4. শিলা ও খনিজ পদার্থ 🌎
4. শিলা ও খনিজ পদার্থ 🌎 - WBBSE - Class 6 - পরিবেশ বিজ্ঞান
4. শিলা ও খনিজ পদার্থ 🌎
নানা ধরনের শিলা (Various Types of Rocks) 📌
আগ্নেয়শিলা (Igneous Rocks) 🔥
তোমরা কি রেললাইনের কালো পাথর কিংবা পিচের রাস্তা তৈরির পাথর দেখেছ? আগ্নেয়গিরি থেকে উঠে আসা লাভা শক্ত হয়ে এগুলো তৈরি হয়।
এখন আমরা দেখি পৃথিবীর ওপর পৃষ্ঠটা শক্ত মাটি আর পাথরের তৈরি। কিন্তু পৃথিবীর সৃষ্টির পরেই কি এরকম ছিল? মনে করা হয়, তখন পুরোটাই ছিল খুব গরম আর গলে যাওয়া পাথর দিয়ে তৈরি। আস্তে আস্তে পৃথিবী যত ঠান্ডা হতে থাকল, উপরের অংশটা ততই জমাট বাঁধতে লাগল। এভাবেই পৃথিবীর উপরের শক্ত খোলাটা তৈরি হয়েছে।
মাটির যত গভীরে যাওয়া যায়, চাপ এবং উষ্ণতা তত বাড়ে। পৃথিবীর গভীরের চাপ আর উষ্ণতা এতই বেশি যে, সেখানে পাথর তরল অবস্থায় থাকে। একে বলে ম্যাগমা (Magma)। এই ম্যাগমা যখন কোনো পাথরের ফাটল বা পাহাড়ের মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে তখন তাকে বলে লাভা (Lava)। 🌋
বাইরে এসে লাভা জমে শক্ত হয়। এই জমাট-বাঁধা লাভাই হলো আগ্নেয়শিলা।
আগ্নেয়শিলার প্রকারভেদ 🧪
তিন রকমের আগ্নেয়শিলা হলো:
- বাসাল্ট (Basalt)
- গ্রানাইট (Granite)
- পিউমিস (Pumice)
রেললাইনের কালো পাথরগুলো হলো বাসাল্টের টুকরো।
পিউমিসকে বলে ঝামা পাথর। উত্তপ্ত ম্যাগমার উপরে ফেনার মতো অংশ তাড়াতাড়ি জমে গিয়ে পিউমিস তৈরি হয়। পিউমিস পাথরে অনেক ছিদ্র দেখা যায়, কিন্তু গ্রানাইটে তা দেখা যায় না। 🤔
কারণ: তরল ম্যাগমায় দ্রবীভূত গ্যাস ম্যাগমার মধ্যে দিয়ে বেরোবার সময় পিউমিস পাথরে ওই ছিদ্র সৃষ্টি হয়।
পরিবেশ ও বিজ্ঞান
পাললিক শিলা 🗿
নদ, নদী, সমুদ্রের জলের নীচে পলি জমা হয়। ধীরে ধীরে সেই পলির মাটি নীচে চলে থাকে। মাটির নীচে গরমে আর চাপে লক্ষ লক্ষ বছরে সেই পলি থেকে পাললিক শিলা তৈরি হয়। জলের নীচে পাললিক শিলা তৈরি হয় তাই অনেক সময়ে এতে মাছ, শামুক ইত্যাদির পাথর হয়ে যাওয়া দেহাবশেষ (ফসিল) পাওয়া যায়। তিন ধরনের পাললিক শিলার উদাহরণ হলো— বেলে পাথর, শেল ও চুনাপাথর।
- চুনাপাথর
- বেলেপাথর
- শেল
পরিবর্তিত শিলা 🔥
আগ্নেয়শিলা এবং পাললিক শিলা মাটির গভীরে গরমে আর চাপে বদলে গিয়ে পরিবর্তিত শিলা তৈরি করে। পৃথিবীর উপরের পৃষ্ঠের বেশিরভাগটাই আগ্নেয় ও পরিবর্তিত শিলা দিয়ে তৈরি। মার্বেল পাথর একরকমের পরিবর্তিত শিলা যা চুনাপাথরের পরিবর্তনে তৈরি হয়। শেলের পরিবর্তনে তৈরি হয় স্লেট, গ্রানাইটের পরিবর্তনে তৈরি হয় নীস।
- স্লেট
- মার্বেল পাথর
- নীস
পৃষ্ঠা: 56
⚙️ শিল্প ও খনিজ পদার্থ
✨ খনিজ পদার্থ ও আকরিক
তোমরা তৃতীয় অধ্যায়ে খনিজদের কয়েকটি ছোট কথা জেনেছ। এবার তোমাদের চেনা ছটি ধাতুর নাম দেওয়া হলো। এ দিয়ে তৈরি হয় এমন জিনিসের নাম লেখো। প্রয়োজনে শিক্ষক মহাশয়ের সাহায্য নাও।
| ধাতুর নাম | ধাতুটা দিয়ে তৈরি হয় এমন জিনিসের নাম |
|---|---|
| লোহা | |
| তামা | |
| অ্যালুমিনিয়াম | |
| দস্তা | |
| রূপো | |
| সোনা |
💡 ধাতু প্রকৃতিতে কীভাবে পাওয়া যায় — মৌল অবস্থায় না যৌগ অবস্থায়?
তোমরা হয়তো লক্ষ করেছ কিছু ধাতুর তৈরি জিনিস খোলা হাওয়ায়, রোেদন-জলে পড়ে থাকতে থাকতে নষ্ট হয়ে যায়। তোমরা দেখেছ জল লাগাতে লাগাতে চকচকে লোহার জিনিসটা লালচে রঙের মরচে পড়ে। তোমরা হয়তো দেখেছ পুরোনো তামার বাসনপত্রে কেমন সবুজ ছোপ ধরে। এর মানে কী? এর মানে হলো এরা খোলা হাওয়ায় নানান বিক্রিয়া করে নতুন যৌগ তৈরি করে। এই উদাহরণগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে যে এদের প্রকৃতিতে যৌগ হিসাবে পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। একই কথা অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা বেলাতেও প্রযোজ্য। সোনার আংটি কিছু জল লাগলে বা খোলা হাওয়ায় পড়ে থাকলে কোনো পরিবর্তন হতে দেখা যায় না। সেই কারণে প্রকৃতিতে সোনাকে মৌল অবস্থায় পাওয়া যায়।
📌 খনিজ (Mineral) ও আকরিক (Ore) প্রকৃতিতে বিভিন্ন ধাতুর নানান যৌগ বালি-মাটি ইত্যাদির সঙ্গে মিশে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। এদের ধাতুর খনিজ বা ‘মিনার্যাল’ (Mineral) বলে। খনিজ থেকে ধাতুকে আলাদা করে নেবার পদ্ধতিকে বলে ধাতু নিষ্কাশন। যে খনিজ থেকে ধাতুকে সস্তা ও সহজে বার করা সম্ভব তাকে ধাতুর আকরিক বা ‘ওর’ (Ore) বলা হয়।
🗣️ আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
নিজেরা আলোচনা করো, প্রয়োজনে শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও :
- “কোনো ধাতুর একাধিক খনিজ থাকলেও তার সবগুলিই আকরিক নাও হতে পারে” — ঠিক কিনা বিচার করো।
আমরা এবার খুব প্রয়োজনীয় তিনটি ধাতুর নাম আর আকরিক সম্বন্ধে কিছু কথা জেনে নেব:
| ধাতুর নাম | ধাতুর প্রধান আকরিক | আকরিককে ধাতুর প্রধানত কি কি মৌল থাকে |
|---|---|---|
| লোহা | হেমাটাইট | লোহা, অক্সিজেন |
| অ্যালুমিনিয়াম | বক্সাইট | অ্যালুমিনিয়াম, অক্সিজেন |
| তামা | কপার গ্লাস | তামা, সালফার |
পরিবেশ ও বিজ্ঞান 🧪\n\nনীচে তোমাদের তিনটি ধাতুর আকরিক ও ধাতুর নমুনার ছবি দেখানো হলো। লক্ষ্য করো, আকরিক থেকে নিষ্কাশিত ধাতুগুলো আকরিকের মতো দেখতে নয়। এ থেকে বোঝা যায় ধাতু নিষ্কাশন একটি রাসায়নিক পরিবর্তন। নীচে প্রতিটি নিষ্কাশিত ধাতুর নাম লেখো।\n\n--- \n\n* ১. লোহার আকরিক: হেমাটাইট ➡️ লোহা\n* ২. অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: বক্সাইট ➡️ অ্যালুমিনিয়াম\n* ৩. তামার আকরিক: কপার গ্লান্স ➡️ তামা\n\n--- \n\n### সংকর ধাতু 🔗\n\n> তোমরা নিশ্চয়ই কাঁসার থালা, পিতলের ঘণ্টা বা মূর্তি দেখেছ। কাঁসা বা পিতল এরা একটা ধাতু নয়। এরা হলো মিশ্র ধাতু বা সংকর ধাতু। ইতিহাসে তোমরা যে ব্রোঞ্জ ধাতুর কথা জেনেছ, সে হলো তামা আর টিন মিশিয়ে তৈরি। পিতল তৈরি হয় তামা আর দস্তা মিশিয়ে।
তোমাকে কিছু শব্দ দেওয়া হলো। এগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করে তোমায় নিচের গল্প দুটো সম্পূর্ণ করতে হবে: শব্দভাণ্ডার— শঙ্কর/ ভার/ কম যায়।
- 💡 লোহা আর সামান্য কার্বন মিশিয়ে ইস্পাত (স্টিল) তৈরি করা হয়। লোহা দিয়ে তৈরি হলে তা গাড়ি চালালে ভেঙে পড়ত। ইস্পাত দিয়ে তৈরি ব্রিজ সহজে ভেঙে পড়ে না। এর মানে হলো ইস্পাত লোহার চেয়ে শঙ্কর এবং অনেক ভার সহ্য করতে পারে।
- 🧪 লোহার সঙ্গে ক্রোমিয়াম মিশিয়ে স্টেনলেস স্টিল তৈরি হয়। লোহার ক্ষয় ধরতে পড়ে, স্টেনলেস স্টিলের গ্লাস সঙ্গে হাতে পা না। তাহলে ক্রোমিয়ামের সঙ্গে থাকলে লোহার রাসায়নিক বিক্রিয়া করার ক্ষমতা কিছুটা কম যায়। আবার কি আমরা মিশ্র ধাতুদের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছি? মিশ্র ধাতুদের এমন সব গুণাগুণ আছে যা একটি ধাতুর নেই।
📌 মিশ্র ধাতু বা শঙ্কর ধাতু: কোনো ধাতুর সঙ্গে অন্য ধাতু বা অধাতু বিশেষ মাত্রায় মিশিয়ে গলিয়ে নেওয়া হয়। তাহলে মিশ্রণ ছাড়া হলো শঙ্কর ধাতু। দুটি শংকর ধাতু হলো গয়নার সোনা, ইলেকট্রিকের ফিউজের তার আর আর ধাতুর জিনিস গুলো দেওয়া ‘রাখায়াল’।
🌿 জীবাশ্ম বা ফসিল
ছবিগুলো কিসের বলতো পারো? পাথরের মধ্যে প্রথমটি হলো একরকম সামুদ্রিক শামুকের খোলা, দ্বিতীয়টি একটি মাছের দেহাবশেষ। তৃতীয় ছবিতে একটি সাপের দেহাবশেষ দেখা যাচ্ছে।
আরা পাথরের মধ্যে আল কী করে?
আজ থেকে অনেক কোটি বছর আগে এই শামুক, মাছ আর সাপ এরা সবাই বেঁচেছিল। তারপরে একদিন এরা মারা গেল। মাটিতে বা জলের নিচে পড়ে থাকতে থাকতে এদের দেহাবশেষে নানান পরিবর্তন ঘটতে লাগল। প্রথমে দেহের নরম অংশগুলো নষ্ট হয়ে গেল। তারপর সেই পড়ে থাকা অংশের উপর ধীরে ধীরে জমতে লাগল আরো পলি। মাটির নিচে কোটি কোটি বছর ধরে নানান পরিবর্তন ঘটে এসব দেহাবশেষ একসময় পাথরে পরিণত হলো। এই পাথরে দেহাবশেষগুলো হলো জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil)।
🦴 ছাপ ফসিল (Trace Fossil): ‘ছাপ’ মানে পাথরের দেহাবশেষে লুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণীর পায়ের ছাপকেও ফসিল বলা হয়। গাছের ডাল বা পাতার রজনের মধ্যে আটকা পড়া পোকার দেহকেও আমরা ফসিল বলি।
ওপরে তোমরা যেসব প্রাণীদের ফসিলের ছবি দেখলে তারা কেউ এখন বেঁচে নেই, বহু আগেই তারা পৃথিবী থেকে লোপ পেয়ে গেছে। কিন্তু ফসিল দেখেই বিজ্ঞানীরা তাদের নানান তথ্য জানতে পারেন।
🌍 পরিবেশ ও বিজ্ঞান
🧪 কী করে ফসিল তৈরি হয়?
ফসিল তৈরির প্রক্রিয়াটি নিচে দেওয়া হলো:
- জলের নিচে মাছের দেহ জমা হলো 🐠
- নরম অংশ নষ্ট হয়ে গেল ⏳
- তার ওপর জমা হতে লাগলো পলি ⛰️
- কোটি কোটি বছর ধরে গরমে আর চাপে থাকতে থাকতে তৈরি হলো ফসিল 🔥
🌿 আমাদের চেনা আরও এক রকমের ফসিল
- পাশের ওই কালো পাথরের মতো জিনিসটা কী বলে মনে হয়? 🤔
- ওর মধ্যে কিসের ছাপ দেখতে পাচ্ছো? 🔍
পাশের ছবিটা হল একটা কয়লার টুকরোর গাছের পাতার ছাপ। এগুলো কোটি কোটি বছর আগের কিছু গাছের পাতার ফসিল। তখনকার পৃথিবীর চেহারাটা কিন্তু মোটেই আজকের মতো ছিল না। পৃথিবীতে তখন এমন অনেক গাছ জন্মাতো যাদের অনেকেই আজ লোপ পেয়েছে। অগভীর জলা জায়গায় জন্মাতো সেই সব গাছ এক সময় মাটির নিচে নড়াচড়ায় উপড়ে গেল। তারপর একসময় তারা মাটির নিচে চলে গেল। তাদের উপর ক্রমশ জমতে লাগল আরো কাদা আর মাটি। কোটি কোটি বছর ধরে মাটির নিচের চাপে আর গরমে থাকতে থাকতে পাতার যৌগগুলোর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটল। তৈরি হলো কয়লা আর কয়লার মধ্যে রয়ে গেলো পাতাগুলোর ছাপ।
শিলা ও খনিজ পদার্থ 💎
জীবাশ্ম জ্বালানি বা ফসিল ফুয়েল 💡
যা জ্বালিয়ে বা পুড়িয়ে আমরা তাপ পাই তাই হলো জ্বালানি (Fuel)। নানা রকম জ্বালানির মধ্যে কিছু জ্বালানি আছে যাদের সম্প্রতি পাওয়া গেছে। যেমন কাঠ, খড়, কাগজ, গোবর ইত্যাদি। এদের কী তুমি ফসিল বলবে? এরা কী লক্ষ লক্ষ বছর ধরে তৈরি হয়েছে? নিশ্চয়ই নয়। আবার দেখো, আরেক রকমের জ্বালানি হলো কয়লা, পেট্রোলিয়াম আর প্রাকৃতিক গ্যাস। নানা ধরনের জীবের দেহাবশেষ থেকেই এগুলো তৈরি হয়েছে। জীবের দেহাবশেষ কিন্তু একশো-দুশো বছরেই জ্বালানিতে বদলে যায়নি, অনেক অনেক কোটি বছর সময় লেগেছে। সেই কারণে কয়লা, পেট্রোলিয়াম আর প্রাকৃতিক গ্যাসকে বলে জীবাশ্ম জ্বালানি বা ফসিল ফুয়েল।
কী করে পেট্রোলিয়াম আর প্রাকৃতিক গ্যাস তৈরি হয় 🧪
(চিত্র 1, 2, 3 প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করে)
- গভীর সমুদ্র 🌊 (সামুদ্রিক জীবদের দেখায়)
- বালি ও পলি, পচনশীল জৈব যৌগ (স্তর জমা হওয়া দেখায়)
- পাললিক শিলা, পেট্রোলিয়াম (তেল উত্তোলনের রিগ দেখায়)
📌 পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপত্তি:
প্রথম ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে গভীর সমুদ্রের জলের নীচে জীবদেহ (যেমন সামুদ্রিক জীব) জমা হলো। তাদের উপর কোটি কোটি বছর ধরে বালি ও পলি এসে জমা হতে শুরু করলো। এই স্তরগুলো ক্রমশঃ চাপা পড়তে লাগলো। মাটির নীচে প্রচুর তাপ ও চাপের প্রভাবে, এই জীবদেহগুলো ধীরে ধীরে পেট্রোলিয়াম আর প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তরিত হলো। উপরোক্ত পলি ও বালির স্তরগুলো সময়ের সাথে সাথে পাললিক শিলা তৈরি করলো, যা পেট্রোলিয়ামকে ধরে রাখে।
ফসিল ফুয়েলের ব্যবহার 🛠️
কয়লার ব্যবহার (Uses of Coal)
-
ক) জ্বালানি হিসেবে 🔥 তোমরা কি কয়লার উনুনে রান্না হতে দেখেছ? জামাকাপড় ইস্ত্রি করার দোকানে কিংবা চায়ের দোকানে উনুনগুলোতে বা কলকারখানায় কীসে আগুন জ্বলে? — কয়লা, তাইতো? কয়লা হলো মানুষের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জীবাশ্ম জ্বালানি। এখন কিন্তু কয়লার প্রধান ব্যবহার বিদ্যুৎ তৈরিতে। কি করে জানো? তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পুড়িয়ে তাপ পাওয়া যায়। সেই তাপ কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি হয়।
-
খ) রাসায়নিক পদার্থ তৈরিতে ⚗️ বাতাসের অনুপস্থিতিতে কয়লাকে বেশি উত্তাপয় গরম করা হলে কঠিন অবশেষ (কোক), তরল আলকাতরা আর গ্যাস পাওয়া যায়। এই কঠিন অবশেষ ধাতু নিষ্কাশনের কাজে লাগে। তরলের মধ্যে প্রধান হল আলকাতরা। এ থেকে বহু দরকারি জৈব যৌগ আলাদা করা হয়। গ্যাস মিশ্রণকে শোধন করে নিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
পরিবেশ ও বিজ্ঞান
পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার ⛽
উপরের প্রত্যেক ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। তুমি কি বলতে পারো কোনটা কি জ্বালানি লাগে?
- কেরোসিন (Kerosene) - (চিত্র 1: কেরোসিন স্টোভ)
- পেট্রোল (Petrol) - (চিত্র 2: মোটরবাইক)
- ডিজেল (Diesel) - (চিত্র 3: ট্রাক)
- এল.পি.জি. (LPG) - (চিত্র 4: গ্যাস স্টোভ)
এই যে চার রকম জ্বালানি, এরা হলো যথাক্রমে কেরোসিন, পেট্রোল, ডিজেল আর এল.পি.জি.। এরা এল কোথা থেকে? পেট্রোলিয়াম শোধন করার সময় আমরা এদের পাই।
পেট্রোলিয়াম কী আর কেনই বা তাকে শোধন করা দরকার? 💡
পেট্রোলিয়াম হলো চটচটে তরল একটি মিশ্রণ। এতে বহুরকমের যৌগ, জল, মাটি ইত্যাদি মিশে থাকে। একে সরাসরি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। জল, মাটি ও অপ্রয়োজনীয় পদার্থ দূর করার পর তবেই পেট্রোলিয়াম থেকে নানান জ্বালানি পাওয়া যায়। একে বলে পেট্রোলিয়াম শোধন করা।
পেট্রোলিয়াম শোধনের সময় প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসীয় জ্বালানি পাওয়া যায়। আমরা যে রান্নার গ্যাসের এল.পি.জি. (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডার দেখি তাতে প্রধানত তরল প্রোপেন থাকে। জ্বালানি ছাড়াও পেট্রোলিয়ামজাত যৌগ থেকে নানা ধরনের জিনিস তৈরি করা হয়, যেমন:
- প্লাস্টিক
- দ্রাবক
- ঘর্ষণ কমানোর তেল
- রং
- এবং আরও বহু জিনিস!
প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার 🌿
সাধারণত তরল পেট্রোলিয়ামের উপরেই থাকে প্রাকৃতিক গ্যাস। প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন। শোধিত প্রাকৃতিক গ্যাসকে বেশি চাপে সিলিন্ডারে ভরে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা হয়। একেই বলা হয় কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস বা সি.এন.জি. (CNG)। সি.এন.জি. দিয়ে এখন অনেক জায়গায় বাসও চালানো হচ্ছে। এতে দূষণের পরিমাণ ডিজেলচালিত বাসের চেয়ে কম।
(চিত্র: সি.এন.জি. দিয়ে চালিত বাস)
CONTENT MANAGER