Academy

3. মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থ

3. মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থ - WBBSE - Class 6 - পরিবেশ বিজ্ঞান

0

3. মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থ 🔬\n\n## ধাতু ও অধাতু ✨\n\nআমাদের চারপাশে আমরা যে জিনিসগুলো দেখতে পাই সেগুলোকে আমরা সাধারণভাবে বস্তু বলি। আবার ওই বস্তুর মধ্যে যে উপাদান আছে তা হলো পদার্থ। আমাদের রোজকার ব্যবহারের কিছু জিনিসের কথা মনে করো — লোহার আলমারি লোহা দিয়ে তৈরি, প্লাস্টিকের মগ-বালতি প্লাস্টিক থেকে তৈরি। লোহা, প্লাস্টিক — এগুলো যেমন কঠিন পদার্থ, তেমনি জল, সরষের তেল, কাশীর সিরাপ — এগুলো তরল পদার্থ। আবার বায়ুতে যেমন বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ মিশে আছে, তেমনি ধূপের ধোঁয়া বা গাড়ির ধোঁয়াতে বিভিন্ন গ্যাসের সঙ্গে মিশে আছে বিভিন্ন কঠিন কণা। দেখা যাচ্ছে পদার্থের অবস্থা নানা ধরনের হতে পারে— কঠিন, তরলগ্যাসীয়। কিন্তু সব কঠিন পদার্থই কি একইরকমের? 💡\n\n### 🧪 করে দেখি\n\nএকটা এক টাকার বা দু-টাকার কয়েন যদি হাত থেকে সিমেন্টের মেঝেতে পড়ে, কেমন শব্দ শুনতে পাও? এক টুকরো কাঠকয়লা একই জায়গায় ফেলে দেখো কেমন শব্দ হয়। হাত থেকে পড়ার পর কয়েনের আকার-আকৃতির কি কোনো পরিবর্তন দেখতে পাও? কাঠকয়লা ফেললে তার আকার-আকৃতির পরিবর্তন কি একইরকম হয়?\n\n| কী করা হলো | কী দেখলে ও কেমন শব্দ শুনলে |\n|---|---|\n| যখন এক টাকা বা দু-টাকার কয়েন ফেলা হলো | (এখানে তোমার পর্যবেক্ষণ লেখো) |\n| যখন কাঠকয়লার টুকরো ফেলা হলো | (এখানে তোমার পর্যবেক্ষণ লেখো) |\n\n📌 কী কী জিনিস আঘাত করলে একইরকম শব্দ তৈরি হয়, যাদের বাঁকানো যায় ও পাতলা পাতে পরিণত করা যায় এরকম কয়েকটি পদার্থের উদাহরণ নীচের তালিকায় লেখো। আবার আঘাত করলে এরকম শব্দ হবে না, কিন্তু গুঁড়ো হয়ে যাবে এমন কয়েকটি জিনিসের নাম লেখো :\n\n| কেমন জিনিস | তাদের নাম |\n|---|---|\n| আঘাত করলে টং করে শব্দ হয়, বাঁকানো যায় ও পাতলা পাতে পরিণত হয় | (উদাহরণ লেখো) |\n| আঘাত করলে কোনো রকম টং শব্দ হয় না, গুঁড়ো হয়ে যায় | (উদাহরণ লেখো) |


🌿 পরিবেশ ও বিজ্ঞান

💡 তোমাদের পরিচিত কয়েকটি কঠিন পদার্থের আরো কয়েকটি ধর্ম কীভাবে বোঝা যাবে তার জন্য নিচের পরীক্ষাগুলো করো।

🧪 করে দেখি: বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা পরীক্ষা

  1. দু-টুকরো তামার তার, দুটো ছোটো পেরেক, একটি ব্যাটারি ও একটি ছোটো হোল্ডারসহ বাল্ব নাও। এবার ছবির মতো করে তাদের জোড়া লাগাও। যা ঘটতে দেখছ তা লেখো।
  2. এবার একটি পেরেক খুলে নাও ও তার জায়গায় একটি সবুজ লম্বা কাঠকয়লার টুকরো ছবির মতো করে জোড়া লাগাও। আগের ঘটনা ও এখনকার ঘটনার বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নিচের সারগর্ভটি পূরণ করো।
ঘটনাকী দেখতে পেলেকেন এমন হলো বলে মনে হয়
যখন লোহার পেরেক জোড়া ছিল(বাল্বটি জ্বলে উঠলো)(লোহা বিদ্যুৎ সুপরিবাহী)
যখন লোহার পেরেকের বদলে কাঠকয়লার টুকরো জোড়া হলো(বাল্বটি জ্বলে উঠলো না)(কাঠকয়লা বিদ্যুৎ কুপরিবাহী)

🔥 করে দেখি: তাপ পরিবাহিতা পরীক্ষা

  1. একটি স্টিলের সাধারণ চামচের একটি প্রান্ত একটি জ্বলন্ত মোমবাতির শিখার মধ্যে কিছুক্ষণ ধরে রাখার পর তোমার অনুভূতি কেমন হয় তা নীচে লেখো।
  2. একইভাবে প্লাস্টিকের হাতল লাগানো একটি স্টিলের চামচ মোমবাতির আগুনে ধরলে তোমার অনুভূতি কি একইরকম হয়? তোমার অনুভূতি কেমন তা নীচে লেখো।
যখন আগুনে ধরা হলোকী অনুভব করলেকেন এমন অনুভূতি হলো বলে মনে হয়
স্টিলের চামচ(চামচের শেষ প্রান্তটি গরম হয়ে উঠলো)(স্টিল তাপের সুপরিবাহী)
প্লাস্টিকের হাতল লাগানো স্টিলের চামচ(হাতলটি গরম হলো না)(প্লাস্টিক তাপের কুপরিবাহী)

পৃষ্ঠা ৪০


3. মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থ

💡 ধাতু ও অধাতু

আমাদের চারপাশে আমরা যে জিনিসগুলো দেখতে পাই সেগুলোকে আমরা সাধারণভাবে বস্তু বলি। আবার ওই বস্তুর মধ্যে যে উপাদান আছে তা হলো পদার্থ। আমাদের রোজকার ব্যবহারের কিছু জিনিসের কথা মনে করো — যেমন লোহার আলমারি লোহা দিয়ে তৈরি, প্লাস্টিকের মগ-বালতি প্লাস্টিক থেকে তৈরি। লোহা, প্লাস্টিক — এগুলো যেমন কঠিন পদার্থ, তেমনি জল, সরষের তেল, কাশমির সিরাপ — এগুলো তরল পদার্থ। আবার বায়ুতে যেমন বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ মিশে আছে, তেমনি ধূপের ধোঁয়া বা গাড়ির ধোঁয়াতে বিভিন্ন গ্যাসের সঙ্গে মিশে আছে বিভিন্ন কঠিন কণা। দেখা যাচ্ছে পদার্থের অবস্থা নানা ধরনের হতে পারে— কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়। কিন্তু সব কঠিন পদার্থই কি একইরকমের?

🔬 করে দেখি

একটা এক টাকার বা দু-টাকার কয়েন যদি হাত থেকে সিমেন্টের মেঝেতে পড়ে, কেমন শব্দ শুনতে পাও? একই জায়গায় ফেলে দেখো কেমন শব্দ হয়। হাত থেকে পড়ার পর কয়েনের আকার-আকৃতির কি কোনো পরিবর্তন দেখতে পাও? কাঠকয়লা ফেললে তার আকার-আকৃতির পরিবর্তন কি একইরকম হয়?

কী করা হলোকী দেখলে ও কেমন শব্দ শুনলে
যখন এক টাকা বা দু-টাকার কয়েন ফেলা হলো
যখন কাঠকয়লার টুকরো ফেলা হলো

📌 কী কী জিনিসে আঘাত করলে একরকম শব্দ তৈরি হয়, যাদের বাঁকানো যায় ও পাতলা পাতে পরিণত করা যায় এরকম কয়েকটি পদার্থের উদাহরণ নিচের তালিকায় লেখো। আবার আঘাত করলে এরকম শব্দ হবে না, কিন্তু গুঁড়ো হয়ে যাবে এমন কয়েকটি জিনিসের নাম লেখো:

কেমন জিনিসতাদের নাম
আঘাত করলে টং করে শব্দ হয়, বাঁকানো যায় ও পাতলা পাতে পরিণত হয়
আঘাত করলে কোনোরকম টং শব্দ হয় না, গুঁড়ো হয়ে যায়

💡 পরিবেশ ও বিজ্ঞান

তোমাদের পরিচিত কয়েকটি কঠিন পদার্থের আরো কয়েকটি ধর্ম কীভাবে বোঝা যায় তার জন্য নিচের পরীক্ষাগুলো করো।

🧪 করে দেখি: বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা

  1. দু-টুকরো তামার তার, দুটো ছোটো পেরেক, একটি ব্যাটারি ও একটি ছোটো বাল্ব নাও। এবার ছবির মতো করে তাদের জোড়া লাগাও। যা ঘটছে দেখছ তা লেখো।
  2. এবার একটি পেরেক খুলে নাও ও তার জায়গায় একটি সরু লম্বা কাঠকয়লার টুকরো ছবির মতো করে জোড়া লাগাও। আগের ঘটনা ও এখনকার ঘটনার বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নিচের সারগটি পূরণ করো।

Electrical circuit diagrams showing a bulb lighting up with nails and not lighting up with charcoal

📝 পর্যবেক্ষণ: বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা

ঘটনাকী দেখতে পেলেকেন এমন হলো বলে মনে হয়
যখন লোহার পেরেক জোড়া ছিল
যখন লোহার পেরেকের বদলে কাঠকয়লার টুকরো জোড়া হলো

🔥 করে দেখি: তাপ পরিবাহিতা

  1. একটি স্টিলের সাধারণ চামচের একটি প্রান্ত একটি জ্বলন্ত মোমবাতির শিখার মধ্যে কিছুক্ষণ ধরে রাখার পর তোমার অনুভূতি কেমন হয় তা নীচে লেখো।
  2. একইভাবে প্লাস্টিকের হাতল লাগানো একটি স্টিলের চামচ মোমবাতির আগুনে ধরলে তোমার অনুভূতি কি একইরকম হয়? তোমার অনুভূতি কেমন তা নীচে লেখো।

Two diagrams showing a spoon held over a candle flame, one plain steel, one with a plastic handle

📝 পর্যবেক্ষণ: তাপ পরিবাহিতা

যখন আগুনে ধরা হলোকী অনুভব করলেকেন এমন অনুভূতি হলো বলে মনে হয়
স্টিলের চামচ
প্লাস্টিকের হাতল লাগানো স্টিলের চামচ

পৃষ্ঠা ৪০


মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থ

🧪 করে দেখো

💡 তিনটি পরীক্ষা বাসন - একটি স্টিলের থালা, পিতলের রেকাবি ও একটি অ্যালুমিনিয়ামের বাটি রোদ্দুরে ধরো। সূর্যের আলো এই তিনটি জিনিসের ওপর কেমন দেখাচ্ছে তা লক্ষ করো। মিনিট পাঁচেক এভাবে ধরে রাখার পর পাত্রের পিছনের দিকে হাত দিয়ে তাদের তাপমাত্রার পরিবর্তন বোঝার চেষ্টা করো। তোমরা যা দেখছ তা মিল বা অমিল নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে লেখো। একটা প্লাস্টিকের তৈরি বাটি রোদ্দুরে ধরলে কি একই ঘটনা দেখতে পাও?

কিসের তৈরি জিনিসরোদ্দুরে ধরলে কী হয়

🤔 তুমি যদি কখনও কামারশালায় যাও কী দেখতে পাবে?

দেখবে যে বিভিন্ন আকারের লোহা গরম করে, তাকে পিটিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করা হচ্ছে। এইসব কাজ করার জন্য লোহাকেই কেন বেছে নেওয়া হয় নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে লেখো।


🤔 কাঠকয়লা বা প্লাস্টিককে গরম করে বা পিটিয়ে কি একইরকম কাজ করা যাবে?

– যাবে না। কারণ কাঠকয়লা বা প্লাস্টিকের মধ্যে লোহার মতো একইরকম গুণ নেই।

📌 সাধারণ ধর্মাবলি: ধাতু চেনার উপায়

আমরা দেখতে পাচ্ছি যে লোহা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, পিতল ইত্যাদির কতগুলো সাধারণ ধর্ম আছে। ধর্মগুলো কী কী?

  1. এদের ওপরের তলে আলো পড়লে চকচক করে। ✨
  2. এদের আঘাত করলে ঠং করে একরকম বিশেষ শব্দ হয়। 🔔
  3. এদের একটা ধারে গরম করলে সহজেই অন্য ধারটা গরম হয়ে যায়; এরা তাপবিদ্যুতের সুপরিবাহী। 🔥⚡
  4. এদের সরু ছড়কে সহজেই বাঁকানো যায়। 🤸
  5. জোরে পিটলে চ্যাপটা হয়ে যায়। 🔨

💡 ধাতু ও অধাতু: বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ

এই কারণেই লোহা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি পদার্থগুলো হলো ধাতু। আর কাঠকয়লার মতো পদার্থগুলো হলো অধাতু

ধাতু সাধারণত কঠিন। পারদ ধাতু হলেও তরল। আর অধাতুগুলো কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় হতে পারে। তবে গ্রাফাইট অধাতু হলেও বিদ্যুতের সুপরিবাহী। হিরে অধাতু হলেও তাপের সুপরিবাহী।

নীচে তোমার চেনা কতগুলো পদার্থের নাম দেওয়া হলো। শিক্ষক/শিক্ষিকার সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সাধারণ ধর্ম কী কী হতে পারে সেগুলো লেখো। কোনগুলো ধাতু আর কোনগুলো অধাতু তা জেনে নাও ও সারণি আকারে লেখো।

  • সোনা 🥇
  • রুপো 🥈
  • অ্যালুমিনিয়াম
  • গন্ধক
  • দস্তা
  • নাইট্রোজেন
  • অক্সিজেন

💡 পদার্থ: ধাতু ও অধাতু

ধর্মকী কী ধর্মের মিল দেখা যায়ধাতু না অধাতু
1. আলোতে চকচক করে
2. পিটালে শব্দ হয়
3. পাতে পরিণত হয়
ধাতু
4. ........................অধাতু

✨ বিশুদ্ধ ও মিশ্র পদার্থ

আমরা জানি যে বাতাসে অনেকগুলো উপাদান আছে। যেমন – 1. নাইট্রোজেন, 2. অক্সিজেন, 3. কার্বন ডাইঅক্সাইড, 4. জলীয় বাষ্প, 5. নিষ্ক্রিয় গ্যাস।

আবার যদি দুধ ফোটানো হয় দেখা যায় দুধ ক্রমশ ঘন হতে থাকে। দুধ থেকে কী বেরিয়ে ঘন হয়? ফোটানো দুধের ওপর একটা থালা কিছুক্ষণ ঢাকা দিয়ে রাখার পর তুললে কী দেখতে পাও?

.........................................................................

🤔 এই জলটা কোথা থেকে এল বলো তো?

– ওই ফোটানো দুধ থেকেই, কারণ দুধ ঘন হবার সময় তার মধ্যে থাকা জলের পরিমাণ কমে যায়। তাহলে দেখো, বাতাস বা দুধের মধ্যে একের বেশি পদার্থ মিশে থাকে। তাই এরা সকলেই মিশ্র পদার্থ

🧪 করে দেখো

একটা কাঁচের গ্লাসে জল নাও। তার মধ্যে এক চামচ নুন গুলে দাও। এরপর তার মধ্যে আরো এক চামচ করে নুন, তিন-চারবার গোলার চেষ্টা করো। প্রথমবারের সঙ্গে শেষবার তৈরি হওয়া দ্রবণের নোনাভাবের কোনো পরিবর্তন ঘটেছে কিনা লক্ষ্য করো।

তোমার পরিচিত কয়েকটি পদার্থের নাম নীচে দেওয়া হলো। এদের মধ্যে কোনগুলো মিশ্র পদার্থ তা শিক্ষক/শিক্ষিকার কাছ থেকে জেনে নাও।

  • চিনির শরবত
  • ঠান্ডা পানীয়
  • মধু
  • বাজির মশলা
  • লোহার রং
  • গন্ধক
  • লোহা
  • জল
  • অক্সিজেন
  • কার্বন ডাইঅক্সাইড
  • চিনি

.........................................................................

🤔 অন্য পদার্থগুলোকে তাহলে কী পদার্থ বলা যাবে?

📌 যেগুলোর মধ্যে একাধিক পদার্থ মিশে নেই তারা বিশুদ্ধ পদার্থ

তাহলে উপরের তালিকার মধ্যে থাকা বিশুদ্ধ পদার্থগুলো হলো .....................................।

কিন্তু লোহা ও জল দুটোই বিশুদ্ধ পদার্থ হলেও তারা কি একইরকম পদার্থ?

⚛️ মৌলিক ও যৌগিক পদার্থ

⚡ করে দেখো

একটা বিকারে কিছুটা পানীয় জল নাও। একটা রাবারের টুকরোর মধ্যে দুটো ছোটো পেরেক পুঁতে পাশের ছবির মতো জলের মধ্যে ডোবাও। তিন-চারটে শুষ্ক জ্বালানো সাধারণ ব্যাটারির সঙ্গে সাধারণ তার যোগ করে ওই জলের মধ্যে ডোবানো দুটো পেরেকের মাথায় যোগ করো। পেরেক দুটোর গায়ে কী ঘটছে তা ভালো করে লক্ষ করো।


মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থ 🧪

Diagram showing water electrolysis setup with labels: Battery, Bulb, Switch, Beaker, Pore-cups, Drinking water, Rubber cork.

ভালো করে লক্ষ করলে দেখতে পাওয়া যাবে পোরক দুটোর গায়ে বুদবুদের মতো গ্যাস জমা হচ্ছে। পোরক দুটোর একটার গায়ে হাইড্রোজেন আর অন্যটার গায়ে অক্সিজেন জমা হচ্ছে। কেন বলো? 🤔

অভিভ সলানোর পর তেও হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন তৈরি হয়। এর থেকেই বোঝা যায় যে জল হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে তৈরি। 💧

⚠️ সতর্কতা: টর্চ ব্যবহার করা সাধারণ ব্যাটারি সাহায্যেই শুধু এই পরীক্ষা করবে। বাড়ির ইলেকট্রিক লাইন বা ইনভার্টারের লাইন থেকে কখনোই করবে না।

কিন্তু লোহাকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে তা এর মধ্যে লোহা ছাড়া আর কিছুই নেই। একইভাব তাম, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে তাদের মধ্যে শুধুমাত্র ওই পদার্থগুলোই আছে। লোহার মধ্যে লোহা ছাড়া আর কিছু নেই। এরকম পদার্থকে বলে মৌলিক পদার্থ। কিন্তু দুটি মৌলিক পদার্থ অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন জল উৎপন্ন করেছে। জল তরল পদার্থ, কিন্তু অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন গ্যাসীয় পদার্থ। জলের ধর্মের সঙ্গে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের ধর্মের কোনো মিল নেই। 💡

বায়ুতে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস মিশে আছে। 🌬️

আবার জলেও দুটো উপাদান— অক্সিজেনহাইড্রোজেন আছে। তাহলে বায়ু ও জল কি একইরকম পদার্থ, না কোথাও তাদের তফাত আছে? 🤔

— পরীক্ষা করলে দেখা যাবে যে বায়ুর মধ্যে তার সবকটি উপাদানই তাদের নিজেদের ধর্ম বজায় রেখেছে। যেমন— অক্সিজেনর কথাই ধরা যাক। অক্সিজেন —

  1. আমাদের শ্বাসকার্যে সাহায্য করে। 🌬️
  2. কোনো জিনিস জ্বলতে সাহায্য করে। 🔥

করে দেখো 🔬

একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে, একটা কাচের গ্লাস দিয়ে ঢাকা দাও। 🕯️

Image showing two candles, one lit and covered by a glass, another extinguished under a glass.

প্রথমে গ্লাসের ফাঁকা অংশে কী ছিল? ..................

যতক্ষণ পর্যন্ত মোমবাতিটা যথেষ্ট অক্সিজেন পাচ্ছিল ততক্ষণ জ্বলছিল। তারপর যখন অক্সিজেন কমে এল, তখন মোমবাতিটা নিভে গেল। 💨

অক্সিজেন কোনো জিনিসকে জ্বলতে সাহায্য করে। বাতাসের মধ্যে অনেকের সঙ্গে মিশে থাকা সত্ত্বেও তার নিজের সেই ধর্ম বজায় থাকে। এই পরীক্ষাটা তার প্রমাণ। ✅

কী দেখলেকেন এমন হলো বলে মনে হয়

প্রবেশ ও বিজ্ঞান

  1. 💡 কোনো জ্বলন্ত জিনিস জল দিলে কী ঘটে তা নিশ্চয়ই দেখেছ।
  2. 🧪 আবার এটাও জানো যে জলের উপাদানগুলো হলো অক্সিজেন আর হাইড্রোজেন

দেখেছ, জলের মধ্যে থাকা অক্সিজেন এমনভাবে হাইড্রোজেনের সঙ্গে জোট বেঁধেছে যাতে জোট বাঁধার পর তার নিজের ধর্ম লোপ পেয়েছে — জলের অক্সিজেন আগুনে জ্বলতে সাহায্য করেনি।

জলের উপাদান অক্সিজেনহাইড্রোজেনের সঙ্গে জলের ধর্মের মিল বা অমিলগুলো নীচের সারণিতে লক্ষ্য করো ও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করো।

হাইড্রোজেন ধর্মঅক্সিজেন ধর্মজলের ধর্ম
বর্ণহীন, গন্ধহীন, গ্যাসীয় পদার্থ আর বাতাসের চেয়ে হালকা।বর্ণহীন, গন্ধহীন, গ্যাসীয় পদার্থ, বাতাসের চেয়ে সামান্য ভারী।বর্ণহীন, গন্ধহীন, সাধারণ অবস্থায় তরল।
অক্সিজেনের উপস্থিতিতে আগুন দিলে হাইড্রোজেন গ্যাস নিজে জ্বলে।কোনো কিছুকে জ্বলতে সাহায্য করে, কিন্তু নিজে জ্বলে না।কোনো কিছুকে জ্বলতে সাহায্য করে না।

📌 পরীক্ষা বোঝা যায় যে জলের মধ্যে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন তাদের নিজেদের ধর্ম বজায় রাখতে পারে না। অর্থাৎ, জলের ধর্ম তার উপাদানগুলোর ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। জল এমন একটি পদার্থ যা তৈরি হয়েছে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের মধ্যে ঘটে যাওয়া রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে। তাই জল হলো একটি যৌগিক পদার্থ বা যৌগ

করে দেখো 🧪

এক টুকরো ম্যাগনেসিয়াম ধাতুর ফিতে চিমটে দিয়ে আগুনে ধরো; আর নিজেরা আলোচনা করে লেখো।

কী দেখলেকেন এমন হলো

পরীক্ষায় দেখা যাবে ম্যাগনেসিয়াম ধাতু জ্বালানোর পর একরকম সাদা গুঁড়ো তৈরি হয়েছে, যা দেখলেই বোঝা যাবে এই সাদা গুঁড়ো ম্যাগনেসিয়ামের থেকে আলাদা একটি পদার্থ। এখানে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ম্যাগনেসিয়াম ও বাতাসের অক্সিজেন জুড়ে একটি নতুন যৌগ তৈরি হয়। তার নাম ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড

💡 তোমরা জানো, বাতাসের একটা উপাদান হলো কার্বন ডাইঅক্সাইড। নাম শুনে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ যে এই গ্যাসীয় পদার্থ কার্বন আর অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তৈরি একটি যৌগ

এবার পরের পাতার সারণিতে কার্বন, অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ধর্মের তুলনা পড়ে দেখো।


🧪 মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থ (Elements, Compounds & Mixtures)

📌 ধর্ম তুলনা: কার্বন, অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড (Property Comparison: Carbon, Oxygen & Carbon Dioxide)

কার্বনের ধর্ম (Properties of Carbon)অক্সিজেনের ধর্ম (Properties of Oxygen)কার্বন ডাইঅক্সাইডের ধর্ম (Properties of Carbon Dioxide)
1. কালো রং-এর কঠিন পদার্থ (Black solid substance)1. বর্ণহীন গ্যাস (Colorless gas)1. বর্ণহীন গ্যাস (Colorless gas)
2. অক্সিজেনের উপস্থিতিতে জ্বালিয়ে দিলে জ্বলে (Burns in presence of oxygen)2. জ্বালতে সাহায্য করে (Helps in burning)2. জ্বালতে সাহায্য করে না (Does not help in burning)
3. শ্বাসকার্যে সাহায্য করে (Helps in respiration)3. শ্বাসকার্যে সাহায্য করে না (Does not help in respiration)

🌬️ মিশ্র পদার্থের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Mixtures)

বাতাসের মতো মিশ্র পদার্থের মধ্যে তার উপাদানগুলো নিজেদের ধর্ম বজায় রাখতে পারে। 💡 মিশ্র পদার্থের উপাদানগুলির পরিমাণও বদলে যেতে পারে।

  • প্রশ্ন: বাতাসের উপাদানগুলোর পরিমাণ কি স্থান বা ঋতুভেদে একই থাকে?

নীচের ঘটনাগুলো কেন ঘটে তা শিক্ষক/শিক্ষিকার কাছ থেকে জেনে নাও ও নীচের সারণিতে লেখো:

কী ঘটনা (What event)কেন ঘটে (Why it happens)
1. উঁচু পাহাড়ের ওপরে শ্বাসকষ্ট হয় (Difficulty breathing on high mountains)
2. বর্ষাকালে ভিজে কাপড় শুকাতে দেরি হয় (Wet clothes take longer to dry in the rainy season)

🔬 পদার্থের প্রকারভেদ (Types of Substances)

আমাদের চারিপাশে মিশ্রযৌগ এই দু-ধরনের পদার্থের সংখ্যাই বেশি। আবার কিছু পদার্থ আছে যারা একটামাত্র উপাদানে তৈরি

  • উদাহরণ: বিশুদ্ধ লোহা, তামা, সোনা, রূপা, কার্বন।

⚖️ লোহার টুকরোর পর্যবেক্ষণ (Observing Iron Pieces)

তোমরা জানো যে বড়ো জিনিসকে ভাঙলে ছোটো ছোটো টুকরো পাওয়া যায়। নীচের ছবি তিনটি দেখো; তিনটি বোতলেই একই ওজনের লোহার টুকরো আছে।

  • ছবি A: বড়ো লোহার টুকরো
  • ছবি B: মাঝারি লোহার টুকরো
  • ছবি C: ছোটো লোহার টুকরো/গুঁড়ো

🤔 এবার ভেবে বলো (Now Think and Tell)

  1. কোনটায় লোহার টুকরোগুলো সবচেয়ে বড়ো?
  2. কোনটায় লোহার টুকরোর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
  3. কোনটায় খালিচোখে প্রত্যেকটা টুকরোকে চেনা শক্ত?
  4. কোনটায় একটা একটা করে টুকরো বা গুঁড়ো গোনা শক্ত?

🧪 পরিবেশ ও বিজ্ঞান

💡 তাহলে আমরা বলতে পারি কি —

কোনো জিনিসকে ক্রমাগত ভাঙতে থাকলে টুকরোগুলো ক্রমশ ছোটো হতে থাকবে। টুকরোগুলো যতই ছোটো হতে থাকুক প্রত্যেকটাকে আলাদা করে দেখা এবং চিনতে পারা ততই শক্ত হয়ে পড়বে। লোহা মতোই সোনা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, রুপো, দস্তা বা কার্বন (কয়লা) — এদের যে-কোনো একটার ছোটো টুকরোকে যদি আরো ছোটো করে ফেলা যায় তাহলে তাদের বেলাতেও আরো ছোটো টুকরোগুলো চেনা শক্ত হয়ে পড়বে।

ছোটো টুকরো করতে করতে এমন মৌলিক পদার্থের এমন ক্ষুদ্রতম কণা পাওয়া যাবে যা চোখে দেখা যায় না এবং যার মধ্যে ওই পদার্থের গুণগুলো আছে; মৌলের ওই ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে ওই মৌলের গুণগুলো বর্তমান সেই ক্ষুদ্রতম কণাকে মৌলের পরমাণু বলে। কিন্তু পরমাণুকে আরো ভাঙলে তার মধ্যে মৌলের গুণগুলো আর বজায় থাকবে না।

  • (i) তাহলে আমরা জানলাম যে মৌলিক পদার্থ পরমাণু দিয়ে তৈরি
  • (ii) আমরা জানি, যৌগিক পদার্থ একাধিক মৌলিক পদার্থ দিয়ে তৈরি। তাহলে যৌগিক পদার্থের মধ্যেও একাধিক মৌলের পরমাণু আছে।

📌 কয়েকটি পরিচিত যৌগো কী কী মৌলের পরমাণু থাকতে পারে তা নীচের সারণিতে লেখো:

যৌগের নামকী কী মৌলের পরমাণু দিয়ে তৈরি
জল
কার্বন ডাইঅক্সাইড
চিনিকার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন
নুনসোডিয়াম, ক্লোরিন
পাথুরে চুনক্যালশিয়াম, অক্সিজেন

🔍 দেখা যাক, মৌলিক, যৌগিক বা মিশ্র পদার্থের তফাত কোথায়।

বেশ কিছু ধাতব বা অধাতব মৌলের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। অন্য মৌলগুলো যাদের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে না তারা তাহলে কেমনভাবে থাকে?

সেই মৌলগুলোর একাধিক পরমাণু একসঙ্গে জুড়ে থাকে। পরমাণুদের ওই জোটা বদ্ধ অবস্থাকে ওই মৌলের অণু বলে। নীচের ছবিতে লক্ষ করি কীভাবে মৌলের পরমাণু জুড়ে ওই মৌলের অণু তৈরি হয়। যে-কোনো পদার্থের খালি চোখে দেখার মতো নমুনায় বহু লক্ষ-কোটি অণু-পরমাণু থাকে।

H H O O Cl Cl I I

আমরা দেখেছি যে বিভিন্ন মৌল জুড়ে যৌগিক পদার্থ তৈরি হয়। যৌগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ছোটো যে কণা স্বাধীনভাবে থাকতে পারে ও যে কণার মধ্যে যৌগের ধর্ম বর্তমান থাকে তা হলো যৌগের অণু। একই মৌলের একাধিক পরমাণু জুড়লে তৈরি হয় মৌলের অণু আর ভিন্ন মৌলের পরমাণুরা জুড়লে তৈরি হয় যৌগের অণু। পরের পাতার ছবিতে কয়েকটি পরিচিত যৌগের অণুর গঠন দেখানো হয়েছে। পরমাণুর রং হয়না, ওটা বোঝাবার জন্য আঁকা হয়েছে।


মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থ

💡 এগুলি দেখে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নিচের তালিকা পূরণ করো:

উদাহরণ:

  • H O H ➡️ জল (Water)
  • H Cl ➡️ হাইড্রোজেন ক্লোরাইড বা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (Hydrogen chloride or Hydrochloric acid)
  • O C O ➡️ কার্বন ডাইঅক্সাইড (Carbon dioxide)
কোন যৌগের অণুকী কী মৌল দিয়ে গঠিতএকটা অণুতে কোন মৌলের কটা পরমাণু আছে
জল
হাইড্রোজেন ক্লোরাইড
কার্বন ডাইঅক্সাইড

এখানে মৌলের পরমাণুগুলোকে গোলকের আকারে দেখানো হয়েছে। আর মৌলগুলোকে চেনার জন্য তাদের নাম সংক্ষেপে ওই গোলকের মধ্যে লেখা হয়েছে। মৌলের এই সংক্ষিপ্ত নামকেই মৌলের চিহ্ন বলে।

🤔 মৌলগুলোর চিহ্ন কীভাবে পাওয়া যায়?

চিহ্ন, সংকেত ও যোজ্যতা

চিহ্ন

🧪 হাইড্রোজেন, কার্বন ও অক্সিজেন এই তিনটি মৌলের নামের ইংরাজি বানানগুলো দেখো – Hydrogen, Carbon ও Oxygen। এই তিনটি বানান লিখতে কতটা জায়গা লেগে গেল! তাহলে বিজ্ঞান বইয়ে বারবার এই পদ্ধতিতে মৌলগুলোর নাম লিখলে বিজ্ঞানের বইটা কত মোটা হবে তা একবার ভেবে দেখো। তাই বিজ্ঞানীরা মৌলগুলোর নাম ছোটো করে লেখার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। Hydrogen শব্দের বদলে H, Oxygen শব্দের বদলে O এবং Carbon শব্দের বদলে C দিয়ে লিখলে অনেক কম জায়গা লাগে। অর্থাৎ মৌলগুলোর ইংরাজি নামের প্রথম অক্ষরটা বড়ো হরফে লিখে অনেক মৌলকে চিহ্নের সাহায্যে প্রকাশ করা যায়। শুধু মৌলের চিহ্ন জানলেই কি আমাদের চলবে? যখন আমাদের এইসব মৌলের পরমাণুর কথা বলতে হবে তখন আমরা কী করব? তখন আমরা হাইড্রোজেন, অক্সিজেন আর কার্বনের পরমাণুকে বোঝাতেও যথাক্রমে H, O, ও C ব্যবহার করব। এতে কোন যৌগ কি কি মৌল আছে তা সংক্ষেপে বোঝাতে আমাদের সুবিধা হবে।

📝 আবার তোমরা এই একই পদ্ধতি ব্যবহার করে নিচের মৌলগুলোর চিহ্ন লেখো।

মৌলের নামইংরাজি শব্দচিহ্ন
নাইট্রোজেনNitrogen
বোরনBoron
সালফারSulphur
ফসফরাসPhosphorus
আয়োডিনIodine
ফ্লুওরিনFluorine

👩‍🏫 এবার তোমরা তোমাদের শিক্ষক/শিক্ষিকার সঙ্গে আলোচনা করে এই পদ্ধতির সাহায্যে আরও কিছু মৌলের চিহ্ন জানার চেষ্টা করো।


পরবেশ ও বিজ্ঞান 🔬

আসলে, অনেক মৌল (elements) আবিষ্কৃত হয়েছে। সমস্ত মৌলের চিহ্ন লেখার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, কিন্তু কিছু অসুবিধা আছে। যেমন: কার্বন (Carbon)-কে যদি তার ইংরেজি বানানের প্রথম অক্ষর (C) দিয়ে চিহ্নিত করা হয়, তাহলে ক্যালসিয়াম (Calcium)-এর চিহ্ন কী হবে? 🤔 ক্যালসিয়ামেরও তো প্রথম অক্ষর 'C' দিয়েই শুরু! এই সমস্যা সমাধানের জন্য আরেকটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মৌল চিহ্নিত করার জন্য দুটি অক্ষর ব্যবহার করা হয়। যেমন, ক্যালসিয়ামের ক্ষেত্রে Ca ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে প্রথম অক্ষরটি Capital letter এবং দ্বিতীয়টি Small letter ব্যবহার করা হয়।


📝 তালিকা পূরণ করো

এখন তোমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নিচের তালিকাটি পূরণ করো।

মৌলের নামইংরাজি শব্দমৌলের চিহ্ন
কোবাল্টCobalt
হিলিয়ামHelium
লিথিয়ামLithium
বেরিলিয়ামBeryllium
বেরিয়ামBarium
ব্রোমিনBromine

💡 সমস্যা চিহ্নিতকরণ

উপরের পদ্ধতি ব্যবহার করে তোমরা ক্রোমিয়াম (Chromium), ক্লোরিন (Chlorine), ম্যাগনেসিয়াম (Magnesium), ম্যাঙ্গানিজ (Manganese) মৌলগুলোর চিহ্ন লেখার চেষ্টা করো। এতে তোমার কী অসুবিধা হচ্ছে তা সংক্ষেপে লেখো।

তোমার উত্তর: ..................................................................................................


🧪 বিকল্প পদ্ধতি

এবার তোমরা এই মৌলগুলোর চিহ্নের ক্ষেত্রে ইংরেজি প্রথম অক্ষরের সঙ্গে দ্বিতীয় অক্ষরের বদলে অন্য কোনো নির্দিষ্ট অক্ষরটি ব্যবহার করে চিহ্ন লেখার চেষ্টা করে দেখো তো এই সমস্যা দূর হচ্ছে কিনা।

মৌলের নামইংরাজি শব্দচিহ্ন
ক্লোরিনChlorine
ক্রোমিয়ামChromium
ম্যাঙ্গানিজManganese
ম্যাগনেসিয়ামMagnesium

🌍 মৌলের নামের বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক চিহ্নকরণ

তোমরা কি জানো, আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রদেশে 'রূপা' (silver) বিভিন্ন নামে পরিচিত? তাহলে পৃথিবীতে রূপোর আর কত নাম থাকতে পারে! 🤯 কোথাও রূপোকে রজত বা সিঁদি বলে। কোথাও সিলভার (silver), আবার প্রাচীনকালে আর্জেন্টাম (argentum) বলা হতো।

বিভিন্ন মৌলের নানা নাম থাকলেও বিজ্ঞানীরা প্রত্যেক মৌলের জন্য একটি নির্দিষ্ট চিহ্ন তৈরি করেছেন। 📌 অনেক মৌলের ক্ষেত্রে তাদের ইংরেজি নাম ব্যবহার না করে ল্যাটিন নামের প্রথম বা প্রথম দুটি অক্ষর অথবা প্রথম অক্ষরের সঙ্গে অন্য কোনো অক্ষর দিয়ে চিহ্ন প্রকাশ করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি পদ্ধতি।


মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থ

📌 নির্দেশনা: তোমাদের শিক্ষক/শিক্ষিকার সঙ্গে আলোচনা করে নিচের সারনিটি পূরণ করো:

মৌলের নামমৌলের ল্যাটিন নামচিহ্ন
পটাশিয়াম (Potassium)Kalium
সোডিয়াম (Sodium)NatriumNa
কপার (Copper)Cuprum
লোহা (Iron)Ferrum
সোনা (Gold)Aurum
রূপা (Silver)ArgentumAg

💡 সংকেত (Symbol)

আমরা আগেই জেনেছি ধাতু বা নিষ্ক্রিয় মৌল ছাড়া সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে না। মৌল অণু বা যৌগ অণু পরমাণু দ্বারা গঠিত। অণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে।

কোনো একটি মৌলিক পদার্থের অণু ওই মৌলের পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত। হাইড্রোজেনের অণুতে হাইড্রোজেনের দুটি পরমাণু আছে। তাই হাইড্রোজেনের অণুর সংকেত H₂ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। সংকেত লেখার সময় লক্ষ করা যাবে হাইড্রোজেনের চিহ্ন H লিখে হাইড্রোজেনের অণুতে উপস্থিত পরমাণুর সংখ্যা 2-কে চিহ্নের ডান দিকে একটু নিচে লেখা হয়েছে।

📝 অনুশীলন: তোমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নিচের সারনিটি পূরণ করো।

মৌলের নামমৌলের একটি অণুতে উপস্থিত পরমাণুর সংখ্যামৌলের অণুর সংকেত
অক্সিজেন (Oxygen)2
নাইট্রোজেন (Nitrogen)2
ক্লোরিন (Chlorine)2
সাদা ফসফরাস (White Phosphorus)4
আয়োডিন (Iodine)2
ফ্লুরিন (Fluorine)2

🧪 পরমাণবিকতা (Atomicity)

🎯 পরমাণবিকতা (Atomicity): মৌলের অণুতে যত সংখ্যক পরমাণু থাকে তাকে ওই মৌলের পরমাণবিকতা বলে।

এবার আমরা কিছু অধাতব মৌলের সংকেত কীভাবে লেখা হয় তা দেখব। কোনো মৌলের সংকেত লিখতে হলে যৌগটি যে যে মৌলের পরমাণু দিয়ে তৈরি তার চিহ্ন পাশাপাশি লিখতে হয়। তবে মৌলের চিহ্নগুলো পাশাপাশি লেখার কিছু নিয়ম আছে তা আমরা পরে জানব। তারপর যে মৌলের যতগুলো পরমাণু আছে সেই সংখ্যাটা তার চিহ্নের নিচে ডানদিকে লিখতে হয়। ধরা যাক, জলের একটি অণুতে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু আর একটি অক্সিজেন পরমাণু আছে। তাহলে তুমি জলের সংকেত লিখবে H₂O₁। অণুতে যদি কোনো মৌলের একটি পরমাণু থাকে তবে সেই 1 আর লেখা হয় না। শুধু চিহ্ন দেখা হয়। তাহলে জলের সংকেত হলো H₂O


প্রবেশ ও বিজ্ঞান 🧪

💡 এবার তোমরা শিক্ষক/শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলোচনা করে নিচের সারণি পূরণ করো।

যৌগোর নামঅনুতে কোন মৌলের কটি পরমাণু আছেসংকেত লেখার নিয়মসংকেত
কার্বন ডাইঅক্সাইডC একটি; O দুটিআগে C; পরে OCO₂
কার্বন মনোক্সাইডC একটি; O-একটিআগে C; পরে OCO
মিথেনC একটি; H - চারটিআগে C; পরে HCH₄
অ্যামোনিয়াN একটি; H তিনটিআগে N; পরে HNH₃
হাইড্রোজেন সালফাইডH-দুটি; S - একটিআগে H, পরে SH₂S
সালফার ডাইঅক্সাইডS - একটি; O দুটিআগে S; পরে OSO₂
হাইড্রোজেন ক্লোরাইডH-একটি; Cl-একটিআগে H; পরে ClHCl

📝 আবার তোমরা শিক্ষক/শিক্ষিকাদের সাহায্যে নিচের সারণি পূরণ করে কোথায় ডাই, ট্রাই, টেট্রা বা পেন্টা প্রভৃতি ব্যবহার করা হয় তা জানার চেষ্টা করো।

যৌগোর নামসংকেতব্যাখ্যা
কার্বন ডাইঅক্সাইডCO₂2 টি O পরমাণু বলে ডাইঅক্সাইড
ফসফরাস ট্রাইক্লোরাইডPCl₃3টি Cl পরমাণু বলে ট্রাইক্লোরাইড
কার্বন টেট্রাক্লোরাইডCCl₄4টি Cl পরমাণু বলে টেট্রাক্লোরাইড
ফসফরাস পেন্টাক্লোরাইডPCl₅5টি Cl পরমাণু বলে পেন্টাক্লোরাইড
ফসফরাস ট্রাইফ্লুরাইডPF₃3টি F পরমাণু বলে ট্রাইফ্লুরাইড
সালফার ট্রাইঅক্সাইডSO₃3টি O পরমাণু বলে ট্রাইঅক্সাইড

যোগ্যতা ✨

📚 এসো আমরা নিচের সারণিগুলো লক্ষ্য করি।

যৌগের নামসংকেতযৌগে উপস্থিত বিভিন্ন পরমাণুভিন্ন মৌলের একটি পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত H পরমাণুর সংখ্যা
জলH₂Oঅক্সিজেন ও হাইড্রোজেন2
মিথেনCH₄কার্বন ও হাইড্রোজেন4
অ্যামোনিয়াNH₃N ও H3
ফসফিনPH₃P ও H3
হাইড্রোজেন ক্লোরাইডHClH ও Cl1
হাইড্রোজেন আয়োডাইডHIH ও I1
হাইড্রোজেন সালফাইডH₂SH ও S2

মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থ 🧪

আগের পৃষ্ঠায় সারসংক্ষেপে আমরা লক্ষ্য করেছিলাম, অক্সিজেন, কার্বন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, সালফার, আয়োডিন, ফ্লোরিন, ক্লোরিন-এর একটি পরমাণু ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যায় হাইড্রোজেন পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করেছে। দুটি মৌলের পরস্পরা যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে যোজন ক্ষমতা বা যোজ্যতা বলে। কোনো মৌলের একটি পরমাণু যত সংখ্যক হাইড্রোজেন পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে সেই সংখ্যা দিয়ে হাইড্রোজেনের সঙ্গে যুক্ত মৌলের যোজ্যতা নির্ণয় করা হয়।

এবার তুমি আগের পাতায় যা পড়লে তা থেকে নিচের সারণি পূরণ করো।

মৌল (Element)চিহ্ন (Symbol)যোজ্যতা (Valency)
অক্সিজেন (Oxygen)O
নাইট্রোজেন (Nitrogen)N
কার্বন (Carbon)C
সালফার (Sulfur)S
ক্লোরিন (Chlorine)Cl
ফ্লোরিন (Fluorine)F
আয়োডিন (Iodine)I

💡 মনে রাখা দরকার: হাইড্রোজেনের যোজ্যতা 1 ধরে অন্য মৌলের যোজ্যতা নির্ণয় করা হয়েছে। একে হাইড্রোজেন ভিত্তিক যোজ্যতা বলে।

বিভিন্ন ধরনের মিশ্রণ 💧

আমরা আগেই জেনেছি যে একাধিক পদার্থ মিশে গিয়েই তৈরি হয় মিশ্র পদার্থ বা মিশ্রণদ্রবণও একধরনের মিশ্রণ। জলে যখন তুমি চিনি বা নুন গুলে দাও তখন চিনির শরবত বা নুন জল তৈরি হয়। এগুলো হলো জলের মধ্যে চিনি বা নুনের দ্রবণ। দ্রবণ তৈরির সময় যে পদার্থটি গুলে গেল সেটা দ্রাব্য আর যার মধ্যে গুলে গেল সেটা দ্রাবক

তাহলে উপরের দুটি দ্রবণ দ্রাব্য ও দ্রাবক কী কী তা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে লেখো।

কী দ্রবণ (What Solution)দ্রাব্য (Solute)দ্রাবক (Solvent)
চিনির শরবত (Sugar solution)
নুন জল (Salt water)

দ্রবণ তৈরির করার সময় শুধুমাত্র যে তরল দ্রাবকের মধ্যেই কঠিন দ্রাব্য মেশানো হয় তা নয়, দুটো বা তার বেশি তরল মিশেও দ্রবণ তৈরি হতে পারে। আবার তরলে গ্যাস মিশেও দ্রবণ তৈরি হতে পারে। পুকুরের জলে অক্সিজেন গ্যাস দ্রবীভূত হয় বলেই মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী বেঁচে থাকে।

তোমার দেহের মধ্যে জল গোলার পর চিনির দানার দেখা যাচ্ছে না। জল গোলার পর চিনির দানাগুলো গেল কোথায়?

— আসলে তোমার চিনির যে দানাকে দেখতে পাচ্ছিস সেটা একটা অণু নয়। এতে লক্ষ লক্ষ চিনির অণু ছিল যাদের খালি চোখে দেখা যায় না। সবাই মিলে জোট বেঁধে যে সমষ্টি তৈরি করেছিল তাকেই তোমার দানা দেখতে পাচ্ছিলো। এখন জল এসে...


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

সেই সময় থেকে চিনি জলের আলাদা করা ফেলেছে। চিনি জলের সঙ্গে জলের অনুচরের সঙ্গে মিশে দ্রবণের সরা উপায়ে পড়েছে। চিনির দ্রবণের মধ্যে চিনি ও জল তাদের নিজেদের ধর্ম বজায় রেখে শুধু মিশ্রিত অবস্থায় দ্রবণের মতো আছে। জেনে রাখা ভালো যদি রঙীন হয় তাহলে জলের প্রমাণও রঙিন হবে। আমাদের পরিচিত কয়েকটি মিশ্রণের উদাহরণ নিচে সারণিতে দেওয়া হলো। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কী কী মিশে এই মিশ্রণগুলো তৈরি হয়েছে তা লেখো:

কোন মিশ্রণকী কী মিশে তৈরি হয়েছে
নুন জল
চিনির শরবত
কাদাগোলা জল
ভুন জল
বায়ু
  • 💡 জল গোলার পর তিন যে হারিয়ে যায়নি তা ভাবতে কী কী পরীক্ষা করা যেতে পারে?
  • 🧪 দুটো একই রকমের কাঁচের গ্লাসের একটায় মাঝামাঝি পর্যন্ত জল ঢালো। অন্যটায় সমান উচ্চতা পর্যন্ত কোনো একটা তেল ঢালো। দুটোতেই সামান্য পরিমাণ নুন দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ঝাঁকিয়ে রেখে দাও। তোমার পরীক্ষার ফলাফল সারণি আকারে লিপিবদ্ধ করো। তুমি এই পরীক্ষাটা তোমার যত রকমের তলে আছে তা নিয়ে করে একই রকম ফলাফল পাও কিনা দেখো। পরীক্ষা থেকে তুমি কী দেখলে—নুন জলে বেশি প্রায়, না তেল বেশি প্রায়?
  • 🧪 একটা শিশিতে কোনো একটা তেল আর জল নিয়ে শিশির মুখ বন্ধ করো। বেশ কিছুক্ষণ ঝাঁকিয়ে রেখে দাও। পরীক্ষা করে তুমি যা দেখলে আর যা বুঝলে তা সারণি আকারে লিপিবদ্ধ করো।

মিশ্রণ পৃথককরণের পদ্ধতি

পরিস্রাবণ

তোমাদের এলাকায় হঠাৎ করে দেখা গেল পানীয় জলের কল থেকে কাদাগোলা জল পড়ছে। কিন্তু পানীয় জল তো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই জল কিছুক্ষণ রেখে দিলে কাদা থিতিয়ে পড়বে নিচের দিকে। তখন ওপরের এই পরিষ্কার জলটা ঢেলে নিলেই হলো। কিন্তু এই পদ্ধতিতে পাওয়া জল খালি চোখে পরিষ্কার দেখায়। অল্পক্ষণও যাবে না ওই জল দেখলে কী যাবে? দেখা যাবে যে ওই জলের সমস্ত পদার্থ করা দূর হয়নি।

কাদা মেশানো জল থেকে আরো পরিষ্কার জল পেতে হলে বাড়ির বড়োদের কী করতে দেখো? লক্ষ করলে দেখবে যে বাড়ির বড়োরা ওই জল কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিচ্ছেন। কিন্তু এইভাবে ছেঁকে নেওয়া জলও কি সম্পূর্ণ পরিষ্কার? 💡

কখনোই নয়। তাহলে জলের মতো কোনো তল ও ওই তলে গলে না এমন কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে দুটো উপাদানকে সম্পূর্ণ আলাদা করতে হলে কী করা দরকার?

— তখনও ছেঁকে তাদের আলাদা করতে হবে। কিন্তু ছাঁকনি হিসাবে এমন জিনিস ব্যবহার করা হবে যার ছিদ্রের মাপ ওই কঠিন কণার মাপের থেকে ছোটো হবে।

এইরকম কাজে ছাঁকনি হিসাবে ব্যবহার করা হয় একরকম কাগজ; যাকে ফিল্টার কাগজ বলা হয়। কিভাবে এই কাগজ ব্যবহার করা হয়? 💡


মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থ

🧪 করে দেখো:

কিছুটা কাদাগোলা জল নাও। পরের ছবির মতো প্রথমে একটি গোলাকার ফিল্টার কাগজকে ভাঁজ করাও। একটি ভাঁজ খুলে শঙ্কু আকৃতির কাগজটা একটি ফানেলে বসিয়ে তার ওপর কয়েক ফোঁটা জল ছড়িয়ে কাগজটি বসাও। তারপর একটি কাঁচদণ্ডের সাহায্যে খোলা মুখটি ফানেলের মধ্যে বসানো ফিল্টার কাগজের ওপর ধীরে ধীরে ঢালো।

চিত্র: ফিল্টার কাগজ ভাঁজ করা হচ্ছে 🔽

একটি পর থেকে কী দেখতে পাচ্ছ দেখো:

কী দেখতে পাচ্ছকেন হলো বলে মনে হয়

উপরের পরীক্ষা থেকে দেখতে পাচ্ছ যে ফিল্টার কাগজ সাধারণ কোনো ছাঁকনির (যেমন—কাপড়) থেকে অনেক ভালো কাজ করছে।

এই ফিল্টার কাগজটি শুধু তরল পদার্থটিকে (এক্ষেত্রে জল) তার ছিদ্রের মধ্য দিয়ে যেতে দিচ্ছে। কিন্তু কঠিন পদার্থের কণা (এক্ষেত্রে কাদা মাটির কণা)—এই কাগজের ওপরে আটকে থাকছে। এইভাবে প্রায় সমস্ত জলটিই কাদা থেকে আলাদা করা যাচ্ছে, যা সাধারণ পদ্ধতিতে পাওয়া জলের থেকে অনেক বেশি পরিষ্কার।

এভাবে ফিল্টার কাগজের মতো ছাঁকনির সাহায্যে তরল ও কঠিনকে আলাদা করার পদ্ধতিটি হলো ফিল্টার করা বা পরিশ্রাবণ। ফিল্টার করার পর পাওয়া নিচের তরলটাকে বলে পরিশ্রুত। আর ফিল্টার কাগজের ওপর পড়ে থাকা কঠিন পদার্থটি হলো অবশেষ। 📌

🤔 ভেবে দেখো:

বাড়িতে যে ওয়াটার ফিল্টার থাকে, তা কীভাবে কাজ করে? অনেক আগে তো ওয়াটার ফিল্টার ছিল না। তখন হাঁড়িতে রাখা বিভিন্ন মাপের নুড়ি ও বালির স্তরের মধ্য দিয়ে জল পাঠিয়ে এই কাজ করা হতো।

জলের মধ্যে কাদা মিশে থাকলে কাদার কণা দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু জলের মধ্যে চিনি বা নুন মিশে গেলে চিনি বা নুনকে কী আলাদা করে দেখতে পাও?

— পাও না তাইতো! 😮 আর কারণ হলো চিনি বা নুনের কণা আরো ছোটো হয়ে জলে মিশে যায়। এই দুটো ক্ষেত্রে তোমাদের অভিজ্ঞতা থেকে নিচের সারনিটি পূরণ করো:

কোন ক্ষেত্রেকঠিন কণার মাপ কেমনআলাদা অথবা পরিশ্রাবণ কোন পদ্ধতিতে কঠিন পদার্থকে পৃথক করা সম্ভব
কাদাগোলা জল
নুন জল

💡 ক্লাসস

নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝতে পারছ যে নুন জল থেকে নুন ও জলকে আলাদা করতে দুটো পদ্ধতির কোনোটার সাহায্যেই আলাদা করা সম্ভব নয়। এসো দেখা যাক কোন পদ্ধতিতে নুনজল থেকে নুনকে ফিরে পাওয়া যায়।


🧪 পরিবেশ ও বিজ্ঞান

💡 করে দেখো

উপরে ছবির মতো একটি পাত্রে কিছুটা নুনজল নাও। তারপর ওই নুনজলকে ফোটাতে থাকো। যত সময় যাবে দেখবে নুনজলের জল ফুটতে ফুটতে বাষ্প হয়ে ক্রমশ কমে যাচ্ছে। আর নুনজলের দ্রবণ গাঢ় হচ্ছে। নুনজল গাঢ় হয়ে এলে না নাড়িয়ে ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা করতে দাও। অনেকক্ষণ এইভাবে রাখলে তুমি কী দেখতে পাবে?

  • বেশ কিছুক্ষণ পর ওই নুনজলের মিশ্রণ থেকে দানা দানা আকারে আলাদা হয়ে যাচ্ছে।

এই দানা দানা নুনকে কী বলে?

📌 এইরকম দানা দানা চকচকে নুনকে দানাকে বলে নুনের কেলাস। এইভাবে দ্রবণ থেকে কঠিন পদার্থের কেলাস তৈরির পদ্ধতিকে কেলাসন বলে।

এই পদ্ধতিকে কেলাসন বলে। (এই পদ্ধতিতে কোনো কোনো পদার্থের দ্রবণ থেকে কঠিন দ্রাব-কে পৃথক করা যায়।)

🧲 চুম্বকের সাহায্যে মিশ্র পদার্থের পৃথককরণ

তোমরা লক্ষ করে থাকবে চালের সংগে অনেক সময়ই বিভিন্ন জিনিস মিশে থাকে। চালের মধ্যে খুঁজলেই কাঁকর, বালি, ধানের খোসা, কালো চাল—এরকম নানা জিনিস খুঁজে পাবে। এগুলি না হয় হাত দিয়ে তুলে নিয়ে আলাদা করা যায়। কুলোয় করে বেগেও চালের মধ্যে হালকা জিনিসগুলো কিছুটা উড়িয়ে দেওয়া যায়।

কিন্তু কোনো জিনিসে যদি লোহার গুঁড়ো মিশে থাকে, তখন কী করবে? লোহাকে আকর্ষণ করতে পারে এমন জিনিস তোমাদের হাতের কাছেই আছে। ছোটো বড়ো স্পিকারের পিছনদিকে দেখবে চুম্বক লাগানো থাকে। এই কাজে এরকম একটি চুম্বক ব্যবহার করলেই হলো।

🛠️ করে দেখো

খারাপ হয়ে যাওয়া স্পিকার থেকে একটি চুম্বক খুলে নাও। অন্য চুম্বকও নিতে পারো। একটি কাগজের উপর নুন ও লোহার গুঁড়ো মিশিয়ে নাও। তারপর ছবির মতো করে নুন ও লোহার গুঁড়োর মিশ্রণের উপর চুম্বকটা ধরে দেখো কী হয়? যা দেখলে তা নিচে লেখো।

কী দেখতে পেলেআর কী কী মিশ্রণ চুম্বক দিয়ে আলাদা করা যাবে

Page 54

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel