Academy

৭। জলদূষণ (৬৭)

৭। জলদূষণ (৬৭) - WBBSE - Class 7 - ভূগোল

0

💧 জলদূষণ

🚶‍♀️ স্কুলের পথে এক অভিজ্ঞতা

  • স্কুলে যাওয়ার পথে জুনি, রেহান, আর সাহানা রাস্তার ধার ধরে হাঁটছিল। রাস্তার একধারে খাল। খালের জলটা কালো, আবর্জনায় ভর্তি আর তা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে! জুনি বলল— দেখেছিস খালের জলটা পচে গেছে!

  • বর্ষাকালে তোমার গ্রামে বা পাড়ায় দূষিত জল ব্যবহার করে কি কেউ কলেরা, আমাশয়, আন্ত্রিক, জন্ডিস, টাইফয়েড, পোলিও—এইসব রোগে ভুগেছে?

💡 জলে বিভিন্ন অবাঞ্ছিত রাসায়নিক বা জৈব পদার্থ, জীবাণু মিশে গিয়ে জল মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর ব্যবহারের অযোেগ্য হয়ে গেলে এবং জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে গেলে জল দূষিত হয়।

  • বিটুদের পুকুরে এক সময় পরিষ্কার জল টলটল করত। পাড়ার ছেলে মেয়ে বুড়ো সকলেই ঐ পুকুরে স্নান করত, কাপড় কাচত। কিন্তু এখন তা আবর্জনা, শ্যাওলা, কচুরিপানায় ভরে গেছে। মাছ মরে ভেসে উঠছে।

  • রফিক মালদায়, তার দাদুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে দেখল—গ্রামের নলকূপের জল কেউ ব্যবহার করছে না। জলে আর্সেনিক আছে। গ্রামে অনেকেরই এই জল খেয়ে হাত-পায়ে কালো পচা ঘা হয়েছে।

  • তোমার বাড়ির অ্যাকোরিয়ামের জলে যদি কোনও ভাবে একটু ফিনাইল বা কেরোসিন তেল মিশে যায়, তবে কি মাছগুলো আর বেঁচে থাকবে?

🏞️ বিভিন্ন প্রকারের জলদূষণ

নদীর জলদূষণ

জলাশয়, হ্রদ জলদূষণ

সমুদ্রের জলদূষণ

ভূগর্ভের জলদূষণ


📜 পিকলুর ডায়েরি

নদীমাতৃক আমাদের এই দেশে আমরা মাতৃজ্ঞানে গঙ্গা নদীকে পুজো করি। কিন্তু এখন এই নদীর জল খেলে অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। গত কয়েক দশকে গঙ্গা নদীর দুই তীরে অসংখ্য কলকারখানা, শহর, নগর, জনবসতি গড়ে ওঠার ফলে প্রচুর বিষাক্ত আবর্জনা এই নদীর জলে মিশে জলকে দূষিত করেছে। কৃষ্ণা, কাবেরী, গোদাবরী, যমুনা নদীরও একই অবস্থা। পৃথিবীর বিখ্যাত নদীগুলো যেমন হোয়াংহো, টেমস, মিসিসিপি- সবই অতিমাত্রায় দূষিত।

🤔 ভেবে দেখো!

পৃথিবীর চারভাগের তিনভাগই জলে ঢাকা, তবুও পৃথিবীর অন্যতম সমস্যা পানীয় জল বা বিশুদ্ধ স্বাদু জলের অভাব। আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, দঃ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে চরম জল সংকট দেখা গেছে। এর অন্যতম কারণ জলের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং জলদূষণ। পৃথিবীর মোট ১০০ ভাগ জলের ৯৭ ভাগই সমুদ্রের নোনা জল। বাকি ৩ ভাগ স্বাদু জলের ২ ভাগই হিমবাহের বরফ হিসাবে রয়েছে। বাকি ১ ভাগ স্বাদুজল হলো নদী জলাশয়, হ্রদ, এবং ভূ-গর্ভের জল।

🗺️ জল সঙ্কট পূর্ণ রাজ্য

  • রাজস্থান
  • উত্তর প্রদেশ
  • মধ্যপ্রদেশ
  • ছত্তিশগড়
  • গুজরাট
  • অন্ধ্র প্রদেশ
  • মহারাষ্ট্র
  • তামিলনাড়ু

📊 বুঝে দেখো

পৃথিবীর মোট জলকে ২ লিটার ধরে, তার থেকে ১২ চামচ জল তুলে নিলে, এই টুকুই হবে পৃথিবীর মোট স্বাদু জল। বাকিটা সমুদ্রের নোনা জল। এই ১২ চামচ জল কী ভাবে কোথায় আছে:

  • হিমবাহ - ৯ চামচ
  • ভূগর্ভের জল - ২ চামচ
  • স্বাদু জলের হ্রদ - ১/২ চামচ
  • নদীর জল - ১/২ চামচ

💧 স্বাদু জলের হিসেব নিকেশ

  • ভৌমজল: ২৯%
  • হ্রদ ও নদী: ১%
  • হিমবাহ: ৭০%

📌 স্বাদু জল সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। সমুদ্রের জল ৯৭%


🗺️ ভূগোল: জলদূষণের উৎস ও কারণ

বর্তমানে জনসংখ্যা যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শহরাঞ্চলের বিস্তার, শিল্প কারখানা, যানবাহন। এর ফলে প্রচুর পরিমাণে (দূষিত, বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ, বিভিন্নরকম জীবাণু সংক্রমিত নোংরা, জঞ্জাল, মল-মূত্র) বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার জলের সঙ্গে মিশে জল দূষিত করছে।

উৎসকী ভাবে জল দূষিত হয়
(১) শিল্পকারখানা থেকে জলদূষণপেট্রো-রাসায়নিক শিল্পে, পলিথিন-প্লাস্টিক শিল্পে, জ্বালানি শিল্পে খনিজতেল পরিশোধন শিল্পে, বিভিন্নরকম যানবাহন নির্মাণ, ছোটো ও মাঝারি ইলেকট্রিকাল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে প্রচুর পরিমাণে দূষিত রাসায়নিক পদার্থ, যেমন- অ্যামোনিয়া, ক্লোরিন, ফেনল, সায়ানাইড এবং বিভিন্ন ধাতু, জিঙ্ক, পারদ, সিসা, ক্রোমিয়াম ঘটিত দূষক নালা, নর্দমা দিয়ে নদী বা সমুদ্রের জলে মিশে জল দূষিত করছে।
(২) গৃহস্থালী থেকে জলদূষণগ্রাম এবং শহর এলাকার বিভিন্ন আবর্জনা ও বর্জ্য পদার্থ যেমন গৃহস্থালীর দৈনন্দিন রান্না খাবারের টুকরো, দূষিত বস্তু, শৌচাগারের মল-মূত্র, সাবান, ডিটারজেন্ট, ফিনাইল প্রভৃতি নিকাশি নালার মাধ্যমে ভূগর্ভের জলে, নদীতে, জলাশয়ে পড়ে জলকে দূষিত করে তোলে। এছাড়াও বিভিন্ন খাটাল, পশুশালা, বড়ো বাজার, হাসপাতাল, চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে উৎপন্ন বর্জ্য জলকে দূষিত করে।
(৩) কৃষিক্ষেত্র থেকে জলদূষণচাষের খেতে বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক সার, কীটনাশক, আগাছানাশক ব্যবহার করা হয়। বৃষ্টির জলে ধুয়ে এই সমস্ত বিষাক্ত রাসায়নিক ভূগর্ভের জলে, জলাশয়ে, নদীতে মিশে জল দূষিত করে। এই সারে থাকা নাইট্রেট-এর কারণে ক্যান্সার হতে পারে, শিশুদের মাথায় রক্ত চলাচলে অসুবিধা ঘটায়।
(৪) তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে দূষণপারমাণবিক চুল্লি, চিকিৎসাকেন্দ্র বা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো ব্যবহারের পর সমুদ্রে বা নদীতে ফেলা হয়। পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর তেজস্ক্রিয় পদার্থ জলে মিশে জলদূষণ ঘটায়।

🚱 জলদূষণ: অন্যান্য কারণ

উৎসকী ভাবে জল দূষিত হয়
(৫) খনিজ তেল থেকে দূষণদুর্ঘটনাগ্রস্ত তেলবাহী জাহাজ থেকে অথবা সমুদ্রে অবস্থিত তেলের খনির তেল সমুদ্রে মিশে জলদূষণ ঘটায়।
(৬) তাপীয় দূষণতাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কারখানায় ব্যবহৃত উষু দূষিত বর্জ্য জল সরাসরি জলাশয়ে, নদীতে মিশে জলে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয় ও জলদূষণ ঘটায়।
(৭) বায়ুদূষণের কারণে জলদূষণকলকারখানা এবং যানবাহনের ধোঁয়ার মাধ্যমে বাতাসে সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেনের অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ইত্যাদি জমা হয়। বৃষ্টির জলের সঙ্গে সালফার ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড বিক্রিয়া করে বিভিন্ন জলাশয়ের জলকে আম্লিক করে দেয়।
(৮) আর্সেনিক দূষণমাটির নীচের স্তর থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অতিরিক্ত জল তুলে নেওয়ার ফলে মাটির নীচের ফাঁকা জায়গায় আর্সেনিকের যৌগ বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিষাক্ত যৌগ তৈরি করে। এই যৌগ জলে মিশে নলকূপের জলের মাধ্যমে পানীয় জলে মিশে যায়; জলে ফ্লুওরিনের যৌগ, ক্লোরিন অতিরিক্ত পরিমাণে থাকলেও জল দূষিত হয়।

🔬 খুদে বিজ্ঞানীরা ভেবে দেখো!

কোন ঘটনাগুলোর প্রভাবে কোন ধরনের জলদূষণ ঘটল ঠিক বুঝতে পারবে।

  1. ১৯৩২ সালে জাপানে মিনামাটা উপসাগরের উপকূলে একটা রাসায়নিকের কারখানা থেকে পারদযুক্ত তরল বর্জ্য সমুদ্রে ফেলা হয়। এই মারাত্মক পারদ দূষণে প্রায় ৩০ বছর ধরে অসংখ্য মানুষ এবং জীব জন্তু মারা যায়।
  2. উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় কুয়েতে প্রচুর তেলের কূপ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। প্রচুর পরিমাণে খনিজ তেল পারস্য উপসাগরের জলে মিশে অসংখ্য সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু হয়।

🌍 ভূগোল: জলদূষণের বাস্তব উদাহরণ

  1. হলদিয়া পেট্রো-রসায়ন শিল্প গড়ে ওঠার পর থেকে হলদি নদীর মোহনায় ইলিশ মাছের আনাগোনা কমে গেছে।
  2. পূর্ব কলকাতার জলাভূমির মাছের ভেড়িগুলোতে মাছ চাষ কমে গেছে। কেরালায় কুটুনারে, ওড়িশার চিলকায়, অন্ধ্রপ্রদেশের কোলেবুতে কীটনাশক থেকে প্রচুর মাছ মারা গেছে।

📝 পিকলুর ডায়েরি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জলবাহিত রোগ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সারা বিশ্বের প্রতি বছর প্রায় ৩০ লক্ষ শিশু ডায়রিয়া ও অন্যান্য জলবাহিত সংক্রামক অসুখে মারা যায়। জানো কি শুধু তিনটে জরুরি বিষয় মেনে চললেই জলবাহিত সংক্রমণ প্রায় আটকানো যায় :

  1. বিশুদ্ধ পানীয় জল খাওয়া।

  2. সাধারণ কিছু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা (যেমন, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, পরিষ্কার পাত্রে জল রাখা ইত্যাদি)।

  3. শৌচাগারের ব্যবহার করা এবং নোংরা আবর্জনা ঠিকভাবে ফেলা।

  4. পশ্চিমবঙ্গের মালদা, নদিয়া, হুগলি, হাওড়া, বর্ধমানে উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মাটির নীচের জলে অনেক বেশি মাত্রায় আর্সেনিক রয়েছে। এর ফলে হাতের চেটো ও পায়ের তলায় যে কালো কালো ক্ষত হয়, তাকে 'ব্ল‍্যাকফুট ব্যাধি' বলে। এছাড়াও চর্মরোগ, রক্তাল্পতা, যকৃৎ, ফুসফুস, ত্বকের ক্যানসারও হতে পারে। ফ্লুরাইড দূষণ থেকে 'ফ্লুরোসিস': দাঁত, হাড়ের সমস্যা, পারদ দূষণে মিনামাটা, ক্যাডমিয়াম দূষণে 'ইতাই-ইতাই' অসুখ হয়।

  5. সাবান, ডিটারজেন্টের ফসফেট (ক্ষার) বদ্ধ পুকুর, জলাশয়ের জলে মিশলে প্রচুর পরিমাণে শৈবাল, আগাছা, কচুরিপানা বেড়ে যায়। এর ফলে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গিয়ে মাছ ও জলজ প্রাণীরা মারা যায়। একে 'ইউট্রোফিকেশন' বলে।


🔍 জলদূষণ: অনুসন্ধান

অনেক তো জানা গেল। খুদে গোয়েন্দারা, এবার তদন্তে নেমে পড়ো।

  • পানীয় জল কোথা থেকে পাও?
  • পানীয় জলে কখনও ঘোলাটে ভাব, নোংরা, দুর্গন্ধ পেয়েছো?
  • পানীয় জল কী কোনো উপায়ে বিশুদ্ধ করে তবে ব্যবহার করো?
  • গত তিনমাসে তোমার বাড়িতে পাড়ায় বা তোমার ক্লাসে কি কেউ পেটের অসুখে ভুগেছে?
  • বাড়ির আবর্জনা, জঞ্জাল, কোথায় ফেলা হয়?
  • বাড়ির শৌচাগারের জল কোথায় মেশে?
  • বাড়িতে প্রতি মাসে কতটা সাবান, শ্যাম্পু বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা হয়?
  • বাড়ির আশপাশের পুকুরে, জলাশয়ে কাপড়কাচা গোরু-মোষ স্নান করানো হয়?
  • আশেপাশে চাষের জমি থাকলে খোঁজ নিয়ে দেখো সারা বছরে কোন প্রকার রাসায়নিক সার কতটা ব্যবহার করা হয়?
  • বাড়ি বা স্কুলের আশপাশে কোনো কারখানা থাকলে, জেনে দেখো কারখানার বর্জ্য জল কি শোধন করার ব্যবস্থা আছে?

💧 জলই জীবন...

  • রুকুদের এলাকায় দু-দিন ধরে জল আসছে না। রান্নার জল, স্নানের জল, খাবার জল প্রায় শেষ, অথচ পাশের পুকুরটা, ডোবাটা জলে ভর্তি। কিন্তু জলটা পচা, ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
  • এ বছর বন্যায় হাসানদের গ্রামটা জলে থৈ থৈ করছে। যেদিকে তাকানো যায় শুধু জল আর জল। অথচ হাসানদের খাবার মতো একটুকুও জল নেই।

💭 এইরকম পরিস্থিতিতে তুমি কী করবে ভেবে দেখো!

🕵️‍♂️ খুদে গোয়েন্দারা কাজে লেগে পড়ো!!

প্রথমে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, তারপর বিশ্লেষণ। তারপর সমস্যা ধরা পড়বে। সমস্যা থাকলে সমাধানও আছে। তোমরা যারা গ্রামাঞ্চলে বা মফস্সল থাকো আশপাশের পুকুর বা জলাশয় থেকে শুরু করতে পারো। জল কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, জলের অবস্থা কী রকম, জল দূষিত হচ্ছে কিনা, জল নষ্ট হচ্ছে কি না -সব খুঁজে দেখতে হবে! যা কিছু দেখলে সে বিষয়ে একটা রিপোর্ট তৈরি করে স্কুলে জমা দাও।


📊 সমীক্ষা করে দেখো। (পুকুর)

কতজন কী কারণে পুকুরের জল ব্যবহার করে লিখে ফেলো—

  1. তোমার গ্রামে বা পাড়ায় কতগুলো পুকুর আছে?
  2. এর মধ্যে কতগুলো পুকুর রোেজ ব্যবহার করা হয়?
  3. পুকুরের পাড়টা কেমন? (বাঁধানো/ভাঙা/আগাছায় ভর্তি)
  4. পুকুরের পাড়ে কি গাছপালা আছে? কী কী গাছ আছে?
  5. পুকুরের জলে বা পাড়ে কি পোকামাকড়, ছোটো প্রাণী দেখা যায়?
  6. জলের অবস্থা কেমন? (জল ঘোলা, লালচে সবুজ বা কালচে হয়ে গেছে/জল কমে গেছে। জল শুকিয়ে গেছে/প্রচুর পানা, আগাছায় ভরা/জলে দুর্গন্ধ আছে)
  7. পুকুরের জল দূষিত হয়ে থাকলে, তা কী কারণে হতে পারে? (গোরু, মোষ স্নান করানো/নিকাশি নালা বা শৌচাগারের জল পুকুরে পড়ছে/চাষের জমি থেকে সার, কীটনাশক/কারখানার বর্জ্য তেল, রং রাসায়নিক/প্রচুর ডিটারজেন্ট, সাবান মিশেছে/গৃহস্থালীর নোংরা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে)

✅ জল বিশুদ্ধ করা বেশ সহজ!

  • বর্তমানে ভারতের অধিকাংশ মানুষের কাছে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছোলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এখনও পানীয় জলের একমাত্র উৎস নদী বা পুকুরের জল!
  • ১০০°সে. উষ্ণতায় ১০ মিনিট ফোটালেই জলের বেশিরভাগ জীবাণু নষ্ট হয়ে যায়।
  • ঘোলা জলের ক্ষেত্রে সবথেকে সহজ উপায় হলো জলটা ঢাকা দিয়ে কয়েক ঘণ্টা রেখে দেওয়া, তাহলে জলের বেশিরভাগ কাদা বালির কণা থিতিয়ে পড়বে। তখন উপরের পরিষ্কার জলটা ব্যবহার করা যাবে।
  • নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্লোরিন জলে দিলেও জীবাণু নষ্ট হয়।

🧪 জল বিশুদ্ধকরণের সহজ পদ্ধতি

  • কড়াইশুঁটি, অড়হর ডাল, মুসুর ডাল এরকম কতকগুলো গাছ জলের নোংরাগুলোকে পাত্রের তলায় থিতিয়ে পড়তে সাহায্য করে।
  • কাঠকয়লা, সূক্ষ্ম বালি, নুড়ি পাথর-এর মাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে জল বিশুদ্ধ করা যায়।

🏡 সমীক্ষা করে দেখো (নলকূপ ও শহর)

  • নলকূপ, কুয়ো বা অন্যান্য পানীয় জলের উৎসের ১০ মিটারের মধ্যে কোনো শৌচালয় আছে কিনা অথবা জৈব বর্জ্য পদার্থ, মল-মূত্র, আবর্জনা, মৃতদেহ ফেলা হয় কি না।
  • তোমার বাড়ির কাছাকাছি কোনো নলকূপের চারপাশে কি জল জমে আছে?
  • কুয়োতে যে দড়ি, বালতি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো ঠিক মতো পরিষ্কার কিনা।
  • নলকূপ বা কুয়োর জল কি ঘোলাটে, গন্ধযুক্ত?

✍️ এবার এই সমীক্ষায় যে তথ্য সংগৃহীত হলো, সেগুলো গুছিয়ে নিয়ে, ছোটো একটা প্রবন্ধ লিখে ক্লাসে সবাইকে পড়ে শোনাতে পারো।

  • তোমরা যারা শহর বা শহরতলিতে থাকো, বাড়ি বা স্কুলের আশপাশে প্রায়ই দেখো মুখ খোলা বা মুখ-ভাঙা কল থেকে অনবরত জল পড়ে নষ্ট হচ্ছে!
  • এরকম কতগুলো কল কোথায় কোথায় আছে। তার একটা ধারণা মানচিত্র তৈরি করে ফেলো।
  • কাছাকাছি কোনো জল পরিশোধন কেন্দ্র থাকলে অথবা জল সরবরাহ কেন্দ্র থাকলে দেখে এসে তোমার অভিজ্ঞতার বর্ণনা লিখে স্কুলের পত্রিকায় দিতে পারো।
  • জলদূষণ জল সংরক্ষণ, জল এর পুনর্ব্যবহার সম্বন্ধে সুন্দর সুন্দর পোস্টার বানিয়ে স্কুল বা বাড়ির আশপাশের এলাকায় আটকে দিলে, জনসচেতনতা বাড়বে।

🚫 জলদূষণ প্রতিরোধ

জলদূষণ আটকানোর সঙ্গে সঙ্গে জলের অতিরিক্ত ব্যবহার কমানো এবং বেশি পরিমাণে পুনর্ব্যবহার করলে তবেই সারা পৃথিবীব্যাপী তীব্র জল সংকট মেটানো যেতে পারে।

  • জলাশয়, নদী বা সমুদ্রের জলে নোংরা আবর্জনা সরাসরি ফেলা যাবে না, গোরু-মোষ স্নান করানো, কাপড় কাচা বন্ধ করতে হবে।
  • চাষের ক্ষেতে অতিরিক্ত সার, কীটনাশক দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
  • শহর এবং কলকারখানার দূষিত, বর্জ্য জল শোধন করে তবেই নদী বা সমুদ্রে ফেলা উচিত। ব্যবহার করা জল পরিশোধন করে পুনর্ব্যবহার করতে হবে। ইজরায়েলে ব্যবহৃত জলের ৩০ শতাংশ সেচের কাজে পুনর্ব্যবহৃত হয়।
  • তাপবিদ্যুৎ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য গরম জল ঠান্ডা করে তবেই নদী বা সমুদ্রে ফেলা উচিত।
  • বিভিন্নরকম ব্যাকটিরিয়া, শৈবাল এবং রাসায়নিকের মাধ্যমে সমুদ্রে ভাসমান তেলের দূষণ দূর করা যায়।
  • নিরাপদ পানীয় জলের জন্য নলকূপের জলের দূষণ-এর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করে, বিশুদ্ধ জল সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।

💪 তুমি কী কী করতে পারো!

  • দরকার না থাকলে জলের কল বন্ধ করে রাখবে। এতে একদিকে যেমন বিশুদ্ধ জল নষ্ট হবে না। অন্যদিকে দূষিত জলের পরিমাণও কমবে।
  • পরিবেশের ক্ষতি করবে না এরকম জিনিস (যেমন কম ক্ষার বা ক্ষারহীন সাবান, শ্যাম্পু, ডিটারজেন্ট) ব্যবহার করবে।
  • বাড়ির নোংরা আবর্জনা, তরল বর্জ্য এমন জায়গায় ফেলা উচিত যাতে কোনোভাবে তা বিশুদ্ধ জলের সঙ্গে না মেশে।
  • বাগানে, পুকুরের পাড়ে, কুয়োের চারপাশে নলকূপের নিকাশি নালার ধারে শাকসবজি, ফুলফলের গাছ লাগালে একদিকে যেমন দূষিত জল অনেকটা পরিশুদ্ধ হয় আবার মাটির ক্ষয়ও আটকানো যায়।
  • রাষ্ট্র সংঘের মতে প্রতিটি মানুষের প্রতিদিন অন্তত ২০ লিটার বিশুদ্ধ জল প্রয়োজন হয়। কিন্তু আফ্রিকার মাদাগাস্কারের মানুষ প্রতিদিন ৫ লিটার জলও পায় না। অন্যদিকে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৫০ লিটারের বেশি জল ব্যবহার করে।
  • যদি তোমার পরিবারের সবার প্রতিদিন অন্তত ২০ লিটার বিশুদ্ধ জল পাওয়ার ব্যবস্থা হয়। তাহলে-
    • কীভাবে কতটা জল ব্যবহার করবে?
    • কীভাবে কতটা জল বাঁচাবে বা সঞ্চয় করবে?
    • কীভাবে কতটা ব্যবহার করা জল পুনর্ব্যবহার করবে?
  • জলদূষণ আটকাতে তুমি (বাড়িতে, পাড়ায়, স্কুলে) আর কী কী করতে পারো ভেবে নিয়ে লিখে ফেলো।
  • জলের পুনর্ব্যবহার আরও কীভাবে করা যেতে পারে জানার চেষ্টা করো।

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel