Academy

১। পৃথিবীর পরিক্রমণ (১)

১। পৃথিবীর পরিক্রমণ (১) - WBBSE - Class 7 - ভূগোল

0

🌍 পৃথিবীর পরিক্রমণ

একটা বল হাতে নিয়ে ছেড়ে দিলে কী হবে? 🏀

  • ঠিক ধরেছো। বলটা মাটিতে পড়ে যাবে। কারণ? পৃথিবীর ওপরে থাকা যে কোনো বস্তুকে পৃথিবী নিজের কেন্দ্রের দিকে টানে। এই জন্যেই তো আমরাও পৃথিবী থেকে ছিটকে যাই না, পৃথিবীর ওপরই থাকি। পৃথিবীর এই আকর্ষণ বল হলো মাধ্যাকর্ষণ (Gravity)

🤔 ভেবে দেখেছ?

পৃথিবীও তো একটা ভারী গোলক। পৃথিবীও যদি ওই বলটার মতো পড়ে যায়, তাহলে আমাদের কি হবে? পৃথিবী তাহলে কার দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে?


  • 💡 ভেবে দেখো, ভারী, হালকা সব জিনিসই -'নীচের দিকে' পড়ে, তাইতো?

🌍 কিন্তু 'নীচের দিক' কোনটা?

  • চারজনই বলবে যে, তার বলটা নীচের দিকে পড়ছে। এই 'নীচের দিক' হতে পারে নীচ থেকে, পাশ থেকে, ওপর থেকে - সবদিক থেকে!

🤯 কী কাণ্ড!!

ওপর থেকে কোনো জিনিস পৃথিবীর আকর্ষণের টানে নীচের দিকে পড়ে। তাহলে মহাশূন্যে কী হয়? মহাকাশেও কি আকর্ষণ কাজ করে?

  • আসলে সব বস্তুই পরস্পরকে আকর্ষণ করে, বা নিজের দিকে টানে। এটা হলো মহাকর্ষ (Gravitation)। এই টানাটানির খেলায়, যার 'ভর' বেশি, আর যে যত কাছে থাকে, তার আকর্ষণ তত বেশি হয়।

তাহলে কী হবে? 😲

  • পৃথিবী তাহলে কার দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে? তারার দিকে? তারারা তো অনেক দূরে আছে। তাহলে সূর্যের দিকে? -হ্যাঁ, সূর্য সবথেকে কাছের তারা, আর পৃথিবীর তুলনায় ১৩ লক্ষ গুণ বড়ো। তাহলে পৃথিবী কি সূর্যের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে? কিন্তু সূর্য যে জ্বলন্ত আগুনের গোলা!

🧠 বুঝেই দেখো ব্যাপারখানা

  • খুঁটির মাথায় ঘুরন্ত চাকার সঙ্গে বাঁধা দড়ি ধরে দৌড়ানোর এক রকম খেলা আছে। খেলেছো কখনো? অথবা, মেলায় গিয়ে নাগরদোলায় চড়েছো?

    • খুঁটি থেকে খানিকটা দূরে গিয়ে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে যদি পা দুটো মাটি থেকে তুলে, খুঁটিতে বাঁধা দড়িটা ধরে ঝুলতে চেষ্টা করো, তাহলে কী হবে?

      • সোজা ছিটকে গিয়ে পড়বে খুঁটির গায়ে।
    • কিন্তু যদি দড়ি ধরে ছুটতে ছুটতে একপাশে সরে গিয়ে, তারপর পা দুটো মাটি থেকে তুলে দাও, তাহলে?

      • এবার খুঁটির চারিদিকে বন্ বন্ করে ঘুরতে থাকবে!
  • মহাকাশেও অনেকটা এইরকম ঘটে। সূর্য হলো খুঁটি, আর তুমি পৃথিবী। পৃথিবী যদি এক জায়গায় স্থির থাকতো, তাহলে সূর্যের টানে সোজা গিয়ে পড়ত সূর্যের ওপর। কিন্তু সৃষ্টির সময়েই পৃথিবী সূর্য থেকে কিছুটা দূরে সরে যায়। আর তারপর থেকে কোটি কোটি বছর ধরে সূর্যের আকর্ষণে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। মহাকর্ষের নিয়ম মেনে, এইভাবেই চাঁদও ঘুরছে পৃথিবীর চারদিকে। আর সূর্য? সূর্যও তার সৌরজগতের সব গ্রহ, উপগ্রহ সমেত আমাদের ছায়াপথ 'আকাশগঙ্গার' কেন্দ্রের চারিদিকে ঘুরছে!


🔄 পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি বা বার্ষিক গতি

  • পৃথিবী শুধুই সূর্যের চারিদিকে ঘোরে না। লাটুর মতো পাক খেতে খেতে ঘোরে। নিজের 'অক্ষের' চারিদিকে একপাক ঘুরতে বা আবর্তন করতে পৃথিবীর সময় লাগে ২৪ ঘণ্টা। যে কল্পিত রেখার চারিদিকে পৃথিবী আবর্তন করে, সেটাই পৃথিবীর অক্ষ (Earth's Axis)

    পৃথিবীর যে দুটি প্রান্তে এই কল্পিত অক্ষদণ্ডটি বেরিয়ে থাকার কথা, সেই প্রান্তদুটি হলো মেরু। ওপরের প্রান্তটা উত্তর মেরু, আর নীচেরটা দক্ষিণ মেরু। আর দুই মেরুবিন্দু থেকে সমান দূরে, পৃথিবীর মাঝ বরাবর পৃথিবীর বিষুবরেখা বা নিরক্ষবৃত্ত। আমাদের দেশ রয়েছে নিরক্ষবৃত্ত এবং উত্তর মেরুর মাঝের অঞ্চলে অর্থাৎ উত্তর গোলার্ধে।

📌 পৃথিবী নিজ অক্ষের ওপর আবর্তন করতে করতে, নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে (প্রায় ৩৬৫ দিন) সূর্যের চারিদিকে ঘোরে, বা পরিক্রমণ করে। এটাই পৃথিবীর পরিক্রমণ গতিবার্ষিকগতি বা পরিক্রমণ গতির বেগ সেকেন্ডে প্রায় ৩০ কিমি

💡 জানো কী?

কোনো বস্তুকে ওপরের দিকে ছুঁড়ে দিলে বস্তুটা কিছুটা ওপরে উঠেও মাধ্যাকর্ষণ-এর টানে নীচের দিকে পড়ে যায়।

কিন্তু সব সময় তা নাও হতে পারে। অনেক বেশি জোরে ছুঁড়লে, অর্থাৎ বস্তুর গতিবেগ খুব বেশি হলে, তা পৃথিবীর মহাকর্ষীয় আকর্ষণ কাটিয়ে বাইরে চলে যেতে পারে। কোনো বস্তুকে প্রতি সেকেন্ডে ১১.২ কিমি গতিবেগে ওপরের দিকে ছুঁড়তে পারলে [একে বলে 'মুক্তিবেগ' (Escape Velocity)] সেটা আর নীচের দিকে না পড়ে, মহাশূন্যে পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরতে থাকবে। রকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হয় এই মুক্তিবেগে।


🌌 পৃথিবীর কক্ষপথের উপবৃত্তটা কীরকম দেখতে?

পৃথিবী প্রায় ১৫ কোটি কিমি দূর থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবী যে পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, সেটাই পৃথিবীর 'কক্ষপথ'। এই কক্ষপথ মহাশূন্যে যে কাল্পনিক সমতলে অবস্থিত, সেটাই 'কক্ষতল'।


📚 জানলে ক্ষতি কী?

  • বিজ্ঞানী কোপারনিকাসের সময় থেকেই জানা যায়- বিভিন্ন গ্রহগুলো সূর্যের চারিদিকে ঘোরে। কিন্তু গ্রহগুলো ঠিক কীভাবে ঘোরে - এই সম্পর্কে বিজ্ঞানী কেপলার প্রথম গ্রহদের গতি সংক্রান্ত তিনটি সূত্র প্রণয়ন করেন।
  • কেপলারের প্রথম সূত্রে বলা আছে-

    “প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে এবং সূর্য ওই উপবৃত্তের একটি ফোকাসে থাকে।”

  • পৃথিবীর কক্ষপথের উপবৃত্তটা অনেকটা গোলাকার। তার সঙ্গে বৃত্তের পার্থক্য এতই সামান্য যে, কক্ষপথটা প্রায় বৃত্তের মতোই।

🧐 কিন্তু এই 'উপবৃত্ত' কীরকম হয়? 'বৃত্তের' সঙ্গে তার কতখানি পার্থক্য?

🎨 এঁকেই দেখো!

একটা পেনসিল, দুটো পিন, আর একটু সুতো লাগবে। সুতোর দুটো মুখে গিঁট দিয়ে লুপের মতো বানাও।

  1. প্রথমে একটা কাগজের ওপর পিন দুটো ছবির মতো করে আটকাও।
  2. এবার সুতোর লুপটাকে কাগজের উপর এমনভাবে রাখো, যাতে লুপটা পিন দুটোকে ঘিরে থাকে।
  3. এবার লুপটার ভিতরের দিকে পেনসিলটা বসিয়ে লুপটাকে টানটান রেখে কাগজের ওপর দিয়ে একপাক ঘুরিয়ে দাগ টেনে দেখো। কেমন লম্বাটে বৃত্ত হলো! এটাই উপবৃত্ত।
  • দুটো পিনকে কাছাকছি বা দূরে আটকে দিয়ে একইভাবে এঁকে দেখতে পারো। অনেকরকম উপবৃত্ত পাবে। কোনোটা ডিম্বাকার, কোনোটা খুব চ্যাপ্টা, লম্বা।
  • 💡 লক্ষ করে দেখো, কখন প্রায় বৃত্তাকার বা গোলাকার উপবৃত্ত হচ্ছে।

🌍 পৃথিবীর পরিক্রমণ

  • উপবৃত্তাকার কক্ষপথের একটা ফোকাসে সূর্য অবস্থান করে। একারণে পৃথিবী সূর্য প্রদক্ষিণের সময় সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবসময় সমান থাকে না। একসময়ে পৃথিবী সূর্যের বেশি কাছে আসে আবার একসময় দূরে চলে যায়।

☀️ কখন আমরা সূর্যের বেশি কাছে আসি?

  • জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত পৃথিবী সূর্য থেকে ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকে।
  • ৪ জুলাই সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয় (প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি)। একে পৃথিবীর অপসূর অবস্থান (Aphelion) বলা হয়। আবার জুলাই থেকে বাকি ছমাসে দূরত্ব ক্রমশ কমতে থাকে।
  • ৩ জানুয়ারি সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে কম হয় (প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি)। একে পৃথিবীর অনুসূর অবস্থান (Perihelion) বলা হয়।

⏰ টিক্ টিক্ টিক্ - সময় মাপো ঠিক!

ঢং ঢং ঢং করে ছুটির ঘণ্টা পড়ল! পরের দিন আবার ঠিক সময়ে স্কুল শুরু হবে, আর ঘণ্টা পড়ার আগে স্কুলে পৌঁছোতে হবে।

  • ঘড়ি না থাকলে, সময়কে মাপার কোনো উপায় না থাকলে কি ঠিক সময়ে স্কুলে পৌঁছোতে পারবে?
  • ঘড়ি থেকে তো কটা বাজে জানা যায়। কিন্তু কত তারিখ, কোন মাস, কোন বছর কীভাবে জানা যায়? ঠিক ধরেছ, ক্যালেন্ডার! এই ক্যালেন্ডারে তারিখ, মাস, বছর সব ঠিক ঠিক কী করে লেখা থাকে ভেবে দেখেছ?

🕰️ প্রাকৃতিক ঘড়ি

সময়কে মাপার তিনটে প্রাকৃতিক উপায় আছে।

  1. প্রথম উপায়টা খুব সহজ। ২৪ ঘণ্টায় একবার করে দিন এবং রাতের পর্যায়ক্রম।

    • পৃথিবী নিজ অক্ষের ওপর ঘুরতে ঘুরতে কখনও সূর্য থেকে আমাদের আড়াল করে। আবার কখনও নিয়ে আসে সূর্যের আলোর দিকে। আসলে বিশাল একটা জাহাজের মতো পৃথিবীটা সূর্য কিরণের নীচে ধীরে ধীরে ঘুরছে। পৃথিবীর যে দিকটা সূর্যের দিকে থাকে, সেদিকে হয় দিন, বাকি অর্ধেকটায় তখন রাতের অন্ধকার।

    📜 জানো কী? সভ্যতার শুরু থেকে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ এভাবেই দিন রাতের আসা যাওয়া, চাঁদের বাড়া-কমা প্রভৃতি দেখে সময়ের হিসাব রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সভ্যতার উন্নতির সাথে সাথে আরও বেশি নিখুঁতভাবে সময় মাপার প্রয়োজন হলো। ২৪ ঘণ্টার দিনকে ঘণ্টা, মিনিট, সেকেন্ডে ভাগ করা হলো। এখন ঘড়ি দেখে অনায়াসে বলে দিতে পারো এই সময় কটা বেজে কত মিনিট, কত সেকেন্ড হয়েছে।

  2. দ্বিতীয় উপায় --- পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদ পৃথিবীকে প্রায় ২৮ দিনে প্রদক্ষিণ করে। এই সময়টাকে 'চান্দ্রমাস' বলে। বর্তমানে ৩০ দিনে একমাস ধরা হলেও, কখনও ৩১ দিনে আবার ২৮ দিনেও একটা মাস হয়।

  3. তৃতীয় উপায় – পৃথিবীর সূর্য পরিক্রমণ। পৃথিবী সূর্যকে প্রায় ৩৬৫ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে। এই সময়টাকে 'সৌর বছর' ধরা হয়। পরিক্রমণ গতির সময়কে ধরে বছর গণনা করা হয় বলেই একে 'বার্ষিক গতি'ও বলা হয়।

☀️ সূর্যঘড়ি বানিয়ে ফেলো

  1. সমতল জায়গায় একটা সাদা কাগজ মাটিতে বিছিয়ে রাখো।
  2. একটা লম্বা লাঠি কাগজের মাঝখানে খাড়া করে পুঁতে দাও।
  3. এবার একটা রোদের দিনে সূর্য ওঠার ঠিক পরে লাঠির ছায়াটাকে দেখো। পেনসিল দিয়ে ছায়া বরাবর দাগ টেনে ফেলো। সূর্যাস্ত পর্যন্ত একঘণ্টা পর পর ছায়া বরাবর দাগ টেনে যাও। দাগগুলোর পাশে পাশে ঘড়ি দেখে সময়টাও লিখে রাখো। দিনের যেকোনো সময়ে ঐ সূর্যঘড়িটা দেখেই তুমি সময় বলে দিতে পারবে!
  • লক্ষ করে দেখো কখন লাঠির ছায়াটা সবথেকে ছোটো হয়?- (সকালে/দুপুরে/বিকেলে)
  • কখন সবথেকে লম্বা হয়?- (সকালে/দুপুরে/বিকেলে)

🌍 পৃথিবীর পরিক্রমণ

💬 বলো দেখি?

  • সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবী কতবার নিজ অক্ষের ওপর আবর্তন করে?
  • কত মিনিটে ১ দিন বা ২৪ ঘণ্টা হয়?

💡 সূত্র: ১ ঘণ্টায় ৬০ মিনিট আর ১ মিনিটে ৬০ সেকেন্ড হয়।


🗓️ খেয়াল করেছ?

২৯ ফেব্রুয়ারি- তারিখটা কি প্রতিবছর ক্যালেন্ডারে পাও? কিন্তু কোনো কোনো বছর ফেব্রুয়ারি মাসটা ২৮ দিনের বদলে ২৯ দিনে হয়। তাহলে ২৯ ফেব্রুয়ারি কারো জন্মদিন হলে কী হবে?

🧐 জানো কী?

কাদের মাথায় অধিবর্ষের ব্যাপারটা প্রথম এল? মিশরীয়রা প্রথম একটা অতিরিক্ত দিন যোগ করে হিসাব ঠিক রাখার উপায় আবিষ্কার করে!


📅 কেন এমন হয়?

আমাদের ক্যালেন্ডারের এক বছর (৩৬৫ দিন) আর পৃথিবীর একবার সূর্য পরিক্রমণের সময় (এক 'সৌর বছর' ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড) একই হওয়া উচিত। কিন্তু হিসাবের সুবিধার জন্য ৩৬৫ দিনে একবছর ধরা হয়। ফলে প্রতিবছর এই ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড সময় বাড়তি থেকে যায়। এই বাড়তি সময়ের হিসাব ঠিক রাখার জন্য প্রতি চার বছর অন্তর একটা পুরো দিন (২৪ঘণ্টা) যোগ করা হয় ক্যালেন্ডারে। ঐ একদিন ফেব্রুয়ারি মাসের সঙ্গে যোগ হয়ে মাসটা ২৯ দিনের, আর বছরটা ৩৬৬ দিনের হয়। ৩৬৬ দিনের বছরকে বলে অধিবর্ষ (Leap year)

✔️ কী করে বুঝবে?

📝 এ তো খুব সহজ! ঠিক ঠিক লিখে ফেলো

যে সমস্ত বছরকে (যেমন ২০১২ সাল) '৪' দিয়ে ভাগ করলে, ভাগশেষ থাকবে না, সেই বছরগুলো 'অধিবর্ষ' হবে। কিন্তু আরও একটা ব্যাপার আছে। চার বছর অন্তর পুরো একটা অতিরিক্ত দিন ধরে নিতে থাকলে কিছু সময় বেশি ধরে নেওয়া হয়। এই সমস্যা মেটাতে শতাব্দী বছরগুলোর (যেমন ১৯০০ সাল, ২০০০ সাল) জন্য অধিবর্ষের নিয়মটা একটু আলাদা করা হয়েছে। শতাব্দী বছরগুলোকে '৪০০' দিয়ে ভাগ করলে ভাগশেষ না থাকলে তবেই সেই বছর 'অধিবর্ষ' হবে।

সালঅধিবর্ষ হবে?
২০০৪
২০০০
২০১২
১৯০০
২০১৩
২১০০

🌍 পৃথিবীর পরিক্রমণ

🧒 সূর্য, পৃথিবীতে জীবনের উৎস। সূর্যের আলো, উত্তাপ ছাড়া বীজ অঙ্কুরিত হয় না, গাছপালা পল্লবিত হয় না। সমস্ত জীব জগৎ সূর্যের ওপর নির্ভরশীল। সূর্যে প্রতিমুহূর্তে হাইড্রোজেন গ্যাস হিলিয়াম গ্যাসে রূপান্তরিত হয়ে বিপুল শক্তি তৈরি হচ্ছে। এই শক্তির ২০০ কোটিভাগের ১ ভাগ আলো এবং উত্তাপরূপে প্রতিমুহূর্তে পৃথিবীতে এসে পৌঁছোচ্ছে।

  • স্কুল থেকে ফেরার পথে পিন্টু আর আলি একটা কাগজের ঠোঙার বল বানিয়ে খেলছিল। খেলতে খেলতে হঠাৎ আলির চোখে পড়ল - বল-এর কাগজে সুন্দর একটা ছবি আর কী সব লেখা। ...কোনো বইয়ের পৃষ্ঠা হবে হয়তো।

    এটুকু পড়েই আলির মাথায় একটা প্রশ্ন এল। সূর্য থেকে পৃথিবীতে প্রতি মুহূর্তে একই পরিমাণে আলো আর তাপ এসে পৌঁছোয়। তবে তো রোজই একই রকম গরম বা একইরকম ঠান্ডা পড়ার কথা। কিন্তু সারাবছর ধরে কখনো 'গরম', কখনো 'ঠান্ডা' এরকম হয় কেন?

  • আলির প্রশ্নের উত্তরটা খুঁজতে হবে তো!

  • ☀️ গ্রীষ্ম কেন শীতের থেকে গরম?

পৃথিবী নিজ অক্ষের ওপর ঘুরতে ঘুরতে উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবীর অক্ষটা কিন্তু পৃথিবীর কক্ষপথের সাপেক্ষে পুরোপুরি লম্ব নয়, কিছুটা হেলানো (কক্ষতলের সঙ্গে ৬৬½° কোণে অবস্থিত)। তাই পৃথিবীও কিছুটা হেলানোভাবে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। ফলে কক্ষপথের এক একটা জায়গায় পৃথিবীর এক একটা গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে।

❓ কেন হেলানো?

পৃথিবী সৃষ্টির সময়ে বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তুর সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই পৃথিবীর অক্ষের এই হেলানো অবস্থান --- এমনটাই বিজ্ঞানীদের ধারণা।


💡 বুঝে দেখো

🤔 ভেবে দেখেছো?

  • এক বালতি জল দুপুর রোদে আধঘণ্টা রেখে দিলেই গরম হয়ে যায়!!
  • সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়লে তা কম জায়গাকে অনেক বেশি উত্তপ্ত করে।
  • সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়লে বেশি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু কম উত্তপ্ত করে।

বলো তো, দিনের কোন সময়টা বেশি গরম লাগে?

  • → সকালে সূর্য ওঠার সময়? 🌅
  • → দুপুরে সূর্য যখন মাথার ওপর থাকে? ☀️
  • → সন্ধ্যায়- সূর্যাস্তের সময়? 🌇
  • → রাতে- সূর্যাস্তের পর? 🌃

🧪 পরীক্ষা করে দেখো

একটা অন্ধকার ঘরে টেবিলের ওপর বা সমতল মেঝের ওপর টর্চের আলো ফেলে দেখতে হবে। প্রথমে টর্চটা টেবিলের ১-২ ফুট ওপরে লম্বভাবে ধরে লক্ষ করো-

  1. টেবিলের ওপর যে আলোর বৃত্তটা তৈরি হয়েছে, সেটা কতটা জায়গা জুড়ে আছে?
  2. আর দেখো আলোটা কতটা উজ্জ্বল?

এবার টর্চটাকে একই উচ্চতায় রেখে একটু হেলিয়ে ধরো।

  1. দেখোতো এবার আলোকিত জায়গাটা বাড়ল কিনা?
  2. আর আলোটা আগের থেকে বেশি জোরালো না হালকা হলো?

🗓️ ঋতুগুলো কেন আসে?

যখন উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে, তখন উত্তর গোলার্ধে ক্রমশ দিনগুলো বড়ো আর রাত ছোটো হতে থাকে। অর্থাৎ দিনের আলো অনেকক্ষণ পাওয়া যায়। সারাদিন ধরে সূর্যের তাপে পৃথিবী উত্তপ্ত হয়। অথচ রাত ছোটো হওয়ায় তেমন ঠান্ডা হওয়ার সময় পায় না। দিনের পর দিন এরকম হলে গরম বাড়তে থাকে। এই সময়ে উত্তর গোলার্ধে সূর্যরশ্মি পড়ে অনেক লম্বভাবে। তাই সূর্যের তাপও হয় প্রবল। এসময় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল, আর দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল

আবার যখন দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে, উত্তর গোলার্ধে তখন ক্রমশ দিন ছোটো আর রাত বড়ো হতে থাকে। দিনের আলো বেশিক্ষণ থাকে না বলে পৃথিবী বেশিক্ষণ ধরে উত্তপ্ত হয় না, রাতে ঠান্ডা হওয়ার সময় বেশি পায়। এইসময় উত্তর গোলার্ধে সূর্যরশ্মি বাঁকাভাবে পড়ে, তাই কম উত্তপ্ত হয়। এসময় উত্তর গোলার্ধে শীতকাল আর দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল


☀️ সূর্যের বার্ষিক আপাতগতি রবিমার্গ

সারাবছর সূর্যটা কি আকাশের ঠিক একই জায়গায় ওঠে? হয়তো অনেকেই লক্ষ করেছ শীতকালে সূর্যটা পুব আকাশে একটু দক্ষিণ দিক ঘেঁষে আবার গ্রীষ্মকালে একটু উত্তর দিক ঘেঁষে ওঠে।

🤔 এরকম কেন হয়?

সূর্যের 'আপাতগতি' অর্থাৎ আপাতভাবে যা মনে হয়, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটে না। ঠিক যেমন চলন্ত বাস-ট্রেন থেকে মনে হয় গাছপালা ঘরবাড়ি সব পিছন দিকে সরে যাচ্ছে। অথবা নাগরদোলা চড়লে মনে হয় সবকিছু ঘুরছে।

তেমনি পৃথিবী পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে বলে আপাতদৃষ্টিতে সূর্যকে প্রতিদিন পুব আকাশ থেকে পশ্চিম আকাশে চলাচল করছে বলে মনে হয়। এটা সূর্যের দৈনিক আপাত গতি

হেলানো অক্ষের জন্য পৃথিবী কক্ষপথে এমনভাবে কাত হয়ে ঘোরে যে বছরের বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিষুবরেখা, কর্কটক্রান্তিরেখা (২৩½° উত্তর অক্ষরেখা) এবং মকরক্রান্তিরেখায় (২৩½° দক্ষিণ অক্ষরেখা) সূর্যের লম্বরশ্মি পড়ে। ফলে আপাতভাবে মনে হয় যে সূর্য পৃথিবীর বিষুবরেখা থেকে উত্তরে কর্কটক্রান্তি রেখা পর্যন্ত এবং দক্ষিণে মকরক্রান্তি রেখা পর্যন্ত চলাচল করে। এটাই সূর্যের বার্ষিক আপাতগতি বা রবিমার্গ (রবি = সূর্য, মার্গ = পথ)

📝 কীভাবে করবে?

প্রতি মাসের ১ বা ২ তারিখে সকালে দেখবে সূর্যটা কোথায় উঠছে। সেদিক বরাবর একটা লম্বা দাগ দিয়ে রাখবে।

  • নির্দিষ্ট মাস ➡️ সূর্য কোনদিক ঘেঁষে ওঠে
    • মার্চ --------
    • মে-জুন -------
    • সেপ্টেম্বর -------
    • নভেম্বর-ডিসেম্বর ---

📊 লক্ষ করেছ?

গরমকালে স্কুল থেকে ফিরে কতক্ষণ খেলা যায়। আর শীতকালে বিকেল হতে না হতেই সন্ধ্যা হয়ে যায়-

একটা খাতায় লিখে রাখতে পারলে ঠিক বোঝা যাবে— গরমকালে আর শীতকালে কতক্ষণ সূর্যের আলো থাকে।

একটা তালিকা বানিয়ে জুন মাসের প্রত্যেক সপ্তাহের একদিন করে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সময়টা লিখে ফেলতে হবে। আবার ডিসেম্বর মাসেও প্রত্যেক সপ্তাহের একদিন করে লিখে ফেলতে পারলেই নিজেই বুঝতে পারবে গরমকালে আর শীতকালে কতটা ছোটো-বড়ো হয় দিন-রাত।

দিনসূর্যোদয়সূর্যাস্তকত ঘণ্টা
মার্চ
জুন
সেপ্টেম্বর
ডিসেম্বর

🗺️ ভূগোল

💬 বলো তো

  • সূর্যের বার্ষিক আপাতগতি
  • দিন-রাতের ছোটো বড়ো হওয়া
  • ঋতু পরিবর্তন
    • কী কারণে হয়?

নীচের বিকল্পগুলির মধ্যে থেকে ঠিক উত্তরটি বেছে নাও।

  1. পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ
  2. পৃথিবীর হেলানো অক্ষ
  3. আবর্তন ও পরিক্রমণ গতি

(১, ২/২, ৩/১, ৩/১, ২, ৩)


🌸 গ্রীষ্ম শরৎ শীত বসন্ত 🍂

উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল

পৃথিবী তার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে ২১ মার্চ তারিখে এমন একটা জায়গায় চলে আসে যে বিষুবরেখায় লম্বভাবে সূর্যরশ্মি পড়ে। এই দিন পৃথিবীর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত সর্বত্রই দিন-রাত্রি সমান অর্থাৎ ১২ ঘণ্টা দিন এবং ১২ ঘণ্টা রাত হয়। সব জায়গায় স্থানীয় সময় অনুযায়ী সকাল ৬ টায় সূর্য ওঠে এবং সন্ধ্যা ৬ টায় অস্ত যায়। এই ঘটনাকে 'বিষুব' (Equinox) বলা হয় ('বিষুব' কথার অর্থ 'সমান দিন ও রাত্রি')।

🌍 বাংলা ক্যালেন্ডার দেখেছো? আমাদের দেশে ছটা ঋতু। কিন্তু নিরক্ষীয় অঞ্চল এবং মেরু অঞ্চল ছাড়া সারা পৃথিবীতে গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত, বসন্ত এই চারটি ঋতুই প্রধান। আমাদের দেশে গ্রীষ্মের পরে বর্ষা আর শরতের পর কিছুদিনের জন্য হেমন্তকাল আসে। গ্রীষ্ম, বর্ষা আর শীত এই তিনটে ঋতু আমাদের দেশে অন্য ঋতুগুলোর থেকে অনেক বেশি দিন থাকে।


🌍 পৃথিবীর পরিক্রমণ

দিন এবং রাত প্রায় সমান হওয়ায় এই সময়ে (মার্চ-এপ্রিল মাস) আবহাওয়াটাও থাকে গরম ঠান্ডার মাঝামাঝি। উত্তর গোলার্ধে এই সময় বসন্তকাল। তাই ২১ মার্চের 'বিষুব' কে উত্তর গোলার্ধে বসন্তকালীন বিষুব বা মহাবিষুব বলা হয়।

☀️ উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল

২১ মার্চের বিষুবের পর থেকে পৃথিবী ধীরে ধীরে এমন একটা জায়গায় আসতে থাকে যখন সূর্য রশ্মি ক্রমশ উত্তর গোলার্ধে লম্বভাবে পড়তে থাকে। এর ফলে উত্তর গোলার্ধে ক্রমশ দিন বড়ো (১২ ঘণ্টার বেশি) আর রাত ছোটো (১২ ঘণ্টার কম) হতে থাকে। সূর্যের উত্তরায়ণের এই সময়টা উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল

⏳ সূর্যঘড়ির ছায়া! ☀️

তোমার সূর্যঘড়িটায় ২১ মার্চ, ২১ জুন, আর ২২ ডিসেম্বরের দুপুর ১২ টায় সময় ছায়ার দৈর্ঘ্য মেপে দেখো।

কোনদিন সবথেকে ছোটো ছায়া পড়লো?--- কোনদিন সবথেকে বড়ো ছায়া পড়লো?----

🌍 'সংক্রান্তি' (Solstice) তখন এবং এখন

বছরের সবথেকে বড়ো আর সবথেকে ছোটো দিনদুটো প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন কারণে (বছর গণনা, শস্যরোপণ) গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখনও ভারত, আয়ারল্যান্ড, চিন, দক্ষিণ আমেরিকায় সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রচলিত।

২১ জুন পৃথিবী নিজ কক্ষপথে এমন একটা জায়গায় আসে যে উত্তর গোলার্ধে কর্কটক্রান্তি রেখার (২৩½° উত্তর অক্ষরেখা) ওপর লম্বভাবে সূর্যরশ্মি পড়ে। এই দিন উত্তর গোলার্ধে দিন সবথেকে বড়ো আর দক্ষিণ গোলার্ধে সবথেকে ছোটো হয়। সুমেরুবৃত্তে ২৪ ঘণ্টাই সূর্যকে দেখা যায়। আর কুমেরুবৃত্তে ২৪ ঘণ্টাই অন্ধকার থাকে। ২১ জুনকে 'কর্কটসংক্রান্তি' (Summer Solstice) বলা হয়।


🗺️ ভূগোল

🍂 উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল

২১ জুনের পর সূর্যের দক্ষিণায়ন শুরু হয়। সূর্যের লম্বরশ্মি ক্রমশ বিষুবরেখার দিকে সরতে থাকে। ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে কক্ষপথে পৃথিবী এমন একটা অবস্থানে আসে যে বিষুবরেখায় সূর্যের লম্বরশ্মি পড়ে। ফলে উত্তরমেরু থেকে দক্ষিণমেরু পর্যন্ত সর্বত্র দিন-রাত সমান হয়। ২১ মার্চ এর মতো এই দিনটাও বিষুব। এই সময়ে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস) আবহাওয়া ঠান্ডা গরমের মাঝামাঝি থাকে। উত্তর গোলার্ধে এই সময় শরৎকাল। একারণে ২৩ সেপ্টেম্বরের বিষুবকে শরৎকালীন বিষুব বা জলবিষুব বলে।

❄️ উত্তর গোলার্ধে শীতকাল

২৩ সেপ্টেম্বরের পর থেকে পৃথিবী ধীরে ধীরে এমন একটা অবস্থানে আসে যখন সূর্যের লম্বরশ্মি ক্রমশ দক্ষিণ গোলার্ধে পড়তে থাকে। ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে দিন বড়ো আর রাত ছোটো হতে থাকে। সূর্যের দক্ষিণায়নের এই সময়টা উত্তর গোলার্ধে শীতকাল আর দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল

২২ ডিসেম্বর পৃথিবী কক্ষপথের এমন অবস্থানে আসে যে দক্ষিণ গোলার্ধে মকরক্রান্তি রেখার (২৩½° দক্ষিণ অক্ষরেখা) ওপরে সূর্যের লম্বরশ্মি পড়ে। এই দিন দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবথেকে বড়ো আর উত্তর গোলার্ধে দিন সবথেকে ছোটো হয়। কুমেরুবৃত্তে ২৪ ঘণ্টাই সূর্যকে দেখা যায় আর সুমেরুবৃত্তে ২৪ ঘণ্টাই অন্ধকার থাকে। ২২ ডিসেম্বরকে মকরসংক্রান্তি (Winter Solstice) বলা হয়।

🎄 'বড়োদিন' কি আসলে বড়ো দিন?

খেয়াল করেছো 'বড়োদিন' বা যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন (২৫ ডিসেম্বর), ২২ ডিসেম্বর মকরসংক্রান্তির কয়েকদিন পরেই। আসলে ঐ সময় থেকে উত্তর গোলার্ধে আবার দিন বড়ো হতে শুরু করে। তাহলে উত্তর গোলার্ধে 'বড়োদিন' কি আসলে 'বড়ো' দিন?


🌠 'আলোকিত' রাত্রি 'অন্ধকার' দিন

ছোটোবেলা থেকে আমরা দেখে আসছি দিনের পর রাত আর রাতের পরে দিন বাঁধা নিয়মে আসে আর যায়। কিন্তু দিনের আলো আর রাতের অন্ধকারের পালাবদলের ব্যাপারটা পৃথিবীর সব জায়গায় আমাদের প্রচলিত ধারণার সঙ্গে মেলে না।

পৃথিবীর দুই মেরুবৃত্তে (৬৬½° উত্তর এবং ৬৬½° দক্ষিণ অক্ষরেখা থেকে সুমেরু এবং কুমেরু) সারাবছরই সূর্যের আলো বাঁকাভাবে পড়ে। মার্চ থেকে জুলাই-এই সময়টায় উত্তর গোলার্ধে সুমেরু-বৃত্তীয় অঞ্চলে সূর্য কখনোই দিগন্তের নীচ থেকে ওঠে না বা অস্ত যায় না। সূর্য প্রায় দিগন্তের সমান্তরালে আকাশের পূর্বদিক থেকে পশ্চিমদিকে চলাচল করে। এসময় ২৪ ঘণ্টাই একটানা দিনের আলো থাকে। অর্থাৎ স্থানীয় সময় অনুসারে তখন রাত হওয়া সত্ত্বেও সূর্যকে আকাশে দেখা যায়। আবার সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি এর সময়টাও একইভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে কুমেরুবৃত্তীয় অঞ্চলে এইরকম 'আলোকিত রাত্রি' সহ 'একটানা দিন' হয়।

☀️ মধ্যরাত্রির সূর্য

মার্চ থেকে জুন বা জুলাই-এই সময়ে কানাডা, ডেনমার্ক, আলাস্কা, নরওয়ে, সুইডেন, আইসল্যান্ড-এর অনেক জায়গা থেকে স্থানীয় সময় অনুযায়ী গভীর রাত্রিতে কিছু সময়ের জন্য দিগন্তরেখায় সূর্যকে দেখা যায়। নরওয়ের উত্তরে হ্যামারফেস্ট বন্দরে মে মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সূর্যকে রাতের বেলায় স্পষ্টভাবে দেখা যায় বলে একে মধ্যরাত্রির সূর্যের দেশ বলা হয়।


🗺️ ভূগোল

সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি-এই সময়ে কয়েক মাস সুমেরুবৃত্তীয় অঞ্চলে সূর্য একেবারেই ওঠে না। তখন দিনের পর দিন ২৪ ঘণ্টাই অন্ধকার থাকে। অর্থাৎ স্থানীয় সময় অনুযায়ী 'দিন' হওয়া সত্ত্বেও আকাশে সূর্যকে দেখা যায় না। আবার মার্চ থেকে জুন এই সময়ে কুমেরুবৃত্তীয় অঞ্চলেও এরকম 'অন্ধকার দিন' সহ একটানা রাত হয়।

💡 সুমেরু প্রভা (Aurora Borealis), কুমেরু প্রভা (Aurora Australis)

সুমেরু এবং কুমেরুতে আবার একটানা ছমাস দিন এবং ছ মাস রাত হয়। সূর্যের উত্তরায়ণের সময় সুমেরুতে টানা ছমাস দিন হয়। ঐ সময় কুমেরুতে ছমাস রাত হয়। দক্ষিণায়নের সময় কুমেরুতে টানা ছমাস দিন এবং ঐ সময় সুমেরুতে ছমাস রাত হয়। দুই মেরু অঞ্চলে একটানা রাত-এর সময় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে থাকে। আবার দিন-এর সময়টাও তাপমাত্রা খুবই কম থাকে।

দুই মেরু প্রদেশে একটানা রাত চলার সময় মাঝে মাঝে আকাশে রংধনুর মতো রঙিন আলোর জ্যোতি (অরোরা) দেখা যায়। বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন আয়নিত গ্যাসের সঙ্গে সূর্যরশ্মির সংঘর্ষের ফলে মেরু অঞ্চলের আকাশে এরকম বিচ্ছুরিত আলোর সৃষ্টি হয়।


🧠!! মগজাস্ত্র!!

  • 🤔 ভেবে দেখো, ঠিক পারবে।
  • পৃথিবীর অক্ষটা যদি পৃথিবীর কক্ষের ওপর লম্ব হতো? (বৃহস্পতির অক্ষটা এরকমই কক্ষের ওপর লম্ব)
  • পৃথিবীর অক্ষ যদি কক্ষপথের সমতলে থাকতো? (ইউরেনাস এর অক্ষটা এরকমই) – এই দুটো ক্ষেত্রে দিন-রাত এবং ঋতুপরিবর্তন কেমন হতো বলো তো?
  • পৃথিবীর কোথায় সারাবছরই দিন রাত সমান থাকে?
  • ২১ মার্চ তারিখে স্থানীয় সময় অনুযায়ী কটার সময় টোকিয়ো, কলকাতা, সিডনিতে সূর্য উঠবে?
  • ৪ জুলাই, ২৫ জানুয়ারি, ২০ সেপ্টেম্বর বিষুবরেখার যে কোনো জায়গায় কখন সূর্য উঠবে?
  • ২৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময়ে কটার সময় নিউ ইয়র্ক, দিল্লি, কায়রোতে সূর্য ডুববে?

🎭 ঋতুবৈচিত্র্য ও আমরা

রিয়া আর পিন্টু মিলে এই ছবিটা এঁকেছে। তুমিও তোমার মতো এঁকে ফেলো ঋতুগুলো ও তার ফল, ফুল, সবজি, গাছপালা, বিভিন্ন উৎসব, খাবার দাবার।

🌍 ঋতুবৈচিত্র্য প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-সময় গণনা, ক্যালেন্ডার তৈরি, কৃষিকাজ, অন্যান্য জীবিকা, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব সবই ঋতুনির্ভর। উদ্ভিদ-প্রাণীর সঠিক বৃদ্ধি, বিকাশ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্যও ঋতু পরিবর্তন প্রয়োজনীয়। সারাবছর ধরে ঋতুগুলোর যাওয়া আসার ফলে আমাদের জীবনে বৈচিত্র্য, উৎসাহ আসে যা আমাদের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করে।

🔄 ভেবে দেখেছো, উত্তর আর দক্ষিণ গোলার্ধে ঋতুগুলো উল্টো ??

বিশেষ দিনউত্তর গোলার্ধঋতু অনুযায়ী ফুল, ফল, উৎসবের নামদক্ষিণ গোলার্ধ
২১ মার্চদিন-রাত্রি সমান হয়বসন্তকাল, পলাশ, জলপাই, হোলিদিন-রাত্রি সমান, শরৎকাল
২১ জুনসবচেয়ে বড়ো দিন, গ্রীষ্মকালসবচেয়ে ছোটো
২৩ সেপ্টেম্বরশরৎকালশিউলি, কাশ, আতা, দুর্গাপূজোবসন্তকাল
২২ ডিসেম্বরসবচেয়ে ছোটো দিন, শীতকালসবচেয়ে বড়ো দিন

🧩 মজার খেলা-শব্দ সন্ধান

উপরনীচ

  1. সূর্যের আপাত বার্ষিক গতি
  2. পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব সব থেকে কম হয় যে অবস্থানে।
  3. পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব সব থেকে বেশি হয় যে অবস্থানে।
  4. এই বলের জন্য পৃথিবী সমস্ত কিছুকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে।

পাশাপাশি

  1. মেরু প্রভার অপর নাম।
  2. সমান দিন ও রাত্রি।
  3. বার্ষিক গতির অপর নাম।
  4. উত্তর মেরুকে যা বলে।
  5. যে বছরে ৩৬৬টা দিন থাকে।

🧪 হাতে কলমে

  • কোন কোন ঋতুতে বেশিরভাগ দিন নীল আকাশ দেখা যায়?
  • কোন ঋতুতে মাঠের মাটি ফেটে যায়?
  • কোন ঋতুতে পুকুরগুলো জলে ভর্তি থাকে?
  • কোন কোন ঋতুতে বন্যার সম্ভাবনা থাকে?
  • কোন কোন ঋতুতে ডোবা, খাল, বিল ছেঁচে মাছ ধরা হয়?
  • কোন ঋতুতে সূর্য পূর্ব আকাশের সবথেকে দক্ষিণ ঘেঁষে ওঠে?
  • কোন ঋতুতে দুপুর ১২টায় ছায়ার দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি হয়?
  • কোন ঋতুতে খুব কোকিল ডাকে?
  • উত্তর গোলার্ধে কোন ঋতুতে সবথেকে বড়ো দিন হয়?
  • ২৫ ডিসেম্বর 'বড়োদিন' এ দক্ষিণ গোলার্ধে গরম না ঠান্ডা?
  • বিজ্ঞানীরা আন্টার্কটিকা মহাদেশ অভিযানে ডিসেম্বর মাসে কেন যান?
  • জুলাই না জানুয়ারি কোন মাসে আমরা সূর্যের বেশি কাছে আসি?

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel