৭.✨ অমল ও সুধা ✨— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — পৃষ্ঠা ৩১
৭.✨ অমল ও সুধা ✨— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — পৃষ্ঠা ৩১ - WBBPE - Grade 3 - বাংলা
✨ অমল ও সুধা ✨
✍️ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অমল: কে তুমি মন খারাপ করতে করতে চলেছ, একটু দাড়াও-না ভাই!
[বালিকার প্রবেশ]
বালিকা: আমার কি দাঁড়াবার জো আছে! বেলা বয়ে যায় যে।
অমল: তোমার দাঁড়াতে ইচ্ছে করছে না—আমারও এখানে আর বসে থাকতে ইচ্ছা করে না।
বালিকা: তোমাকে দেখে আমার মনে হচ্ছে যেন সকাল বেলার তারা—তোমার কী হয়েছে বলো তো?
অমল: জানি নে কী হয়েছে, কবিরাজ আমাকে বেরোতে বারণ করেছে।
বালিকা: আহা, তবে বেরিয়ে না—কবিরাজের কথা মেনে চলতে হয়—দুরন্তপনা করতে নেই, তা হলে লোকে দুষ্টু বলবে। বাইরের দিকে তাকিয়ে তোমার মন ছটফট করছে, আমি বরং তোমার এই আধখানা দরজা বন্ধ করে দিই।
অমল: না, না, বন্ধ কোরো না—এখানে আমার আর-সব বন্ধ, কেবল এইটুকু খোলা। তুমি কে বলো-না—আমি তো তোমাকে চিনি নে!
বালিকা: আমি সুধা।
অমল: সুধা?
সুধা: জানো না? আমি এখানকার মালিনীর মেয়ে! 🌸
অমন: তুমি কী করো? 🤔
সুধা: সাজি ভ'রে ফুল তুলে নিয়ে এসে মালা গাঁথি। এখন ফুল তুলতে চলেছি। 🌼🧺
অমন: ফুল তুলতে চলেছ? তাই তোমার পা-দুটি অমন খুশি হয়ে উঠেছে, যতই চলো বাজবে—ঝম ঝম ঝম। 🎶 আমি যদি তোমার সঙ্গে যেতে পারতুম তা হলে উঃ! যেখানে দেখা যায় না সেইখান থেকে আমি তোমাকে ফুল পেড়ে দিতুম। 🌷✨
সুধা: তাই নাকি! ফুলের খবর আমার চেয়ে তুমি নাকি বেশি জানো! 😲
অমন: জানি, আমি খুব জানি। আমি সাত ভাই চম্পার খবর জানি। 🌳 আমার মনে আমাকে যদি সবাই ছেড়ে দেয় তা হলে আমি চলে যেতে পারি—খুব ঘন সরু ডালের সব-আগায় যেখানে রাস্তা খুঁজে পাওয়া যায় না, সেইখানে আমি টাঁপা হয়ে ফুটতে পারি—পাখি বসে বসে দোলা খায় সেইখানে আমি টাঁপা হয়ে ফুটতে পারি—আমার পারুলদিদি হবে? 🐦🌿
সুধা: কী বুদ্ধি তোমার! 🧠 পারুলদিদি আমি কী করে হব! আমি যে সুধা—শশী মালিনীর মেয়ে। আমাকে রোজ এত এত মালা গাঁথতে হয়। আমি তোমার মতো এইখানে বসে থাকতে পারতুম তা হলে কেমন মজা হত! 🤷♀️ তা হলে সমস্ত দিন কী করতুম? ⏰
অমন: আমার বেনেবউ ফুল আছে, তার দিয়ে ঝুম্মা আমার দিদি ও তাকে নিয়ে—যাই, বেলা বয়ে যাচ্ছে, দেরি হলে ফুল আর থাকবে না। ⏳
সুধা: আমার সঙ্গে আর-একটু গল্প করো-না, আমার খুব ভালো লাগছে। 😊
অমন: আচ্ছা বেশ, তুমি দুষ্টুমি কোরো না, লক্ষ্মী ছেলে হয়ে এইখানে স্থির বসে থাকো, আমি ফুল তুলে ফেরবার পথে তোমার সঙ্গে গল্প করে আর, আমাকে একটি ফুল দিয়ে যাবে? 🤫🌸
সুধা: ফুল অমনি কেমন করে দেব? দাম দিতে হবে যে। 💰
অমন: আমি যখন বড়ো হব তখন তোমাকে দাম দেব। আমি কাজ খুঁজতে যাব এই ঘরনা পার হয়ে, তখন তোমাকে দাম দিয়ে যাব। 🏞️
সুধা: আচ্ছা, বেশ। 👍
অমন: তুমি তা হলে ফুল তুলে আসব? 💐
সুধা: আসব? 🤔
অমন: আসব? 🤨
সুধা: আসব। 😊
অমন: আমাকে ভুলে যাবে না? আমার নাম অমল। মনে থাকবে তোমার? 👦
সুধা: না ভুলব না। দেখো, মনে থাকবে। 🤝
Page 34
📖 পাঠ-সহায়
📌 লেখক-পরিচিতি
১৮৬১ সালের ৭ মে কোলকাতার জোড়াসাঁকোয় ঠাকুর পরিবারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতার নাম সারদা দেবী। শৈশবে তিনি কোলকাতার চারটি স্কুলে কিছুদিন পড়াশোনা করলেও, পরে তাঁর পছন্দ অনুসারে বাড়িতেই গৃহশিক্ষকের কাছে তিনি পাঠ গ্রহণ করেন। অতি অল্প বয়সে তিনি কবিতা লিখতে শুরু করেন। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে—‘সোনার তরী’ (১৮৯৪), ‘চিত্রা’ (১৮৯৬), ‘বলাকা’ (১৯১৬), ‘পুনশ্চ’ (১৯৩২) ইত্যাদি। এছাড়াও ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ এবং অসংখ্য গান রচনা করে তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ লেখক-কবিদের মধ্যে হয়েছেন ‘বিশ্বকবি’। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ করে ‘নোবেল পুরস্কার’ লাভ করেন। মহান এই কবির জীবনাবসান ঘটে ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট।
💡 গল্পের মূলভাব
পাঠের ‘অমল ও সুধা’ অংশটি নেওয়া হয়েছে ‘ডাকঘর’ নাটক থেকে। অসুস্থ অমলকে কবিরাজেরা বাইরে যেতে মানা ও নানা দিয়ে সুধাকে ডেকে সে তার কাছে গল্প শোনে। সুধা ফুল তুলতে, মালা গাঁথে। অমলকে মুগ্ধ করে দেওয়ার বাসনা থাকলেও সে প্রথার বাইরে যেতে পারে না। বালক অমল ও বালিকা সুধার স্বপ্নময় কল্পনার জগতের সংবাদ আদান-প্রদান শেষে সুধা অমলকে মনে রাখার এবং ফিরে আসার কথা দিয়ে ফুল তুলতে চলে যায়। দুই বালক-বালিকার কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে লেখক শিশুমনের কল্পনা শক্তি, মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং জীবনের ছোটো ছোটো খুঁটি থেকে বাঁচার রসদ সংগ্রহ করে তুলে ধরেছেন।
🎭 নাট্যাংশের নামকরণ
‘অমল ও সুধা’ নাট্যাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটক থেকে নেওয়া। অমল ঘরে বন্দি। সে বাইরে যেতে চায়। কিন্তু কবিরাজ তাকে বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন। তাই অমল বাইরের কাউকে দেখলে তার সঙ্গে কথা বলতে চায়। সে মনে করে, যারা বাইরে ইচ্ছা মতো ঘুরতে পারে, তারাই সুখী। অমলের সঙ্গে সুধার সাক্ষাতে অমলের এই ইচ্ছার প্রকাশ ঘটেছে। তাই বিষয়ানুসারে নাট্যাংশটির নামকরণ সার্থক।
📝 শব্দার্থ ও টীকা
- মুল—নূপুর।
- মরামর—নূপুরের শব্দ।
- বালিকা—মেয়ে।
- গোরজ—উপায়।
- ইচ্ছে—মনের আশা।
- সকাল বেলার তারা—উজ্জ্বল নয় এমন নক্ষত্র।
- কবিরাজ—বৈদ্য বা চিকিৎসক।
- বরং—বরং।
- মালিনী—যে মহিলা গাছের যত্ন নেন।
- সাজি—ফুল রাখার ছোটো ঝুড়ি।
- ধন—গভীর।
- সাত ভাই চম্পা—প্রচলিত উপকথার বিশেষ।
- পুবি মেলি—পোষা বিড়াল।
- ঝরনা—পাহাড় থেকে নেমে আসা জলরাশি।
- বেণে—জাতি।
🎯 অনুশীলনী
১। সঠিক উত্তরটি খুঁজে নিয়ে লেখো:
১.১ মন প'রে পথ চলছিলেন— (ক) সুধা (খ) অমল (গ) সাতভাই চম্পা
১.২ অমল ছিল— (ক) নৌকায় (খ) ঘরে (গ) ফুলের বাগানে
💡 গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলী
১. সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
- ১.৩ অমলের ইচ্ছে করত না—
- (ক) বাগানে যেতে
- (খ) ঘরে বসে থাকতে
- (গ) ফুল তুলতে
- ১.৪ সকাল বেলাকার তারা—
- (ক) অমল
- (খ) সুধা
- (গ) শশী মালিনী
- ১.৫ অমল ফুল চেয়েছিল—
- (ক) শশী মালিনীর কাছে
- (খ) সুধার কাছে
- (গ) মনুয়া পাখির কাছে
- ১.৬ অমল কাজ খুঁজতে যেতে চায়—
- (ক) পাহাড়ের নীচে
- (খ) ঝরনা পার হয়ে
- (গ) দূর দেশে
২. এক কথায় উত্তর দাও: 📝
- (ক) ‘একটু দাঁড়াও না ভাই’—কে ডেকেছিল?
- (খ) কে অমলকে বাইরে যেতে বারণ করেছিল?
- (গ) ‘থমথম করতে করতে চলেছে’—'থমথম' শব্দ কীসের ছিল?
- (ঘ) সুধা কার মেয়ে ছিল?
- (ঙ) সুধা কোথায় চলেছিল?
- (চ) ‘আঁই, বেলা বয়ে যাচ্ছে’—বেলা বয়ে গিয়ে দেরি হলে কী হবে?
৩. দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও: 💬
- (ক) ‘একটু দাঁড়াও না ভাই’ এই বলে কে, কাকে জানালা দিয়ে ডেকেছিল?
- (খ) অমল ঘরে ছিল কেন?
- (গ) সুধা কবিরাজের কথা শুনে কী বলেছিল?
- (ঘ) ‘সেইখানে আমি চাপা হয়ে ফুটতে পারি’—কোথায় অমল চাপা হয়ে ফুটতে পারে?
- (ঙ) ‘যদি তোমার মতো এইভাবে বসে থাকতে পারতুম, তাহলে কেমন মজা হত!’—সমস্ত ঘরে বসে থাকলে সুধা কী করত বলে জানিয়েছে?
৪. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও: ✍️
- (ক) ‘কে তুমি মল ঝমঝম করতে করতে চলেছ’—এই বলে অমল সুধাকে ডেকে কী বলেছিল? সুধা কী উত্তর দিয়েছিল?
- (খ) ‘আমি এখানকার মালিনীর মেয়ে’—এই কথা থেকে সুধার পরিচয় এবং তার কাজ সম্পর্কে কী জেনেছ?
- (গ) অমল সুধাকে পছন্দ করে কেন?
- (ঘ) ফুলের দাম চাইলে অমল কী বলেছিল?
৫. নিজের ভাষায় উত্তর লেখো: 🤔
- (ক) ‘আমারও এখানে আর বসে থাকতে ইচ্ছা করে না’—অমলের এমন উক্তির কারণ কী?
- (খ) অমল ও সুধার কথা থেকে অমল সম্পর্কে তোমার কী মনে হয়েছে সাজিয়ে লেখো।
📖 অনুশীলনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
(গ) 'আমাকে একটি ফুল দিয়ে যাবে?'—এমন কথা জানতে চাইলে সুধা ফিরে এসে অমলকে ফুল দেবে বলেছিল। তোমার কী মনে হয় সে ফিরে এসেছিল? কেন মনে হয় তা বুঝিয়ে লেখো।
৬। নিচের শব্দগুলির অর্থ লেখো: 💡
- জো: [ অর্থ লিখুন ]
- কবিরাজ: [ অর্থ লিখুন ]
- বালিকা: [ অর্থ লিখুন ]
- ঝরনা: [ অর্থ লিখুন ]
- সাজি: [ অর্থ লিখুন ]
- দাম: [ অর্থ লিখুন ]
৭। নিচের শব্দগুলির বিপরীত শব্দ লেখো: 🔄
- আছে: [ বিপরীত শব্দ লিখুন ]
- দুষ্ট: [ বিপরীত শব্দ লিখুন ]
- আগায়: [ বিপরীত শব্দ লিখুন ]
- ঘন: [ বিপরীত শব্দ লিখুন ]
- বড়ো: [ বিপরীত শব্দ লিখুন ]
- আসা: [ বিপরীত শব্দ লিখুন ]
৮। নিচের শব্দগুলির পদ পরিবর্তন করো: 📝
- ইচ্ছা: [ পদ পরিবর্তন করুন ]
- কবিরাজ: [ পদ পরিবর্তন করুন ]
- মেয়ে: [ পদ পরিবর্তন করুন ]
- বন: [ পদ পরিবর্তন করুন ]
- দাম: [ পদ পরিবর্তন করুন ]
- দিন: [ পদ পরিবর্তন করুন ]
৯। বর্ণ সাজিয়ে শব্দ করো: 🔠
- ড়া দী র বা: [ সাজিয়ে লিখুন ]
- জ ক রা বি: [ সাজিয়ে লিখুন ]
- না খা আ ঘ: [ সাজিয়ে লিখুন ]
- দি পা বু দি ল: [ সাজিয়ে লিখুন ]
১০। নিচের শব্দগুলি দিয়ে বাক্য রচনা করো: ✍️
- কবিরাজ: [ বাক্য রচনা করুন ]
- দূরন্তপনা: [ বাক্য রচনা করুন ]
- ঝমঝম: [ বাক্য রচনা করুন ]
- খুশি: [ বাক্য রচনা করুন ]
- রাস্তা: [ বাক্য রচনা করুন ]
- গল্প: [ বাক্য রচনা করুন ]
১১। সঠিক বাক্যটির পাশে '✓' এবং ভুল বাক্যর পাশে 'x' চিহ্ন বসাও: ✅❌
- (ক) সুধার পায়ের মতো শব্দ হচ্ছিল। ✓
- (খ) অমল নূপুরের শব্দ শুনতে পায়নি। ❌
- (গ) অমলের জানালা বন্ধ ছিল। ❌
- (ঘ) সুধার মায়ের নাম শশী মালিনী। ✓
- (ঙ) অমল নামটি সুধা ভুলে যাবে বলে জানিয়েছিল। ❌
১২। নাটিকাতে ময়না পাখি আর চাপা ফুলের নাম পেয়েছ। তুমি তেমন আরও ছয়টা পাখি ও ফুলের নাম লেখো: 🐦🌸
পাখি:
- [ পাখির নাম ]
- [ পাখির নাম ]
- [ পাখির নাম ]
ফুল:
- [ ফুলের নাম ]
- [ ফুলের নাম ]
- [ ফুলের নাম ]
CONTENT MANAGER