1. পরিবেশ ও জীবজগতের পারস্পরিক নির্ভরতা 🌍
1. পরিবেশ ও জীবজগতের পারস্পরিক নির্ভরতা 🌍 - WBBSE - Class 6 - পরিবেশ বিজ্ঞান
1. পরিবেশ ও জীবজগতের পারস্পরিক নির্ভরতা 🌍
আমরা ও অন্যান্য প্রাণীরা নির্ভর করি গাছদের ওপর 🌱
আমাদের পরিবার আর সমাজ 👨👩👧👦
জলের কল খারাপ হয়ে গেছে। 💧 খাবার জল দরকার। স্নান করার জল চাই। জামাকাপড় কাচতেও জল না হলে চলে নাকি! কিন্তু কল সারাবে কে? কাঞ্চু খোঁজ দিল পাড়ার নন্দ মিস্তিরিকে। ডাকতেই চলে এলেন। আর সহজেই সারিয়ে দিলেন। 🛠️
ভাবুন তো! 🤔
- তোমাদের জামাকাপড় কি তোমরা নিজেরা সেলাই করতে পারো? 🧵
- বাড়িতে ইলেকট্রিকের লাইনে বা ইলেকট্রিকের কোনো জিনিসের সমস্যা হলে তোমরা কি নিজেরা ঠিক করতে পারো? ⚡
- দাদার সাইকেল খারাপ হলে কী করো? 🚲
বাড়িতে তোমার বাবা বা বাড়ির অন্য বড়ো কেউ হয়তো বাজার করে দেন। 🛒 মা বা অন্য কেউ রান্না করেন। 🍲
কোনো কোনো কাজের জন্য তোমাকে তোমার পরিবারের লোকজনের ওপর নির্ভর করতে হয়। আবার অন্য কোনো কাজে তোমাকে হয়তো তোমার পরিবারের বাইরে সমাজের বিভিন্ন লোকের সাহায্য নিতে হয়। 🤝
আচ্ছা, তোমরা কি তোমাদের সব কাজ নিজেরা করতে পারো? কোন কোন কাজের জন্য তুমি তোমার পরিবারের লোকজনের ওপর নির্ভর করো? আর কোন কোন কাজের জন্য তোমাকে সমাজের অন্যদের ওপর নির্ভর করতে হয়? 🤔
কোন কাজ করার জন্য তোমাকে তোমার পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্ভর করতে হয়? 👨👩👧👦
| কোন কাজ (Which task) | কার ওপর নির্ভর করো (On whom do you depend) |
|---|---|
| 1. প্রতিদিন রান্না করা (Daily cooking) | 1. মা, কাকিমা, ............................ (Mother, aunt, ........................) |
| 2. ছোটো ভাই বা বোনকে দেখাশোনা করা (Taking care of younger brother or sister) | 2. বাবা, কাকু, ............................ (Father, uncle, ........................) |
| 3. | 3. |
কোন কাজ করার জন্য তোমাকে সমাজের বিভিন্ন লোকের ওপর নির্ভর করতে হয়? 🌍
| কোন কাজ (Which task) | কার ওপর নির্ভর করো (On whom do you depend) |
|---|---|
| 1. | 1. |
| 2. | 2. |
| 3. | 3. |
🌿 পরিবেশ ও বিজ্ঞান
আমরা মানে মানুষেরা কি কোনোভাবে গাছেরদের উপর নির্ভর করি? নিচের তালিকায় দেখো মানুষ কোন জিনিসের জন্য গাছপালার উপর নির্ভর করে? 🤔
মানুষ কিভাবে গাছের উপর নির্ভর করে
🍎 খাবারের জন্য:
- ডাল
- আটা
🏡 ঘরবাড়ি তৈরিতে বা প্রতিদিন ব্যবহার করা হয় এমন জিনিস তৈরি করার জন্য:
- ঘরের কাঠের আসবাব
👗 জামাকাপড় তৈরি করার জন্য:
💡 অন্যান্য জিনিসের জন্য:
- ওষুধের জন্য
মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণীরাও (যেমন - কাক, টিয়া, কাঠবেড়ালি, বেজি ও আরও অন্যান্য প্রাণী) কি গাছের উপর নির্ভরশীল? নিচে লেখার চেষ্টা করো। 🐒🌳
প্রাণীরা কিভাবে গাছের উপর নির্ভর করে
🥕 খাবারের জন্য:
巢 বাসা তৈরির জন্য:
✨ অন্যান্য প্রয়োজনে:
Page 2 🍃
🌍 পরিবেশ ও জীবজগতের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা\n\n## 🍽️ খাবারের জন্য আমরা ও অন্যান্য প্রাণীরা যেভাবে গাছের ওপর নির্ভর করি\n\n💡আগের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে আমরা মানুষ আর অন্যান্য প্রাণীরা নানাভাবে গাছের ওপর নির্ভর করি। আমরা বিভিন্ন ধরনের খাবার গাছপালা থেকে পাই। এছাড়াও আমরা অনেক ধরনের খাবার খাই, যেগুলো আমরা বিভিন্ন প্রাণীদের থেকেও পাই। যেমন - গরু বা ছাগলের দুধ অথবা মুরগির মাংস।\n\nকিন্তু একটু ভাবো তো, 🐄 গরু, 🐐 ছাগল বা 🐔 মুরগিরা তাদের খাবার কোথা থেকে জোগাড় করে? সেই গাছপালা থেকেই। মুরগি বা অন্যান্য প্রাণীরা যে পোকামাকড় খায়, সেই পোকামাকড়গুলোও কিন্তু গাছপালার কোনো না কোনো অংশ খেয়েই বেঁচে থাকে।\n\n📌 প্রাণী তাদের খাবার হিসেবে পুরো গাছকেই খেয়ে ফেলে, আবার কেউ কেউ গাছের কোনো অংশ খেয়েই সন্তুষ্ট থাকে।\n\nসুতরাং, খাবারের জন্য আমরা মানুষ আর অন্যান্য সব প্রাণী অবশ্যই গাছের ওপর সরাসরি বা একটু ঘুরপথে নির্ভর করে থাকি।\n\n---\n\n### 🌿 প্রাণীরা কীভাবে খাবারের জন্য গাছের ওপর নির্ভর করে?\n\nএবার দেখা যাক, প্রাণীরা কীভাবে খাবারের জন্য গাছের ওপর নির্ভর করে। প্রয়োজনে তুমি নিচের সারণিতে আরো কিছু প্রাণীর নাম যোগ করতে পারো।\n\nপ্রাণীর নাম | যেসব গাছপালা বা তাদের যে অংশগুলো খায়\n---|---\n1. গোরু\n2. ছাগল\n3. মুরগি\n4. বাদুড়\n5. কাঠবিড়ালি\n6. টিয়া\n7. শামুক\n8. পঙ্গপাল\n9. \n\n---\n\n### 🧑🌾 মানুষ কীভাবে খাবারের জন্য গাছের ওপর নির্ভর করে?\n\nএবার এসো দেখি খাবারের জন্য মানুষ কীভাবে গাছের ওপর নির্ভর করে। নিচের সারণিতে কিছু উদ্ভিদের নাম দেওয়া আছে। তোমরা আরো কিছু গাছের নাম ওই সারণিতে যোগ করতে পারো। এইসব গাছের কোন অংশ আমরা খাই সেটাও লেখার চেষ্টা করো।\n\nউদ্ভিদের নাম | উদ্ভিদের কোন অংশ মানুষ খায় (মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল, বীজ)\n---|---\n1. গাজর\n2. আদা\n3. আম\n4. সজিনা\n5. কুমড়ো\n6. কলা\n7. ভুট্টা\n8. পালংশাক\n9. কলমিশাক\n10. তালতা
পরিবেশ ও বিজ্ঞান
থাকার জায়গা বা বাসা তৈরির জন্য প্রাণীরা যেভাবে গাছদের ওপর নির্ভর করে 🌳
অনেক পাখি 🐦 গাছের শুকনো ডাল, পাতা - এইসব দিয়ে গাছে বাসা বানায়। আবার কিছু পাখি সরাসরি ডাল-পাতা দিয়ে বাসা না বানালেও, যেমন বাড়ির ঝুলন্তলিতে, কড়ি-বরগার ফাঁকে বা অন্য কোনো কানাচে বাসা তৈরি করে। তবে, তারা বাসা বানানোর উপকরণ সেই গাছ থেকেই জোগাড় করে থাকে! 🌿
💡 মজার বিষয় হলো, সব প্রাণী কিন্তু গাছে বাসা বানায় না। কিছু প্রাণী গাছের ডাল, কোটর বা ফোকরকেই তাদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে।
কেবল পাখিই নয়, কাঠবেড়ালি 🐿️, মাকড়সা 🕷️, পিঁপড়ে 🐜 এবং আরও অনেক প্রাণী গাছে বসবাস করে। এদের মধ্যে কেউ কেউ গাছের জিনিসপত্র ব্যবহার করে বাসা তৈরি করে, আবার কেউ কেউ কোনো বাসা না বানিয়ে গাছের কোটরে বা ডালে আশ্রয় নেয়। উদাহরণস্বরূপ, বাদুড় 🦇 গাছের ডালে ঝুলে থাকে।
📌 সংক্ষেপে, প্রাণীরা গাছের উপর বিভিন্নভাবে নির্ভর করে। কিছু প্রাণী গাছ থেকে বাসা তৈরির উপকরণ সংগ্রহ করে, আবার কিছু প্রাণী গাছকেই তাদের বাসস্থান হিসেবে বেছে নেয়।
🔬 পর্যবেক্ষণ ও তালিকা তৈরি করো:
তোমার বাড়ি বা স্কুলের আশেপাশে গাছগুলো খুব ভালো করে লক্ষ্য করো। সেখানে কী কী প্রাণী বাস করছে, তা খুঁজে বের করো।
- তারা কীভাবে গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে বাসা বানাচ্ছে, তা লক্ষ্য করো।
- কোনো প্রাণী যদি বাসা না বানিয়ে গাছকেই তাদের থাকার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করে, তাদের কথাও নীচে দেওয়া তালিকায় লেখো।
🛠️ প্রাণীরা যেসব গাছ থেকে বাসা তৈরির জিনিসপত্র জোগাড় করে
| কোন প্রাণী | কোন উদ্ভিদে বাসা বাঁধে | কীভাবে বাসা তৈরি করে |
|---|---|---|
| 1. চড়াই, শালিক | 1. ডালপালা আছে এমন যে-কোনো গাছ | 1. গাছের ছোটো ডাল সাজিয়ে |
| 2. লাল পিঁপড়ে (লালসা) | 2. যে-কোনো চওড়া, গোল পাতাওলা গাছ | 2. গাছের পাতা মুড়ে বাসা তৈরি করে |
| 3. | 3. | 3. |
| 4. | 4. | 4. |
| 5. | 5. | 5. |
🌳 গাছই যখন প্রাণীদের থাকার জায়গা
| কোন প্রাণী | কোন উদ্ভিদে বাসা বাঁধে |
|---|---|
| 1. কাক | 1. ডালপালা আছে এমন যে কোনো গাছ |
| 2. বাদুড় | 2. |
| 3. | 3. |
| 4. | 4. |
| 5. | 5. |
আমাদের আদিবাস তৈরির জন্য যেভাবে গাছেদের ওপর নির্ভর করি 🏡
প্রাণীরা তাদের বাসা তৈরি বা থাকার জায়গা খুঁজে পেতে কীভাবে গাছের ওপর নির্ভর করে সেটা তো আমরা জানলাম। আমরাও কি আমাদের আদিবাস, প্রয়োজনীয় আসবাব বা কাজের নানান সরঞ্জাম তৈরির জন্য গাছের ওপর নির্ভর করি? অবশ্যই!
যেমন ধরো, পাখিরা অালয় বা যেখানে বেশি ভূমিকম্প হয় এমন জায়গায় কাঠ দিয়ে বাড়ি তৈরি করাই রীতি। আমাদের দিনে বাড়ি তৈরি করার সময় আরও কড়ি-বরগা তৈরি করা হয় কাঠ দিয়ে। অনেক অাগে থেকেই কাঠের নানা জিনিসপত্র তৈরি হতো কাঠ দিয়ে। জাহাজ বা মোটর গাড়ির চাকা তৈরিতে কাঠের ব্যবহার বহুদিনের। এছাড়াও চেয়ার-টেবিল, খাট তৈরি করতেও কাঠ ব্যবহার করা হয়। কাঠ দিয়ে ঘর সাজানোর নানারকম শৌখিন জিনিসপত্রও আমাদের বাড়িতে কমবেশি দেখা যায়। 🌳🪵
📝 আমাদের রোজকার জীবনে, আদিবাস তৈরিতে বা প্রতিদিন ব্যবহার করা হয় এমন জিনিস তৈরির জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে গাছের বিভিন্ন অংশের ব্যবহার আছে নিচের তালিকায় লেখো:
| গাছের কোন অংশ | গাছের নাম | কী কাজে ব্যবহার করা হয় |
|---|---|---|
| 1. গুঁড়ি | ||
| 2. | তালগাছ | হাতপাখা |
| 3. ফল | ||
| 4. |
জামাকাপড়ের জন্য গাছের ওপর নির্ভর করতে হয় 👕🧵
📌 দরজির দোকান বা বাড়ি থেকে সূতির কাপড় বা সূতির জামার একটা টুকরো জোগাড় করো। ওই কাপড়ের টুকরোটিকে খুব ভালো করে লক্ষ করো। কী মনে হচ্ছে? ওই টুকরোটা কি দিয়ে তৈরি বোলো তো? এসো আমরা এবারে সেটাই জানার চেষ্টা করি।
- ওই কাপড়ের টুকরোটার যে-কোনো একটা ধার ভালো করে লক্ষ করো। দেখতে পাবে কাপড়ের টুকরোটার ধার থেকে আলগা সুতো বেরিয়ে আছে।
- আর সুতো যদি না বেরিয়ে থাকে, তবে একটা পিন বা সূচের সাহায্যে কাপড়ের টুকরোটা থেকে সুতো বের করে নাও।
- এবারে ওই সুতোটিকে টেবিলে রাখো। সুতোটার একপ্রান্ত থাবাতে যেমন দেখানো আছে সেইভাবে বুড়ো আঙুল দিয়ে চাপ দাও।
- আর অন্য প্রান্ত থেকে সুতোর দৈর্ঘ্য বরাবর নখ দিয়ে ঘষতে থাকো। কী দেখতে পেলে?
- সুতোটার যে প্রান্তে নখ দিয়ে ঘষছিলে, দেখবে সেখান থেকে সুতোর থেকে সরু সরু কিছু অংশ বেরিয়ে পড়েছে। এগুলো কী বোলো তো? 🤔
পরিবেশ ও বিজ্ঞান 🌍
💡 সূতো কখনও সূতো পরানো যায় চেষ্টা করে দেখেছ? বেশ কয়েকবার চেষ্টা করা ব্যর্থ হয়েছে? সূতো যে ভাঙা তন্তু তো তোমাদেরই বারণা, সেই প্রাগৈতিহাসিকভাবে লক্ষ্য করেছ কি? দেখতে পারো, সেই প্রাগৈতিহাসিকভাবে অনেকটা সূতো তোলার কাজ সম্পূর্ণ অর্থ থাকে না বটে। ওই সূতো তোলার কাজ সম্পন্ন হলো তন্তু। তাহলে কী বোনা গেল? কাপড় তৈরি হয় সূতো দিয়ে। আর সূতো তৈরি হয় তন্তু দিয়ে।
তন্তু → সূতো → কাপড় 📌
🤔 তন্তু আমরা কোথা থেকে পাই বলো?
🌿 আরেকটা কিছু আমরা পাই প্রানীদের থেকে। প্রানীদের থেকে পাওয়া তন্তুগুলোর কথা পরে বলব। সূতিবস্ত্র তৈরি হয় যে তন্তু থেকে, সেটা পাওয়া যায় তুলা গাছ থেকে - যার আর এক নাম কার্পাস। এছাড়াও এখন কৃত্রিমভাবে তৈরি অনেক তন্তু থেকেও কাপড় তৈরি করা হচ্ছে। তবে শুধু যে জামাকাপড় তৈরির করার জন্যই তন্তুর উৎস তা ই নয়। তন্তু দিয়ে তৈরি হয় দড়ি। যেমন নারকোল দড়ি, সুতলি দড়ি। আগে বিভিন্ন জিনিসের জন্য যে জামাকাপড় প্রয়োজন হত বস্ত্র আর ব্যাগ। বটের আঁশ কী দিয়ে তৈরি হয় জানো কি? পাটের তন্তু দিয়ে। যদিও এখন পাটের বদলে কৃত্রিম তন্তু দিয়ে বস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে।
জামাকাপড় তৈরি করার জন্য গাছ কীভাবে সাহায্য করে? 📝
নিচের সারণিতে লেখো। (অতীতে জামাকাপড় তৈরির কাজে উদ্ভিদকে কীভাবে লাগানো হতো, সেটাও লিখতে পারো)
| উদ্ভিদের নাম | উদ্ভিদের কোন অংশ | এখন কীভাবে কাজে লাগে | আগে কীভাবে কাজে লাগানো হতো |
|---|---|---|---|
| 1. কার্পাস | |||
| 2. শিমুল | |||
| 3. পাট | |||
| 4. নারকোল | |||
| 5. |
পরিবেশ ও জীবজগতের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা 🌍%0D%0A%0D%0A## গাছেদের কাছ থেকে যেসব জিনিস আমরা পেয়ে থাকি 🌳🎁%0D%0A%0D%0Aআমরা খাবার আর থাকার জায়গার জন্য আমরা আর অন্যান্য প্রাণীরা কতকক্ষেত্রে গাছেদের ওপর নির্ভরশীল সেটা আমরা জানতাম। জামাকাপড় আর বস্ত্র, ব্যাগ ইত্যাদি তৈরির জন্য আমরা কীভাবে উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল সেটাও আমরা জেনেছি। এইসব জিনিস ছাড়াও প্রতিদিন আমরা নানান গাছ থেকে আরও অনেক উপকার পাই। এসো এবারে সেগুলো জানার চেষ্টা করি।%0D%0A%0D%0Aতুমি যে এই খাতা পড়ছ, বলো তো এই বইটা কী দিয়ে তৈরি? 💡 কাগজ দিয়ে। আমাদের লেখালিখি করি কাগজে। এই কাগজ থেকেই তৈরি হয়। আর আগে আমাদের লেখার কাগজও গাছ থেকেই তৈরি হত। যদিও এখন অনেকক্ষেত্রে এই কাগজের জন্য কৃত্রিমভাবে তৈরি আঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে।%0D%0A%0D%0A> 📌 রজন%0D%0A> কাঠের জিনিসকে চকচকে করে তোলার জন্য পালিশ করা হয়। পালিশ করার জন্য যে রজন লাগে তা ও আসে পাইন বা সালের মতো গাছ থেকে।%0D%0A%0D%0Aবটগাছ থেকে একটা পাটা বা ডাল ভাঙলে যেসব সাদা দুধের মতো চটচটে একটা জিনিস বেরিয়ে আসে। ওটা আসলে ওই গাছের বর্জ্য পদার্থ। রাবার গাছ থেকে এরকম যে পদার্থ বেরোয়, তা থেকেই তৈরি হয় রাবার। এই রাবার দিয়েই আগে টায়ার তৈরি করা হতো। এবং রবার দিয়ে তৈরি করা হয় গাড়ি টায়ার, আর পেন্সিলের দাগ মোছার ইরেজারও তৈরি করা হয়।%0D%0A%0D%0Aম্যালেরিয়ার ওষুধ তৈরি হয় 🧪 কুইনাইন থেকে। কুইনাইন পাওয়া যায় সিনকোনা গাছের ছাল থেকে। কুইনাইন হলো সিনকোনা গাছের একধরনের বর্জ্য পদার্থ। এছাড়াও সর্পগন্ধা, তুলসী, বাসক-এর মতো নানা গাছ থেকে পাওয়া যায় আরও নানারকম ওষধি।%0D%0A%0D%0A## অক্সিজেন তো গাছই দেয় 🌬️🌿%0D%0A%0D%0Aতোমরা জানো, আমরা যখন শ্বাস নিই তখন অক্সিজেন গ্রহণ করি। আর শ্বাস ছাড়ার সময় কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করি। আবার গাছেরা খাবার তৈরি করার সময় কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে আর অক্সিজেন ত্যাগ করে। আর এর ফলে পরিবেশে অক্সিজেনের যোগান বজায় থাকে। কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে পরিবেশে নানারকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পরিবেশে অক্সিজেন আর কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য রাখা খুবই জরুরি।%0D%0A%0D%0Aখাবার, থাকার জায়গা বা জামাকাপড় তৈরি – এইসব ছাড়া আর অন্যান্য প্রয়োজনে মানুষ কীভাবে উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে? নিচের সারনিতে লেখার চেষ্টা করো।%0D%0A%0D%0A| কীভাবে নির্ভর করি | কোন উদ্ভিদ থেকে পাই |%0D%0A| :------------------------- | :----------------- |%0D%0A| 1. কাঠ পালিশ করার জন্য | |%0D%0A| 2. পেন্সিলের দাগ মোছার রবার | |%0D%0A| 3. ম্যালেরিয়ার ওষুধ – কুইনাইন | |%0D%0A| 4. | |%0D%0A| 5. | |
পরিবেশ ও বিজ্ঞান 🔬
গাছেরা যেভাবে নির্ভর করে প্রাণীদের ওপর 🌱
পরাগমিলন 🌸
স্কুল ছুটির পর কমল, রাখী আর ফিরোজ দাদাদের বাগানের ভেতর দিয়ে গল্প করতে করতে বাড়ি ফিরছে। কমল হঠাৎ হাত নেড়ে বন্ধুদের কথা বলতে বারণ করল। আর সামনের একটা ফুলগাছের দিকে দেখাল। সবাই দেখল ফুলের ওপর অসাধারণ সুন্দর একটা প্রজাপতি বসে আছে। ওরা চুপ করে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকল। একটু পরেই প্রজাপতিটা উড়ে আরেকটা ফুলের ওপর গিয়ে বসল। তার একটু পরেই আবার আরেকটা দূরের একটা ফুলে গিয়ে বসল। প্রজাপতির কার্যকলাপ দেখে ওরা আবার হাঁটতে আরম্ভ করল। কমল বলল, “প্রজাপতিটা এক ফুল থেকে আর এক ফুলে গিয়ে বসছে কেন বলো তো?”
রাখী বলল — “কেন আবার, ফুলের মধু খাবে বলে।”
ফিরোজ বলল — “শুধু ফুলের মধু খাবে। সেদিন স্যার বলছিলেন যে ওরা কিছু ফুলের পরাগরেণুও খায়।”
কমল বলে উঠল — “ফুলের মধু, পরাগরেণু সব খেয়ে নিচ্ছে! এতে গাছের তো ক্ষতি হচ্ছে!”
গাছের কি ক্ষতি হচ্ছে? নাকি লাভ হচ্ছে? তোমাদের কী মনে হয়? নীচের ছবিগুলো ভালো করে দেখো।
- চিত্র: মৌমাছি ও প্রজাপতি ফুলের ওপর বসে আছে, একটি মৌটুসী পাখি ফুল থেকে রস খাচ্ছে।
- 🐝/🦋 মৌমাছি/প্রজাপতির গায়ে, পায়ে কী লেগে গেল? 🤔
- ওই মৌমাছি/প্রজাপতিটা এক ফুল থেকে অন্য আর এক ফুলে গিয়ে বসলে কী হবে? 🧐
- উপরের ছবি দেখে বলো তো, মৌটুসী কি কোনোভাবে পরাগযোগ করে? সাহায্য করলে কীভাবে সাহায্য করছে? 🐦
অনেক প্রাণী তাদের খাবার সংগ্রহ করে ফুল থেকে। আর সেইসময় তাদের দেহের নানা অংশে লেগে যায় ফুলের পরাগরেণু। এই প্রাণীরা যখন অন্য কোনো ফুলে গিয়ে বসে, তখন পরাগরেণু ওই ফুলে এসে পড়ে। এই প্রক্রিয়াটারই নাম হলো পরাগমিলন। নতুন উদ্ভিদ তৈরির জন্য পরাগমিলন খুবই জরুরি। ফুলের এত রং আর গন্ধের আয়োজন কেবলমাত্র পতঙ্গ আর অন্যান্য প্রাণীদের কাছে টানার জন্যই। যাতে তারা ফুলের রং আর গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে ফুলে এসে বসে। আর এক ফুলের রেণু অন্য ফুলে মাধ্যম হয়ে পরাগমিলন ঘটে যায়। 🌿
8
🌳 পরিবেশ ও জীবজগতের পারস্পরিক নির্ভরতা
ফল আর বীজ ছড়িয়ে পড়ে দূরে দূরে 🌾
আনিসুর একদিন দেখল যে তাদের বাড়ির পাঁচিলে কতগুলো ছোটো ছোটো গাছের চারা বেরিয়েছে। ও ভাবল, পাঁচিলের ওপর তো কোনো গাছের বীজ পোঁতা হয়নি! তাহলে পাঁচিলে চারাগাছ এল কী করে? পরদিন ক্লাসে গিয়ে ও দিদিমণিকে জিজ্ঞেস করল কারণটা। দিদিমণি তাকে কয়েকটা ছবি এনে দেখালেন। তোমরাও সেই ছবিগুলো দেখো।
🧐 উপরের ছবিগুলো দেখে কী বুঝলে লেখো:
দিদিমা বললেন —
অনেকসময় পাখিরা মুখে করে ফল নিয়ে উড়ে যায়। উড়ে যাওয়ার সময় পাখিদের মুখ থেকে ফলটা মাটিতে পড়ে যায়। কখনও আবার পাখি বা অন্য কোনো প্রাণী কিছুটা খেয়ে ফলটা মাটিতে ফেলে দেয়। মাটিতে পড়ার পরে ফল পচে গিয়ে বীজটা বেরিয়ে পড়ে। ওই বীজ থেকে এরপর চারাগাছ জন্মাতে পারে। এইভাবেই হয়তো আনিসুরের বাড়ির পাঁচিলে চারাগাছ গজিয়েছিল। 🐦
আনিসুর জিজ্ঞেস করল — বাদুড় কি এইভাবেই বীজকে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে? 🦇
দিদিমা বললেন —
হ্যাঁ। কিন্তু প্রাণীরা আবার অন্যভাবে বীজকে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে। বাদুড় ওই ফলগুলো খায়। কিন্তু ফলের বীজগুলো হজম করতে পারে না। ফলে ওই বীজগুলো তার মলের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এইভাবে বিভিন্ন প্রাণীদের মলত্যাগের মাধ্যমে হজম না হওয়া বীজগুলো দূরে দূরে নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। আর একসময় ওই বীজগুলো থেকে চারাগাছ জন্মায়। গাছটা যে জায়গায় ছিল, সেই জায়গা থেকে ফল আর বীজ এইভাবে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এইভাবে তার বীজ দূরে দূরে ছড়িয়ে পড়ায় গাছেরই সুবিধা হয়। তাই ফলের রং হয় উজ্জ্বল আর ফল থাকে খাওয়ার উপযোগী শাঁস, যাতে তার লোভে পশু-পাখি ছুটে আসে আর বয়ে নিয়ে যায় দূরের কোনো জায়গায়। 💡
রেখা জিজ্ঞেস করলো — আচ্ছা দিদি, সেদিন পূর্বপাড়ার মাঠ দিয়ে মা-র সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলাম। বাড়ি ফিরে মা দেখল যে মা-র শাড়ির নিচের দিকে কাঁটা কাঁটা কীসব বিঁধে আছে। মা বলল, ওগুলো নাকি চোরকাঁটা। ওগুলো কি দিদি? 🤔
দিদিমা বললেন —
ওগুলো আসলে একজাতীয় গাছের ফল। আমাদের জামাকাপড় বা অন্যান্য প্রাণীদের গায়ে লেগে ওই ফলগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। 🐕🦺
তোমরা এরকম আরো কিছু প্রাণীদের কথা জানো কিনা দেখো তো, যারা গাছের ফল বা বীজ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে।
📝 ফল ও বীজের বিস্তারে সাহায্যকারী প্রাণী
| ফল ও বীজের বিস্তারে সাহায্য করে কোন প্রাণী | কীভাবে সাহায্য করে |
|---|---|
| 1. বনবিড়াল | |
| 2. শেয়াল | |
| 3. |
পরিবেশ ও বিজ্ঞান
🤝 এক জীবের সঙ্গে অন্য জীবের সম্পর্কের প্রকৃতি
🦠 মিথোজীবিতা
💡 উপরের ছবিগুলো দেখে তোমার কী মনে হচ্ছে? প্রতিটি ছবিতে যে দুটো করে প্রাণীদের দেখতে পাচ্ছো তাদের মধ্যে কি কোনো সম্পর্ক আছে? তোমাদের কী মনে হয়? নীচে লেখো।
রাইন আর অমিত স্কুলে আসে 🌾 ধানক্ষেতের ধার ঘেঁষা মেঠো রাস্তা ধরে। হঠাৎ রাস্তার পাশে একটা ধানক্ষেতে নজর পড়ল রাহেনার। ধানক্ষেতের সবুজ আবরণের পানা ভরা আছে ছোটোছোটো। পানাপুলি অন্য রকম দেখতে। রাহেন অমিতকে বলল— এই ক্ষেত্রটাকে দেখছিস? অন্য কোনো ক্ষেত্রে এরকম পানার মতো জিনিস চোখে পড়েনি তো!
অমিত বলল— দাঁড়া! করিমা মাসি এসেছেন। ওঁকে জিজ্ঞেস করে দেখি।
ওদের কথা শুনে করিমা মাসি বললেন— এগুলো অ্যাজোলা।
অমিত জানতে চাইল— ধানক্ষেতে অ্যাজোলার চাষ কেন চাষা?
করিমা মাসি উত্তর দিলেন— ধানক্ষেতে অ্যাজোলা চাষ করলে জমিতে আর সার দিতে লাগে না।
বিজ্ঞানের দিদিমণি ক্লাসে ঢুকতেই রাহেন জিজ্ঞেস করল— অ্যাজোলা থাকলে জমিতে সার দিতে লাগে না কেন!
তোমরা নিশ্চয়ই কোনো ক্ষেত্রে এমনটা দেখেছ! আসলে অ্যাজোলা এক ধরনের পানা। এদের পাতার মধ্যে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া আছে যারা বাতাসের নাইট্রোজেনকে বেঁধে ফেলতে পারে। তাতে অ্যাজোলার উপকার হয়। কারণ সারের জন্য...
🌍 পরিবেশ ও জীবজগতের পারস্পরিক নির্ভয়তা
💡 প্রকৃতিতে জীবেরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। কখনো কখনো দুটি জীব একে অপরের সাহায্য করে বেঁচে থাকে, যেখানে দুজনেই উপকৃত হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে, দুটি জীবের সম্পর্কের মধ্যে কেবল একটি জীবই উপকার পায়, অন্যটির কোনো লাভ বা ক্ষতি হয় না। এই ধরনের সম্পর্ক, যেখানে দুই বা তার বেশি জীব একে অপরের সহায়তায় বেঁচে থাকে, তাকে মিথোজীবিতা (Symbiosis) বলে। 🌿
চিত্র: অ্যাজোল (Azolla)
🤝 কয়েকটি মিথোজীবী সম্পর্ক
| মিথোজীবী (Symbiote) | জীব (Organism) | সম্পর্ক (Relationship) |
|---|---|---|
| 1. গো-বক (Cattle Egret) | গোরু (Cow) | গোরুরা হাঁটার সময় ঘাসের মধ্যে থাকা নানা পোকামাকড় উড়ে যায়, যা গো-বকের খাদ্য। অনেকসময় এরা আবার গোরুর গায়ে বসা পোকামাকড়ও খায়। এতে গোরুও পোকামাকড় থেকে মুক্তি পায়। |
| 2. সাগরকুসুম (Sea Anemone) | ক্লাউন মাছ (Clownfish) | ক্লাউন মাছ সাগরকুসুমের সঙ্গে থাকে। সে সাগরকুসুমের শত্রু যেমন - বাটারফ্লাই মাছকে তাড়িয়ে দেয়। আর সাগরকুসুমের খাবারে পড়ে থাকা অংশের ভাগ পায় ক্লাউন মাছ। আবার অনেকসময় ক্লাউন মাছকে তাড়িয়ে আসা শিকারী প্রাণীরা সাগরকুসুমের শিকার হয়। |
| 3. পিপড়ে (Ant) | জাব পোকা (Aphid) | জাব পোকারা গাছের শর্করা-সমৃদ্ধ রস শোষণ করে শর্করা-সমৃদ্ধ বর্জ্য ত্যাগ করে। এই বর্জ্যের নাম হানিডিউ (Honeydew)। পিপড়েরা হানিডিউ খেতে খুব পছন্দ করে। খাবারের পাওয়ার জন্য পিপড়েরা জাব পোকাদের লালন-পালন করে, শত্রুর হাত থেকে বাঁচায়। এমনকি জাব পোকাদের খাবার ফুরিয়ে গেলে তাদের এক গাছ থেকে অন্য গাছেও নিয়ে যায়। |
| 4. গোরু (Cow) | গো-বক / শালিক (Cattle Egret / Myna) | শালিক/গো-বক গোরুর পিঠে বসে গোরুর চামড়ার উকুনগুলোকে খেয়ে গোরুকে স্বস্তি দেয়। পরিবর্তে শালিক/গো-বক উকুনগুলোকে খাবার হিসাবে পায়। |
| 5. সাগরকুসুম (Sea Anemone) | সন্ন্যাসী কাঁকড়া (Hermit crab) | সন্ন্যাসী কাঁকড়ার পেটের অংশটা নরম। তাই সে বাসা বাঁধে কোনো মৃত সামুদ্রিক প্রাণীর খোলে। আর সন্ন্যাসী কাঁকড়া পিঠে করে বয়ে নিয়ে বেড়ায় সাগরকুসুমকে। সন্ন্যাসী কাঁকড়ার দেহ যখন বাড়ে, সাগরকুসুম খোলস সহ সন্ন্যাসী কাঁকড়াকে ঢেকে রাখে। সাগরকুসুম তার বিষাক্ত কোষযুক্ত টেন্টাকলের সাহায্যে সন্ন্যাসী কাঁকড়াকে রক্ষা করে। সন্ন্যাসী কাঁকড়া খাবারের খোঁজে গেলে সাগরকুসুমও সেই খাবারের ভাগ পায়। |
পরিবেশ ও বিজ্ঞান
কে খায়, কাকে খায় 🧐
পরাগ বলল-- জানেন স্যার, কাল রাতে আমাদের বাড়িতে শেয়াল এসেছিল। মুরগি নিয়ে গেছে। শেয়াল কি মুরগি খায়?
স্যার বললেন-- হ্যাঁ, শেয়াল ছোটো ছোটো পাখি, বড়ো ইঁদুর - এসব ছোটোখাটো প্রাণীদের খায়। এমনকি ছোটো ছাগল, ভেড়াদের অল্পনা পেলে ধরে খেয়ে নিতে পারে।
আমিরা বলল-- বনবিড়ালও স্যার ছোটো ছোটো প্রাণীদের খায়। আমার মামার বাড়িতে খুব বনবিড়ালের উপদ্রব। ওখানে অনেকে বনবিড়ালকে খুঁটো বলে। খুঁটো হাঁস-মুরগি নিয়ে যায়।
💡 কিছু প্রাণী আছে যারা লতা-পাতা-ঘাস-ফল-মূল খেয়ে বেঁচে থাকে। তারা তৃণভোজী।
যারা অন্য কোনো প্রাণীকে খায় তারাই খাদক। খাদকরা যাদের খায় তারাই খাদ্য।
📌 নীচের ছবিগুলো দেখে প্রাণীগুলোকে চিনতে পারো কিনা দেখো। ছবির নীচে প্রাণীদের নাম লেখার চেষ্টা করো।
- ছবি 1: 🦊 শিয়াল
[এখানে প্রাণীর নাম লিখুন]
- ছবি 2: 🐈 বনবিড়াল
[এখানে প্রাণীর নাম লিখুন]
- ছবি 3: 🦌 হরিণ
[এখানে প্রাণীর নাম লিখুন]
📝 তোমরা এরকম আরো কিছু খাদকের নাম লেখার চেষ্টা করো। এইসব প্রাণীদের খাদ্য কী কী সেতাও তোমার লেখার চেষ্টা করো।
| খাদকের নাম | কোথায় দেখেছ | এইসব প্রাণীদের খাদ্য কী কী |
|---|---|---|
| 1. শিয়াল | 1. | 1. মুরগি, ইঁদুর, ................................ |
| 2. গোসাপ | 2. | 2. সাপ, ইঁদুর, মাছ, .......................... |
| 3. খুঁটো/বনবিড়াল | 3. | 3. কলি, অন্যান্য ফল .......................... |
| 4. কেউটে সাপ | 4. | 4. পাখি, ইঁদুর, ................................ |
| 5. নীলডাপ সাপ | 5. | 5. |
| 6. টিকটিকি | 6. | 6. |
| 7. মাকড়সা | 7. | 7. |
| 8. ব্যাঙ | 8. | 8. |
| 9. | 9. | 9. |
| 10. | 10. | 10. |
Page 12
পরিবেশ ও জীবজগতের পারস্পারিক নির্ভরতা
🦠 পরজীবিতা – অন্য জীবের দেহে বাসা বাঁধা ও বেঁচে থাকা
💬 তহমিনা স্কুলে ন্যাড়া হয়ে আসায় সবাই অবাক। দিদিমণি জিজ্ঞেস করলেন— "তহমিনা, মাথার চুল কেটে ফেলেছ কেন?"
তহমিনা বলল, "দিদি, মাথায় উকুন হয়েছিল। তাই মা চুল কেটে দিয়েছেন।"
আশপাশ থেকে কয়েকজন বলে উঠল, "দিদি, উকুন তো আমাদেরও হয়েছিল।"
💡 দিদি জিজ্ঞেস করলেন— "তোমরা কি জানো, উকুন আসলে কী?"
রেবা বলে উঠল, "ওই তো ছোটো ছোটো কী যেন! মা মাথার চুল থেকে বেছে নখ দিয়ে টিপে মেরে ফেলেন।"
(ছবি: উকুন – অনেক গুণ বড়ো করে দেখানো হয়েছে)
দিদি বললেন— "উকুন আসলে একধরনের পোকা। এরা আমাদের মাথায় বাসা বাঁধে। আর এদের খাবার কি জানো? আমাদের রক্ত!"
মায়া বলল, "তাহলে তো এরা আমাদের ক্ষতি করছে!"
"হ্যাঁ, ক্ষতি করছে তো! উকুন আসলে আমাদের ওপর নির্ভর করেই বেঁচে থাকে। তাই এদের বলে পরজীবী।"
হেনা বলল, "এরা পরের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। তাই এদের পরজীবী বলে। তাই না দিদি?"
দিদি বললেন, "ঠিক তাই।"
প্রমিতা বলল, "দিদি, এই পরজীবীরা কি খালি মানুষের দেহেই বাসা বাঁধে?"
দিদি বললেন, "খুব ভালো প্রশ্ন করেছ! পরজীবীরা মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণীদের দেহেও বাসা বাঁধে। এমনকি গাছের দেহেও পরজীবীরা বাসা বাঁধে। হলুদ রঙের নরম তারের মতো দেখতে একধরনের লতা, কুলগাছ বা অন্য কোনো গাছের ওপর দেখা যায়। এরা যে গাছের ওপর হয়, তার দেহ থেকে রস শুষে নিয়ে বেঁচে থাকে। এই লতার রং সোনার মতো বলে একে স্বর্ণলতা বলে ডাকা হয়। 🌱"
(ছবি: স্বর্ণলতা)
এবার এসো আমরা এরকম আরো কিছু পরজীবী সম্পর্কে জানি। তোমরা কি আরো কিছু পরজীবী সম্পর্কে লিখতে পারো? প্রয়োজনে তোমার শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও।
| পরজীবী | কোথায় বাসা বাঁধে | শরীরে কী কী লক্ষণ দেখা দেয় |
|---|---|---|
| 1. যক্ষার জীবাণু | ফুসফুস, হাড় ও নানা অঙ্গে | জ্বর, দেহের ওজন কমে যাওয়া ও কাশি |
| 2. ফিতাকৃমি | পাকস্থলী, অন্ত্র, পেশি, মস্তিষ্ক, যকৃত | দুর্বলতা, খিঁচুনি |
| 3. ম্যালেরিয়ার জীবাণু | যকৃত, লোহিত রক্তকণিকা | জ্বর, রক্তাল্পতা, দুর্বলতা |
| 4. আমাশয়ের জীবাণু | অন্ত্র | বারেবারে পাতলা মলত্যাগ, শরীরে জলের ঘাটতি |
| 5. | ||
| 6. |
পরিবেশ ও বিজ্ঞান 🌍
অন্যান্য প্রাণীদের ওপর মানুষ যেভাবে নির্ভর করে 🧑🤝🧑
খাবারের জন্য 🍎
সরিক: তোমার খুব কাশি হচ্ছিল। কী ঔষধ খাচ্ছিস না কেন?
আমি: খাচ্ছি তো। মা আমাকে প্রতিদিন তুলসীপাতা মধু দিয়ে খাওয়াজছেন।
সরিক: মধু তো আমি এমনিই খাই!
আমিনুল: (পাশেই ছিল) কিন্তু মধু কোথা থেকে পাওয়া যায় জানিস কি? 🤔
সরিক: নাহ্! তুই জানিস নাকি?
আমিনুল: আমাদের গ্রামের বাড়ি সুন্দরবনে। সেখানে মৌচাক দেখেছি। মৌলিরা মৌচাকে ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছিদের মৌচাক থেকে তাড়িয়ে মধু জোগাড় করে। 🍯
সরিক: মৌচাক তো আমাদের বাড়ির পাশের গাছেই দেখেছি।
তোমরাও নিশ্চয় কেউ কেউ মৌচাক দেখেছ। এবারে এসো আমরা মৌচাক আর মৌমাছির ছবি দেখি। 📸
মধু ছাড়াও ডিম, মাংস, দুধ - এসবও তো আমরা পাই প্রাণীদের থেকে। আর দুধ থেকে নানান খাবার তৈরি হয় - ঘি, মাখন, দই, ছানা, ঘোণ ইত্যাদি। 🥛
💡 নীচের তালিকায় প্রাণীদের থেকে পাওয়া যায় এমন কিছু খাবারের নাম লেখার চেষ্টা করো। ওই খাবার কোন প্রাণী থেকে পাওয়া যায়, সেটাও লেখো।
| খাবারের নাম | কোন প্রাণী থেকে পাওয়া যায় (একের বেশি প্রাণীর নাম লিখতে পারো) |
|---|---|
| 1. মধু | 1. মৌমাছি, ভীমরুল |
| 2. মাংস | 2. মুরগি, খাসি, গরু, মাছ |
| 3. ডিম | 3. মুরগি, হাঁস |
| 4. দুধ | 4. গরু, ছাগল |
| 5. ঘি | 5. গরু, মহিষ (দুধ থেকে তৈরি) |
জামাকাপড়ের জন্য 👕
দিদি: সেদিন ক্লাসে দিদি বললেন—আমার শাড়ীটা কী দিয়ে তৈরি বলত? 🤔
তন্দ্রা: সূতির শাড়ী।
লিপি: (বচগলি বলে উঠল)—না রে সিঙ্ঘর, দেখছিস না কেমন চকচক করছে। ✨
দিদি: ঠিক বলেছ। কিন্তু তোমরা কি জানো, সিল্ক কোথা থেকে পাওয়া যায়? 🐛
রূপসোনা: গাছ থেকে দিদি। আমরা তো পড়েছি তুলা গাছ থেকে পাওয়া যায় তুলা। আর তুলা থেকেই তৈরি হয় সুতো। 🌳🧵
🏞️ পরিবেশ ও জীবজগতের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা
দিদি বললো— তুলো থেকেই সুতো তৈরি হয়। কিন্তু ........। লিপি অভিমানী হাত তুলে বললো— আমি বাবা দিদি? সিন্থেটিক পাওয়া যায় রেশম মথ থেকে। দিদি জিজ্ঞেস করলেন— কী করে জানলে লিপি? লিপি বললো— মালদায় আমার মামার বাড়িতে গিয়ে দেখেছি দিদি। রেশম মথের চাষ। রেশম মথও পুঁতে দেখেছি দিদি। তন্বী জিজ্ঞেস করল— রেশম মথ কেমন দেখতে দিদি? দিদি বললেন— এই যে রেশম মথের ছবি দেখো। 🐛 তন্বী আর রুকসানাদের সঙ্গী তোমরাও দেখে নাও। রেশমের কথা তো জানলাম। এসো তো এবারে লেখার চেষ্টা করি প্রাণীদের থেকে জামাকাপড় তৈরির আর কী কী উপাদান আমরা পাই।
| জামাকাপড় তৈরির উপাদান | কোন প্রাণী থেকে পাওয়া যায় |
|---|---|
| 1. রেশম | 1. |
| 2. উল | 2. |
| 3. | 3. |
| 4. | 4. |
💊 ওষুধের জন্য
জাহানারা ক্লাসে দিদিমণিকে জিজ্ঞেস করল— দিদি টিভিতে দেখলাম, লিভার অয়েল-এর বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে। ওটা কী দিদি? দিদি বললেন— ওটা আসলে কড, হাঙ্গরের মতো কিছু সামুদ্রিক মাছের লিভার অর্থাৎ যকৃতের তেল। তোমরা তো নিশ্চয়ই পাঁঠা বা মুরগির মেটে খেয়েছ। ওই মেটে হলো আসলে পাঁঠা বা মুরগির যকৃত। 🍗 তন্বী জিজ্ঞেস করল— ওই যকৃতের তেলে কী থাকে দিদি? দিদি বললেন— যকৃতের তেলে থাকে ভিটামিন। জাহানারা জিজ্ঞেস করল— ভিটামিন কী দিদি? দিদি বললেন—
💡 ভিটামিন হলো আমাদের খাবারের একটা অত্যন্ত দরকারি উপাদান। আমাদের দেহে ভিটামিনের অভাব হলে নানারকম রোগ হয়। এইসব সামুদ্রিক মাছের যকৃতে থাকে ভিটামিন A আর ভিটামিন D। তন্বী এতক্ষণ মন দিয়ে শুনছিল। এবারে সে জিজ্ঞেস করল— ভিটামিন A আর ভিটামিন D - এর কাজ কী দিদি? দিদি বললেন— আমাদের হাড়, দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করে এই দুটো ভিটামিন। কড মাছের যকৃতের তেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A আর ভিটামিন D থাকে। তাছাড়া ভিটামিন A আমাদের চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। 👀
প্রাণীদের দেহ থেকে পাওয়া যায় এরকম আরো কিছু ওষুধের কথা ভেবে লেখার চেষ্টা করো। প্রয়োজনে তোমার শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও।
| ওষুধের নাম | কোন প্রাণী থেকে পাওয়া যায় | কী কাজে লাগে |
|---|---|---|
| 1. কড লিভার অয়েল | 1. | 1. |
| 2. | 2. | 2. |
| 3. | 3. | 3. |
পরিবেশ ও বিজ্ঞান 🌿
দূষণ কমাই যাত্ৰা 🌍
দিদিমণি খুব দরকারি একটি জিনিস পড়াচ্ছিলেন। হঠাৎ কা-কা! 🐦 কাকটা একটানা ডেকে যাচ্ছে। শ্যামলের খুব রাগ হচ্ছিল। দিদিমণির কথা শুনতেই পাচ্ছিল না। "যা, যা!" - বলে সে কাকটাকে তাড়িয়ে দিল। 👋
দিদিমণি কথা থামিয়ে বললেন — "কী হলো শ্যামল?" 🗣️
- শ্যামল: "দেখুন না দিদি, কাকটা এত বাজে! খালি ডেকেই যাচ্ছিল। আমি পড়া শুনতেই পাচ্ছিলাম না। তাই তাড়িয়ে দিলাম।"
- দিদিমণি: "ঠিক আছে। কিন্তু কাক কি সত্যিই বাজে?" 🤔
- রূপসানা: "শুধু বাজে নয় দিদি, খুব নোংরা স্বভাবের। যেখানে সেখান থেকে নোংরা মুখে করে নিয়ে আসে।" 🤢
- প্রদীপ: "আগের দিন আমার জামাকাপড় শুকাতে দেওয়া ছিল। একটা কাক কোথা থেকে মাংসের হাড়, রক্ত নিয়ে আমার জামাকাপড়ে ফেলল।" 👚🩸
দিদিমণি জিজ্ঞেস করলেন — "আচ্ছা বলো তো, ওই মাংসের হাড় সে কোথা থেকে নিয়ে এসেছিল?"
- বিলাম: "কোথা থেকে আবার? বাজারের মাংসের দোকানের সামনের নর্দমা থেকে মুখে করে এনেছে।" 🗑️
- মোনালিসা: "কেন? এরকম বলছিস কেন? এই সেদিনই তো আমি রাস্তার ধারে নোংরা ছুঁড়ে ফেলেছিলাম। কোথা থেকে একটি কাক এসে নোংরাটি মুখে করে নিয়ে গেল।" 😲
দিদিমণি বললেন — "বাহ! আচ্ছা এবারে বলো তো প্রতিদিন সকালে ঘর ঝাঁট দেওয়া হয় কেন?" 🧹
- আসমা: "সে তো ঘরের নোংরা পরিষ্কার করার জন্য দিদি।"
- দিদিমণি: "কাকও ঠিক একইভাবে এইসব নোংরা জিনিস খেয়ে আমাদের আশেপাশে পরিষ্কার রাখে।" 💡
- রূপনাল: "জানি দিদি, ছোটোবেলায় পড়েছিলাম কাককে ঝাড়ুদার পাখি বলে।" 🐦🧹
- দিদিমণি: "আচ্ছা, আমাদের আশেপাশে তো আরও নানারকম প্রাণীদের দেখতে পাই। ভেবে দেখো তো তারাও আমাদের পরিবেশকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে কিনা।" 🌱
- আমিনুল: "নালার ধারে আমি এক পাল শুয়োরকে চরতে দেখেছি দিদি। নোংরা মধ্যে কী যেন করছিল।" 🐖
- দিদিমণি: "ঠিকই দেখেছ। ওরাও নোংরা খেয়ে আমাদের চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখে।" 🏞️
আরে কয়েকটি প্রাণীর কথা ভাবা তো করো, যারা আমাদের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। 🐾
আমাদের পরিবেশের পরিচ্ছন্নতার সহায়ক প্রাণীরা 🧹
| প্রাণীর নাম | কীভাবে আমাদের চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে |
|---|---|
| 1. কাক | নোংরা আবর্জনা খেয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখে। |
| 2. শুয়োর | আবর্জনা ও পচনশীল বর্জ্য খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। |
| 3. শকুনি | মৃত প্রাণীর দেহ খেয়ে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখে। |
| 4. | |
| 5. |
🚎 পরিবহনে সাহায্য করা যে সব প্রাণী
পরিবেশ ও জীবজগতের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা
রাবেয়া তিনদিন স্কুলে আসেনি। ক্লাসে দিদিমণি জিজ্ঞেস করলেন — "কি রাবেয়া তুমি স্কুলে আসোনি কেন? শরীর খারাপ হয়েছিল?"
রাবেয়া একটু চুপ করে উত্তর দিল — "না দিদি। শরীর খারাপ হয়নি। আসলে আমার ফুফুর বিয়ে ছিল। তাই গেছিলাম।"
দিদিমণি: "তোমার মামার বাড়ি কোথায়?" রাবেয়া: "মুর্শিদাবাদে।" দিদিমণি: "কীভাবে গেলে?" রাবেয়া: "ট্রেনে।"
রাতুল বলল — "আমি তো আমার মামার বাড়িতে বাসে করে যাই।"
করিম বলে উঠল — "আমার মামার বাড়িতে যেতে হলে বাস তো লাগেই। বাস থেকে নেমে গরুর গাড়ি করে যেতে হয়। তারপর আবার কিছুটা রাস্তা পায়ে হেঁটেও যেতে হয়। ওখানে আমি দেখেছি, গরুর গাড়ি করে ক্ষেত থেকে ধান, নানাধরনের সবজি বয়ে আনে।"
কুসুম বলল — "আমাদের ওখানে তো সাইকেল-ভ্যান করে ক্ষেত থেকে শাক-সবজি বয়ে আনে।"
দিদিমণি বললেন — "বাহ! তোমরা তো তাহলে অনেক ধরনের পরিবহনের কথা জানো। আর অন্য কোনো ধরনের পরিবহনের কথা কেউ জানো কি?" 💡
রাবেয়া বলে উঠল — "জানেন দিদি, আমি না মামার বাড়িতে ঘোড়ায় টানা গাড়ি দেখেছি।" 🐴
📝 প্রাণী ও পরিবহনে তাদের ভূমিকা
এবার তোমাদের তোমাদের দেখা এমন কিছু প্রাণীর কথা লেখার চেষ্টা করো তো যারা পরিবহনের কাজে সাহায্য করে।
| প্রাণীর নাম | কীভাবে পরিবহনের কাজে সাহায্য করে | কোথায় দেখেছ |
|---|---|---|
| 1. গোরু 🐮 | 1. | 1. |
| 2. ঘোড়া 🐴 | 2. | 2. |
| 3. | 3. | 3. |
| 4. | 4. | 4. |
⏳ বিলুপ্তপ্রায় পরিবহন সহযোগী প্রাণী
আচ্ছা তোমাদের এলাকার এমন কোনো প্রাণীর কথা কি তুমি জানো যারা আগে পরিবহনের কাজে সাহায্য করত কিন্তু এখন আর করে না। তাদের নাম লেখার চেষ্টা করো। প্রয়োজনে তোমার শিক্ষক/শিক্ষিকা বা বাড়ির বয়স্ক ব্যক্তিদের সাহায্য নিতে পারো।
| প্রাণীর নাম | কীভাবে পরিবহনের কাজে সাহায্য করত | কতদিন আগের কথা | এর পরিবর্তে পরিবহনের কাজে এখন কী ব্যবহার করা হয় |
|---|---|---|---|
পরিবেশ ও বিজ্ঞান 📚
চাষের কাজে সাহায্য করে যেসব প্রাণী 🚜🐂
উপরের ছবিগুলোর মধ্যে মিল কোথায়? 🤔
কমল আর ইসমাইল গল্প করছিল। ইসমাইলদের বাড়িতে কাল ট্র্যাক্টর এসেছে। ইসমাইলদের বাবা কিনেছেন চাষের কাজে ব্যবহার করার জন্য। কমল বলল — তাহলে হলো! তাহলে তো তোমাদের আর হল-বলদ (oxen and plow) দিয়ে চাষের কাজ করতে হবে না।
এইসব কথার মাঝে স্যার ক্লাসে ঢুকলেন। ক্লাসে ঢুকতে ঢুকতে তিনি কমলের কথা শুনতে পেয়েছিলেন। জিজ্ঞেস করলেন — তোমরা কি জানো যে চাষের কাজে লাঙ্গল বা হাড়ভাঙা খাটুনি কমানোর জন্য নানা প্রাণী ব্যবহার করা হয়? 🐮 এর ফলে চাষের কাজ অনেক সহজ হয়ে উঠেছিল। 🌿 এখন তো চাষের কাজে পশুপালের (livestock) জায়গা নিয়েছে নানারকম আধুনিক যন্ত্রপাতি! ⚙️ এই যেমন ইসমাইলদের বাবা ট্র্যাক্টর কিনেছেন।
পৃষ্ঠা ১৮
পরিবেশ ও জীবজগতের পারস্পরিক নির্ভরতা 🌍
তোমরা কোন কোন প্রাণীকে চাষের কাজে দেখেছ লেখায় চেষ্টা করো তো। 🧑🌾
| প্রাণীর নাম | কোথায় দেখেছ | কীভাবে চাষের কাজে সাহায্য করে |
|---|---|---|
| 1. গোরু | 1. | 1. |
| 2. | 2. | 2. |
| 3. | 3. | 3. |
আচ্ছা এবারে ভেবে দেখার চেষ্টা করো তোমাদের এলাকার এমন কোনো প্রাণীর কথা কি তুমি জানো যারা আগের চাষের কাজে সাহায্য করত কিন্তু এখন আর করে না। তাদের নাম লেখায় চেষ্টা করো তো। প্রয়োজনে তোমার শিক্ষক/শিক্ষিকা বা বাড়ির বা পাড়ার বয়স্ক ব্যক্তিদের সাহায্য নিতে পারো। 🧐
| প্রাণীর নাম | কীভাবে চাষের কাজে সাহায্য করত | কয়দিন আগের কথা | এর পরিবর্তে চাষের কাজে এখন কি ব্যবহার করা হয় |
|---|---|---|---|
📌 আমরা যেসব জীবাণুর ওপর ভরসা করি 🦠
দই তৈরি 🥛
তোমরা বাড়িতে মাকে বা অন্য আর কাউকে দই পাততে দেখেছ? মা বা অন্যরা দই পাতার সময় কী করেন, কখনও খেয়াল করে দেখেছ কি ? তাঁদের জিজ্ঞেস করে নীচে লেখার চেষ্টা করো। প্রয়োজনে তোমার পাড়ার মিষ্টির দোকানে গিয়েও কথা বলতে পারো। 💡
দই পাতার জন্য কী কী করা হয় পরপর লেখো:
দই পাতা ও বিজ্ঞান 🥛
দই পাতার জন্য যে জিনিসটা লাগবে, সেটা তাহলে কী? 💡 দইয়ের সাজা – অর্থাৎ আগে পেতে রাখা দইয়ের কিছুটা অংশ। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছ, কী এমন আছে দইয়ের সাজায়, যে অল্প গরম দুধে মিশিয়ে রেখে দিলে দই পড়ে যায়, মানে দই জমে যায়!
ওই দইয়ের সাজায় আসলে আছে খালি চোখে দেখা যায় না এমন একধরনের অনুজীব বা জীবাণু। 🦠 এই অনুজীবটার পোশাকী নাম হলো ল্যাক্টোব্যাসিলাস। এটি একপ্রকারের ব্যাকটেরিয়া। 🔬 এরাই দুধে একধরনের অ্যাসিড তৈরি করে। সেই অ্যাসিডটার নাম ল্যাক্টিক অ্যাসিড। আরো নানান পরিবর্তন ঘটে দুধ দইতে পরিণত হয়।
ল্যাক্টোব্যাসিলাস (অনেক গুণ বড়ো করে দেখানো)
পাউরুটি তৈরি 🍞
দই তৈরির কথা তো জানলাম। পাউরুটি কীভাবে তৈরি হয় জানো কি? পাউরুটির গায়ে যে ফুটো ফুটো থাকে, সেগুলো কেন তৈরি হয় বলতে পারবে কি? 🤔
কী কী লাগে পাউরুটি তৈরি করতে? ময়দা বা আটা আর জল। আর লাগে ইস্ট। ইস্ট হলো একপ্রকারের এককোষী ছত্রাক। ময়দা বা আঠায় থাকা শর্করাকে ইস্ট ভেঙে ফেলে। 🧪 আর তৈরি করে কার্বন ডাইঅক্সাইড আর অ্যালকোহল। ময়দা বা আটার মিশ্রণটাকে ফুলে উঠতে সাহায্য করে এই কার্বন ডাইঅক্সাইড। পরে এই মিশ্রণ থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড বেরিয়ে যায়। আর পাউরুটির গা ফুটো ফুটো হয়ে যায়।
ইস্ট (অনেক গুণ বড়ো করে দেখানো)
ওষুধ তৈরি 💊
বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া মানুষের দেহে রোগ সৃষ্টি করে। আবার কিছু ব্যাকটেরিয়া আছে যাদের থেকে বিভিন্ন জীবাণুদের মেরে ফেলার ওষুধ তৈরি হয়। এদের থেকে ওষুধের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পাওয়া যায়। স্ট্রেপ্টোমাইসেস হলো এমনই একপ্রকারের ব্যাকটেরিয়া। 🔬 স্ট্রেপ্টোমাইসেস ব্যাকটেরিয়ার বিভিন্ন প্রজাতি থেকে প্রায় ৫০ টাও বেশি অ্যান্টিবায়োটিক, ছত্রাকনাশক আর পরজীবীনাশক ওষুধ পাওয়া যায়। স্ট্রেপ্টোমাইসিন, এরিমাইসিন হলো স্ট্রেপ্টোমাইসেস থেকে পাওয়া একরকমই কয়েকটা ওষুধ যা আমাদের শরীরে ঢুকে পড়া জীবাণুদের মেরে ফেলে। 🛡️
স্ট্রেপ্টোমাইসেস (অনেক গুণ বড়ো করে দেখানো)
CONTENT MANAGER