৪। ভূমিরূপ (৩৭)
৪। ভূমিরূপ (৩৭) - WBBSE - Class 7 - ভূগোল
ভূমিরূপ 🌍
'বসে আঁকো' প্রতিযোগিতায় আমাদের রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেলেমেয়েরা এসে জড়ো হয়েছে কলকাতায়। হাসান শেখ, সোহা মুর্মু, বরুণ তামাং, এলিনা রায়—আরও কত সব নাম। প্রত্যেকেই তার নিজের নিজের অঞ্চলের ছবি এঁকেছে।
- বরুণের ছবি 🏞️
- সোহার ছবি ⛰️
- এলিনার ছবি 🌉
🤔 তোমার বাড়ির আশপাশের অঞ্চলটা কি এই ছবিগুলোর কোনোটার মতো?
📌 আমাদের এই পৃথিবীর উপরটা (ভূ-পৃষ্ঠ) সব জায়গায় একইরকম নয়। কোথাও উঁচু, কোথাও ঢেউ খেলানো আবার কোথাও বা নীচু সমতল। পৃথিবীপৃষ্ঠের ভূমির এই বৈচিত্র্যই হলো 'ভূমিরূপ' (Landform)।
একটা মজার খেলা 🎲
- ছবিগুলো দেখে খিদে খিদে পাচ্ছে? কিন্তু মজার খেলাটা খেলতে হবে তো!
- একটা চৌকো কাগজকে উপরের দিকটা ভাঁজ করে তিনকোণা করো।
- লক্ষ করো উপরের দিকটা কেমন উঁচু আর ধীরে ধীরে সরু হয়ে গেছে।
- এবার এই তিনকোণা কাগজটার উপরের সরু অংশটা একটু ভাঁজ করে নাও।
- এবার দেখো উপরের উঁচু সরু অংশটা আর নেই। বরং চ্যাপ্টা, নিচু হয়ে গেছে।
- আরও একবার কাগজের উপরের দিকটাকে ভাঁজ করে দেখো।
- এবার উপরের দিকটা কেমন সমতল আর আরও নিচু হয়ে গেছে!
💡 উচ্চতা, গঠন এবং বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পৃথিবীতে প্রধানত তিনরকম ভূমিরূপ দেখা যায়। ভূ-পৃষ্ঠের সব থেকে উঁচু অংশ হলো পর্বত, মাঝারি উঁচু অংশ মালভূমি। আর সব থেকে নীচু, প্রায় সমতল অংশ সমভূমি।
ভূগোল
ভূপৃষ্ঠের সবজায়গা এক রকম নয় কেন? 🤔
-
পৃথিবীর ওপর কোথাও পাহাড়, কোথাও মালভূমি, আবার কোথাও সমভূমি। এই সমস্ত রকম ভূমিরূপ মূলত দুরকম শক্তির দ্বারা তৈরি হয়েছে। একটা হলো পৃথিবীর ভিতরকার শক্তি বা অভ্যন্তরীণ শক্তি। আর অন্যটা বাইরের শক্তি বা বহির্জাত শক্তি।
-
🌍 জানো কি, তুমি যে ভূমির ওপর দাঁড়িয়ে আছো, সেটা স্থির নয়! ভূ-অভ্যন্তরে সারাক্ষণই আলোড়ন হচ্ছে। ভূপৃষ্ঠ অনেকগুলো ছোটো, বড়ো পাত নিয়ে গঠিত (চায়ের প্লেট ভাঙলে যেরকম টুকরো হয়ে যায়, ঠিক সেরকম)। মহাদেশ এবং মহাসাগরগুলো এই পাতগুলোর উপরে আছে। আর পাতগুলো একটা থকথকে (সান্দ্র) স্তরের (অ্যাসথেনোস্ফিয়ার) ওপর ভাসছে। ভাসতে ভাসতে পাতগুলো কখনো পরস্পরের দিকে এগিয়ে এসে ধাক্কা খায়, আবার কখনো দূরে সরে যায়, তখন ভূ-আলোড়নের সৃষ্টি হয়। এটাই পৃথিবীর ভিতরকার শক্তি। এর ফলে পর্বত, মালভূমি, সমভূমি সবরকম ভূমিরূপ তৈরি হয়। আর বাইরের শক্তি হলো নদী, বায়ু, হিমবাহ, সমুদ্র তরঙ্গের শক্তি। এই সমস্ত প্রাকৃতিক শক্তিগুলো ভূমিরূপ-এর ওপর সবসময় কাজ করে কখনও ক্ষয় করে উচ্চতা কমিয়ে দেয়, আবার কোথাও সঞ্চয় করে ভূমিরূপ এর বৈচিত্র্য তৈরি করে।
-
🏔️ আঁকা প্রতিযোগিতার দিন বরুণ তামাং বলছিল: 'আমাদের দার্জিলিং খুব সুন্দর - চারদিকে কত উঁচু উঁচু পর্বতের চূড়া, কয়েকটা এত উঁচু যে মেঘে ঢাকা থাকে। কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়ায় তো বরফ জমে থাকে। আর কি প্রচণ্ড ঠান্ডা - দিনের বেলাতেও সোয়েটার পরে থাকতে হয়!'
-
পৃথিবীজুড়ে পর্বতের উচ্চতা এবং আকৃতির অনেক বৈচিত্র্য আছে। এর কারণ পর্বত সৃষ্টির প্রক্রিয়া এবং সময়ের পার্থক্য। একারণেই হিমালয়, আল্পস ইত্যাদি নবীন পর্বতগুলো অনেক উঁচু এবং সূঁচালো চূড়াযুক্ত হয়। অন্য দিকে আরাবল্লীর মতো প্রাচীন পর্বতগুলো বহু বছর ধরে ক্ষয়ের ফলে উচ্চতা কমে যাওয়ায় চূড়াগুলো তেমন সূঁচালো নয়। উৎপত্তি অনুযায়ী পর্বত প্রধানত তিন ধরনের হয়।
- এশিয়া মহাদেশের হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর
ভূমিরূপ
আমেরিকার রকি, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা-সবই ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountain)।
কীভাবে সৃষ্টি হলো ভঙ্গিল পর্বত? ⛰️
নিজেই বানিয়ে ফেলো ভঙ্গিল পর্বত!
- প্রথমে একটি মাদুর বিছিয়ে দাও।
- এবার মাদুরের দুধারে হাত দিয়ে ধীরে ধীরে মাঝখানের দিকে ঠেলতে শুরু করো।
- লক্ষ করো মাদুরটা ক্রমশ ভাঁজ হয়ে ওপরের দিকে উঁচু হয়ে উঠছে।
- কার্পেট নিয়েও পরীক্ষাটা করে দেখতে পারো।
অর্থাৎ এক্ষেত্রে তোমার হাত দুটো ভাসমান পাত। ঠিক এইভাবেই পাতদুটোর প্রবল চাপে মাঝখানের ভূ-ভাগ ভাঁজ খেয়ে উঁচু হয়ে উঠে ভঙ্গিল পর্বত এর সৃষ্টি হয়।
-
স্তূপ পর্বত (Block Mountain) 🧱: ভূ-আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে অনেক সময় ফাটল সৃষ্টি হয়। এই ফাটলগুলোর মাঝের ভূখণ্ড উঁচু হয়ে অথবা দুপাশের ভূখণ্ড নীচে বসে গিয়ে মাঝখানের ভূখণ্ড স্তূপ এর মতো পর্বত সৃষ্টি করতে পারে। ভারতের সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট এবং ফ্রান্সের ভোজ এরকম স্তূপ পর্বত।
-
আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain) 🔥: আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের সময় প্রচুর লাভা, ছাই, ছোটো ছোটো পাথর বেরিয়ে এসে আগ্নেয়গিরির চারদিকে জমা হয়ে তিনকোণা শঙ্কুর মতো একরকমের পর্বত সৃষ্টি হয় যাকে বলে আগ্নেয় পর্বত। ইতালির ভিসুভিয়াস, এটনা, আফ্রিকার কিলিমাঞ্জারো, জাপানের ফুজিয়ামা, ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া এরকম আগ্নেয় পর্বত।
পর্বতের বৈশিষ্ট্য 🏔️
- সাধারণত ৯০০ মিটারের বেশি উঁচু, অনেকদূর বিস্তৃত, শিলা দ্বারা গঠিত ভূমিরূপই হলো পর্বত (Mountain)।
- পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ পর্বতময়।
- পর্বতের বেশিরভাগ অংশই খাড়া ঢালযুক্ত আর খুব উঁচু-নিচু হয়।
- পর্বতের উপরের দিকের সরু, সূঁচালো অংশটা হলো পর্বতশৃঙ্গ বা চূড়া।
- হিমালয় পর্বতের মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮ মিটার উঁচু) পৃথিবীর সবথেকে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ।
- দুটো পর্বতচূড়ার মাঝখানের নিচু খাতের মতো অংশটা হলো পর্বত উপত্যকা।
- এরকম অনেকগুলো পর্বত শৃঙ্গ আর উপত্যকা বিরাট অঞ্চল জুড়ে অবস্থান করলে পর্বতশ্রেণি তৈরি হয়।
- এরকম অনেকগুলো পর্বতশ্রেণি বিভিন্ন দিক থেকে এক জায়গায় এসে মিশলে, পর্বতগ্রন্থি তৈরি হয়।
ভূগোল
দু-দিক মিলছে না! মিলিয়ে লেখো 🧩
- এটনা - আগ্নেয় পর্বত
- আল্পস - ভঙ্গিল পর্বত
- ব্ল্যাকফরেস্ট - স্তূপ পর্বত
- হিমালয় - ভঙ্গিল পর্বত
🏞️ সোহার বাড়ি বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে। ওখানকার লাল, কাঁকর বিছানো মাটি, উঁচু নীচু ঢেউ খেলানো পাথুরে জমি, শাল-পলাশ-মহুয়ার বন, কোপাই নদীর জলে সূর্যের অস্ত যাওয়া- এসবই ওর ভীষণ প্রিয়। পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলো - বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশ মালভূমি অঞ্চল।
মালভূমি 🏞️
💡 উৎপত্তি আর অবস্থান অনুসারে মালভূমির আকৃতি, প্রকৃতিরও প্রচুর বৈচিত্র্য আছে।
📌 আশপাশের অঞ্চলের সাপেক্ষে হঠাৎ উঁচু (সাধারণত ৩০০ মিটারের বেশি উঁচু) বিস্তীর্ণ ভূভাগ, যার চারিদিকে খাড়া ঢাল আছে, এরকম ভূমিরূপ হলো মালভূমি (Plateau)।
-
পর্বতবেষ্টিত মালভূমি (Intermontane Plateau) গুলো সবথেকে উঁচু আর বিস্তৃত হয়। হিমালয় এবং কুয়েনলুন পর্বত শ্রেণির মধ্যে অবস্থিত তিব্বত মালভূমি (৩,৬৫৫ মিটার উঁচু) পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি।
-
মহাদেশীয় মালভূমি (Continental Plateau) continent: দঃ আফ্রিকা, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, আন্টার্কটিকা, গ্রিনল্যান্ড-এর বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে আছে মহাদেশীয় মালভূমি।
-
লাভাগঠিত মালভূমি (Volcanic Plateau) 🔥: অগ্ন্যুৎপাতের সময় গরম লাভা বেরিয়ে এসে অনেকদূর ছড়িয়ে পড়ে বিরাট মালভূমি সৃষ্টি করে। ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি, মালব মালভূমি এরকম লাভাগঠিত মালভূমি।
-
স্থলভাগের বেশিরভাগ জায়গা জুড়েই রয়েছে মালভূমি। এশিয়া, আফ্রিকা, উঃ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ অংশ জুড়েই বড়ো বড়ো মালভূমি আছে।
-
মালভূমির উপরটা সমতল, ঢেউ খেলানো থেকে উঁচু-নীচুও হতে পারে।
-
📚 মালভূমি অনেকটা তোমার পড়ার টেবিলের মতো। উপরটা টেবিলের মতোই প্রায় সমতল হলেও, ধারগুলো টেবিলের পায়ার মতোই ঢালু এবং খাড়া। এজন্য মালভূমিকে 'টেবিল ল্যান্ড' বলে।
-
নদী উপত্যকা দ্বারা বিচ্ছিন্ন মালভূমি হলো ব্যবচ্ছিন্ন
ভূমিরূপ
মালভূমি (Dissected Plateau)। ছোটোনাগপুর মালভূমি এই ধরনের। পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চল ছোটোনাপুরের অংশ। মালভূমির গড় উচ্চতা ৩০০ মিটার হলেও, কিছু উঁচু মালভূমির উচ্চতা অনেক বেশি।
পামীর মালভূমি (৪,৮৭৩ মিটার উঁচু) পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমি বলে একে 'পৃথিবীর ছাদ' বলা হয়। তিব্বত মালভূমি, ভারতের লাডাক মালভূমি সবই উচ্চ মালভূমি।
🌉 এলিনা কলকাতার মেয়ে। তোমরা যারা কলকাতা বা আশেপাশের জেলাগুলোতে থাকো, নিশ্চয়ই লক্ষ করেছো এখানকার ভূমি আদৌ উঁচুনীচু নয়, বরং অনেক বেশি সমতল।
সমভূমি 🌾
💡 পৃথিবীর ভিতরকার শক্তি এবং বাইরের প্রাকৃতিক শক্তি দু-ধরনের প্রভাবেই অনেক ধরনের সমভূমি সৃষ্টি হয়।
📌 কোনো নীচু, সমতল, বিস্তীর্ণ ভূমিরূপ হলো সমভূমি (Plain)।
-
পলিগঠিত সমভূমি (Alluvial Plain) 🌊: নদী, সমুদ্র, হ্রদে দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে পলিগঠিত সমভূমি সৃষ্টি হয়। ভারতের সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের সমভূমি এরকম সমভূমি।
-
লাভা সমভূমি (Lava Plain) 🔥: আগ্নেয়গিরির লাভা জমে লাভা সমভূমি তৈরি হয়। আইসল্যান্ডে এই ধরনের সমভূমি দেখা যায়।
-
লোয়েস সমভূমি (Loess Plain) 🌬️: মরুভূমির বালি বহুদূরে উড়ে গিয়ে সঞ্চিত হয়ে তৈরি হয় লোয়েস সমভূমি।
-
প্রায় প্রতিটি মহাদেশেই বিস্তীর্ণ সমভূমি আছে। এশিয়ার গাঙ্গেয় সমভূমি, আফ্রিকার নীলনদের সমভূমি, উঃ আমেরিকার প্রেইরি, দঃ আমেরিকার পম্পাস পৃথিবীর বিখ্যাত সমভূমি অঞ্চল।
-
সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুব বেশি উঁচু হয় না (৩০০ মিটারের কম হয়)।
-
সমভূমির উপরিভাগ সমতল বা সামান্য ঢেউ খেলানো হয়।
-
পৃথিবীর বেশিরভাগ সমভূমি নদীর পলি সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। একারণে এই উর্বর সমতল ভূভাগগুলোতে সব থেকে বেশি মানুষ বাস করে।
ভূগোল
'মগজাস্ত্র' - ধরতে পারলেই লিখতে পারবে! 🧠
| বৈশিষ্ট্য | পর্বত | মালভূমি | সমভূমি |
|---|---|---|---|
| উচ্চতা | ৩০০ মিটারের কম | ||
| বৈশিষ্ট্য | খাড়া ঢালযুক্ত, উঁচু-নিচু | চারি দিকে খাড়া ঢাল আছে | |
| উদাহরণ | মাউন্ট এভারেস্ট সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্খ | তিব্বত (সর্বোচ্চ মালভূমি) | গঙ্গা ব্রহ্মপুত্রের সমভূমি-বৃহত্তম ব-দ্বীপ সমভূমি |
| বৈশিষ্ট্য | উপরটা সমতল, ঢেউ খেলানো, উঁচু-নিচু | উপরিভাগ সমতল বা সামান্য ঢেউ খেলানো হতে পারে | |
| প্রকারভেদ | ভঙ্গিল, স্তূপ, আগ্নেয় | লাভা গঠিত মালভূমি, পর্বতবেষ্টিত মালভূমি | পলিগঠিত, লাভা, লোয়েস |
| উদাহরণ | আল্পস, আন্দিজ, ফুজিয়ামা, এটনা | দাক্ষিণাত্য, ছোটোনাগপুর, পামীর | সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র, নীলনদ, পম্পাস |
পর্বত-মালভূমি-সমভূমি- আমাদের জীবনে প্রভাব কতখানি! 🌍🏘️
ভূমিরূপের সঙ্গে মানুষের জীবনের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। ভূমির প্রকৃতি যেখানে যেমন— মানুষ সেরকমভাবেই মানানসই জীবনযাত্রা গড়ে তোলে। ভূমি মানুষের জীবন, জীবিকা, অর্থনৈতিক কাজকর্ম, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের ধারক এবং নিয়ন্ত্রক।
ভূমিরূপ
আমাদের জীবনে ভূমিরূপের প্রভাব 🏞️
(Images showing various human activities and settlements across different landforms)
ভূগোল
ভূমিরূপের প্রভাব - পর্বত 🏔️
- উঁচু পর্বতের বরফ-গলা জল থেকে প্রচুর নদী সৃষ্টি হয়। এই নদীগুলো থেকে সারাবছর জল পাওয়া যায়। যেমন হিমালয় পর্বত থেকে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু নদীর উৎপত্তি হয়েছে।
- জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস পর্বতে বাধা পেয়ে বৃষ্টি হয়। হিমালয় পর্বতে বাধা পেয়ে দঃ পঃ মৌসুমি বায়ু ভারতে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- পর্বত বিরাট প্রাচীরের মতো উঁচু এবং শীতল বায়ুপ্রবাহকে আটকাতে পারে। শীতকালে সাইবেরিয়ার তীব্র ঠান্ডা বাতাসকে বাধা দিয়ে হিমালয় ভারতে শীতের তীব্রতা কমিয়ে দেয়।
- পার্বত্য অঞ্চলে সাধারণত মূল্যবান নরম কাঠের বনভূমি গড়ে ওঠে।
- পর্বতের ঢালগুলোয় ভালো পশুচারণ ক্ষেত্র পাওয়া যায়। পর্বতের ঢালে ধাপ কেটে চাষবাসও করা যায়।
- পার্বত্য অঞ্চলের খরস্রোতা নদীগুলো জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সহায়ক।
- কিছু কিছু পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর খনিজ পদার্থ পাওয়া যায়। পর্বতের শিলা, বড়ো ছোটো পাথর - সবই ঘরবাড়ি তৈরির উপকরণ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঠান্ডা আরামদায়ক আবহাওয়ার জন্য ভালো পর্যটনক্ষেত্র গড়ে ওঠে। যেমন - দার্জিলিং, উটি, সিমলা।
ভূমিরূপের প্রভাব - মালভূমি 🏞️
- বেশিরভাগ বড়ো বড়ো মালভূমিগুলোর প্রায় সবই শুষ্ক জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত। বৃষ্টিপাত কম হওয়ার জন্য বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে ব্যাপকভাবে পশুচারণ করার অনুকূল পরিবেশ পাওয়া যায়।
- বেশিরভাগ মালভূমি অঞ্চল প্রচুর পরিমাণে খনিজসম্পদ সমৃদ্ধ।
- মালভূমি অঞ্চলের রুক্ষ মাটি এবং প্রতিকূল জলবায়ুর কারণে খুব কম পরিমাণে চাষবাস করা যায়।
ভূমিরূপের প্রভাব - সমভূমি 🌾
- পৃথিবীর বেশিরভাগ সমভূমি নদ-নদীর পলি সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্টি হওয়ায়, সমভূমি অঞ্চলগুলোই পৃথিবীর সবথেকে উর্বর অঞ্চল।
- একাধিক নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা এই সমভূমিগুলোতেই গড়ে উঠেছিল।
- বর্তমানেও বেশিরভাগ শহর, নগর, জনপদ সবই সমভূমি অঞ্চলে অবস্থিত। বিস্তীর্ণ উর্বর সমতলভূমি থাকায়, কৃষি, শিল্প, পরিবহণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুরই সুবিধা পাওয়া যায়। এইজন্য সমভূমি অঞ্চলগুলো পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল অঞ্চল।
ভূমিরূপ
খুদে গোয়েন্দারা আগে দেওয়া তথ্যগুলো আসলে এক একটা সূত্র। প্রথমে খুব বিচক্ষণভাবে পড়ে বুঝে নাও। তারপর বিশ্লেষণ করে অনুমান করতে হবে কোথায়, কী হতে পারে আর কোনটা হতে পারে না। এরপর ঠিক বক্সগুলোতে '✔' চিহ্ন দিয়ে দাও!
জনজীবনে ভূমিরূপের প্রভাব - মগজাস্ত্র! 🧠
| মানুষের জীবন | পার্বত্য অঞ্চলে | মালভূমি অঞ্চলে | সমভূমি অঞ্চলে |
|---|---|---|---|
| প্রধান জীবিকা কী কী হতে পারে? | কৃষিকাজ ⬜ ব্যবসা ⬜ পরিবহণ ⬜ পশুপালন ⬜ পর্যটন শিল্প ✔️ ভারী শিল্প ⬜ কাঠ শিল্প ✔️ খনিজ উত্তোলন ⬜ বিনোদন শিল্প ✔️ | কৃষিকাজ ⬜ পশুপালন ✔️ ব্যবসা ⬜ শিল্প ⬜ খনিজ উত্তোলন ✔️ ভারী শিল্প ⬜ কাঠ শিল্প ⬜ পর্যটন, বিনোদন ⬜ শিল্প ⬜ পরিবহণ শিল্প ⬜ | কৃষিকাজ ✔️ শিল্প ✔️ ব্যবসা ✔️ পশুপালন ⬜ পরিবহণ ✔️ খনিজ উত্তোলন ⬜ পর্যটন, বিনোদন শিল্প ✔️ |
| যাতায়াত ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত? | খুব ভালো ⬜ ভালো ⬜ ভালো নয় ✔️ | খুব ভালো ⬜ ভালো ⬜ মাঝারি ✔️ ভালো নয় ⬜ | খুব ভালো ✔️ ভালো ⬜ মাঝারি ⬜ ভালো নয় ⬜ |
| জনবসতি ও জনঘনত্ব কেমন হতে পারে? | খুব বেশি ⬜ বেশি ⬜ মাঝারি ⬜ কম ✔️ | খুব বেশি ⬜ বেশি ⬜ মাঝারি ✔️ কম ⬜ | খুব বেশি ✔️ বেশি ⬜ মাঝারি ⬜ কম ⬜ |
| অর্থনৈতিক উন্নতি কেমন হতে পারে? | বেশি ⬜ মাঝারি ⬜ কম ✔️ | বেশি ⬜ মাঝারি ✔️ কম ⬜ | বেশি ✔️ মাঝারি ⬜ কম ⬜ |
| জীবনযাত্রা | কষ্টকর ✔️ সহজ ⬜ | কষ্টকর ✔️ সহজ ⬜ | কষ্টকর ⬜ সহজ ✔️ |
এবার তোমার নিজের অঞ্চলের একটা সমীক্ষা করে ফেলো। 📝
- তোমার অঞ্চলটার ভূ-প্রকৃতি - সমতল ⬜ ঢেউ খেলানো ⬜ খুবই উঁচু নীচু ⬜
- ভূমির ঢাল কেমন - ঢাল প্রায় নেই ⬜ মাঝারি ঢাল ⬜ খাড়া ঢাল ⬜
- কাছাকাছি কোনো পাহাড় বা পর্বত আছে?- হ্যাঁ ⬜ না ⬜
- কাছাকাছি কোনো ছোটো বা বড়ো নদী আছে?- হ্যাঁ ⬜ না ⬜ নদীর নাম...........
- কাছাকাছি কোনো ঝরনা, জলাধার, বাঁধ আছে?- হ্যাঁ ⬜ না ⬜ নাম.......
- আশেপাশে কোনো বড়ো বনভূমি বা জঙ্গল আছে? - হ্যাঁ ⬜ না ⬜ নাম.....
- অঞ্চলটাকে কী মনে হয়? - পার্বত্য অঞ্চল ⬜ মালভূমি অঞ্চল ⬜ সমভূমি অঞ্চল ⬜
ভূগোল
সমীক্ষা (চলমান) 📋
- মানুষের প্রধান জীবিকা কী?
- কাছাকাছি কোনো বড়ো পাকা রাস্তা, রেললাইন আছে?
- পাকা রাস্তা বা রেললাইন থেকে তোমার বাড়িটা কতটা দূরে—
- কাছাকাছি কোনো স্কুল, হাসপাতাল, ব্যাংক, পোস্ট অফিস, রেলস্টেশন থাকলে তা তোমার বাড়ি থেকে কতটা দূরে আছে?
- তোমার বাড়ি এবং আশেপাশের বাড়িগুলো - পাকা ⬜ কাঁচা ⬜
- বাড়িগুলো ঘনঘন ⬜ ফাঁকা-ফাঁকা ⬜
- জায়গাটা গ্রাম ⬜ শহর ⬜ মফস্সল ⬜
মজার খেলা—শব্দ সন্ধান 🔎
(Crossword puzzle clues)
উপর-নীচ (Down)
- জাপানের একটা আগ্নেয় পর্বত।
- দক্ষিণ আমেরিকার সমভূমি।
- আমেরিকার ভঙ্গিল পর্বত।
- ভারতের একটা স্তূপ পর্বত।
- ফ্রান্সের একটা স্তূপ পর্বত।
পাশাপাশি (Across)
- এশিয়ার ভঙ্গিল পর্বত।
- 'পৃথিবীর ছাদ'।
- ইউরোপের ভঙ্গিল পর্বত।
- ভারতের প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত।
- দক্ষিণ আমেরিকার ভঙ্গিল পর্বত।
CONTENT MANAGER