মিথাইল অরেঞ্জ) নিয়ে তাদের মধ্যে বিভিন্ন দ্রবণের রং-এর কেমন পরিবর্তন হয়, সেটা দেখে নীচের সারণিতে লেখো।

জলীয় দ্রবণনীল লিটমাসের রংলাল লিটমাসের রংফেনলথ্যালিনের রং.........
সাবান/গুঁড়ো ডিটারজেন্ট
জল
লেবুর রস

রোজকার জীবনে তোমাদের বাড়ির চারপাশে এমন কোনো প্রশমন বিক্রিয়ার উদাহরণ জানা থাকলে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে লেখো:

কী কাজে প্রয়োগ হয়কী মেশানো হয়কেন মেশানো হয়
পুকুরের জলে
মাটিতে

বায়ুতে দূষকরূপে কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইডের মতো নানা গ্যাস মিশে যায়। অনেকদিন পরে বৃষ্টি হলে ওই গ্যাসগুলো বৃষ্টির জলের মধ্যে মিশে বৃষ্টির সঙ্গে ঝরে পড়ে। তখন পরীক্ষা করে দেখো তো বৃষ্টির জলের মধ্যে আম্লিক না ক্ষারীয় কোন ধর্ম দেখা যায়।

অ্যাসিড-ক্ষারের দ্রবণে তাদের পরিমাণ সম্বন্ধে ধারণা

নির্দেশক ব্যবহার করে অ্যাসিড বা ক্ষারক কীভাবে চেনা যায় সেটা আমরা দেখেছি। কিন্তু সব অ্যাসিড দ্রবণ কী একই পরিমাণে আম্লিক? তা যে নয়, এসো সেটা আমরা বোঝার চেষ্টা করি।


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

কর্মপত্র

(a) জীবদেহ বা জৈব উৎস থেকেপাওয়া যায় এরকম তিনটি অ্যাসিডের নাম লেখো- 1.
2.
3.

জৈব উৎস থেকে পাওয়া এধরনের অ্যাসিডগুলো তাহলে কী ধরনের অ্যাসিড?

-জৈব অ্যাসিড।

(b) জৈব উৎস নয় এমন উৎস থেকে পাওয়া অ্যাসিডগুলোকে তাহলে কী ধরনের অ্যাসিড বলা যাবে? এদের অপর নাম খনিজ অ্যাসিড। এরকম অ্যাসিডের উদাহরণ কী কী হতে পারে? 1.
2.

জলের মধ্যে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড যার সংকেত HCl, তা দিলে কী হয়? জলীয় দ্রবণের মধ্যে অ্যাসিডটা আয়নিত হয়। HClH++Cl\text{HCl} \to \text{H}^+ + \text{Cl}^- অ্যাসিড ভেঙে তৈরি হওয়া হাইড্রোজেন আয়ন (H+\text{H}^+) জল অণুর সঙ্গে জুড়ে গিয়ে জলীয় দ্রবণে H3O+\text{H}_3\text{O}^+ রূপে থাকে, যাকে হাইড্রক্সোনিয়াম আয়ন বলে। H++H2OH3O+\text{H}^+ + \text{H}_2\text{O} \to \text{H}_3\text{O}^+ তাহলে জলীয় দ্রবণে HCl-এর বিয়োজন বিক্রিয়াটি কীভাবে লেখা যাবে? HCl+H2OH3O++Cl\text{HCl} + \text{H}_2\text{O} \to \text{H}_3\text{O}^+ + \text{Cl}^- (C) জলীয় দ্রবণে HCl ভেঙে গিয়ে কী কী আয়ন উৎপন্ন করছে?

এখন প্রশ্ন হলো, এদের মধ্যে কোন আয়নটা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের (HCl\text{HCl}) বা অন্য কোন অ্যাসিডের অ্যাসিড ধর্মের জন্যে দায়ী? অন্য কয়েকটা অ্যাসিডের সংকেত ও সেগুলো জলীয় দ্রবণে কীভাবে আয়নিত হয় তা দেখলে বিষয়টা স্পষ্ট হয় কিনা দেখো。

অ্যাসিডের নাম ও সংকেতজলীয় দ্রবণে কীভাবে ভাঙতে পারে
ফরমিক অ্যাসিড (HCOOH\text{HCOOH})HCOOHHCOO¯+.........\text{HCOOH} \to \text{HCOO}^\text{¯}+ \text{.........}
নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3\text{HNO}_3)HNO3.........+.........\text{HNO}_3 \to \text{.........} + \text{.........}
সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4\text{H}_2\text{SO}_4)H2SO4.........+SO4\text{H}_2\text{SO}_4 \to \text{.........} + \text{SO}_4

বিভিন্ন অ্যাসিড অণুগুলির ভাঙনের বিক্রিয়ার সমীকরণ দেখে বলতে পারো কোন আয়ন সব অ্যাসিড ভেঙেই তৈরি হয়?

পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

এটাই তাহলে এই পদার্থগুলোর অ্যাসিড ধর্মের জন্যে দায়ী। যে সমস্ত যৌগ জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H+\text{H}^+) (প্রকৃতপক্ষে হাইড্রক্সোনিয়াম আয়ন, H3O+\text{H}_3\text{O}^+) তৈরি করে তাদের অ্যাসিড বলা হয়。

অ্যাসিড যেমন জলীয় দ্রবণে ভেঙে গিয়ে H+\text{H}^+ (প্রকৃতপক্ষে H3O+\text{H}_3\text{O}^+) উৎপন্ন করে, চুন বা অন্য কিছু যৌগ জলীয় দ্রবণে হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH\text{OH}^-) উৎপন্ন করে। চুনজলের মধ্যে কলিচুনের বিয়োজন বিক্রিয়াটি কীভাবে লেখা যাবে? Ca(OH)2Ca2++2OH\text{Ca(OH)}_2 \to \text{Ca}^{2+} + 2\text{OH}^- জলীয় দ্রবণে এই সমস্ত যৌগ থেকে উৎপন্ন হাইড্রক্সাইড আয়নই (OH\text{OH}^-) অ্যাসিডের হাইড্রোজেন আয়নের (H+\text{H}^+) সঙ্গে যুক্ত হয়ে জল উৎপন্ন করে। এই যৌগগুলোকেই ক্ষার বলা হয়। অ্যাসিড-ক্ষারের প্রশমন বিক্রিয়ায় জলের সঙ্গে লবণও উৎপন্ন হয়。 অ্যাসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+\text{H}^+) + ক্ষারের হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH\text{OH}^-) \to জল (H2O\text{H}_2\text{O}) কোনো নির্দেশকেই জল অ্যাসিড বা ক্ষার কোনো ধর্মই দেখায় না। তাই জলকে প্রাথমিকভাবে প্রশম প্রকৃতির দ্রাবক বলা যেতে পারে。

আমরা তাহলে অ্যাসিড-ক্ষারের ধর্মের তুলনা করে লিখতে পারি :

অ্যাসিডের ধর্মক্ষারের ধর্ম
(1) সাধারণভাবে অ্যাসিডের স্বাদ ..................(1) সাধারণভাবে ক্ষার স্বাদে..................
(2) অ্যাসিড জলে ভেজানো .................. লিটমাসকে করে।(2) ক্ষার জলে ভেজানো .................. লিটমাসকে করে।
(3) অ্যাসিড জলীয় দ্রবণে H+\text{H}^+ উৎপন্ন করে।(3) ক্ষার জলীয় দ্রবণে ........ উৎপন্ন করে।

কোন দ্রবণ কতটা আম্লিক বা কতটা ক্ষারীয় তা মাপা হয় pH রাশির সাহায্যে। 0 থেকে 14 পর্যন্ত বিস্তৃত একটি স্কেল এই কাজে ব্যবহৃত হয়。 pH - এর স্কেলটা কেমন?

pH Scale

আম্লিক বা অ্যাসিডিক (acidic)ক্ষারকীয় বা বেসিক (basic)
25°C উষ্ণতায় প্রশম দ্রবণের (যেমন-জলের) pH 7 বলা হয়। যে দ্রবণের pH 7-এর থেকে কম (শূন্য পর্যন্ত) সেটি আম্লিক প্রকৃতির। আর যে দ্রবণের pH 7 -এর চেয়ে বেশি (14 পর্যন্ত) সেটি ক্ষারীয়。

জেনে রাখো 💡 : সহজে pH মাপার জন্য লিটমাস কাগজের মতো pH-কাগজ পাওয়া যায়। pH-কাগজ তৈরিতে একাধিক নির্দেশকের মিশ্রণ ব্যবহৃত হয়। একাধিক নির্দেশক থাকে বলেই বিভিন্ন pH-এ কাগজের রং বিভিন্ন হয়। অন্য জটিল পরীক্ষার সাহায্যে ঠিকভাবে pH মাপা সম্ভব। এসম্বন্ধে তোমরা পরে জানতে পারবে。

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

নীচের দ্রবণগুলোর pH 7, না 7-এর কম, না 7-এর বেশি – কীরকম হতে পারে? pH কাগজের সাহায্যে পরীক্ষা করে লেখো :

কী দ্রবণpH - এর মান 7 এর ওপরে না নীচেদ্রবণের প্রকৃতি
ভিনিগারের জলীয় দ্রবণ
সাবান জল
খাদ্য লবণের জলীয় দ্রবণ
খাবার সোডার জলীয় দ্রবণ
পাতিলেবুর রস

এসো দেখি তোমার পরিচিত আর কোন কোন উপাদানের pH কীরকম।

  1. তোমার কাছাকাছি বাজারে যাও। সেখান থেকে তোমার পরিচিত নানা রসালো বা অন্য খাদ্য সংগ্রহ করো (টম্যাটো, আম, আঙুর, তরমুজ, কমলালেবু, মাছ, মাংস, ডিমের সাদা অংশ ইত্যাদি)। এদের pH-এর মান কত হতে পারে তা পরীক্ষা করে দেখো আর আগের সারণির মতো একটা সারণি বানাও। বিভিন্ন খাদ্যের সংস্পর্শে pH পেপারের রং পরিবর্তন থেকে সেই সব খাদ্যের pH-এর সম্ভাব্য মান নির্ণয় করো।
  2. তোমার পরিবেশে জলের উৎসগুলি চিহ্নিত করো (পুকুর/নদী/বাঁওড়/নয়ানজুলি/খাল/বিল/ট্যাপ ওয়াটার/বৃষ্টির ধরে রাখা জল ইত্যাদি)। এদের জলের প্রকৃতি বিভিন্ন নির্দেশক ব্যবহার করে জানার চেষ্টা করো। দেখো তো বছরের বিভিন্ন সময় এদের pH-এর মান বাড়ে বা কমে কিনা। বোঝার চেষ্টা করো পরিষ্কার জলে কোন কোন উপাদান মিশলে pH-এর মান হেরফের বা বদল ঘটে।
  3. তোমার আশপাশে কি সব ফসলের চাষ ভালো হয়? সব ফসল কি একইধরনের মাটিতে ভালো হয়? তোমার আশপাশের চাষজমি সমীক্ষা করো। (চাষের জমি থেকে মাটির নমুনা নিয়ে জলে গুলে দ্রবণ তৈরি করো। দ্রবণের এক অংশে নির্দেশক যোগ করে দেখো কেমন পরিবর্তন হয়। প্রয়োজনে pH পেপারের সাহায্যে নিতে পারো)। দেখো তো সব জমির মাটি একরকম কিনা। প্রয়োজনে লিটমাস কাগজ, pH পেপারের সাহায্য নাও।

pH Paper Color Chart

বিভিন্ন pH-এ pH কাগজের রং কেমন হতে পারে তার একটা নমুনা ওপরে দেওয়া হলো。

পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

মানবদেহে অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য

তোমরা আগেই অ্যাসিডের নাম শুনেছ। দেখো তো কতগুলো জিনিস তুমি চিনতে পারো কী না যা অ্যাসিড বা যার মধ্যে কোনো অ্যাসিড মিশে আছে। নীচের তালিকায় আম্লিক জিনিসগুলোর নামের ওপরে ✓ চিহ্ন দাও :

  • মিউরিয়েটিক অ্যাসিড (বাথরুম পরিষ্কার করার অ্যাসিড) ✓
  • সাবান
  • লেবুর রস ✓
  • খাবার জল
  • দই ✓
  • ঘোল ✓
  • ল্যাকটিক অ্যাসিড (যা দিয়ে ছানা কাটানো হয়) ✓
  • ফুচকার জল
  • বড়ো ব্যাটারির জল ✓

চিনবে কীভাবে? যেগুলোকে অ্যাসিড বলে জেনেছ, সেগুলো কীভাবে চিনেছ?

তাদের মধ্যে কোনো মিল আছে?

⚠️ মনে রেখো, সব অ্যাসিড মুখে দেওয়া উচিত নয়, দেহের কোনো জায়গায় বা কাপড়ে লাগানো উচিত নয়। অ্যাসিডের প্রভাবে শরীরে ঘা হতে পারে, কাপড় ফুটো হয়ে যেতে পারে।

তবে আর কি উপায়ে অ্যাসিড চেনা যায়? এসো দেখি? তোমার লাগবে দু-তিনটে করে লাল লিটমাস কাগজ আর নীল লিটমাস কাগজ, আর যে জিনিসগুলোকে অ্যাসিড বলে চিনতে চাও, তার সামান্য অংশ。 সহজে জোগাড় করতে পারো: লেবুর রস, দই, ফুচকার জল, ...

এবার লিটমাস কাগজগুলোকে ছোটো টুকরোয় ছিঁড়ে প্রতিটি দ্রবণে একবার একটুকরো নীল লিটমাস কাগজ আর একবার একটুকরো লাল লিটমাস কাগজ ডোবাও। নীচের ছকে লেখো তো লিটমাস কাগজের রঙের কী পরিবর্তন হলো? [একটা লিটমাস কাগজ মাত্র একবারই ব্যবহার করবে]

ক্রমজিনিসটির নামনীল লিটমাসের রং কী হলোলাল লিটমাসের রং কী হলো
1.
2.
3.
4.

তাহলে অ্যাসিড চেনার উপায় কী জানলাম লেখো।

📌 মনে রেখো এটা অ্যাসিডের একটা ধর্ম।

তোমরা তো ক্ষারের নামও নিশ্চয়ই জানো। দেখো তো নীচের তালিকায় কতগুলো ক্ষারীয় পদার্থকে চিনতে পারো লেবুর জল, সাবান জল, খাবার জল, চুনের জল, খাবার সোডা মেশানো জল, লস্যি, ফুচকার জল。

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

ক্ষারগুলোকেই বা কী পরীক্ষা করে চিনবে?

তাদের মধ্যে মিল কোথায়?

⚠️ অ্যাসিডের মতোই ক্ষারীয় পদার্থও মুখে দেওয়া, গায়ে ফেলা বা কাপড়ে ফেলা অনুচিত।

একে চিনতে গেলেও তোমার লাগবে লাল আর নীল লিটমাস কাগজ, আর যে যে জিনিস পরীক্ষা করতে চাও তার একটু করে অংশ : সাবান জল, চুনের জল, সোডার জল ইত্যাদি。

এবার প্রতিটি জিনিসে একবার করে লাল লিটমাস কাগজ আর নীল লিটমাস কাগজ ডুবিয়ে তোলো। লিটমাস কাগজের রঙে কী পরিবর্তন হলো, নীচের ছকে লেখো。

ক্রমজিনিসের নামলাল লিটমাসের রং কী হলোনীল লিটমাসের রং কী হলো
1.
2.
3.
4.
5.
6.
7.

তাহলে ক্ষারীয় পদার্থ চেনবার উপায় কী জানলাম?

🚨 মনে রেখো, দেহের কোথাও অ্যাসিড বা ক্ষারীয় পদার্থ লাগলে, বিশেষ করে চোখে বা নাকে গেলে, সেই জায়গাটা অনেকটা পরিষ্কার জল দিয়ে বারবার ধুয়ে ফেলা দরকার। রগড়ে ধোবে না বা সাবান দেবে না। তারপর পরিষ্কার কাপড় বা তুলো দিয়ে আলগা করে ঢেকে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে। কেউ অ্যাসিড বা ক্ষার খেয়ে ফেললে কোনোরকম দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। দেয়াল চুনকামের সময় কাছে যাবে না। সকলকে সতর্ক করবে যে ক্ষার চোখে পড়লে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে。

পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

এবার তাহলে কয়েকটা জিনিস নিজেরা চেনবার চেষ্টা করে দেখো: তোমার লাগবে কয়েকটা লাল আর নীল লিটমাস কাগজ, আর চেনবার জন্য কিছু নমুনা। তারপর প্রতিটি নমুনাকে আগে যেমন করেছো, তেমনভাবে লাল আর নীল লিটমাস কাগজ নিয়ে পরীক্ষা করে নীচের তালিকায় লেখো。

ক্রমনমুনালাল লিটমাসে কী হলোনীল লিটমাসে কী হলো
1লেবুর শরবত
2খাবার জল
3সাজা পান
4কাটা কাঁচা আলুর টুকরো
5কাটা টম্যাটো

কোন নমুনাগুলোকে অ্যাসিড বলে চিনতে পারলে?

কোন নমুনাগুলোকে ক্ষারীয় বলে চিনতে পারলে?

এবার বলো তো নীল বা লাল লিটমাসের উপর অ্যাসিড বা ক্ষারক যে ক্রিয়া করে, উপরের নমুনাগুলো মধ্যে কোনগুলি নির্দেশকের রঙের পরিবর্তন দেখায় না?

লিটমাসের ওপর তাদের ক্রিয়া কীরকম? (a) লাল লিটমাস কাগজে ... (b) নীল লিটমাস কাগজে ...

এরা হলো প্রশম পদার্থ। এরা জলে দ্রবীভূত হলে হাইড্রক্সোনিয়াম আয়ন (H3O+\text{H}_3\text{O}^+) দেয়ও না, আবার তাকে প্রশমিতও করে না。

তাহলে এসো অ্যাসিড, ক্ষারক আর প্রশম পদার্থের তুলনা করি :

বৈশিষ্ট্যঅ্যাসিডপ্রশম পদার্থক্ষারক
নীল লিটমাসের উপর ক্রিয়া
লাল লিটমাসের উপর ক্রিয়া

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

আমাদের দেহের সব কাজ ঠিকঠাকভাবে চলতে হলে অম্ল-ক্ষারের নির্দিষ্ট মাত্রা বজায় রাখা দরকার। আমাদের দেহের বিভিন্ন তরলের অম্ল-ক্ষার মাত্রা (pH) বিভিন্নরকম। বলো দেখি কোনটি কেমন?

তরলের নামpH-এর মানপ্রকৃতি (আম্লিক/ক্ষারীয়/প্রশম)
1. লালারস6.02–7.05
2. পাকস্থলীর রস0.9–1.05
3. পিত্তরস8.0–8.60
4. রক্ত7.35–7.45
5. মূত্র4.0–8.0

মানবদেহে একটি নির্দিষ্ট অ্যাসিড-ক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নতুবা দেহের নানা অঙ্গ (দাঁতের এনামেল, অস্থিসন্ধি) ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও তাড়াতাড়ি বার্ধক্য চলে আসতে পারে। মানবদেহের প্রত্যেক কোশই ভালোভাবে কাজ করে যখন এটি প্রধানত ক্ষারীয় (pH 7-8) মাধ্যমে থাকে। নানা কারণে রক্ত কখনো-কখনো উল্লেখযোগ্যভাবে আম্লিক হয়। তখন দেহের যেখানে যেখানে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম বা ম্যাগনেশিয়াম খুঁজে পায়, সেখান থেকে বৃক্ক রক্তের মাধ্যমে তাকে টেনে নেয়। এই প্রক্রিয়া প্রথমে চুল, ত্বক কিংবা নখ থেকে শুরু হয়। তারপর রক্তে এবং শেষপর্যন্ত হাড়ে পৌঁছোয়。

মানবদেহে অ্যাসিড-ক্ষার ভারসাম্য প্রধানত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে:

  1. নিশ্বাস প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাইঅক্সাইড কতটা বেরোয় তার ওপর।
  2. দেহে ঘটে চলা নানা রাসায়নিক বিক্রিয়ার পরিবর্তনের ওপর。

ফুসফুসের মাধ্যমে অতিরিক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড দেহ থেকে বেরিয়ে গেলে দেহ ক্ষারীয় হয়। আবার ফুসফুস থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড কম বেরোলে রক্তে জল ও কার্বন ডাইঅক্সাইড যুক্ত হয়ে কার্বনিক অ্যাসিড তৈরি করে (H2O+CO2H2CO3\text{H}_2\text{O} + \text{CO}_2 \rightleftharpoons \text{H}_2\text{CO}_3)। ফলে দেহতরল আম্লিক হয়ে পড়ে。

এবার নীচের ঘটনাগুলো লক্ষ করো :

  1. খেলতে খেলতে হঠাৎ পায়ে চোট পেলে আমাদের খুব ব্যথা হয়। আমরা তখন চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ব্যথা কমানোর ওষুধ খাই। এই জাতীয় কিছু ওষুধ অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য নষ্ট করে。
  2. কখনো-কখনো আমাদের অনেকেরই মুখ টক হয়। চোঁয়া ঢেকুর ওঠে。
  3. আমাদের যখন কোনো অসুখে অনেকবার পাতলা পায়খানা হয়, তখন পায়খানার সঙ্গে অন্ত্রের ক্ষারকীয় রস বেরিয়ে যায়。

পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

  1. বিভিন্ন জীবাণু যখন আমাদের দেহে রোগ সৃষ্টি করে, তখন আমাদের দেহের কোশে ল্যাকটিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়。
  2. আমরা যখন কোনো ভারী কাজ অনেক সময় ধরে করি, তখন আমাদের পেশিকোশ ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন পেশিকোশে গ্লুকোজ ভেঙে ল্যাকটিক অ্যাসিড উৎপাদন বেড়ে যায়。
  3. আমাদের অনেকেরই রক্তে সুগারের (গ্লুকোজ) পরিমাণ স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকে। সেক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায় যে তাদের দেহকোশে অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে গেছে。
  4. মানসিক চাপ বাড়লে বা দীর্ঘদিন ধূমপান করলেও দেহে অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়ে。
  5. আমাদের বৃক্ক যদি কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে রক্তে ইউরিক অ্যাসিড, ইউরিয়াক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ বেড়ে যায়。

এবার তোমরা বলো ওপরের কোন কোন অবস্থায় দেহে অম্লের পরিমাণ বেড়ে যায় ...

অম্ল-ক্ষার ও আয়নের ভারসাম্য রক্ষায় দেহের কোন কোন অঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বা করে না তা ওপরের আলোচনা থেকে নির্দেশ করো。 যে সব অঙ্গ বা দেহতরল অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে ..., ...

টুকরো কথা 🗣️

উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া খাদ্যগুলো (ফল, নানা ধরনের শাকসবজি) দেহের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ক্ষারজাতীয় পদার্থ উৎপন্ন করে। আবার মাছ, মাংস, ডিমের মতো প্রাণীজ উৎস থেকেপাওয়া খাদ্যগুলো দেহের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অম্লজাতীয় পদার্থ উৎপন্ন করে। মানুষের প্রতিদিনের খাবারের 20 শতাংশ অম্ল উৎপাদনকারী খাদ্য (মাছ, মাংস, ডিম) ও 40 শতাংশ ক্ষার উৎপাদনকারী খাদ্য (ফল, নানা ধরনের শাকসবজি) হওয়া প্রয়োজন। তবেই মানুষের শরীরের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য ঠিক থাকে। যাঁরা আমিষ খাদ্য বেশি খান বা পছন্দ করেন তাদের খাদ্যতালিকায় শরীরের প্রয়োজন মতো 20 শতাংশের মধ্যে এই ধরনের খাদ্য সীমাবদ্ধ করা প্রয়োজন。

Fruits and Vegetables Meat and Fish Eggs and Milk

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

খাদ্য লবণ

Food Sources

ওপরের ছবিদুটো দেখে বলো, আমরা খাবার হিসাবে যে সমস্ত জিনিস গ্রহণ করি তাদের প্রধান দুটো উৎস কী কী?

  1. ... উৎস এবং
  2. ... উৎস

এই দুটো উৎস থেকে পাওয়া কী কী খাবার তোমরা সাধারণত খেয়ে থাকো তার একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করো:

কোন ধরনের উৎস থেকে পাওয়াকী কী খাদ্য

এই সমস্ত খাবার আমরা কতরকমভাবে খেয়ে থাকি?

  1. ...
  2. ...
  3. ...
  4. রান্না করে খাই।

আবার ভেবে দেখো 🤔 (ক) সব অঞ্চলের আবহাওয়া একইরকম নয়, (খ) সব অঞ্চলে সবরকম খাবার পাওয়াও যায় না。

তাই সব অঞ্চলের মানুষের খাদ্যাভ্যাস কী একইরকম হয়?

Summer Region Food গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের খাদ্য

Winter Region Food শীতপ্রধান অঞ্চলের খাদ্য

পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

এখন ভেবে দেখো নুন ছাড়া বা কম নুন দেওয়া খাবার তোমাকে খেতে দেওয়া হলো। কেমন খেতে লাগবে তোমার?

  • খেতে ভালো লাগবে/খেতে ভালো লাগবে না (সঠিক উত্তরটি বেছে নাও)।

তাহলে দেখো, খাদ্যের উৎস বা খাদ্যাভ্যাস যেমনই হোক না কেন, আমাদের খাদ্যের একটি অপরিহার্য উপাদান হলো খাবার নুন। তার প্রধান একটা কারণ হলো নুনের স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া। অন্য কারণটা কী?

আমাদের শরীরে নুনের প্রয়োজনীয়তা। এবিষয়ে পরে আলোচনা করা হবে। বাড়িতে সবাই খাবার নুন দেখেছ। নুনের কয়েকটি সাধারণ ধর্ম কী কী? (a) খাবার নুনের রং সাধারণত ... (b) সাধারণ অবস্থায় এটি ... পদার্থ। (c) খাবার নুন জলে ........। (d) একটুকরো কাগজের ওপর কিছুটা খাবার নুন ছড়িয়ে জানালার কাছে নিয়ে যাও। একটু স্পর্শ করলে বুঝতে পারবে নুন জিনিসটা দানা-দানা। আবার কাগজটা একটু কাত করে উলটেপালটে লক্ষ করলে দেখবে ওই দানাগুলোতে আলো প্রতিফলিত হচ্ছে। এই ধরনের নির্দিষ্ট আকারের দানাবিশিষ্ট পদার্থকে কেলাসাকার পদার্থ বলে。

তাহলে কী বোঝা গেল? খাবার নুন হলো একটি ... রঙের কেলাসাকার ................ মিশ্র পদার্থ। এর প্রধান উপাদানের রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড ও সংকেত NaCl\text{NaCl}

প্রঃ- নীচের কোন কোন পদার্থ কেলাসাকার বলে তোমার মনে হয়? চিনি, চকের গুঁড়ো, চুন, বালি, গায়ে মাখার পাউডার, ফটকিরি。 উঃ-- ...

খাবারের মধ্যে বাইরে থেকে নুন (NaCl\text{NaCl}) যোগ করা হয়, এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু সেটাই কী আমাদের শরীরে যতটা নুন প্রয়োজন তার একমাত্র উৎস? (a) একটু দুধের সর বা একটু মাখন খেলে তার স্বাদ কেমন লাগে? এদের স্বাদ ...। মাখনে নুন মেশানো হয়। এই খাদ্যের উৎস উদ্ভিজ্জ না প্রাণীজ? এদের উৎস ... এ রকমই প্রাণীজ উৎস থেকে পাওয়া বিভিন্ন খাদ্যের মধ্য দিয়েই আমরা প্রয়োজনীয় নুনের বেশ কিছুটা পেয়ে যাই。 (b) পানীয় জলের মাধ্যমেও কিছুটা নুন দেহে প্রবেশ করতে পারে。

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

(c) উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া বিভিন্ন খাদ্যের মাধ্যমে পরিমাণে কম হলেও কিছুটা নুন দেহ পেয়ে যায়।

কিন্তু দেহের সম্পূর্ণ চাহিদা মেটানোর জন্য যে বাইরে থেকে নুন খাবার প্রয়োজন, তা প্রাচীনকালেই নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ বুঝতে পেরেছিল। তখন তারা এই নুন সংগ্রহ করত কোথা থেকে? তখন সামুদ্রিক লবণই ছিল খাবার নুনের প্রধান উৎস। আবার বিভিন্ন পাথরের খাঁজে জমে থাকা নুনও তারা সংগ্রহ করত।

এখন আমরা খাবার জন্য কতরকম লবণ ব্যবহার করি বলো তো? মূলত: তিন ধরনের লবণ – (i) সৈন্ধব বা সামুদ্রিক লবণ (ii) বীট লবণ বা 'রক সল্ট' (iii) খাবার নুন বা 'টেবিল সল্ট'。

প্রথম দুটো লবণেরও মূল উপাদান সোডিয়াম ক্লোরাইড। তার সঙ্গে আরো অনেক যৌগও মিশে থাকে। সমুদ্র লবণে প্রায় 47 রকমের যৌগের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার মধ্যে 7 টি যৌগ উল্লেখযোগ্য। সেগুলি হলো:

কী ধরনের যৌগকোন কোন ধাতুর যৌগযৌগের সংকেত লেখো
ক্লোরাইড যৌগসোডিয়াম
ম্যাগনেশিয়াম
সালফেট যৌগম্যাগনেশিয়াম
পটাশিয়াম
ক্যালশিয়াম
ব্রোমাইড যৌগম্যাগনেশিয়াম
কার্বনেট যৌগক্যালশিয়াম

(a) ওপরের তালিকায় সবচেয়ে বেশি ধরনের যৌগ আছে কোন ধাতুটির?

(b) সমুদ্র লবণে বিভিন্ন ধাতুর পরিমাণ বিশ্লেষণ করেও দেখা গেছে এই ... ধাতুটির পরিমাণ সোডিয়ামের পরিমাণের ঠিক পরেই। (c) অন্যান্য উপাদান হিসাবে যে সমস্ত যৌগ খুবই কম পরিমাণে থাকে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ক্যালশিয়াম ক্লোরাইড, ... (সংকেত লেখো)।

আমরা রোজকার জীবনে যে খাবার নুন ব্যবহার করছি তার উৎস তাহলে কী? সেই সমুদ্র লবণই; যদিও সমুদ্র লবণকে রাসায়নিকভাবে পরিষ্কার করার পর তার মধ্যে সোডিয়াম ...


পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

ক্লোরাইডের পরিমাণ বেড়ে শতকরা 99.9 ভাগ হয়ে যায়। খাবার নুনের বাকি অংশটায় তাহলে কী মিশে থাকে? তার জন্য একটা সহজ পরীক্ষা করো: তোমাদের বাড়িতে বায়ুনিরুদ্ধ পাত্রে রাখা ও খোলা পাত্রে রাখা খাবার নুন ভালো করে লক্ষ করো। কিছুদিন এভাবে রাখা থাকলে দুটো আলাদা পাত্রে দু-ভাবে রাখা নুন কেমন অবস্থায় থাকে তা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে লেখো।

(a) আবদ্ধ পাত্রের নুন (b) খোলা পাত্রের নুন

এই ঘটনাটা আরো ভালো করে বোঝা যায় বর্ষাকালে।

Salt in bowl and jar

বিশুদ্ধ সোডিয়াম ক্লোরাইড বাতাস থেকে জল শোষণ করতে পারে না। নুনের মধ্যে থাকা প্রধান তিনটি উপাদান হলো — সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালশিয়াম ধাতুর ক্লোরাইড যৌগ। ওপরের ঘটনার জন্যে তাহলে নুনের মধ্যে থাকা কোন কোন যৌগ দায়ী?

(a) আমাদের দেহের মধ্যে যে দেহতরল আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে কী আছে? — তার প্রধান উপাদানই হলো...................

(b) তাহলে দেহতরলের মধ্যে খাবার নুনের প্রধান উপাদান সোডিয়াম ক্লোরাইডের কী হয়? — সোডিয়াম ক্লোরাইড আয়নে ভেঙে যায়: সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaClNaCl) \longrightarrow সোডিয়াম আয়ন (Na+Na^+) + ক্লোরাইড আয়ন (ClCl^-)

(c) তাহলে খাবার নুনের অন্য মূল উপাদান দুটোর কী হয় দেহের মধ্যে? — তারাও আয়নে ভেঙে যায়: ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইড (MgCl2MgCl_2) \longrightarrow Mg2+Mg^{2+} + 2Cl2Cl^{-} ক্যালশিয়াম ক্লোরাইড (CaCl2CaCl_2) \longrightarrow ......... + .................

(d) নুনের এই সোডিয়াম আয়ন (Na+Na^+) দেহের জলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থেকে যায়। তাই দেহের মধ্যে তার কার্যকারিতাও বহুমুখী।

কোনো কারণে যদি তোমার ঠোঁট কেটে যায় বা খেতে গিয়ে গালের ভিতরে কামড় বসাও, তখন রক্তের স্বাদ কেমন লাগে?

রক্তের স্বাদ ...............


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

(e) তাহলে রক্তের মধ্যেও ........................... দ্রবীভূত অবস্থায় আছে।

(f) পরিমাপ করলে দেখা যাবে মানুষের দেহে রক্তের 100 মিলিলিটারে NaCl-এর পরিমাণ 0.9 গ্রাম। মানব রক্তের প্রধান অংশটা কী? — তা হলো ............................

(g) রক্তের মধ্যেও NaCl আয়নিত হয়ে Na+Na^+ClCl^- আয়ন তৈরি করে। মানবদেহের সারা শরীরকেই যুক্ত করে রেখেছে এমন তরল মাধ্যমটি কী? — তা হলো রক্ত।

নীচের ক্ষেত্রগুলোতে নুনের প্রভাবে কী ঘটবে তা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে লেখো :

কী করা হলোকী ঘটতে দেখবেকেন এরকম হবে
(1) আলুর চিপস বানানোর সময় আলু পাতলা করে কেটে নুন মাখিয়ে রাখা হলো।
(2) কোনো গাছের গোড়ায় বেশি নুন দেওয়া হলো।
(3) সদ্য কাটা মাছ বা মাংসের টুকরোয় নুন মাখিয়ে রাখা হলো।

তোমাদের বাড়িতে বা পরিচিত কারোর উচ্চ রক্তচাপ থাকলে, ডাক্তারবাবু তাঁকে কী পরামর্শ দেন লক্ষ করো। দেখবে, তাঁকে কম নুন খেতে পরামর্শ দেওয়া হয়। তাহলে বেশি নুন খাওয়ার সঙ্গে আমাদের দেহের রক্তচাপের সম্পর্ক কেমন?

.......................................................................................

তোমরা জেনেছ যে রক্তে একটা পরিমিত পরিমাণ নুন থাকেই। কিন্তু রক্তে নুনের পরিমাণ কোনো কারণে বেড়ে গেলে রক্ত কোশ কলা থেকে জল টেনে নেয়। ফলে রক্তের মধ্যে থাকা জলের পরিমাণ বেড়ে যাবে। তখন রক্তের পরিমাণের কেমন পরিবর্তন হবে?

.......................................................................................

তখন রক্তের স্বাভাবিক চাপের কেমন পরিবর্তন ঘটতে পারে তা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে লেখো।

রক্তের চাপ যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়, আমাদের শরীরে কী ঘটতে পারে তা জেনে নেওয়া যাক।

শরীরের কোথায়কী ঘটতে পারে
শিরা-ধমনিবেশি রক্তচাপে ছিঁড়ে বা ফেটে যেতে পারে।
হৃৎপিণ্ডেকপাটিকা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
মস্তিষ্কেমস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে।

পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

এবছর খুব গরম পড়েছে। তাই ঘামও হচ্ছে খুব। স্কুলে যাবার সময় অয়ন রোজ ঠাকুমাকে একবার বলে, তবে বাড়ি থেকে বেরোয়। আজ বেরোনোর সময় অয়ন লক্ষ করল-ঠাকুমা যেন তাকে চিনতেই পারছেন না। অয়ন জিজ্ঞেস করল- ও ঠাকুমা, কী হলো? ঠাকুমা একটা উত্তর দিলেন বটে; অয়ন তার কিছুই বুঝতে পারল না। কিন্তু সে এটা বুঝল যে ঠাকুমার শরীরে কোথাও একটা বড়োসড়ো গোলমাল হয়েছে।

তারপর অয়নের মা ফোন করে ডাক্তারবাবুকে খবর দিলেন। ডাক্তারবাবু এসে মন দিয়ে দেখলেন ঠাকুমাকে। তারপর অয়নের মাকে একটা গ্লাসে বেশ খানিকটা নুনজল তৈরি করে ঠাকুমাকে খাইয়ে দিতে বললেন। আর আশ্চর্য! একটু পরেই ঠাকুমা আবার আগের মতোই স্বাভাবিক।

এই ঘটনার কিছুদিন পরে অয়নের মা টিউবওয়েল পাম্প করছিলেন। অয়ন পড়তে বসে জানালা দিয়ে দেখছিল মায়ের জল ভরা। কিন্তু অয়ন দেখল- হঠাৎ মা পড়ে গেলেন। পরে ডাক্তার দেখাতে জানা গেল বাঁপায়ের নীচের দিকের হাড়টা ভেঙে গেছে।

এই দুটো ঘটনা থেকে অয়নের মতো তোমাদেরও নিশ্চয়ই মনে হচ্ছে- কেন এমনটা হলো?

— আমাদের শরীরের আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম কী বলো তো? — আমাদের স্নায়ু-ব্যবস্থা; যা পায়ের নখ থেকে মাথা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে থাকে। স্নায়ুর কাজ কী? — মস্তিষ্ক বা সুষুম্নাকাণ্ড ও দেহের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংবেদন আদানপ্রদান করা। এই কাজে তার প্রধান সহায়ক কী? — খাবার নুনে থাকা সোডিয়াম আয়ন (Na+Na^+)। তবে পটাশিয়াম আয়ন (K+K^+) ও ক্যালশিয়াম আয়নও (Ca2+Ca^{2+}) এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে আমাদের দেহে হঠাৎ কোনো কারণে নুনের পরিমাণ কমে গেলে আমাদের শরীরের কোন ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়বে?

.......................................................................................

এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে খিঁচুনি দেবে। কথাবার্তাও অসংলগ্ন হয়ে যেতে পারে।

খাবার নুনে থাকা NaCl ছাড়া আরো দুটো লবণের কথা আমরা আগেই জেনেছি। সেই দুটো লবণ দেহের মধ্যে সোডিয়াম ছাড়া কী কী ধাতব আয়ন উৎপন্ন করে?

........................................................... ও ........................................................... আয়ন।

এদের মধ্যে ক্যালশিয়াম আমাদের শরীরে কী কাজ করে?

— মূলত দুটো কাজে ক্যালশিয়াম সাহায্য করে: (i) হাড় ও দাঁতের গঠনে সাহায্য করে, (ii) হৃৎপেশির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

হাড়ের গঠনে ক্যালসিয়াম কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা পরের পৃষ্ঠার কর্মপত্র পূরণের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করো।


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

কর্মপত্র

(a) আমাদের শরীরে হাড়ের ওজনই সবচেয়ে বেশি। এই হাড় বা অস্থির মূল উপাদান কোন ধাতু?

(b) শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালশিয়াম আমরা কোন কোন উৎস থেকে পাই?

(i) প্রাণীজ উৎস থেকে পাওয়া বিভিন্ন খাদ্য; যেমন- দুধ, দই, ছোটো মাছের কাঁটা ইত্যাদি। (ii) অন্য একটা উৎস হলো খাবার নুন।

জানো তো, আমাদের শরীরের মধ্যে যতটা ক্যালশিয়াম আছে তার শতকরা 99 ভাগই আছে হাড়ের মধ্যে। হাড়ে এই ক্যালশিয়ামকে জমা করার জন্য ভিটামিন D প্রয়োজন।

(c) আমাদের শরীরের হাড়ের ভেতরটা কেমন হতে পারে? [(i) ও (ii)-এর প্রশ্ন থেকে সঠিক উত্তর বেছে নাও]

(i) (a) ফাঁপা (b) নিরেট, (ii) (a) শুকনো (b) জলীয় তরল ও রক্তে পরিপূর্ণ।

(d) আবার ভাবো, রক্তে Ca2+Ca^{2+} আয়নের ঘাটতি হয়েছে। তাহলে শরীরের যেখানে ক্যালশিয়ামের ভান্ডার রয়েছে, সেখান থেকেই শরীর তা নিয়ে ওই ঘাটতি পুষিয়ে নেবে।

আমাদের শরীরের বেশিরভাগ ক্যালশিয়াম কোথায় আছে?

.......................................................................................

তাহলে ক্যালশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করার জন্য শরীর কোথা থেকে তা নেবে?

.......................................................................................

(e) এই অবস্থায় শরীরের মধ্যে হাড়ের কী হবে?

হাড় দুর্বল হয়ে যাবে। কখনও ভেঙেও যেতে পারে।

শরীরে যদি ক্যালশিয়ামের ঘাটতি হয়, তাহলে কী দাঁতের গঠনেও কোনো প্রভাব পড়বে না? নিজেরাই ভেবে দেখো।

খাবার নুনের মধ্যে উপস্থিত অন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাতব আয়ন অর্থাৎ ম্যাগনেশিয়ামের কী কী ভূমিকা থাকতে পারে আমাদের শরীরে? নীচের কর্মপত্রটি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ও শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্যে পূরণ করো।

(a) আমাদের রক্তের একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো শ্বেতকণিকা। এই শ্বেতকণিকার কাজ কী?

.........................................................................................................................................................

(b) শরীরে ভিটামিন D কী কাজ করে?

.........................................................................................................................................................

(c) শরীরে উপস্থিত বিভিন্ন উৎসেচক কী কাজ করে?

.........................................................................................................................................................

(d) শরীরের মধ্যে গ্লুকোজ কীভাবে শক্তি উৎপন্ন করে?


পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

এই প্রক্রিয়াগুলোর অনেকগুলোতেই ম্যাগনেশিয়াম সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে ও তার কার্যকারিতা বাড়ায়।

💡 জেনে রাখো: দূষণমুক্ত সমুদ্র উৎস থেকে বিশেষভাবে একধরনের নুন তৈরি করা হয় যাকে Organic Sea Salt বলে। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে ম্যাগনেশিয়াম উপস্থিত থাকে।

এ প্রসঙ্গে একটা কথা গুরুত্বপূর্ণ-অন্যান্য প্রাণীর থেকে মানুষ যে এত বুদ্ধিমান, তার একটা কারণ মানুষের মস্তিষ্কের গঠন। অন্য কারণটা হলো খাদ্যের মাধ্যমে নুন গ্রহণ করা। এই নুনের চাহিদা মেটানোর জন্যই অভয়ারণ্যের 'সল্ট লিক'-এ পশুদের নুন খেতে দেওয়া হয়। যে কোনো প্রাণীর শরীরে জলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে তাদের দেহে নুনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণভাবে আমরা খাবার জন্য যে প্যাকেটের নুন ব্যবহার করি তার প্যাকেটের গায়ে লক্ষ করলে তোমরা দেখতে পাবে ওই নুনের মধ্যে একটা বিশেষ মৌল যুক্ত আছে। সেই মৌলটা হলো আয়োডিন

আয়োডিনের জোগান দিতে নুনে প্রয়োজনীয় পরিমাণে পটাশিয়াম আয়োডেট (KIO3KIO_3) মেশানো হয়।

আমাদের শরীরে আয়োডিনযুক্ত নুন প্রয়োজন কেন?

সুমনের কাকিমা কিছুদিন আগেও ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে পড়তেন। এখন তার থেকে অনেক দেরি করে উঠছেন। বাড়ির বিভিন্ন কাজ করার সময়ও কাকিমার ক্লান্তি ফুটে উঠছে।

একদিন তো কাপে করে কাকুকে চা দিতে গিয়ে কীভাবে যেন কাপটা পড়েই গেল কাকিমার হাত থেকে। যখন তখন সর্দিতে ভুগছেন কাকিমা; মাঝে মাঝেই মেজাজ হারিয়ে ফেলছেন; খিটখিটেও হয়ে গেছেন একটু। কাকিমা নিজেও বলছেন- শরীরটা যেন আর চলছেই না। কিছুই খাচ্ছি না, তাও যেন মোটা হয়ে যাচ্ছি। সুমন দেখল যে কাকিমার গলার আওয়াজটাও একটু ধরা-ধরা। গলার কাছটা যেন একটু মোটাও মনে হচ্ছে।

ডাক্তারবাবুকে দেখাতে তিনি বলেছেন- সুমনের কাকিমার থাইরয়েডের সমস্যা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো 'থাইরয়েড' কী?

তোমার হাতের দুটো আঙুলের স্পর্শে গলায় স্বরযন্ত্রের উপস্থিতি বুঝতে পারবে। এই স্বরযন্ত্রের ওপর দু-পাশে ছোটো একটা গ্রন্থি আছে, যাকে থাইরয়েড গ্রন্থি বলে।

এই গ্রন্থির কার্যকারিতা আয়োডিনের ওপর নির্ভরশীল। শরীরে আয়োডিন কম হলে এই থাইরয়েড গ্রন্থির কী পরিবর্তন হয়?

তখন বেশি কাজ করে কার্যকারিতা বজায় রাখতে গিয়ে থাইরয়েড গ্রন্থি বড়ো হয়ে যায়। তখন গলা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়; একেই 'গয়টার' বা গলগণ্ড বলা হয়।

Goiter

থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা কমে গিয়ে মহিলাদের বন্ধ্যাত্ব পর্যন্ত হতে পারে।


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

আর কী কী ভাবে আয়োডিন আমাদের শরীরে কাজ করে?

মস্তিষ্কের বিকাশে আয়োডিন সাহায্য করে, তাই শিশুদের পক্ষে এটি অপরিহার্য।

তাছাড়াও শারীরিক-মানসিক অবসাদ দেখা দিতে পারে আয়োডিনের অভাবে।

📌 জেনে রাখো: আয়োডিন ব্যবহারের একটা ইতিহাস আছে আমাদের দেশে। অনেক আগে আয়োডিন ছাড়া নুনই ব্যবহার হতো খাবার জন্য। বিংশ শতকে পঞ্চাশের দশকে প্রফেসার ভি. রামলিঙ্গস্বামীর নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী হিমাচল প্রদেশের কাংড়া উপত্যকায় 'গয়টার' রোগের কারণ হিসাবে দেহে আয়োডিনের ঘাটতিকে চিহ্নিত করেন। এর ফলে 1962 সাল থেকেই ভারত সরকার ‘গয়টার' প্রাদুর্ভূত এলাকায় আয়োডিনযুক্ত নুন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। WHO ও UNICEF-এর সহায়তায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োডিনযুক্ত নুন তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। 1983 সালে ভারতের জনসংখ্যা অনুপাতে এর উৎপাদন যথেষ্ট হয়।

সাধারণত সমতলের চেয়ে পাহাড়ি এলাকায় আয়োডিনের ঘাটতিজনিত সমস্যার প্রকোপ বেশি।

আমরা যেমন বিভিন্ন উৎস থেকে দেহের মধ্যে লবণ গ্রহণ করছি, তেমনই শরীর থেকে অতিরিক্ত লবণের রেচনও ঘটছে।

  • উদ্ভিজ্জ উৎস 🌿
  • প্রাণীজ উৎস 🍖
  • পানীয় জল 💧
  • খাবার নুন 🧂

\rightarrow দেহের লবণ \rightarrow প্রয়োজনের বেশি লবণ \rightarrow রেচন

\rightarrow ঘাম 땀 \rightarrow মূত্র 🚽

(a) আমাদের শরীরের বেশিরভাগ রেচন কীভাবে ঘটে?

— ঘামের মাধ্যমে ঘটে, যার বেশিরভাগই জল।

(b) জল যেহেতু নুনকে দ্রবীভূত করে রাখে, তাই আমাদের প্রধান রেচন পদার্থ..................... এর মধ্যে অনেকটা........................ ও উপস্থিত থাকে।

(c) রেচনক্রিয়ায় দেহের ভেতরের মূলত কোন রেচন অঙ্গ কাজ করে? - বৃক্ক (কিডনি)।

(d) যদি কোনো কারণে রক্তে নুনের পরিমাণ বেড়ে যায়, তাহলে কী হবে?

দেহের প্রয়োজনের থেকে আরো বেশি এই লবণের রেচনের প্রয়োজন, তাহলে আমাদের প্রধান রেচন পদার্থের পরিমাণের কেমন পরিবর্তন ঘটবে? - মূত্রের পরিমাণ বাড়বে/কমবে (ঠিক উত্তরটি বেছে নাও)।

তখন আমাদের প্রধান রেচন অঙ্গকে বেশি কাজ করতে হবে।

(e) এখন ভাবো, কারো বৃক্কের কার্যকারিতা কোনো কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। তখন তাঁকে কী পরামর্শ দেওয়া হবে?

দীর্ঘদিন লিভারের রোগে ভুগলেও একই পরামর্শ দেওয়া হয়।


পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

খাওয়া ছাড়া আর কোন কাজে নুন ব্যবহার হতে দেখো তোমরা?

তোমাদের বাড়িতে মা-ঠাকুমাকে আমের বা অন্য জিনিসের আচার বানাতে দেখেছ। তাঁদের কাছে একটু খোঁজ নিলেই জানতে পারবে যে তার একটা প্রধান উপাদান হলো নুন।

বেশিরভাগ সময়েই আমের টুকরো (বা, অন্য জিনিসেও) নুন মাখিয়ে রোদে শুকোতে দেওয়া হয়। এটা করা হয় দুটো কারণে-

i) যাতে আমের টুকরোর বেশিরভাগ জলীয় অংশ বেরিয়ে যায়। ii) বাতাসে ভেসে থাকা জীবাণুর থেকে ওই জিনিসটা বেশিদিন ভালো থাকে।

কীভাবে কাজ করে নুন? নুনের সংস্পর্শে আসা জীবাণুর কোশতরল অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় বেরিয়ে আসে। তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে জীবাণু মরে যায়। তাই খাদ্য সংরক্ষণ করার জন্য বহু প্রাচীনকাল থেকেই এই পদ্ধতি চালু রয়েছে।

সংরক্ষক হিসাবে নুন ব্যবহার করা হচ্ছে, এরকম আরো উদাহরণ দাও:

(a)
(b)
(c)

সমুদ্র, পর্বত বা মেরু অভিযানের ক্ষেত্রে অভিযাত্রীরা যে সংরক্ষিত বা টিনবন্দি খাবার নিয়ে যান তা থেকেই শরীরের প্রয়োজনীয় নুন তাঁরা পেয়ে যান।

💰 জেনে রাখো: এখনকার প্রচলিত শব্দ Salary (মাহিনা) এসেছে Salt থেকে; প্রাচীন রোমের সেনাবাহিনীর অফিসারদের নুন কেনার জন্যে যে অর্থ দেওয়া হতো তখন তাকে বলা হতো 'Salarium'। এর থেকেই Salary শব্দের উৎপত্তি।

তাহলে ভাবো, একসময়ে খাদ্যলবণ এত সহজলভ্য বস্তু ছিল না নিশ্চয়ই। মানুষ তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এর অভাব অনুভব করেছে; আর তাকে সহজলভ্য করেছে। নুন নিয়ে আমাদের দেশসহ বহু দেশেই অনেক প্রবাদ প্রচলিত। সেগুলো জানার চেষ্টা করো।

নীচের ক্ষেত্রগুলোতে কীভাবে লবণের ব্যবহার করা যেতে পারে তা লেখো।

কোন ক্ষেত্রেকীভাবে খাদ্যলবণ কাজে লাগবে
1. তোমার দাঁতে যন্ত্রণা হচ্ছে
2. হঠাৎ একদিন তোমার ঘনঘন বমি ও ডায়ারিয়া হলোতোমাকে কিছু সময় অন্তর অল্প করে নুন ও সামান্য চিনি মেশানো জল খেতে হবে
3. তোমার গলায় ব্যথা হলো
4. তোমার পায়ে জোঁক কামড়ে ধরল
5. তোমাকে পাকা তেঁতুল সংরক্ষণ করতে বলা হলো
6. কারোর রক্তচাপ কমার লক্ষণ দেখা দিলেতোমাকে কিছু সময় অন্তর অল্প করে নুন ও সামান্য চিনি মেশানো জল খেতে হবে

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

সংশ্লেষিত যৌগ ও পরিবেশে তার প্রভাব

তোমরা প্রত্যেক দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে শুতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত যে যে জিনিসগুলো ব্যবহার করো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তাদের একটা তালিকা বানাও। তাদের উৎস প্রাকৃতিক, প্রক্রিয়াজাত না মানুষের সৃষ্টি তা উল্লেখ করো :

রোজকার ব্যবহার্য জিনিসের নামকীভাবে তৈরি
প্রাকৃতিক
মাজন বা টুথপেস্ট
পাউডার
সাবান
শ্যাম্পু
ডিটারজেন্ট
রিঠা ফল
মশারির সুতো
নারকেল তেল

তোমাদের তৈরি ওপরের তালিকা থেকেই তোমরা বুঝতে পারছ যে আমরা প্রতিদিন যেসমস্ত জিনিস ব্যবহার করি তার কিছু প্রাকৃতিক হলেও বেশিরভাগ জিনিসই কৃত্রিমভাবে সংশ্লেষিত পদার্থ থেকে তৈরি। এগুলো যেমন আমাদের অনেক সুবিধা করে দিয়েছে, তেমনি এদের অনেক কুপ্রভাবও আছে যা আমরা পরে জানব।

তোমরা সকলেই খেলতে ভালোবাসো। ধরো তুমি ফুটবল খেলো। ফুটবল খেলতে যে জিনিসগুলো লাগে তার একটা তালিকা বানাও; আর এসো দেখি তার কোনটা কী জিনিস দিয়ে তৈরি।

কোন জিনিসকী দিয়ে তৈরিব্যবহার বন্ধ হওয়ার পর জিনিসগুলোর কী হয়

পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

তোমাদের স্কুলে বা পাড়ায় মাঝে মাঝে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা হয়। সেখানে যে জিনিসগুলো লাগে তাদের ছবি নীচে দেওয়া হলো। ছবি দেখে তাদের নাম লেখো এবং আলোচনা করে লেখো সেগুলো কীসের তৈরি আর তাদের উৎস প্রাকৃতিক না সংশ্লেষিত?

Art supplies

কী জিনিসকীসের তৈরি বলে মনে হয়উৎস
প্রাকৃতিক
1. পেন্সিলকাঠ, গ্রাফাইট
2. ইরেজাররাবার
3. শার্পনারমেটাল, প্লাস্টিক
4. কলমপ্লাস্টিক, কালি
5. রঙের টিউবরঙ, অ্যালুমিনিয়াম
6. ব্রাশকাঠ, সিন্থেটিক ফাইবার
7. প্যালেটপ্লাস্টিক

ওপরের ছক তিনটে দেখে একটা বিষয় স্পষ্ট যে আমাদের চারপাশের যে সমস্ত জিনিসের নাম আমরা বলছি বা দেখছি বা ব্যবহার করছি তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক জিনিসেরই উৎস প্রাকৃতিক; তাদের অধিকাংশই সংশ্লেষিত পদার্থ থেকে তৈরি। নীচের ছবিটা লক্ষ করে দেখো, আমরা কীভাবে প্রতিদিনই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই ধরনের পদার্থ ব্যবহার করছি।

সংশ্লেষিত পদার্থ থেকে তৈরি জিনিস

Synthetic items: glue, mirror, glasses, clothes, plastic container


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

Various daily items

  1. ওপরের ছবিতে যেসব বস্তুর ছবি দেওয়া আছে তা তৈরিতে যে যে সংশ্লেষিত পদার্থের ব্যবহার হয়েছে সেগুলি কী কী?

....................................................................................................................................................................................

  1. ওই ধরনের সংশ্লেষিত পদার্থ আর কী কী জিনিস তৈরিতে ব্যবহার করা হয়?
সংশ্লেষিত পদার্থটির নামতার ব্যবহার
প্লাস্টিক
  1. যে সমস্ত সংশ্লেষিত পদার্থগুলোর নাম তোমরা জানলে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তাদের আর কোনো ব্যবহার জানা থাকলে লেখো।

....................................................................................................................................................................................

একটা প্রশ্ন তোমাদের মনে আসতেই পারে যে কেন আমরা এতসব ধরনের সংশ্লেষিত পদার্থের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লাম। প্রাকৃতিক জিনিসের থেকে এই সমস্ত মানুষের সৃষ্টি করা জিনিসগুলোর কার্যকারিতা বেশি। তাই এদের ব্যবহারও বেশি। ওপরের তালিকায় যতরকম সংশ্লেষিত পদার্থের ব্যবহার আমরা দেখতে পাচ্ছি, তাদের মধ্যে প্লাস্টিক, পলিথিন, কৃত্রিমভাবে তৈরি সুতো - এরকম অনেকগুলোকেই পলিমার বলা হয়।

এখন দেখা যাক, পলিমারজাতীয় পদার্থগুলো কেমনভাবে তৈরি হয়।

পলিমার

তোমরা সকলেই ফুলের তৈরি মালা দেখেছ। এটা কীভাবে তৈরি করা হয়? অনেকগুলো একই ধরনের বা বিভিন্ন ধরনের ফুল একসঙ্গে একটা সুতো দিয়ে গাঁথা। একটা লোকাল ট্রেনে অনেকগুলো একরকম কামরা জোড়া থাকে। ঠিক এইভাবেই অনেক ছোটো ছোটো যৌগ অণু জুড়ে তৈরি হয় বৃহৎশৃঙ্খল যৌগ বা পলিমার। পলিথিন পলিমারটি অনেক ইথিলিন (C2H4C_2H_4) অণু জুড়ে তৈরি হয়।


পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

Necklace and train

ইথিলিন C2H4C_2H_4

ইথিলিন C2H4C_2H_4

ইথিলিন C2H4C_2H_4

(C2H4)n(C_2H_4)_n

(C2H4)n(C_2H_4)_n, হলো পলিইথিলিন বা পলিথিন। এখানে nn দিয়ে বহু সংখ্যক ইথিলিন অণু বোঝানো হয়েছে।

💡 জানো কি?-'পলিমার' শব্দটার উৎপত্তি দুটো গ্রিক শব্দ পলি (poly) ও মেরোেস (meros) থেকে। 'পলি' মানে বহু, আর 'মেরোস' কথার অর্থ অংশ বা খণ্ড (parts)।

এছাড়াও আমরা যে চিউইং গাম খাই এবং আঠা বা অ্যাডহেসিভ জাতীয় যে সমস্ত জিনিস ব্যবহার করি সেগুলোও বিভিন্ন নরম পলিমার দিয়ে তৈরি। আবার কৃত্রিমভাবে তৈরি সুতোগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই পলিমার জাতীয় পদার্থ।

সংশ্লেষিত তত্ত্ব

অনেকদিন থেকেই জামাকাপড় তৈরিতে সুতির সুতো ব্যবহার করা হতো। কিন্তু সেগুলো কম টেকসই আর তার সৌন্দর্য বজায় রাখা ছিল কঠিন। যুগান্তকারী আবিষ্কার হিসাবে এল পলিএস্টার, রেয়ন, অ্যাক্রাইলিক ইত্যাদি। তারপর সুতির সুতোর সঙ্গে এগুলো মিশিয়ে নতুন ধরনের সুতো তৈরি হতে লাগল।

করে দেখো : কোনটা শক্ত, একটা সুতির সুতো, না একটা টেরিকটের সুতো? দুটো একই মাপের স্বচ্ছ প্লাস্টিকের খালি ও মুখ খোলা বোতল নাও। এবার দু-রকম সুতোর সাহায্যে দুটো বোতল ঝোলাবার ব্যবস্থা করো। এরপর দুটো বোতলেই ধীরে ধীরে জল ঢালতে থাকো। কী করলে ও কী দেখলে লেখো।

Experiment with bottles and thread

কী করা হলোকী বোঝা গেল

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

প্রাকৃতিক পলিমার

নানান ধরনের শর্করা (কার্বোহাইড্রেট) জাতীয় পলিমার দিয়ে উদ্ভিদদেহে সুতো বা আঁশ তৈরি হয়। আবার প্রাণীদেহের মাংসপেশি, লিগামেন্ট বা টেনডন তৈরি হয় প্রোটিনজাতীয় পলিমার দিয়ে।

করে দেখো 🔎

মোমবাতির আগুনের কাছে সাবধানে কিছুটা সুতির সুতো ও কিছুটা নাইলন সুতো একটি চিমটে দিয়ে ধরে দেখো।

কী দেখলেকী বোঝা গেল

তাহলে রান্না করা বা বাজি পোড়ানোর সময় আমরা কেমন জামাকাপড় পরব?

💡 সিন্থেটিক সুতোর তৈরি জামাকাপড় আগুনের গরমে গলে গিয়ে চামড়ায় আটকে যেতে পারে। তাই ওই সময় সুতির জামাকাপড় পরাই উচিত।

আমরা রোজই অনেকরকমের প্লাস্টিকের জিনিস ব্যবহার করি। কিন্তু সব প্লাস্টিকই কি একই ধরনের?

লক্ষ করলে দেখবে বিভিন্ন জিনিসে ব্যবহৃত প্লাস্টিক প্রধানত দু-ধরনের।

(i) একধরনের প্লাস্টিক নরম; তাদের আকৃতি তাপ দিয়ে (বা অন্যভাবে) পালটানো যায়। তাদের গলানো যায়, বাঁকানো যায়। তাই এধরনের প্লাস্টিককে থার্মোপ্লাস্টিক বলা হয়।

(ii) অন্য আর একধরনের প্লাস্টিক একবার শক্ত হয়ে গেলে তাপ দিয়েও তাদের আকৃতি আর পালটানো যায় না। তাই এধরনের প্লাস্টিককে থার্মোসেটিং প্লাস্টিক বলা হয়।

নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন জিনিসে পলিমারের ব্যবহার

পলিমারের নামপ্রকৃতি বা গুণাবলিব্যবহার
পলিথিনঅত্যন্ত নমনীয় ও জলরোধক
PVCমজবুত, তাপ ও তড়িতের অন্তরক, জলরোধক, থার্মোপ্লাস্টিক
PETদীর্ঘস্থায়ী ও মজবুত, থার্মোসেটিং প্লাস্টিকজলের বা পানীয় দ্রব্যের বোতল, খাবারের বাক্স তৈরিতে।

পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

সাবান ও ডিটারজেন্ট

তোমাদের বাড়িতে গায়ে মাখার জন্য, জামাকাপড় পরিষ্কার করতে বা নীচে লেখা অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হয় এমন কোনো সংশ্লেষিত পদার্থের কথা জানা থাকলে লেখো।

কোন কাজেকী ব্যবহার করো
গা, হাত, পা ধোয়ার কাজে
চুল পরিষ্কার করার জন্য
বাসনপত্র মাজার জন্য

এখানে যে পদার্থগুলোর নাম দেখা গেল তাদের বেশিরভাগই সাবান বা ডিটারজেন্ট শ্রেণির। তোমরা জানো কি যে ডিটারজেন্ট দিয়ে জামাকাপড় পরিষ্কার করা হয়, দাঁত মাজার পেস্ট বা চুল পরিষ্কার করার শ্যাম্পুতেও একইরকম কিছু পদার্থ থাকে।

🧪 সাবান হলো কিছু জৈব অ্যাসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম যৌগ, যা তৈরি হয় চর্বি বা উদ্ভিজ্জ তেলের সঙ্গে কস্টিক ক্ষারের (NaOH বা KOH) বিক্রিয়ায়।

চর্বি বা উদ্ভিজ্জ তেল + কস্টিক ক্ষার → সাবান + গ্লিসারিন।

🧪 পেট্রোলিয়াম বা অন্য উৎস থেকে প্রাপ্ত হাইড্রোকার্বন জাতীয় যৌগের সঙ্গে ঘন সালফিউরিক অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন অ্যাসিডের জলে দ্রাব্য যৌগ হলো ডিটারজেন্ট। বাজারের ডিটারজেন্ট বিভিন্ন যৌগের মিশ্রণ।

যেসব উৎস থেকে পাওয়া জল আমরা সাধারণত জামাকাপড় কাচার জন্য ব্যবহার করি সেগুলো নীচে দেওয়া হলো। বাড়ির বড়োদের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করো এগুলোর মধ্যে কোন কোন উৎসের জল ব্যবহার করে কোন ক্ষেত্রে কীরকম ফেনা তৈরি হয়; তারপর নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নীচের সারণিটি পূরণ করো।

জলের উৎসসাবান ব্যবহারে কেমন ফেনা হয়ডিটারজেন্ট ব্যবহারে কেমন ফেনা হয়
পুকুরের/দিঘির জল
কুয়োর জল
নলকূপের জল
নদীর জল
শহরের কলের জল

এখন বুঝতে পারছ সাবান না ডিটারজেন্ট কোনটায় জামাকাপড় বেশি ভালো পরিষ্কার হয়?

💡 সাবান সবরকম উৎসের জলে সমানভাবে কার্যকরী হয় না, কিন্তু ডিটারজেন্ট যে-কোনো জলেই সমান কার্যকর। তাইতো আমাদের চারদিকে ডিটারজেন্টের এত ব্যাপক ব্যবহার।


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

সার ও কীটনাশক

দলগত কাজ 🧑‍🤝‍🧑

তোমাদের স্কুলের বা বাড়ির আশেপাশের চাষের ক্ষেতে অথবা কোনো নার্সারিতে গিয়ে একটু খোঁজ নিয়ে দেখো ও জানো সার ও কীটনাশক কোন কোন প্রয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

যে জিনিসগুলোর ব্যবহার তোমরা জানলে, আরও বিস্তারিতভাবে তাদের সম্বন্ধে আলোচনা করে নীচের সারণি পূরণ করো।

কী চাষ করতেকী ব্যবহার হচ্ছেকী কাজে ব্যবহার হচ্ছেপদার্থটার উৎস প্রাকৃতিক না কৃত্রিমভাবে তৈরি
ধান
শাকসবজি
ফুল

ওপরের সারণি থেকে তোমরা মূলত দু-ধরনের জিনিসের ব্যবহার দেখতে পাচ্ছ; যার বেশিরভাগই প্রাকৃতিক নয়, সংশ্লেষিত।

গাছের বৃদ্ধি ও ফলন বাড়ানোর জন্য যা ব্যবহার হচ্ছে সেগুলো কী? ...................................

গাছকে রোগ বা পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য যা ব্যবহার হচ্ছে সেগুলো কী? ...............

তোমাদের পরিচিত কয়েকটি সার ও কীটনাশকের মধ্যে থাকা সংশ্লেষিত পদার্থের নাম দেওয়া হলো। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ও শিক্ষক-শিক্ষিকার সাহায্য নিয়ে আরও কয়েকটি নাম যোগ করো।

সারের নামকীটনাশকের নাম
ইউরিয়ামিথাইল প্যারাথিয়ন
অলড্রিন
কার্বারিল

টুকরো কথা 📜

তোমরা র‍্যাচেল কারসনের লেখা Silent Spring বইটার কথা হয়তো শুনে থাকবে। এই বইতে তিনি প্রথম ডি.ডি.টি কীটনাশকের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে সারা পৃথিবীকে সচেতন করেন। দেখা গেছে, পাখি বা কচ্ছপের দেহে এই কীটনাশকের প্রভাবে ডিমের খোলা পাতলা হয়ে যায়। বাচ্চা বেরোবার জন্য পেটের নীচে ডিম রেখে তা দিতে গেলেই ডিম ফেটে নষ্ট হয়ে যায়। পোকামাকড় মারতে এরকম কীটনাশকের ব্যবহারের জন্য আজ মৌমাছি, রেশমপোকা, নানা পাখির বেঁচে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। আগামী দিনের বসন্তকাল তাই পাখির কাকলিহীন হয়ে যাবে-এমনই বলতে চেয়েছেন শ্রীমতি কারসন। আর খাদ্যের মধ্যে দিয়ে কীটনাশক মানুষের দেহে ঢুকে নানা অজানা রোগের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে তুলছে। পৃথিবীর বহু দেশেই ডি.ডি.টি নিষিদ্ধ কীটনাশক।


পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

প্রসাধনী, সুগন্ধি দ্রব্য

তোমাদের পরিচিত কিছু জিনিসের ছবি নীচে দেওয়া আছে। দেখো তো চিনতে পারো কিনা। তাদের ব্যবহার লেখো।

Cosmetics

কী জিনিসকী কাজে লাগে
a.
b. শ্যাম্পু
c.
d. টুথপেস্ট
e. বডি স্প্রে
f. পাউডার
g.
h.

তোমরা এতরকম প্রসাধনীর ব্যবহার দেখছ। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে জানার চেষ্টা করো তোমাদের পরিচিত কারোর ত্বকে বা দেহের অন্য অংশে এই সমস্ত জিনিসের কোনো কুপ্রভাব পড়েছে কিনা :

কোন ধরনের প্রসাধনীতেকীরকম কুপ্রভাব পড়তে পারে
চুল রং করার কলপ বা ডাইচুলকানি ও লাল হয়ে ফুলে ওঠা
সুগন্ধি স্প্রেশ্বাসের সমস্যা

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

এরকম কেন হয় বলো তো?

প্রসাধনীতে এমন অনেকরকম সংশ্লেষিত পদার্থ মেশানো হয় যেগুলোর প্রভাবেই এই সমস্যা ঘটে। তাই এরকম সমস্যা যাঁদের হয় তাঁদের এই সমস্ত জিনিস এড়িয়ে চলাই উচিত।

ওষুধ 💊

নীচের তালিকা থেকে ঠিক উত্তর নির্বাচন করে ছকটির প্রথম দুটো স্তম্ভ পূরণ করো। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ও বড়োদের বা শিক্ষক-শিক্ষিকার সাহায্যে তৃতীয় স্তম্ভটি পূরণ করো।

কোন ধরনের অসুখেসাধারণত ডাক্তারবাবু কী ধরনের ওষুধ ব্যবহার করতে বলেনএর পরিবর্তে আগেকার সময়ে কী ধরনের ভেষজ ওষুধ ব্যবহার করা হতো
জ্বরজ্বরনাশক
ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণে পেটখারাপ হলেঅ্যান্টিবায়োটিক বা জীবাণুনাশক
অম্বল বা অ্যাসিডিটিঅ্যান্টাসিড
ছড়ে যাওয়া বা কেটে যাওয়াঅ্যান্টিসেপটিকগাঁদা গাছের পাতার রস বা দুর্বার রস
চোট লেগে ব্যথা হলেপেনকিলার বা বেদনানাশক

ওষুধ হিসাবে আমরা যে সমস্ত পদার্থ ব্যবহার করছি তার প্রায় সবই সংশ্লেষিত যৌগ। অথচ একটা সময় ছিল, যখন মানুষের ও অন্যান্য প্রাণীর শারীরিক অসুস্থতা নিরাময়ে ব্যবহৃত হতো প্রাকৃতিক বা ভেষজ ওষুধ। আমাদের চারপাশেই সেই সমস্ত উপাদান ছড়িয়ে আছে। শুধু প্রয়োজন তা প্রয়োগ করার উপযুক্ত জ্ঞানের।

তোমার বাড়ির পোষা কুকুর-বিড়ালকে কখনও ঘাস খেতে দেখেছ?

এভাবে একটু লক্ষ করলে দেখতে পাবে আমাদের চারপাশের মনুষ্যেতর জীব কীভাবে প্রাকৃতিক বা ভেষজ উপায়ে নিজেদের সুস্থ রাখে। কেবল আমরা, মানুষরা শুধুমাত্র প্রকৃতির ওপর এব্যাপারে নির্ভরশীল থাকতে পারিনি। তার প্রধান কারণ কী কী হতে পারে?

একটা কারণ যদি হয় আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, তবে অন্য কারণগুলো হলো মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও পুরোনো ওষুধের বিরুদ্ধে রোগসৃষ্টিকারী জীবাণুর প্রতিরোধ গড়ে ওঠা। তাই আরও নতুন নতুন ওষুধ তৈরি করার প্রয়োজন হচ্ছে। বিজ্ঞানের নানা গবেষণার ফলাফলকে শুধু মানুষই ব্যবহার করতে পারে।

একটা বিষয়ে লক্ষ করেছ কি, যে সমস্ত মোড়কের মধ্যে ওষুধ থাকে সেগুলো আমরা ছুঁড়ে ফেলে দিই, তারপর সেগুলোর কী হয়? নিজেদের মধ্যে আলোচনা করো।


পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

রং ও রঞ্জক 🎨

আমাদের পৃথিবীতে এমন অনেক প্রাণী আছে যাদের দর্শনেন্দ্রিয় শুধুমাত্র সাদা-কালো ছবি বা বস্তু দেখার জন্যই তৈরি। কিন্তু আমরা, মানুষরা রঙিন জিনিস দেখতে অভ্যস্ত। তোমাদের চারপাশে যে সমস্ত রঙিন জৈব-অজৈব জিনিস দেখতে পাচ্ছ তার একটা তালিকা তৈরি করো। আর শিক্ষক/শিক্ষিকার সহায়তায় তাদের রঙের উৎস সন্ধান করো :

কী জিনিসতার রঙের উৎস
গাজরজৈব
হলুদ
গাঁদা বা গোলাপ ফুলের পাপড়ি
রঙিন প্লাস্টিকের বালতি

তোমাকে বাড়ির দেয়াল, দরজা-জানালা অথবা লোহার আলমারি রং করতে বলা হলো। কোন ক্ষেত্রে তুমি জলে গোলা রং বা তেলে গোলা রং ব্যবহার করবে?

কোন ক্ষেত্রেকেমন রং ব্যবহার করবে
দেয়ালজলে গোলা রং
দরজা-জানালাতেলে গোলা রং
লোহার আলমারিতেলে গোলা রং

এরকম রং ব্যবহার করার আগে কী কী করা প্রয়োজন বলে তুমি মনে করো?

প্রায় কোনো রং-ই কৌটো খুলেই সরাসরি ব্যবহার করা যায় না। কারণ, এখনকার ব্যবহৃত বেশিরভাগ রং-এর দুটো অংশ আলাদা হয়ে থাকে। তাদের মেশানোর দরকার হয়। রং-এর মধ্যে এই দুটো অংশ কী কী?

(i) দ্রাবক অংশ (যা সাধারণত বর্ণহীন বা হালকা রঙিন), (ii) রঞ্জক বা পিগমেন্ট অংশ (রঙিন যৌগের কণা)।

বেশিরভাগ রং-এরই এই দুটো অংশই কৃত্রিমভাবে তৈরি।

📜 জানো কি? অনেক আগে জামাকাপড় রং করার নীল (Indigo) পাওয়া যেত নীলের গাছ থেকে। এখন রাসায়নিক কারখানাতেই এই রঞ্জক তৈরি করা যায়। একসময় বিদেশী নীলকররা আমাদের দেশের চাষিদের ধান চাষ করতে না দিয়ে তাদের জমিতে নীলের গাছ চাষ করতে বাধ্য করত। চাষিরা রাজি না হলে তাদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করা হতো। নিরুপায় চাষিরা শেষে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এই হলো ঊনবিংশ শতকের নীল বিদ্রোহের ইতিহাস।


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

আমাদের ব্যবহার করা পেনের কালি বা ছাপার কালিও এধরনের একাধিক রঞ্জকের মিশ্রণে তৈরি।

করে দেখো 🔬

একটা ফিলটার কাগজে একফোঁটা জেলপেনের কালি দাও। একটা প্লাস্টিকের ছোটো স্কেলের গায়ে কাগজটা সুতো দিয়ে বেঁধে দিয়ে ছবির মতো জলের মধ্যে ডুবিয়ে দাও। কিছুক্ষণ পরে তুমি কি দেখতে পেলে তা লেখো (ভালো ফল পেতে জলের মধ্যে একটু স্পিরিট দিতে পারো)।

Chromatography Experiment

কী করলেকী দেখতে পেলে

সিমেন্ট 🏗️

আধুনিক নির্মাণশিল্পের একটি প্রধান উপাদান হলো সিমেন্ট। আমাদের চারপাশে সিমেন্টের বহু জিনিসই আমরা দেখতে পাই। নীচের তালিকায় তোমাদের জানা আরো জিনিসের নাম লেখো, যেগুলোর একটা উপাদান সিমেন্ট।

কী কী জিনিস তৈরিতে সিমেন্ট ব্যবহার হচ্ছেসিমেন্টের সঙ্গে আরো কীকী জিনিস কাজে লেগেছে বলে মনে হয়
বাড়িইট, বালি, লোহার রড, পাথরকুচি

সিমেন্টের এত ব্যাপক ব্যবহারের কারণ কী জানো? সিমেন্ট সহজলভ্য, তার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা ও সর্বোপরি সিমেন্টের জিনিসের স্থায়িত্ব বেশি।

সিমেন্ট কি কোনো একটা রাসায়নিক পদার্থ?

সিমেন্টের মধ্যে বেশ কিছু ধাতুর যেমন ক্যালশিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, আয়রনের অক্সাইড ও সিলিকেট জাতীয় যৌগ মেশানো থাকে। এর উপাদানগুলোর কিছু খনিজ পদার্থ থেকে পাওয়া, যেমন জিপসাম চূর্ণ বা চুনাপাথর থেকে পাওয়া ক্যালশিয়াম অক্সাইড। আবার কিছু কৃত্রিমভাবে তৈরি। তোমরা দেখেছ রাজমিস্ত্রিরা যখন সিমেন্ট দিয়ে বাড়ি তৈরি করেন তখন বালি আর সিমেন্ট একটা নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে তাতে জল মেশান।

তুমি যদি সিমেন্ট, বালি আর জল মিশিয়ে একটা দলা পাকিয়ে এক রাত্রি রেখে দাও কী দেখতে পাবে?

🧱 পুরোটাই জমাট বেঁধে যাবে।

আবার দেখে থাকবে সিমেন্ট-বালি দিয়ে ইট গাঁথা বা ঢালাই করার পর তাতে বেশ কয়েকদিন জল দেওয়া হয়। জলের সংস্পর্শে সিমেন্টের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম অক্সাইড, হাইড্রক্সাইডে পরিণত হয় এবং বিভিন্ন সিলিকেট যৌগের সঙ্গে জল যুক্ত হয়। এইসব রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোতে তাপ উৎপন্ন হয় বলে সিমেন্ট ফেটে যায়। তাই ঢালাইয়ের পরদিন থেকেই তার গায়ে জল দেওয়া হয়।


পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

তোমাদের চারপাশের চেনাজানা বহু জিনিসেরই আগে যা উপাদান ছিল তা পালটে সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। নিজেরা আলোচনা করে উদাহরণগুলো লেখো :

কী জিনিস তৈরিতেআগে কী ব্যবহার হতোএখন কী ব্যবহার হচ্ছে
গোরুর খড় খাবার গামলাপোড়া মাটি
বাড়িকাচ

কর্মপত্র 📝

i) তোমাদের চারপাশে দেখা কাচ ব্যবহার হচ্ছে এমন কয়েকটা জিনিসের উদাহরণ দাও-

....................................................................................................

ii) এই জিনিসগুলো কী কী কাজে লাগে তা লেখো।

....................................................................................................

iii) এই জিনিসগুলোয় কাচ ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করা যেত কি? তোমার মতামত লেখো।

....................................................................................................

এই বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত কাচ আসলে কি জানো? এটা একটা মিশ্রণ, যা মূলত চুনাপাথর, সোডাভস্ম ও বালি (সিলিকা) থেকে তৈরি করা হয়। রং করার জন্য কাচে বিভিন্ন ধাতব অক্সাইড মেশানো হয় যাদের সবই কৃত্রিমভাবে তৈরি ।

কাচের কোন রং-এর জন্যকোন যৌগ কাচে মেশানো হয়
হলুদআয়রন অক্সাইড
নীলকোবাল্ট অক্সাইড
সবুজক্রোমিয়াম অক্সাইড

💡 জানো কি? - রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণীবিদ্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান - বিজ্ঞানের এইসব শাখা কাচের তৈরি নানান যন্ত্রপাতি ছাড়া এগোতেই পারতনা। কাচ সভ্যতাকে বহু দূর এগিয়ে দিয়েছে। কাচের তৈরি অপটিক্যাল ফাইবার এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। প্লাস্টিকে মোড়া কাচের তত্ত্ব ফাইবারগ্লাসরূপে মূর্তি ও বিভিন্ন ঢালাই করা দ্রব্য প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।

পরিবেশে সংশ্লেষিত যৌগের প্রভাব

আজ থেকে প্রায় 25-30 বছর আগেও কলকাতা শহরের যত জঞ্জাল ফেলা হতো ধাপার মাঠে। কোন কোন জিনিস তখন ফেলা হতো তার কয়েকটা জিনিসের নাম পরের পাতার তালিকায় দেওয়া হলো। এখনও ধাপার মাঠ যে এলাকায় ছিল, সেখানে কোনো জায়গা খুঁড়লে মাটির নীচ থেকে সেগুলোর কী কী এখনও পাওয়া যাবে আর কোনগুলো যাবে না তা নিজেদের মধ্যে বা শিক্ষক/শিক্ষিকার সঙ্গে আলোচনা করে লেখো।


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

ফেলা জিনিসের তালিকা 🗑️

ছেঁড়া পলিথিন, চটের ব্যাগ, প্লাস্টিকের ভাঙা খেলনা, ছেঁড়া হাওয়াই চটি, আনাজের খোসা, মাছের আঁশ, ছেঁড়া জামাকাপড়, আখের ছিবড়ে, ডাবের খোলা, কাচের ভাঙা শিশি, ওষুধের মোড়ক, নাইলন দড়ি, লোহার পেরেক, ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, পলিথিনের বোতল, পেনসিলের ছোটো টুকরো, বাতিল টিভি, মরা জীবজন্তু ইত্যাদি।

এখন আর কোন কোন জিনিস পাওয়া যাবে নাকোন কোন জিনিস এখনও পাওয়া যাবেআজ থেকে পঞ্চাশ বছর পরেও কোন কোন জিনিস পাওয়া যাবে

যে জিনিসগুলো এখন আর পাওয়া যাবে না, সেগুলোর কী হলো?

....................................................................................................

আর যেগুলো পঞ্চাশ বছর পরেও পাওয়া যাবে তাদের কী হবে?

....................................................................................................

🌍 যেগুলো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় নষ্ট হয়ে যায় তারা জৈব ভঙ্গুর (বায়োডিগ্রেডেবল), আর যারা হয় না তারা জৈব অভঙ্গুর (নন-বায়োডিগ্রেডেবল)। এই দুই ধরনের পদার্থ তাদের গঠন, জলধারণ ক্ষমতা ইত্যাদিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। জীবদেহ সম্পূর্ণভাবে জৈব ভঙ্গুর, কিন্তু মনুষ্যসৃষ্ট সংশ্লেষিত পলিমারগুলোর অধিকাংশই জৈব অভঙ্গুর।

করে দেখো 🎨

নন-বায়োডিগ্রেডেবল পদার্থগুলোর ব্যবহার কেন কমাতে হবে তা যুক্তি দিয়ে বোঝাতে একটা পোস্টার তৈরি করো।


পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

তোমাদের স্কুলের বা বাড়ির চারপাশে ঘুরে দেখো এমন কোনো পদার্থ দেখতে বা তাদের কথা জানতে পারো কিনা যেগুলো দীর্ঘদিন পরিবেশে থেকে যাচ্ছে ও কোনো ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলছে (প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও):

কী পদার্থ পড়ে থাকছেপরিবেশে তার কী প্রভাব পড়ছে

তোমাদের নিজেদের পর্যবেক্ষণ থেকেই তোমরা বুঝতে পারছ কীভাবে চারদিকে পলিমারের তৈরি জিনিসপত্র ছড়িয়ে আছে; তারা যেমন জলের গতিপ্রবাহ বা কৃষিক্ষেত্রের উর্বরতা নষ্ট করছে তেমনি তাদের মধ্যে উপস্থিত অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ বিভিন্ন উৎসের জলের বর্ণ বা গন্ধের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে।

কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক কী শুধু প্রয়োগের স্থানেই সীমাবদ্ধ থাকে? – তা নয়, সেখান থেকে অনেক দূরে ছড়িয়ে পড়ে জল ও বাতাসের দ্বারা। এগুলো কীভাবে ক্ষতি করতে পারে? শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নিয়ে নীচের সারণিটি পূরণ করো।

কোন সংশ্লেষিত পদার্থকোন জীবের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছেকী ক্ষতি ঘটবে
ডিডিটি, মিথাইল প্যারাথায়ন, পেন্টাক্লোরোফেনলবিশেষ কিছু সিম জাতীয় গাছের মূলে থাকা রাইজোবিয়াম ব্যাকটিরিয়া
অলড্রিন, হেপ্টাক্লোরতৃণভোজী প্রাণী (প্রথম শ্রেণির খাদক)

পরীক্ষা করলে প্রায় প্রত্যেক মানুষের দেহেই কিছু পরিমাণ কীটনাশক পাওয়া যাবে, বিশেষত শিশুদের মধ্যে, কারণ তাদের অনাক্রম্যতা কম ও বৃদ্ধির হার বেশি।

আমাদের চারপাশে আর শকুন দেখতে পাও কি? পাও না কেন জানত? চাষের কাজে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক ও গবাদি পশুর রোগনিরাময়ে অতিরিক্ত মাত্রায় ডাইক্লোফেনাক নামক বেদনানাশকের ব্যবহার এর একটা কারণ। এই পশুদের মৃত্যুর পর তা পরবর্তী পর্যায়ের খাদক শকুনের মধ্যে গিয়ে তাদের বিলুপ্তি ঘটিয়েছে।

ভেবে দেখো 🤔

মানুষ যখন প্রথম জাল দিয়ে মাছ ধরা শিখল, তখন কীসের তৈরি জাল ছিল? আর এখন কেন নাইলনের জাল হলো? ফুটবলের গোলপোস্টে কেন নাইলনের জাল বাঁধা হয়? আগে সুতির মশারি ছিল, আর এখন নাইলনের। সুন্দরবনের বাঘ যাতে লোকালয়ে ঢুকতে না পারে তার জন্য আগে লাগানো হতো লোহার জাল, আর এখন লাগানো হচ্ছে উচ্চক্ষমতার নাইলন জাল। নাইলনের জাল ব্যবহারে পরিবেশে কী ক্ষতি হচ্ছে? ছোটো ফাঁদের শক্ত জালে ইলিশের পোনা, কচ্ছপের ছানা মরে গিয়ে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। পাহাড়ে চড়ার শক্ত দড়ি অথবা, প্যারাসুটও এই ধরনের তন্তু থেকে তৈরি।


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

আমাদের দেশে বহু ব্যবহৃত নরম পানীয়গুলোর মধ্যে উদবেগজনক পরিমাণে কীটনাশক পাওয়া গেছে। এই সমস্ত দীর্ঘস্থায়ী জৈব দূষকগুলো অনাক্রম্যতা কমানো, জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়া,বিভিন্ন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কার্যক্ষমতা হ্রাস, স্নায়বিক অনিয়ম, এবং অন্যান্য নানা পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। তাছাড়া ফসলের পক্ষে ক্ষতিকারক পোকামাকড় মারার জন্য যে সমস্ত কীটনাশক ব্যবহৃত হয় তা তাদের ছাড়াও বহু পরিবেশবান্ধব জীবকেও (মৌমাছি, রেশম মথ) মেরে ফেলে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়।

বিভিন্ন রং ও রঞ্জক কীভাবে মানুষের ক্ষতি করতে পারে জানো?

এগুলো তৈরি করতে যেসমস্ত ধাতব যৌগ ব্যবহার করা হয় তারা বিভিন্নভাবে আমাদের ক্ষতি করে। যেমন

কোন ধাতুর যৌগকী প্রভাব পড়তে পারে
লেডখাওয়ার ইচ্ছে কমে যাওয়া, বমিভাব, মাথাধরা।
পারদমুখ ও জিভের পেশির সাড়া কমে যাওয়া, বৃক্কের ক্ষতি হওয়া।
ক্যাডমিয়ামহাড়ের জোড়ে ব্যথা, মেরুদণ্ডের হাড় বেঁকে যাওয়া ।

তোমরা প্রতিদিনের জীবনে যে সমস্ত সংশ্লেষিত পদার্থ ব্যবহার করছ বা তাদের ব্যবহার দেখছ তার পরিবর্তে অন্য কিছু ব্যবহার করা যায় কি? প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও:

এখন কী ব্যবহার করছকী ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মনে হয়
পলিব্যাগমোটা কাগজ বা চটের ব্যাগ
অজৈব রং

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel