সপুষ্পক উদ্ভিদের পুরুষ জনন অঙ্গ বা পুংস্তবককে পুংকেশর চক্র (Androecium) বলা হয়। এটি ফুলের তৃতীয় স্তবক এবং উদ্ভিদের যৌন জননের জন্য এটি অপরিহার্য। প্রতিটি পুংকেশর চক্র এক বা একাধিক পুংকেশর (Stamen) নিয়ে গঠিত হয়। একটি আদর্শ পুংকেশরের সাধারণত দুটি প্রধান অংশ থাকে - নিচের দিকের লম্বা সরু দণ্ডের মতো অংশ যাকে পুংদণ্ড (Filament) বলে এবং ওপরের দিকের স্ফীত থলির মতো অংশ যাকে পরাগধানী (Anther) বলে। এই পরাগধানীর ভেতরেই অসংখ্য সূক্ষ্ম, ধুলোর মতো কণা উৎপন্ন হয়, যাদের পরাগরেণু (Pollen grain) বলা হয়[cite: 1]। এই পরাগরেণুর ভেতরেই পুং গ্যামেট বা শুক্রাণু সৃষ্টি হয়, যা নিষেকের সময় ডিম্বকের ভেতরে থাকা ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট গঠন করে। পরাগযোগের সময় এই পরাগরেণুই বাহকের মাধ্যমে বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়। অন্যদিকে, গর্ভমুণ্ড, গর্ভাশয় এবং ডিম্বক হলো স্ত্রীস্তবক বা গর্ভকেশর চক্রের অংশ। তাই প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে শুধুমাত্র পরাগরেণুই পুংকেশর চক্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ[cite: 1]।
গর্ভমুণ্ড (Stigma) হলো সপুষ্পক উদ্ভিদের স্ত্রীস্তবক বা গর্ভকেশর চক্রের একদম উপরের দিকের অংশ। এর প্রধান কাজ হলো পরাগযোগের সময় পরাগরেণুকে গ্রহণ করা। গর্ভমুণ্ডের আঠালো পৃষ্ঠতলে পরাগরেণু আটকে যায় এবং সেখান থেকেই পরাগনালি সৃষ্টির মাধ্যমে নিষেকের প্রক্রিয়া শুরু হয়। যেহেতু এটি স্ত্রী জনন অঙ্গের একটি প্রধান অংশ, তাই একে কোনোভাবেই পুরুষ জনন অঙ্গ বা পুংকেশর চক্রের অংশ বলা যায় না। পুংকেশর চক্রের সাথে গর্ভমুণ্ডের গঠনগত কোনো সম্পর্ক নেই, তাই এই বিকল্পটি সম্পূর্ণ ভুল এবং বেঠিক[cite: 1]।
গর্ভাশয় বা ডিম্বাশয় (Ovary) হলো ফুলের গর্ভকেশর চক্রের একদম নিচের দিকের স্ফীত অংশ, যা নিষেকের পর পরবর্তীতে একটি পরিণত ফলে রূপান্তরিত হয়[cite: 1]। এর ভেতরেই ডিম্বকগুলি সুরক্ষিত অবস্থায় থাকে। এটি সম্পূর্ণরূপে উদ্ভিদের স্ত্রী জনন তন্ত্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর ভেতরেই স্ত্রী গ্যামেট বা ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। যেহেতু প্রশ্নে পুংকেশর চক্র বা পুরুষ জনন অঙ্গের অংশের কথা জানতে চাওয়া হয়েছে, তাই গর্ভাশয় কখনোই সঠিক উত্তর হতে পারে না। পুংকেশর চক্র এবং গর্ভকেশর চক্র সম্পূর্ণ ভিন্ন স্তবক[cite: 1]।
ডিম্বক (Ovule) হলো গর্ভাশয়ের ভেতরে অবস্থিত একটি ছোট ডিম্বাকার অংশ, যা নিষেকের পর বীজে রূপান্তরিত হয়[cite: 1]। এর ভেতরেই ভ্রূণস্থলী থাকে যেখানে ডিম্বাণু অবস্থান করে। ডিম্বক স্ত্রী জনন তন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, যা ভবিষ্যৎ বংশধর বা চারাগাছ সৃষ্টির জন্য বীজ গঠন করে। পুংকেশর চক্রের কাজ হলো পরাগরেণু সৃষ্টি করা, ডিম্বক গঠন করা নয়। তাই ডিম্বককে কোনোভাবেই পুংকেশর চক্রের অংশ হিসেবে গণ্য করা যায় না। এটি স্ত্রীস্তবকের একটি অংশ হওয়ায় এই বিকল্পটি সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক[cite: 1]।
পরাগরেণু (Pollen grain) হলো পুংকেশর চক্রের একটি অপরিহার্য অংশ। পুংকেশরের পরাগধানীর ভেতরে এই পরাগরেণুগুলি উৎপন্ন হয়[cite: 1]। প্রতিটি পরাগরেণুর ভেতরে পুং গ্যামেট বা শুক্রাণু থাকে, যা উদ্ভিদের যৌন জনন বা নিষেকের জন্য অপরিহার্য। পরাগযোগের মাধ্যমে এই পরাগরেণুই ফুলের গর্ভমুণ্ডে গিয়ে পড়ে এবং বংশবিস্তারের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করে। যেহেতু পরাগরেণুর উৎপত্তি এবং অবস্থান পুংকেশর চক্রের সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এটি পুরুষ জনন কোষ বহন করে, তাই প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে এটিই হলো পুংকেশর চক্রের সঠিক এবং একমাত্র অংশ[cite: 1]।