4. কোঁচকানো আর কালো
4. কোঁচকানো আর কালো - WBBSE - Class 5 - পরিবেশ বিজ্ঞান
কোঁচকানো আর কালো
স্কুলের একটা অনুষ্ঠানে এসেছেন আগের হেডস্যার। বয়স্ক মানুষ। পিনাকী দেখল, তাঁর মুখের চামড়ায় টানটান ভাব নেই। কপালের চামড়ায় ভাঁজ। পরদিন ক্লাসে স্যারকে এর কারণ জানতে চাইল।
স্যার বললেন— বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীর বাড়লে চামড়াও বাড়ে। মোটা হলেও তাই। বৃদ্ধ হলে শরীরটা ছোটো হতে শুরু করে। কিন্তু চামড়া কমে না। তখন চামড়া কুঁচকে যায়। হেডস্যারের তাই হয়েছে।
রিয়াজ বলল— আচ্ছা স্যার চামড়ার রং কেন আলাদা হয়?
— মেলানিন নামের একটা জিনিসের জন্য চামড়ার রং কালো হয়। অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্যানসার ঘটায়। মেলানিন অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নিয়ে ক্যানসার আটকায়।
— তাহলে কালো চামড়া রোগের বিরুদ্ধে বেশি লড়াই করতে পারে?
— ঠিক তাই। আর রোদ শরীরে মেলানিন তৈরি করতে সাহায্য করে।
— সাহেবরা তো খুব ফর্সা। তাদের চামড়ায় মেলানিন নেই?
— আছে। তবে কম।
মীনা বলল— আমার বড়োজেঠুর গায়ের রং কালো। কিন্তু এখন অনেক জায়গায় চামড়াটা একদম সাদা হয়ে যাচ্ছে।
-
ওসব জায়গায় মেলানিন তৈরি হচ্ছে না। অপুষ্টি বা অসুখে এমন হয়।
-
তাহলে গায়ে রোদ লাগানো ভালো?
-
হ্যাঁ। ত্বকে রোদ লাগালে ভিটামিন-ডি তৈরি হয়।
স্বপন বলল — স্যার, চামড়া থেকে তো ঘাম বেরোয়।
- ঘামে নুন আর শরীরের কিছু বর্জ্য থাকে। বর্জ্য বেরিয়ে যাওয়াটা ভালো। নুন বেরিয়ে যাওয়াটা খারাপ। বেশি নুন বেরিয়ে গেলে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।
রিয়াজ বলল— চাচার খুব ঘাম হয়। ডাক্তারবাবু বলেছেন, একটু নুন জল খেতে। আজ তার কারণটা বুঝলাম।
- তবে জানত, একসময়ে চামড়ার রং দেখে মানুষের ভেদাভেদ করা হতো। বলা হতো, সাদা চামড়ার মানুষরা নাকি সভ্য। কালো চামড়ার মানুষরা নাকি অসভ্য। কালো
চামড়ার মানুষরা নিজেদের সম্মানের জন্য অনেক লড়াই করে। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে তারা নিজেদের সম্মান আদায় করেছে। নেলসন ম্যান্ডেলা, মহাত্মা গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং এঁরা সবাই কালো মানুষদের সম্মানের জন্য লড়েছেন। চামড়ার রং দেখে মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ করা আজকের দিনে অপরাধের শামিল।
বলাবলি করে লেখো
চামড়ার অসুখ বিষয়ে নিজেরা আলোচনা করো। প্রয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাহায্য নাও। তারপর লেখো:
| শরীরের অংশ | চামড়ার কী অসুখ হয় | সেই অসুখের লক্ষণ | সেই অসুখ হলে কী করেছ বা করবে |
|---|---|---|---|
| হাত ও পায়ের আঙুলের ফাঁজ | খোস-পাঁচড়া | ছোট ছোট দানা বা বিচি হওয়া এবং খুব চুলকানো। | পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং চিকিৎসকের পরামর্শে মলম লাগানো। |
| সারা শরীর বা মুখ | শ্বেতী | চামড়ার কোনো কোনো অংশ একদম সাদা হয়ে যাওয়া। | পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। |
| মাথা বা শরীরের ভাঁজ | দাউদ (ছত্রাক ঘটিত) | গোল চাকার মতো লাল দাগ এবং চুলকানি। | সাবান বা তেল কম লাগানো এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ক্রিম ব্যবহার করা। |
| মুখ বা কপাল | মেছতা বা রোদে পোড়া ছোপ | কালচে বা খয়েরি রঙের ছোপ ছোপ দাগ। | রোদে বেরোনোর সময় ছাতা ব্যবহার করা এবং ত্বক পরিষ্কার রাখা। |
| হাত বা পা | হাজা (জল লাগলে হয়) | চামড়া সাদা হয়ে যাওয়া বা ফেটে লাল হওয়া। | পা শুকনো রাখা এবং বেশি সময় জলে না থাকা। |
এই পাঠ থেকে শেখা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট:
- মেলানিন: চামড়ার রং কালো করে এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নিয়ে ক্যানসার আটকায়।
- ভিটামিন-ডি: চামড়ায় রোদ লাগলে এটি তৈরি হয়।
CONTENT MANAGER