Academy

৫. অধ্যায় | মানুষের খাদ্য | পৃষ্ঠা ১৪৫-১৮১

৫. অধ্যায় | মানুষের খাদ্য | পৃষ্ঠা ১৪৫-১৮১ - WBBSE - Class 7 - Default Subject

0

মানুষের খাদ্য

খাদ্য উপাদান

আমরা সারাদিনে যে যে কাজ করি এসো তার একটা তালিকা নীচের ছবি দেখে তৈরি করি। আচ্ছা, এইসব কাজ করতে গেলে কী প্রয়োজন?

Children doing various activities

  1. দৌড়োনো
  2. 1
  3. 3
  4. 4
  5. 5
  6. 6
  7. 7
  8. 8 সারাদিনের কাজ

তোমার সামনের টেবিলটা এক হাতে তোলার চেষ্টা করো। না পারলে দু-হাতে তোলার চেষ্টা করো। ওই টেবিলটা তুলতে তোমার দেহে শক্তির প্রয়োজন। এই শক্তি কোথা থেকে পাও? সারাদিন টিফিন না খেয়ে থাকলে, সকালে না খেয়ে স্কুলে এলে তোমার কেমন লাগে? শরীরে কি জোর পাও?

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

তাহলে তোমার দেহে শক্তির উৎস কী? ঠিকমতো খাবার খেলে সুস্থ মানুষের শরীরে জীবাণুর সংক্রমণ কম হয়। এবার বলো কীসের অভাবে দেহে রোগজীবাণুর সংক্রমণ অতিমাত্রায় ঘটে এবং শরীর অসুস্থ হয়। তাহলে বলো, রোগজীবাণুর আক্রমণ ঠেকানো বা তাদের মারার শক্তি কী থেকে আসে? রোগজীবাণুর আক্রমণ ঠেকানো বা তাদের মারার ক্ষমতা (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অনাক্রম্যতা) বাড়াতে গেলে কী করা উচিত? এবার বলার চেষ্টা করো:

  1. সারাদিনে নানা কাজ করার জন্য কীসের প্রয়োজন? .................
  2. নানা রোগ বা সমস্যার হাত থেকে বাঁচতে গেলে কীসের প্রয়োজন? .................

এখন এই শক্তি এবং রোগ প্রতিরোধক উপাদানের উৎস হলো খাদ্য

Fish, cucumbers, lemons, milk

খাদ্যে নানারকম উপাদানের অভাব হলে দেহে নানা সমস্যা হয়। পরবর্তী আলোচনা থেকে কোন খাদ্যে কোন উপাদান আছে তা জেনে নাও।

সমস্যাখাদ্যের কোন উপাদানের অভাব হয়
রাতে কম দেখাভিটামিন
চোখের কোণ ফ্যাকাশেখনিজ মৌল
ঠোঁটের কোণে ও জিভে ঘাভিটামিন
মাড়ি ফোলা ও রক্ত পড়াভিটামিন
প্রায়ই হাড় ভেঙে যাওয়াখনিজ মৌল

মানুষের খাদ্য

তাহলে কীরকমের (উদ্ভিজ্জ / প্রাণীজ) খাবার আমরা খাই? এতে কোন খাদ্য উপাদান বেশি/কম হচ্ছে তা পরবর্তী আলোচনা থেকে এবং শিক্ষক/শিক্ষিকার সঙ্গে আলোচনা করে নীচের সারণিতে লেখো।

উদ্ভিজ্জ খাদ্যকোন খাদ্য উপাদানটি বেশি/কম আছেপ্রাণীজ খাদ্যকোন খাদ্য উপাদানটি বেশি/কম আছে
বেশিকমবেশি
চাল, আটাশর্করামধু
মুড়ি, চিঁড়েমাছপ্রোটিন
ডালছানা
সয়াবিনমাংস
তেললিপিডডিম
মাশরুমদুধ
সবজিখনিজ মৌল, তত্ত্বচিংড়ি
ফলভিটামিন, খনিজ মৌললিপিডকাঁকড়া

নীচের খাদ্যতালিকায় কী কী উপাদান থাকতে পারে তাই নিয়ে এসো এবার আলোচনা শুরু করি।

📌 খাদ্য

  • জল ও অন্যান্য তরল
    • গাজর
    • টম্যাটো
    • পাকা আম
  • ফল ও সবজি (A)
    • আপেল
    • কলা
    • বাঁধাকপি
  • ফল ও সবজি (B)
    • পেঁপে
    • পেয়ারা
    • মেটে
  • আমিষ
    • কুচো মাছ
    • সবুজ শাক
  • চর্বি ও দুগ্ধজাত
    • ঘি
    • তেল
    • দুধ
  • আমিষ ও ডাল
    • মাংস
    • মাছ
    • ডিম
    • ডাল
    • সয়াবিন
  • শর্করা
    • রুটি
    • ভাত
    • আলু
    • চিনি

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

খাদ্যগুলোর প্রধান উপাদান কী ধরনের এসো দেখা যাক – (1) শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (2) প্রোটিন (3) লিপিড (4) ভিটামিন (5) জল (6) খনিজ মৌল (7) খাদ্যতত্ত্ব (8) উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক (ফাইটোকেমিক্যাল)। এর কোনো কোনোটা অনেকটা করে খাওয়া হয়। আবার কোনোটা অল্প করে খাওয়া হয়। কোনো কোনো উপাদান আবার দেহের বিশেষ দরকারে লাগে।

কোন খাদ্যে কোন খাদ্য উপাদান থাকতে পারে এসো তার একটি তালিকা তৈরি করি। ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও।

খাদ্য উৎসপ্রধান খাদ্য উপাদান
1. ভাত, রুটি, দুধ, ফল ......শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট
2. মাছ, মাংস, ডিমপ্রোটিন
3. মাখন, তেল, বাদাম, নারকেল, ...লিপিড
4. পানীয় জল, ফল, সবজি .......জল
5. টম্যাটো, আমলকী, আটা, গাজর .......ভিটামিন
6. দুধ, নুন, চাল, গুড়, ডাঁটাশাক, মাংস .......খনিজ মৌল
7. আম, আপেল, ডাঁটাশাক, পেঁপে, ওট .......খাদ্যতত্ত্ব
8. চা, পাকা আম, পাকা পেঁপে ........,উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক/ ফাইটোকেমিক্যাল

একটি খাদ্য থেকে একাধিক খাদ্য উপাদান পাওয়া যেতে পারে। পাকা আমে ভিটামিন, শর্করা, খনিজ মৌল, খাদ্যতত্ত্ব এবং প্রচুর পরিমাণে জলও পাওয়া যায়। এই প্রসঙ্গে পরের পাতার আলোচনাগুলো লক্ষ করো ও নীচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করো।

  • দুধে আর কোন কোন খাদ্য উপাদান থাকতে পারে? প্রোটিন, খনিজ মৌল, শর্করা ......................
  • গমে আর কোন কোন খাদ্য উপাদান থাকতে পারে? খনিজ মৌল, ভিটামিন, প্রোটিন ......................
  • আমলকীতে আর কোন কোন খাদ্য উপাদান থাকতে পারে? ভিটামিন, জল ......................
  • আপেলে আর কোন কোন খাদ্য উপাদান থাকতে পারে? শর্করা, তত্ত্ব, জল ......................
  • মাছে আর কোন কোন খাদ্য উপাদান থাকতে পারে? লিপিড, খনিজ মৌল, ভিটামিন ......................

মানুষের খাদ্য

কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা

Carbohydrate sources collage

ওপরের ছবিগুলোতে বিভিন্ন শর্করা জাতীয় খাদ্য উপাদানের উৎসগুলো দেখো। এর মধ্যে

  • কোন কোন উদ্ভিজ্জ খাদ্য থেকে শর্করা পাওয়া যায়– আলু
  • কোন কোন প্রাণীজ খাদ্য থেকে শর্করা পাওয়া যায়– মেটে,

কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাদ্যদের নীচের শ্রেণিগুলোতে ভাগ করা যেতে পারে – (1) মিষ্টি খাদ্যবস্তু – আখ, মধু, পাকা আম, পাকা কলা, আঙুর, আপেল, ................ (2) দানাশস্য – চাল, গম, জোয়ার, বাজরা, ................ (3) মূল ও কন্দ – বীট, আলু, গাজর, রাঙা আলু, শাঁকালু, ................ (4) সবুজ শাকসবজি – লালশাক, নটেশাক, ................ (5) বিভিন্ন প্রকার ডাল – মুসুর, মুগ, ................ (6) প্রাণীজ খাদ্যবস্তু – মধু, দুধ, ................

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

দেহগঠনের জন্য খাদ্য থেকে যেসব শর্করা আমরা ব্যবহার করি তা প্রধানত দু-ধরনের – গ্লুকোজ এবং স্টার্চ বা শ্বেতসার। অনেক গ্লুকোজ অণু জুড়ে শ্বেতসার তৈরি হয়।

এবার তোমরা জানার চেষ্টা করো কার্বোহাইড্রেটের উৎসরূপে যে খাদ্যগুলোকে আমরা চিহ্নিত করলাম, তাদের ছাড়াও নীচের খাদ্যগুলোতে কার্বোহাইড্রেট আছে কিনা (প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও)।

খাদ্যউপস্থিত/ অনুপস্থিত
1. কুমড়ো
2. কিশমিশ
3. আতা
4. জাম
5. ডিম
6. জিরাউপস্থিত
7. দই
8. কেক
9. ঘি
10. চিঁড়া

এসো এবার মনে করি, আমাদের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কী কী কাজ করে। হাত-পায়ের পেশি কী কাজ করে? হৃৎপিণ্ড কী কাজ করে? ফুসফুস কী কাজ করে? অন্ত্র কী কাজ করে? এইসব কাজ করার শক্তি পাওয়া যায় কোথা থেকে?

কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার (শ্বেতসার) হজম হবার পর যখন সব থেকে ছোটো কণাতে পরিণত হয়, তাই হলো গ্লুকোজ। সেই গ্লুকোজ আবার শরীরের সমস্ত অংশের সীমানায় পৌঁছে যায় রক্তের মাধ্যমে। সেখানে কোশের ভেতর বাতাস থেকে নেওয়া অক্সিজেনের সাহায্যে সেই গ্লুকোজ থেকে তৈরি হয় শক্তি, যা দিয়ে দেহের নানা কাজ হয়।

মানুষের খাদ্য

শর্করা ও দেহের সমস্যা

সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের দেহকোশ গ্লুকোজ থেকে শক্তি তৈরি করে। সেই শক্তি দিয়ে দেহের নানা কাজ হয়। কিন্তু রক্ত থেকে গ্লুকোজ যদি কোশে প্রবেশই না করতে পারে? ওই গ্লুকোজ তখন রক্তে জমে, আর রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়। গ্লুকোজ তখন রক্তের মাধ্যমে ঘুরতে থাকে, যতক্ষণ না তা মূত্রের মাধ্যমে দেহ থেকে বের হয়ে যায়। কোশে গ্লুকোজ ঢুকতে না পারার জন্য দেহের নানা অঙ্গে (হৃৎপিণ্ড, বৃক্ক, চোখ, পা) সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই অবস্থাকে বলা হয় মধুমেহ বা ডায়াবেটিস। আমাদের দেশের অনেক মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। কায়িক পরিশ্রম বাড়িয়ে এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে অনেকক্ষেত্রে এই রোগকে এড়ানো যায়।

কোনো কোনো শিশু কিংবা বয়স্ক ব্যক্তি দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার পর নানা সমস্যায় ভোগেন। দুগ্ধ শর্করা ল্যাকটোজ হজম না করতে পারার জন্য এই সমস্যা।

প্রোটিন

এসো দেখি, কোথায় কোথায় থাকে প্রোটিন। মনে রেখো মানুষের দেহের প্রোটিন দিয়ে তৈরি টেনডনলিগামেন্ট খুব শক্ত দড়ির মতো, টানলে ছেঁড়ে না। আবার মুরগি বা হাঁসের ডিমের সাদা অংশে থাকা প্রোটিন দ্রবণ গরম করলে জমে শক্ত হয়ে যায়।

নীচের ছকে মানুষের দেহে কোথায় কোথায় কী কী প্রোটিন পাওয়া যায় তা দেখি।

🧬 প্রোটিন

  • কেরাটিন থাকে: চুল, নখ
  • অ্যাকটিন, মায়োসিন থাকে: পেশি
  • হিমোগ্লোবিন থাকে: লোহিত রক্তকণিকা
  • গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন থাকে: রক্তের প্লাজমা
  • কোলাজেন থাকে: অস্থি, টেন্ডন, লিগামেন্ট

শক্তি উৎপন্ন করতে, দেহের বিভিন্ন অংশ বা কলা গঠনে, ক্ষত সারাতে, শ্বাসবায়ু পরিবহণে, পেশির সংকোচনে, ভিন্ন ভিন্ন প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেহের রোগ প্রতিরোধেও প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো জায়গা কেটে গেলে, ওই জায়গা থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করতেও রক্তের প্লাজমায় থাকা প্রোটিন সাহায্য করে। আবার অতিরিক্ত প্রোটিন শরীরে জমা হলে বাত, কিডনি স্টোন ও অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি হয়।

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

কোন কোন খাদ্য থেকে আমরা প্রোটিন সংগ্রহ করি তা নীচের ছবিগুলো দেখে তা নিচের তালিকায় লেখো:

Protein sources collage

ওপরের ছবিগুলো দেখে কী সিদ্ধান্তে আসা যায়— (i) কোন কোন উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রোটিন পাওয়া যায়– সয়াবিন, গম, ...................... (ii) কোন কোন প্রাণীজ উৎস থেকে প্রোটিন পাওয়া যায়– মাছ, মাংস, ডিম, ......................

উপরের ছবিগুলো ছাড়া আমাদের খাদ্যতালিকায় এমন কতগুলি খাদ্য আছে যা থেকেও প্রোটিন পাওয়া যায়–

উদ্ভিজ্জ উৎসপ্রাণীজ উৎস
1. চাল, সিম, কাঁঠাল বীজ, ...1. ছানা, পনির, .......
2. বাজরা, ভুট্টা, ........,2. কাঁকড়া, ........
3. রসুন, লবঙ্গ, এলাচ, ধনে, হলুদ, ........3. দুধ, .........

এবার তোমরা জানার চেষ্টা করো প্রোটিনের উৎসরূপে যে খাদ্যগুলোকে আমরা চিহ্নিত করলাম, তাদের ছাড়াও নীচের খাদ্যগুলোতে প্রোটিন আছে কিনা (প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও)।

খাদ্যউপস্থিত/অনুপস্থিত
(1) চাল, গম
(2) ঘি
(3) চিনাবাদাম
(4) তিল
(5) কলা
(6) মাশরুম
(7) সুজি
(8) পিঁপড়ের ডিম

মানুষের খাদ্য

লিপিড

একজন স্থূল বা মোটা মানুষকে লক্ষ করো। দেখো তার দেহের বিশেষ কতগুলো জায়গায় লিপিড প্রচুর পরিমাণে জমা থাকে। এই লিপিডযুক্ত দেহের অংশগুলো হলো–

🚶‍♂️ লিপিড

মানব দেহের যে অংশগুলোতে লিপিড জমা থাকে:

  • ঘাড়ে ও গলায়
  • ওপর হাতে
  • বুকে
  • পেটে
  • ঊরুতে

লিপিড মানুষের দেহে শক্তির উৎসরূপে কাজ করে, দেহকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। দেহের থেকে তাপ বেরিয়ে যাওয়া কমিয়ে দেয়। আবার শরীরে অতিরিক্ত লিপিড জমা হলে হৃৎপিণ্ড, রক্তনালীযকৃতের নানা সমস্যা তৈরি হয়।

কোন কোন খাদ্য থেকে আমরা লিপিড সংগ্রহ করি তা নীচের ছবিগুলোতে দেখো ও লেখো।

Lipid sources collage

উপরের ছবিগুলো ছাড়া আমাদের খাদ্য তালিকায় ব্যবহৃত এমন কতগুলো খাদ্য আছে যা থেকেও লিপিড পাওয়া যায়–

উদ্ভিজ্জ উৎসপ্রাণীজ উৎস
1. নারকেল, কাঁঠাল, ........,1. মাছের তেল, ........
2. ডাল, আটা, ........,2. দুধ, দই, ........
3. গোলমরিচ, জোয়ান, ....3. মাংস, ........

এবার তোমরা জানার চেষ্টা করো লিপিডের উৎসরূপে যে খাদ্যগুলোকে আমরা চিহ্নিত করলাম, তাদের ছাড়াও নীচের খাদ্যগুলোতে লিপিড আছে কিনা (প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও)।

খাদ্যউপস্থিত/অনুপস্থিত
1. ফল ও শাকসবজি
2. দানাশস্য
3. সর ওঠানো দুধ

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

খাদ্য/পানীয়উপস্থিত/অনুপস্থিত
4. পপকর্ন
5. আলু
6. আখের রস
7. লেবু
8. গম, ভুট্টা, চাল
9. মাশরুম
10. মুরগির মাংস
11. খেজুর

ভিটামিন 💊

আজ থেকে 500 বছর আগে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একটা খুব প্রচলিত রোগ ছিল স্কার্ভি। জাহাজের নাবিকদের অনেকেই এই রোগে মারা যেত। তাই জাহাজে কমলালেবু ও অন্যান্য টক জাতীয় ফল নাবিকদের খেতে দেওয়া হতো।

এরকম নানা ঘটনা লক্ষ করে বিংশ শতকের গোড়ার দিকে বিজ্ঞানী কাসিমির ফাংক ও হপকিন্স সিদ্ধান্তে আসেন যে খাদ্যের মধ্যে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিড ছাড়াও 'এমন কোনো' উপাদান আছে যার অভাবে স্কার্ভি বা বেরিবেরির মতো রোগ হয়। এই উপাদানটি হলো ভিটামিন। এদের থেকে শর্করা, প্রোটিন বা লিপিডের মতো শক্তি পাওয়া যায় না।

ভিটামিন দু-ধরনের –

  1. তেলে বা ফ্যাটে গুলে যায় (ফ্যাটে দ্রাব্য) এমন ভিটামিন - A, D, E ও K
  2. জলে গুলে যায় (জলে দ্রাব্য) এমন ভিটামিন – B কমপ্লেক্স, C

A, D, E ও K ভিটামিনগুলো মানুষের দেহে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

ভিটামিনের নামকাজ
Aচোখ, চামড়া, হাড়, দাঁতও খাদ্যনালীর গঠন ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
Dহাড় ও দাঁতের স্বাভাবিক গঠন ঠিক রাখে।
Eত্বক, লোহিত রক্তকণিকা, হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বজায় রাখে।
Kকেটে যাওয়া জায়গা থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করে ।

এখন পরের পাতার খাদ্য উৎসগুলোর ছবি লক্ষ করো এবং জানো এর মধ্যে কোনগুলো A, D, E, K ভিটামিনের উৎস।

মানুষের খাদ্য

ভিটামিন A-র উৎস

Vitamin A sources

ভিটামিন D-র উৎস

Vitamin D sources

ভিটামিন E-র উৎস

Vitamin E sources

ভিটামিন K-র উৎস

Vitamin K sources

উপরের ছবিগুলো ছাড়াও আমরা আরও নানাধরনের খাদ্য খেয়ে থাকি যা থেকেও তেলে বা ফ্যাটে গুলে যায় এমন ভিটামিন পাওয়া যায়। সেগুলো হলো–

উদ্ভিজ্জ উৎসপ্রাণীজ উৎস
পাকা আম, কুমড়ো, ডুমুর, ডাঁটাশাক, জিরা, জোয়ান, জলপাই, ধনেপাতা, নটেশাক, তেল, ডাল,.........মাংস, ঘি, ছানা, কাঁকড়া, .........., .........

নীচের ক্ষেত্রগুলোতে কোন কোন ভিটামিনের সাহায্য নেবে (A, D, E, K)?

সমস্যাভিটামিনের নাম
1. রাতে দেখতে কষ্ট হয়।1. A
2. হাড়গুলো বাঁকা ও মেরুদণ্ড বেঁকে গেছে।2. D
3. ক্ষতস্থানে রক্ত সহজে জমাট বাঁধে না।3. K
  • জলে দ্রাব্য ভিটামিন

এবার এসো দেখি তোমাদের পরিচিত কোন কোন খাদ্য উৎসে জলে দ্রাব্য ভিটামিনগুলো পাওয়া যায়–

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

Water-soluble vitamin sources

ওপরের ছবিগুলো দেখে নীচের ছকটি পূরণ করো। তোমার জানা অন্যান্য খাদ্য উৎসের নাম তালিকায় যোগ করো।

জলে দ্রাব্য ভিটামিনের নামখাদ্য উৎস
1. ভিটামিন Cলেবু জাতীয় ফল, অঙ্কুরিত বীজ, কাঁচালঙ্কা, টম্যাটো, পেয়ারা, .......
2. ভিটামিন B কমপ্লেক্সদানাশস্য, বাঁধাকপি, মুলাশাক, ছোটোমাছ, কাঁচালঙ্কা, দুধ, ........

এবার নীচের সারণির বাম দিকে কতকগুলো উপসর্গ দেওয়া হলো। জলে গুলে যায় এমন কোন ভিটামিনের অভাবে কোন রোগ হয় এসো তা দেখি।

উপসর্গের নামভিটামিনের নাম
1. ঠোঁট ফেটে যাওয়াi. B কমপ্লেক্স
2. চোখের নীচ ও নখ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়াii. B কমপ্লেক্স
3. মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, দাঁত পড়ে যাওয়াiii. C
4. স্নায়ুর দুর্বলতাiv. B কমপ্লেক্স
5. অ্যানিমিয়া, পাতলা পায়খানা, স্মৃতিভ্রংশ হওয়াv. B কমপ্লেক্স

এবার তোমরা জানার চেষ্টা করো ভিটামিনের উৎসরূপে যে খাদ্যগুলোকে আমরা চিহ্নিত করলাম, তাদের ছাড়াও পরের পাতার খাদ্যগুলোতে জলে দ্রাব্য ভিটামিন আছে কিনা (প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও)।

মানুষের খাদ্য

খাদ্যউপস্থিত/অনুপস্থিত
1. রুটি, ভুট্টা
2. পটোল, ঝিঙে
3. কলমিশাক
4. লাউপাতা
5. স্কোয়াশ, পাকা পেঁপে
6. জাম, তরমুজ, শশা
7. আলু
8. ডিমের সাদা অংশ
9. পনির, মেটে

খনিজ মৌল 💎

নীচের ঘটনাগুলো ভাবো ও এর সঙ্গে কোন খাদ্য উপাদান যুক্ত থাকতে পারে বোঝার চেষ্টা করো।

  • নখ চামচ আকৃতির হয়।
  • মাঝেমাঝেই পেশিতে টান ধরে।
  • দেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে বা কমে যায়।
  • জন্মের পর অনেক শিশুর চোখ ট্যারা হয় ও মানসিক বৃদ্ধি ও বুদ্ধির প্রকাশ দেখা যায় না।
  • রক্তে শর্করার পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকে।

এই সমস্যাগুলো কার্বোহাইড্রেট, লিপিড বা প্রোটিনের অভাবে ঘটে না। এই সমস্যাগুলো ফ্যাটে বা জলে গুলে যায় এমন ভিটামিনের অভাবেও ঘটে না। তবে কি এই সমস্যাগুলো অন্য কোনো খাদ্য উপাদানের অভাবে ঘটে? এসো জানা যাক।

এই প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান হলো খনিজ মৌল। এরকম দরকারি খনিজ মৌলগুলো হলো – আয়রন, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম, আয়োডিন ও জিঙ্ক। এছাড়াও শরীর গঠনে অন্যান্য খনিজ মৌলেরও প্রয়োজন হয়। ভিটামিনের মতো খনিজ মৌল থেকেও শক্তি পাওয়া যায় না।

জড় বা সজীব উপাদান থেকে খাদ্য উপাদান খনিজ মৌল পাওয়া যায়।

  • উদ্ভিদ প্রধানত মাটি বা মাটির নীচে থাকা জল থেকে খনিজ মৌল সংগ্রহ করে।
  • প্রাণীরা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ খাদ্য, প্রাণীজ খাদ্য বা জল থেকে খনিজ পদার্থগুলো সংগ্রহ করে।

পরের পাতার মানবদেহের কাজগুলোর সঙ্গে কি তোমার পরিচিতি আছে? না থাকলে পরিচিত হওয়ার ও বোঝার চেষ্টা করো। শরীরের এই কাজগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন খনিজ মৌল সম্পর্কযুক্ত। ডানদিকে মৌলগুলোর নাম আর বাঁদিকে ওই মৌলগুলোর কাজ দেওয়া হলো।

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

খনিজ মৌলের কাজগুলো কী কী?

কাজখনিজ মৌলের নাম
• দেহে জলের পরিমাণ নির্দিষ্ট রাখাসোডিয়াম
• পেশি সংকোচন স্বাভাবিক রাখাক্যালশিয়াম
• কোনো কাটা জায়গা দিয়ে রক্ত বেরোতে শুরু করলে রক্তকে জমাট বাঁধতে সাহায্য করাক্যালশিয়াম
• অক্সিজেন পরিবহণ করাআয়রন
• দাঁত ও হাড় গঠন করাক্যালশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম
• মানসিক বৃদ্ধি ও বুদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করাআয়োডিন
• মস্তিষ্কের গঠন ও রক্তের শর্করার পরিমাণ ঠিক রাখাজিঙ্ক

নীচে বিভিন্ন খাদ্যের ছবি দেওয়া হলো। এবার পরিচিত হও কোন খাদ্য থেকে আমরা কোন খনিজ মৌল পেয়ে থাকি। তোমার জানা অন্যান্য খাদ্য উৎসের নাম তালিকায় যোগ করো।

Mineral sources collage

মানুষের খাদ্য

খনিজ মৌলের নামপানীয় / খাদ্য উৎসের নাম
1. ক্যালশিয়াম, ফসফরাসদুধ, ডিম, চিংড়ি, পাকা পেঁপে, পটোল, ............
2. ম্যাগনেশিয়ামশাকসবজি, ............
3. আয়রনযকৃৎ, চিংড়ি মাছ, আমলকী, শশা, চিচিঙ্গে, ........
4. সোডিয়ামনুন, পানীয় জল, ............
5. আয়োডিননুন, ............
6. জিঙ্কশাকসবজি, ............

মানুষের দেহে খনিজ মৌলের অভাবে কতকগুলো সমস্যা তৈরি হয়। এসো জানি কোন খনিজ মৌলের সঙ্গে কোন রোগের সম্পর্ক আছে।

রোগরোগ সম্পর্কিত খনিজ মৌল
1. উচ্চ রক্তচাপসোডিয়াম
2. অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা, চামচ আকৃতির নখআয়রন
3. গলগণ্ড বা গয়টারআয়োডিন
4. বারবার হাড় ভেঙে যাওয়া, বেঁকে যাওয়া, হাড় ফুটো ফুটো হওয়া, দাঁতের সমস্যাক্যালশিয়াম, ফসফরাস
5. রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাওয়াজিঙ্ক

জল 💧

(i) কোন খাদ্য উপাদানকে আমরা তরলরূপে গ্রহণ করি? ............ (ii) যে-কোনো জীবদেহ গঠনের একটি প্রধান উপাদান হলো জল। একজন মানুষের ওজন 7070 কেজি হলে দেহে জল থাকে প্রায় 4545 কেজি। ওই পরিমাণ জলকে শতাংশের হিসাবে প্রকাশ করো।

  • দেহে ব্যবহৃত জল আমরা কোথা থেকে পাই – (i) পানীয় জলের মাধ্যমে, (ii) ফলের রস থেকে (তরমুজ,............, ..........) (iii) বিভিন্ন খাদ্য থেকে (ভাত,........................ (iv) বিভিন্ন তরল পানীয় থেকে (ডাবের জল, ............, ...........)।
  • কোন কোন অবস্থায় দেহে জলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়? (i) অনেকটা ঘাম অথবা বারবার পাতলা পায়খানা হলে। (ii) ............

কী ঘটনা ঘটতে পারে :

  1. তুমি যদি পানীয় জলের পরিবর্তে সমুদ্রের জল ক্রমাগত পান করতে থাকো।
  2. তুমি নুন মাখানো বিস্কুট, বাদাম বা কাঁচা আমের টুকরো খাও।

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

খাদ্যতত্ত্ব

আমরা যে খাদ্য প্রতিদিন গ্রহণ করি তার কী পরিণতি হয় খাদ্যনালীতে?

খাদ্য হজম হয়। হজম হওয়া খাদ্যের শোষণ হয়। যে খাদ্য হজম হয় না তা মল হয়ে দেহ থেকে বেরিয়ে যায়।

মলের মধ্যে তন্তু থাকে যা খাদ্যনালীতে কোনোভাবেই হজম করা যায় না। তন্তু এক ধরনের সেলুলোজ বা পেকটিন জাতীয় কার্বোহাইড্রেট। এটি জলে গুলে যেতেও পারে। আবার নাও যেতে পারে। মানুষের দেহ এদের ভেঙে শক্তি উৎপন্ন করতে পারে না। নীচের খাবারগুলোতে বেশি পরিমাণে তন্তু থাকে।

(i) সজনে ডাঁটা, (ii) বাঁধাকপি, (iii) চাল, (iv) আপেল, (v) বীজের খোসা, (vi) ওট।

Assortment of fiber-rich foods

শিক্ষক/শিক্ষিকার সঙ্গে আলোচনা করে তন্তুজাতীয় খাদ্য উপাদানের আরো কয়েকটি উৎস জানার চেষ্টা করো।

(i) .........., (ii) .........., (iii) .........., (iv) .........., (v) ..........

তন্তুসসৃদ্ধ খাদ্য খেলে কতকগুলো রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় – উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলত্ব, অন্ত্রের ক্যানসার ও কোষ্ঠকাঠিন্য।

ফাইটোকেমিক্যালস বা উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক

তুমি নীচের নানা রঙের খাদ্যগুলোকে ছবি দেখে চেনার চেষ্টা করো।

Colorful fruits and vegetables

(i) ............, (ii) ............, (iii) ............, (iv) ............, (v) ............, (vi) ............, (vii) ............, (viii) ............, (ix) ............, (x) বিট, (xi) চা, (xii) ..........

160


মানুষের খাদ্য

আগের পাতার খাদ্যগুলো প্রত্যেকটি রঙিন। এদের মধ্যে নানা রঙের উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক যৌগ থাকে। যেমন – ক্যারোটিনয়েডস বা ফ্ল্যাভোনয়েডস। এরা মানবদেহের খুব তাড়াতাড়ি বুড়ো হয়ে যাওয়া আটকায়। হৃৎপিণ্ডের কাজ ঠিকঠাক রাখে। আর হাড়কে শক্ত রাখে। ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।

ওপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি- খাদ্য উপাদানগুলো নীচের বিভিন্ন খাদ্যের শ্রেণিবিভাগের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে।

খাদ্যের শ্রেণিবিভিন্ন প্রকার খাদ্যখাদ্য উপাদান
1. দানাশস্য ও তা থেকে উৎপন্ন খাদ্যচাল,......, গম,..., ভুট্রা, ...কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ........
2. ডাল ও শুঁটি জাতীয় খাদ্যমুগ, ......., সয়াবিন, ..........প্রোটিন, ভিটামিন, ......
3. দুধ, মাছ, ডিম ও মাংস জাতীয় খাদ্যদুধ, দই, ......., মাখন তোলা দুধ, ......... ........প্রোটিন, খনিজ মৌল, ........
4. শাকসবজি ও ফলমূলআম, পেঁপে, পালং, ........, .....ভিটামিন, তন্তু, ........ ........
5. মিষ্টি ও তেলআখ, সরষের তেল, ........, ......... ......... .........কার্বোহাইড্রেট, লিপিড ......

কোন কোন খাদ্য উপাদানগুলো তোমাদের অবশ্যই খেতে হবে যদি তোমরা সুস্থ থাকতে চাও?

.................................................................

কোন খাদ্য উপাদানগুলো কোন কোন খাদ্য থেকে পাবে, তাদের নাম নীচের সারণিতে লেখো :

খাদ্য উপাদানখাদ্যের নাম
1.
2.
3.
4.
5.
6.
7.
8.

পরের পৃষ্ঠায় লেখা মানুষের যে যে শারীরিক সমস্যা আছে, তা এড়াতে কোন কোন খাদ্য খাওয়া উচিত তা ছকে লেখো।

161


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

শারীরিক সমস্যাকোন খাদ্য খাবেতা থেকে কোন খাদ্য উপাদান পাবে
মাড়ি ফুলে রক্ত ঝরছে
দেহে রক্তাল্পতা হয়েছে
হাড়গুলো দুর্বল, বাঁকা
কোষ্ঠকাঠিন্য
রাতে কম দেখতে পাচ্ছে
মুখে আর জিভে ঘা
চামড়া কুঁচকে গেছে
রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে গেছে

নীচে তিনদিনের খাদ্যতালিকা দেখো। কোনো খাদ্য উপাদানের অভাব ঘটলে তা চিহ্নিত করো।

1 নং তালিকা—

প্রথম দিনদ্বিতীয় দিনতৃতীয় দিন
খাদ্যরুটি, গুড়, ভাত, ডাল, তরকারি, মুড়ি, মাছের ঝোল, জলপাঁউরুটি, ডিমসেদ্ধ, কলা, ভাত, মাখন, তরকারি, আমের চাটনি, জলভাত, মাছের ঝোল, শাক, মিষ্টি, শশা, আলুসেদ্ধ

2 নং তালিকা—

প্রথম দিনদ্বিতীয় দিনতৃতীয় দিন
খাদ্যএগরোল, চকোলেট, রুটি, ঘি, ডাল, আলুভাজা, সবজিপাঁউরুটি, কুকিজ, পেস্ট্রি, পরোটা, মাংস, হালকা পানীয়, ডিমভাত, দুধ, সবজি, ফল, কেক, কুমড়ো সেদ্ধ, পেস্ট্রি

দেহ সুস্থ রাখতে গেলে, নামিদামি কোন কোন খাবারের বদলে আর কী কী খেতে পারো?

  • আপেলের বদলে ..............................। (পাকা পেঁপে/পাকা পেয়ারা/পাকা আমড়া/পাকা কুল)
  • মাংস বা ডিমের বদলে ..............................। (ডাল/সিম/ছোলা বা মটর/মাশরুম/সয়াবিন)
  • দুধ, ছানা আর হেলথ ড্রিঙ্কের বদলে ..............................। (ছাতুর শরবত/লেবুর জল/বেলের শরবত/চিনির শরবত)।
  • আয়রন টনিকের বদলে .............................. (নটেশাক/কাঁচা পেয়ারা/সজনে পাতা/কচুশাক)

পরের পৃষ্ঠায় কতকগুলো খাদ্যের নাম দেওয়া আছে। এগুলো থেকে তুমি কোন কোন খাদ্য উপাদান পেতে পারো (প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও)।

162


মানুষের খাদ্য

  1. পাকা আম : খাদ্যতন্তু, .................................... |
  2. দুধ : প্রোটিন, .................................... |
  3. বাদাম : লিপিড, .................................... |
  4. ডিম : খনিজ মৌল, .................................... |
  5. পেয়ারা : ভিটামিন, .................................... |
  6. দই : ভিটামিন, .................................... |
  7. টম্যাটো : উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক, .................................... |
  8. চাল : কার্বোহাইড্রেট, .................................... |
  9. পালংশাক : ভিটামিন, .................................... |
  10. আমলকী : খনিজ মৌল, .................................... |

Various food items: fish, green fruit, bitter gourd, garlic, kidney beans, jackfruit, radish, raisins

ওপরের খাদ্যগুলো চিহ্নিত করো। ওই খাদ্যগুলোতে কোন কোন খাদ্য উপাদান পাওয়া যেতে পারে তা লেখো।

  1. : ............................................ |
  2. : ............................................ |
  3. : ............................................ |
  4. : ............................................ |
  5. : ............................................ |
  6. : ............................................ |
  7. : ............................................ |
  8. : ............................................ |

163


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

অপুষ্টি ও স্থূলত্ব

নীচের ছবিগুলোকে লক্ষ করো ও সমস্যাগুলো জানো।

  1. গয়টার
  2. অ্যানিমিয়া
  3. ট্যারা চোখ
  4. অন্ধত্ব
  5. ম্যারাসমাস

Children and adults with various health issues: goiter, anemia, squint, blindness, marasmus

ওপরের অসুস্থ ব্যক্তি ও শিশুদের দেহে এই সমস্যাগুলি দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যে এক বা একাধিক অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের গুণগত বা পরিমাণগত অভাবে ঘটতে পারে।

ছবির প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুগুলি নানা রোগে আক্রান্ত। রোগের মূল কারণ অপুষ্টি। অপুষ্টিজনিত সমস্যাগুলি হলো-

  • আয়োডিনের অভাব (গয়টার)।
  • আয়রনের অভাব (অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা)।
  • আয়োডিনের অভাব (ট্যারা চোখ)।
  • ভিটামিন A এর অভাব (অন্ধত্ব)।
  • প্রোটিন ও শক্তির অভাব (ম্যারাসমাস)।

রক্তাল্পতা: নানা কারণে রক্তে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বা লোহিত রক্ত কণিকায় থাকা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যেতে পারে। হিমোগ্লোবিন কোশে কোশে অক্সিজেন সরবরাহ করে। হিমোগ্লোবিন কম থাকলে কোশগুলোর শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া বাধা পায়। সামগ্রিকভাবে মানুষটি দুর্বল হয়ে পড়েন। এটাই রক্তাল্পতা। রক্তাল্পতা নানা কারণে হতে পারে। যেমন- অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, জীবাণুর সংক্রমণ, হিমোগ্লোবিন বা লোহিত রক্ত কণিকা সংশ্লেষের উপাদানের অভাব (হিমোগ্লোবিনের ক্ষেত্রে আয়রন আর লোহিত রক্ত কণিকার ক্ষেত্রে ভিটামিন B2B_2)।

খাদ্যে শক্তি উৎপাদক খাদ্য উপাদানগুলোর অভাব ঘটলে অপুষ্টির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। খাদ্যের শক্তি উৎপাদক উপাদানগুলো হলো কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিড। এছাড়া শক্তি উৎপাদক নয় এমন খাদ্য উপাদানের (ভিটামিন ও খনিজলবণ) অভাবেও অপুষ্টিজনিত নানা সমস্যা দেখা যায়। কৃমির সমস্যা থাকলেও অপুষ্টি হতে পারে। অপুষ্টিতে ভুগতে থাকা শিশুদের খাদ্যতালিকায় কোন কোন উপাদান তুমি যোগ করবে?

(1) কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাদ্য: .................. (2) প্রোটিনযুক্ত খাদ্য: .................. (3) লিপিডযুক্ত খাদ্য: .................. (4) ভিটামিনযুক্ত খাদ্য: .................. (5) খনিজ মৌলযুক্ত খাদ্য: ..................

164


মানুষের খাদ্য

অপুষ্টির ফলে শিশুর দেহে কী কী উপসর্গ দেখা যায়?

পাশের ছবিতে শিশুটিকে লক্ষ করো। দেখে শিশুটির উপসর্গগুলো নীচে লেখো।

Child suffering from marasmus

  • দেহের .............................. গুলির খুব বেশি ক্ষয় হয়েছে।
  • বাইরে থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়।
  • জায়গায় জায়গায় কোঁচকানো।
  • হাত, পাগুলো খুব ..........।

শব্দভান্ডার : সরু, পেশি, হাড়, চামড়া

শিশুদের এই অপুষ্টিজনিত রোগটি হলো ম্যারাসমাস। খাদ্যে প্রোটিন ও শক্তি উভয়ের অভাব ঘটলে এই রোগ হয়। এক বছরের কম বয়স্ক শিশুদের মধ্যে সাধারণত এই রোগ দেখা যায়।

পাশের ছবিটি লক্ষ করো। শিশুটির চামড়া গাঢ় বর্ণের ও পেট ফোলা। দেখে মনে হয় যেন চোখগুলো ঠিকরে বেরিয়ে আসছে। খাদ্যে উপযুক্ত পরিমাণ প্রোটিনের অভাব ঘটলে 1-4 বছর বয়স্ক শিশুদের যে অপুষ্টিজনিত রোগ দেখা যায় তাহলো কোয়াশিওরকর

Child suffering from kwashiorkor

এই ধরনের শিশুদের সুস্থ করতে তুমি কোন কোন খাদ্য নির্বাচন করলে তার তালিকা তৈরি করো।

  1. ....................
  2. ....................
  3. ....................

ম্যারাসমাস ও কোয়াশিওরকর ছাড়াও শিশুদের অপর কিছু প্রধান অপুষ্টিজনিত সমস্যা হলো :

  1. আয়রনের অভাবজনিত রোগ – অ্যানিমিয়া, চামচ আকৃতির নখ
  2. আয়োডিনের অভাবজনিত রোগ – গয়টার, জড়বুদ্ধি, ট্যারা চোখ
  3. ভিটামিন D এর অভাবজনিত রোগ– রিকেট
  4. ভিটামিন B কমপ্লেক্স এর অভাবজনিত রোগ– বেরিবেরি
  5. ভিটামিন A এর অভাবজনিত রোগ– অন্ধত্ব

কী করে সারানো যায় এই অসুখ?

  • লৌহসমৃদ্ধ খাদ্যগ্রহণ (পেয়ারা, আম, আটা, চিঁড়া, গুড়, কিশমিশ, গোলমরিচ, জোয়ান, জিরা, তিল, কচু, নটেশাক, ধনেপাতা, পালংশাক, পেঁয়াজকলি, কলমিশাক, মুলাশাক..................)
  • আয়োডিনসমৃদ্ধ খাদ্যগ্রহণ (আয়োডিনযুক্ত খাদ্যলবণ ..........................)
  • ভিটামিন B কমপ্লেক্স যুক্ত খাদ্যগ্রহণ (ঢেঁকিছাঁটা চাল. সবুজ শাকসবজি, ..........................)
  • ভিটামিন D যুক্ত খাদ্যগ্রহণ (দুধ,..................................)
  • ভিটামিন A যুক্ত খাদ্যগ্রহণ (পাকা আম, কমলালেবু, গাজর, কুল, কাঁঠাল, ছানা, ডিম, ধনেপাতা, নটেশাক, মুলোশাক ..........................................)

165


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

নীচের উপসর্গগুলি নানা খাদ্য উপাদানের অভাবে ঘটে। কোন কোন খাদ্য খেলে এই সমস্যাগুলির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় তা নীচের তালিকায় লেখো।

উপসর্গের নামকোন খাদ্য উপাদানের অভাবে ঘটেকোন খাদ্যে ওই খাদ্য উপাদান পাওয়া যায়
হাত পা বাঁকাভিটামিন D
চোখের মণিতে সাদা দাগভিটামিন A
পেছনের সারি থেকে ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা পড়তে পারে নাভিটামিন A
জিভে, মুখের কোণে ঘা, মাড়ি ফোলাভিটামিন B কমপ্লেক্স
ফোলা মুখপ্রোটিন
ভাঙা নখক্যালশিয়াম
খসখসে চামড়াভিটামিন A

এতক্ষণ আমরা অপুষ্টির জন্য কী কী অসুখ হতে পারে জানলাম। এবার আমরা জানাব টিটু, জনদের সমস্যা।

মিমোর খাদ্যাভ্যাসটিটুর খাদ্যাভ্যাসজনের খাদ্যাভ্যাস
1. ভাত বা রুটি1. ভাত বা পরোটা1. রুটি
2. ডাল2. সবজি2. মাংস
3. শাক3. দুধ3. ফ্রাই
4. সবজি4. আইসক্রিম
5. ফল4. তেল5. রোস্ট
6. দুধ5. পাঁঠার মাংস6. কেক ও ডিম
7. তেল6. পেস্ট্রি7. চিনি
৪. মাছ, মাংস বা ডিম7. কুকিজ৪. বার্গার
৪. কোল্ড ড্রিংকস9. হালকা পানীয়
9. গুড় বা চিনি10. ফ্রুট জুস

টিটু এবং জনের ওজন স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি। বয়স ও উচ্চতার তুলনায় একজন ব্যক্তির যে ওজন হওয়া উচিত তার 20% বেশি হলে যে ওই ব্যক্তিকে স্থূল বা মোটা বলে ধরা হয়।

টিটু ও জনের স্থূলত্বের কারণগুলো কী কী?

টিটু ও জন প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত লিপিড/শর্করা/ প্রোটিন বেশি গ্রহণ করে।

টিটু ও জন পরিশ্রমের তুলনায় কম/বেশি খাদ্যগ্রহণ করে।

166


মানুষের খাদ্য

টিটু ও জনের এই ওজন বেড়ে যাওয়ায় ফলে কী কী সমস্যা হতে পারে?

Obese person

  • রক্তচাপ ক্রমাগত বাড়তে পারে।
  • রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস হতে পারে।
  • রক্তনালীর গায়ে লিপিড জমে রক্তনালীর ব্যাস কমে যেতে পারে। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের নানা সমস্যা হতে পারে।
  • অস্থিসন্ধিতে ব্যথা ও ক্যানসার হতে পারে।

এছাড়াও স্থূলত্বের ফলে আর কী কী সমস্যা হতে পারে তা নিজেরা আলোচনা করে তালিকা তৈরি করো।

  1. .................................
  2. .................................
  3. .................................
  4. .................................
  5. .................................

কোন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করলে স্থূলত্বের প্রবণতা রোধ করা যায় তার তালিকা তৈরি করো (টিক দাও)।

  1. .................................
  2. .................................
  3. .................................
  4. .................................
  5. .................................

শব্দভাণ্ডার : সিদ্ধ, তেলমশলাহীন, হালকা পানীয়, আলুভাজা, তেলযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুম, চকোলেট, ঘি, মাখন, ফল, সবজি, ডাল, রুটি, পাঁঠার মাংস, পেস্ট্রি, বার্গার, ছোটো মাছ, তন্তুতুক্ত খাদ্য, কাবাব।

এবার নীচে বিভিন্ন শিশুর বা ব্যক্তির ওজন ও উচ্চতা দেওয়া হলো। এর ভিত্তিতে BMI এর মান গণনা করো। তারপর শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্যে বলার চেষ্টা করো কোন কোন ক্ষেত্রে স্থূলত্বজনিত সমস্যার সম্ভাবনা হতে পারে।

BMI 18.5 – 25: স্বাভাবিক ওজন; BMI 25 – 30: বেশি ওজন; BMI 30 – 40 : স্থূলত্ব

ওজন (kg)উচ্চতা (m)BMI (ওজন/উচ্চতা2^2)স্থূলত্বের সম্ভাবনা (আছে/নেই)কী কী উপসর্গ দেখা যায়
621.57
661.50
721.59
381.62
751.60
711.58
721.67

167


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

প্রাকৃতিক খাদ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সংশ্লেষিত খাদ্য

গাছের খাবার, ঘরে তৈরি খাবার আর কারখানায় তৈরি খাবার

আমরা অনেকেই গাছের পাকা ফল খেতে ভালোবাসি আবার অনেকেই পপকর্ন, কোল্ড ড্রিঙ্কস, পট্যাটো চিপস খেতে ভালোবাসেন।

Mango, popcorn, and a soft drink bottle

এক-একজনের এক-একরকম খাবার খেতে ভালো লাগে। জানো কি, ওইসব চিপস আর ড্রিঙ্কস কী কী দিয়ে তৈরি হয়? চলো দেখি।

জোগাড় করো একটা আম (নইলে অন্য যে-কোনো ফল), জ্যাম বা জেলির একটা বোতল (খালি নয়তো ভরতি, তোমার যেমন ইচ্ছে), আর জোগাড় করো কমলালেবুর গন্ধওয়ালা কোনো কোল্ড ড্রিঙ্কসের একটা বোতল (দুটো বোতলেরই লেবেলটা যেন ঠিক থাকে)।

আগে দেখে নিই, কোনটা কোথা থেকে পেলে। দরকারে কারো কাছে জিজ্ঞাসা করে নাও।

কোথা থেকে পেলে
আম (বা অন্য ফল)
জ্যাম বা জেলি
কোল্ড ড্রিঙ্কস
  • ফলটা যেমনটি গাছে ফলে, তেমনটিই তুমি খাও। আর কী কী তুমি খাও এমন চার-পাঁচটি খাবারের নাম লেখো তো।
  • তুমি রোজ দুপুরে বা রাতে যা যা খাও, তা যেমনটি গাছে ফলে তেমনটি খাও না। সেই খাবারগুলো কী ভাবে বানানো হয়? সেইরকম কয়েকটি খাবারের নাম লেখো।
  • জ্যাম আর কোল্ডড্রিঙ্কস? এসো ভালো করে দেখি।
ফলজ্যাম, জেলি, আচারঠান্ডা পানীয়
আকার, স্বাদ, গন্ধ আর রং গাছে যেমনটি ফলে, তেমনটিই কি থাকে?
কী কী দিয়ে তৈরি হয়? (বোতলের গায়ে লেখা আছে দেখো)
কোথায় তৈরি হয়? (এটাও বোতলের গায়ে লেখা আছে দেখো)

168


মানুষের খাদ্য

তোমরা প্রতিদিন নানাধরনের খাদ্য খাও। এবার তোমাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নীচের তালিকাটি পূরণ করো।

খাবারের আকৃতি, স্বাদ, গন্ধ ও রংপ্রতিদিনের খাবারএর মধ্যে কী জিনিস আছেএরকম আরো কয়েকটি খাবারের নাম
প্রাকৃতিক
সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক থেকে একটু আলাদা
স্বাভাবিক থেকে একদম আলাদা

তাহলে দেখো :

প্রাকৃতিক খাবারের পুষ্টিগুণ সবচেয়ে বেশি, দাম তুলনায় কম। প্রক্রিয়াজাত খাবারের পুষ্টিগুণ তুলনায় কম, দাম কিছু বেশি। আর কৃত্রিম বা সংশ্লেষিত খাবারের পুষ্টিগুণ প্রায় নেই, অথচ দাম অনেক বেশি। তা বলে কি এই সব খাবার সবটাই ভালো?

প্রাকৃতিক খাদ্য: সরাসরি প্রকৃতি থেকে পাওয়া খাবার। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য: এই ধরনের খাবার তৈরি করতে প্রকৃতি থেকে পাওয়া বিভিন্ন খাদ্য উপাদানদের নানা রকম প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লেষিত খাদ্য: এই ধরনের খাবারের উপাদানগুলো সম্পূর্ণ কৃত্রিম। কিন্তু তৈরি খাবারটার রং, স্বাদ, গন্ধ ইত্যাদি অনেকটাই প্রাকৃতিক খাবারের মতো হয়।

এসো দেখি নীচের খাবারগুলোতে নানা ধরনের ক্ষতিকারক পদার্থ (কৃত্রিম রং, গন্ধ ও স্বাদ) মেশানো হয় যা মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয়।

খাদ্যকী কী মিশে থাকতে পারে
হলুদ মিষ্টি ও সস্তা বিরিয়ানিতেমেটানিল ইয়েলো
চকোলেট, পেস্ট আর কোলা ড্রিঙ্কসবাদামি রং হিসেবে ক্যারামেল
পট্যাটো চিপস, ভুট্টার খইট্রান্স ফ্যাট
মোমো, চাউমিনআজিনোমোটো
আইসক্রিমকারাজিনান, ব্রোমিনেটেড ভেজিটেবল অয়েল
চা, কফি আর নানা ফলের স্বাদের রসেসাইক্লামেট, অ্যাস্পার্টেম, স্যাকারিন

এছাড়া আরও কত রয়েছে। এইসব প্রক্রিয়াজাত আর কৃত্রিম খাবার খেলে যত ইচ্ছে তত খাওয়া ঠিক নয়। এগুলো বেশি খেলে আমাদের নানারকম শারীরিক অসুবিধা বা হৃৎপিণ্ড, যকৃৎ,বৃক্ক, হাড় ও মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। শরীর ভালো রাখতে হলে হলুদ, গোলাপি বা উজ্জ্বল লাল রং-মেশানো খাবার না খাওয়াই ভালো। এধরনের খাবার আমাদের না খেলেও চলে।

169


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

এসো নিজেরা একটা ছক বানাই, কোন খাবার আমরা কতটা (কম না বেশি) খাব:

রোজ সকালে কী কী খেতে পারি?
রোজ দুপুরে কী কী খেতে পারি?
রোজ বিকেলে কী কী খেতে পারি?
রোজ রাত্রে কী কী খেতে পারি?
বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে মাঝে মধ্যে কী কী খেতে পারি?
রোগ এড়িয়ে চলতে গেলে কোন কোন খাবার না খাওয়াই উচিত?

ভাত, মুড়ি, চিঁড়ে, লুচি, দই, ঘোল, ছানা, পনির, এগরোেল, আলুর চপ - এগুলোর কোনগুলো প্রাকৃতিক, প্রক্রিয়াজাত বা কৃত্রিম তা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করো।

নীচের ছবিগুলো থেকে প্রাকৃতিক, প্রক্রিয়াজাত ও সংশ্লেষিত খাদ্যগুলো শনাক্ত করো ।

Assortment of natural, processed, and artificial foods

170


মানুষের খাদ্য

জীবনে জলের ভূমিকা

জল দিয়ে আমরা কী করি বলো তো? জল অন্যান্য জীবেরও বা কি কাজে লাগে?

Various uses of water by humans and animals

ওপরের ছবিগুলো থেকে মানুষ ও বিভিন্ন জীবের জীবনে জলের ভূমিকাগুলো লিখে ফেলো।

  1. .............................
  2. .............................
  3. .............................
  4. .............................
  5. .............................
  6. .............................
  7. .............................
  8. .............................
  9. .............................

পৃথিবীতে এত জল কোথায় কোথায় থাকে ?

Pie charts showing global water distribution

মোট জল

মিষ্টি জল কোথায় কত

ভূ-পৃষ্ঠীয় জল কোথায় কত

171


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করে কোনটার শতকরা পরিমাণ কত বলো। (না জানলে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও)।

সমুদ্রের জলমিষ্টি জলপানীয় জল

আমরা খাবার জল কোথা কোথা থেকে পাই?

  1. ............
  2. ............
  3. ............
  4. ............
  5. ............
  6. ............

বলো তো, কুয়ো ও টিউবওয়েলের জল আসে কোথা থেকে? ছবিটা দেখে ভেবে বলো। (না পারলে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও)।

Hand pump

এসো জলের পরিমাণ সংক্রান্ত কতকগুলো বিষয় জানি।

পৃথিবীর মিষ্টি জলের হিসেবনিকেশঃ

  • পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রায় 75% জলে ঢাকা। এর প্রায় 97% সমুদ্রের জল। প্রায় 3% মিষ্টি জল।
  • এই মিষ্টি জলের প্রায় 34\frac{3}{4} অংশ মেরু অঞ্চল, পর্বতশীর্ষের বরফ ও হিমবাহের অংশ হিসেবে সঞ্চিত আছে। বাকি জল মাটির নীচে ও অন্যান্য জায়গায় নানারূপে সঞ্চিত আছে।
  • যদিও পৃথিবীর প্রায় 34\frac{3}{4} ভাগ জলে ঢাকা, কিন্তু এই জলের 0.37% অংশ জলই পান করার উপযোগী।

তোমরা বন্ধুরা কতজন কোন কোন উৎস থেকে জল ব্যবহার করো, ওই জলের রং, গন্ধ আর স্বাদ কেমন, আর কী কী কাজে তা ব্যবহার করো লেখো।

উৎসরংগন্ধস্বাদকতজন ব্যবহার করোকী কাজে ব্যবহার করো
পুকুর
নদী
ঝরনা
কুয়ো
টিউবওয়েল
টাইমকল
নিজেদের পাম্প

172


মানুষের খাদ্য

গত কয়েক মাসে তোমাদের কার কী পেটের রোেগ আর চামড়ার রোগ হয়েছে সবাই আলোচনা করে লেখো :

রোগকজনের হয়েছেতারা কোন উৎসের জল খায়
পেট খারাপ
পেট ব্যথা
কৃমি
জন্ডিস
পাঁচড়া

দূষিত জল থেকে নানা রোগ হতে পারে। জলকে পরিষ্কার করব কীভাবে?

এসো সকলে মিলে আলোচনা করে দেখি, নীচের জিনিসগুলো ব্যবহার করে কীভাবে জলকে পরিষ্কার করা যায়। তুমি এই কাজে ছবিতে দেওয়া জিনিসগুলো থেকে এক বা একাধিক উপকরণ একেকবারে ব্যবহার করতে পারো। এই উপকরণগুলো ব্যবহার করে কতরকমভাবে জলকে পরিষ্কার করা যায়?

Different methods of water purification

কী কী উপকরণ ব্যবহার করা যায়কীভাবে বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জল তৈরি করা যায়
হাঁড়ি, উনুন, কাপড়জলের উৎস থেকে পাওয়া জল অন্তত 20 মিনিট ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে নিতে হবে।
ফিল্টার যন্ত্র
হাঁড়ি, হ্যালোজেন ট্যাবলেটখুব তাড়াতাড়ি জলকে জীবাণুমুক্ত করতে হলে হ্যালোজেন ট্যাবলেট দিয়ে জল শোধন করা হয়।

173


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

সাগর-মহাসাগর পৃথিবীর ওপরকার প্রায় 34\frac{3}{4} অংশ দখল করে আছে। তেমনি মানুষের শরীরের ওজনের প্রায় 70% শুধু জল। গাছের শরীরে জন্তুজানোয়ারের তুলনায় জলের ভাগ বেশি। ওজন হিসেবে জেলিফিসে জলের পরিমাণ 95%, ডিমে 74%। আবার শশাতে ওজন হিসেবে জলের পরিমাণ 95%। কাঠের মধ্যে জলের পরিমাণ প্রায় 10%।

Jellyfish, cucumber, egg, wood, and a boy representing human body's water content

এবার এসো দেখি মানুষের শরীরে কোন কোন পদার্থ তরলরূপে থাকে।

প্রথমে লেখো তোমার দেহে জল কোথায় কোথায় থাকে?

  1. রক্ত ..........................
  2. ..........................
  3. ..........................
  4. ..........................
  5. ..........................
  6. ..........................

তারপর লেখো তোমার দেহ থেকে জল কীভাবে বেরিয়ে যায়?

  1. ঘাম ..........................
  2. ..........................
  3. ..........................
  4. ..........................

আবার মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গে ও তরল পদার্থে প্রচুর পরিমাণে জল থাকে।

অঙ্গের / তরল পদার্থের নামওজন হিসেবে জলের পরিমাণ (%)
ফুসফুস83
মস্তিষ্ক (মগজ)73
যকৃৎ (মেটে)85
অস্থি (হাড়)31
পেশি (মাংস)75
ত্বক (চামড়া)64
হৃৎপিণ্ড73
বৃক্ক83
রক্ত90
লালা95

174


মানুষের খাদ্য

আগের পাতার ছক থেকে মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ/তরলকে জলের পরিমাণের অধঃক্রম অনুসারে সাজাও:

  1. .............................
  2. .............................
  3. .............................
  4. .............................
  5. .............................

মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গে জল কীভাবে অবস্থান করে তা নীচে দেওয়া আছে। কোন অঙ্গে তা কীভাবে আছে, তা নিয়ে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নীচের ছকে লেখার চেষ্টা করো :

অঙ্গের নামজল কী হিসাবে থাকে
(1) মুখবিবর
(2) যকৃৎ
(3) রক্তনালী/হৃৎপিণ্ড
(4) মূত্রথলি
(5) চোখ
(6) ত্বক
(7) মস্তিষ্ক
(৪) অস্থিসন্ধি

শব্দভাণ্ডার : পিচ্ছিল রস, ঘাম, অশ্রু, রক্ত, পিত্ত, লালা, মূত্র, সেরিব্রোস্পাইনাল তরল।

এবার একটা একটা করে নীচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবার চেষ্টা করো। না পারলে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও। আর সবচেয়ে নীচে জলের কাজগুলো একটা একটা করে লেখো।

  1. তোমার পা কেটে গেছে। ডাক্তারবাবু তোমার হাতে ওষুধ ইনজেকশন দিলেন। ওই ওষুধ তোমার কাটা ঘা-এ পৌঁছোবে কীসের মধ্যে দিয়ে? তাহলে এখানে জলের কাজ কী? ..............................................................।
  2. একটা বড়ো বিস্কুট একবারে চিবিয়ে ফেলো। তোমার মুখের ভেতরটা এখন কেমন, শুকনো না ভিজে? ..........................। দেখত, গিলতে পারছ কি? কথা বলতে চেষ্টা করত। কথা বলা যাচ্ছে কি? ..........................। যদি মুখের ভেতরটা শুকনো লাগে তাহলে তুমি কী করবে? তাহলে এখানে জলের কাজ কী? ..............................................................।
  3. খুব গরমে আমরা ঘামি। ঘাম জড়ানো গায়ে বাতাস দিলে কেমন লাগে? ..........................| তাহলে এখানে জলের কাজ কী? ..............................................................।
  4. তোমার চোখে কোন তরল থাকে? ..............................................................| চোখে পোকা পড়লে চোখ থেকে কী বেরোয়? ..............................................................| কেন বেরোয়? ..............................................................| তাহলে এখানে জলের কাজ কী? ..............................................................।

175


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

  1. তোমার নিশ্বাস একটা আয়নায় ফেলে দেখো, আয়নায় কীসের দাগ পড়ছে? ..........................। নিশ্বাসের মধ্যে এই জল কোথা থেকে এল? ..............................................................। তাহলে জলের কী কাজ আছে? ..........................| এখানে জলের আর কী কাজ আছে??..............................................................।
  2. তোমার দুটো হাড়ের জোড়ে থাকা পিচ্ছিল রসে জল আছে সেটা জেনেছ। ওই জল কী কাজ করে? ..............................................................|
  3. পেট খারাপ হলে বারবার তরল মল বেরিয়ে যায় বা বমি হয়। তখন অনেক দরকারি জিনিস জলে গুলে বেরিয়ে যায়। জল এখানে কী কাজ করে বলো তো? ..............................................................|
  4. খাদ্যগ্রহণের পর মুখবিবরে খাদ্য হজম করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাহলে এখানে জলের কাজ কী? ........
  5. পাচনের পর খাদ্যের সারাংশ ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীর বরাবর শোষিত হয়। তাহলে জলের এখানে কী কাজ আছে? ..............................................................|
  6. খাদ্যের যে অংশ হজম হয় না তা নরম মলরূপে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তাহলে এখানে জল কী ভূমিকা পালন করে? ..............................................................|
  7. ম্যালেরিয়া বা নিউমোনিয়ার মতো রোগে প্রবল জ্বর আসে। ঘাম দিয়ে জর ছাড়ার সময় বা প্রবল জরে স্নান করানোর সময় জল কী কাজ করে? ..............................................................|
  8. খাদ্য সংশ্লেষের সময় জল ব্যবহৃত হয়। এখানে জল কী কাজ করে? ..............................................................|

জলের ভূমিকা : জল সাধারণত কোনো বস্তুকে দ্রবীভূত করে, কোনো বস্তুকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায় বা বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।

এবার ওপরের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে জলের ভূমিকাগুলো শিক্ষক/শিক্ষিকার সঙ্গে আলোচনা করে নীচে লেখো।

ঘটনাসমূহজলের ভূমিকা
1.
2.
3. ঘাম জড়ানো গায়ে বাতাস দিলে আরাম লাগেতাপ পরিবাহক হিসেবে
4.
5.
6.
7. পেট খারাপ হলে অনেক দরকারি জিনিস মল বা বমির সঙ্গে বেরিয়ে যায়দ্রাবক হিসেবে
8.
9.
10.
11.
12. খাদ্য হজমের সময় জল ব্যবহৃত হয়বিক্রিয়ক হিসেবে

176


মানুষের খাদ্য

শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন পরিমাণমতো জল খাওয়া দরকার। গরমকালে তুমি রোজ কতটা জল খাও? তোমার বন্ধুরাই বা কতটা খায়? সবাই মিলে একসঙ্গে নীচের ছকে লেখো :

জলের উৎসতুমিতোমার বন্ধুতোমার বন্ধুতোমার বন্ধুতোমার বন্ধু
খাবার জল
চা, দুধ বা অন্য পানীয়
ডাল, ঝোল
ফলের রস
অন্যান্য
  • কয়েকটা কথা মনে রেখো।
  • ভাত বা তরকারির মধ্যেও কিন্তু 40-60% জল থাকে ।
  • একটা বড়ো গ্লাসে প্রায় 200 মিলি জল ধরে; আর একটা বড়ো কাপে প্রায় 100 মিলি জল ধরে। সাধারণ হাতায় জল থাকে প্রায় 50 মিলি।
  • জলের বোতলে জল ধরে : ছোটো - 500 মিলি, মাঝারি - 1 লিটার আর বড়ো- 2 লিটার।

24 ঘন্টায় কতটা জল পান করো?

তুমি ................................................................

তোমার বন্ধুরা : 1. ............... 2................ 3. ................ 4................

তাহলে গরমকালে তুমি আর তোমার বন্ধুরা এক-একজনে রোজ জল খাও কতটা?

আর ওইসময়ে তুমি বা তোমার বন্ধুরা প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতা থেকে দেখো, তোমাদের দেহ থেকে গড়ে কতটা জল বের হয়ে যায়।

  1. মূত্রের মাধ্যমে 1.5 - 2 লি
  2. ঘামের মাধ্যমে 2 লি
  3. শ্বাসের মাধ্যমে 400 মিলি
  4. মলের মাধ্যমে 200 মিলি
  5. চোখের জলের মাধ্যমে 50 মিলি

মোট কত পরিমাণ জল সারাদিনে দেহ থেকে বেরিয়ে যায়? ..........................।

177


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

ঠিক কত পরিমাণ জল পান করা প্রয়োজন?

একজন সুস্থ ব্যক্তি যদি প্রতিদিন তার দেহের ওজনের কেজি প্রতি 50 মিলিলিটার জল পান করেন তবে তার দেহের দৈনিক জলের চাহিদা পূরণ হয়।

নীচের তালিকায় বিভিন্ন শিশু/প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দেহের ওজনের দেওয়া হলো। তাদের জলের চাহিদা হিসেব কষে বার করো:

দেহের ওজন (কেজি)দৈনিক জলের চাহিদা (লি)দৈনিক কত গ্লাস জল পান করা প্রয়োজন (এক গ্লাসে প্রায় 200 মিলি জল ধরে)
1. 20
2. 30
3. 40
4. 50
5. 70

এবার বলো তো, তোমার দেহ রোজ যতটা জল হারায় তুমি ততটা জল কি পান করো?................

না হলে কী হতে পারে? ................................................................|

এতক্ষণ তোমরা দেখলে জল মানুষের দেহে নানা ভূমিকা পালন করে। অন্যান্য জীবদের বেঁচে থাকার জন্যও জল একইভাবে জরুরি। এই ভূমিকার জন্য জলের নানা ধর্ম কাজ করে। এবার বুঝে নাও কোন ধর্ম জলকে জীবদেহে কোন ভূমিকা পালন করতে সাহায্য করে।

জলের ধর্মজীবদেহে জলের ভূমিকা
1. ঘরের তাপমাত্রায় তরল।জীবের প্রয়োজনীয় নানা বিক্রিয়া ঘটাতে ও জীবের বেঁচে থাকার তরল মাধ্যম রূপে কাজ করে।
2. জলকে গরম করতে প্রচুর তাপের প্রয়োজন।বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রা দ্রুত বদলালেও বড়ো চেহারার প্রাণীদের দেহের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট থাকে।
3. জলকে বাষ্প করতে প্রচুর তাপের প্রয়োজন।ঘাম হওয়া ও বাষ্পমোচনের মাধ্যমে জল বেরিয়ে গেলে দেহ ঠান্ডা হয়। খুব অল্প পরিমাণ জল বাষ্পীভূত হলেও অনেক পরিমাণ তাপ দেহ থেকে বেরিয়ে যায়।
4. অন্য যে-কোনো তরলের তুলনায় জলে বিভিন্ন বস্তু সহজেই গুলে যায়।সহজেই বিভিন্ন বস্তুকে দেহের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
5. জলের কোনো রং নেই।জলের গভীরে থাকা উদ্ভিদও খাদ্য তৈরির জন্য আলো পেতে পারে।

178


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

খাদ্য তৈরিতে জল ও আলোর ভূমিকা

গাছের খাবার, ঘরে তৈরি খাবার আর কারখানায় তৈরি খাবার

  1. (a) একটা টবের গাছকে বেশ কয়েকদিন ধরে সূর্যের আলোতে, জল না দিয়ে, রেখে দিলে কী হবে? ..........................| (b) কেন এমন হলো? ..........................| (c) ওই কয়েকদিন গাছটা যদি সূর্যের আলো না পেত তাহলে কী হতো? ..........................|
  2. (a) ঐ টবের গাছটাকে যেখানে কোনো আলোই পৌঁছোয় না, এমন অন্ধকার ঘরে বেশ কয়েকদিন (10-15 দিন) রেখে দেওয়া হলো। কয়েকদিন পরে টবের গাছটার কী অবস্থা হতে পারে বলে তোমার মনে হয়? ..........................| (b) এমন হওয়ার পেছনে কারণ কী? ..........................|
  3. কয়েকদিন গাছটাকে অন্ধকার ঘরে রেখে নিয়মিত জল দেওয়া হলো। তাহলে কি গাছটার পরিণতি অন্যরকম কিছু হবে? ..........................|
  4. টবের গাছটাকে জল দিয়ে পর্যাপ্ত সূর্যালোকে রেখে দেওয়া হলো। তুমি কী দেখতে পাবে? ..........................|

ওপরের চারটে ঘটনা দেখে কী বোঝা গেল বলো তো? গাছের তাহলে বেঁচে থাকার জন্য জল আর আলো দুটোই প্রয়োজন।

কিন্তু গাছের জল আর আলো কেন প্রয়োজন বলতে পারবে কি? ..........................|

আচ্ছা গাছ থেকে তো আমরা নানারকম খাবার পাই। তাহলে গাছ খাবার পায় কীভাবে বলো তো?

..........................|

দেখো তো তোমরা বলতে পারো কিনা? বাড়িতে আর গাছে কীভাবে খাবার তৈরি হয় নীচের ছকটায় লিখতে চেষ্টা করো।

বাড়িতেগাছে
1. খাবার তৈরি হয় কোথায়?1. খাবার তৈরি হয় কোথায়?
2. রান্না করতে কী কী লাগে?2. খাবার তৈরি করতে কী কী লাগে?
চাল(i)
(ii) সবুজ গাছের ক্লোরোফিল কণা
(iii)
(iv) কার্বন ডাইঅক্সাইড
3. রান্নার পর কী কী খাবার তৈরি হয়?3. খাবার তৈরির সময় কী কী পাওয়া যায়?
(i) ভাত(i) শর্করা জাতীয় খাবার (গ্লুকোজ)
(ii)(ii) অক্সিজেন
(iii)(iii) জল

179


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

উদ্ভিদের খাবার তৈরি আর জল :

এসো প্রথমেই জেনে নেওয়ার চেষ্টা করি গাছ কোথা থেকে জল পায়ঃ

স্থলজ উদ্ভিদ জল পায় ..........................|

জলজ উদ্ভিদ জল পায় ..........................|

কিন্তু এই জলটাকে গাছ কীভাবে নিজেদের শরীরে নেয়? এই জল, গাছ নিশ্চয়ই কোনোভাবে নিজেদের দেহে শুষে নেয়। কীভাবে জানো কি?

মাটির নীচেথাকা কোন অংশটা দিয়ে গাছ জল টানে? ..........................|

ওই অঙ্গটা কি কোনোভাবে মাটি থেকে জল শুষে নিতে সাহায্য করে ..........................

Plant roots absorbing water from soil

স্থলজ উদ্ভিদ তার মূলের সাহায্যে মাটির কণার গায়ে লেগে থাকা জল শুষে নেয়। কোনো কোনো স্থলজ উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে মূল দিয়ে জলীয় বাষ্প শুষে নেয়। আর জলজ উদ্ভিদ তার জলে ডুবে থাকা সমস্ত অংশ দিয়ে জল শোষণ করে।

আর আলো? গাছেরা সেটা কোথা থেকে পায় নিশ্চয় তোমাদের আলাদা করে বলে দিতে হবে না। লিখে ফেলো দেখি ..........................।

উদ্ভিদের খাদ্য তৈরিতে জলের ভূমিকা :

মূল বা দেহের অন্যান্য অংশ দিয়ে শোষণ করা জল গাছ পাতায় পৌঁছে দেয়। গাছের খাবার তৈরি হয় এই পাতায় বা অন্যান্য সবুজ অংশ তাই ..........................। হলো গাছের রান্নাঘর।

গাছের খাবার তৈরির প্রক্রিয়ায় পাওয়া যায় অক্সিজেন গ্যাস। জানো কি এই অক্সিজেন কোথা থেকে পাওয়া যায়? খাবার তৈরির সময় এই জল ভেঙেই অক্সিজেন পাওয়া যায়।

180


মানুষের খাদ্য

উদ্ভিদের খাদ্য তৈরিতে আলোর ভূমিকা :

গাছের খাবার তৈরি করার প্রক্রিয়াটার নাম জানো কি? গাছের খাবার তৈরি করার প্রক্রিয়াটার নাম হলো সালোকসংশ্লেষ। এসো তো এই শব্দটাকে ভেঙে দেখি শব্দটার মানে কী। সালোকসংশ্লেষ শব্দটাকে ভাঙলে পাই, সালোক আর সংশ্লেষ। আর সালোক শব্দটাকে ভেঙে কী পাই? স + আলোক

তাহলে কী বোঝা গেল? স + আলোেক মানে আলোর উপস্থিতি আর সংশ্লেষ মানে হলো তৈরি করা। অর্থাৎ আলোর উপস্থিতিতে কোনো একটা কিছু তৈরি করা হচ্ছে। এই আলো হলো সূর্যের আলো।

সূর্যের আলোর শক্তির খুব সামান্য একটা অংশ গাছ শোষণ করে। সূর্যের এই শক্তি আর গাছের সবুজ কণা – ক্লোরোফিল, এদের সাহায্যেই গাছ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়াটা শুরু করে। সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার পরের ধাপগুলোতে প্রয়োজন হয় জল আর পরিবেশ থেকে নেওয়া কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসের।

সূর্যের আলো থেকে যে শক্তি গাছ শোষণ করে, তার একটা অংশকে গাছ রূপান্তরিত করে তার তৈরি করা শর্করা জাতীয় খাবারে জমা করে রাখে।

মানুষ এবং বিভিন্ন প্রাণীরা যখন উদ্ভিদজাত কোনো খাবার খায়, তারা আসলে খাবারে জমিয়ে রাখা সূর্যের ওই রূপান্তরিত শক্তিটাকেই ব্যবহার করে। সূর্যের ওই রূপান্তরিত শক্তিটাকে ব্যবহার করেই মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীরা তাদের নানা কাজের শক্তির চাহিদা পূরণ করে।

181

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel