বীজের অঙ্কুরোদগম (Germination) হলো একটি জটিল শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বীজের ভেতরে সুপ্ত অবস্থায় থাকা ভ্রূণ অনুকূল পরিবেশে সজাগ হয়ে ওঠে এবং নতুন চারাগাছে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ার জন্য তিনটি প্রধান শর্ত অত্যন্ত আবশ্যিক - পরিমিত জল, উপযুক্ত উষ্ণতা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন[cite: 1]। জল বীজের আবরণকে নরম করে এবং ভেতরের উৎসেচকগুলিকে সক্রিয় করে তোলে। উপযুক্ত উষ্ণতা এই উৎসেচকগুলির কাজের হার নিয়ন্ত্রণ করে। আর অক্সিজেনের প্রধান ভূমিকা হলো শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করা। অঙ্কুরোদগমের সময় ভ্রূণের দ্রুত কোষ বিভাজন এবং বৃদ্ধির জন্য প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। এই শক্তি আসে বীজের বীজপত্রে বা শস্যে সঞ্চিত খাদ্যের জারণের মাধ্যমে। অক্সিজেন এই জারণ বা শ্বসন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে এবং খাদ্য থেকে শক্তি মুক্ত করে ভ্রূণকে সরবরাহ করে। অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে বীজের শ্বসন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়, ফলে শক্তির অভাবে ভ্রূণের মৃত্যু ঘটে এবং অঙ্কুরোদগম সম্ভব হয় না। তাই অঙ্কুরোদগমের জন্য অক্সিজেন গ্যাসটি অপরিহার্য[cite: 1]।
অক্সিজেন (Oxygen) হলো বীজের অঙ্কুরোদগমের জন্য অন্যতম প্রধান একটি বাহ্যিক শর্ত[cite: 1]। বীজের ভেতরে থাকা ভ্রূণ যখন সুপ্তাবস্থা কাটিয়ে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তখন তার প্রচুর পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়। এই শক্তি উৎপন্ন হয় শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যেখানে সঞ্চিত খাদ্য জারিত হয়। অক্সিজেন এই বায়বীয় শ্বসন প্রক্রিয়ায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে শ্বসন ব্যাহত হয় এবং ভ্রূণ শক্তি না পেয়ে মারা যেতে পারে। মাটিতে বাতাসের চলাচল ভালো থাকলে বীজ সহজেই অক্সিজেন পায় এবং দ্রুত অঙ্কুরিত হয়। তাই এটিই সঠিক উত্তর[cite: 1]।
হাইড্রোজেন (Hydrogen) একটি অত্যন্ত দাহ্য এবং হালকা গ্যাস। প্রকৃতিতে এটি সাধারণত জলের (H2O) উপাদান হিসেবে বা অন্যান্য যৌগের সাথে যুক্ত অবস্থায় থাকে। বীজের অঙ্কুরোদগম বা উদ্ভিদের স্বাভাবিক শ্বসন প্রক্রিয়ায় মুক্ত হাইড্রোজেন গ্যাসের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা নেই। উদ্ভিদ সরাসরি বাতাস থেকে হাইড্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না, বরং তারা জল শোষণের মাধ্যমে হাইড্রোজেনের চাহিদা পূরণ করে। অঙ্কুরোদগমের জন্য শক্তি উৎপাদনে হাইড্রোজেনের কোনো সরাসরি কাজ নেই। তাই অঙ্কুরোদগমের জন্য আবশ্যিক উপাদান হিসেবে হাইড্রোজেনের উল্লেখ একটি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন ধারণা[cite: 1]।
নাইট্রোজেন (Nitrogen) উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য, বিশেষ করে প্রোটিন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড সংশ্লেষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিপোষক বা ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট। কিন্তু বাতাসের মুক্ত নাইট্রোজেনকে উদ্ভিদ সরাসরি গ্রহণ করতে পারে না এবং বীজের প্রাথমিক অঙ্কুরোদগম পর্যায়ে এর কোনো তাৎক্ষণিক বা সরাসরি আবশ্যিকতা নেই। অঙ্কুরোদগমের সময় ভ্রূণ তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি বীজের ভেতরে সঞ্চিত খাদ্য থেকেই সংগ্রহ করে নেয়। যখন চারাগাছ মাটি থেকে মূলের সাহায্যে খনিজ লবণ শোষণ করতে শুরু করে, তখন তার নাইট্রোজেনের প্রয়োজন হয়। তাই অঙ্কুরোদগমের জন্য সরাসরি নাইট্রোজেনকে আবশ্যিক বলা যায় না[cite: 1]।
কার্বন (Carbon) সমস্ত জীবদেহের এবং জৈব যৌগের একটি মূল উপাদান। উদ্ভিদ কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস হিসেবে বাতাস থেকে কার্বন গ্রহণ করে এবং সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। কিন্তু বীজের অঙ্কুরোদগমের সময় বীজ সাধারণত মাটির নিচে থাকে এবং তার সবুজ পাতা উৎপন্ন না হওয়া পর্যন্ত সালোকসংশ্লেষ করতে পারে না। এই পর্যায়ে বীজের ভেতরে থাকা সঞ্চিত খাদ্যই শক্তির জোগান দেয়। তাই অঙ্কুরোদগমের প্রাথমিক পর্যায়ে বাইরে থেকে কার্বন বা কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণের কোনো প্রয়োজন হয় না। সুতরাং, কার্বন এই প্রক্রিয়ার জন্য আবশ্যিক শর্ত নয়[cite: 1]।