চোখের রেটিনা হলো একটি আলোক-সংবেদনশীল পর্দা যা চোখের পিছনের অংশে অবস্থিত। যখন আলো কোনো বস্তু থেকে চোখে প্রবেশ করে, তখন তা কর্নিয়া, পিউপিল এবং লেন্সের মধ্য দিয়ে যায়। লেন্স এই আলোক রশ্মিগুলিকে এমনভাবে প্রতিসরণ করে যাতে বস্তুর একটি উল্টো এবং ছোট প্রতিবিম্ব রেটিনার উপর গঠিত হয়।
রেটিনাতে রড (rod) এবং কোন (cone) নামক বিশেষ আলোক-সংবেদনশীল কোষ থাকে। রড কোষগুলি কম আলোতে দেখতে সাহায্য করে এবং কোন কোষগুলি উজ্জ্বল আলোতে রঙ চিনতে সাহায্য করে। এই কোষগুলি আলোর শক্তিকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত করে। এই বৈদ্যুতিক সংকেতগুলি অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রেরিত হয়, যেখানে সেগুলিকে প্রক্রিয়াজাত করে আমরা বস্তুর সঠিক চিত্র দেখতে পাই। তাই, বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠনের মূল স্থান হলো রেটিনা।
কর্নিয়া হলো চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ যা আলোকরশ্মিকে প্রথম বাঁকিয়ে চোখে প্রবেশ করতে সাহায্য করে এবং চোখকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। এটি প্রতিবিম্ব গঠন করে না।
পিউপিল হলো আইরিসের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি ছোট ছিদ্র, যা চোখে প্রবেশকারী আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি প্রতিবিম্ব গঠনের স্থান নয়।
রেটিনা হলো চোখের পিছনের আলোক-সংবেদনশীল স্তর যেখানে আলোকরশ্মি কেন্দ্রীভূত হয়ে বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। এটিতে রড ও কোন কোষ থাকে যা আলোক সংকেতকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত করে।
আইরিস হলো চোখের রঙিন অংশ যা পিউপিলের আকার নিয়ন্ত্রণ করে চোখে প্রবেশকারী আলোর পরিমাণ সামঞ্জস্য করে। এটি প্রতিবিম্ব গঠন করে না।