Academy

(v) পরিবেশবান্ধব শক্তি | পৃষ্ঠা ৬৩-৬৯

(v) পরিবেশবান্ধব শক্তি | পৃষ্ঠা ৬৩-৬৯ - WBBSE - Class 7 - Default Subject

0

ভৌত পরিবেশ 🌍

🌿 পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার

বিভিন্ন ধরনের শক্তি, তাদের উৎস ও রোজকার জীবনে তাদের ব্যবহার সম্বন্ধে তোমাদের একটা মোটামুটি স্পষ্ট ধারণা এতক্ষণে হয়ে গেছে।

আমাদের জীবনধারণ অনেকটাই বহু প্রচলিত কয়েকটি শক্তি-নির্ভর।

🔥 তাপ শক্তির ব্যবহার

তাপ শক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বহু কাজে ব্যবহৃত হয়। এখানে কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:

  • মাটির হাঁড়ি ইত্যাদি পোড়াতে 🏺
  • রান্না করতে 🍲
  • বিদ্যুৎ উৎপাদনে ⚡
  • কামারশালায় লোহা পিটিয়ে নানারকম যন্ত্র বানাতে 🔨
  • অপারেশন করার আগে ছুরি, কাঁচি নির্বীজ করতে 🩺
  • ইট বানাতে 🧱
  • ইস্ত্রি করতে 👕
  • স্টিম ইঞ্জিন চালাতে 🚂

📝 অনুশীলন: তুমি তাপশক্তির আরো কয়েকটি ব্যবহার নীচের ফাঁকা ঘরে লেখো।

পরিবেশ ও বিজ্ঞান 🔬

💡 তড়িৎ শক্তির ব্যবহার

তড়িৎ শক্তি আমাদের জীবনযাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর কিছু ব্যবহার নিচে দেওয়া হলো:

  • কলকারখানার মেশিন চালাতে 🏭
  • পাম্প চালাতে 💧
  • আলো জ্বালাতে 💡
  • কম্পিউটার চালাতে 💻
  • মাইক বাজাতে 🎤
  • X-ray করতে ☢️
  • মেট্রোরেল চালাতে 🚇
  • মোবাইল ফোনের ব্যাটারি চার্জ দিতে 📱
  • ওয়াশিং মেশিন চালাতে 🧺
  • ট্রাম চালাতে 🚋

📝 অনুশীলন: তড়িৎ শক্তির অন্য কোনো ব্যবহার তোমার জানা থাকলে তা উপরে লেখো।

⛽ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার

পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন প্রভৃতি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পাওয়া শক্তির ব্যবহার:

  • জেনারেটার 🔌
  • পাওয়ার টিলার 🚜
  • লঞ্চ 🛥️
  • এরোপ্লেন ✈️

📝 অনুশীলন: আমাদের পরিচিত জীবাশ্ম জ্বালানির অন্য কোনো ব্যবহার জানা থাকলে ফাঁকা জায়গায় তা লেখো।

ভৌত পরিবেশ 🌍

এভাবেই আরো অনেক উদাহরণ তোমরা নিজেরাই নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে দিতে পারবে। এই ধরনের প্রচলিত শক্তির চাহিদা কি বছরের পর বছর একইরকম থাকছে?

মোটেই না। উপরন্তু দিনদিন তার চাহিদা বেড়েই চলেছে। তার একটা কারণ হলো জনস্ফীতি, আর অন্যান্য কারণ হলো নগরায়ন এবং যন্ত্র-নির্ভর সভ্যতা।

📈 জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব

জনসংখ্যার সঙ্গে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো সরাসরি যুক্ত:

  • আরো বেশি খাদ্য উৎপাদন 🌾
  • আরো বেশি বাসস্থান নির্মাণ 🏘️
  • আরো বেশি পরিবহণ ব্যবস্থা 🚌

এই প্রতিটি চাহিদা পূরণের জন্যেই চাই শক্তি। আর শক্তির প্রধান প্রাকৃতিক উৎস হিসাবে আমরা কী বেছে নিয়েছি?

মাটির তলায় থাকা জ্বালানির ভান্ডারকে; যেগুলো সবই জীবাশ্ম জ্বালানি। এই জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়েই তৈরি করে নিয়েছি বিদ্যুৎ। আমাদের রাজ্যে বা দেশের মধ্যেও মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিংহভাগই কয়লা পুড়িয়ে উৎপন্ন তাপবিদ্যুৎ।

🤔 ভেবে দেখো: 100-150 বছর আগে লোকসংখ্যাই বা কত ছিল? তাহলে পরিবহণ, বিদ্যুতের ব্যবহার, যন্ত্রের ব্যবহার কত কম ছিল! আর এখন?

জীবনযাত্রার পরিবর্তন

পুরোনো দিনের গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রাবর্তমানে শহরের মানুষের জীবনযাত্রা
(ছবি)(ছবি)

কিন্তু মাটির তলার এই যে প্রাকৃতিক সম্পদ (জীবাশ্ম জ্বালানি), তার জোগান কি অফুরান?

কখনই নয়। এই কয়লা বা জ্বালানি তেল তৈরি হতে কত কোটি বছর সময় লেগেছে বলো তো?

পরিবেশ ও বিজ্ঞান 🔬

যতদিন সময় লেগেছে এই সম্পদ তৈরি হতে, তার অনেক কম সময়েই মানুষ খরচ করে ফেলেছে তার অধিকাংশ। এইভাবে একদিন শেষ হয়ে যাবে মাটির তলার কয়লা বা খনিজ তেলের ভান্ডার।

⛏️ কয়লা তৈরির বিভিন্ন ধাপ

চাপ, তাপ ও দীর্ঘ সময়কয়লা তৈরির বিভিন্ন ধাপ
(ছবি)(ছবি)

📌 জানো কি, মাটিতে ড্রিল করে প্রথম পেট্রোলিয়াম উৎপাদন শুরু হয় আমেরিকা মহাদেশে, 1859 সালে

এই জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার যত বেড়েছে, পরিবেশে বেড়েছে তার দহনে উৎপন্ন পদার্থগুলোর বহুমুখী ক্ষতিকারক প্রভাবও। এই ধরনের জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারে পরিবেশে যে যে ক্ষতিগুলো হতে পারে, তার কয়েকটি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে লেখো।

তাহলে এর থেকে বাঁচতে গেলে আমরা কী করব? এখন যেসব প্রচলিত শক্তির ব্যবহার করছি, তার ব্যবহার কি বন্ধ করে দেবো? তখন আমাদের নীচের কাজগুলো চলবে কীভাবে?

  • বাড়িতে আলো জ্বালাতে হবে, পাখা, টেলিভিশন, ফ্রিজ ইত্যাদি চালাতে হবে। 🏠
  • জ্বালানি-নির্ভর পরিবহণ ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। 🚗
  • যন্ত্রচালিত খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে। 🏭
  • বহু ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে যেখানে বিভিন্ন শক্তি লাগে। তবে কি কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাবে? তাহলে এখনকার শিল্পগুলোর কী হবে?

সেজন্য আমাদের অন্য শক্তির উৎসের সন্ধান করতে হবে, যেগুলো অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতি করবে আমাদের। এগুলোই হলো পরিবেশবান্ধব শক্তি

কী কী হতে পারে এই ধরনের শক্তির উৎস? এসো দেখা যাক।

☀️ সৌরশক্তি

আমরা প্রচলিত শক্তির উৎস হিসাবে যে জীবাশ্ম জ্বালানি এত ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছি; তা আসলে উৎপন্ন হয়েছে কী থেকে?

তোমরা তো জানো সবুজ উদ্ভিদ নিজেদের খাদ্য তৈরি করে। এই কাজে তারা কোন প্রাকৃতিক শক্তি কাজে লাগায়? — সৌরশক্তি

প্রাণীরাও বেশিরভাগই খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের ওপরেই নির্ভরশীল। অর্থাৎ প্রাণীরাও পরোক্ষভাবে কোন প্রাকৃতিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল? সৌরশক্তি

এর থেকে কী বোঝা যাচ্ছে?

উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহে কোন শক্তি পরিবর্তিত হয়ে আবদ্ধ থাকছে? সৌরশক্তি

উদ্ভিদ বা প্রাণীর মৃত্যুর পর তাদের দেহাবশেষ কোটি কোটি বছর মাটির তলার তাপ ও চাপে থাকতে থাকতে পরিবর্তিত হয়ে কয়লা বা পেট্রোলিয়াম উৎপন্ন করে।

ভৌত পরিবেশ 🌍

তাহলে কয়লা বা জ্বালানি তেলে কোন শক্তি পরিবর্তিত হয়ে আবদ্ধ আছে? সৌরশক্তি

আমরা পরোক্ষভাবে এই সৌরশক্তির উপর এভাবে নির্ভর না করে কি সরাসরি সৌরশক্তির উপর নির্ভর করতে পারি না?

এই চিন্তা থেকেই ব্যবহার শুরু হয়েছে সৌরকোশের। দিনের বেলায় যে সূর্যের আলো পৃথিবীতে অবিরাম এসে পৌঁছোয়, তাকে কাজে লাগিয়েই এই সৌরকোশে বিদ্যুৎ তৈরি হয়। তারপর সৌরপ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সঞ্চয় করা যায়। রাতের বেলা বা কম সূর্যের আলোতেও তা ব্যবহার করা যায়।

নীচের ছবিগুলো লক্ষ করো। দেখো কত নানারকম ক্ষেত্রে সৌরশক্তির ব্যবহার করা হয়।

📸 সৌরশক্তির বিভিন্ন ব্যবহার

সোলার লাইটসোলার ক্যাপসোলার কুকারসোলার বাইক
(ছবি)(ছবি)(ছবি)(ছবি)
সোলার ওয়াটার হিটারসোলার সিগন্যালসোলার মোবাইল চার্জার
(ছবি)(ছবি)(ছবি)

বিদেশে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহার হয়ে আসছে সৌরশক্তির। এখন আমাদের রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতেও ব্যাপক ভাবে শুরু হয়েছে তার ব্যবহার। তুমি কোথাও এরকম ব্যবহার দেখেছ কি? জানলে নীচে তা উল্লেখ করো:

  • কোন জায়গায় সৌরশক্তির ব্যবহার হচ্ছে?
  • কী কাজে ব্যবহার হচ্ছে?

আশা করা যায়, আগামী দিনে সৌরশক্তির আরও ব্যাপক ব্যবহার আমরা দেখতে পাব।

কিন্তু সৌরপ্যানেল থেকে আবার পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না তো?

অতটা হবে না, কারণ এমনিতেই এইসব প্যানেল 10-15 বছর ঠিক থাকে। তাছাড়াও এই প্যানেলের পুনর্নবীকরণ করে আবার ব্যবহারযোগ্য করে তোলা যায়। তবে সৌরকোশ তৈরি করতে শুরুতে কিছুটা প্রচলিত শক্তি ব্যয় করতে হয়।

পরিবেশ ও বিজ্ঞান 🔬

🌬️ বায়ুশক্তি

আমাদের পরিচিত আরো একটা পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস প্রায় অব্যবহৃতই রয়ে গেছে। তাহল বায়ুপ্রবাহের শক্তি

বায়ুপ্রবাহের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বড়ো মাপের বিদ্যুৎ শক্তি তৈরি করা সম্ভব।

আমাদের রাজ্যের বকখালিতে গেলে দেখতে পাবে— বড়ো বড়ো বায়ুকল (Wind mill) কীভাবে এইকাজে সাহায্য করছে।

🌬️ বায়ুপ্রবাহের শক্তি ব্যবহারের সুবিধা

বায়ুপ্রবাহের শক্তি ব্যবহার করলে কী কী সুবিধা হতে পারে আমাদের?

  1. বায়ুর কোনো অভাব নেই। 💨
  2. একবার বায়ুকল বসালে দীর্ঘদিন চলবে। 💪
  3. যেসমস্ত জায়গায় দূর থেকে তার সংযোগ করে বিদ্যুৎ আনা সম্ভব নয়, সেখানে বায়ুশক্তির উপর নির্ভর করা যেতে পারে। 🏞️

📝 অনুশীলন: আমাদের রাজ্যের অন্য কোনো জায়গায় অথবা ভিনরাজ্যের কোনো জায়গায় বায়ুকল দেখে থাকলে জায়গাটার নাম লেখো:

📝 অনুশীলন: জানার চেষ্টা করো বায়ু শক্তি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কোন কোন কাজে ব্যবহার হচ্ছে।

♻️ জৈবশক্তি

অন্য একটা অপ্রচলিত কিন্তু পরিবেশবান্ধব শক্তি-উৎস কী হতে পারে?

জৈব বর্জ্য বা জৈব উৎসজাত (উদ্ভিজ্জ বা প্রাণীজ) পাওয়া জিনিস থেকে উৎপন্ন জৈব গ্যাস

ধরো, তোমার এলাকায় কারোর ছোটো বা বড়ো মাপের পশুখামার আছে। অথবা কারোর মুরগির পোলট্রি আছে। তাহলে তাদের মল ফেলা হলে তা পরিবেশে একটা সমস্যা তৈরি করতে পারে। কীভাবে তা কাজে লাগানো যায়?

এই সমস্ত গৃহপালিত পশু-পাখির মল বড়ো গর্তে পচিয়ে তার থেকে যে গ্যাস উৎপন্ন হবে, তা কাজে লাগানো যেতে পারে। কী কী কাজে?

📝 অনুশীলন: একটু ভেবে, লেখার চেষ্টা করো (প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও):

🏭 জৈব বর্জ্য থেকে জ্বালানি গ্যাস উৎপন্ন করার ব্যবস্থা

(ছবি)

এভাবেই পৌরসভার পচনযোগ্য জৈব বর্জ্য বা কচুরিপানার মতো আগাছা কাজে লাগানো যাবে কিনা, তা আলোচনা করো। এগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যাবে।

এই কয়েকটি পরিবেশবান্ধব শক্তি ছাড়াও আরো কয়েকটা অপ্রচলিত শক্তির বিষয়ে নিরন্তর গবেষণা করছেন...

ভৌত পরিবেশ 🌍

...বিজ্ঞানীরা। সেগুলো কী কী?

জোয়ারভাটার শক্তি, মাটির নীচের তাপশক্তি ইত্যাদি।

এরপরও সত্যিকারের পরিবেশবান্ধব হতে গেলে আমাদের আরো একটু সতর্ক হতে হবে। কী কী বিষয়ে আমাদের নজর দিতে হবে?

যথাসম্ভব শক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। 🛑

এখনকার মতোই যদি কয়লা বা খনিজ তেলের মতো জ্বালানির ব্যবহার চলতে থাকে, তবে হয়তো আরো 40 থেকে 50 বছর চলতে পারে অবশিষ্ট জ্বালানি দিয়ে। কিন্তু তারপর কী হবে? তাই শক্তির অপব্যবহার কমাতে হবে।

উপযুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা বা খনিজ তেল থেকে অন্যান্য কম দূষক জ্বালানি তৈরি করা যেতে পারে। এভাবে কয়লা বা খনিজ তেলের প্রাকৃতিক সঞ্চয়ের আয়ু দীর্ঘায়িত করা যাবে।

📝 অনুশীলন: অন্য আরো একটা জ্বালানি কী হতে পারে বলো তো?

মাটির তলায় বা পাহাড়ের ফাটলে আবদ্ধ জ্বালানি গ্যাসের উৎস থেকে যে গ্যাস আমাদের অজান্তেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তা কাজে লাগাতে সচেষ্ট হতে হবে।

আমাদের মতো নদীমাতৃক দেশে গভীর নলকূপের জল সেচের কাজে বা পানীয় জলের উৎস হিসেবে ব্যবহার না করে, এই সমস্ত কাজে নদীর জল ব্যবহার করলে মাটির তলা থেকে জল তোলার জন্য ব্যবহৃত প্রচলিত শক্তির অনেকটাই বাঁচানো যায়। 💧

যেখানে সুবিধা আছে সেখানে জলপথে পরিবহণের যন্ত্রহীন নৌকার ব্যবহার বাড়ানোর কথা ভাবা যেতে পারে। সাইকেলের মতো পরিবহণ – যার মধ্যে কোন জ্বালানি লাগে না, এরকম পরিবহণ আরো বেশি ব্যবহার করা যেতে পারে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ চিনে সাইকেলের ব্যবহার চোখে পড়ার মতো। তার জন্য রাস্তায় সাইকেল যাবার আলাদা পথ নির্দিষ্ট করা আছে। 🚴

আমোদপ্রমোদে অতিরিক্ত পরিমাণ শক্তি ব্যবহার না করে, মানব কল্যাণের কথা ভাবা প্রয়োজন। 🙏

অপ্রচলিত পরিবেশবান্ধব শক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সকলের সচেতনতা সুনিশ্চিত করতে হবে। 🗣️

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel