Academy

5. মাপজোেক বা পরিমাপ 📏

5. মাপজোেক বা পরিমাপ 📏 - WBBSE - Class 6 - পরিবেশ বিজ্ঞান

0

5. মাপজোেক বা পরিমাপ 📏

দৈনন্দিন জীবনে পরিমাপের প্রয়ােজনীয়তা ও পরিমাপের একক সমূহ

পরিমাপের প্রয়ােজনীয়তা 💡

নীচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করো। 🤔

  1. তোমার উচ্চতা কত?
  2. তোমার ওজন কত?
  3. তোমার জন্য একটি ফতুয়া বা জামা বানাতে কতটা কাপড় লাগে?
  4. তোমার বাড়িতে মাসে কতটা চাল লাগে?
  5. তোমার পড়ার ঘরের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা কত?
  6. তোমার স্কুল কটা থেকে শুরু হয়?
  7. কারো জ্বর হয়েছে কিনা তুমি কীভাবে বোঝ?

উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে তোমাকে যা যা করতে হবে তাকে আমরা বলি পরিমাপ। তাহলে বুঝলে তো আমাদের প্রতিদিনের জীবনে পরিমাপের গুরুত্ব কতটি।

এবার নীচের ছবিগুলো মন দিয়ে দেখো ও প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করো। 🖼️

  • (1) কোন্টা দৈর্ঘ্যে বড়ো?

  • (2) কোন পাত্রে রাখা ভাত সবচেয়ে বেশি আছে?

  • (3) A ছবিটি কি B ফোটোফ্রেমে লম্বালম্বি ভাবে বাঁধানো যাবে?

  • (4) 1 থেকে 17 প্রতিটি সরলরেখাংশের দৈর্ঘ্য কি সমান?

Page 63


🌿 পরিবেশ ও বিজ্ঞান

🤔 এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ঠিকভাবে দিতে কি তোমার কোনো অসুবিধা হচ্ছে?

💡 অসুবিধা দূর করতে তোমাকে কী কী বিষয় জানতে হবে?

📌 তাহলে দেখা গেল, পরিমাপ না করে শুধু চোখে দেখে প্রশ্নগুলি উত্তর করা সম্ভব নয়।

নিচের সারণিটি পূরণ করো এবং কাজটি করতে কত সময় লাগল লেখো।

কী মাপলেকী দিয়ে মাপলে
আমার বিজ্ঞান বই-এর
দৈর্ঘ্য..........................................
চওড়া বা প্রস্থ..........................................
ভর (যাকে আমরা সাধারণত ওজন বলি থাকি)দাঁড়িপাল্লা বা তুলাদণ্ড

টেবিলটি পূরণ করতে আমার সময় লেগেছে ........................।


📏 ভৌত বা প্রাকৃতিক রাশি (Physical or Natural Quantities)

তুমি তোমার বিজ্ঞান বই-এর যা যা পরিমাপ করলে সেগুলোকে বলে ভৌত বা প্রাকৃতিক রাশি। আর এই রাশিগুলো মাপতে লাগে কিছু না কিছু যন্ত্র। যা পরিমাপ করা যায় তাকেই বলা হয় ভৌত রাশি বা প্রাকৃতিক রাশি

তুমি তোমার জ্যামিতি বাক্সটিকে নানাভাবে পরিমাপ করে উপরের মতো সারণি আকারে লেখো।

আবার পাশের আয়তটিকে নানাভাবে পরিমাপ করে নিচের সারণিতে লেখো।

রাশিমানএকক
দৈর্ঘ্য
প্রস্থ
ক্ষেত্রফল= দৈর্ঘ্য × প্রস্থবর্গসেমি

ছবিতে দেওয়া এই আকারটিকে আয়ত বলা হয়।


🤔 পরিমাপের ধারণা (Concept of Measurement)

পাশের সারণির কোন রাশিটিকে মাপার সময় তোমাকে অন্য রাশির সাহায্য নিতে হলো বা একই রাশিকে একাধিকবার ব্যবহার করতে হলো?

এই রাশিটা মাপতে তুমি অন্য কতগুলো রাশির সাহায্য নিলে আর সেগুলি কী কী? বা, একই রাশিকে কতবার ব্যবহার করলে?

এরকম আর কয়েকটি রাশির নাম নীচে দেওয়া হলো:

  • আয়তন = দৈর্ঘ্য × প্রস্থ × উচ্চতা
  • বেগ = দৈর্ঘ্য ÷ সময়
  • ঘনত্ব = ভর ÷ আয়তন

⚖️ মৌলিক ও লব্ধ রাশি (Fundamental and Derived Quantities)

💡 তাহলে বোঝা গেল, এমন কিছু রাশি আছে যারা অন্য কোনো রাশির উপর নির্ভর করে না। যেমন, দৈর্ঘ্য, ভর, সময় ইত্যাদি। এদের মৌলিক বা প্রাথমিক রাশি বলে।

💡 আবার, এমন কিছু রাশি আছে যাদের একাধিক মৌলিক রাশি নিয়ে তৈরি করা হয়। যেমন, ক্ষেত্রফল, ঘনত্ব, আয়তন, বেগ ইত্যাদি। এদের লব্ধ রাশি বলে।


64


📏 পরিমাপ (Measurement) 🔬

উপরের সারানিতে লেখা রাশিগুলির পরিমাপ লেখার সময় তুমি কি কেবল সংখ্যাই লিখেছিলে, নাকি তার সঙ্গে অন্য কিছুও লিখেছ? যেমন, সেন্টিমিটার, মিটার, ফুট, ইঞ্চি, হাত, বিঘত, গ্রাম, কিলোগ্রাম, সেকেন্ড, মিনিট – এরকম কিছু শব্দও লিখেছ কি? সংখ্যার পাশে লেখা ওই শব্দগুলিকে আমরা বলি একক 📌। একক ছাড়া পরিমাপের কোনো অর্থ হয় না।

প্রাথমিক রাশির একক হলো প্রাথমিক একক এবং লব্ধ রাশির একক হলো লব্ধ একক। যেমন, সময় একটি প্রাথমিক রাশি। অতএব সময়ের একক 'সেকেন্ড' হলো প্রাথমিক একক। আবার বেগ একটি লব্ধ রাশি। তাই বেগের একক 'মিটার/সেকেন্ড' একটি লব্ধ একক।

💡 দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল, আয়তন, ভর ও সময়

📐 দৈর্ঘ্য পরিমাপ (Measurement of Length)

  1. তোমাকে একটি ঘড়ি ⌚, একটি স্কেল 📏 আর কয়েকটি বাটখারা ⚖️ দেওয়া হলো। এবার বলা হলো একটি আলমারির উচ্চতা মাপতে। তুমি কোন জিনিসটা ব্যবহার করবে? এবার একটু ভেবে দেখো তো বাকিগুলি তুমি ব্যবহার করলে না কেন?

    তাহলে দেখা গেল, দৈর্ঘ্য রাশিটাকে পরিমাপের জন্য দৈর্ঘ্য-ই প্রয়োজন হয়, ভর বা সময় বা অন্য কোনো রাশি নয়। যেমন সময়কে সময় দিয়েই, ভর-কে ভর দিয়েই মাপতে হয়।

    📌 এককের সংজ্ঞা: কোনো রাশিকে পরিমাপ করতে সেই রাশিই একটি সুবিধাজনক অংশ দিয়ে পরিমাপ করতে হয়। ওই সুবিধাজনক অংশটা হলো ওই রাশির একক।

বিজ্ঞানের স্যার রাতুল, রুদ্র আর ইকবালকে বললেন — 'একটা বেঞ্চকে বিঘত মেপে তা কতটা লম্বা প্রত্যেককে আলাদা করে আমায় জানাও!'

তবে বলো তো তিনজনের মাপ কি সমান হবে? না হলে কেন? 🤔 আবার ধরো, একজন বেশ 'লম্বা', আর একজন বেশ 'বেঁটে' মানুষকে একটি শাড়ি ক-হাত লম্বা, মেপে বলতে বলা হলো!

দুজনের মাপ কি সমান হবে? যদি না হয় তবে কেন? 🤔

তবে দেখা যাচ্ছে যে বিঘত বা 'হাত' বা 'পায়ের পাতা' ইত্যাদিকে দৈর্ঘ্যের একক (অর্থাৎ 'এক') ধরে একই বস্তুর দৈর্ঘ্য পরিমাপের সময় একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম পরিমাপ পাওয়া যায়।

প্রাচীনকালে গ্রিসে দৈর্ঘ্যের একক হিসাবে বিঘত-কে ব্যবহার করা হতো। আবার মিশরে দৈর্ঘ্যের একক হিসাবে ব্যবহৃত হতো Cubit বা হাত। তাহলে দেখো, দৈর্ঘ্যের পরিমাপ এক এক জায়গায় এক এক রকম ছিল।

বিজ্ঞানীরা ভাবলেন, এইসব অসুবিধা দূর করতে এমন একক নিতে হবে যাকে পৃথিবীর সবাই নির্বিধায় 'প্রমাণ' বা Standard 🌍 বলে মেনে নেবে। ব্যক্তি বা স্থানভেদে তা কখনও আলাদা হবে না।


📚 পরিমাপ ও বিজ্ঞান (Measurement and Science)

💡 পরিমাপের বিভিন্ন পদ্ধতির জটিলতা এড়াতে 1960 সালে তৈরি করা হয় SI একক। SI পদ্ধতিতে সাতটি প্রাথমিক একক রয়েছে:

রাশি (Quantity)একক (Unit)
দৈর্ঘ্য (Length)মিটার (m)
ভর (Mass)কিলোগ্রাম (kg)
সময় (Time)সেকেন্ড (s)
তড়িৎ প্রবাহ (Electric Current)অ্যাম্পিয়ার (A)
আলোর তীব্রতা (Luminous Intensity)ক্যান্ডেলা (cd)
অণু-পরমাণুর পরিমাণ (Amount of Substance)মোল (mol)
উষ্ণতা (Temperature)কেলভিন (K)

কোনো রাশিকে পরিমাপ করতে ওই রাশিই একটি সুবিধাজনক অংশে আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ বা Standard ধরে নেওয়া হয় – ওই প্রমাণ বলে গৃহীত অংশটিই ওই রাশির একক। কোনো রাশি তার এককের কতগুণ, তা হিসাব করে, ওই রাশিকে মাপা হয়।

উদাহরণ: যেমন, 25 মিটার লম্বা পুকুর মানে – পুকুরটার দৈর্ঘ্য হলো দৈর্ঘ্যের প্রমাণ SI একক 1 মিটারের 25 গুণ।

📏 হাতকলমে (Hands-on Activity)

  1. তুমি একটি মিটার-স্কেল দিয়ে মেপে 1 মিটার লম্বা একটি সুতো নাও।
  2. এখন নিচের AB সরলরেখার দৈর্ঘ্য ওই সুতো দিয়ে মাপো। A----------------------------------B
  3. তোমার কি মনে হচ্ছে ওই মাপ নেওয়ার জন্য সুতোটা একটু বেশি বড়ো? 🤔

এবার সুতোটাকে সমান দশ অংশে কেটে ফেলো ও তা থেকে একটি অংশ নিয়ে AB দৈর্ঘ্যটাকে মাপো। এবার মাপতে কি সুবিধা হলো? অতএব, দেখা গেল, AB = 1/10 মিটার অর্থাৎ 1 মিটারের 10 ভাগের 1 ভাগ। এটাকে আমরা 1 ডেসিমিটার বলে থাকি।

এভাবে 10 দিয়ে ভাগ করে করে আমরা SI পদ্ধতির ছোটো মানের রাশির একক পাই। একে বলে Sub-multiple unit বা উপগুণিতক একক। 🤏


এবার ওই 1 মিটারের সুতো দিয়ে যদি তোমায় তোমার বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব বা দুটো রেল স্টেশনের মধ্যে দূরত্ব মাপতে বলা হয়, তখন কি কাজটা তোমার কাছে সহজ হবে? তোমার কি মনে হচ্ছে ওই দূরত্ব মাপার জন্য 1 মিটারের সুতোটা খুবই ছোটো? যেমন, কলকাতা থেকে দিঘির দূরত্ব = 1305000 মিটার হয়।

এক্ষেত্রে ওই দূরত্বটা লেখা যায় 1305 × 1000 m = 1305 km. অর্থাৎ 1 মিটারের 1000 গুণ = 1 কিলোমিটার। 🚀

📚 জেনে রাখো (Know This)

টেবিল 1টেবিল 2
10 mm = 1 cm100 cm = 1 m
10 cm = 1 dm1000 m = 1 km
10 dm = 1 m

📌 আন্তর্জাতিক প্রমাণ মিটার কাকে ধরা হয়?

1889 সালে ফ্রান্সের প্যারি শহরে 'ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অফ ওয়েটস অ্যান্ড মেজাস' নামক সংস্থায় 0°C - তাপমাত্রায় রাখা প্ল্যাটিনাম (90%) ও ইরিডিয়াম (10%) - এর সংকর ধাতুর তৈরি একটি দণ্ডের দু-প্রান্তের দুটি নির্দিষ্ট দাগের মাঝের দূরত্বকে সারা বিশ্বে প্রমাণ বা Standard 1 মিটার ধরা হয়।

এই প্রমাণ 1 মিটার থেকে তার গুণিতক ও উপগুণিতক এককগুলি তৈরি করা হয়। এভাবে 10 দিয়ে গুণ করে আমরা SI পদ্ধতির বড়ো একক পেতে পারি। একে বলে গুণিতক একক বা Multiple unit

উপরের টেবিল 1 এ SI পদ্ধতিতে দূরত্ব মাপার বড়ো থেকে ক্রমশ ছোটো উপগুণিতক এককগুলি (Submultiple Unit) লক্ষ করো।


📏 মাপজোক বা পরিমাপ (Measurement)\n\n## 💡 এককের ধারণা (Concept of Units)\n\nগুণ হলো দ্বিতীয়টি। আবার, নীচ থেকে উপরে পরস্পর প্রথমটার 1/10 গুণ হলো দ্বিতীয়টি।\n\nভালো ভাবে লক্ষ করো:\n\n* ➡️ বড়ো একক (multiple unit)\n কিলো ➡️ হেক্টো ➡️ ডেকা ➡️ মিটার ➡️ ডেসি ➡️ সেন্টি ➡️ মিলি\n (প্রতিটি ধাপে × 10)\n\n* ⬅️ ছোটো একক (Sub-multiple unit)\n মিলি ⬅️ সেন্টি ⬅️ ডেসি ⬅️ মিটার ⬅️ ডেকা ⬅️ হেক্টো ⬅️ কিলো\n (প্রতিটি ধাপে 1/10)\n\n| একক | চিহ্ন |\n| :--------- | :---- |\n| কিলোমিটার | km |\n| হেক্টোমিটার | hm |\n| ডেকামিটার | dam |\n| মিটার | m |\n| ডেসিমিটার | dm |\n| সেন্টিমিটার | cm |\n| মিলিমিটার | mm |\n\n### 🔄 রূপান্তরের উদাহরণ (Conversion Examples):\n\n1. 1 km = 1 × 10 hm = 10 hm\n = 100 dam\n = ......? cm\n\n2. আবার, 1 m = 1/10 dam = 0.1 dam\n = 1/1000 km = 0.001 km\n = ......? hm\n\n## 🔬 পরিমাপের ব্যবহারিক সুবিধা (Practical Advantages of Measurement)\n\nএই পদ্ধতির সুবিধা হলো, এই পদ্ধতিতে একদিকে যেমন খুব ক্ষুদ্র মানের রাশি অন্যদিকে অনেক বড়ো মানের রাশিকেও মাপা যায়।\n\n* উদাহরণ: 📏 একটি সরু তারের ব্যাস মাপা যায় মিলিমিটারে, আবার কলকাতা থেকে দিল্লীর দূরত্ব মাপা যায় কিলোমিটার -এ।\n\n## 🧑‍🔬 হাতেকলমে (Hands-on Activity)\n\nতুমি দোকানদারকে 1 কেজি ডাল দিতে বললে। দোকানদার দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ডাল মেপে তোমায় দিল।\n\nপ্রশ্ন: এখানে যে রাশিটার পরিমাপ করা হলো তার নাম কী?\n\n> 📌 উত্তর: এই রাশিটির নাম হলো ভর (Mass)।\n> \n> মনে করে দেখো SI পদ্ধতিতে ভরের একক কিলোগ্রাম। ওই রাশি মাপার জন্য দোকানদার যে যন্ত্র ব্যবহার করল সেটা হলো দাঁড়িপাল্লা। ভর মাপার এই যন্ত্রের আর একটা নাম হলো সাধারণ তুলা যন্ত্র।\n> \n> তুলা যন্ত্রের এক পাত্রে বাটখারা রাখা হয়, অপর পাত্রে থাকে বস্তু। পরিমাপ ঠিক হলে সূচক সাম্যাবস্থায় আসে।\n\n## 📐 ক্ষেত্রফলের পরিমাপ (Measurement of Area)\n\n1. তোমার বিজ্ঞান বইটি টেবিলের উপর রাখো। এবার একটা চক দিয়ে বইটার চারধারে ঘেঁষে টেবিলের উপর দাগ কাট।\n2. টেবিলের উপর যেখানে বইটি আছে সেখানে বইটাকে না সরিয়ে অন্য কোনো কিছু কি রাখা সম্ভব? 💡\n3. আবার বইটা তুলে নাও। দেখো বইটি টেবিলের উপর এতক্ষণ যে জায়গা দখল করে রেখেছিল সেই জায়গাটা কোনটি?\n4. তাহলে চকের রেখা টেবিলের উপরি তলের যে জায়গাটিকে ঘিরে রেখেছে সেটাই এতক্ষণ বইটি দখল করে রেখেছিল। সেই জায়গাটি হলো বইটার নীচের তলের ক্ষেত্রফল।\n\nএই ক্ষেত্রফল পরিমাপ করার জন্য ক্ষেত্রফলের সাহায্যে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের মাপ নেওয়া হয় ও তারপর নিচের সম্পর্কটি ব্যবহার করা হয়:\n\n> 💡 ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য × প্রস্থ\n\nএকটি ফুটবলকে হাত দিয়ে ধরো। তোমার হাত ফুটবলটার উপরের যে জায়গাটাতে স্পর্শ করতে পারবে, বা ফুটবলটার উপর হাত বুলিয়ে তুমি যে তলটিকে অনুভব করতে পারো সেই সমগ্র তলটা ফুটবলটার উপরি তল (Surface Area)


🌿 পরিবেশ ও বিজ্ঞান (Environment and Science)

🎨 পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল (Surface Area)

এখন তুলি (brush) দিয়ে ঐ বলটিকে রং করা হলো।

তুমি বলের যে জায়গাটি রং করলে তার পরিমাপ হলো ওই বলটির উপরের তলের ক্ষেত্রফল। এই ক্ষেত্রফল পরিমাপ করার জন্য ফুটবলের ব্যাস পরিমাপ করা হয় ও নিচের সম্পর্কটি ব্যবহার করা হয়:

ক্ষেত্রফল = π × ব্যাস × ব্যাস

📌 গুরুত্বপূর্ণ: [π (উচ্চারণ ‘পাই’) একটি সংখ্যা, এর মান প্রায় 3.14]

বলের ব্যাস পরিমাপের পদ্ধতি: বলটিকে একটি সমতলের ওপর রেখে তার দুপাশে স্পর্শ করে দুটি বই রাখো এবং বইদুটির দূরত্ব স্কেলের সাহায্যে মাপো। এই মাপ‌ই হলো বলটির ব্যাস। (পাশের ছবিতে দেখো)

💧 আয়তনের পরিমাপ (Measurement of Volume)

এসো একটি পরীক্ষা করি:

  1. একটি থালা আর একটি কাঁচের গ্লাস নাও।
  2. কাঁচের গ্লাসটা থালার ওপর রেখে সাবধানে গ্লাসটায় কানায় কানায় জল ভরো।
  3. এবার গ্লাসে তোমার হাতের কোনো একটি আঙুল ডুবিয়ে দাও।

🤔 কী দেখতে পেলে? কেমন হলো, ভাবো।

যে জলটা উপচে পড়ল, সেই জল কোথায় ছিল? সেই জলের জায়গায় কি অন্য কিছু এসেছে? এলে সেটা কী?

উপসংহার: তাহলে, তোমার আঙুল‌ই জলের জায়গা নিয়েছে। তাই জল উপচে পড়েছে।

💡 গুরুত্বপূর্ণ ধারণা: তাহলে বলা যায়, আঙুল কিছুটা জায়গা দখল করে।

এবার আঙুলের বদলে একটি চামচ ডুবিয়ে পরীক্ষাটা প্রথম থেকে করে দেখো, একই ঘটনা ঘটে কিনা?

🧪 আয়তনের সংজ্ঞা: তাহলে বলা যায় যে, বস্তু মাত্র‌ই কিছু স্থান দখল করে থাকে। কোনো বস্তু যতটা স্থান দখল করে থাকে তাকে ওই বস্তুর আয়তন বলে।

📏 তরলের আয়তন পরিমাপ (Measuring Liquid Volume)

তরল পদার্থের আয়তন পরিমাপের জন্য একটি বিশেষ পাত্র ব্যবহার করা হয়। পাত্রটি কাঁচ বা অন্য কোন স্বচ্ছ বস্তু দিয়ে তৈরি করা হয় এবং এর গায়ে একটি স্কেল থাকে। ওই স্কেল থেকেই তরলের আয়তন মাপা হয়।

🔬 এই পাত্রকে বলে আয়তন মাপনি চোঙ (Measuring Cylinder)।

এসো আমরা একটি পাত্রে কিছু তরল নিয়ে তাকে আয়তন মাপনি চোঙের সাহায্যে পরিমাপ করি।

ধাপে ধাপে পরিমাপ পদ্ধতি:

  1. একটি শুকনো আয়তন মাপনি চোঙ নাও।
  2. চোঙটাকে টেবিলের ওপর খাড়াভাবে রাখো।
  3. এখন যে তরলের আয়তন মাপতে হবে, সেটার পুরোটা‌ই খুব সাবধানে ও ধীরে ধীরে চোঙটার মধ্যে ঢালো।
  4. তরলটা স্থির অবস্থায় এলে, তরলের ওপরতল চোঙের দেয়ালের স্কেলের যে দাগ স্পর্শ করবে তার পাঠ নাও।
  5. এই পাঠ‌ই হলো ওই তরলের আয়তন।

🌍 আয়তনের একক (Units of Volume)

SI পদ্ধতিতে আয়তনের একক ‘ঘন মিটার’ (cubic meter)।

আয়তনের আরও প্রচলিত একক আছে যেমন:

  • ঘন সেন্টিমিটার (cc)
  • লিটার (L) ইত্যাদি।

📝 জেনে রাখো (Know This)

  • 1000 ঘন সেন্টিমিটার = 1 ঘন ডেসিমিটার
  • 1 ঘন ডেসিমিটার = 1 লিটার
  • 1 লিটার = 1000 মিলিলিটার

মাপজোক বা পরিমাপ 📏

💡 ১ ঘন সেন্টিমিটার = ১ মিলিলিটার

সময় পরিমাপ ⏰

তোমার বাড়ি থেকে স্কুল হেঁটে যেতে কত সময় লাগে? সাইকেল করে যেতে কত সময় লাগে? কোনক্ষেত্রে কম সময় লাগল? তুমি কীভাবে বুঝলে? কোন যন্ত্রের সাহায্য নিলে?

সঠিক ঘড়ির মধ্যে হলো, সে সবসময় ঘোরে একইভাবে। অর্থাৎ ওর সেকেন্ডের কাঁটা একবার পুরো ঘুরতে প্রতিবারই ১ মিনিট সময় নেয়। তেমন মিনিটের কাঁটা একবার পুরো ঘুরতে আসতে ১ ঘন্টা সময় নেয়। আর ঘন্টার কাঁটা একবার পুরো ঘুরতে ১২ ঘন্টা সময় লাগে।

তাহলে, প্রথমবারের চেয়ে দ্বিতীয়বার তোমার কম 'সময়' লেগেছে। কিন্তু সময় বলতে কী বোঝায়? — স্কুলে যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করা আর স্কুলে পৌঁছানো এই ঘটনা দুটির মাঝে যতক্ষণের ব্যবধান (interval) সেটাই 'সময়'।

কোনো দুটি ঘটনার মধ্যে যতক্ষণের ব্যবধান তাকেই আমরা 'সময়' বলি।

ওসীমা জিজ্ঞেস করল— কোনো বস্তুর দৈর্ঘ্যকে আমরা চোখে দেখতে পাই, তাই দৈর্ঘ্যের প্রমাণ মাপ একটি প্লাটিনাম-ইরিডিয়াম দণ্ড দিয়ে ঠিক করা হয়। কিন্তু সময়কে তো চোখে দেখা যায় না তাহলে সময়ের প্রমাণ মাপ ঠিক করা হবে কী করে?

ঈশান বলল— ঠিক কথা। বরং বিষয়টা দিদিমণিকে জিজ্ঞেস করা যাক।

দিদিমণি ক্লাসে ঢুকতেই ওসীমা আর ঈশান প্রশ্নটা করল।

দিদিমণি বললেন— খুব ভালো প্রশ্ন করেছ। সত্যিই সময় আমরা দেখতে পাই না, কিন্তু তাই বলে চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকলে তো চলবে না! উপায় খুঁজে নিতে হবে। আসলে সময় মাপা হয় সৌরদিনের সাহায্যে।

ওসীমা বলল— 📌 সৌরদিন কী?

দিদিমণি বললেন— দিনের বেলায় যখন তোমার জানালা দিয়ে রোদ এসে প্রথম মেঝেতে পড়েছে তখন থেকে আবার পরদিন ঠিক ওই জানালা দিয়ে মেঝে র ঐ জায়গায় সূর্যের আলো আসার মধ্যে সময়ের যে ব্যবধান তাকেই 'এক সৌরদিন' বলে।

ওসীমা বলল— বাঃ, এ তো খুব সোজা ব্যাপার।

হ্যাঁ এবার সারা বছরের সৌরদিন যোগ করে, যোগফলকে ৩৬৫ দিয়ে ভাগ করে আমরা পাই 'গড় সৌরদিন'। আর এই গড় সৌরদিনকে আমরা ২৪ দিয়ে ভাগ করে পাই ১ ঘন্টা

ঈশান বলল— আর, এই ১ ঘন্টাকে ৬০ দিয়ে ভাগ করে পাব মিনিট। তাই না!

—একদম ঠিক।

ওসীমা বলল— তাহলে ১ মিনিটকে ৬০ দিয়ে ভাগ করে আমরা নিশ্চয় পাব ১ সেকেন্ড

ঠিক বলেছ। এ ভাবেই সময়ের প্রমাণ মাপ ঠিক করা হয়, আর সেইমতো আমাদের ঘড়িগুলো তৈরি করা হয়।


পরিবেশ ও বিজ্ঞান (Environment and Science)

💡 জেনে রাখা দরকার (Things to know)

  • 1 বছর = 365 দিন
  • 1 দিন = 24 ঘন্টা
  • 1 ঘন্টা = 60 মিনিট
  • 1 মিনিট = 60 সেকেন্ড

🕰️ পিছনে ফিরে তাকাই (Let's look back)

সময় মাপার যন্ত্র হলো 'ঘড়ি'। আজ তুমি যে ঘড়ি ব্যবহার করছ তা কিন্তু বহু বছরের গবেষণার ফল।

তোমরা স্পোর্টসের মাঠে স্যার বা দিদিমণির কাছে নিশ্চয়ই এক ধরনের ঘড়ি দেখেছ যেটা দিয়ে কোনো দৌড় বা অন্য প্রতিযোগীর দৌড় শেষ করতে কত সময় নিল তা জানতে পারা যায়। এই ধরনের ঘড়িকে বলে স্টপ ওয়াচ বা স্টপ ক্লক ⏱️।

📌 এই ঘড়ির কাঁটা প্রথম অবস্থায় '0' (শূন্য)-র ঘরে থাকে। কাজ শুরু সঙ্গে সঙ্গে সুইচ অন (switch on) করলে কাঁটা (hand) ঘুরতে থাকে। আবার, কাজ শেষের সঙ্গে সঙ্গে সুইচে চাপ দিলে কাঁটাটি ওই জায়গাতেই থেমে যায়। ফলে কাজটা করতে কত সময় লাগল তা জানা যায়। এরপর সুইচে চাপ দিলে কাঁটা আবার '0' (শূন্য)-র ঘরে ফিরে আসে।

আজকাল আরো আধুনিক 'ডিজিটাল স্টপ ওয়াচ' ব্যবহার করা হয়। এই ঘড়িতে কাঁটা থাকে না। ঘড়ির স্ক্রিনে ফুটে ওঠে সংখ্যা বা Digit। এই ঘড়ি দিয়ে আরো সূক্ষ্মভাবে সময় মাপা যায়। এই ঘড়ি 0.01 সেকেন্ড পর্যন্ত সময় মাপতে পারে। 🔬

আধুনিক জীবনে সময়ের সূক্ষ্ম পরিমাপ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। এমন কোনো কাজের কথা ভাবো তো যেখানে সময়ের খুব সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পরিমাপ দরকার হয়ে পড়ে।

  1. (i) ............................
  2. (ii) ............................

📏 মাপজোক বা পরিমাপ

খেলার মাঠে প্রতিযোগীদের বিভিন্ন খেলার নির্ভুল সময় মাপতে যে ইলেকট্রনিক ঘড়ি ব্যবহার হয় তাতে 1 সেকেন্ডের 100 ভাগের 1 ভাগ সময়ও মাপা যায়। ⏱️

বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষার কাজে যে ঘড়ি ব্যবহার করা হয় তা দিয়ে 1 সেকেন্ডের 1 কোটি ভাগের 1 ভাগ সময়ও মাপা যায়।

💡 পরিমাপে অনুমানের গুরুত্ব

আমাদের জীবনে সবসময় পরিমাপের যন্ত্র দিয়ে সঠিক পরিমাপ করে কাজ সম্ভব হয় না। তখন আমাদের অনুমানের উপর নির্ভর করতে হয়।

🤔 কারণ

কোনো কোনো কাজ করার জন্য সবসময় আমাদের হাতে না থাকে প্রয়োজনীয় সময়, না থাকে প্রয়োজনীয় যন্ত্র। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে তখন আনুমানিক পরিমাপ ছাড়া আর কোনো রাস্তা থাকে না।

  1. অনিমেষের সেদিন স্কুলে যেতে বাড়ি থেকে বেরোতেই দেরি হয়ে গিয়েছিল।

    আজ আমি ঠিক সময়ে স্কুলে পৌঁছোতে পারব তো? আমার আজ একটু জোরে পা চালাতে হবে।

    যেমন ভাবা তেমন কাজ। জোরে হেঁটে অনিমেষ থেমে থেমে স্কুলে গিয়ে পৌঁছোল।

    যাক দেরি হয়নি। ঠিক সময়েই পৌঁছোতে পেরেছি।

    • অনিমেষ বাড়ি থেকে দেরিতে বেরিয়েও কী করে স্কুলে ঠিক সময়ে পৌঁছোতে পারল?
    • অনিমেষ তার চলার বেগ কতটা বাড়ালে ঠিক সময়ে স্কুলে পৌঁছোতে পারবে তা কী করে হিসাব করল?
  2. 🧑‍🍳 তোমার বাড়িতে যিনি রান্না করেন অথবা তোমার বিদ্যালয়ে যিনি বা যাঁরা মিড-ডে মিল রান্না করেন তিনি বা তাঁরা রান্নায় কি নুন, লঙ্কা, মশলা বা তেল নির্দিষ্ট যন্ত্রে পরিমাপ করে ব্যবহার করেন?

    • তাহলে তিনি বা তাঁরা কীভাবে ওগুলো রান্নায় পরিমাণ মতো ব্যবহার করেন?
    • তাতে কি রান্নায় কোনো সমস্যা হয়?
  3. 🌡️ সেদিন স্কুলে ক্লাস চলাকালীন জয়িতার শরীরটা খুব খারাপ লাগছিল। দিদিমণিকে সে কথা বললে, দিদিমণি ওর গায়ে হাত দিয়ে বললেন — 'ইস্, তোমার তো জ্বর গা একদম পুড়ে যাচ্ছে!'

    তারপর থার্মোমিটার এনে দেখা গেল, জয়িতার শরীরের উষ্ণতা সত্যিই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।

    • দিদিমণি কী করে বুঝেছিলেন জয়িতার শরীরের উষ্ণতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি?
  4. 🏏 ক্রিকেট খেলার সময় নিশ্চয়ই দেখে থাকবে যে, কখনো-কখনো ফিল্ডার দৌঁড়ে এসে প্রায় বাউন্ডারি লাইনে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটাকে আটকে দেন।

    • ফিল্ডার কী করে বলের থেকে নিজের দূরত্ব ইত্যাদি হিসাব করেন? নিজের বেগ কতটা বাড়ালে তবে বাউন্ডারি লাইনের আগেই বলটা আটকানো যাবে তা বুঝতে পারেন?

পরিবেশ ও বিজ্ঞান 🧪

(5) তুমি যখন সাইকেল চালাও তখন তুমি ঠিক যে জায়গায় থামতে চাও তার কিছুটা আগে থেকে তোমার সাইকেলে ব্রেক কষে আর ঠিক সেই জায়গায় সাইকেল এসে থামে।

এ কাজটা কীভাবে সম্ভব? 🤔

যে-কোনো গাড়ির ক্ষেত্রে তুমি নিশ্চয়ই খেয়াল করেছ যে ড্রাইভার এমনভাবে ব্রেক কষে যথাস্থানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেন। তাহলে বুঝতে পারছ, আমাদের জীবনে আনুমানিক পরিমাপ বা আন্দাজ করার গুরুত্ব কতটা

তোমরা ঘরে এরকম কয়েকটা কাজ নিয়ে আলোচনা করো যাতে আনুমানিক পরিমাপ করার প্রয়োজন হয়।

হাতেকলমে 📏

  1. তোমার শ্রেণিকক্ষের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা অনুমান করে নিচে লেখো।

    • আমার শ্রেণিকক্ষের দৈর্ঘ্য = ..............m, প্রস্থ = ..............m, উচ্চতা = ..............m আবার স্কেল বা ফিতে দিয়ে মেপে দেখো তোমার অনুমান মোটামুটি ঠিক কিনা।
  2. তুমি যে বেঞ্চিতে বসো সেই বেঞ্চির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা অনুমান করে লেখো।

    • আমার বেঞ্চির দৈর্ঘ্য = ..............m, প্রস্থ = ..............m, উচ্চতা = ..............m আবার আগের মতো আবার স্কেল দিয়ে মেপে তোমার অনুমান যাচাই করো।
  3. কয়েকটা পাথর জোগাড় করো। এবার ওই পাথরগুলোর ভর কত হতে পারে অনুমান করে লেখো।

    • প্রথম পাথরের ভর = ..............g
    • দ্বিতীয় পাথরের ভর = ..............g
    • তৃতীয় পাথরের ভর = ..............g এবার ওই পাথরগুলোর ভর, ভরমাপার যন্ত্রের সাহায্যে পরিমাপ করিয়ে তোমার অনুমান যাচাই করে নাও।

রাজমিস্ত্রি কাজের আগে ওই কাজের জন্য কী কী জিনিস কতটা পরিমাণে লাগবে তার আনুমানিক হিসাব দেন। বিষয়টি নিয়ে দলে আলোচনা করো।

তবে একথাও মনে রাখতে হবে যে, জীবনে সঠিক পরিমাপেরও খুব দরকার আছে। 💡

একটা ওষুধ তৈরি করতে কোন উপাদান কতটা লাগবে তা যথেষ্ট সচেতনতার সঙ্গে সুক্ষ্ম হিসাব করার দরকার হয়।

ওষুধ তৈরির সময় কোনো উপাদান একটু বেশি হলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। ⚠️

এরকম আরও উদাহরণ নিয়ে দলে আলোচনা করো।


উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৃদ্ধির পরিমাপ 📏

কদিন আগে অনুরাধা আম খেয়ে আঁটিটা মাছের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল। আজ সকালে হঠাৎই সে দেখল যে, আঁটিটা থেকে একটি ছোট আমগাছে চারা বেরিয়ে এসেছে। আবার কয়েক বছর পর ওই চারাগাছই হয়ে উঠবে একটা প্রকাণ্ড আমগাছ।

অনুরাধার বাড়ির পাশে অমাদের গোয়াল ঘরে বছরকয়েক আগে আঠুরটা জমেছিল। আজ সে একটি বড়োসড়ো গরু। পড়ার টেবিলে রাখা ছোটোবেলার ঘড়িটা দেখে অনুরাধা ভাবে, আজ সে কতটা বড়ো হয়ে গেছে!

অনুরাধা ওদের বাগানের শিউলি গাছটায় গত শরতে দেখেছিল, গিজগিজ করছে কত শুঁয়োপোকা। অথচ এরাই তো প্রজাপতি হয়ে ফুলে ফুলে উড়ে বেড়ায়!

গতকালও জবাগাছের যে কুঁড়িগুলো অনুরাধা দেখেছিল, আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে সবকটিই ফুল হয়ে গেছে।

এভাবে সব জীবের বৃদ্ধি হয়, বৃদ্ধি হয় জীবের বিভিন্ন অঙ্গের অথবা জীবের শরীর যা যা দিয়ে তৈরি তাদের।

কোনো ব্যক্তির বৃদ্ধি তার উচ্চতা বা দৈর্ঘ্য আর দেহের ওজন দিয়ে বোঝা যায়। প্রত্যেক মানুষের বয়স অনুযায়ী উচ্চতা ঠিকঠাক না হলে বুঝতে হবে সেই ব্যক্তি অপুষ্টিতে ভুগছেন। উদ্ভিদ বা প্রাণীর পুষ্টি ঠিকমতো হচ্ছে কিনা তা নানা ভাবে বোঝা যায়। মানুষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ওজন মাপলে যদি দেখা যায় বয়স অনুযায়ী ওজন ঠিক আছে, তবে বলা যেতে পারে তার পুষ্টি স্বাভাবিক।

💡 এছাড়াও উপযুক্ত খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে জীবের পুষ্টি ঘটে। পুষ্টি হলো একটি শারীরিক প্রক্রিয়া আর তার ফলাফল হলো স্বাস্থ্য

পুষ্টি ভালো হলে স্বাস্থ্যের লক্ষণগুলোও ভালো হয়:

  • মসৃণ ও উজ্জ্বল ত্বক ✨
  • সুগঠিত নিশ্বাস
  • কম মেদ
  • সুগঠিত পেশি 💪
  • দৃঢ় ও মজবুত হাড় 🦴
  • ভালো ঘুম 😴
  • কায়িক শ্রমে সহজে ক্লান্তি না আসা ইত্যাদি।

মাছ, মাংস, ডিম, ফল, দুধ ইত্যাদি প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ লবণ-সমৃদ্ধ খাদ্য পরিমিত সেবনে স্বাভাবিক পুষ্টি ঘটে। ফলে জীবের দেহ গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ যথাযথ হয়। সুগঠিত দেহ ভালো স্বাস্থ্যকে নির্দেশ করে। আর স্বাস্থ্য ভালো না খারাপ তা ধরা পড়ে বিভিন্ন বৃদ্ধিসূচক পরিমাপের সময় (যেমন: ওজন, উচ্চতা পরিমাপ, মাথা ও বুকের পরিধি পরিমাপ, বাহুর পরিধি পরিমাপ ইত্যাদি)।

উদ্ভিদের বৃদ্ধির পরিমাপ 🌿

তোমরা কি জানো উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপের যন্ত্রের কথা? 🧐 এসো একটু পরিচয় করে নিই। উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপ করা হয় – ‘অক্সানোমিটার’ বা ‘আর্ক অক্সানোমিটার’ যন্ত্র দিয়ে।

📜 গ্রিক শব্দ ‘auxein’ কথার অর্থ ‘To grow’ অর্থাৎ বৃদ্ধি হওয়া আর ‘metroe’ কথার অর্থ ‘To measure’ বা পরিমাপ করা।

📌 পাশের পাতায় আর্ক অক্সানোমিটার-এর ছবিটা ভালো করে লক্ষ করো। (Refer to the image on the right)

বৃদ্ধি হার = বৃদ্ধি / সময়

উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পরিমাপ খুব জরুরি, চাষের কাজে ফলের বাগান তৈরির সময় তা কাজে লাগে। 🧑‍🌾 উদ্ভিদের কাণ্ডের গায়ে যে গাঁটের মতো অংশ থাকে সেগুলো হলো পর্ব। দুটো পর্বের মধ্যবর্তী অংশ হলো পর্বমধ্য


পরিবেশ ও বিজ্ঞান 🧪

থেকে পাতা বের হয়। পর্বের সংখ্যা, পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য, পাতার সংখ্যা, পাতার পরিমাপ থেকে উদ্ভিদের বৃদ্ধি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপ: এসো পরীক্ষা করি! 🌿

আচ্ছা, একটা তারা গাছের কোন অংশটা কেমন করে বাড়ে? এসো নিজেরা করে দেখি

উপকরণ 📝

  • একটা টবে লাগানো ছোটো গাছ নাও (যেমন: ছোলা বা মটর দ্বারা হতে পারে, আবার একটা ছোটো ফুলের গাছ বা তুলসীগাছও হতে পারে)।
  • মাপার ফিতে (Measuring Tape) 📏
  • মার্কার পেন (Marker Pen) 🖊️

কার্যপদ্ধতি (Procedure) 🔬

  1. প্রথমে গাছটার কাণ্ডে কটি পর্ব আছে গুনে নাও।
  2. এবার নীচ থেকে প্রথম দুটি পর্বমধ্য কতটা লম্বা মেপে নাও।
  3. এবার ওই দুটি পর্বের প্রতিটিতে কটি পাতা আছে গুনে নাও।
  4. প্রতিটি পাতা কতটা লম্বা আর কতটা চওড়া মেপে নাও।
  5. আবার ওপর থেকে প্রথম দুটি পর্বমধ্য কতটা লম্বা মাপো।
  6. ওই দুটি পর্বের প্রতিটিতে কটি পাতা আছে গুনে নাও।
  7. প্রতিটি পাতা কতটা লম্বা আর কতটা চওড়া মেপে নাও।

💡 একইভাবে সাত দিন অন্তর তিনবার মাপ নাও। এবং তা নীচের সারণিতে লেখো।

বিষয়প্রথম মাপ (প্রথম দিন)দ্বিতীয় মাপ (7 দিন পরে)তৃতীয় মাপ (14 দিন পরে)
কাণ্ড
মোট পর্ব
মার্কার পেন দিয়ে দেওয়া দাগের উপরের অংশ
পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য
পর্বের পাতার সংখ্যা
পাতার দৈর্ঘ্য
পাতার প্রস্থ
কাণ্ড
মোট পর্ব
মার্কার পেন দিয়ে দেওয়া দাগের নীচের অংশ
পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য
পর্বের পাতার সংখ্যা
পাতার দৈর্ঘ্য
পাতার প্রস্থ

এবার এসো, মজটা দেখি। 🤔

বলো তো, প্রথম, দ্বিতীয় আর তৃতীয় ধাপে পর্বের মোট সংখ্যা কত?

তাহলে, পর্বের সংখ্যা বেড়েছে, না কমেছে?

পর্বের সংখ্যা কোন দিকে বেড়েছে, নীচে না উপরে?

বলতে পারো, গাছের কোন অংশ থেকে নতুন পর্ব তৈরি হয়? 🌱 (প্রয়োজনে বন্ধুদের বা শিক্ষক/শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসা করো।)

সব পর্বগুলোই কি লম্বায় বেড়েছে? বেড়ে থাকলে, কোনগুলো বাড়েনি? আর কোনগুলো বেড়েছে?

তেমনি দেখ, সব পাতাগুলো লম্বা চওড়ায় বেড়েছে কিনা? না বেড়ে থাকলে, কোনগুলো বেড়েছে, আর কোনগুলো বাড়েনি?


তাহলে, গাছের কোন অংশটা বাড়ে, আর কোন অংশটা বাড়ে না, লেখো। ✍️ প্রয়োজনে, তোমার বন্ধুদের আর শিক্ষক/শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসা করে নাও। এবার এসো জেনে নিই উদ্ভিদের - 'ভর' কী করে পরিমাপ করবে। 📏

হাতেকলমে 🧑‍🔬

এই হাতেকলমে কাজটা শিক্ষক/শিক্ষিকার সঙ্গেই করবে।

সজীব উদ্ভিদের ভর পরিমাপ (Measuring fresh weight of a plant) 🌿

  1. খুব সাবধানে একটা জীবন্ত চারাগাছ মাটি থেকে তুলে নাও। খেয়াল রাখো যাতে গাছটার শিকড় ছিঁড়ে না যায়। 🩹
  2. এবার জল দিয়ে ভালো করে সমস্ত মাটি ধুয়ে ফেলো। 🚿
  3. এবার একটা নরম তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে সমস্ত জল মুছে ফেলো। 💧
  4. সঙ্গে সঙ্গে (সময় নষ্ট না করে) চারা গাছটার ভর সূক্ষ্ম তুলাযন্ত্রের সাহায্যে পরিমাপ করো।

    💡 গুরুত্বপূর্ণ: গাছে থাকে প্রচুর পরিমাণ জল, দেরি হলে গাছ শুকিয়ে যেতে পারে, তাতে পরিমাপে ভুল হবে। ⏳

এবার পরিমাপ করা গাছের 'ভর' নীচে লিখে ফেলো। এভাবে চারাগাছটার ২-মাসের তালিকা তৈরি করো। 📈

ভর পরিমাপ ⚖️

'ভর' পরিমাপ করা হয় সাধারণ তুলা-র সাহায্যে। অধুনা স্প্রিং তুলা যন্ত্র দিয়েও ভর মাপা হচ্ছে। পাশে এমন কয়েকটি যন্ত্রের ছবি দেওয়া হলো। মানুষের ক্ষেত্রে ভর মাপার যন্ত্র আকারে ছোটো ও অন্যান্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে যন্ত্রের আকারটা বড়ো হয়।

পৃষ্ঠা 75 📖


পরিবেশ ও বিজ্ঞান

📏 প্রাণীর বৃদ্ধির পরিমাপ

মানুষসহ সমস্ত প্রাণীর ক্ষেত্রেই বৃদ্ধির হার পরিমাপের পদ্ধতি একই। পরিমাপের যন্ত্রও এক, কিন্তু আকৃতির পার্থক্য থাকে। 💡 উচ্চতা সাধারণত 'সেন্টিমিটার স্কেলে' মাপা হয়। পাশের ছবিটি খেয়াল করো, এমন উচ্চতা মাপার যন্ত্র তোমরা খেলার (sports) মাঠে দেখে থাকবে।

📌 উচ্চতা মাপার সময়, পরিমাপ্য ব্যক্তিকে মেরুদণ্ড টান টান করে, দু-পা গোড়া করে পাদানির উপর দাঁড়াতে হবে। (অনেক ক্ষেত্রে পাদানি থাকে না)। সুকটিকে মাথার তালুর সঙ্গে লাগিয়ে মাপ নিতে হবে।

তোমরা বন্ধুরা একসঙ্গে মিলে তোমাদের উচ্চতা মাপো। দেখো তো, উচ্চতার কী পরিচয় পাও। হ্যাঁ, তোমাদের বয়স্তাও সেক্ষেত্রে লেখো।

ক্রম.নামবয়সউচ্চতা (সেমি)

🤔 এবার বলো:

  • তোমাদের মতে বয়সে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর উচ্চতা কতটা হয়ে থাকে?

  • আর চেয়ে বেশি বা কম উচ্চতা কতজনের আছে?

    • বেশি :
    • কম :

✨ এবার এসো, একটা মজার জিনিস দেখি। এর জন্য অবশ্য তোমাকে বাড়িতে কাজ করতে হবে। তোমার ভাই-বোন, বন্ধুদের ভাই-বোন, হয়তো বা পাড়ার ছোট বাচ্চাদের শরীরের মাপ নিতে হবে।

🧑‍🤝‍🧑 কাদের মাপ নেবে?

  1. শিশু: 2-3 বছরের কোনো বাচ্চার মাপ নাও।
  2. বালক/বালিকা: 4-6 বছরের কোনো ভাই বা বোনের মাপ নাও।
  3. কিশোর/কিশোরী: 11-14 বছরের কোনো সমবয়সি বন্ধু বা দাদা বা দিদির মাপ নাও।

📐 কীভাবে মাপ নেবে?

  1. মাথা: ভূ-র ঠিক ওপর দিয়ে মাথা বেডু দিয়ে মাপ নিতে হবে।
  2. দেহকাণ্ড: কাঁধ থেকে তলপেট পর্যন্ত দেহকাণ্ড। পিঠের দিকে শিরদাঁড়া বরাবর। কাঁধ থেকে নীচ পর্যন্ত মাপ নিতে হবে।
  3. হাত: কাঁধ থেকে আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত।

মাপজোকে বা পরিমাপ 📏

এসো এবার সারণিতে ফেলে দেখি। 📊

ক্রমনামবয়সমাথা (সেমি)দেহকাণ্ড (সেমি)হাত (সেমি)মাথা : দেহকাণ্ড অনুপাত
শিশু
বালক/বালিকা
কিশোর/কিশোরী

আলোচনা ও পর্যবেক্ষণ 📝

  • শিশুদের মাথা আর দেহকাণ্ডের মাপের অনুপাত কত থেকে কত? ❓
  • বালক/বালিকাদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত কত থেকে কত? ❓
  • কিশোর/কিশোরীদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত কত? ❓

📌 গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ: পরে একসময় দেহকাণ্ডহাতের অনুপাত মিলিয়ে দেখো।


জীবের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ 🌳

এবার বাড়িতে বাছুর, ছাগলছানা, বেড়ালছানা, হয়তো খরগোশ বা গিনিপিগ এদের বৃদ্ধি মেপে দেখো, কী পেলে? 🤔

  • অনুপাতগুলো মিলিয়ে দেখে বলো, দেহের কোন অংশটা তুলনায় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে? 🚀
  • আর কোনটী বেড়েছে সবচেয়ে কম? 🐢

বৃদ্ধির হার সাজানো 📈

এবার তাহলে দেহের অংশগুলোকে (মাথা, হাত, দেহকাণ্ড) তাদের বৃদ্ধির হার হিসেবে কম থেকে বেশির দিকে সাজাও (মানে প্রথমে লেখো, যেটা বাড়ে সবচেয়ে কম আর শেষে লেখো, যেটা বাড়ে সবচেয়ে বেশি):

  1. ........................................ ➜
  2. ........................................ ➜
  3. ........................................

চূড়ান্ত প্রশ্ন ও বৈশিষ্ট্য 💡

তাহলে এবার বলো, বেড়ে ওঠার সময় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কি একই হারে বেড়ে ওঠে? ❓

মূল বৈশিষ্ট্য: ...................................................................................। এটাই প্রাণীদের বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য



উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৃদ্ধির পরিমাপ 📏

কদিন আগে অনুরাধা আম খেয়ে আঁটিটা মাঠের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল। আজকে হঠাৎই সে দেখল যে, আঁটিটা থেকে একটি ছোট আমগাছের চারা 🌱 বেরিয়েছে। আবার কয়েক বছর পর ওই চারাগাছটা হয়ে উঠবে একটা ফলন্ত আমগাছ

অনুরাধার বাড়ির পাশে রমাদিদের গোয়াল ঘরে বছরখানেক আগে বাছুরটা জন্মেছিল। আজ সে একটা বড়োসড়ো গরু। পড়ার টেবিলে রাখা ছোটবেলার ছবিটা দেখে অনুরাধা ভাবে, আজ সে কতটা বড়ো হয়ে গেছে!

অনুরাধা ওদের বাগানের শিউলি গাছটায় গত শরতে দেখেছিল, গিজগিজ করছে কত শাঁয়োপোকা। অথচ এরাই তো প্রজাপতি 🦋 হয়ে ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়! গতকালও জবাগাছের যে কুঁড়িগুলো অনুরাধা দেখেছিল, আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে সবকটাই ফুল 🌸 হয়ে গেছে।

💡 এভাবে সব জীবেরই বৃদ্ধি হয়। বৃদ্ধি বা জীবনের বিভিন্ন অঙ্গের অথবা জীবের শরীর যা যা দিয়ে তৈরি তাদের পরিবর্তন

কোনো ব্যক্তির বৃদ্ধি তার উচ্চতা বা দৈর্ঘ্য আর দেহের ওজন দিয়ে বোঝা যায়। প্রত্যেক মানুষের বয়স অনুযায়ী উচ্চতা ঠিকঠাক না হলে বুঝতে হবে সেই ব্যক্তি অপুষ্টিতে ভুগছেন। উদ্ভিদ বা প্রাণীর পুষ্টি ঠিকমতো হচ্ছে কিনা তা নানা ভাবে বোঝা যায়। মানুষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ওজন মাপলে যদি দেখা যায় বয়স অনুযায়ী ওজন ঠিক থাকে, তবে বলা যেতে পারে তার পুষ্টি স্বাভাবিক। এছাড়াও উপযুক্ত খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে জীবের পুষ্টি ঘটে।

📌 পুষ্টি হলো একটি শারীরিক প্রক্রিয়া আর তার ফলাফল হলো স্বাস্থ্য

পুষ্টি ভালো হলে স্বাস্থ্যের লক্ষণগুলোও ভালো হয়, যেমন:

  • মসৃণ ও উজ্জ্বল ত্বক ✨
  • সুগঠিত নিশ্বাস
  • কম মেদ
  • সুগঠিত পেশি 💪
  • দৃঢ় ও মজবুত হাড়
  • ভালো ঘুম 😴
  • কায়িক শ্রমে সহজে ক্লান্তি না আসা ইত্যাদি।

মাছ, মাংস, ডিম, ফল, দুধ ইত্যাদি প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ লবণ-সমৃদ্ধ খাদ্য পরিমিত পরিমাণে খেলে স্বাভাবিক পুষ্টি ঘটে। ফলে জীবের দেহ গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ যথাযথ হয়। সুগঠিত দেহ ভালো স্বাস্থ্যকে নির্দেশ করে। আর স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে তা ধরা পড়ে বিভিন্ন বৃদ্ধি বিষয়ক পরিমাপের সময় (যেমন: ওজন, উচ্চতা পরিমাপ, মাথা ও বুকের পরিধি পরিমাপ, মহাসাগর পরিধি পরিমাপ ইত্যাদি)।

উদ্ভিদের বৃদ্ধির পরিমাপ 🌱

তোমরা কি জানো উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপের যন্ত্রের কথা? এসো একটু পরিচয় করে নিই। উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপ করা হয় – ‘অক্সানোমিটার’ বা ‘আর্ক অক্সানোমিটার’ যন্ত্র দিয়ে।

গ্রিক শব্দ ‘auxein’ কথার অর্থ ‘To grow’ অর্থাৎ বৃদ্ধি হওয়া আর ‘metroe’ কথার অর্থ ‘To measure’ বা পরিমাপ করা

📌 এই পাতায় দেওয়া আর্ক অক্সানোমিটার-এর ছবিটি ভালো করে লক্ষ্য করো।

বৃদ্ধির হার = বৃদ্ধি / সময়

উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পরিমাপ খুব জরুরী, চাষের কাজে ফলের বাগান তৈরির সময় তা কাজে লাগে। উদ্ভিদের কাণ্ডের গায়ে যে গাঁটের মতো অংশ থাকে সেগুলো হলো পর্ব। দুটো পর্বের মধ্যবর্তী অংশ হলো পর্বমধ্য


পরিবেশ ও বিজ্ঞান 🌿

পাতা বের হয়। পর্বের সংখ্যা, পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য, পাতার সংখ্যা, পাতার পরিমাপ থেকে উদ্ভিদের বৃদ্ধি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

আচ্ছা, একটা চারা গাছের কোন অংশটা কেমন করে বাড়ে? দেখবে? এসো নিজেরা করে দেখি। 💡

একটা টবে লাগানো ছোটো গাছ নাও। একটা তোলা বা মিটার দ্বারা হতে পারে, আবার একটা ছোটো ফুলের দ্বারা বা তুলসীগাছও হতে পারে। আর লাগাতে একটা মাপার ফিতে, আর একটা মার্কার পেন। 📏

  • প্রথমে গাছটার কাছে কটা পর্ব আছে গুনে নাও।
  • এবার নীচ থেকে প্রথম দুটি পর্বমধ্য কতটা লম্বা মেপে নাও।
  • এই দুটি পর্বের প্রতিটিতে কটা পাতা আছে গুনে নাও।
  • প্রতিটি পাতা কতটা লম্বা আর কতটা চওড়া মেপে নাও।
  • আবার ওপর থেকে প্রথম দুটি পর্বমধ্য কতটা লম্বা মাপো।
  • ওই দুটি পর্বের প্রতিটিতে কটা পাতা আছে গুনে নাও।
  • প্রতিটি পাতা কতটা লম্বা আর কতটা চওড়া মেপে নাও।

একইভাবে সাত দিন অন্তর তিনবার মাপ নাও। এবং তা নিচের সারণিতে লেখো। 📊

বিষয়প্রথম মাপ (প্রথম দিন)দ্বিতীয় মাপ (7 দিন পরে)তৃতীয় মাপ (14 দিন পরে)
কাণ্ড 🌳
➡️ মোট পর্ব
মার্কার পেন দিয়ে দেওয়া দাগের উপরের অংশ ⬆️
➡️ পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য
➡️ পর্বে পাতার সংখ্যা
➡️ পাতার দৈর্ঘ্য
➡️ পাতার প্রস্থ
মার্কার পেন দিয়ে দেওয়া দাগের নিচের অংশ ⬇️
➡️ পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য
➡️ পর্বে পাতার সংখ্যা
➡️ পাতার দৈর্ঘ্য
➡️ পাতার প্রস্থ

💡 এবার এসো, মজাটা দেখি।

❓ প্রশ্ন:

  • বলো তো, প্রথম, দ্বিতীয় আর তৃতীয় ধাপে পর্বের মোট সংখ্যা কত?
  • তাহলে, পর্বের সংখ্যা বেড়েছে, না কমেছে?
  • পর্বের সংখ্যা কোন দিকে বেড়েছে, নীচে না উপরে?
  • বলতে পারো, গাছের কোন অংশ থেকে নতুন পর্ব তৈরি হয়? (প্রয়োজনে বন্ধুদের বা শিক্ষক/শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসা করো।)
  • সব পর্বসংখ্যাগুলোই কি লম্বায় বেড়েছে? বেড়ে থাকলে, কোনগুলো বাড়েনি? আর কোনগুলো বেড়েছে?
  • তেমনি দেখত, সব পাতাগুলো লম্বা চওড়ায় বেড়েছে কিনা? না বেড়ে থাকলে, কোনগুলো বেড়েছে, আর কোনগুলো বাড়েনি?
  • তাহলে, গাছের কোন অংশটা বাড়ে, আর কোন অংশটা বাড়ে না, লেখো। প্রয়োজনে, তোমার বন্ধুদের আর শিক্ষক/শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসা করে নাও।

🌿 এবার এসো জেনে নিই উদ্ভিদের ‘ভর’ কী করে পরিমাপ করবে।

🧪 হাতেকলমে (Hands-on Experiment)

এই হাতেকলমে কাজটা শিক্ষক/শিক্ষিকার সঙ্গেই করবে।

⚖️ সজীব উদ্ভিদের ভর পরিমাপ (Measuring fresh weight of a plant)

  1. খুব সাবধানে একটা জীবন্ত চারাগাছ মাটি থেকে তুলে নাও। খেয়াল রাখো যাতে গাছটার শিকড় ছিঁড়ে না যায়।
  2. এবার জল দিয়ে ভালো করে সমস্ত মাটি ধুয়ে ফেলো।
  3. এবার একটা নরম তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে সমস্ত জল মুছে ফেলো।
  4. সঙ্গে সঙ্গে (সময় নষ্ট না করে) চারা গাছটার ভর সূক্ষ্ম তুলাযন্ত্রের সাহায্যে পরিমাপ করো। (গাছে থাকে প্রচুর পরিমাণ জল, দেরি হলে গাছ শুকিয়ে যেতে পারে, তাতে পরিমাপে ভুল হবে।)

📝 এবার পরিমাপ করা গাছের ‘ভর’ নীচে লিখে ফেলো। এভাবে চারাগাছটার ২-মাসের তালিকা তৈরি করো।

⚖️ ভর পরিমাপ (Mass Measurement)

‘ভর’ পরিমাপ করা হয় সাধারণ তুলা-র সাহায্যে। অধুনা স্প্রিং তুলা যন্ত্র দিয়েও ভর মাপা হচ্ছে। পাশে এমন কয়েকটা যন্ত্রের ছবি দেওয়া হলো। মানুষের ক্ষেত্রে ভর মাপার যন্ত্র আকারে ছোটো ও অন্যান্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে যন্ত্রের আকারটা বড়ো হয়।


🔬 পরিবেশ ও বিজ্ঞান

📈 প্রাণীর বৃদ্ধির পরিমাপ

মানুষসহ সমস্ত প্রাণীর ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার পরিমাপের পদ্ধতি একই। পরিমাপের যন্ত্রও এক, কিন্তু আকৃতির পার্থক্য থাকে। 📏 উচ্চতা সাধারণত 'সেন্টিমিটার স্কেলে' মাপা হয়। পাশের ছবিটি খেয়াল করো, এমন উচ্চতা মাপার যন্ত্র তোমরা খেলার (sports) মাঠে দেখে থাকবে।

💡 উচ্চতা মাপার সময় কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে:

  • পরিমাপ্য ব্যক্তিকে মেঝের উপর টানটান করে, দু-পা গোড়ালি সহ পায়ের পাতার উপরে দাঁড়াতে হবে (অনেক ক্ষেত্রে পাছায় পানিও থাকে না)।
  • সুচারুটিকে মাথার তালুর সঙ্গে লাগিয়ে মাপ নিতে হবে।

তোমরা বন্ধুরা একসঙ্গে মিলে তোমাদের উচ্চতা মাপো। দেখো তো, উচ্চতার কী পরিচয় পাও। হ্যাঁ, তোমাদের বইতেও সহসেঙ্গ লেখো।

ক্রম.নামবয়সউচ্চতা (সেমি)
1.
2.
3.
4.

📊 দেখে বলো, তোমাদের মতো বয়সে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর উচ্চতা কতটি হয়ে থাকে?


আর চেয়ে বেশি বা কম উচ্চতা কতজনের আছে?


বেশি : ______________________________________________________________

কম : ________________________________________________________________

🧑‍🏫 মজার প্রজেক্ট: শরীরের মাপজোখ!

এবার এসো, একটা মজার জিনিস দেখি। এর জন্য অবশ্য তোমাকে বাড়িতে কাজ করতে হবে। তোমার ভাই-বোন, বন্ধুদের ভাই-বোন, হয়তো বা পাড়ার ছোট বাচ্চাদের শরীরের মাপ নিতে হবে।

👶 কাদের মাপ নেবে?

  1. শিশু: 2-3 বছরের কোনো বাচ্চার মাপ নাও।
  2. বালক/বালিকা: 4-6 বছরের কোনো ভাই বা বোনের মাপ নাও।
  3. কিশোর/কিশোরী: 11-14 বছরের কোনো সমবয়সি বন্ধু বা দাদা বা দিদির মাপ নাও।

📏 কীভাবে মাপ নেবে?

  1. মাথা: ভ্রু-র ঠিক উপর দিয়ে মাথা বেড় দিয়ে মাপ নিতে হবে।
  2. দেহকাণ্ড: কাঁধ থেকে নিতম্ব পর্যন্ত দেহকাণ্ড। পিঠের দিকে শিরদাঁড়া বরাবর।
  3. হাত: কাঁধ থেকে আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত।

Page 76


📏 মাপজোকে বা পরিমাপ (Measurement or Dimension)

📝 এসো এবার সারণিতে ফেলে দেখি। (Let's put it in the table now.)

এখানে একটি ছক দেওয়া হলো যেখানে তোমরা তোমাদের নিজেদের এবং তোমাদের বন্ধুদের শারীরিক পরিমাপ লিখে তুলনা করতে পারো।

ক্রমনামবয়সমাথা (সেমি)দেহকাণ্ড (সেমি)হাত (সেমি)মাথা : দেহকাণ্ড অনুপাত
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10

নোট: সারণীর বাম দিকে উল্লম্বভাবে উল্লিখিত 'শিশু', 'বালক/বালিকা' এবং 'কিশোর/কিশোরী' বিভাগগুলি মূলত এই সারণীতে সংগৃহীত ডেটার ভিত্তিতে বিশ্লেষণের জন্য নির্দেশিকা।

❓ প্রশ্ন ও আলোচনা (Questions & Discussion)

  1. শিশুদের মাথা আর দেহকাণ্ডের মাপের অনুপাত কত থেকে কত? 🤔

    (এখানে উত্তর লিখুন)

  2. বালকদের/বালিকাদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত কত থেকে কত?

    (এখানে উত্তর লিখুন)

  3. কিশোরদের/কিশোরীদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত কত?

    (এখানে উত্তর লিখুন)

  4. 💡 গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা: ... পরে একসময় দেহকাণ্ড ও হাতের অনুপাতও মিলিয়ে দেখো।

  5. এবার বাড়িতে বাছুর, ছাগলছানা, বেড়ালছানা, হয়তো খরগোশ বা গিনিপিগ ছানার বৃদ্ধি মেপে দেখ, কী পেলে? 🐾

    অনুপাতগুলো মিলিয়ে দেখে বলো, দেহের কোন অংশটা তুলনায় সবচাইতে বেশি বেড়েছে? (এখানে উত্তর লিখুন)

  6. আর কোনটা বেড়েছে সবচাইতে কম?

    (এখানে উত্তর লিখুন)

  7. এবার তাহলে দেহের অংশগুলোকে (মাথা, হাত, দেহকাণ্ড) তাদের বৃদ্ধির হার হিসেবে কম থেকে বেশির দিকে সাজাও (মানে প্রথমে লেখো, যেটা বাড়ে সবচাইতে কম আর শেষে লেখো, যেটা বাড়ে সবচাইতে বেশি) 📈

    • (1) ......... ➡️
    • (2) ......... ➡️
    • (3) .........

    (এখানে উত্তর লিখুন)

  8. তাহলে এবার বলো, বেড়ে ওঠার সময় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গো কি একই হারে বেড়ে ওঠে? 🔬

    না, সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ একই হারে বাড়ে না। এটিই প্রাণীদের বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য


🧪 পরিবেশ ও বিজ্ঞান (Environment and Science)

এসো, এবার একই রকমের ভিন্ন ভিন্ন বয়সের ছেলেমেয়েদের ভর মাপে দেখি কীভাবে দেহের ভর বয়সের সঙ্গে বৃদ্ধি পায়। 🧑‍🤝‍🧑📈

📊 দেহের ভর পরিমাপের ছক (Body Weight Measurement Table)

ক্রম (Serial)নাম (Name)বয়স (Age)ভর (কিগ্রা) (Weight (kg))গড় ভর (কিগ্রা) (Average Weight (kg))
শিশু (Child)
বালক (Boy)
কিশোর (Adolescent)
প্রাপ্তবয়স্ক (Adult)

🔍 বিশ্লেষণ ও গণনা (Analysis and Calculation)

এবার মিলিয়ে দেখি, কোন বয়সে ওজন বেশি বাড়ে। 🤔

উপরের ছকটি থেকে নিচের ফাঁকা স্থানে গড় ভর গুলো লেখো? ✍️

  • শিশু: ................................. কিগ্রা।
  • বালক: ................................. কিগ্রা।
  • কিশোর: ................................. কিগ্রা।
  • প্রাপ্তবয়স্ক: ................................. কিগ্রা।

তাহলে ওজন বাড়ল কতটা? বিয়োগ করে বলো। ➖

  • শিশু থেকে বালক হবার সময়ে: ................................. কিগ্রা।
  • বালক থেকে কিশোর হবার সময়ে: ................................. কিগ্রা।
  • কিশোর থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হবার সময়ে: ................................. কিগ্রা।

কোন বয়সে ওজন বাড়ল সবচেয়ে বেশি? 🚀

শিক্ষক / শিক্ষিকাকে জিজ্ঞেস করে বুঝে নাও, শতাংশে ভর বৃদ্ধি কতটা হলো। 🧑‍🏫💡

Page 78

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel