Academy

৩. অধ্যায় | পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া | পৃষ্ঠা ৮৫-১০০

৩. অধ্যায় | পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া | পৃষ্ঠা ৮৫-১০০ - WBBSE - Class 7 - Default Subject

0

3 পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

চিহ্ন, সংকেত ও যোজ্যতা

ষষ্ঠ শ্রেণিতে আমরা কিছু মৌলিক পদার্থের নাম ও চিহ্নের কথা জেনেছি। মৌলের চিহ্ন দিয়েই মৌলের সংক্ষেপে নাম বোঝায়। এখন তোমরা তার উপর ভিত্তি করে নীচের সারণিতে দেওয়া মৌলগুলোর নাম থেকে চিহ্ন লেখার চেষ্টা করো। প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও।

সারণি - 1

মৌলের নামনামের বানানচিহ্ন
অ্যালুমিনিয়ামAluminium
নিকেলNickel
আর্সেনিকArsenic
সিলিকনSilicon
জিঙ্কZinc
বোরনBoron

সারণি - 2

মৌলের নামইংরাজি নামল্যাটিন নামনামের বানানচিহ্ন
টিনTinস্ট্যানামStannum
পারদMercuryহাইড্রার্জিরামHydrargyrumHg
সিসাLeadপ্লাম্বামPlumbum

এবার আমরা এমন কিছু মৌলিক পদার্থের নাম ও চিহ্ন শিখব, যেখানে বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের নাম, মৌলগুলোর আবিষ্কারের স্থান বা যে বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছেন তাঁর দেশের নাম অথবা বিশেষ কিছু গ্রহের নামকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

শব্দভাণ্ডার থেকে শব্দ নিয়ে তুমি নীচের তিনটে সারণি পূরণ করো।

সারণি - 1

মৌলের নামনামের বানানবিখ্যাত বিজ্ঞানীর নামচিহ্ন
কুরিয়ামCurium
আইনস্টাইনিয়ামEinsteinium

সারণি - 2

মৌলের নামনামের বানানস্থানের নামচিহ্ন
আমেরিকাসিয়ামAmericium
পোলোনিয়ামPolonium

সারণি - 3

মৌলের নামনামের বানানগ্রহের নামচিহ্ন
ইউরেনিয়ামUranium
নেপচুনিয়ামNeptunium
প্লুটোনিয়ামPlutonium

শব্দভান্ডার: Pu, America, Po, Uranus, Am, Madame Curie, Pluto, Es, No, Neptune, Albert Einstein, Np, U, Poland.

মৌলের পরমাণু জুড়ে মৌল অণু বা যৌগ অণু তৈরি হয়। তাহলে এসো আমরা দেখি, পরমাণু কীভাবে তৈরি।

Atomic Structure Illustrations

পাশের ছবিতে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও লিথিয়াম পরমাণুর গঠন কেমন তা দেখানো হয়েছে। পরমাণুর এই ছবির মধ্যে কত রকমের কণা তোমরা দেখতে পাচ্ছ?

হাইড্রোজেনহিলিয়ামলিথিয়াম

পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

– তিনরকমের অতিক্ষুদ্র কণা পরমাণুতে থাকতে পারে। পরমাণুর মধ্যে এই তিনরকমের কণার অস্তিত্ব নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়েছে।

  • igoplus দিয়ে দেখানো কণাগুলো প্রোটন, এগুলো ধনাত্মক তড়িৎ আধানযুক্ত বা ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণা
  • extcircled extcircled{-} দিয়ে দেখানো কণাগুলো ইলেকট্রন। এগুলো ঋণাত্মক তড়িৎ আধানযুক্ত বা ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা
  • extcircledO extcircled{O} দিয়ে দেখানো কণাগুলো নিউট্রন। এদের কোনো তড়িৎ নেই

একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রনের তড়িতের বা চার্জের পরিমাণ সমান। একটি ধনাত্মক ও একটি ঋণাত্মক চার্জ একত্রে থাকলে তড়িৎবিহীন বা নিস্তড়িৎ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

ছবিতে আরো লক্ষ করো, প্রোটন আর নিউট্রনগুলো পরমাণুর কেন্দ্রে একটা ছোটো জায়গায় জোট বেঁধে আছে। ওই জায়গাটা হলো পরমাণুর কেন্দ্রক বা নিউক্লিয়াস। ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসকে ঘিরে বিভিন্ন পথে ঘোরে। যে পথগুলোতে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘোরে তাদের কক্ষপথ বলে।

সাধারণ অবস্থায় সব মৌলের পরমাণুতেই প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান হয়। তাই মৌলের পরমাণু নিস্তড়িৎ। কোনো পরমাণুর প্রোটন সংখ্যাকে তার পরমাণু ক্রমাঙ্ক বা তার পারমাণবিক সংখ্যা বলে।

একটি ইলেকট্রনের ভর প্রোটন বা নিউট্রনের ভরের প্রায় 20002000 ভাগের এক ভাগ। তাই নিউক্লিয়াসের প্রোটন ও নিউট্রনের মোট ভরই মোটামুটিভাবে কোনো পরমাণুর ভর – একথা বলা যেতেই পারে। পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যাই ওই পরমাণুর ভরসংখ্যা

এবার তোমরা আগের পাতার হিলিয়াম পরমাণুর গঠনের ছবি থেকে নীচের সারণি পূরণ করো।

হিলিয়াম পরমাণুতে বিভিন্ন কণার সংখ্যা

প্রোটনইলেকট্রননিউট্রনপারমাণবিক সংখ্যা বা পরমাণু ক্রমাঙ্কভরসংখ্যা

এবার এসো আমরা আরো কয়েকটা পরিচিত মৌলের পরমাণুর গঠনের ছবি দেখি: ছবিতে extcircled6+ extcircled{6+} মানে 6টি প্রোটন, extcircled6 extcircled{6} মানে 6 টি নিউট্রন এইভাবে বুঝতে হবে।

Carbon, Sodium, Chlorine Atoms

কার্বনসোডিয়ামক্লোরিন

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

আগের পাতার ছবিগুলো দেখে নীচের সারণিটি পূরণ করো :

মৌলের নামপ্রোটন সংখ্যাইলেকট্রন সংখ্যানিউট্রন সংখ্যাপারমাণবিক ক্রমাঙ্কভর সংখ্যা
কার্বন
সোডিয়াম
ক্লোরিন

মৌলের পরমাণু থেকে এক বা একের বেশি ইলেকট্রন বেরিয়ে গেলে প্রোটন সংখ্যার থেকে ইলেকট্রন সংখ্যা কম হয়ে যায়। তখন ধনাত্মক (Positive) আধানযুক্ত আয়ন বা ক্যাটায়ন উৎপন্ন হয়। পরমাণু এক বা একের বেশি ইলেকট্রন নিয়ে নিলে কী হবে?

তখন প্রোটন সংখ্যার থেকে ইলেকট্রন সংখ্যা বেশি হয়ে যাবে এবং ঋণাত্মক (Negative) আধানযুক্ত আয়ন তৈরি হবে। একে অ্যানায়ন বলা হয়।

সাধারণত ধাতু ও অধাতু জুড়ে যৌগ তৈরি হবার সময় ধাতুর পরমাণুগুলো ইলেকট্রন ছাড়ে আর অধাতুর পরমাণুগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে।

যেমন — সোডিয়াম পরমাণু একটি ইলেকট্রন ছেড়ে দিলে যে ক্যাটায়ন তৈরি হবে তাকে Na+^+ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। তেমনি ক্যালশিয়াম পরমাণু 22টি ইলেকট্রন ছেড়ে দিলে Ca2+^{2+} ক্যাটায়ন তৈরি করবে।

Sodium and Chloride Ion Formation

আবার ক্লোরিন পরমাণু একটি ইলেকট্রন নিয়ে নিলে যে অ্যানায়ন উৎপন্ন হবে তাকে Cl^- দ্বারা প্রকাশ করা হয়। একে ক্লোরাইড আয়ন বলে।

তোমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নীচের সারণি পূরণ করো। প্রয়োজনে শিক্ষক বা শিক্ষিকার সাহায্য নাও।

কোন মৌলের পরমাণুমৌলের চিহ্নকটি ইলেকট্রন নিলে বা ছেড়ে দিলেতৈরি হওয়া ক্যাটায়ন বা অ্যানায়নের চিহ্ন ও নাম
পটাশিয়ামK11 টি ইলেকট্রন ছাড়লেK+^+ (পটাশিয়াম)
ম্যাগনেশিয়াম22 টি ইলেকট্রন ছাড়লে
জিঙ্ক22 টি ইলেকট্রন ছাড়লে
লেড22 টি ইলেকট্রন ছাড়লে
অ্যালুমিনিয়াম33 টি ইলেকট্রন ছাড়লে
ফ্লুওরিনF11 টি ইলেকট্রন নিলেF^- (ফ্লুওরাইড)
অক্সিজেন22 টি ইলেকট্রন নিলে....... (অক্সাইড)
সালফার22 টি ইলেকট্রন নিলে....... (সালফাইড)
ব্রোমিন11 টি ইলেকট্রন নিলে....... (ব্রোমাইড)

পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

আমরা জানি একাধিক মৌলের পরমাণু যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে। কখনো কখনো একই মৌলের এক বা একাধিক পরমাণু অথবা বিভিন্ন মৌলের পরমাণু জোটবদ্ধ অবস্থায় আয়নরূপে অবস্থান করে; তখন সাধারণভাবে তাদের মূলক বলা হয়। জোটবদ্ধ অবস্থাতেই ওই মূলকগুলো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। মূলকের আধানের পরিমাণই প্রাথমিকভাবে ওই মূলকের যোজ্যতা বলে ধরা যেতে পারে। পরে আমরা অন্য পদ্ধতিতে মূলকগুলোর যোজ্যতা কীভাবে নির্ণয় করা যায় তা জানব।

তোমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নীচের সারণি পূরণ করো।

মূলকের নামসংকেততার আধান বা চার্জযোজ্যতা
নাইট্রেটNO3_3^-1-111
সালফেটSO42_4^{2-}
কার্বনেটCO32_3^{2-}
অ্যামোনিয়ামNH4+_4^++1+111
বাইকার্বনেটHCO3_3^-
ফসফেটPO43_4^{3-}
হাইড্রক্সাইডOH^-

এবার আমরা অন্য পদ্ধতিতেও মূলকগুলোর যোজ্যতা কীভাবে জানা যায় তা দেখব। আমরা জানি যে দুটো মৌলের পরস্পর যুক্ত হবার ক্ষমতাকে ওই মৌলদের যোজন ক্ষমতা বলা হয়।

নীচের সারণিতে একক যোজ্যতাবিশিষ্ট ধাতু সোডিয়াম বা পটাশিয়ামের সঙ্গেও বিভিন্ন মূলক যুক্ত হয়েছে এমন কয়েকটি যৌগের সংকেত ও তাদের মধ্যে উপস্থিত মূলকের সংকেত দেওয়া হলো। সংকেতে সোডিয়াম বা পটাশিয়ামের পরমাণুর সংখ্যা থেকে মূলকগুলোর যোজ্যতা লেখো:

যৌগের সংকেততার মধ্যে উপস্থিত অ্যানায়নের নাম ও সংকেতঅ্যানায়নের যোজ্যতা
Na2_2Sসালফাইড (S2^{2-})22
NaHCO3_3বাইকার্বনেট (HCO3_3^-)
NaCNসায়ানাইড (CN^-)
NaOHহাইড্রক্সাইড (OH^-)
NaFফ্লুওরাইড (F^-)
NaBrব্রোমাইড (Br^-)
NaNO2_2নাইট্রাইট (NO2_2^-)
Na2_2SO3_3সালফাইট (SO32_3^{2-})
KMnO4_4পারম্যাঙ্গানেট (MnO4_4^-)
K2_2Cr2_2O7_7ডাইক্রোমেট (Cr2_2O72_7^{2-})
NaAlO2_2অ্যালুমিনেট (AlO2_2^-)
Na2_2ZnO2_2জিঙ্কেট (ZnO22_2^{2-})
NaHSO4_4বাইসালফেট (HSO4_4^-)

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

ষষ্ঠ শ্রেণিতে হাইড্রোজেনের যোজ্যতাকে 11 ধরে হাইড্রোজেন যুক্ত বিভিন্ন যৌগ থেকে তোমরা জেনেছ যে অক্সিজেনের যোজ্যতা 22, ক্লোরিনের যোজ্যতা 11

এবার আমরা ক্লোরিনের বিভিন্ন যৌগ থেকে বিভিন্ন ধাতু ও অধাতুদের যোজ্যতা নির্ণয় করব।

নীচের সারণিতে বিভিন্ন মৌলের সঙ্গে যুক্ত ক্লোরিন পরমাণুর সংখ্যাই হলো ওই মৌলের যোজ্যতা।

যৌগের নামসংকেতযৌগে ক্লোরিন পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত ধাতুযৌগে ধাতুর পরমাণু পিছু ক্লোরিন পরমাণুর সংখ্যাধাতুর যোজ্যতা
সোডিয়াম ক্লোরাইডNaClNa
পটাশিয়াম ক্লোরাইডKClK
ক্যালশিয়াম ক্লোরাইডCaCl2_2Ca2222
ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইডMgCl2_2Mg
ফেরাস ক্লোরাইডFeCl2_2Fe22
ফেরিক ক্লোরাইডFeCl3_3Fe3333
অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইডAlCl3_3Al
জিঙ্ক ক্লোরাইডZnCl2_2Zn
কিউপ্রাস ক্লোরাইডCuClCu11
কিউপ্রিক ক্লোরাইডCuCl2_2Cu22
সিলভার ক্লোরাইডAgClAg
লেড ক্লোরাইডPbCl2_2Pb

ওপরের সারণির যৌগগুলোর সংকেত লক্ষ করলে তোমরা দেখবে আয়রন, কপার প্রভৃতি মৌলের একাধিক যোজ্যতা রয়েছে। এইসব মৌলগুলো যোজ্যতা পরিবর্তন করে একই মৌলের বিভিন্ন সংখ্যক পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন যৌগ তৈরি করতে পারে। এইরকম যোজ্যতাকে মৌলের পরিবর্তনশীল যোজ্যতা বলে। সারণিটি ভালো করে লক্ষ করে দেখবে যে সব যৌগে মৌলের যোজ্যতা কম সেই যৌগে তাদের নামের শেষে 'আস' যুক্ত হয়েছে আর যে যৌগে ওই মৌলেরই যোজ্যতা অপেক্ষাকৃত বেশি তাদের নামের শেষে 'ইক' যুক্ত হয়েছে। যেমন ধরো ফেরাস ও ফেরিক যৌগে আয়রনের যোজ্যতা যথাক্রমে 2233

সংকেত লেখার কৌশল

বিভিন্ন মৌল কিংবা মূলকের যোজ্যতাকে ব্যবহার করে কীভাবে যৌগের সংকেত লেখা যায় তা দেখা যাক। ধরা যাক, A ও B দুটি মৌল বা মূলক যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে। A মৌলের বা মূলকের যোজ্যতা mm এবং B মৌলের বা মূলকের যোজ্যতা nn হলে A এবং B দ্বারা গঠিত যৌগের সংকেত হবে AnBmA_nB_m। A মৌলের বা মূলকের যোজ্যতা যত সেই সংখ্যা (mm)কে B মৌলের বা মূলকের ডানদিকে একটু নীচে এবং B মৌলের বা মূলকের যোজ্যতা যত সেই সংখ্যা (nn)-কে A মৌলের বা মূলকের ডানদিকে লিখে প্রকাশ করলে সেটি হবে A ও B মৌল বা মূলক দ্বারা তৈরি যৌগের সংকেত।


পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

যেমন: (i) অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের সংকেত লিখতে হবে। Al-এর যোজ্যতা 33 ও O-এর যোজ্যতা 22। সংকেত তৈরির সময় চার্জের ++ বা - লেখা হয়না।

Aluminum Oxide formula formation

মৌলের চিহ্ন: Al যৌগের মধ্যে তার চার্জ: +3+3

মৌলের চিহ্ন: O যৌগের মধ্যে তার চার্জ: 2-2

তাহলে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের সংকেত এইরকমভাবে লেখা হলো: Al2O3Al_2O_3

(ii) অ্যামোনিয়াম সালফেটের সংকেত লেখার পদ্ধতি নীচে দেওয়া হলো।

NH4+_4^+ মূলকের যোজ্যতা 11 ও SO42_4^{2-} মূলকের যোজ্যতা 22

Ammonium Sulfate formula formation

মূলকের সংকেত: NH4+_4^+ চার্জ: +1+1

মূলকের সংকেত: SO42_4^{2-} চার্জ: 2-2

অতএব অ্যামোনিয়াম সালফেটের সংকেত (NH4)2SO4(NH_4)_2SO_4

(iii) মিথেনের সংকেত লেখার পদ্ধতি নীচে দেওয়া হলো:

কার্বনের (C) যোজ্যতা 44 এবং হাইড্রোজেনের যোজ্যতা 11

Methane formula formation

মৌলের চিহ্ন: C যৌগের মধ্যে তার যোজ্যতা: 44

মৌলের চিহ্ন: H যৌগের মধ্যে তার যোজ্যতা: 11

তাহলে মিথেনের সংকেত C1H4C_1H_4। এক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার C-এর নীচে 11 লেখার দরকার হয় না। তাই মিথেনের সংকেত CH4CH_4

(iv) হাইড্রোজেন সালফাইডের সংকেত লেখার পদ্ধতি:

হাইড্রোজেন (H) যোজ্যতা 11 এবং সালফারের যোজ্যতা 22

Hydrogen Sulfide formula formation

মৌলের চিহ্ন: H যৌগের মধ্যে তার যোজ্যতা: 11

মৌলের চিহ্ন: S যৌগের মধ্যে তার যোজ্যতা: 22

অতএব হাইড্রোজেন সালফাইডের সংকেত H2SH_2S


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

নীচে কতকগুলো মৌলের চিহ্ন ও যোজ্যতা দেওয়া আছে। আগের পৃষ্ঠার পদ্ধতিকে ব্যবহার করে যৌগগুলোর সংকেত লেখো। প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও।

যৌগের নামযৌগে উপস্থিত একটা মৌলের চিহ্নওই মৌলের যোজ্যতাযৌগে উপস্থিত অন্য মৌলের চিহ্নওই মৌলের যোজ্যতাযৌগের সংকেত
কার্বন টেট্রা-ক্লোরাইডC44Cl11
ফসফরাস পেন্টাক্লোরাইডP55Cl11
অ্যামোনিয়াN33H11
সালফার টেট্রা ফ্লুওরাইডS44F11

তোমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করো এবং মৌল ও মূলকের যোজ্যতা ব্যবহার করে নীচের সারণি পূরণ করো। প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও।

যৌগের নামযৌগে উপস্থিত ধাতব আয়নধাতব মৌলের যোজ্যতাযৌগে উপস্থিত অ্যানায়ন বা মূলকমূলকের যোজ্যতাযৌগের সংকেত
সোডিয়াম ফ্লুওরাইডNa+^+11F^-11
K+^+11Br^-11
লেড ক্লোরাইডPb2+^{2+}22Cl^-11
অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইডAl3+^{3+}33OH^-11
Na+^+HCO3_3^-11
ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেটCa2+^{2+}22HCO3_3^-
জিঙ্ক নাইট্রেটZn2+^{2+}NO3_3^-
সোডিয়াম ফসফেটNa+^+11PO43_4^{3-}33

এই উপায়ে জিঙ্ক অক্সাইড, ম্যাগনেশিয়াম অক্সাইড, জিঙ্ক সালফাইড বা ক্যালশিয়াম কার্বনেটের সংকেত লিখবে কী করে?

Zinc Oxide formula formation

মৌলের চিহ্ন: Zn যৌগের মধ্যে তার চার্জ: +2+2

মৌলের চিহ্ন: O যৌগের মধ্যে তার চার্জ: 2-2

এইভাবে জিঙ্ক অক্সাইডের সংকেত হবার কথা Zn2O2Zn_2O_2, কিন্তু ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন উভয়ের পাশেই 22 থাকায় তা বাদ দিয়ে যৌগের সরলীকৃত সংকেত ZnOZnO রূপে লেখা হয়। এই উপায়ে বাকি তিনটে যৌগের সংকেত লেখো।


পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

এবার একটা অন্য পদ্ধতি লক্ষ করো যা থেকেও তুমি যৌগের সংকেত নিজেই লিখতে পারবে। এটা একটা খেলার মতো। খেলার নিয়ম হলো এমন সংখ্যার ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন নিতে হবে যাতে তাদের থেকে তৈরি যৌগের মোট চার্জ শূন্য হয়। এর মানে হলো তুমি যতগুলো ক্যাটায়ন নেবে তাদের মোট পজিটিভ চার্জ অ্যানায়নদের মোট নেগেটিভ চার্জের সমান হতে হবে।

এবার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নীচের সারণি পূরণ করো।

যৌগের নামযৌগে উপস্থিত ক্যাটায়নযৌগে উপস্থিত অ্যানায়নমোট চার্জ শূন্য হতে হলে কী চাইমোট চার্জ শূন্য হলো কীভাবেযৌগের সংকেত
সোডিয়াম ক্লোরাইডNa+^+Cl^-প্রত্যেক Na+^+-এর 11টি (+)(+) চার্জের জন্য 11টি ()(-) চার্জের দরকার+11=0+1-1=0NaCl
সোডিয়াম সালফেটNa+^+SO42_4^{2-}SO42_4^{2-}-এর চার্জ যেহেতু 2-2 তাই দুটি Na+^+ ক্যাটায়ন দরকার+22=0+2-2=0Na2_2SO4_4
ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইডMg2+^{2+}Cl^-প্রত্যেক Mg2+^{2+}-এর জন্য 22টি Cl^- দরকার
ক্যালশিয়াম ক্লোরাইডCa2+^{2+}Cl^-
জিঙ্ক অক্সাইডZn2+^{2+}O2^{2-}ZnO
অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডAl3+^{3+}O2^{2-}22টি Al3+^{3+}-এর মোট চার্জ যেহেতু +6+6 তাই 33টি O2^{2-}-এর মোট চার্জ – 66 প্রয়োজন2(+3)+3(2)=02(+3)+3(-2)=0Al2_2O3_3
ম্যাগনেশিয়াম অক্সাইডMg2+^{2+}O2^{2-}
ফেরিক অক্সাইডFe3+^{3+}O2^{2-}Fe2_2O3_3
সোডিয়াম সালফাইডNa+^+S2^{2-}Na2_2S
পটাশিয়াম ফ্লুওরাইডK+^+F^-

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

রাসায়নিক বিক্রিয়া ও রাসায়নিক সমীকরণ

করে দেখো 1: একটা গ্লাসে জল নিয়ে তার মধ্যে কয়েক ফোঁটা মিউরিয়েটিক অ্যাসিড (বাথরুম পরিষ্কার করার জন্য এই অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়) মেশাও। তার মধ্যে এক চিমটে কাপড় কাচার সোডা যোগ করো। (শিক্ষক/শিক্ষিকার উপস্থিতিতে কাজ করো)

2: ওপরের মতো একইরকম অ্যাসিড দ্রবণ তৈরি করে তার মধ্যে কয়েকটা নতুন পেরেক (দস্তার প্রলেপ দেওয়া) ফেলে দাও। (এক্ষেত্রে পেরেকের পরিবর্তে জিঙ্কের টুকরো ব্যবহার করলে আরো ভালো ফল পাওয়া যাবে।)

3: একটা গ্লাসে জল নিয়ে ছোটো এক টুকরো পাথুরে চুন তার মধ্যে সাবধানে ফেলে দাও। কী দেখতে পেলে নীচে লেখো।

কোন ক্ষেত্রেকী করলেকী দেখলে
করে দেখো 1
করে দেখো 2
করে দেখো 3

কেন এমন হলো বলো তো?

প্রথম ক্ষেত্রে: কাপড় কাচার সোডা (সোডিয়াম কার্বনেট, Na2CO3Na_2CO_3), লঘু মিউরিয়েটিক অ্যাসিডের (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, HCl) সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করেছে।

দ্বিতীয় ক্ষেত্রে: লোহার পেরেকের ওপর প্রলেপ দেওয়া দস্তার সঙ্গে লঘু হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (মিউরিয়েটিক অ্যাসিড) বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করেছে।

তৃতীয় ক্ষেত্রে: পাথুরে চুন জলের সংস্পর্শে এসে সম্পূর্ণ নতুন একটা পদার্থে পরিণত হলো। এই নতুন পদার্থটার ধর্ম, চুনের ধর্ম থেকে একেবারেই আলাদা। লক্ষ করো জল গরম হয়ে গেছে।

এরকম ঘটনাকেই আমরা রাসায়নিক পরিবর্তন বা রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে থাকি। পাথুরে চুন জলে দিলে দেখতে পাবে গ্লাসটা বেশ কিছুটা গরম হয়ে গেছে। অর্থাৎ, রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তাপ উৎপন্ন হয়েছে। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপ যেমন উৎপন্ন হতে পারে তেমনি এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া দেখা যায় যেখানে বিক্রিয়া মিশ্রণের তাপমাত্রা কমে গেছে। অর্থাৎ, তাপের শোষণ ঘটেছে। পাথুরে চুন জলে দিলে একটা সাদা রঙের পদার্থ উৎপন্ন হয়। একে কলিচুন বলা হয়। এর রাসায়নিক নাম ক্যালশিয়াম হাইড্রক্সাইড।

এই বিক্রিয়ায় পাথুরে চুন ও জল অংশ নিয়েছে। তাই এদের বিক্রিয়ক বলে। আর বিক্রিয়ার ফলে কলিচুন উৎপন্ন হয়েছে। তাই একে বিক্রিয়াজাত পদার্থ বলা হয়।


পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

তোমরা নীচের সারণিতে পাথুরে চুন বা ক্যালশিয়াম অক্সাইড, জল ও কলিচুনের সংকেত লেখো।

কেমন পদার্থযৌগের নামযৌগের সংকেত
বিক্রিয়কপাথুরে চুন বা ক্যালশিয়াম অক্সাইড
জল
বিক্রিয়াজাতকলিচুন বা ক্যালশিয়াম হাইড্রক্সাইড

পাথুরে চুনের সঙ্গে জলের বিক্রিয়ায় কলিচুন উৎপন্ন হয়। লক্ষ করে দেখো কতটা জায়গা লাগল কথাটা বোঝাতে। আমরা যদি বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থের সংকেত ব্যবহার করে রাসায়নিক বিক্রিয়াটাকে সংক্ষেপে প্রকাশ করি, তখন তাকে রাসায়নিক সমীকরণ বলে। রাসায়নিক সমীকরণ লেখার সময় একের বেশি বিক্রিয়ক পদার্থ থাকলে তাদের সংকেতের মাঝখানে (+)(+) চিহ্ন দিয়ে পরপর লেখা হয়। আবার একের বেশি বিক্রিয়াজাত পদার্থ থাকলে তাদের সংকেতের মাঝেও (+)(+) চিহ্ন দিয়ে লেখা হয়। এতে বোঝা যায় যে বিক্রিয়কগুলো একসঙ্গে বিক্রিয়া করেছে এবং বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলোও একসঙ্গে তৈরি হয়েছে। তাহলে পাথুরে চুনের সঙ্গে জলের বিক্রিয়ার রাসায়নিক সমীকরণ হবে:

CaO+H2OightarrowCa(OH)2CaO + H_2O ightarrow Ca(OH)_2

আবার চুনাপাথর (ক্যালশিয়াম কার্বনেট)-কে তাপ দিলে পোড়াচুন (ক্যালশিয়াম অক্সাইড) ও কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয় :

CaCO_3 rac{ ext{তাপ}}{} CaO + CO_2

এই বিক্রিয়ার বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলোর নাম ও সংকেত নীচের সারণিতে লেখো। তারপর সমীকরণের সাহায্যে বিক্রিয়াকে প্রকাশ করো।

বিক্রিয়ক পদার্থের নামবিক্রিয়কের সংকেতবিক্রিয়াজাত পদার্থের নামবিক্রিয়াজাত পদার্থের সংকেত

বিক্রিয়ার সমীকরণ হবে: .........

সমীকরণের সমতাবিধান করা

হাইড্রোজেন (H2H_2) ও অক্সিজেন (O2O_2) মিলিত হয়ে জল (H2OH_2O) উৎপন্ন করে।

বিক্রিয়াটিকে সমীকরণের আকারে কীভাবে লেখা যাবে?

H2+O2ightarrowH2OH_2 + O_2 ightarrow H_2O

লক্ষ করে দেখো সমীকরণের বাঁ ও ডান দুই দিকেই H পরমাণু সংখ্যা দুটি করে। কিন্তু O পরমাণুর সংখ্যা বাঁ দিকে দুটি হলেও ডানদিকে O পরমাণুর সংখ্যা একটি। অর্থাৎ O পরমাণুর সংখ্যা দু-দিকে আলাদা।


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমীকরণ লেখার সময় একটা বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থের সংকেত দিয়ে বিক্রিয়ার সমীকরণ প্রকাশ করার পর প্রত্যেক মৌলের পরমাণুর সংখ্যা সমীকরণের বাম ও ডান দিকে সমান হলো কিনা তা দেখতে হবে। যদি কখনও কোনো মৌলের পরমাণুর সংখ্যা সমান না হয়, তাহলে কী করতে হবে?

সমীকরণের মধ্যে লেখা বিক্রিয়ক বা বিক্রিয়াজাত পদার্থের সংকেতের আগে উপযুক্ত সংখ্যা বসিয়ে দু-দিকে প্রত্যেক মৌলের পরমাণুর সংখ্যা সমান করতে হবে। এই পদ্ধতিকেই বলে সমীকরণের সমতাবিধান (Balance) করা।

তাহলে জল তৈরির বিক্রিয়ার সমীকরণকে সমতাবিধান করলে কী পাওয়া যাবে?

সমতাবিধান করে সমীকরণ হবে —

2H2+O2=2H2O2H_2 + O_2 = 2H_2O

(1) মারকিউরিক অক্সাইডকে (HgOHgO) উত্তপ্ত করলে পারদ (HgHg) এবং অক্সিজেন (O2O_2) উৎপন্ন হয়।

HgOightarrowHg+O2HgO ightarrow Hg + O_2

এই বিক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে যে, ডান দিকে অক্সিজেন পরমাণু আছে 22টি। তাহলে বাঁদিকে যদি 2HgO2HgO লিখি? তখন আবার বাঁ দিকে Hg পরমাণুর সংখ্যা 22 হয়ে যাবে। তাই ডান দিকের Hg-এর সামনে 22 লিখতে হবে।

2HgO=2Hg+O22HgO = 2Hg + O_2, এটা সমতাযুক্ত সমীকরণ। কোনো রাসায়নিক সমীকরণে মৌল বা যৌগের সংকেতের আগে 22 বা 33 লেখা হলে তার মানে কী দাঁড়ায়? তার মানে হলো সেই মৌলের পরমাণুর সংখ্যা বা যৌগে উপস্থিত সব মৌলের পরমাণু সংখ্যাই 22 বা 33 গুণ হয়ে গেল।

(2) আবার নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন বিক্রিয়া করে অ্যামোনিয়া গঠন করে। ঘটনাটিকে বিক্রিয়ক মৌল ও বিক্রিয়াজাত যৌগের সংকেতের সাহায্যে লিখলে নীচের মতো করে লেখা যায়।

N2+H2ightarrowNH3N_2 + H_2 ightarrow NH_3

ভালো করে লক্ষ করে দেখো, বাঁ দিকে দুটি করে N ও H পরমাণু আর ডান দিকে একটি N পরমাণু ও 33টি হাইড্রোজেন পরমাণু আছে। আমরা জানি, 2233-এর ল.সা.গু. হলো 66। তাহলে বাঁ দিকে H2H_2-এর আগে 33 আর ডান দিকে NH3NH_3-এর আগে 22 লিখে দেখো তো।

N2_2++3H2_2==2NH3_3
22টি N পরমাণু3imes2=63 imes2 = 6 টি H পরমাণু22টি N পরমাণু +6+ 6 টি H পরমাণু

পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

তোমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নীচের ফাঁকা জায়গাগুলোয় ঠিকমতো সংখ্যা বসিয়ে রাসায়নিক সমীকরণগুলোর সমতাবিধান করো।

বিক্রিয়কবিক্রিয়াজাত পদার্থ
(i) C + O2_2 = .........CO
(ii) Fe2_2O3_3 + C = .........Fe + .....CO
(iii) Na2_2CO3_3 + ....HCl = NaCl + CO2_2 + H2_2O
(iv) 2Pb(NO3_3)2_2 = .........PbO + .....ΝO2_2 + O2_2
(v) .....AgNO3_3 + H2_2S = Ag2_2S + .....ΗΝΟ3_3
(vi) P4_4 + .....I2_2 = ...PI3_3
(vii) CH4_4 +.....O2_2 = CO2_2 + H2_2O
(viii) .....KClO3_3 = .KCl + .....O2_2
(ix) .....KI + Cl2_2 = .....KCl + I2_2
(x) .....NaOH + H2_2SO4_4 = Na2_2SO4_4 + ...H2_2O

রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রকারভেদ

যে সমস্ত রাসায়নিক বিক্রিয়ার উদাহরণ আমরা ওপরে দেখতে পেলাম তারা সবই কি একই ধরনের?

সব বিক্রিয়া যে একই ধরনের নয়, তা বিক্রিয়ার সমীকরণগুলো লক্ষ করলে কিছুটা বুঝতে পারবে। কোনো বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়ক পদার্থ একটাই। আবার কোনো ক্ষেত্রে একাধিক। বিক্রিয়াজাত পদার্থের ক্ষেত্রেও একইরকম ব্যাপার। তাই রাসায়নিক বিক্রিয়া নানাধরনের

তোমরা দেখেছ যে, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন মিলিত হয়ে জল উৎপন্ন করে।

2H2+O2=2H2O2H_2 + O_2 = 2H_2O

নাইট্রোজেনের সঙ্গে হাইড্রোজেন যুক্ত হয়ে অ্যামোনিয়া তৈরি হয়।

N2+3H2=2NH3N_2 + 3H_2 = 2NH_3

এই দুটো বিক্রিয়াতেই বিক্রিয়ক পদার্থগুলো মৌলিক পদার্থ। আর বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলো হলো ওই সমস্ত মৌলের সংযোগে উৎপন্ন যৌগ। তাই এরকম বিক্রিয়াকে প্রত্যক্ষ সংযোগ বিক্রিয়া বলে।

পরের পৃষ্ঠায় কিছু প্রত্যক্ষ সংযোগ বিক্রিয়ার বিক্রিয়ক মৌলের নাম দেওয়া হয়েছে। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিক্রিয়াজাত যৌগের নাম ও সংকেত এবং বিক্রিয়াগুলোর সমিত সমীকরণ লেখো। (প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও।)


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

বিক্রিয়ক মৌলবিক্রিয়াজাত যৌগের নাম ও সংকেতসমিত সমীকরণ
ম্যাগনেশিয়াম ও অক্সিজেন
হাইড্রোজেন ও ক্লোরিন

কোনো কোনো বিক্রিয়ায় একটা যৌগ ভেঙে গিয়ে একাধিক পদার্থ (মৌল বা যৌগ) উৎপন্ন হয়।

চুনাপাথর (CaCO3CaCO_3)-কে উত্তপ্ত করলে পোড়াচুন (CaOCaO) এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2CO_2) উৎপন্ন হয়। এটা তোমরা আগেই জেনেছ। আবার সামান্য অ্যাসিড মেশানো জলের মধ্য দিয়ে তড়িৎ চালনা করলে জল ভেঙে গিয়ে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন করে। এই দুটো বিক্রিয়ার সমীকরণ হলো :

CaCO3ightarrowCaO+CO2CaCO_3 ightarrow CaO + CO_2 2H2Oightarrow2H2+O22H_2O ightarrow 2H_2 + O_2

ওপরের দুটো বিক্রিয়াতেই আমরা কী দেখতে পাচ্ছি?

তাপ বা তড়িতের প্রভাবে একটা যৌগ ভেঙে একাধিক পদার্থে পরিণত হয়েছে। এরকম বিক্রিয়াকে বিয়োজন বিক্রিয়া বলে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আলোর প্রভাবেও বিয়োজন বিক্রিয়া ঘটতে পারে।

নীচের কয়েকটা বিয়োজন বিক্রিয়ার বিক্রিয়ক ও কোনো ক্ষেত্রে একটা বিক্রিয়াজাত পদার্থের সংকেত দেওয়া আছে। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিক্রিয়াজাত পদার্থের সংকেত লেখো। [প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও]


বিক্রিয়ক পদার্থবিক্রিয়াজাত পদার্থ
2KClO32KClO_3\rightarrow........... + 3O23O_2
2HgO2HgO\rightarrow........... + ...........
2H2O22H_2O_2\rightarrow........... + O2O_2

করে দেখো: একটা পাত্রে সামান্য জল ও তুঁতে মিশিয়ে তুঁতের দ্রবণ তৈরি করো। এই দ্রবণের মধ্যে একটা পরিষ্কার লোহার ছুরি ডুবিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দাও। কী করলে ও কী দেখতে পেলে তা নীচে লেখো।

Copper Sulfate Experiment

কী করলেকী দেখলে

পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

এখানে কী ঘটল?

  • তুঁতের (কপার সালফেট, CuSO4CuSO_4) দ্রবণ থেকে কিছুটা তামা এসে লোহার ছুরির গায়ে লালচে বাদামি আস্তরণ তৈরি করল। তাহলে তুঁতের দ্রবণ থেকে যখন তামা এভাবে জমা হলো, তার সঙ্গে সঙ্গে আর কী হলো?
  • লোহার ছুরি থেকে কিছুটা লোহা ওই দ্রবণের মধ্যে গুলে গেল; যদিও তা পরিমাণে এত কম যে চোখে দেখে বোঝা যাবে না। এই বিক্রিয়াটাকে সমীকরণের আকারে লিখলে কী লেখা যাবে? আমরা লিখব:

Fe+CuSO4ightarrowFeSO4+CuFe + CuSO_4 ightarrow FeSO_4 + Cu

আবার কিউপ্রিক ক্লোরাইড দ্রবণে দস্তা (জিঙ্ক) যোগ করলে লালচে বাদামি রং-এর তামা (কপার) থিতিয়ে পড়বে।

Zn+CuCl2ightarrowZnCl2+CuZn + CuCl_2 ightarrow ZnCl_2 + Cu

এরকম বিক্রিয়া, যেখানে একটা মৌল অন্য মৌলের যৌগ থেকে তাকে সরিয়ে সেই জায়গা নেয়, তাকে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া বলে।

করে দেখো: একটা পাত্রে কিছু জলের মধ্যে খাবার লবণ মিশিয়ে খাবার লবণের খুব পাতলা একটা দ্রবণ তৈরি করো। ওই দ্রবণের মধ্যে কয়েক ফোঁটা সিলভার নাইট্রেট দ্রবণ মেশাও। কী করলে ও কী দেখলে তা লেখো।

কী করলেকী দেখলে

এখানে কী ঘটল?

সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaClNaCl) ও সিলভার নাইট্রেট (AgNO3AgNO_3) বিক্রিয়া করে সাদা রঙের যে যৌগটা থিতিয়ে পড়ছে তা হলো সিলভার ক্লোরাইড (AgClAgCl)।

NaCl+AgNO3ightarrowAgCl+NaNO3NaCl + AgNO_3 ightarrow AgCl + NaNO_3

– ওপরের সমীকরণটা লক্ষ করো। বিক্রিয়াটাকে যদি এভাবে দেখা হয়:

কোন যৌগেরকোন আয়ন (বা মূলক) আলাদা হয়েছেকোন আয়ন (বা মূলক) যুক্ত হয়েছে
সোডিয়াম ক্লোরাইডCl^-NO3_3^-
সিলভার নাইট্রেটNO3_3^-Cl^-

তাহলে এই বিক্রিয়াতে দুটো বিক্রিয়ক পদার্থের মধ্যে উপস্থিত আয়ন (বা মূলক) (Cl^- ও NO3_3^-) বিনিময় ঘটে বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলো উৎপন্ন হয়েছে। তাই এটা একটা বিনিময় বিক্রিয়া


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

আবার ফেরাস সালফেট দ্রবণে বেরিয়াম ক্লোরাইড যোগ করলে সাদা রং-এর বেরিয়াম সালফেট থিতিয়ে পড়ে। আর ফেরাস ক্লোরাইড দ্রবণ উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়ার সমীকরণ হলো:

FeSO4+BaCl2ightarrowFeCl2+BaSO4FeSO_4 + BaCl_2 ightarrow FeCl_2 + BaSO_4

নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কীভাবে এই বিক্রিয়াটিকে আগের বিক্রিয়াটির মতোই ব্যাখ্যা করা যায় তা নীচের সারণিতে লেখো।

কোন যৌগেরকোন আয়ন (বা মূলক) আলাদা হয়েছেকোন আয়ন (বা মূলক) যুক্ত হয়েছে

নীচের সারণিতে দেওয়া বিক্রিয়াগুলোর সমীকরণ দেখে বিক্রিয়াগুলো কেমন ধরনের তা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে লেখো।


বিক্রিয়ার সমীকরণকেমন ধরনের বিক্রিয়া
C+O2CO2C + O_2 \to CO_2
Zn+CuSO4ZnSO4+CuZn + CuSO_4 \to ZnSO_4 + Cu
CaCl2+Na2SO4CaSO4+2NaClCaCl_2 + Na_2SO_4 \to CaSO_4 + 2NaCl
2Ag2Oতাপ4Ag+O22Ag_2O \xrightarrow{তাপ} 4Ag + O_2
PCl5PCl3+Cl2PCl_5 \to PCl_3 + Cl_2
Fe+SতাপFeSFe + S \xrightarrow{তাপ} FeS
2AgBrসূর্যালোক2Ag+Br22AgBr \xrightarrow{সূর্যালোক} 2Ag + Br_2
2H2O22H2O+O22H_2O_2 \to 2H_2O + O_2
2FeSO4তাপFe2O3+SO2+SO32FeSO_4 \xrightarrow{তাপ} Fe_2O_3 + SO_2 + SO_3
2Pb(NO3)2তাপ2PbO+4NO2+O22Pb(NO_3)_2 \xrightarrow{তাপ} 2PbO + 4NO_2 + O_2
Na2CO3+Pb(NO3)2PbCO3+2NaNO3Na_2CO_3 + Pb(NO_3)_2 \to PbCO_3 + 2NaNO_3
HgCl2+CuCuCl2+HgHgCl_2 + Cu \to CuCl_2 + Hg
Fe2O3+2AlAl2O3+2FeFe_2O_3 + 2Al \to Al_2O_3 + 2Fe


বিক্রিয়ার সমীকরণ 🧪বিক্রিয়ার ধরন
C+O2CO2C + O_2 \to CO_2সংযোজন বিক্রিয়া (Combination)
Zn+CuSO4ZnSO4+CuZn + CuSO_4 \to ZnSO_4 + Cuপ্রতিস্থাপন বিক্রিয়া (Single Displacement)
CaCl2+Na2SO4CaSO4+2NaClCaCl_2 + Na_2SO_4 \to CaSO_4 + 2NaClদ্বি-বিনিময় বিক্রিয়া (Double Displacement)
2Ag2Oতাপ4Ag+O22Ag_2O \xrightarrow{\text{তাপ}} 4Ag + O_2তাপীয় বিয়োজন (Thermal Decomposition)
PCl5PCl3+Cl2PCl_5 \to PCl_3 + Cl_2বিয়োজন বিক্রিয়া (Decomposition)
Fe+SতাপFeSFe + S \xrightarrow{\text{তাপ}} FeSসংযোজন বিক্রিয়া (Combination)
2AgBrসূর্যালোেক2Ag+Br22AgBr \xrightarrow{\text{সূর্যালোেক}} 2Ag + Br_2আলোক বিয়োজন (Photochemical Decomposition)
2H2O22H2O+O22H_2O_2 \to 2H_2O + O_2বিয়োজন বিক্রিয়া (Decomposition)
2FeSO4তাপFe2O3+SO2+SO32FeSO_4 \xrightarrow{\text{তাপ}} Fe_2O_3 + SO_2 + SO_3তাপীয় বিয়োজন (Thermal Decomposition)
2Pb(NO3)2তাপ2PbO+4NO2+O22Pb(NO_3)_2 \xrightarrow{\text{তাপ}} 2PbO + 4NO_2 + O_2তাপীয় বিয়োজন (Thermal Decomposition)
Na2CO3+Pb(NO3)2PbCO3+2NaNO3Na_2CO_3 + Pb(NO_3)_2 \to PbCO_3 + 2NaNO_3দ্বি-বিনিময় বিক্রিয়া (Double Displacement)
HgCl2+CuCuCl2+HgHgCl_2 + Cu \to CuCl_2 + Hgপ্রতিস্থাপন বিক্রিয়া (Single Displacement)
Fe2O3+2AlAl2O3+2FeFe_2O_3 + 2Al \to Al_2O_3 + 2Feপ্রতিস্থাপন বিক্রিয়া (Metal Displacement)

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel