Academy

9. সাধারণ যন্ত্রসমূহ ⚙️ যন্ত্রের ধারণা 💡

9. সাধারণ যন্ত্রসমূহ ⚙️ যন্ত্রের ধারণা 💡 - WBBSE - Class 6 - পরিবেশ বিজ্ঞান

0

9. সাধারণ যন্ত্রসমূহ ⚙️

যন্ত্রের ধারণা 💡

প্রত্যহ সকালবেলা ঘুম থেকে উঠল। তারপর প্যাঁচ দেওয়া ঢাকনি খুলে দাঁত মাজার মাজন মাজার পাত্র থেকে মাজন নিল এবং ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজল। টিউবওয়েলের (চাপা কল) হাতলে চাপ দিতেই কলস মুখ দিয়ে জল বেরিয়ে এল। সেই জলে ও মুখ ধুলো। এরপর মা ওকে সুতো পরিয়ে দিতে বললেন। প্রত্যহ সুতো পরিয়ে দিল। তারপর কলমটা বের করে লিখতে বসল। কিন্তু বারান্দায় গিয়ে দেখে বাবা হাতুড়ি দিয়ে দেওয়ালে একটা পেরেক পুঁতছেন। তখন হঠাৎই ওর মনে পড়ে গেল, ওর চেয়ারেও একটা স্ক্রু ঢিলা হয়ে গেছে। বাবাকে জানাতেই বাবা স্ক্রুড্রাইভার দিয়ে স্ক্রুটা টাইট করে দিলেন। তারপর প্রত্যহ শুরু করে স্কুলের প্রোজেক্টের কাজ। ছুরি আর কাঁচি দিয়ে কাগজ কেটে তৈরি করল ফুল। সাঁড়াশি দিয়ে তারকে বেঁকিয়ে তৈরি করল গাছের ডাল। আগামীকাল স্বাধীনতা দিবস। খুব মজা। কফিকলে দড়ি পরিয়ে জাতীয় পতাকা তোলা হবে। তারপর নিতাই কাকার দোকানের ফলের রস বেশ মজা করে খাওয়া হবে। প্রত্যহের কিন্তু মজা লাগে বোতল ওপেনার দিয়ে ওই বোতলের ঢাকনি খুলতে।

  • 💡 বলতে পারো, মোটা অক্ষরে লেখা জিনিসগুলো কী?

খেয়াল করে দেখো, এই প্রত্যেকটা জিনিস আমাদের কাজকে কত সহজ করে দেয়। এই জিনিসগুলোর ওপর তুমি বল প্রয়োগ করো এক জায়গায়, আর কাজ হয় আর এক জায়গায়। 🎯

  • 🤔 তুমি কি শাবল দিয়ে মাটি খুঁড়তে দেখেছ? শাবলের কোন জায়গায় বল প্রয়োগ করা হয়, আর কাজ হয় কোন জায়গায়?

💡 প্রবেশ ও বিজ্ঞান

এই জিনিসগুলোকে বলে ‘সরল যন্ত্র’। তুমি এই ধরনের আরো কিছু যন্ত্রের নাম নীচে লেখো।


এক রকম দুই বা তার বেশি সরল যন্ত্র নিয়ে তৈরি হয় ‘জটিল যন্ত্র’। যেমন ধরো, একটি ‘সেলাইমেশিন’ 🧵। ভালো করে লক্ষ্য করো, একটি সূঁচের সঙ্গে আরো কত সরল যন্ত্র মিলে এই মেশিনটা তৈরি হয়েছে। একটি সূঁচ দিয়ে একটা একটা করে সেলাই করতে হয়। কত সময় লাগে! কত কষ্ট হয়! আবার প্রতিটি সেলাই সমান নাও হতে পারে। কিন্তু দেখো, একটি সেলাইমেশিন দিয়ে কত তাড়াতাড়ি, কত সুশৃঙ্খলভাবে আর কত সহজে ওই সেলাই-এর কাজ করা যায়!

আসলে সভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রও ক্রমশ উন্নত হয়েছে। তৈরি হয়েছে সরল যন্ত্র থেকে জটিল যন্ত্র, আর তার থেকে জটিলতর যন্ত্র। এভাবে সরল যন্ত্রের হাত ধরেই আবিষ্কৃত হয়েছে কত সব জটিল যন্ত্র। এমনকি ‘কম্পিউটার’ 💻 পর্যন্ত! বাড়িতে, অফিসে, স্কুল-কলেজে, হাসপাতালে, কল-কারখানায় আজ প্রায় সর্বত্রই যন্ত্রের ব্যবহার দেখা যায়।


🛠️ যন্ত্রের তালিকা

এসো, এরকম যন্ত্রের একটি তালিকা বানাই। শূন্যস্থানে শব্দভাণ্ডার থেকে উপযুক্ত শব্দ বসাই।

সরল যন্ত্রজটিল যন্ত্র
সুচসেলাই যন্ত্র
কলমছাপার যন্ত্র (ম্যানুয়াল, অফসেট)
করাত, ছুরি, রেঁদা, কাঁচিইলেকট্রিক কাটিং যন্ত্র
ছেনিড্রিল যন্ত্র (দেয়াল ইত্যাদি ফুটো করার জন্য)
শাবলভাইব্রেটর যন্ত্র
গাঁইতিট্রাক্টর
লাঙললোড মেশিন
---সাইকেল
---ফ্যান

📖 শব্দভাণ্ডার (Vocabulary)

  • রটি (Roti - This is food, not a machine, so not included in the table above)
  • গাঁইতি (Pickaxe)
  • সাইকেল (Bicycle)
  • ফ্যান (Fan)
  • লাঙল (Plough)
  • ট্রাক্টর (Tractor)
  • লোড মেশিন (Load Machine)

Page 134


লিভার (Lever) 💡

ছবিতে যেভাবে দেখানো আছে ঠিক সেইভাবে একটি বই, একটি পেন বা পেনসিল ও তোমার ডান ও বাঁ হাতের আঙ্গুলগুলো রাখো। এবার ডান হাতের আঙ্গুল দিয়ে পেনটাকে তোমার নিজের দিকে টানো।

🤔 কী দেখতে পেলে? বইটা সরে গেল তো?

এখন তুমি বাঁ হাতের আঙ্গুলটা একটু একটু করে ডান হাতের আঙ্গুলের দিকে আনতে থাকো এবং পরীক্ষাটা চালাতে থাকো।

🤯 কী বোঝা গেল? বাঁ হাতের আঙ্গুল যত ডান হাতের আঙ্গুলের কাছাকাছি আসছ, তত তোমার পেনটা টানতে কষ্ট হচ্ছে। অর্থাৎ তত বেশি বল প্রয়োগ করতে হচ্ছে।

এবার, বাঁ হাতের আঙ্গুলটি বই-এর দিকে নিতে থাকো। আর একই পরীক্ষা চালিয়ে যাও। এবারে তুমি ঠিক উলটোটা দেখতে পাবে।


তুমি যে সরল যন্ত্রটা তৈরি করেছ তার নাম কি জানো? 🔬 লিভার

📌 বল (Force): বইটাকে সরানোর জন্য তুমি পেনের ওপর যে টান প্রয়োগ করেছিলে তা হল বল। 📌 বাধা (Load/Resistance): পেনের অপর প্রান্তে যে বইটাকে সরানো হলো তা বাধা। 📌 আলম্ব (Fulcrum): বাঁ হাতের আঙ্গুলটা যেখানে পেনকে স্পর্শ করল, তাকে বলে আলম্ব। এই বিন্দুকে কেন্দ্র করে লিভার (এখানে পেন) অবাধে ঘুরতে পারে।


লিভারের প্রকারভেদ 🛠️

'বল', 'বাধা' ও 'আলম্ব' এই তিনটের অবস্থান ভেদে লিভার তিন রকমের হয়।

1. প্রথম শ্রেণির লিভার (First Class Lever)

        বল
        ↓
B <-----C-----> A
↓       ▲
বাধা    আলম্ব
  • বৈশিষ্ট্য: বাধাবল-এর মাঝামাঝি জায়গায় থাকে আলম্ব বিন্দু।

2. দ্বিতীয় শ্রেণির লিভার (Second Class Lever)

        বল
        ↑
C <-----B-----> A
▲       ↓
আলম্ব   বাধা
  • বৈশিষ্ট্য: আলম্ববল-এর মাঝামাঝি জায়গায় থাকে 'বাধা'।

3. তৃতীয় শ্রেণির লিভার (Third Class Lever)

        বল
        ↑
C <-----A-----> B
▲       ↓
আলম্ব   বাধা
  • বৈশিষ্ট্য: আলম্ববাধা-র মাঝামাঝি জায়গায় থাকে 'বল'।

ছবিতে তিন শ্রেণির লিভারের বলের প্রয়োগ বিন্দু (A), বাধার প্রয়োগ বিন্দু (B) ও আলম্ব বিন্দুর (C) অবস্থান লক্ষ কর। তারা কোথায় আলাদা তা আলোচনা কর।


পরিবেশ ও বিজ্ঞান 🔬

❓ প্রচ্ছদ (?) অংশটি তুমি পূরণ করো:


🛠️ প্রথম শ্রেণির লিভারের উদাহরণ (Class 1 Lever)

এই চিত্রগুলিতে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির 'A', 'B', 'C' চিহ্নিত অংশগুলি লক্ষ্য করো। এই লিভারগুলিতে আলম্ব (Fulcrum), বল (Force) এবং বাধা (Resistance) এর মাঝে থাকে।

  • পেরেক তোলা হাতুড়ি: এখানে, A হল বল (Force), B হল বাধা (Resistance) এবং C হল আলম্ব (Fulcrum), যা বল ও বাধার মাঝে অবস্থিত।
  • বোতল ওপেনার: এখানে, A হল বল (Force), B হল বাধা (Resistance) এবং C হল আলম্ব (Fulcrum), যা বল ও বাধার মাঝে অবস্থিত।
  • পেরেক পোঁতা হাতুড়ি: এখানে, A হল বল (Force), B হল বাধা (Resistance) এবং C হল আলম্ব (Fulcrum), যা বল ও বাধার মাঝে অবস্থিত।
  • বই খুলতে ব্যবহৃত যন্ত্র: এখানে, A হল বল (Force), B হল বাধা (Resistance) এবং C হল আলম্ব (Fulcrum), যা বল ও বাধার মাঝে অবস্থিত।
  • কাঁচি: এখানে, A হল বল (Force), B হল বাধা (Resistance) এবং C হল আলম্ব (Fulcrum), যা বল ও বাধার মাঝে অবস্থিত।
  • চিমটা/সাঁড়াশি (pliers): এখানে, A হল বল (Force), B হল বাধা (Resistance) এবং C হল আলম্ব (Fulcrum), যা বল ও বাধার মাঝে অবস্থিত।
  • তুলাদণ্ড: এটি একটি প্রথম শ্রেণির লিভারের উদাহরণ।

📌 প্রথম শ্রেণির লিভার (Class 1 Lever): যে লিভারে আলম্ব (Fulcrum), বল (Force) এবং বাধা (Resistance) এর মাঝে থাকে। (যেমন: কাঁচি, তুলাদণ্ড, পেরেক তোলা হাতুড়ি)।


🛒 দ্বিতীয় শ্রেণির লিভারের উদাহরণ (Class 2 Lever)

নিম্নলিখিত চিত্রগুলির 'A', 'B', 'C' চিহ্নিত অংশগুলি খেয়াল করো। এই লিভারগুলিতে বাধা (Resistance), আলম্ব (Fulcrum) এবং বল (Force) এর মাঝে থাকে।

  • সুপারি কাটা যন্ত্র: এখানে, A হল বল (Force), B হল বাধা (Resistance) এবং C হল আলম্ব (Fulcrum)। বাধা (B) আলম্ব (C) ও বল (A) এর মাঝে অবস্থিত।
  • নৌকা চালানো: এটি সাধারণত তৃতীয় শ্রেণির লিভারের উদাহরণ।
  • এক চাকার ঠেলাগাড়ি: এখানে, A হল বল (Force), B হল বাধা (Resistance) এবং C হল আলম্ব (Fulcrum)। বাধা (B) আলম্ব (C) ও বল (A) এর মাঝে অবস্থিত।
  • সাঁড়াশি (আরেক প্রকার nutcracker): এখানে, A হল বল (Force), B হল বাধা (Resistance) এবং C হল আলম্ব (Fulcrum)। বাধা (B) আলম্ব (C) ও বল (A) এর মাঝে অবস্থিত।

📌 দ্বিতীয় শ্রেণির লিভার (Class 2 Lever): যে লিভারে বাধা (Resistance), আলম্ব (Fulcrum) এবং বল (Force) এর মাঝে থাকে। (যেমন: সুপারি কাটা যন্ত্র, ঠেলাগাড়ি)।


💪 তৃতীয় শ্রেণির লিভারের উদাহরণ (Class 3 Lever)

এই চিত্রগুলিতে 'A', 'B', 'C' চিহ্নিত অংশগুলি দেখে নাও। এই লিভারগুলিতে বল (Force), আলম্ব (Fulcrum) এবং বাধা (Resistance) এর মাঝে থাকে।

  • হাত দিয়ে ওজন তোলা: এখানে, A হল বল (Force) (পেশী), B হল বাধা (Resistance) (ওজন) এবং C হল আলম্ব (Fulcrum) (কনুই)। বল (A) আলম্ব (C) ও বাধা (B) এর মাঝে অবস্থিত।
  • চিমটা (Tweezers): এখানে, A হল বল (Force), B হল বাধা (Resistance) এবং C হল আলম্ব (Fulcrum)। বল (A) আলম্ব (C) ও বাধা (B) এর মাঝে অবস্থিত।
  • মানুষের চোয়াল: এখানে, A হল বল (Force) (পেশী), B হল বাধা (Resistance) (খাবার) এবং C হল আলম্ব (Fulcrum) (চোয়ালের সন্ধি)। বল (A) আলম্ব (C) ও বাধা (B) এর মাঝে অবস্থিত।
  • ফল তোলার চিমটা: এখানে, A হল বল (Force), B হল বাধা (Resistance) এবং C হল আলম্ব (Fulcrum)। বল (A) আলম্ব (C) ও বাধা (B) এর মাঝে অবস্থিত।
  • মাছ ধরার ছিপ: এটি একটি তৃতীয় শ্রেণির লিভারের উদাহরণ।

📌 তৃতীয় শ্রেণির লিভার (Class 3 Lever): যে লিভারে বল (Force), আলম্ব (Fulcrum) এবং বাধা (Resistance) এর মাঝে থাকে। (যেমন: মানুষের হাত, চিমটা, মাছ ধরার ছিপ)।


পৃষ্ঠা: 136


📌 নততলের ধারণা

💡 সঠিক স্থানে '✓' দাও :

  • পাশের ছবিটি দেখো। এবার ভেবে বলো তো কোনটি বেশি সহজ:
    • মাটির সঙ্গে খাড়াভাবে থাকা একটি নারকোল গাছ বেয়ে তোমায় উঠতে হচ্ছে।
    • গাছের সঙ্গে হেলিয়ে রাখা মই দিয়ে তোমায় উঠতে হচ্ছে।
  • কোনটি বেশি সহজ?
    • দেয়াল বেয়ে ছাদে উঠেছো।
    • অথবা সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠেছো।
  • কোনটি বেশি সহজ?
    • সাইকেল চালিয়ে অনেকটা খাড়াই ব্রিজে ওঠা।
    • সাইকেল চালিয়ে কম খাড়াই যুক্ত ব্রিজে ওঠা।
  • পাশের ছবিটি দেখো। এবার বলো একটি ভারি ড্রামকে খাড়াভাবে চাপিয়ে কি লরিতে তোলা সহজ?
    • ঐ ড্রামটিকে, লরির সঙ্গে হেলানো কাঠের তক্তার ওপর ঠেলে দিয়ে গড়িয়ে তোলা কি বেশি সহজ?

🤔 কেন এমন হয়?

  • ভাবো তো সাধারণ সিঁড়ি বেয়ে খাড়াই সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে কষ্ট বেশি হয় কেন?
  • খাড়াই রাস্তা ধরে পাহাড়ে ওঠার চেয়ে আঁকাবাঁকা পথে ওঠা অনেক আরামের কেন?

💡 নততল (Inclined Plane): হেলিয়ে রাখা মই, সিঁড়ি, ব্রিজ, ড্রাম গড়িয়ে ওপরে তোলার জন্য হেলানো কাঠের তক্তা এদের বলে নততল

📌 নততল একটি সমতল পাটাতন বা ওই ধরনের কোনো সমতল যাকে মাটির সঙ্গে সূক্ষ্মকোণ করে রাখা হয়।

  • উপরের অভিজ্ঞতা থেকে তাহলে একথা বলা যায়:
    • নততলের খাড়াই যত কম হবে নততলের সুবিধে তত বেশি হবে।
    • অর্থাৎ ভূমি ও নততলের মাঝের কোণ যত ছোট হবে নততলের সুবিধা তত বেশি হবে।

⚙️ স্ক্রু, পুলি, চক্র ও অক্ষদণ্ড

🔩 স্ক্রু

একটি কাঠের ব্লকে একটি পেরেক ও একটি স্ক্রু পুঁততে হবে।

  • পেরেক পোঁতা: পেরেকটিকে তুমি পুরোটাই হাতুড়ির ঘায়ে কাঠের ব্লকে পুঁতলে।
  • স্ক্রু পোঁতা: এবার স্ক্রুকে তুমি প্রথমে সোজা করে ব্লকের ওপর ধরলে। তারপর ওর মাথার খাঁজকাটা অংশে স্ক্রুড্রাইভারটি আটকিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কাঠের ব্লকে প্রবেশ করালে।

🤔 এবার বলো তো, কোনো ক্ষেত্রে তোমার কম বল প্রয়োগ করতে হলো?


পরিবেশ ও বিজ্ঞান 💡

কোন ক্ষেত্রে স্ক্রুটা ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি?

কাঠের ব্লকে পুঁতে দেবার পর, পেরেক বা স্ক্রু এর মধ্যে কোনটি কাঠের ব্লকে বেশি শক্তভাবে বসে থাকবে?

📌 পর্যবেক্ষণ: তাহলে দেখা গেল, পেরেক অপেক্ষা স্ক্রু-র সুবিধা অনেক বেশি। এখন প্রশ্ন হলো, কী কারণে স্ক্রু-র সুবিধা পেরেকের চেয়ে অনেক বেশি?

স্ক্রু ও নততল (Inclined Plane) 🛠️

আসলে স্ক্রু-র মধ্যে লুকিয়ে থাকা নততলই এর কারণ। স্ক্রু-এর গায়ে যে খাঁজ বা প্যাঁচ থাকে তা আসলে একটি নততল

একটি সহজ পরীক্ষা:

ছবি 1, 2 ও 3-এ দেখানো হয়েছে। ছবির মতো করে একটি তিনকোণা কাগজের টুকরো কেটে নাও। ছবিতে দেখানো হয়েছে কাগজের যে অংশ সবুজ রং করা হয়েছে তুমিও তাই করো। ওই অংশটা হলো নততলের প্রায় দেশ। এবার ছবির মতো করে কাগজটা একটি পেন্সিলের গায়ে জড়িয়ে নাও।

কী দেখতে পাচ্ছ? স্ক্রু-এর গায়ের সঙ্গে পেন্সিলটার গায়ের মিল পাচ্ছ কি?

স্ক্রু-এর ওই প্যাঁচানো অংশ ধারালোও বটে। ফলে সহজেই তা স্ক্রুড্রাইভারের সাহায্যে ঘুরতে ঘুরতে কাঠ বা কাঠে বসে যেতে পারে।

পুলি বা কপিকল ⚓

ওপরের ছবি দুটো লক্ষ্য করো। তারপর নিচের প্রশ্নের উত্তর লেখো।

প্রথম ছবির সাপেক্ষে প্রশ্নাবলী (পুলি ছাড়া):

  • রবিবার মা কী করছেন?
  • কীভাবে তা করছেন?
  • রবিবার মা কোন দিক থেকে কোন দিকে বল প্রয়োগ করছেন?

দ্বিতীয় ছবির সাপেক্ষে প্রশ্নাবলী (পুলি সহ):

  • রবিবার মা কী করছেন?
  • কীভাবে তা করছেন?
  • কোন ক্ষেত্রে রবিবার মা-র কষ্ট কম হচ্ছে?

সাধারণ যন্ত্রসমূহ ⚙️

💡 এ ক্ষেত্রে রবির মা র-ব কম হয়েছে, সেক্ষেত্রে রবির মা কী জিনিস ব্যবহার করায় সেটা সম্ভব হয়েছে? ভাবো।

দ্বিতীয় ক্ষেত্রে, রবির মা ব্যবহার করেছেন একটি সরল যন্ত্র। এই যন্ত্রের নাম পুলি বা কপিকল। আর এই যন্ত্রই রবির মায়ের কুয়ো থেকে জল তোলার কাজ সহজ করে দিয়েছে।

কপিকল হলো একটি শক্তপোক্ত চাকা। লম্বালম্বি ভাবে চাকার যে স্থান মাটিতে স্পর্শ করে, পুলির সেই স্থানের মাঝখানটায় গর্তটা থাকে, আর দু-পাশে থাকে উঁচু। গর্তের মধ্যে চক্রকে ঘিরে থাকে একটা দড়ি। যার এক প্রান্তে ওপর থেকে নিচের দিকে টান দেওয়া হয়। আর অপর প্রান্তে থাকে 'ভার' (যে বস্তুকে নিচ থেকে ওপরে তোলা হয়)।

কপিকলের কেন্দ্রে থাকে একটা লম্বা দণ্ড বা অ্যাক্সেল। একে কেন্দ্র করে কপিকল অবাধে ঘুরতে পারে। কপিকল, তোমার বল প্রয়োগের দিককে ঠিক উলটো করে দেয়। অর্থাৎ তুমি সরাসরি নিচ থেকে ওপরে দড়ির সাহায্যে কোনো বস্তুকে তুলতে চাইলে, বস্তুটি উঠবে উপরের দিকে কিন্তু তোমার বল প্রয়োগ করতে হচ্ছে নিচের দিকে। কপিকল তুমি আর কোথায় কোথায় ব্যবহার করতে দেখেছ তা পাশে লিখে ফেলো।


চক্র ও অক্ষদণ্ড 🛠️

একটা পিচবোর্ড কেটে বৃত্ত তৈরি করো। বৃত্তটার কেন্দ্র দিয়ে পেন্সিল বা পেন আঁটসাঁটভাবে প্রবেশ করাও। প্রয়োজনে বৃত্ত ও পেন্সিলের (বা পেনের) সংযোগস্থলে আঠা ব্যবহার করো। দেখো তোমার বানানো জিনিসটার সঙ্গে স্ক্রু-ড্রাইভার, রেডিউসার নব, ট্যাপের মাথার অংশের অনেক মিল আছে।

📌 ওই বৃত্ত আর পেন্সিল বা পেন দিয়ে তুমি আসলে বানিয়ে ফেলেছ একটি সরল যন্ত্র। এই যন্ত্রকে বলে চক্র ও অক্ষদণ্ড

ওই পিচবোর্ডের বৃত্তটা হলো চক্র। পেন্সিল বা পেনটা হলো অক্ষদণ্ড

এই চক্র ও অক্ষদণ্ড উভয়েই একসাথে তাদের একই কেন্দ্র দিয়ে যাওয়া স্থির অক্ষকে কেন্দ্র করে অবাধে ঘুরতে পারে। এই অক্ষকে ঘূর্ণন অক্ষ বলে।

চক্রটিতে অপেক্ষাকৃত কম বল প্রয়োগ করে বেশি পাঠ অতিক্রম করা যায়।


🔬 পরিবেশ ও বিজ্ঞান

💡 আর, কোথায় কোথায় চক্র (wheel) ও অক্ষদন্ডের (axle) ব্যবহার তুমি দেখেছ তা নীচে লেখো।


🛠️ যন্ত্রের পরিচর্যা (Machine Maintenance)

🤔 তবে দেখো তো...

  • তুমি প্রতিদিন স্নান করো কেন? দাঁত মাজো কেন?
  • বাড়ির নিয়মিত পরিষ্কার রাখা হয় কেন?
  • লোহার জিনিসপত্র নিয়মিত রং করা হয় কেন?
  • খাতা-বই মলাট দিয়ে রাখা কেন?

আমরা এরকম নানা কাজ করি। নিজেদের, সমাজকে, নানা জিনিসপত্রকে ক্ষয়, ক্ষতি, দূষণ, ব্যাধি ইত্যাদির হাত থেকে রক্ষা করাই এর মূল উদ্দেশ্য

📌 যন্ত্রেরও তাই দরকার হয় নিয়মিত যত্ন বা পরিচর্যা। এসো, আলোচনা করি, কীভাবে যন্ত্রের পরিচর্যা করা যায়:

  1. ঘর্ষণ কমানো: ⚙️ যন্ত্রের যে অংশ চলমান বা ঘূর্ণায়মান, সেই অংশে ঘর্ষণ বেশি হয়। ফলে সেই অংশ দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে। তাই ঘর্ষণ কমাতে ওই অংশে পিচ্ছিল তেল বা গ্রিজ লাগানো উচিত।
  2. মরিচা রোধ: 💧 লোহার তৈরি যন্ত্র বা যন্ত্রাংশকে জলীয় বাষ্পের হাত থেকে রক্ষা করা দরকার। তা না হলে মরচে (জং) ধরে তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তেল রং (সিন্থেটিক এনামেল) করেও মরিচার হাত থেকে লোহার যন্ত্র বা যন্ত্রাংশকে রক্ষা করা যায়।
  3. নিয়মিত পরিষ্কার: ✨ কাঁচের ও অন্যান্য যন্ত্রকে নিয়মিত পরিষ্কার করে রাখা দরকার।

পৃষ্ঠা ১৪০

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel