Academy

10. জীববৈচিত্র্য ও তার শ্রেণিবিভাগ

10. জীববৈচিত্র্য ও তার শ্রেণিবিভাগ - WBBSE - Class 6 - পরিবেশ বিজ্ঞান

0

10. জীববৈচিত্র্য ও তার শ্রেণিবিভাগ 🌿\n\nসে দিন ক্লাসে স্যার বললেন— পৃথিবীতে কত ধরনের জীব আছে অনুমান করে বলত? ❓\n\nদেবপ্রকাশ বললেন — দশ হাজার।\nসোনা বলল — এক লাখ।\nপ্রীতম বলল — দশ লাখ।\n\nস্যার মাথা নাড়ুলেন। সবাই মিলে তখন জিজ্ঞাসা করল — তাহলে কত স্যার? 🤔\n\nস্যার মুচকি হেসে বললেন — প্রায় তিন কোটি! 🤯 বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন সারা পৃথিবীতে তিন কোটি বা তারও বেশি প্রজাতির জীব বাস করে। 🌎\n\n### সমীর বলল— প্রজাতি কী? 🧐\n\nস্যার বললেন—\n> একই বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবকে প্রজাতি বলে, ইংরেজিতে বলে স্পিসিস (species)। একই প্রজাতির জীব থেকে সেই একই বৈশিষ্ট্যযুক্ত ধরনের জীব জন্ম নেয়।\n\n💡 যেমন ধরো:\n* বাঘ একটি প্রজাতি 🐅\n* বিড়াল একটি প্রজাতি 🐈\n* শালিক একটি প্রজাতি 🐦\n* চড়ুই একটি প্রজাতি 🐦\n\nকাকদের মধ্যে শহরে যে গলায় ছাই ছাই রং-এর কাক দেখি সেই পাতি কাক একটি প্রজাতি। আবার, গ্রামের দিকে পুরো দেহ কুচকুচে কালো রং-এর যে দাঁড়কাক দেখা যায় সেটি অন্য একটি প্রজাতি। এরকম সাপ, ব্যাঙ, মাছ—সবার মধ্যেই জীবরা আলাদা আলাদা প্রজাতি হিসাবে থাকে। 🐍🐸🐟\n\n### সৈকত বলল— গাছদের মধ্যেও প্রজাতি হয় স্যার? 🌱\n\nস্যার বললেন— নিশ্চয়! 🌳\n\n* আমগাছ 🥭\n* নিমগাছ 🌿\n* নারকেলগাছ 🥥\n* বকুল 🌸\n* কৃষ্ণচূড়া 🌺\n* ইউক্যালিপটাস 🌲\n\n— সবাই আলাদা আলাদা প্রজাতি।\n\n### পারভিন হঠাৎ হাত তুলে বলল — মানুষও কি একটি প্রজাতি? 🙋‍♀️\n\nস্যার বললেন— অবশ্যই! 🗣️ সারা পৃথিবী জুড়ে যত মানুষ আছে তারা যেরকম দেখতেই হোক বা যে ধর্মেরই হোক সবাই একই প্রজাতির। সবাই হলো হোমো সেপিয়েন্স (Homo sapiens)। বিজ্ঞানীরা মানুষ প্রজাতির এই নামই দিয়েছেন। 🧑‍🔬\n\n### সীমা জিজ্ঞাসা করল— বিজ্ঞানীরা মানুষের আলাদা একটা নাম দিয়েছেন কেন? ❓\n\nস্যার বললেন— আরে! সাধারণ মানুষ তো একএকজনের জীবকে তাদের ভাষায় একটা নামে ডাকে। বিভিন্ন জায়গায়...\n\n_(Content continues on the next page/section)_


পরিবেশ ও বিজ্ঞান 🌿\n\nআমরা সাধারণত বাঘকে বাঘ বলি, ইংরেজিতে Tiger, হিন্দিভাষীরা শের বলে, দক্ষিণভারতে কোথাও পুলি বা পুল্লি বলা হয়। কিন্তু যখন বিজ্ঞানীরা বাঘ নিয়ে আলোচনা করতে বসেন, তখন এই নানা নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাই বিজ্ঞানীরা বাঘের একটিই নাম নির্ধারণ করেছেন— প্যান্থেরা টাইগ্রিস (Panthera tigris)। একইভাবে, প্রতিটি প্রজাতিরই একটি করে বৈজ্ঞানিক নাম থাকে।\n\n## ❓ তিন কোটি প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম\n\nদেবপ্রকাশ প্রশ্ন করল — "তাহলে তিন কোটি প্রজাতির কটা বৈজ্ঞানিক নাম আছে?"\n\n> বিজ্ঞানীরা এখনও পর্যন্ত প্রায় উনিশ লক্ষের মতো প্রজাতির জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দিতে পেরেছেন। ভেবেচিন্তে সবাই একমত হয়ে প্রজাতির নাম দিতে হয় তো — তাই সময় লাগে।\n\n## 🤔 বিজ্ঞানীদের কেন মাথা গুলিয়ে যায় না?\n\nসমীরের মাথায় প্রশ্ন এল — "নাম না হয় আলাদা হলো— কিন্তু তিন কোটি জীব নিয়ে আলোচনা করতে বিজ্ঞানীদের মাথা গুলিয়ে যায় না?"\n\nসৌরভ এই প্রশ্নের উত্তরে একটি চমৎকার উপমা দিলেন:\n\n* সৌরভ: "গল্পটা গোঁড়ারাই বলে। ওরা কী করেছেন বলি। আচ্ছা, তোমরা তো বইয়ের দোকানে বই কিনতে গেছ। সেখানে তো হাজারখানেক নানা ধরনের বই। তার মধ্যে থেকে দোকানদার কাকু কী করে এক নিমেষে তোমার বইটা বের করে দেন?"\n* রতন: (কিছুক্ষণ চুপ করে শুনছিল, তারপর বলে উঠল) "আমি জানি! আমার বাবা বইয়ের দোকানে কাজ করেন। বিষয় অনুসারে বইগুলোকে আলাদা আলাদা র‍্যাকে রাখা হয়। কাগজের সেটগুলোয় ওই র‍্যাকের বিষয়টার নাম লেখা থাকে। আবার, একটা র‍্যাকের ভিতরে একই বিষয়ের কিছু আলাদা ক্লাসের বই আলাদা আলাদা করে রাখা থাকে। কেউ কোনো বই চাইলে সেটা চট করে খুঁজে পাওয়া যায়।"\n* সমীর: "ওষুধের দোকানেও একইরকম সাজানো থাকে। আমাদের পাড়ার ওষুধের দোকানে দেখেছি। ওষুধের নামের প্রথম অক্ষর অনুযায়ী ওষুধগুলো সাজানো থাকে। 'A' দিয়ে যে ওষুধের নাম শুরু, সেটা 'A' লেখা থাকে। 'B' দিয়ে যে ওষুধের নাম সেটা 'B' লেখা থাকে— এরকম।"\n\n> আসলে, যদি নিয়ম মেনে সাজানো না থাকে তাহলে প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ খুঁজে বের করতে দোকানদারের সারাদিন লেগে যাবে। যে-কোনো জিনিসই যদি অনেক ধরনের হয়— তাকে একটা নিয়ম মেনে সাজিয়ে নিতে হয়। বিজ্ঞানীরাও ঠিক এই কারণেই তিন কোটি প্রজাতিকে সাজিয়ে নেন।\n\n## 🙋‍♀️ কিভাবে এই শ্রেণীবিভাগ করা হয়?\n\nপারভীন তাড়াতাড়ি প্রশ্ন করে — "কিভাবে স্যার?"\n\n* স্যার: "সেটাই বলছি। বিজ্ঞানীরা প্রাণীদের নিয়ে জীবজগৎকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করেন। একএকটি ভাগকে বলা হয় জীবরাজ্য বা কিংডম (Kingdom)। এই প্রধান জীবরাজ্যগুলো হলো:\n 1. প্রাণীদের রাজ্য হলো অ্যানিম্যালিয়া (Animalia).\n 2. উদ্ভিদ রাজ্য (গাছপালা, শ্যাওলা, মস) হলো প্ল্যানটি (Plantae).\n 3. ছত্রাকদের রাজ্য (ব্যাঙের ছাতা আর অন্যান্য ছত্রাক) হলো ফাঙ্গাই (Fungi).\n\n* এককোশী জীব অর্থাৎ যাদের দেহ কেবল একটি কোষের সমন্বয়ে গঠিত, তাদেরও আবার তিনটি রাজ্যে ভাগ করা হয়:\n * ব্যাকটেরিয়ার রাজ্য — যার নাম ব্যাকটেরিয়া.\n * এছাড়াও অ্যামিবা, জিয়ার্ডিয়া, ইউগ্লিনা, প্লাসমোডিয়াম, প্যারামেসিয়াম — এরকম এককোশী জীবের রাজ্যের নাম — প্রোটোজোয়া (Protozoa).\n * আর একটি রাজ্য আছে এককোশী জীবদের, তার নাম ক্রোমিষ্টা (Chromista)। তাদের কথা আমরা কম জানি।"


জীববৈচিত্র্য ও তার শ্রেণিবিভাগ 🌿

  • প্রাণী 🐘
  • উদ্ভিদ 🌳
  • ছত্রাক 🍄
  • ব্যাকটেরিয়া 🦠
  • প্রোটোজোয়া 🔬
  • ক্রোমিস্টা 🌊

সোমা প্রশ্ন করল—আমি শুনেছি, আমাদের শরীরে ভাইরাস ঢুকলে তো ভাইরাল রোগ হয়।

স্যার বললেন—ঠিক বলেছ। কিন্তু ভাইরাস ঠিক পুরোপুরি জীব নয়। জীব আর জড় পদার্থের মাঝামাঝি অবস্থা। তাই জীবরাজ্যে তাদের ঠাঁই হয়নি। তবে আমরা এখানে জীবজগতের অন্য আর এক ধরনের শ্রেণিবিভাগ নিয়ে আলোচনা করব। এই শ্রেণিবিভাগে জীবজগতকে পাঁচটা রাজ্যে ভাগ করা হয়। 💡

📌 প্রাণীদের রাজ্য হলো অ্যানিমালিয়া (Animalia), ছত্রাকদের রাজ্য ফানজাই (Fungi), উদ্ভিদের রাজ্য প্ল্যান্টে (Plantae), ব্যাকটেরিয়ার রাজ্য মনেরা (Monera), আর এককোষী জীবদের রাজ্য প্রোটিস্টা (Protista)

জীব রাজ্যের প্রজাতির মধ্যে কোনো ভাগ নেই?— রতন জিজ্ঞাসা করল।

— নেই আবার, প্রাণীরাজ্যে কত ভাগ। তোমরাই বলো না—প্রথমে যাদের দেহে কোনো মেরুদণ্ড নেই অর্থাৎ, অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের কথা বলো

সমীর প্রথমে বলল—পোকা-মাকড়। 🐛🐞

হ্যাঁ! পোকা, মাকড়সা, এমনকি চিংড়ি, কাঁকড়া এদের সবাইকে একসঙ্গে বলা হয় আর্থ্রোপোডা (Arthropoda)। 🕷️🦀🦐 এদের শুঁড় আর পা-গুলো খন্ডে খন্ডে থাকে আর গায়ের উপর একটা শক্ত খোলা থাকে।

  • প্রজাপতি 🦋
  • মাকড়সা 🕷️
  • চিংড়ি 🦐
  • কাঁকড়া 🦀

পারভীন বলল—শামুক, ঝিনুক। 🐚

স্যার বললেন—শামুক, ঝিনুক, এমনকি সমুদ্রে থাকে যে অক্টোপাস, তারা সবাই একই জাতের। এদের চলাফেরার জন্য মাংসল পা থাকে। আর নরম গায়ের বাইরে বা ভিতরে থাকে একটা চুনজাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি খোলক। এদের বলে মলাস্কা (Mollusca)। 🐌🐙 এইভাবে আলোচনা করতে করতে ওরা স্যারের কাছ থেকে আরও অনেক অমেরুদণ্ডী প্রাণীর কথা জানল।



🌍 পরিবেশ ও বিজ্ঞান (Environment and Science)

🐛 অমেরুদণ্ডী প্রাণীর পরিচিতি (Introduction to Invertebrates)

প্রাণীদের নাম (Name of Animals)এদের কী বৈশিষ্ট্য (Their Characteristics)এদের জাতকে কী বলা হয় (What their group is called)
পোকা, মাকড়সা, কাঁকড়া, চিংড়িআর্থোপোডা (Arthropoda)
কেঁচো, জোকঅ্যানিলিডা (Annelida)
গোলকৃমিমানুষ বা অন্য প্রাণীর পেটে বাস করে। (Lives in the stomach of humans or other animals.)অ্যাসকেলমিনথেস (Aschelminthes)
চ্যাপ্টা কৃমিমানুষ বা অন্য প্রাণীর পেটে বাস করে অর্থাৎ পরজীবী। স্বাধীনভাবে বাস করে অল্প কয়েক ধরনের চ্যাপ্টা কৃমি। (Lives in the stomach of humans or other animals, meaning it's a parasite. Some types of flatworms live independently.)প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes)
তারা মাছ (স্টারফিশ), সি-আর্চিনসারা গায়ের ত্বকে কাঁটা থাকে, মুখ দেহের নিচের দিকে থাকে। (Spines on the whole body, mouth is on the lower side of the body.)একাইনোডার্মাটা (Echinodermata)

উদাহরণস্বরূপ কিছু অমেরুদণ্ডী প্রাণী:

  • কেঁচো
  • গোলকৃমি
  • চ্যাপ্টা কৃমি
  • তারা মাছ

🦴 মেরুদণ্ডী প্রাণীর পরিচিতি (Introduction to Vertebrates)

প্রাণীদের নাম (Name of Animals)এদের কী বৈশিষ্ট্য (Their Characteristics)এদের জাতকে কী বলা হয় (What their group is called)
রুই, শিং (মাছ), ব্যাঙ (উভচর), সাপ, টিকটিকি (সরীসৃপ), পায়রা, শালিক (পাখি), গরু, মানুষ (স্তন্যপায়ী)এদের দেহের মাঝ বরাবর গুণ অবস্থায় নোটোকর্ড নামে একটা দণ্ড থাকে। প্রথম স্তরে দেওয়া প্রাণীদের পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় নোটোকর্ড থেকে মেরুদণ্ড গজায়। (Along the middle of their body, there is a rod-like structure called a notochord. In the first stage, the notochord develops into a spine in the fully developed animals.)কর্ডাটা (Chordata); প্রথম স্তরে দেওয়া প্রাণীরা, যাদের নোটোকর্ডের বদলে মেরুদণ্ড গজায় তারা হলো মেরুদণ্ডী বা ভার্টিব্রেট প্রাণী। তবে কর্ডাটাদের মধ্যে অনেকের পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় নোটোকর্ড থেকে মেরুদণ্ড গজায় না। (Chordata; the animals listed in the first stage, whose notochord develops into a spine, are called Merudondi or Vertebrate animals. However, among chordates, many do not develop a spine from the notochord in their adult stage.)

উদাহরণস্বরূপ কিছু মেরুদণ্ডী প্রাণী:

  • মাছ
  • উভচর
  • সরীসৃপ
  • পাখি
  • স্তন্যপায়ী

💡 গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা:

সবচেয়ে যে প্রাণীদের গুণটার কথা স্যার রেগে লিখতে বললেন তার নাম— মেরুদণ্ডী। লিখে বললেন— "এবার আমি শুধু মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে যে বিভিন্ন জাতের প্রাণী আছে তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো লিখছি একদিকে, তোমরা অন্যদিকে সেই জাতের নাম কী তা লিখবে। তাহলেই মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে কটা ভাগ সেটা পেয়ে যাবে।"

Page 144


জীবজগৎ ও তার শ্রেণিবিন্যাস

📌 মেরুদণ্ডী প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য ও তাদের নাম

💡 এই মেরুদণ্ডী প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য হলো🎯 এই মেরুদণ্ডী প্রাণীর নাম
1. জলে থাকে, গায়ে আঁশ, পাখনা নেড়ে চলাফেরা করে, ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয়।1. মাছ
2. ডাঙ্গায় ও জলে থাকে, লেজ নেড়ে সাঁতার কাটে, বড়ো হলে ডাঙ্গার চারপাশে লাফিয়ে লাফিয়ে চলে।2.
3. ডিম পাড়ে, ডিম থেকে বাচ্চা হয়, চলার সময় বুক মাটিতে ঘষটে যায়।3.
4. গা পালকে ঢাকা, ডানা মেলে উড়তে পারে, ডিম পাড়ে, ডিম ফুটেয়ে বাচ্চা বড়ো করে।4.
5. ডিম পাড়ে না, বাচ্চা দেয়। বাচ্চাকে দুধ খাইয়ে বড়ো করে।5.

📝 তোমাদের কাজ: বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রাণীদের শ্রেণিবিন্যাস করো!

এবার তাহলে তোমরা নিচের প্রাণীগুলোকে তাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নিচের বক্সে বিভিন্ন ভাগে সাজাও।

🐘 প্রাণী তালিকা:

  • রুই
  • কেঁদো
  • বাদুড়
  • শেয়াল
  • টুনটুনি
  • হাতি
  • বেড়াল
  • বাঘ
  • শজারু
  • কচ্ছপ
  • শঙ্খ
  • শকুন
  • কচ্ছপ
  • গজলক্ষী
  • ভিম
  • কেউটে
  • শকুন
  • আরশোলা
  • প্রজাপতি
  • গন্ডার
  • গোসাপ
  • কুমির
  • মাগুর মাছ
  • ইঁদুর
  • মানুষ
  • সাপ
  • মশা
  • মাছি

🌳 উদ্ভিদ জগৎ সম্পর্কে একটি প্রশ্ন

সঙ্কট আবার হাত তুলল — "উদ্ভিদ জগৎ অর্থাৎ মাটি-দেহের মধ্যে প্রাণীদের মতো এরকম ভাগ করা হয়?"

স্যার বললেন — "হয় না আবার! তোমাদের কিছু গাছের নাম দেওয়া হলো। এদের সঙ্গে তোমাদের অনেকেরই হয়তো পরিচয় আছে। এরা কেউ কেউ খুব লম্বা প্রকৃতির হয়, মোটা গুঁড়ি আছে, আবার কেউ কেউ খুব লম্বা হয় না। কিন্তু অনেক ডালপালা নিয়ে ঝোপের আকার নেয়। আর একরকমের যারা ছোটো, ছোটো। ডালপালাও বেশি নেই। তবে এদের মধ্যে কেউ কেউ লতিয়ে চলে বা কোনো কিছুকে ধরে গোঁফিয়ে উপরের দিকে উঠে যায়। দেখো তো এদের এইভাবে সাজাতে পারো কিনা।"


🌿 পরিবেশ ও বিজ্ঞান (Environment & Science)

গাছেরা তাদের আকার-আকৃতি অনুযায়ী প্রধানত তিন প্রকারে বিভক্ত:

  • 🌱 বীরুৎ (Herbs)

    যারা ছোটো ছোটো, ডালপালা প্রায় নেই। কখনো-সখনো লতিয়ে বা পেঁচিয়ে চলে। এরা ছোটো গাছ। ইংরেজিতে এদের বলে হার্বস (Herbs)

  • 🌳 গুল্ম (Shrubs)

    যারা খুব বেশি লম্বা হয় না, তবে অনেক ডালপালা আছে। ঝোপের মতো দেখতে লাগে। এরা মাঝারি জাতীয়। ইংরেজিতে এদের বলে শ্রাবস (Shrubs)

  • 🌲 বৃক্ষ (Trees)

    যারা লম্বা, যাদের মোটা কাণ্ডের গুঁড়ি ও অনেক ডালপালা আছে। এরা হলো বড়ো গাছ বা বৃক্ষ। ইংরেজিতে টি (Tree)

তাহলে গাছদের আকার আমরা উপরের মতো করে ভাগ করতে পারি। নীচে দেখো জোড়ায় জোড়ায় গাছদের নাম দেওয়া আছে। এদের মধ্যে মিল আর অমিল কোথায় লিখে ফেলো তো। 📝

গাছের নামগাছের ছবিগাছ দুটোর মধ্যে মিল কোথায়গাছ দুটোর মধ্যে অমিল কোথায়
1. আল ও কুমড়ো🥔 (Potato) 🎃 (Pumpkin)দুজনেই ছোটো বীরুৎ জাতীয়
2. আমগাছ ও জবাগাছ🥭 (Mango) 🌺 (Hibiscus)
3. কাঁঠালগাছ ও কলাগাছ🍈 (Jackfruit) 🍌 (Banana)
4. ধানগাছ ও খেজুরগাছ🌾 (Rice) 🌴 (Date Palm)ধান গাছের কাণ্ড নরম ও খেজুর গাছের কাণ্ড শক্ত
5. উচ্ছেগাছ ও বেগুনগাছ🥒 (Bitter Gourd) 🍆 (Brinjal)

146


🔬 জীবেবৈচিত্র্য ও তার শ্রেণিবিন্যাস

দিদিমণি গ্লাসে ঢুকে রেলকাল শুরু করলেন আর ওখান ফাস্ট বেগে অপর দিকে চোখ পড়ল। কী ব্যাপার তোমার কপাল ফুটল কী করে?

অপর্ণা বলল: - 📌 কলতলায় পা পিছলে পড়ে গেছি।

দিদিমণি: - 💬 পিছলে গেলে কী করে?

কলতলাটা পিছল হয়েছিল। পরিষ্কার করা হয়নি বেশ কিছু দিন। আচ্ছা দিদি পিছল জায়গাটা কেমন সবুজটে, মা বলল ওগুলো 🌿 শ্যাওলা পড়েছে। ওগুলো কি কোনো গাছ?

দিদিমণি: – হ্যাঁ। ঠিক বলেছো তোমার মা। 🌿 এগুলো শ্যাওলাই। এরাও একধরনের গাছ। এরা সবুজ। তাই অন্য গাছের মতো নিজেদের খাবার নিজেদের দেহেই বানিয়ে ফেলে। তবে এদের দেহে কোনো মূল, কাণ্ড বা পাতা নেই। এদের কোনো ফুলও হয় না।

রাকেয়া উৎসুক্য প্রকাশ করিল দিদিকে কিছু জিজ্ঞাসা করার জন্য।

দিদিমণি: রাকেয়া কিছু বলবে? দিদিমণি জিজ্ঞেস করলেন।

রাকেয়া বলল: — আমাদের পুকুরে সেদিন বাবা জাল ফেলেছিলেন। দেখি জালের গায়ে সবুজ রঙের সিল্কের সূতোর মতো লেগে আছে। ওগুলো কি কোনো শ্যাওলা?

দিদিমণি: –হ্যাঁ। তুমি ঠিকই দেখেছ। ওগুলোও একধরনের শ্যাওলা। ওদের গায়ে পিছল ভাবটা থাকে। খুব চটচট করে। ওগুলোকে জলে রেশম বা 💧 water silk বলে।

দিদিমণি বললেন: - বেশীরভাগ শ্যাওলাই থলথলে, শরীর হয়ছে, মূল কাণ্ড, পাতা বলতে কিছুই নেই, এদের সবাইকে 🌿 থ্যালোফাইটা বা শ্যাওলা গোত্রীয় মধ্যে রাখা হয়।

🌳 ব্রায়োফাইটা (Mosses)

তোমাদের বাড়ির বা স্কুলের পাঁচিলের গায়ে বর্ষাকালে কেমন সবুজ নরম উলের চাদরের মতন একটা আবরণ পড়ে। দেখেছ নিশ্চয়ই! এই বর্ষাকালে বা শরৎকালেই রাস্তার ইঁটের ফাঁকে ফাঁকে বা মাটির ওপর স্যাঁতসেঁতে জায়গায় পয়সা বা চাকতির মতো গোল হয়ে একধরনের সবজেটে গাছ লেপটে থাকে। পাশের ছবি দুটো দেখা।

এদের কোনো ফুল, ফল হয় না। এরা সব 🌲 জাতীয় গাছ। একসঙ্গে এদের 🌳 ব্রায়োফাইটা বলে। পাশের মসুর ছবিটাতে দেখো ওপরের দিকে একটি তীরের মতো— তার ঠিক মাথায় একটা টুপির মতো বা তোমাদের জ্বর হলে ডাক্তারবাবু যে ক্যাপসুল খেতে দেন সেই ক্যাপসুলের মতো দেখতে অনেকটা। এই ক্যাপসুলার মধ্যেই খুব ছোটো ছোটো, একেবারে গুঁড়ি গুঁড়ি রেণু থাকে। ক্যাপসুলটি শুকিয়ে গেলে রেণুগুলো মাটিতে ভিজে জায়গায় পড়ে আবার নতুন মস সৃষ্টি করা যায়।

🌿 শুশুনিশাক (Water Clover)

পাশের ছবির ছবিটা ভালো করে দেখো তো। এরা পুকুরের ধারে জল-কাদার জায়গায় হয়। কখনও বা জলের ওপরে খানিকটা ভেসে থাকে। পাতাগুলো সুন্দর সাজানো থাকে। কচি পাতা যখন বের হয় কেমন কুকুরের লেজের মতো গুটিয়ে থাকে। এটা 🍀 শুশুনিশাক। তোমার বাড়িতে এই শাকটা খেয়ে থাকবে নিশ্চয়ই। এদের কোনো ফুল হয় না, ফলও হয় না। তাই শ্যাওলা ও মসদের মতো এদেরও অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। গাছটার গোড়ায় কতগুলো শুঁড়র মতো


পরিচয় ও বিজ্ঞান 🔬

ওদের মধ্যে ছোটো ছোটো রেণু থাকে। সেগুলো মাটিতে পড়ে গাছ হয়। এরা একধরনের ফার্ন। তোমরা ডেক্সটপ বা আরো কিছু ফার্ন যদি দেখো তাহলে দেখবে এদের পাতার নিচে বাদামি বা কালো রঙের ফুরকি ফুরকি আছে। কখনও বা পাতার ধারটা নিচের দিকে মুড়ে গিয়ে বাদামি বা কালো রেখা হয়ে গেছে। পাতার এই ফুরকি ফুরকি বা রেখার মধ্যেই রেণুগুলো আছে। এরা সব ফার্ন জাতীয় গাছ বা টেরিজোফাইটা

পাশের পাইনগাছের ছবিটি দেখো। অনেকটা বটগাছের মতো দেখতে। এদের পাহাড়ি জায়গায় হয়। এরা সবুজ সূচের মতো পাতা। এদের ফল নেই। বীজগুলো একসঙ্গে গোল করে সাজানো। দেখলে মনে হয় যেন কাঠ দিয়ে তৈরি কোনো ফুল। কুমড়ো, আম এদের যেমন ফলের মধ্যে বীজ থাকে পাইনের কিন্তু এরকম ফল নেই। বীজগুলোই কেবল দেখা যায়। তাই এদের ব্যক্তবীজী বলে। ইংরেজিতে বলে Gymnosperm

কিন্তু আমাদের চেনা বেশিরভাগ গাছই তাদের বীজ ফলের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। তাই তারা গুপ্তবীজী। ইংরেজিতে বলে Angiosperm। 🍎 যেমন — আম, জাম, কাঁঠাল, কুমড়ো, ধান, গম ইত্যাদি।

বীজ 🌰

ছোলা আর ধান এগুলো সব বীজ। ছোলা আর ধানের খোসা ছাড়িয়ে দেখো তো নিচের ছবির মতো দেখতে পাচ্ছ কিনা।

ছোলা বীজে দুটো গোল, অনেকটা চাকার মতো (যেগুলো আমরা খাই) অংশ আছে। আর ধানে কিন্তু এরকম একটাই লম্বাট ধরনের অংশ আছে। এগুলি বীজের সঙ্গে লেগে থাকা পাতা বা বীজপত্র। ইংরেজিতে বলে Cotyledon। 🌿 যেসব গাছে একটি বীজপত্র থাকে সেগুলো একবীজপত্রী (Monocotyledon)। আর যাদের দুটো বীজপত্র থাকে তারা দ্বিবিজপত্রী (Dicotyledon)।


জীববৈচিত্র্য ও তার শ্রেণিবিভাগ 🌿

💡 নীচের সারণিতে লেখা বীজ সংগ্রহ করে দেখো তো কারা একবীজপত্রী আর কারা দ্বিবীজপত্রী

বীজের নামকটা বীজপত্র আছেএকবীজপত্রী না দ্বিবীজপত্রী
ছোলা (Chickpea)2দ্বিবীজপত্রী
গম (Wheat)
মুসুরডাল (Red Lentil)
ধান (Paddy)
এলাচ (Cardamom)
সুপুরি (Areca Nut)
চিনাবাদাম (Peanut)
খেজুর (Date)
কুমড়ো (Pumpkin)
ভুট্টা (Maize)

উপরোক্ত ছবি দুটো ভালো করে দেখো তো। (একটা আমপাতা 🥭 আর একটা কলাপাতা 🍌 নিয়েও দেখতে পারো)

প্রশ্নাবলী 🧐

  • পাতা দুটোর ওপরের অংশটা কেমন?
  • মাঝখানে কটা শিরা আছে?
  • মাঝখানের শিরার দু-পাশ থেকে যে শিরাগুলো বেরিয়েছে সেগুলো কি নিজেদের মধ্যে আবার মিশে গিয়ে জালের আকারে আছে? নাকি কারোর সঙ্গে না মিশে সমান্তরালভাবে আছে?

প্রবেশ ও বিজ্ঞান 🌿

💡 জেনে রাখা ভালো (Good to know)

  • দ্বিবীজপত্রী গাছের পাতা: মাঝ বরাবর শিরার দু-পাশের শিরাগুলো মিশে জালের মতো তৈরি করে। (Veins on both sides of the main vein in dicot leaves form a net-like structure). 🕸️
  • একবীজপত্রী গাছের পাতা: মাঝ বরাবর শিরার দু-পাশের শিরাগুলো না মিশে সমান্তরালভাবে থাকে। (Veins on both sides of the main vein in monocot leaves are parallel and do not form a network). 📏

📌 নিচের গাছগুলোর পাতা লক্ষ করে তালিকাটি পূরণ করে ফেলো তো। (Observe the leaves of the following plants and fill in the table below.)

গাছের নাম (Plant Name)শিরাগুলো কেমন (How are the veins?)একবীজপত্রী না দ্বিবীজপত্রী (Monocot or Dicot?)
কাঁঠালগাছ (Jackfruit tree)জালের মতো (Net-like)দ্বিবীজপত্রী (Dicot)
গমগাছ (Wheat plant)
হলুদগাছ (Turmeric plant)
জবাগাছ (Hibiscus plant)
ধানগাছ (Rice plant)
কচুরিপানা (Water hyacinth)
তুলসীগাছ (Tulsi plant)
লেবুগাছ (Lemon tree)
কচুগাছ (Taro plant)
আখগাছ (Sugarcane plant)

🤔 তাহলে এবার দেখো তো নিচের উদ্ভিদ রাজ্যের ছকটা বুঝতে পারো কিনা। উদাহরণগুলো তোমরা নিজেরা লিখে ফেলো। (Now, see if you can understand the diagram of the plant kingdom below. Write the examples yourselves.)

🌳 উদ্ভিদরাজ্য (প্ল্যান্টি) - Plant Kingdom (Plantae)

  • অপুষ্পক (Non-flowering)
    • শ্যাওলা (Algae)
      • উদাহরণ: ............
    • মসজাতীয় (ব্রায়োফাইটা) (Mosses (Bryophyta))
      • উদাহরণ: ............
    • ফার্নজাতীয় (টেরিডোফাইটা) (Ferns (Pteridophyta))
      • উদাহরণ: ............
  • সপুষ্পক (Flowering)
    • ব্যক্তবীজী (জিমনোস্পার্ম) (Gymnosperms)
      • উদাহরণ: ............
    • গুপ্তবীজী (অ্যানজিওস্পার্ম) (Angiosperms)
      • একবীজপত্রী (Monocots)
        • উদাহরণ: ............
      • দ্বিবীজপত্রী (Dicots)
        • উদাহরণ: ............

🌿 জীববৈচিত্র্য ও তার শ্রেণিবিভাগ

📝 কল্পনার ভেতর থেকে ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করা:

  1. শৈবাল হলো একটি অপুষ্পক উদ্ভিদ।
  2. ধানের খোসাটি ছাড়ে 1টি বীজপত্র দেখা যায়।
  3. মটরের খোসাটি ছাড়ে 2টি বীজপত্র দেখা যায়।
  4. পাতায় জালের মতো শিরা হলে সেটি দ্বিবীজপত্রী
  5. পাতায় মাঝশিরার দু-দিকে সমান্তরালভাবে শিরা থাকলে সেটি একবীজপত্রী
  6. কলাগাছ একটি একবীজপত্রী উদ্ভিদ।
  7. অশ্বত্থগাছ একটি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ।
  8. বীজ ফলের মধ্যে থাকলে সেটি গুপ্তবীজী উদ্ভিদ।
  9. বীজ যদি ফলের মধ্যে না থাকে তখন সেটি ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ।
  10. আম একটি গুপ্তবীজী উদ্ভিদ।
  11. পাইন একটি ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ।
  12. ফার্ণ-এর পাতা কচি অবস্থায় কুকুরের লেজের মতো গুটিয়ে থাকে।
  13. শ্যাওলা দেহ দেখে মূল, কান্ড, পাতা থাকে না।
  14. স্পাইরোগাইরা বা জলরেণশ একটি শ্যাওলা
  15. ঢেঁকিশাক একটি ফার্ণ

🔬 অদৃশ্য জগতের রহস্য: ব্যাকটেরিয়া ও কোষ

আমরা জীবজগতের মধ্যে উদ্ভিদ ও প্রাণিরাজ্য সম্বন্ধে জানলাম। কিন্তু উদ্ভিদ আর প্রাণী ছাড়া আরও কিছু জীব আছে যারা না উদ্ভিদ না প্রাণী। যেমন ধরো তোমাদের বাড়িতে যে দই পাতা হয়, মা-ঠাকুমারা দুধে সাজা দিয়ে দেন। আর দুধ বেশ কিছু সময় বাদে দই হয়ে যায়। এই দইয়ের সাজাতে ব্যাকটেরিয়া 🦠 বলে যে জীব থাকে, তাদের আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না। তারাই দুধে দই বানিয়ে দেয়।

আবার তোমরা যে টাইফয়েড বা কলেরা রোগের কথা শুনেছ, সেইসব রোগের কারণও এই ব্যাকটেরিয়া। সব ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে একটি রাজ্যে রাখা হয়। সব ব্যাকটেরিয়ার এই রাজ্যের নাম হলো মনেরা। 🦠

টাইফয়েড রোগের ব্যাকটেরিয়াকলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া
টাইফয়েড রোগের ব্যাকটেরিয়া (অনেক গুণ বড়ো করে দেখানো)কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া (অনেক গুণ বড়ো করে দেখানো)

আচ্ছা তোমাদের স্কুল বাড়িটা অনেকগুলো ঘর আছে তো? ছোটো বড়ো অনেক ঘর নিয়েই স্কুল বাড়িটা তৈরি। ঠিক তেমনি আমাদের যে শরীর বা আমাদের চারপাশে যেসব গাছপালা, পশুপাখি দেখি তাদের দেহগুলো ঠিক বাড়ির মতো। অনেক ছোটো ছোটো ঘর বা কুঠুরি নিয়েই আমাদের সবার শরীর তৈরি। তবে সে কুঠুরিগুলো খালি চোখে আমরা দেখতে পাই না। এই কুঠুরিগুলোকে বলা হয় কোষ 🔬। অধিকাংশ কোষের মধ্যে একটা গোল মতো বস্তু থাকে যেটাকে আমরা নিউক্লিয়াস বলি।


💡 পরিবেশ ও বিজ্ঞান (Environment and Science)

আমরা যে মোনেরা রাজ্যের ব্যাকটেরিয়া নিয়ে কথা বলছিলাম, তাদের দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে তৈরি, আর সেই কোষে কোনো নিউক্লিয়াস নেই।

📌 আচ্ছা, তোমরা নিশ্চয়ই ম্যালেরিয়া রোগের নাম শুনে থাকবে। 🥶 এই রোগে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। 🤢 আমাশয় হলে পেটের গোলমাল হয়। আর এইসব ঘটায় এক ধরণের জীব, যাদের শরীরটাও ব্যাকটেরিয়ার মতো একটিই কোষ দিয়ে তৈরি। তবে মজার ব্যাপার হলো, এদের কোষের মধ্যে নিউক্লিয়াস থাকে। নিউক্লিয়াস-যুক্ত এই এক-কোষী জীবদের যে রাজ্যে রাখা হয়, সেটি হলো প্রোটিন্ট (Protista)।

🦠 প্রোটিন্ট রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত জীব

নিচের ছবি দুটো দেখো। দুটো ছবিই অনেক গুণ বড়ো করে দেখানো হয়েছে:

  • 🔬 ম্যালেরিয়া রোগ ঘটায় যে জীব (এটি একটি প্রোটিন্ট)।
  • 🔬 আমাশয় রোগ ঘটায় যে জীব (এটিও একটি প্রোটিন্ট)।

এর ঠিক নিচের দুটি ছবিও অনেক গুণ বড়ো করে দেখানো হয়েছে। প্রথমটি হলো 🌿 ইউগ্লিনা এবং দ্বিতীয়টি 🌊 প্যারামেসিয়াম। এরাও প্রোটিন্ট রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।

🍄 ছত্রাক (Fungi)

বর্ষাকালে তোমাদের বাড়ির আশেপাশে ব্যাঙের ছাতা তোমরা নিশ্চয়ই দেখেছ। ☔ অনেকসময় খড়ের গাদায়ও এগুলো হয়। এদের মাশরুমও বলে। অনেক মাশরুম খাওয়া হয়, আবার অনেক জাতের মাশরুম বিষাক্ত হওয়ায় খাওয়া হয় না 💀।

তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছ, পাউরুটি বেশ কয়েকদিন রেখে দিলে তাতে কালো-সবুজ ছাতা পড়ে যায় 🍞। লেবু পচে গেলে তার গায়েও এরকম নীলচে-সাদা ছাতা পড়ে 🍋। এগুলো সবই ছত্রাক

অনেক সময় আমাদের কারো কারো গায়ের চামড়ায় যে দাদ হয়, 🦠 চুলকানি বা মাথায় খুশকি হয়, সেগুলো সবই নানা ধরনের ছত্রাকের কারণে হয়।

💡 তবে এই ছত্রাকরা গাছের মতো সবুজ নয়। এরা নিজেদের দেহে খাবার তৈরি করতে পারে না। সমস্ত ছত্রাকদের একটি আলাদা রাজ্যে রাখা হয়। তার নাম ফানজাই (Fungi)।

🖼️ ছত্রাকের উদাহরণ

  • এখানে পাউরুটিতে জন্মানো ছত্রাক দেখানো হয়েছে।
  • পাশে লেবু/কমলায় জন্মানো ছত্রাক দেখা যাচ্ছে।

🌿 জীববৈচিত্র্য ও তার শ্রেণিবিভাগ

📝 নির্দেশ: মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের তালিকা তৈরি করো

তোমার দেখা যে-কোনো একটি পুকুর, বন, বাড়ির আশেপাশে, তীরবর্তী সমুদ্রে, অ্যাকোয়ারিয়ামে কিংবা খাসজমিতে বিভিন্ন মেরুদণ্ডীঅমেরুদণ্ডী প্রাণীদের নামের তালিকা তৈরি করো।


🔎 প্রাণীদের তালিকা (১)

অমেরুদণ্ডীমেরুদণ্ডী
1. চিংড়ি1. মাছ
2.2.
3.3.
4.4.
5.5.

🔎 প্রাণীদের তালিকা (২)

অমেরুদণ্ডীমেরুদণ্ডী
1. প্রজাপতি1. হরিণ
2.2.
3.3.
4.4.
5.5.

🌿 পরিবেশ ও বিজ্ঞান (Environment and Science)

Let's explore some interesting examples of living organisms, categorized by whether they have a backbone (vertebrate) or not (invertebrate)! 🦴

🌳 স্থলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ (Terrestrial Animals and Plants)

Here are some examples found on land:

🐛 অমেরুদণ্ডী (Invertebrate)🐸 মেরুদণ্ডী (Vertebrate)
1. কেঁচো (Earthworm)1. কুনোব্যাঙ (Toad)
2.2.
3.3.
4.4.
5.5.

🌊 জলজ বা উপকূলীয় প্রাণী (Aquatic or Coastal Animals)

Now, let's look at some examples found in water or coastal areas:

🐠 অমেরুদণ্ডী (Invertebrate)🐢 মেরুদণ্ডী (Vertebrate)
1. জেলিফিশ (Jellyfish)1. শাঁখ (Conch/Shell)
2.2.
3.3.
4.4.
5.5.

Page 154


🌿 জীববৈচিত্র্য ও তার শ্রেণিবিভাগ

এই পৃষ্ঠায় আমরা বিভিন্ন জীবের শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে জানব। দুটি ছবির মাধ্যমে কিছু প্রাণীকে তাদের ভৌত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

🐠 অ্যাকোয়ারিয়ামের জীব

এখানে অ্যাকোয়ারিয়ামে দেখা কিছু জীবের তালিকা দেওয়া হলো, যেখানে তাদের মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রকৃতি চিহ্নিত করা হয়েছে:

অমেরুদণ্ডীমেরুদণ্ডী
1. শামুক1. গোল্ডফিশ
2.2.
3.3.
4.4.
5.5.

🌳 ঘাসজমির জীব

ঘাসজমিতে বসবাসকারী কিছু প্রাণীর উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো, যা তাদের মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করে:

অমেরুদণ্ডীমেরুদণ্ডী
1. পিঁপড়ে1. সাপ
2.2.
3.3.
4.4.
5.5.

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel