২। ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় (১৯)
২। ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় (১৯) - WBBSE - Class 7 - ভূগোল
🗺️ ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়
পৃথিবী যে প্রায় গোলাকার তা আমরা সকলেই জানি। তোমাদের খেলার বল, মার্বেল বা গ্লোবকে পৃথিবীর ক্ষুদ্র রূপ বলে ধরা যেতে পারে। ওইরকম কোনো জিনিসের ওপর কোনো একটা বিন্দু নাও। কিন্তু বিন্দুটা বল বা মার্বেলটার ঠিক কোথায় অবস্থিত তা তুমি বলতে পারো কি? পাড়ার যেকোনো বাড়ি ঠিক কোথায় কেউ জিজ্ঞেস করলে সহজেই বলে দেওয়া যায়। কিন্তু সেই জায়গাটাই পৃথিবীর ওপর ঠিক কোথায় তুমি কীভাবে বোঝাবে?
সাদা মার্বেলটার ওপরে যে বিন্দুটা দেখানো হয়েছে, তার অবস্থান কোথায়? - কেউ বলবে মার্বেলটার পূর্ব দিকে, কেউবা বলবে মার্বেলটার উত্তর দিকে। কিন্তু মার্বেলটা ঘুরিয়ে বিন্দুর জায়গাটা নীচের দিকে বা অন্য কোনো দিকে করে দিলেই বিন্দুর অবস্থান পাল্টে যাবে।
❓ তাহলে পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের সঠিক অবস্থান কীভাবে নির্ণয় করবে?
💡 আমরা যা জানি
পৃথিবীপৃষ্ঠের ওপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ কল্পিত রেখা হলো-
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বা ০০ অক্ষরেখা।
- মূলমধ্যরেখা বা ০° দ্রাঘিমারেখা।
নিরক্ষরেখা পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত। নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে সমান দুটি অংশে ভাগ করে, উত্তরের অংশ উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণের অংশ দক্ষিণ গোলার্ধ। মূলমধ্যরেখাকে গ্রেটার লন্ডনের রয়্যাল গ্রিনিচ নামক স্থানের ওপর দিয়ে কল্পনা করা হয়েছে। মূলমধ্যরেখাও পৃথিবীকে দুটি সমান ভাগে ভাগ করে। পূর্বের অংশ পূর্ব গোলার্ধ এবং পশ্চিমের অংশ পশ্চিম গোলার্ধ।
🧩 এবার একটা মজার খেলা...
ভূগোল
- মানচিত্র বই নিয়ে দলে ভাগ হয়ে নাও।
- পৃথিবীর মানচিত্র থেকে বিভিন্ন শহরের নামের তালিকা তৈরি করো। প্রতিটা মহাদেশ থেকেই শহরগুলো নেওয়ার চেষ্টা করো।
- এবার লক্ষ করতে হবে সেগুলো কোন গোলার্ধের অন্তর্গত।
- সেইমতো তালিকায় (√) চিহ্ন দাও।
- তারপর গোলার্ধ ভাগ করা অংশে সাংকেতিক চিহ্ন বসাও। যেমন কলকাতার জন্য 'ক'।
- নমুনা লক্ষ করো।
| শহরের নাম |
|---|
| কলকাতা |
গোলার্ধ অনুযায়ী শহরের অবস্থান চিহ্নিতকরণ
| উত্তর-পূর্ব অংশ | দক্ষিণ-পূর্ব অংশ | উত্তর-পশ্চিম অংশ | দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ | |
|---|---|---|---|---|
| কলকাতা | ✔ |
🌍 ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান
একটা গ্লোব বা মানচিত্র খেয়াল করলে দেখা যায় পৃথিবীর ওপর কতকগুলো আড়াআড়ি ও লম্বালম্বি দাগ কাটা আছে। ❓ কালো দাগগুলো কী?
📌 অক্ষরেখা (Parallels of Latitude): নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে কল্পিত রেখাগুলো হলো অক্ষরেখা। 📌 দ্রাঘিমারেখা (Meridians of Longitude): পৃথিবীর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাগুলো হলো দ্রাঘিমারেখা।
উভয় রেখা পৃথিবীর ওপর জালের (Grid) মতো বিস্তার করে আছে।
আমরা জানি গ্লোব হলো পৃথিবীর ছোটো প্রতিরূপ।
🌐 অক্ষরেখার পরিচয়
- অক্ষরেখা পরস্পর সমান্তরাল।
- অক্ষরেখাগুলো পূর্ণবৃত্ত।
- অক্ষরেখা ডিগ্রিতে (°) পরিমাপ করা হয়।
- অক্ষরেখার পরিধি ক্রমশ মেরুর দিকে কমে যায়।
- অক্ষরেখার মান মেরুর দিকে বেড়ে যায়।
- অক্ষরেখার মধ্যে নিরক্ষরেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিরক্ষরেখার মান ০০।
- ৯০° উঃ এবং ৯০° দঃ হলো যথাক্রমে উঃ মেরু বিন্দু এবং দঃ মেরুবিন্দু।
একটা বলের ওপর অক্ষরেখা, নিরক্ষরেখা, উত্তর-দক্ষিণ মেরুবিন্দু এঁকে তৈরি করো তোমার ছোটো পৃথিবী।
ভূগোল
নিরক্ষরেখার মান ০০। নিরক্ষরেখার উত্তরের অক্ষরেখাগুলো হলো 'উত্তর অক্ষরেখা'। নিরক্ষরেখার দক্ষিণের অক্ষরেখাগুলো হলো 'দক্ষিণ অক্ষরেখা'। প্রতি ডিগ্রি অক্ষরেখাকে ৬০' (মিনিট)-এ ও প্রতি মিনিট অক্ষরেখাকে ৬০” (সেকেন্ড)-এ ভাগ করা হয়েছে।
অক্ষরেখা উত্তর গোলার্ধের হলে 'উঃ' ও দক্ষিণ গোলার্ধ হলে 'দঃ' ব্যবহার করা হয়। দুটি মেরু বিন্দুর মান ৯০° উঃ ও ৯০°দঃ। কোনো স্থান নিরক্ষরেখা থেকে কতটা উত্তরে বা কতটা দক্ষিণে তা বোঝাতেই অক্ষরেখার প্রয়োজন হয়। যেমন, কলকাতা অবস্থান করছে ২০°৩৪′ উঃ অক্ষরেখার ওপর। তাহলে আমরা বলতেই পারি পৃথিবীতে কলকাতার অবস্থান ২০°৩৪′ উঃ।
📐 অক্ষাংশ
একটা কাচ বা প্লাস্টিকের স্বচ্ছ বলকে পৃথিবী বলে ধরে নাও। C ওই বলটার তথা পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু। পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু C থেকে নিরক্ষরেখা পর্যন্ত টানা সরলরেখা হলো CR। P হলো এমন যে কোনো বিন্দু যা বলটার ওপর মানে পৃথিবীর ওপর আছে। PC হলো, P বিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত টানা সরলরেখা। PC ও CR, C বিন্দুতে ৪০° কোণ (∠) তৈরি করেছে। সুতরাং P বিন্দুর অক্ষাংশ হলো ৪০° উঃ। P স্থানটি নিরক্ষরেখার উত্তরে অবস্থিত। এভাবে পৃথিবীপৃষ্ঠের যে কোনো জায়গা পৃথিবীর কেন্দ্রে, নিরক্ষরেখা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত টানা সরলরেখার সঙ্গে যে কোণ (∠) তৈরি করে, তাই হলো ওই স্থানের অক্ষাংশ। একই অক্ষাংশ যুক্ত স্থান পৃথিবীর কেন্দ্রে একই কোণ তৈরি করে। সোজা কথায় একই অক্ষাংশ যুক্ত স্থানগুলোকে যদি একটা কাল্পনিক রেখা দিয়ে জুড়ে দেওয়া যায় তবে সেই রেখাটাই হবে অক্ষরেখা। এক্ষেত্রে ওই অক্ষরেখার মান হবে ৪০° উঃ।
- 🔪 বাড়িতে যদি ছুরি দিয়ে তরমুজকে ছবির মতো করে কেটে দেখো, তাহলে অক্ষাংশের ধারণাটা ভালোভাবে বুঝতে পারবে।
🗺️ ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান
🎲 আর একটা মজার খেলা.....
দলে ভাগ হয়ে পৃথিবীর মানচিত্র দেখে বিভিন্ন শহরের যে তালিকা তৈরি করেছিলে, সেই তালিকার শহরগুলো কত ডিগ্রি (°) অক্ষরেখায় আছে? মোটামুটিভাবে কাছাকাছি অক্ষরেখা দেখলেই হবে। নীচের ছকে সেগুলোকে বসাও:
| শহরের নাম |
|---|
| কলকাতা |
কত ডিগ্রি অক্ষরেখা
| (স্থান) |
🌍 দ্রাঘিমারেখা
বিভিন্ন শহরের অক্ষাংশ বের করতে গিয়ে তোমরা নিশ্চয়ই দেখেছো, একাধিক জায়গায় একই অক্ষরেখায় একে অপরের পূর্ব-পশ্চিমে রয়েছে। কোনো স্থান পৃথিবীরপৃষ্ঠের কতটা উত্তরে বা কতটা দক্ষিণে তা অক্ষাংশের দ্বারা নির্ণয় করা যায়। কিন্তু পৃথিবীর ওপরে বিভিন্ন স্থান একে অপরের কতটা পূর্বে বা কতটা পশ্চিমে সেটা কীভাবে নির্ণয় করা যাবে? তাহলে, শুধু অক্ষরেখা নয়। পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো জায়গার ঠিক অবস্থান বোঝাতে আরও বেশি কিছু দরকার।
পৃথিবীপৃষ্ঠে কোন স্থান কতটা পূর্বে বা কতটা পশ্চিমে তা ঠিক করতে মূলমধ্যরেখার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। মূলমধ্যরেখার মান ০০। মূলমধ্যরেখা থেকে পূর্বে ও পশ্চিমে উত্তর মেরু বিন্দু থেকে দক্ষিণ মেরু বিন্দু পর্যন্ত অঙ্কিত লম্বালম্বি রেখাগুলো হলো দ্রাঘিমারেখা।
- 🗺️ মানচিত্র বই থেকে একই অক্ষরেখায় অবস্থিত এরকম বিভিন্ন জায়গার নামের তালিকা চটপট তৈরি করে ফেলো।
ভূগোল
🌐 দ্রাঘিমারেখার পরিচয়
- দ্রাঘিমারেখা পরস্পর সমান্তরাল নয়।
- দ্রাঘিমারেখাগুলো অর্ধবৃত্ত।
- দুটি দ্রাঘিমারেখার মধ্যে দূরত্ব নিরক্ষরেখার কাছে সবচেয়ে বেশি। নিরক্ষরেখার থেকে মেরুর দিকে ক্রমশ দূরত্ব কমে যায়।
- প্রত্যেকটি দ্রাঘিমারেখা উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে গিয়ে মিশেছে।
- ১৮০° পূর্ব এবং ১৮০° পশ্চিম যেহেতু একটাই দ্রাঘিমা রেখা, তাই তার পূঃ ও পঃ উল্লেখ করতে হয় না।
মূলমধ্যরেখার পূর্বের দ্রাঘিমারেখা হলো 'পূর্ব দ্রাঘিমা'। মূলমধ্যরেখার পশ্চিমের দ্রাঘিমারেখা হলো 'পশ্চিম দ্রাঘিমা'। দ্রাঘিমা রেখা পূর্ব গোলার্ধের হলে 'পূঃ' ও পশ্চিম গোলার্ধের হলে 'পঃ' ব্যবহার করা হয়। দ্রাঘিমারেখাও ডিগ্রি (°) তে পরিমাপ করা হয়। অক্ষরেখার মতো প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখাকে ৬০′ (মিনিট) ও প্রতি মিনিটকে ৬০” (সেকেন্ডে) ভাগ করা হয়েছে। এই মিনিট বা সেকেন্ড কিন্তু কোনোটাই সময়ের মিনিট বা সেকেন্ড নয়।
📍 দ্রাঘিমাংশ
অক্ষাংশ বোঝবার সময় আমরা দেখেছি কীভাবে দুটি সরলরেখা পৃথিবীর কেন্দ্রে কোণ (∠) তৈরি করে। দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে মূলমধ্যরেখাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেখা হিসাবে ধরা হয়। ভূ-গোলকে মূলমধ্যরেখা (০° দ্রাঘিমারেখা) থেকে একটি সরলরেখা পৃথিবীর কেন্দ্র (C বিন্দু) পর্যন্ত টানা হয়েছে। P নামক স্থানটি যে দ্রাঘিমায় অবস্থিত সেখান থেকেও অপর একটা সরলরেখা কেন্দ্র পর্যন্ত টানা আছে। ওই দুই সরলরেখা পৃথিবীর কেন্দ্রে যে কোণ (∠RCP) তৈরি করেছে সেটাই দ্রাঘিমাংশ। ধরা যাক তার মান ৬০০। অতএব স্থানটির দ্রাঘিমাংশ হবে ৬০° পঃ। সহজ করে বলতে গেলে একই দ্রাঘিমাংশ যুক্ত স্থানগুলোকে যদি একটা সরলরেখা দিয়ে জুড়ে দেওয়া যায় তবে সেই সরলরেখাটাই হবে দ্রাঘিমারেখা।
- 🍎 বাড়িতে আপেল বা সবেদা লম্বালম্বিভাবে একফালি কেটে নিলে দ্রাঘিমাংশের ধারণা পাওয়া যায়। ফালিটি সরিয়ে নেওয়ার পর একটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। ওই ফাঁকা জায়গার দুপাশে দুটো দেয়াল দেখা যায়। ওই দেয়ালের একটিকে মূলমধ্যরেখার দেয়াল আর অন্যটিকে যে কোনো জায়গার দ্রাঘিমার দেয়াল ভেবে ফেলা যায়। ঐ দুটি দেয়ালের মাঝখানে যে কোণ (∠) তৈরি হয়েছে সেটাই দ্রাঘিমার মান।
🗺️ ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান
🇬🇧 ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের গ্রিনিচ-এ আছে রয়্যাল অ্যাস্ট্রনমিক্যাল অভজারভেটরি। সেখানে একটি সংকর ধাতুর তৈরি দণ্ড রাখা আছে। সেটি ০° দ্রাঘিমারেখাকে (মূলমধ্যরেখা) চিহ্নিত করে। পর্যটকরা ঐ দন্ডটার দুই দিকে দুই পা রেখে নিজের ছবি ক্যামেরা বন্দি করে। এক পা পূর্ব গোলার্ধে, আরেক পা পশ্চিম গোলার্ধে থাকে। কী মজার ব্যাপার না!
✍️ খুব সহজে ভূপৃষ্ঠে অবস্থান নির্ণয় করে ফেলো
| স্থান | অক্ষাংশ | দ্রাঘিমাংশ |
|---|---|---|
| A | ||
| B | ||
| C | ||
| D | ||
| E |
অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার পারস্পরিক ছেদ বিন্দু দিয়েই ভূপৃষ্ঠে কোনে স্থানের অবস্থান নির্ধারিত হয়।
🤔 ভেবে দেখো -
🧠 মগজাস্ত্র.....
- ⬜ একই অক্ষরেখা বরাবর স্থানগুলোতে একই সময়ে দিন ও রাত হয় কি? যদি না হয় তাহলে কেন হয় না?
- ⬜ দুটো অক্ষরেখার মাঝখানে কোনো স্থানের অবস্থান কীভাবে নির্ণয় করা হবে?
- ⬜ কোথায় গেলে পূর্ব আর পশ্চিম গোলার্ধ উভয়ই একই সঙ্গে দেখতে পাবে?
📌 নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে গেলে, কী কী পরিবর্তন লক্ষ করবে? সূত্র: সূর্যরশ্মি মেরুর দিকে ক্রমশ তির্যক ভাবে পড়ে।
ভূগোল
💡 ভেবে দেখো তো!
❓ নিরক্ষরেখা বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে গেলে কী অভিজ্ঞতা হবে?
- মূলমধ্যরেখা থেকে পূর্বে গেলে সে 'সময়' এগিয়ে যেতে দেখবে, কারণ সূর্য পূর্ব দিকে আগে ওঠে। পৃথিবী যেহেতু পশ্চিমে থেকে পূর্বে ঘুরছে তাই এরকমটা হয়।
- মূলমধ্যরেখা থেকে পশ্চিমে গেলে সময় পিছিয়ে যেতে দেখবে। কারণ পশ্চিম দিকে সূর্যোদয় পরে হয়। এভাবে শুধু মূলমধ্যরেখা থেকে নয়, যেকোনো দুটি স্থান পরস্পর পরস্পরের পূর্বে বা পশ্চিমে থাকলে একই ঘটনা হবে।
- একটি বৃত্তের মোট কোণ-এর পরিমাণ ৩৬০°। পৃথিবীও আবর্তনের সময় ৩৬০° কোণ ঘুরে আসে। সময় লাগে ২৪ ঘণ্টা। সুতরাং ১ ঘণ্টায় পৃথিবী ঘোরে ৩৬০°/২৪ ঘণ্টা = ১৫°। অতএব ১০ ঘুরতে সময় লাগে ৪ মিনিট।
- পিকু, মন্দিরা, সাবিনা তিনজনে তিনটি আলাদা দ্রাঘিমায় আছে। সাবিনা আর পিকু-কার সময় মন্দিরার চেয়ে এগিয়ে বা পিছিয়ে থাকবে বলতে পারো?
পৃথিবীর মানচিত্রে দ্রাঘিমারেখা ও অক্ষরেখাগুলো এঁকে দেখাও
🗺️ ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান
🚀 জানার দৌড়ে পিছিয়ে থেকো না
মূলমধ্যরেখার ওপরে যখন সূর্য আসে তখন ঠিক দুপুর ১২ টা। মূলমধ্যরেখা থেকে ১৫° পূর্ব দ্রাঘিমায় তখন দুপুর ১ টা। আবার ১৫° পশ্চিম দ্রাঘিমায় সেই সময় সকাল ১১ টা। দ্রাঘিমা অনুযায়ী কোনো স্থানের সময়কে সেই স্থানের স্থানীয় সময় (Local Time) বলে। কোনো দ্রাঘিমায় সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর আসে, তখন দুপুর ১২টা হয়।
একটা গোটা দেশের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম। যেমন, ভারতের পূর্ব সীমানা ও পশ্চিম সীমানার মধ্যে সময়ের পার্থক্য প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। একটা দেশের একটাই সময় ঠিক না করলে নানারকম অসুবিধা দেখা দেয়। তাই ভারতের ক্ষেত্রে এই অসুবিধা এড়াবার জন্য ঠিক মাঝ বরাবর ৮২°৩০′ পূঃ দ্রাঘিমাকে প্রমাণ দ্রাঘিমা (Standard meridian) ধরা হয়েছে। ৮২°৩০′ পূঃ দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে সারা ভারতের প্রমাণ সময় (Indian Standard Time) বলে ধরা হয়। গ্রিনিচের সঙ্গে ভারতের প্রমাণ সময়ের পার্থক্য ৫ঘণ্টা ৩০ মিনিট। ভারত গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত। কোনো অনুষ্ঠান যদি লন্ডনে বিকেল ৫ টায় শুরু হয় তবে ভারতের টেলিভিশনে সরাসরি দেখা যাবে [ বিকেল ৫ টা + ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট = রাত্রি ১০টা ৩০ মিনিটে]। তাহলে ভেবে দেখো লন্ডনে যখন বিকেলবেলা তখন ভারতে রাত হয়ে গেছে।
📡 GPS (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম)
পৃথিবীর যেকোনো জায়গার অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা জানবার একটি অত্যাধুনিক ব্যবস্থা হল GPS বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (Global Positioning System)। পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকরী হয়। বর্তমানে জাহাজে, বিমানে, আধুনিক গাড়ি, মোবাইল ফোনে GPS থাকে।
🧠 মগজাস্ত্র.....
- ⬜ অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার বৈশিষ্ট্যগুলোর তুলনা করে দেখাও।
- ⬜ একই দ্রাঘিমারেখায় অবস্থিত জায়গাগুলোর স্থানীয় সময় এক হয় কেন?
- ⬜ পৃথিবীর কোন দিকে গেলে সময় এগিয়ে যায় এবং কেন?
- ⬜ লন্ডন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ভারতে সরাসরি রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়। লন্ডনে ওই অনুষ্ঠান কখন আরম্ভ হয়েছিল?
- ⬜ ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থানের অবস্থান কীভাবে নির্ণয় করা যায় তার একটি সহজ ব্যাখ্যা দাও। প্রয়োজনে চিত্র অঙ্কন করে বোঝাও।
ভূগোল
নীচের ছকে বিভিন্ন জায়গার অবস্থান দেখানো হয়েছে। নীচের তালিকা দেখে বিন্দুর অবস্থান মিলিয়ে সংখ্যা বসাও। নমুনা লক্ষ করো।
🙋♀️ আমি নন্দিনী। আমি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াই। আমাকে খুঁজে বার করো তো দেখি? খেলাটা কিন্তু মজার!!!
| নন্দিনী আছে | ||||
|---|---|---|---|---|
| ১. ১৮° উঃ, ৩০০ পূঃ | ২. ২৭° উঃ, ১৭৫° পঃ | ৩. ০০, ১২০০পঃ | ৪. ৫৪° দঃ, ১০৫° পূঃ | ৫. ৭০° দঃ, ১২৫° পঃ |
| ৬. ৬৩° উঃ, ১০০০ পূঃ | ৭. ১০° দঃ, ১৫০ পূঃ | ৮. ৪৫° উঃ, ১২৫° পূঃ | ৯. ৪৫° উঃ, ৩২° পঃ | ১০. ২৭° দঃ, ১৫০০ পূঃ |
| ১১. ৩৬°দঃ, ৯০০ পূঃ | ১২. ৪০°দঃ, ১০° পঃ | ১৩. ২৫° উঃ, ১৩৫° পূঃ | ১৪. ৭৫° উঃ, ১৫৫° পঃ | ১৫. ৮০° দঃ, ৪৫° পঃ |
| ১৬. ৭০° উঃ, ১৮°প | ১৭. ৫৬° দঃ, ৩৫° পূঃ | ১৮. ১৮° দঃ, ৪৫°পঃ | ১৯. ৫° দঃ, ১৪০০ পূঃ | ২০. ৭৮° দঃ, ১০৫° পূঃ |
CONTENT MANAGER