(iv) তড়িৎ | পৃষ্ঠা ৪৯-৬২
(iv) তড়িৎ | পৃষ্ঠা ৪৯-৬২ - WBBSE - Class 7 - Default Subject
তড়িৎ 💡
তড়িৎ প্রবাহ
ভৌত পরিবেশ
তড়িৎ-এর সাহায্যে চলে এমন কয়েকটা জিনিসের নাম লেখো।
ধরো, রাত্রিবেলায় লোডশেডিং হয়েছে, অথবা অন্য কোনো কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, এসব ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক আলো পেতে মানুষ কী কী ব্যবহার করে?
তোমরা সবাই টর্চ দেখেছ। অন্ধকারে টর্চের আলোয় আমরা পথ চলি। টর্চের ভিতরে কী থাকে তা কি কখনও দেখেছ?
ব্যাটারি
টর্চের ভিতর তোমরা যাকে ব্যাটারি বলে জানো তা হলো Dry cell বা নির্জল কোশ। চলতি কথায় একে শুধু, সেল (cell) -ই বলে। একাধিক সেল-এর সমবায়ে তৈরি হয় ব্যাটারি।
'সেল' ছাড়া টর্চ জ্বলে না। আবার 'সেল' যুক্ত করলেই টর্চ জ্বালালে জ্বলে। তাহলে, টর্চের বৈদ্যুতিক বালব জ্বালার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দেয় 'সেল'।
📌 জেনে রাখা দরকার
টর্চের সেলের ভিতরে থাকে রাসায়নিক পদার্থ। এই রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারের ফলে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপ বদল করে। এই সেলকে বলে 'প্রাইমারি সেল' বা 'ডিসপোজেবল সেল'।
একটা সেল নাও। খুব ভালো করে সেলটাকে লক্ষ করো। এবার দেখো '+' চিহ্ন কোথায় আছে?
যে প্রান্তে '+' চিহ্ন আছে তার উলটো প্রান্তে কী চিহ্ন আছে?
এবার দেখো সেলের কোন প্রান্তে একটা ধাতুর তৈরি টুপি রয়েছে? '+' চিহ্ন দেওয়া প্রান্তে, না '-' চিহ্ন যুক্ত প্রান্তে?
পরিবেশ ও বিজ্ঞান
দেখো তো সেলটির অপর প্রান্তে কী আছে?
দেখা গেল, একটা 'সেলের' দুটি প্রান্ত,
- 'ধাতব টুপি' প্রান্ত বা '+' চিহ্নিত প্রান্ত,
- 'ধাতব চাকতি' প্রান্ত বা '-' চিহ্নিত প্রান্ত।
📌 জেনে রাখা ভালো
বাজারে আরো অনেক রকমের সেল আছে।
ইলেকট্রনিক হাতঘড়িতে যে 'সেল' থাকে তা দেখতে অনেকটা বোতামের মতো। একে বোতাম সেল (Button Cell) বলে।
গাড়ির শক্তিশালী ব্যাটারিতে থাকে ছটা বা তার বেশি সেল। এই ধরনের সেলকে 'সেকেন্ডারি সেল' বলে।
বাড়ির বড়োদের সাহায্যে টর্চের বালবটাকে বার করো। ভালো করে লক্ষ করো।
টর্চের সুইচ অন করলে বালবের ভিতরে যে অংশটা জ্বলে ওঠে তাকে বলে ফিলামেন্ট। ফিলামেন্ট, দুটো মোটা ধাতব তারের মাঝে থাকে। ওই তার দুটোর একটা সেলের ধনাত্মক প্রান্তে (+ চিহ্নিত প্রান্তে) এবং অপরটি সেলের ঋণাত্মক প্রান্তে (- চিহ্নিত প্রান্তে) যুক্ত থাকে।
🧪 হাতেকলমে 1
একটা টর্চের বালব, এক বা একাধিক সেল, বিভিন্ন রঙের পাঁচটা প্লাস্টিক আবরণযুক্ত পরিবাহী তার, ব্ল্যাক টেপ ও রাবার ব্যান্ড (গার্টার) জোগাড় করো।
প্রতিটি তারের দু-প্রান্তে খানিকটা প্লাস্টিক আবরণ (প্লাস্টিক কোটিং) ছাড়িয়ে নিয়ে ধাতব অংশ বার করে রাখো।
- সেলের দু-প্রান্তে একটা করে তার যুক্ত করো।
- বালবটার দু-প্রান্তে একটা করে তার যুক্ত করো।
এবার পরের পৃষ্ঠার ছবিতে, যেভাবে দেখানো হয়েছে, সেইরকম বিভিন্নভাবে তারগুলো যুক্ত করো। দেখো কোন ক্ষেত্রে আলো জ্বলছে। (ছবির নীচে দেওয়া লেখা থেকে ঠিক উত্তরটি বেছে নাও)
ভৌত পরিবেশ
আলো জ্বলছে/আলো জ্বলছে না (For each diagram A-F)
🧪 হাতেকলমে 2
এবার দুটো সেল পাশাপাশি বসিয়ে নিয়ে বালবটা জ্বালাও।
কী দেখলে?
বালবটার আলো আরও বেশি জোরালো হলো কি?
বোঝা গেল যে একটার বদলে দুটো সেল পাশাপাশি বসালে তড়িৎশক্তির পরিমাণ বাড়ে।
'হাতেকলমে 1'-এর পরীক্ষায় দুটি ক্ষেত্রে আলো জ্বলেছে (B ও F)।
এই দুই ক্ষেত্রেই বালবের দুই প্রান্তের সঙ্গে সেলের দুই প্রান্ত যুক্ত করা হয়েছে। এই ব্যবস্থাকে বলা হয় সার্কিট বা বর্তনী।
পরিবেশ ও বিজ্ঞান
বর্তনী আঁকার জন্য কয়েকটি প্রতীক নীচের সারণিতে দেওয়া হলো।
| প্রতীক | নাম | চিহ্ন | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| সেল | বড়োদাগটা ( l ) '+' প্রান্ত বোঝায় ছোটোদাগটা ( . ) '-' প্রান্ত বোঝায় | ||
| ব্যাটারি (দুই সেলের) | |||
| সুইচ | সুইচ 'অফ' অবস্থা | ||
| সুইচ | সুইচ 'অন' অবস্থা | ||
| তার | |||
| বালব |
🧪 হাতেকলমে 3
ছবির মতো করে একটা বর্তনী তৈরি করো।
বালবটা কি জ্বলছে?
যদি বালবটা জ্বলে তবে বর্তনী ঠিক আছে।
এবার একটা স্কেচ পেন নাও। সেলের '+' প্রান্ত থেকে তার বরাবর স্কেচ পেন দিয়ে বালব অবধি দাগ দাও।
সেল থেকে তড়িৎ তোমার পেনের দাগ বরাবর তারের মধ্যে দিয়ে বালবের এক প্রান্তে পৌঁছোয়।
বালবটা যেহেতু জ্বলছে, তাই তড়িৎ বালবের ভিতরের তার আর ফিলামেন্ট ধরে বালবের অপর প্রান্তে এসে পৌঁছোয়।
এবার বালবের অপর প্রান্ত থেকে শুরু করে তার বরাবর সেলের '-' প্রান্ত অবধি স্কেচ পেন দিয়ে দাগ দাও।
ভৌত পরিবেশ
এবার প্রতীকের সাহায্যে বর্তনীটি পাশে আঁকা হলো। ভালোভাবে বর্তনীটি লক্ষ করো।
আগের পৃষ্ঠার সারণিতে দেওয়া প্রতীকের সাহায্যে কীভাবে পাশের বর্তনীটি আঁকা হয়েছে তা নিশ্চয়ই বুঝেছ।
এবার নীচের বাঁ দিকের ছবি দেখে তার বর্তনীটি ডানদিকে আঁকো।
নীচের ছবিগুলি খুঁটিয়ে দেখো ও ছবির সঙ্গে যুক্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।
আলো কি জ্বলবে? আলো কি জ্বলবে? ...... আলো কি জ্বলবে? ...... আলো কি জ্বলবে? ...... আলো কি জ্বলবে? আলো কি জ্বলবে? ......
পরিবেশ ও বিজ্ঞান
বর্তনী কোথাও ছিন্ন হয়ে গেলে, তার মধ্যে দিয়ে তড়িৎ চলাচলে বাধা পড়ে। তখন বর্তনী কাজ করে না। তখন ওই বর্তনীকে মুক্ত বর্তনী বলে। আর যদি বর্তনী কোথাও ছিন্ন না হয় তখন ওই বর্তনীকে বদ্ধ বর্তনী বলে।
🧪 হাতেকলমে 4
একটা থার্মোকলের টুকরো বা কাঠের টুকরো, একটা সেফটিপিন, আর দুটো বোর্ডপিন নাও। নীচের ছবির মতো ব্যবস্থা করো।
দুটো পিনের দূরত্ব এমন হবে, যাতে দ্বিতীয় পিনে গাঁথা সেফটিপিনকে ঘুরিয়ে প্রথম পিনে স্পর্শ করা যায়।
ব্যাস, তুমি বানিয়ে ফেলেছ একটা সুইচ।
একটা বালব, তিনটে তার, আর একটা সেল নাও। এবার পাশের বর্তনীটি তৈরি করো।
সেফটিপিনটা ছবিতে যেমন দেখানো আছে তেমনভাবে রয়েছে।
বালবটা কি জ্বলবে?
এবার সেফটিপিনটা ঘুরিয়ে প্রথম পিনে স্পর্শ করা হলো।
বালবটা কি জ্বলবে?
তোমার বাড়িতে যে সব ইলেকট্রিকের সরঞ্জামের মধ্যে সুইচ আছে তার মধ্যে প্রায় সব সুইচই এই নীতিতে কাজ করে।
🧪 হাতেকলমে 5
একটা সেল, একটা টর্চের বালব, আর তিনটে তার নাও। তারগুলোর দুই প্রান্তে প্লাস্টিক ছাড়িয়ে কিছুটা ধাতব তার বার করে রাখো।
এবার পরের পৃষ্ঠার ছবির মতো করে তার, সেল ও বালব লাগাও। ব্যাস, তৈরি হলো তোমার বর্তনী পরীক্ষক বা টেস্টার।
ভৌত পরিবেশ
এখন, একটা কাঠের ও একটা প্লাস্টিকের স্কেল, একটা লোহার পেরেক, একটা সুতির কাপড়ের টুকরো, একটা স্টিলের চামচ, একটা চাবি, একটা কাগজের টুকরো, চিনে মাটির একটা কাপ নাও।
এবার তোমার তৈরি টেস্টারটা নাও। উপরের প্রতিটি জিনিসের দু-প্রান্তে তোমার টেস্টারের A ও B প্রান্ত স্পর্শ করো। লক্ষ করো, কোন ক্ষেত্রে বালবটি জ্বলছে।
যে যে ক্ষেত্রে বালব জ্বলছে, সেই বস্তুগুলোর মধ্য দিয়ে নিশ্চয়ই তড়িৎ প্রবাহিত হচ্ছে।
এই বস্তুগুলোকে বলে 'তড়িতের সুপরিবাহী'।
যেসব ক্ষেত্রে বালব জ্বলছে না, সেই বস্তুগুলোর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারে না। তাই এদের তড়িৎ-এর 'কুপরিবাহী' বা অন্তরক বলে।
| বস্তুর নাম | আলো জ্বলছে বা জ্বলছে না | এর মধ্যে দিয়ে তড়িৎ যেতে পারে বা পারে না | তড়িতের সুপরিবাহী বা কুপরিবাহী |
|---|---|---|---|
| কাঠের স্কেল | |||
| প্লাস্টিকের স্কেল | |||
| লোহার পেরেক | |||
| সুতির কাপড় | |||
| স্টিলের চামচ | |||
| চাবি | |||
| কাগজের টুকরো | |||
| চিনেমাটির কাপ |
উপরের সারণিটি পূরণ করো।
তোমার টেস্টারটা তো বায়ুর মধ্যে আছে। তাহলে টেস্টারের 'A' ও 'B' প্রান্ত বায়ুকে স্পর্শ করেই রয়েছে, তাই না? কিন্তু বালব তো জ্বলছে না!
তাহলে বায়ু কি সুপরিবাহী না কুপরিবাহী?
এক্ষেত্রে বর্তনীটি কি বদ্ধ না মুক্ত?
পরিবেশ ও বিজ্ঞান
🤔 ভেবে বলো তো
ইলেকট্রিকের তার প্লাস্টিকের ভেতর ঢাকা থাকে কেন? আবার, বর্তনী তৈরির সময় ওই প্লাস্টিকের আবরণ ছাড়িয়ে নিতে হয় কেন?
ইলেকট্রিক সরঞ্জামে চিনেমাটি বা প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয় কেন?
ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রিরা যখন চালু লাইনে কাজ করেন তখন তাঁরা কাঠের আসবাবপত্রের উপর দাঁড়িয়ে কাজ করেন কেন?
মনে রেখো, প্লাস্টিক, চিনেমাটি, কাঠ প্রভৃতি তড়িৎ-এর কুপরিবাহী।
তড়িৎ প্রবাহের ফল ⚡
🧪 হাতেকলমে 6
একটা চুম্বক শলাকা নাও। চুম্বক শলাকাকে উত্তর-দক্ষিণ মুখ করে সাম্য অবস্থায় আসতে দাও। এবার একটা শক্তিশালী ব্যাটারি, দু-টুকরো (একটা ছোটো ও একটা বড়ো) প্লাস্টিকের তার যাদের দু-প্রান্তে প্লাস্টিক ছাড়িয়ে ধাতব তারের কিছু অংশ বার করা আছে ও একটা সুইচ নাও। ছবির মতো করে বর্তনীটা তৈরি করো।
এবার, বড়ো তারটার দু-প্রান্ত হাত দিয়ে, চুম্বকশলাকার দুই সুচালো মুখ বরাবর চুম্বক শলাকার সামান্য একটু ওপরে টান টান করে ধরো। এবার বন্ধুকে বলো সুইচ অন করতে।
সুইচ অন করার সঙ্গে সঙ্গে, চুম্বকটার বিক্ষেপ হলো কেন?
কাছাকাছি তো কোনো চুম্বক নেই। তাহলে ওই চুম্বককে বল প্রয়োগ করল কে?
ভালো করে দেখো তো চুম্বকটা এখন কি আর উত্তর-দক্ষিণ মুখ করে আছে?
এবার সুইচ অফ করে দাও।
কী দেখতে পেলে?
চুম্বকটার আবার বিক্ষেপ হলো। আর সাম্যাবস্থায় এসে উত্তর-দক্ষিণ মুখ করে দাঁড়াল।
তাহলে এই পরীক্ষা আমাদের বুঝতে সাহায্য করছে তারের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ পাঠালে চুম্বকের ওপর তার প্রভাব পড়ে।
ভৌত পরিবেশ
তোমরা দেখেছ, একটা চুম্বক শলাকার কাছে একটা দণ্ড চুম্বক নিয়ে এলে, শলাকাটির বিক্ষেপ হয়, কারণ শলাকাটির ওপর একটি চৌম্বক বল ক্রিয়া করে।
তাহলে ওপরের পরীক্ষায় চুম্বক শলাকার বিক্ষেপের জন্য যে চৌম্বক বল দায়ী তা এল কোথা থেকে? তড়িৎপ্রবাহের ফলে যে চৌম্বক বলের সৃষ্টি হয় ওপরের পরীক্ষা তার প্রমাণ। কারণ সুইচ অফ করার পর ওই বলের আর অস্তিত্ব থাকে না।
🧪 হাতেকলমে 7
একটা সেল, একটা বড়ো লোহার পেরেক, কয়েকটা ছোটো পেরেক, তোমার তৈরি একটা সুইচ বোর্ড ও চারটে তার নাও। ছবির মতো করে সার্কিট তৈরি করো।
সুইচ 'অন' করো।
এবার বড়ো পেরেকটার কাছে ছোটো পেরেকগুলো ধরো।
কী দেখলে বলো?
ছোটো পেরেকগুলোকে বড়ো পেরেকটা আকর্ষণ করছে কেন?
এবার সুইচ 'অফ' করো।
এবার বড়ো পেরেকটা কি আর ছোটো পেরেকগুলোকে আকর্ষণ করছে?
সুইচ 'অন' করলে বড়ো পেরেকটা ছোটো পেরেকগুলোকে আকর্ষণ করছে।
আবার অফ করলে তার আকর্ষণ ক্ষমতা চলে যাচ্ছে।
তবে কি তড়িৎ প্রবাহই ওই পেরেকটাকে চুম্বকে পরিণত করেছে?
কোনো চৌম্বক পদার্থের (লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি) ওপর তার জড়িয়ে ওই তারের মধ্য দিয়ে তড়িৎ পাঠালে ওই চৌম্বক পদার্থ চুম্বকে পরিণত হয়। এধরনের চুম্বককে তড়িৎ চুম্বক বলে। তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করলে তা আর চুম্বক থাকে না।
পরিবেশ ও বিজ্ঞান
🧪 হাতেকলমে 8
হাতেকলমে 7 -এর বর্তনীর (সার্কিটের) সুইচ 'অন' করো। দেখো সবচেয়ে বেশি কটা ছোটো পেরেককে বড়ো পেরেকটা আকর্ষণ করতে পারছে।
ছোটো পেরেকের সংখ্যা = ...............টি।
এবার বড়ো পেরেকটার উপর তারের পাক সংখ্যা বাড়িয়ে দাও। সুইচ অন করো।
এবার দেখো বড়ো পেরেক সবচেয়ে বেশি কটা ছোটো পেরেককে আকর্ষণ করতে পারছে?
ছোটো পেরেকের সংখ্যা = ............... টি।
প্রথমবারের চেয়ে দ্বিতীয়বারের ছোটো পেরেকের সংখ্যা বাড়ল কেন?
দ্বিতীয়বারে তড়িৎ চুম্বকের আকর্ষণ ক্ষমতা বাড়ল কেন? তারের পাক সংখ্যা বাড়লে তড়িৎ চুম্বকের শক্তি বাড়ে।
🧪 হাতেকলমে 9
এবার তারের পাক সংখ্যা একই রেখে সেল সংখ্যা বাড়িয়ে পরীক্ষাটা করো। এবার দেখো আগের চেয়ে তড়িৎ চুম্বকটা (বড়ো পেরেক) আরও বেশি সংখ্যক ছোটো পেরেককে আকর্ষণ করছে কী?
তাহলে দেখা গেল সেল সংখ্যা বাড়লে অর্থাৎ তড়িতের পরিমাণ বাড়লে তড়িৎ চুম্বকের শক্তি বাড়ে।
📌 জেনে রাখা ভালো
আজকাল তড়িৎ চুম্বকের ব্যবহার ক্রমে বেড়ে চলেছে। কয়েকটা উদাহরণ জেনে রাখো।
- ইলেকট্রিক কলিং বেলে তড়িৎ চুম্বকের ব্যবহার হয়।
- লাউড স্পিকার তৈরি করতে তড়িৎ চুম্বক ব্যবহৃত হয়।
ভৌত পরিবেশ
- ইলেকট্রিক ক্রেনে তড়িৎ চুম্বক ব্যবহৃত হয়।
- চোখে কোনো চৌম্বক পদার্থের কণা পড়লে, তা তুলতে ব্যবহার হয় এক বিশেষ যন্ত্রের। সেই যন্ত্র তৈরিতে তড়িৎ চুম্বক ব্যবহৃত হয়।
- মোটর তৈরিতে তড়িৎ চুম্বক ব্যবহৃত হয়।
- টেলিফোনে তড়িৎ চুম্বক ব্যবহৃত হয়।
তড়িৎ প্রবাহের ফলে আলো উৎপন্ন হয় ✨
🧪 হাতেকলমে 10
একটা LED (Light Emitting Diode), একটা সেল, কয়েকটা দু-মুখ ছাড়ানো তার ও তোমার তৈরি একটা সুইচ নাও।
(Light Emitting Diode) LED
এমন এক ইলেকট্রনিক বস্তু যা সামান্য তড়িতেই আলো দেয়। এতে কোনো ফিলামেন্ট থাকে না। এর ধনাত্মক প্রান্তটা বড়ো আর ঋণাত্মক প্রান্তটা ছোটো। একটা LED কুড়ি বছরেও নষ্ট হয় না। বাজারে নানান রং-এর আলো নিঃসরণকারী LED কিনতে পাওয়া যায়।
নীচের ছবির মতো বর্তনী তৈরি করো।
এবার সুইচটা অন করো।
কী দেখতে পেলে?
LED -তে উৎপন্ন এই আলোক শক্তির উৎস কী?
এবার সুইচটা অফ করো।
কী দেখলে?
LED - তে এবার আলো জ্বলল না কেন?
তাহলে দেখা যাচ্ছে LED -এর মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে, আলো জ্বলে। তড়িৎ প্রবাহ না থাকলে আলো জ্বলে না।
তাহলে কী তড়িৎ প্রবাহই LED -তে উৎপন্ন আলোর কারণ?
LED -এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ হওয়ার সময় তড়িৎশক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। তাই সুইচ অন করলে LED -এর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ ঘটার ফলে LED জ্বলে ওঠে।
পরিবেশ ও বিজ্ঞান
🧪 হাতেকলমে 11
এখন 'হাতেকলমে-10'-এর বদলে দুটো সেল নিয়ে নীচের ছবির মতো করে সার্কিট তৈরি করো। সুইচ 'অন' করো।
'হাতেকলমে-10' -এর চেয়ে এবার LED -এর আলো কি বেশি জোরালো?
ভেবে বলো তো, হাতেকলমে-10-এর সার্কিটের সঙ্গে এবারের সার্কিটের পার্থক্য কোথায়? তাহলে কি সেলের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আলোর জোর বেড়েছে? সেলের সংখ্যা বাড়লে সার্কিটে কিসের পরিমাণ বাড়ে?
তাহলে, LED -তে আলো জোরালো হওয়ার কারণ হলো [উপযুক্ত শব্দ বসাও] তড়িৎ প্রবাহ বাড়লে আলোর জোরও বাড়ে।
তড়িৎ প্রবাহের ফলে তাপ উৎপন্ন হয় 🔥
🧪 হাতেকলমে 12
একটা নাইক্রোম তার (যে-কোনো ইলেকট্রিকের দোকানে পাওয়া যায়), দু-প্রান্ত ছাড়ানো কয়েকটা প্লাস্টিক তার, দুটো সেল, তোমার তৈরি একটা সুইচ, দুটো পেরেক ও একটা কাঠের ছোটো তক্তা নাও।
এবার ছবির মতো করে সার্কিট তৈরি করো। সুইচ 'অন' করার আগে নাইক্রোম তারটার উষ্ণতা হাত দিয়ে ছুঁয়ে অনুভব করো। এবার, সুইচ 'অন' করো। এ অবস্থায় 10-11 সেকেন্ড রেখে দাও। আবার স্পর্শ করে দেখো।
দ্বিতীয়বারে নাইক্রোম তারের উষ্ণতা বেশি হলো কেন?
প্রথম ক্ষেত্রে নাইক্রোম তারের মধ্যে দিয়ে কি তড়িৎ চলাচল করেছিল?
দ্বিতীয় ক্ষেত্রে নাইক্রোম তারের মধ্যে দিয়ে কি তড়িৎ চলাচল করেছিল?
তাহলে তড়িৎ চলাচলের জন্যই কি নাইক্রোম তারের উষ্ণতা বেড়ে গিয়েছিল?
অতএব জানা গেল পরিবাহীর মধ্যে দিয়ে তড়িৎ চলাচল করলে পরিবাহীতে তাপ উৎপন্ন হয়। আগের পরীক্ষাটিতে (হাতে কলমে 11) বাল্বটি কিছুক্ষণ জ্বলার পর তাতে হাত দিয়ে স্পর্শ করলে দেখবে বাল্বটি গরম হয়ে গেছে। এক্ষেত্রেও বাল্বের ফিলামেন্টের মধ্যে দিয়ে তড়িৎ চলাচল করার ফলেই এই তাপ উৎপন্ন হয়েছে।
📌 জেনে রাখা ভালো
তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ফলের কয়েকটা প্রয়োগ জেনে রাখো।
- ইলেকট্রিক ইস্ত্রি: এতে 'নাইক্রোম তার' অভ্রের উপর জড়ানো থাকে। ওর মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলেই নাইক্রোম তার গরম হয়ে ওঠে।
ভৌত পরিবেশ
-
ইলেকট্রিক বালব: বালবের ফিলামেন্ট তৈরি হয় টাংস্টেন ধাতু দিয়ে। ফিলামেন্টে তড়িৎ চলাচল হলেই তার মধ্যে উৎপন্ন হয় তাপ। এই তাপ শক্তি আলোেক শক্তিতে বদলে গেলে উৎপন্ন হয় আলো।
-
ফিউজ তার: যে-কোনো বৈদ্যুতিক সার্কিটের নিরাপত্তার জন্য ফিউজ তার ব্যবহার হয়। এই ফিউজের মধ্যে দিয়েই তড়িৎ ওই সার্কিটে প্রবেশ করে। ফিউজ তার খুব কম উষ্ণতায় গলে যায়। ফলে কোনো কারণে খুব বেশি পরিমাণ তড়িৎ এসে পড়লে ফিউজ তার খুব উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গলে যায়। ফলে বর্তনী ছিন্ন হয়ে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। তাই সার্কিটের কোনো ক্ষতি হয় না। ফিউজ তার আবার পালটে দেওয়া যায়।
আলো থেকে তড়িৎ প্রবাহ উৎপাদন ☀️
বলতে পারো ক্যালকুলেটার কোন শক্তিতে চলে? আর এই শক্তি ক্যালকুলেটার কোথা থেকে পায়?
এবার ভেবে বলো, এমন ক্যালকুলেটারের কথা, যাকে চালু রাখতে 'সেল' বা 'ব্যাটারি' পালটাতে হয় না?
সোলার ক্যালকুলেটার
সোলার ক্যালকুলেটার হলো এক বিশেষ ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র। এই যন্ত্রও চলে তড়িৎ শক্তি দিয়ে। ওই তড়িৎ শক্তির উৎস কিন্তু বাজারে যে সেল বা ব্যাটারি পাওয়া যায় সেটা নয়।
তাহলে ওই তড়িৎ আসে কোথা থেকে?
আসলে, সোলার ক্যালকুলেটারের তড়িৎ জোগান দেয় সোলার প্যানেল। কতগুলো সোলার সেল দিয়ে এই প্যানেল তৈরি হয়। সূর্যের আলো ওই প্যানেলের উপর পড়লে ওই আলোক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে বদলে যায়।
পরিবেশ ও বিজ্ঞান
সৌর শক্তিতে চলে এমন আর কোনো উদাহরণ কি তোমার জানা আছে?
সোলার কুকার, সোলার টেবিল ফ্যান, সোলার টিউবলাইট, সোলার স্ট্রিট লাইট ইত্যাদি সবই চলে সৌর শক্তিতে।
সোলার প্যানেলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা খুব কম। তবুও এখনও যেসব গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছোয়নি সেখানে সৌরশক্তিচালিত যন্ত্রই একমাত্র ভরসা।
জীবের শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়ায় তড়িৎ শক্তির প্রভাব 🧬
তড়িৎ শক্তির ও জীবজগতের সম্পর্কও বেশ গভীর। তোমরা জানো যে ইলেকট্রিকের খোলা তারে হাত দিলে আমাদের দেহের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ চলে যায়। আমরা বলি 'শক' লেগেছে। সমস্ত জীবের দেহের তরলে তড়িৎযুক্ত নানান ধরনের পরমাণু আর পরমাণু জোেট থাকে। এইসব তড়িৎযুক্ত কণার উপস্থিতির জন্য জীবদেহের তরল তড়িৎ পরিবাহী হয়।
জেলিফিশ, ইলেকট্রিক ইল (eel) মাছের কথা কী তোমরা শুনেছ? এদের দেহে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা আছে। এরা যথেষ্ট তীব্র তড়িৎ তৈরি করতে পারে। এই বিদ্যুৎ শত্রুকে হতভম্ব করে দেয় আর দূরে সরিয়ে রাখে।
হৃৎপিণ্ডের পেশিতে তড়িৎ উদ্দীপনা তৈরির জন্য এক বিশেষ ধরনের উপাদান থাকে। এদের তৈরি তড়িৎ উদ্দীপনা হৃৎস্পন্দন তৈরি করে। যা সারা দেহের বিদ্যুৎ তরঙ্গের আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
মস্তিষ্ক তরঙ্গও তড়িতীয়। মস্তিষ্ক অসংখ্য স্নায়ুকোশ নিয়ে গঠিত। স্নায়ুকোশের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য তড়িৎ উদ্দীপনার সাহায্যেই পরিবাহিত হয়। ফলে পেশির সংকোচন-প্রসারণ সম্ভব হয়। আমরা চলাফেরা ও নানা কাজ করতে পারি। জীবেরা উত্তেজনায় সাড়া দেয়।
1930-এর দশকে একদল বিজ্ঞানী স্কুইড বলে একরকম অমেরুদণ্ডী প্রাণীর স্নায়ুকোশ নিয়ে গবেষণা করছিলেন। পরীক্ষা করতে গিয়ে তাঁরা বুঝলেন যে স্নায়ুকোশের ভিতরে ও বাইরে তড়িৎবাহী কণাদের সংখ্যা ও প্রকৃতিতে পার্থক্য আছে। তড়িৎবাহী কণার পরিমাণে এই পার্থক্য থাকার জন্যই স্নায়ুকোশ বিদ্যুৎ পরিবহণ করতে পারে। এত প্রাণী থাকতে স্কুইড কেন?- মানুষের স্নায়ুকোশ খুব সরু তাই তা নিয়ে পরীক্ষা করা শক্ত। স্কুইডের স্নায়ুকোশের ব্যাস মানুষের স্নায়ুকোশের ব্যাসের প্রায় 25 গুণ। তাই তা নিয়ে পরীক্ষা করা সহজ।
CONTENT MANAGER