Academy

৯। এশিয়া মহাদেশ (৮৩)

৯। এশিয়া মহাদেশ (৮৩) - WBBSE - Class 7 - ভূগোল

0

🌍 এশিয়া মহাদেশ

এশিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম ও জনবহুল মহাদেশ। এটি স্থলভাগের এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে বিস্তৃত এবং পৃথিবীর প্রায় ৬০% মানুষ এখানে বাস করে। এই মহাদেশ এতটাই বিশাল যে এর পশ্চিম প্রান্তে সূর্য উঠলে পূর্ব প্রান্তে সূর্যাস্তের সময় হয়ে যায়। সুউচ্চ পর্বতশ্রেণি, বিরাট মালভূমি, বিস্তীর্ণ সমভূমি এবং উর্বর নদী উপত্যকা এশিয়ায় এমন কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এনেছে যা অন্য কোনো মহাদেশে নেই। তাই এশিয়াকে 'চরম বৈশিষ্ট্যের মহাদেশ' (Continent of Extremes) বলা হয়।

📌 এশিয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য:

  • 'পৃথিবীর ছাদ': পামীর মালভূমি
  • স্থলভাগের উচ্চতম অংশ: মাউন্ট এভারেস্ট
  • বৃহত্তম বদ্বীপ সমভূমি: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি
  • পৃথিবীর বৃহত্তম বনভূমি: 'তৈগা'
  • লবণাক্ত হ্রদ ও স্থলভাগের নিম্নতম অংশ: মরুসাগর (Dead Sea)
  • বৃহত্তম হ্রদ: কাস্পিয়ান সাগর
  • জনসংখ্যা: পৃথিবীর ৬০% মানুষ বাস করে

💡 এশিয়া মহাদেশ: সভ্যতার জন্মক্ষেত্র ও প্রাচ্য সংস্কৃতির ঐতিহ্য

  • জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শিল্প-সংস্কৃতি, জনগোষ্ঠী এবং জীবনযাত্রার বৈচিত্র্যে এই মহাদেশটি অনন্য।
  • খ্রিস্টজন্মের ৩৫০০-৫০০০ বছর আগে এশিয়ার বড়ো বড়ো নদীগুলোর উর্বর উপত্যকায় অনেকগুলো নদীমাতৃক সভ্যতার জন্ম হয়েছিল।
  • সিন্ধুনদের ধারে হরপ্পা-মহেঞ্জোদাড়োসিন্ধুসভ্যতার (বর্তমানে ভারত এবং পাকিস্তানে) বিকাশ হয়েছিল।
  • টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস নদী উপত্যকায় উন্নত মেসোপটেমিয়া, সুমের সভ্যতার (বর্তমানে তুরস্ক এবং ইরাকে) উদ্ভব হয়েছিল।
  • হোয়াং-হো নদী উপত্যকা ছিল চিনের সভ্যতার আঁতুড়ঘর।
  • অতীতকাল থেকে আজও এশিয়া প্রাচ্য সংস্কৃতির ধারক এবং ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ।

🗺️ পিকলুর ডায়েরি

  • আয়তন: ৪৪,৫৭৯,০০ বর্গ কিমি.
  • অবস্থান ও সীমা: ১°১৬′ দ: অক্ষাংশ - ৭৭°৪৪′ উ: অক্ষাংশ এবং ১৭০° প: দ্রাঘিমা - ২৬° পূ: দ্রাঘিমা।
    • পূর্বে: প্রশান্ত মহাসাগর
    • পশ্চিমে: ভূমধ্যসাগর, কাস্পিয়ান সাগর
    • উত্তরে: সুমেরু মহাসাগর
    • দক্ষিণে: ভারত মহাসাগর
  • এশিয়া এবং ইউরোপ দুটো মহাদেশ একত্রে 'ইউরেশিয়া' নামক অখণ্ড স্থলভাগের অংশ।
  • এশিয়া ও ইউরোপের মাঝে রয়েছে ইউরাল পর্বত এবং ইউরাল নদী
  • এশিয়া ও আফ্রিকাকে আলাদা করেছে লোহিত সাগরসুয়েজ খাল
  • দেশের সংখ্যা: ৪৮টি
  • বিখ্যাত শহর: টোকিয়ো, দিল্লি, মুম্বাই, বেজিং, সিঙ্গাপুর, ব্যাঙ্কক, ম্যানিলা, দুবাই, বাগদাদ ইত্যাদি।

⛰️ এশিয়ার প্রাকৃতিক পরিচয়

এশিয়ার ভূপ্রাকৃতিক মানচিত্র দেখলে অবাক হতে হয়। পৃথিবীর আর কোনো মহাদেশে এর মাঝখানে এত পাহাড়-পর্বতের সমাবেশ নেই। পামীর এবং আর্মেনীয়-এই দুটো পর্বত গ্রন্থি থেকে খুব উঁচু উঁচু পর্বতমালা (যাদের গড় উচ্চতা ৪০০০ মিটারেরও বেশি) নানা দিকে ছড়িয়ে গেছে। এই পার্বত্য অঞ্চলটি পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর থেকে পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত রয়েছে।

🏔️ হিমালয় পর্বতশ্রেণি

  • হিমালয়কুয়েনলুন পর্বতের মাঝখানে আছে - তিব্বত মালভূমি। তিব্বতের মালভূমির উত্তর-পূর্ব দিকে রয়েছে - মঙ্গোলিয়া মালভূমিপন্টিকটরাস্ পর্বতশ্রেণির মধ্যে আছে - আনাতোলিয়া মালভূমি। আনাতোলিয়া মালভূমির দক্ষিণদিক থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা একটি গ্রস্ত উপত্যকা।
  • মধ্যভাগের পার্বত্য অঞ্চলের দক্ষিণে বেশ কিছু প্রাচীন মালভূমি রয়েছে যা শক্ত শিলা দিয়ে গঠিত। নদীর প্রবাহ দেখলে বোঝা যায় অঞ্চলটির ঢাল পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে।

🏞️ দক্ষিণের প্রাচীন মালভূমি

তিনটি প্রধান মালভূমি হলো:

  • আরবের মালভূমি
  • দাক্ষিণাত্যের মালভূমি
  • ইন্দোচিন মালভূমি

📝 এই তিনটি মালভূমি কোন কোন দেশের অন্তর্গত তা প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে খুঁজে বের করতে হবে।

**মালভূমির নামকোন দেশে অবস্থিত**
আরবের মালভূমি
দাক্ষিণাত্যের মালভূমি
ইন্দোচিন মালভূমি
  • মধ্যভাগের পার্বত্য অঞ্চলের উত্তরে একটি বড়ো সমতলভূমি রয়েছে। এশিয়ার উত্তরের এই সমভূমি পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি। সমভূমির মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলির প্রবাহ দেখে বোঝা যায় অঞ্চলটি দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে ঢালু।

🌾 উত্তরের বিশাল সমতলভূমি

এশিয়ার উত্তরের বিশাল সমতলভূমিকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

  1. তুরানের নিম্নভূমি

    • উত্তরের সমভূমির দক্ষিণ-পশ্চিমে কাস্পিয়ান ও আরল সাগরের চারদিকে অবস্থিত এই নিম্নভূমি তুরানের নিম্নভূমি নামে পরিচিত।
  2. সাইবেরিয়ার সমভূমি

    • এশিয়ার উত্তরে ওব, ইনিসিলেনা নদীর পলি সঞ্চয়ে এবং হিমবাহের কাজের ফলে এই সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে। এই সমভূমিতে মাঝে মাঝে বন্যা হয়।
  3. পূর্বের উচ্চভূমি বা শিল্ড সমভূমি

    • এই সমভূমির উত্তর-পূর্ব দিকে প্রাচীন মালভূমি ক্ষয়ে যাবার ফলে যে সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে তাকে পূর্বের উচ্চভূমি বা শিল্ড সমভূমি বলে।

এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে কতগুলো নদী রয়েছে এবং তাদের পলি দ্বারা কয়েকটি সমভূমি তৈরি হয়েছে। যেমন:

  1. উত্তর চিন সমভূমি
  2. সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি
  3. মেসোপটেমিয়া সমভূমি

এশিয়ার দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর কতগুলি দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জ রয়েছে। যেমন:

  1. জাপানের দ্বীপসমূহ
  2. ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপসমূহ
  3. কিউরাইল দ্বীপপুঞ্জ
  4. ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ

🌊 যে কোনো জায়গার ভূমিরূপের সঙ্গে নদী প্রবাহের সম্পর্ক থাকে। নদী ভূমির ঢালকে অনুসরণ করে, ভূমির ঢাল যে দিকে নদীও সেইদিকে প্রবাহিত হয়। এশিয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায় নদীগুলির অধিকাংশই মাঝখানের পার্বত্য অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বদিকে চলে গেছে।

💧 এশিয়ার নদ নদী

🏞️ উত্তর দিকে প্রবাহিত নদী:

নদীর নামনদীর উৎসনদীর দৈর্ঘ্য (কিমি)মোহনানদীর বৈশিষ্ট্য
ওব নদীআলতাই পর্বত৩৬৫০ওব সাগর1. এই নদীগুলির মোহনা উচ্চ অক্ষাংশের হিমমণ্ডলে অবস্থিত। তাই বছরের ৮ থেকে ৯ মাস বরফে ঢাকা থাকে। শরৎ ও বসন্তকালে পার্বত্য অঞ্চলে বেশি বৃষ্টি হলে, ঐ জল নদীর মোহনার বরফে বাধা পেয়ে বন্যা সৃষ্টি করে। 2. নদীগুলি যাতায়াতের অনুপযোগী। 3. নদী উপত্যকা জনবিরল। 4. নদী অববাহিকায় একাধিক জলাভূমি দেখা যায়।
ইনিসি নদীসায়ান পর্বত৫৫৪০ইনিসি উপসাগর
লেনা নদীবৈকাল পর্বত৪২৭০লাপ্টেভিক সাগর

📝 ঠিক ঠিক লিখে ফেলো:

  1. ওব, ইনিসি ও লেনা নদী কোন দিক থেকে কোন দিকে প্রবাহিত হয়েছে?..................
  2. উত্তর দিকে প্রবাহিত নদীগুলির মধ্যে কোন নদীর দৈর্ঘ্য সবথেকে বেশি? ......................
  3. এশিয়ার উত্তর বাহিনী নদীগুলিতে প্রায়ই বন্যা হয় কেন? ........................................

🌊 দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত নদী:

নদীর নামনদীর উৎসনদীর দৈর্ঘ্য (কিমি)মোহনানদীর বৈশিষ্ট্য
গঙ্গা নদীগঙ্গোত্রী হিমবাহ২৫১০বঙ্গোপসাগর1. নদীগুলি মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ও পার্বত্য অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হবার জন্য বৃষ্টির জল ও বরফগলা জলে পুষ্ট। 2. নদীর নিম্নগতিতে বর্ষাকালে বন্যা দেখা যায়। 3. অধিকাংশ নদীগুলির অববাহিকা অঞ্চল ঘনবসতিপূর্ণ। 4. নদীগুলি পরিবহন ও সেচের কাজে বিশেষ উপযোগী।
ব্রহ্মপুত্র নদীতিব্বতের মানস সরোবরের কাছে চেমায়ুং দুং হিমবাহ২৫৮০বঙ্গোপসাগর
সিন্ধু নদীতিব্বতের মানস সরোবর২৮৮০আরব সাগর
মেকং নদীকুয়েনলুন পর্বত৪৩৫০দক্ষিণ চিনসাগর
মেনাম নদীশান মালভূমি৩৬৫শ্যামসাগর
ইরাবতী নদীইউনান মালভূমি২০৯০মার্তাবান উপসাগর
টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদী (টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মিলিত প্রবাহের নাম সাত-এল-আরব)আর্মেনীয় মালভূমির কুর্দিস্তান পর্বত১৮৫০, ২৮০০পারস্য উপসাগর

❓ বলোতো দেখি:

  1. এশিয়ার দক্ষিণবাহিনী নদীগুলির মধ্যে কোন নদীটি তিব্বতের মানস সরোবরের কাছ থেকে উৎপন্ন হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে?
  2. এশিয়ার দক্ষিণবাহিনী নদীগুলির মধ্যে দীর্ঘতম নদীর নাম কী? নদীটির দৈর্ঘ্য কত কিমি?

🌊 পূর্ব দিকে প্রবাহিত নদী:

নদীর নামনদীর উৎসনদীর দৈর্ঘ্য (কিমি)মোহনানদীর বৈশিষ্ট্য
ইয়াংসিকুয়েনলুন পর্বতের দক্ষিণে গোলাডানডং পর্বতশৃঙ্খ৫৫৩০চিন সাগর1. নদী অববাহিকা ঘনবসতিপূর্ণ। 2. নদীগুলি নিম্নপ্রবাহে পলি সঞ্চয় করে সমভূমি গড়ে তুলেছে ফলে এখানে কৃষি ও শিল্পের উন্নতি ঘটেছে। 3. ইয়াংসি নদীকে স্বর্ণ রেণুর নদী বলে। 4. হোয়াং হো নদী হলুদ রঙের পলি যুক্ত জল বহন করে বলে একে পীত নদী বলে।
সিকিয়াংইউনান মালভূমির বায়ানহারা পর্বত১৯২০চিন সাগর
হোয়াং হোকুয়েনলুন পর্বত৫৪৬০পোহাই উপসাগর
আমুররাশিয়ার ইয়াক্লোনয় পর্বত৪৪৪০ওখটস্ক সাগর

❓ বলতে পারো:

  1. এশিয়া মহাদেশের কোন নদীকে 'স্বর্ণরেণুর' নদী বলে?
  2. এশিয়ার পূর্বদিকে প্রবাহিত দুটি নদীর নাম করো যারা চিনসাগরে পড়েছে?
  3. এশিয়ার কোন নদীকে পীত নদী বলে?
  4. এশিয়ার দীর্ঘতম নদী কোনটি?

🌦️ জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ

সম্পূর্ণ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত এশিয়া মহাদেশের উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তার এত বেশি যে, পৃথিবীর প্রায় সব ধরনের জলবায়ু এই মহাদেশে দেখা যায়। জলবায়ুর উপর নির্ভর করে স্বাভাবিক উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য গড়ে ওঠে। যেমন, নিরক্ষীয় জলবায়ুতে চিরহরিৎ বা চিরসবুজ উদ্ভিদ জন্মায়, আবার মরু অঞ্চলে কাঁটাজাতীয় উদ্ভিদ।

📊 এশিয়া মহাদেশে জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের বৈচিত্র্যের কারণ

(ধারণা মানচিত্র থেকে বুঝে নাও)

  1. অক্ষরেখার অবস্থান

    • নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে গেলে সূর্য রশ্মি বাঁকাভাবে পড়ে, ফলে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা কমতে থাকে।
    • এশিয়া মহাদেশটি ১০° দঃ অক্ষরেখা থেকে ৮২° উঃ অক্ষরেখার মধ্যে অবস্থিত। তাহলে এশিয়ার দক্ষিণ থেকে উত্তরে কী ধরনের জলবায়ু দেখা যাবে?
  2. উচ্চতার তারতম্য

    • প্রতি ১০০০ মি. বা ১ কিমি উচ্চতায় গড়ে ৬.৪° সে. করে তাপমাত্রা কমে যায়।
    • এশিয়া মহাদেশের মধ্যভাগের উঁচু পার্বত্য অঞ্চলের গড় উচ্চতা ৪০০০ মিটারেরও বেশি। তাহলে সেখানে তাপমাত্রা কীরকম হতে পারে?
  3. সমুদ্র থেকে দূরত্ব

    • সমুদ্রের ধারে তাপমাত্রা খুব বেশি পরিবর্তিত হয় না (নাতিশীতোয় জলবায়ু)। কিন্তু সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত কোনো স্থানের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয় (শীতকালে প্রচণ্ড ঠান্ডা আর গরমকালে প্রচণ্ড গরম)।
    • এশিয়ার মধ্যভাগের বেশিরভাগ অঞ্চলেরই সমুদ্র থেকে দূরত্ব বেশি। তাহলে ঐ অঞ্চলের জলবায়ু কেমন হতে পারে?

🌡️ এশিয়ার জলবায়ু অঞ্চল

জলবায়ুর বৈচিত্র্য অনুসারে এশিয়া মহাদেশকে বেশ কয়েকটি জলবায়ু অঞ্চলে ভাগ করা যায়:

জলবায়ু অঞ্চলপ্রধান বৈশিষ্ট্যস্বাভাবিক উদ্ভিদ
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল
*   নিরক্ষরেখার কাছাকাছি (১০° উত্তর অক্ষরেখা থেকে ১০° দক্ষিণ অক্ষরেখার মধ্যে) ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি দেশে দেখা যায়।
*   সূর্য রশ্মি লম্বভাবে পড়ায় সারাবছর অধিক উষ্ণতা।
*   বার্ষিক গড় উয়তা ২৫° থেকে ৩০° সে.।
*   প্রতিদিন বিকেলে পরিচলন বৃষ্টি হয়। বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০০ থেকে ২৫০ সেমি.। |
*   নিরক্ষীয় অঞ্চলে বেশি উষ্ণতা ও বেশি বৃষ্টিপাতের জন্য ঘন *চিরহরিৎ* বা *চিরসবুজ* গাছ দেখা যায়। যেমন - *মেহগনি, রোজউড, আয়রন উড, সেগুন, আবলুস, রবার, কোকো, সিঙ্কোনা*। |

| মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল | * ১০° উত্তর অক্ষরেখা থেকে ৩০° উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, দক্ষিণ চিন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশে দেখা যায়। * আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল। * গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ২০০-২৮° সে. আর শীতকালে ১৫০-২০০ সে.। * গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ গড়ে ১০০-২০০ সেমি.। * গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গড়ে ১০০ সেমি. বৃষ্টিপাত হয়। | * পর্ণমোচী বা পাতাঝরা দুই ধরনের গাছই জন্মায় (আম, জাম, মেহগনি, বাঁশ, আবলুস, শাল, সেগুন, বট, অশ্বত্থ, শিশু প্রভৃতি)। | | চিন দেশীয় জলবায়ু | * চিনের উত্তরাংশ ও মধ্যভাগ, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের কিছু অংশে দেখা যায়। * গ্রীষ্মকালে উষ্ণতা থাকে ৩০° সে.। * শীতকালে উয়তা থাকে ৪০-১২০° সে.। * গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গড়ে ১০০ সেমি. বৃষ্টিপাত হয়। | * পর্ণমোচী (সেগুন, ফার, বিচ, পাম, লরেল) এবং চিরহরিৎ (মেহগনি, চেস্টনাট, ওক প্রভৃতি) গাছ জন্মায়। | | ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু | * ভূমধ্যসাগরের তীরে সিরিয়া, লেবানন, তুরস্ক, ইজরায়েল, জর্ডন প্রভৃতি দেশে দেখা যায়। * গ্রীষ্মকালে উয়তা থাকে ২১°-২৭° সে.। * শীতকালে ৫০-১০° সে.। * পশ্চিমাবায়ুর প্রভাবে এখানে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩০-৫০ সেমি.। | * প্রচুর ফলের গাছ যেমন - জলপাই, আঙুর, লেবু। এছাড়া অন্যান্য গাছগুলো হলো - কর্ক, ওক, অলিভ এবং কয়েকটি ঝোপঝাড় জাতীয় গাছ জন্মায়। যেমন - লরেল, ল্যাভেন্ডার, রোজমেরি। | | উমরু প্রকৃতির চরমভাবাপন্ন জলবায়ু | * আরবের মরুভূমি, ভারত ও পাকিস্তানের থর মরুভূমি, ইরাক, ইরান, কুয়েত- এই সব দেশগুলোতে উষ্ণতা খুব বেশি ও বৃষ্টিপাত খুব কম। * গ্রীষ্মকালে উয়তা থাকে ৩০০-৩৫° সে.। * শীতকালে উষুতা থাকে ১৫°-২৫° সে.। * বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাত্র ১০-২৫ সেমি.। * এশিয়া মহাদেশের উষ্ণতম স্থান পাকিস্তানের জেকোবাবাদ (উষুতা ৫২° সে., এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত)। | * সাধারণত কাঁটাজাতীয় গাছ জন্মায়, যেমন - বাবলা, ফণীমনসা, খেজুর ইত্যাদি। বৃষ্টিপাত কম হবার জন্য গাছগুলির কান্ড ও পাতা মোম জাতীয় পদার্থ দিয়ে ঢাকা থাকে যাতে প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় গাছের জল বেরিয়ে না যায়। | | সাইবেরীয় জলবায়ু | * রাশিয়ার সাইবেরিয়া ও সাখালিন দ্বীপপুঞ্জে দেখা যায়। * এখানে অতিশীতল ও দীর্ঘস্থায়ী শীতকাল। বছরের ৭ থেকে ৮ মাস বরফ পড়ে। উয়তা থাকে হিমাঙ্কের নীচে। গ্রীষ্মকালে উষ্ণতা থাকে গড়ে ১৫° সে.। | * গাছগুলি শঙ্কু আকৃতির হয় এবং গাছের পাতাগুলি সুঁচালো হয়। পাইন, ফার, স্পুস, লার্চ, বার্চ, সিডার, উইলো প্রভৃতি গাছ জন্মায়। রাশিয়ার সরলবর্গীয় গাছের তৈগা বনভূমি পৃথিবীর বৃহত্তম সরলবর্গীয় বৃক্ষের বনভূমি। | | তুন্দ্রা জলবায়ু | * আরো উত্তরে সুমেরু বৃত্তে দেখা যায়। * তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলে বছরের বেশিরভাগ সময় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে থাকে। শীতকালে প্রবল তুষারপাত হয়। | * তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলে মস, লাইকেন, শৈবাল জন্মায়। |

🏞️ চিনের ইয়াংসি নদী অববাহিকা

এশিয়া মহাদেশের একটি উন্নত সমৃদ্ধশালী অঞ্চল হলো ইয়াংসি নদীর অববাহিকা অঞ্চল। ইয়াংসি এশিয়ার মহাদেশের দীর্ঘতম নদী (৫৫৩০ কিমি.)। ইয়াংসি নদীটি কুয়েনলুন পর্বতের একটি হিমবাহ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। তারপর পূর্ব দিকে বয়ে গিয়ে চিন সাগরে মিশেছে। ভূপ্রকৃতির পার্থক্য, মৃত্তিকা ও জলবায়ুর পার্থক্যের জন্য ইয়াংসি নদীর অববাহিকাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

🌊 ইয়াংসি নদীর অববাহিকা

  • ইয়াংসি নদীর উৎস অঞ্চলে: চারটি উপনদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে সেজুয়ান অববাহিকা তৈরি হয়েছে। এটি লাল রঙের বেলে পাথর দিয়ে তৈরি বলে একে রেড বেসিন বলা হয়। এই রেড বেসিন অববাহিকাটি উৎস থেকে ইচাং পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানকার জলবায়ু খুব মনোরম। এই অববাহিকা কৃষি সমৃদ্ধ জনবহুল অঞ্চল।
  • ইচাং থেকে হুনান পর্যন্ত মধ্য ইয়াংসি অববাহিকা: এটি উর্বর সমতল ভূমি। এই অঞ্চলটিতে নবীন পলিমাটি থাকার জন্য কৃষিকাজ খুব ভালো হয়। এখানে প্রচুর পরিমাণে ধান চাষ হয়। এই জন্য হুনান প্রদেশকে চিনের ধানের গোলা বলা হয়। ধান ছাড়া এখানে গম, কার্পাস, আখ, তৈলবীজ প্রভৃতি ফসল প্রচুর পরিমাণে চাষ হয়। ইয়াংসি কিয়াং-এর মধ্য অববাহিকায় প্রচুর পরিমাণে শস্য উৎপাদন হয় বলে একে চিনের শস্য ভাণ্ডার বলা হয়।
  • হুনান থেকে চিন সাগরের মোহনা পর্যন্ত ইয়াংসি কিয়াং-এর ব-দ্বীপ অঞ্চল: ইউরোপ মহাদেশের হল্যান্ডের মতো এই অঞ্চলটিতে বহু জলাভূমি, খাল ও সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা জমি বা পোল্ডারভূমি দেখা যায় বলে এই অঞ্চলকে এশিয়ার হল্যান্ড বা চিনের হল্যান্ড বলা হয়। নিবিড় কৃষি পদ্ধতিতে প্রচুর ফসল উৎপন্ন হয়। এই অঞ্চলে অবস্থিত সাংহাই চিনের বৃহত্তম শহর, শিল্পকেন্দ্র ও শ্রেষ্ঠ বন্দর। কার্পাস বয়ন শিল্পের উন্নতির জন্য একে চিনের ম্যাঞ্চেস্টার বলা হয়।

💰 ইয়াংসি অববাহিকায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কারণ

  • কৃষির উন্নতি:
    • অনুকূল জলবায়ু
    • উর্বর পলিমাটি
    • বিস্তীর্ণ সমভূমি
  • খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য:
    • কয়লা
    • আকরিক লোহা
    • তামা
    • দস্তা
    • টাংস্টেন প্রভৃতি
  • উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা:
    • পর্যপ্ত জলসম্পদ
    • সাংহাই, নানকিং, চুংকিং বন্দরের অবস্থান
    • ঘনবসতি, সুলভ শ্রমিক
    • উন্নত পরিকাঠামো
  • শিল্পের উন্নতি:
    • লৌহ ইস্পাত
    • রাসায়নিক
    • যন্ত্রপাতি নির্মাণ
    • রেশম ও বস্ত্রবয়ন শিল্প

🏭 জাপানের টোকিয়ো-ইয়াকোহামা শিল্পাঞ্চল

জাপানের প্রধান চারটি দ্বীপের বৃহত্তম দ্বীপ হলো হনসু। হনসুর পূর্বাংশে সাতটি অঞ্চল নিয়ে কান্টো সমভূমি গঠিত হয়েছে। এগুলো হলো- গানমা, তোচিগি, ইবারকি, সাইতামা, টোকিয়া, চিবা এবং কানাগাওয়া। এই সমভূমির জনবসতি অত্যন্ত ঘন। গোটা জাপানের ৩ ভাগের ১ ভাগ লোক এই অঞ্চলে বসবাস করে। টোকিয়ো উপসাগরকে কেন্দ্র করে এই সমভূমি বিস্তার লাভ করেছে। টোকিয়ো উপসাগরের ধারে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু বড়ো শহর যেমন- টোকিয়ো, ইয়োকোহামা, কাওয়াসাকি, চিবা। এই শহরগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো সমুদ্র সান্নিধ্য। সমুদ্রের ধারে অবস্থিত হওয়ায় শহরগুলোর প্রত্যেকটিতে বন্দর আছে। বন্দরগুলো জাপান তথা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বন্দরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দরগুলোর ওপর নির্ভর করে কান্টো সমভূমিতে গড়ে উঠেছে জাপানের শ্রেষ্ঠ শিল্প এলাকা - কিহিন শিল্পাঞ্চল বা টোকিয়ো-ইয়োকোহামা শিল্পাঞ্চল

🏙️ টোকিয়ো-ইয়োকোহামা শিল্পাঞ্চল

  • টোকিয়ো: জাপানের রাজধানী টোকিয়ো একদিকে যেমন জাপানের বৃহত্তম শহর, বন্দর এবং বৃহত্তম শিল্প-বাণিজ্য কেন্দ্র, তেমনি অন্যদিকে জাপানের শিক্ষা-সংস্কৃতির পীঠস্থান।
  • ইয়োকোহামা: হনসু দ্বীপের দক্ষিণ দিকে, টোকিয়ো থেকে প্রায় ৩০ কিমি. দূরত্বে অবস্থান করছে ইয়োকোহামা। জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, ইয়োকোহামা জাপানের সর্ববৃহৎ বন্দর। টোকিয়ো বন্দরের কাছে উপসাগরের গভীরতা কম, তাই বড়ো বড়ো জাহাজ এই টোকিয়ো বন্দরে প্রবেশ করতে পারে না। ইয়োকোহামা এই দেশের বৃহত্তম বহিবন্দর হিসাবে কাজ করে।

🏭 টোকিয়ো - ইয়োকোহামা শিল্পাঞ্চলের শিল্প

  • কার্পাস বস্ত্রবয়ন
  • পশম
  • কাগজ
  • খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ
  • জৈব প্রযুক্তি
  • লৌহ-ইস্পাত
  • মোটর গাড়ি
  • বিমান নির্মাণ
  • ইলেকট্রনিকস্
  • তথ্য প্রযুক্তি

⚠️ টোকিয়োর সমস্যা

  • অত্যন্ত জনবহুলতা
  • জমির অভাব
  • সীমাবদ্ধ পরিবহন
  • পরিবেশ দূষণ

✅ সমাধানের পথ

  • কারখানাগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া। বিশেষত চিবা, ইবারাকি শহরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে জাপান সরকার।

✨ ইয়োকোহামার বিশেষ বৈশিষ্ট্য

  • গোটা বিশ্বকে নগর পরিকল্পনার ব্যাপারে নতুন দিশা দেখিয়েছে এই শহর।
  • জাপান সরকার কর্তৃক (২০০৮ সালে) আদর্শ পরিবেশ-বান্ধব শহর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
  • শিল্প-দূষণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।
  • শিল্পের পাশাপাশি কৃষিকাজকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • বর্জ্য পদার্থের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে।
  • পতিত জমি পুনরুদ্ধার এবং জমির পুনর্বিন্যাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

❓ বলতে পারো?

  • কিহিন শিল্পাঞ্চল বা টোকিয়ো-ইয়োকোহামা শিল্পাঞ্চল জাপানের শ্রেষ্ঠ তথা পৃথিবীর এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে ওঠার কারণগুলো কী?
  • একটা শিল্পাঞ্চলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
  • শিল্পাঞ্চলের সমস্যা সমাধান কীভাবে করা যেতে পারে?

🛢️ দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার তৈল বলয়

খনিজ তেল উত্তোলনে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করে। সারা পৃথিবীতে যত পরিমাণ খনিজ তেল সঞ্চিত আছে তার ৬০ শতাংশই আছে এই অঞ্চলে। পৃথিবীর মোট খনিজ তেল উত্তোলনের প্রায় ৩০ শতাংশই এই অঞ্চলে উত্তোলিত হয়। এখানকার প্রধান খনিজ তেল উত্তোলনকারী দেশগুলো হলো সৌদি আরব, ইরাক, ইরান, কুয়েত, বাহরিন ইত্যাদি। সৌদি আরব, পৃথিবীর বৃহত্তম উপদ্বীপ, আরব উপদ্বীপের বৃহত্তম রাষ্ট্র। এই উয় মরুভূমি প্রধান সৌদি আরবে পৃথিবীর ২৬ শতাংশ খনিজ তেল সঞ্চিত আছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার জনবসতি কম। তাই খনিজ তেলের চাহিদাও বেশি নয়। সেই কারণে, যে পরিমাণ খনিজ তেল উৎপাদন হয় তার বেশির ভাগটাই রপ্তানি করা হয়। আধুনিক যন্ত্র নির্ভর সভ্যতা খনিজ তেলের ওপর নির্ভরশীল। যানবাহন চালাতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে, কারখানার যন্ত্রপাতি সচল রাখতে খনিজ তেল অপরিহার্য। তাছাড়া প্লাস্টিক, কৃত্রিম রবার, রং, কৃত্রিম তন্তু এধরনের বহু জিনিস তৈরিতে খনিজ তেল ব্যবহার করা হয়।

🌐 বিশ্বের বাজারে খনিজ তেলের দাম কত হবে, কোন দেশ কত পরিমাণ খনিজ তেল বিদেশে বিক্রি করবে - সবটাই ঠিক করে OPEC (ওপেক)। পৃথিবীর প্রধান প্রধান তৈল উৎপাদক দেশ এর সদস্য। OPEC-এর পুরো নাম হলো Organisation of Petroleum Exporting Countries (অরগ্যানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রি)।

📍 খনিজ তেল উত্তোলক অঞ্চল

খনিজ তেল উত্তোলক দেশতৈলখনি
1. সৌদি আরবঘাওয়ার, আবকিক, আইনডার, ধাহরান, সাফানিয়া, মনিফা
2. ইরানমসজিস-ই-সুলেমান, নফত-ই-শাহ, আঘাজারি, হাফাতকেল, গাচসারন, লালি
3. ইরাককিরকুক, মাশুল
4. কুয়েতবারগান, মগওয়া-আল হামাদি, আলজারা
5. সংযুক্ত আরব আমিরশাহিমুরবান আমিরশাহি
6. কাতারজেবেল দুখান, ইদ-আল শারখি
7. ওমাননাতিহ
8. সিরিয়াওমর, আল-ইজবা
  • এই সমস্ত তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর অর্থনীতি রপ্তানি নির্ভর। খনিজ তেলের মতো মূল্যবান জিনিস উৎপাদন করে এসব দেশে বসবাসকারী মানুষ বিলাসবহুল জীবন যাপন করে।
  • দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার এই দেশগুলোর আবহাওয়া ভীষণ শুষ্ক আর উয়। একসময় খুব কম লোক বসবাস করত। খনিজ তেলের বিরাট ভান্ডার আবিষ্কার হওয়ার পর এখানে বড়ো বড়ো তৈলখনিকেন্দ্রিক শহর গড়ে উঠেছে।

বিশেষ তৈলক্ষেত্র:

  • সৌদি আরবের ঘাওয়ার: বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেল উত্তোলন কেন্দ্র।
  • সাফানিয়া: বিশ্বের বৃহত্তম সামুদ্রিক তৈলখনি।

🌍 আফ্রিকা : রাজনৈতিক

CONTENT MANAGER

Sattar Uddin SohelSattar Uddin Sohel